চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর ঢাকা সফর: সঙ্গে ২৫০ বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি

তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও। শনিবার (৩১ মে) দুপুরে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাকে অভ্যর্থনা জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

এই সফরে মন্ত্রী ওয়েনতাওয়ের সঙ্গে রয়েছেন প্রায় ২৫০ জন চীনা বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করা এবং বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।

শনিবার বিকেল ৫টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন চীনের প্রতিনিধি দল।

রোববার (১ জুন) রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ-চীন বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্মেলন’। সম্মেলনের আয়োজন করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা, যারা প্রায় ১০০টি উদ্যোগের প্রতিনিধিত্ব করবেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছয় থেকে সাতটি ফরচুন ৫০০ কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরাও থাকছেন।

সম্মেলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত পাঁচটি পৃথক ‘ম্যাচমেকিং সেশন’-এ অংশ নেবেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা। সেশনগুলোতে আলোচনার বিষয়বস্তু হবে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাত।

এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।




বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি চূড়ান্তে এগোচ্ছে দুই দেশ

বাংলাদেশ ও জাপান চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার (৩০ মে) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা।

বৈঠকে দুই নেতা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা বাংলাদেশকে ‘দীর্ঘদিনের বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রচেষ্টায় পাশে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় ড. ইউনূস বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে জাপানের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “গত ১০ মাসে আমরা জাপানের কাছ থেকে যে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন পেয়েছি, তা আমাদের সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও দৃঢ় করেছে।”

চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াও উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। ড. ইউনূস জাপানের কাছে মাতারবাড়িতে ভূমি ভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল, মহেশখালীতে এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা চেয়ে সহযোগিতা চান। একইসঙ্গে তিনি অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এবং মেঘনা-গোমতী নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণে সফট লোনের আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা আরও আহ্বান জানান, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বাংলাদেশে অটোমোবাইল, ইলেকট্রিক যানবাহন, হালকা যন্ত্রপাতি ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করে এবং শিল্প মূল্য শৃঙ্খলে যুক্ত হয়। তিনি জাপানকে দক্ষ শ্রমিক কর্মসূচি চালুর অনুরোধ জানান যাতে বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানে কাজের সুযোগ পান।

শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা চেয়ে ড. ইউনূস জাপানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষকদের জন্য আরও বেশি পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাপানের ভূমিকা বৃদ্ধির আহ্বানও জানান ড. ইউনূস।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেন, “বাংলাদেশ যেন তার চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, সে জন্য টোকিও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।”

তিনি ৩৮ বছর আগে বাংলাদেশ সফরের স্মৃতিচারণা করে বলেন, যমুনা সেতুর উদ্বোধনে অংশগ্রহণ ছিল একটি স্মরণীয় ঘটনা। একইসঙ্গে তিনি ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ জানান।

এই বৈঠককে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন দুই দেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইপিএ স্বাক্ষর হলে তা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের উপহার পাঁচটি পেট্রোল বোট

বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি পেট্রোল বোট উপহার হিসেবে দেবে জাপান। শুক্রবার (৩০ মে) জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় জাপান আগামীতেও পাশে থাকবে বলে আবারও আশ্বাস দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাপান সরকার বাজেট সহায়তা, শিক্ষাবৃত্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ একাধিক খাতে বাংলাদেশকে ১.০৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দেবে।

এ সময় প্রেস সচিব আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার কক্সবাজারের মহেশখালী ও মাতারবাড়িকে ঘিরে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য—এই অঞ্চলকে একটি আধুনিক লজিস্টিকস, পোর্ট, এনার্জি এবং ফিশারিজ হাবে রূপান্তর করা। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এই অঞ্চলে ‘নিউ সিঙ্গাপুর’ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নেও বাংলাদেশের পাশে থাকবে জাপান—বৈঠকে এমন আশ্বাস মিলেছে বলে জানান তিনি।

এই বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




বাংলাদেশ ও জাইকার মধ্যে অর্থনীতির সংস্কার, জলবায়ু সহনশীলতা ও দক্ষ জনশক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থনৈতিক সংস্কার, জলবায়ু সহনশীলতা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আজ জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

জাইকা’র প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী দুটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও জলবায়ু সহনশীলতা শক্তিশালীকরণে উন্নয়ন নীতি ঋণ চুক্তি’ এবং অপরটি ‘২০২৫ সালের জেডএস স্কলারশিপ নিয়ে অনুদান চুক্তি’।

‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও জলবায়ু সহনশীলতা শক্তিশালীকরণে উন্নয়ন নীতি ঋণ’ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বাজেটরি সাপোর্ট প্রদান করা হবে। এই ঋণের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করা। চুক্তিটি ৬০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৪২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ সহ সহায়তা প্রদান করবে, যার মাধ্যমে সরকারকে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সহায়তা করা হবে।

ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাঠামোগত সংস্কার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জেডএস স্কলারশিপ: উচ্চশিক্ষার সুযোগ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য

অন্যদিকে, ‘২০২৫ সালের জেডএস স্কলারশিপ নিয়ে অনুদান চুক্তি’ প্রোগ্রামের আওতায়, ৩৩ জন সরকারি কর্মকর্তা জাপানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি নির্ধারণে অবদান রাখবেন।

প্রোগ্রামের আওতায় ৬০৬ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৪.২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অর্থায়ন করা হবে এবং ২০০২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫৯১ জন বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা জেডএস স্কলারশিপ লাভ করেছেন।

বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা: ইউক্রেন সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তন

ইউক্রেন সংকটের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকার এখন ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও জলবায়ু সহনশীলতা শক্তিশালীকরণে উন্নয়ন নীতি ঋণ’ চুক্তির মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরের আগে, বাংলাদেশ এবং জাপান সরকারের মধ্যে ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ (ই/এন) স্বাক্ষর করা হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী এবং জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।

এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, জলবায়ু সহনশীলতা এবং দক্ষ জনশক্তির বিকাশে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




“সরকারি মালিকানায় আসছে কিছু ইসলামী ব্যাংক”, গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, দেশের কয়েকটি দুর্বল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সাময়িকভাবে সরকারের মালিকানায় নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ মে) বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গভর্নরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএফআইইউ প্রধান এএফএম শাহীনুল ইসলামসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ব্যাংকগুলোর মালিকানা সরকারিভাবে গ্রহণ করে মূলধন জোগান ও তারল্য সহায়তা দেবে। পরবর্তীতে পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় তিনি আরও জানান, গত কয়েক বছরে ১৮-২০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা) পাচার হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য রয়েছে। এই অর্থ ফেরত আনতে ১১টি যৌথ তদন্ত দল কাজ করছে এবং প্রয়োজনে আরও তদন্ত গঠন করা হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে এই কাজে গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন গভর্নর।




দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ২৫.৮০ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে, ২৭ মে পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৮০ কোটি ডলারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ২০ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার, যা দুই হাজার ৫৬ কোটি ২২ লাখ ডলারের সমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২২ মে পর্যন্ত রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী ২০ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। চলতি মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহও ঊর্ধ্বমুখী। মে মাসের প্রথম ২৪ দিনেই প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ হাজার ৪০১ কোটি টাকা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে রেমিট্যান্স প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করতে পারে।

গত সপ্তাহে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, আগামী মাসে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করে ৪০ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ অর্জনের লক্ষ্যে কাজ চলছে।




কোরবানির পশুর চামড়ার নতুন দাম ঘোষণা করল সরকার

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। গরু, খাসি ও বকরির লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে এবার চামড়া রপ্তানির সুযোগসহ বেশ কিছু নতুন উদ্যোগও নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রবিবার (২৫ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরের জন্য এ দর হবে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। গত বছরের তুলনায় এবার দাম বেড়েছে ৫ টাকা।

খাসি ও বকরির চামড়ার দামেও বৃদ্ধি এসেছে। এবার খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ থেকে ২৭ টাকা এবং বকরির চামড়া ২০ থেকে ২২ টাকা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ২ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানান, এবার চামড়া সংরক্ষণের জন্য ৩০ হাজার টন লবণ বিনামূল্যে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সরবরাহ করা হবে। এছাড়া ঈদের পরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত ঢাকার বাইরে থেকে কাঁচা চামড়া রাজধানীতে আনা যাবে না, এমন নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

চামড়া রপ্তানি বিষয়ে তিনি বলেন, “দেশের বাজারে কাঁচা চামড়ার পর্যাপ্ত চাহিদা না থাকলে, তা রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে। চামড়া রপ্তানিতে যে বিধিনিষেধ ছিল, তা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে।”

এছাড়া এবার ঢাকায় গরুর একটি চামড়া ন্যূনতম ১৩৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১১৫০ টাকার নিচে বিক্রি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত বছর ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। খাসির চামড়া ছিল ২০-২৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৮-২০ টাকা।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত চামড়া শিল্প, মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




মে মাসের ২৪ দিনেই প্রবাসী আয় ছাড়াল ২৭ হাজার কোটি টাকা

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি মে মাসের মাত্র ২৪ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৭ হাজার ৬২৭ কোটি টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যমতে, ১ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২৪ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) এই অঙ্ক প্রায় ২৭ হাজার ৬২৭ কোটি টাকার সমান।

গত বছর মে মাসে (৩১ দিনে) প্রবাসী আয় ছিল ২২৫ কোটি মার্কিন ডলার। এবার মাত্র ২৪ দিনেই প্রায় সমান অঙ্কে রেমিট্যান্স আসায় ইতিবাচক ধারা স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে,

  • রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার ডলার
  • বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার
  • বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে সর্বোচ্চ ১৩৭ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার
  • বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার

একক ব্যাংক হিসেবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে, যার পরিমাণ ৩৭ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার

ঈদের আগে বাজারে চাহিদা ও খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসীরা দেশমুখী অর্থ পাঠাতে উৎসাহী হয়েছেন বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এস. এল. টি. তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভারতীয় জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২১ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি বাতিল করলো বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকার ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE)-এর সঙ্গে করা ২১ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করেছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

শুক্রবার (২৩ মে) ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এই খবর প্রকাশ করে জানায়, বাতিল হওয়া চুক্তিটি ছিল ৮০০ টন ওজনের সমুদ্রগামী টাগবোট নির্মাণ সংক্রান্ত, যা ২০২৪ সালের জুনে শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তিটি ভারতের ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ঋণ প্রকল্পের অধীনে প্রথম বড় অর্ডার ছিল।

সম্প্রতি GRSE এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ের মাধ্যমে ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ-কে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি বাতিল করেছে।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্কও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চলতি মে মাসে নয়াদিল্লি বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে, এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের ১১টি স্থলবন্দরে বাংলাদেশি ভোগ্যপণ্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে, যার প্রভাব পড়তে পারে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে।

এছাড়া, বাংলাদেশ সম্প্রতি ভারত থেকে সুতা রপ্তানি বন্ধ করেছে এবং ভারতও তৃতীয় দেশে পণ্য পরিবহনের বিশেষ ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুনভাবে পর্যালোচনার মুখে পড়েছে। চুক্তি বাতিল তারই এক বহিঃপ্রকাশ।


📌
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পাচার করা অর্থে বিদেশে সামিট গ্রুপের বিপুল সম্পদ

দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী সামিট গ্রুপ এবং এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান ও তার পরিবারের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলে একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই পাচার করা অর্থ দিয়ে তারা বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল বাড়ি, শিপিং ব্যবসা, হোটেল ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় বড় বিনিয়োগ করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনে, বিদেশে বিনিয়োগ করতে হলে পূর্বানুমতি আবশ্যক। তবে সামিট গ্রুপ এই নিয়ম না মেনে অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামিটের পক্ষ থেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করে তারা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে ভিলা, অ্যাপার্টমেন্ট, বিলাসবহুল হোটেল ও বিপণিবিতান প্রতিষ্ঠা করেছে।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০২৪ সালের তালিকা অনুযায়ী, আজিজ খান বর্তমানে সিঙ্গাপুরের ৪১তম ধনী ব্যক্তি। তার সম্পদের পরিমাণ ১.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আজিজ খান সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা এবং তার পরিবারের সদস্যরাও একই দেশের নাগরিক।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে আজিজ খানের নাম উঠে আসে। তবে সে সময় দুর্নীতির অভিযোগে কার্যকর তদন্ত শুরু হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর পুনরায় তদন্ত শুরু হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমতি না নেওয়া এবং ব্যাংক চ্যানেলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থ পাঠানো সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের পাচারের মাধ্যমে দেশে আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন কমে যাচ্ছে।

সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি পরিবারের সদস্য। তার ভাই ফারুক খান ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী। এছাড়া সামিট কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফরিদ খান আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ) প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সামিট গ্রুপ অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রচুর আর্থিক অনিয়ম করেছে। বর্তমান সরকারের উচিত তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া এবং প্রকৃত তদন্ত নিশ্চিত করা।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারিভাবে মাত্র ২০টি প্রতিষ্ঠানকে বৈধভাবে বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সামিট গ্রুপের বিপুল বিনিয়োগ কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো তথ্য নেই। সরকারের প্রকাশিত শ্বেতপত্র অনুসারে, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /