খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে মূল্যস্ফীতি হ্রাস

খাদ্যদ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের কারণে দেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক (জুন-২০২৫)’ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯.০৫ শতাংশে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাল, মাছ ও ফলমূলের দাম বেড়ে গেলেও সামগ্রিকভাবে খাদ্যদ্রব্যের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় মূল্যস্ফীতি কমেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় দেশের বৈদেশিক খাতও মজবুত হয়েছে, যদিও এপ্রিল মাসে রপ্তানিতে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বাজেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাজেট ঘোষণার পর পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “এই বাজেটের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ঋণের দুষ্টচক্র ভাঙা।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দুই অঙ্কে থাকা মূল্যস্ফীতি ছিল উদ্বেগের কারণ। তবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমতে থাকায় সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

খাদ্যপণ্যের মধ্যে মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে চাল (৪০%), এরপর রয়েছে মাছ (২৮%) ও ফলমূল (১২%)। মাঝারি চালের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, যেখানে আলু ও মুরগির মাংসের দাম কমে মূল্যস্ফীতি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এছাড়া আবাসন, তৈরি পোশাক ও পরিবহন খাতেও মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।




একীভূত হচ্ছে ৫ ইসলামী ব্যাংক, আসছে ‘সরকারি মালিকানার সুপার ব্যাংক’

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার পরিকল্পনায় চূড়ান্ত রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে এই ব্যাংকগুলোর ফরেনসিক অডিট ও অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (AQR) সম্পন্ন হয়েছে এবং একীভূতকরণের মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর ব্যাংকিং কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে।

যেসব ব্যাংক একীভূত হচ্ছে
এদের মধ্যে রয়েছে :

  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
  • গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
  • ইউনিয়ন ব্যাংক
  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
  • এক্সিম ব্যাংক

এই ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুরবস্থার প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। এক্সিম ব্যতীত বাকিগুলোতে ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে ব্যাংকগুলোর এমডি ও চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রাথমিক রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ফরেনসিক অডিটের প্রতিবেদন চলতি মাসেই প্রকাশ পাবে। এরপর, শ্রেণিবিন্যাস, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধনের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে একীভূত প্রক্রিয়া শুরু হবে জুলাই মাস থেকে এবং অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে। একীভূত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে রাখার জন্য খারাপ ঋণগুলো হস্তান্তর করা হবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির (AMC) কাছে। এ ছাড়া সরকার ও বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীরা মূলধন জোগান দেবে। ব্যাংকের শাখা কমানো, জনবল হ্রাস ও পরবর্তী ধাপে বেসরকারি খাতে শেয়ার ছাড়া হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক একীভূত করে মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় যদি সুশাসন, খেলাপি ঋণ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার মূল কারণ দূর না করা হয়। ড. মুস্তফা কে মুজেরীর মতে, শুধুমাত্র দুর্বল ব্যাংক একত্র করলে শক্তিশালী ব্যাংক তৈরি হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশ্বস্ত করেছে, প্রাথমিকভাবে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হবে না এবং বেতনও কমানো হবে না। তবে ভবিষ্যতে কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশাসক নিয়োগের চিন্তা রয়েছে।

ব্যাংকগুলোর বর্তমান চিত্র

  • শাখা সংখ্যা: ৭৭৯
  • উপশাখা: ৬৯৮
  • গ্রাহক সংখ্যা: প্রায় ৯২ লাখ
  • মোট ঋণ: ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা
  • মোট আমানত: ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা
  • খেলাপি ঋণ: ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা
  • প্রভিশন ঘাটতি: ৭৪ হাজার ৫০১ কোটি টাকা

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, একীভূতকরণ কার্যকর করতে হলে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”




নতুন বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ বাতিল: যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত নতুন বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। রোববার (২২ জুন) বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনা এবং ভবন নির্মাণে বাড়তি কর পরিশোধের মাধ্যমে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন মহলের দাবি ও প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের সময় সেই প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, “প্রাথমিক বাজেটে বাড়তি করের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু তা বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন আর এই ধরনের কোনো সুযোগ থাকছে না।”

এর আগে সকালে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী ১ জুলাই থেকে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে নতুন বাজেট কার্যকর হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত বর্তমান প্রশাসনের বাস্তবতায় এবার সংসদের বাইরে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ২ জুন বাজেটের মূল বক্তব্য রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভিসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়। বাজেট ঘোষণার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ১৯ জুন পর্যন্ত নাগরিকদের মতামত সংগ্রহ করা হয়।

উল্লেখ্য, গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় বাজেট সাধারণত জাতীয় সংসদে উত্থাপন ও পাস হয়। সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। তবে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবার সে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সম্ভব হয়নি।




বিশ্বব্যাংকের ৫০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা বাংলাদেশে

বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও স্থিতিশীল করে তোলার লক্ষ্যে বিশাল অংকের অর্থ সহায়তা অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ এই বাজেট সহায়তা দেশটির সরকারি সেবাগুলোর মানোন্নয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থার সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শনিবার (২১ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় এ সহায়তা অনুমোদন দেওয়া হয়। এই অর্থ সরাসরি ব্যয় হবে সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, করনীতির স্বচ্ছতা, ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি হ্রাস এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধে। বিশেষভাবে জোর দেওয়া হবে ই-প্রকিউরমেন্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর।

বিশ্বব্যাংকের অন্তর্বর্তীকালীন কান্ট্রি ডিরেক্টর গেইল মার্টিন এ বিষয়ে বলেন, “সরকার যেসব সাহসী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা জনগণের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করে তুলবে। টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য একটি স্বচ্ছ অর্থ ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে রাজস্ব আদায়ের হার এখনও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম, যা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।”

বিশ্বব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এ সহায়তার মাধ্যমে সরকার করসংক্রান্ত সংস্কার এবং ব্যাংকিং খাতে নজরদারি জোরদার করতে পারবে। এতে করে সাধারণ জনগণ আরও উন্নত ও জবাবদিহিমূলক সেবা পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এর আগেও, বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে আরও ৫০ কোটি মার্কিন ডলার অনুমোদন পেয়েছে। এই দুটি সহায়তা মিলিয়ে চলতি মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা পেতে যাচ্ছে।

এছাড়া, আগামী সোমবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বোর্ড সভায় আরও দুটি ঋণ কিস্তির অনুমোদন হতে পারে, যার পরিমাণ প্রায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের আশা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রাজধানীতে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের জাতীয় ফল মেলা শুরু হতে যাচ্ছে 

আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) চত্বরে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা। ‘দেশি ফল বেশি খাই, আসুন ফলের গাছ লাগাই’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই মেলা চলবে শনিবার (২১ জুন) পর্যন্ত।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এ মেলায় ২৬টি সরকারি ও ৪৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মোট ৭৫টি স্টলে বিভিন্ন জাতের দেশি ফল, ফল উৎপাদন ও চাষাবাদের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হবে।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কেআইবি চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। একই দিন কেআইবি মিলনায়তনে ‘স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও বাণিজ্যিকীকরণে দেশি ফল: বর্তমান প্রেক্ষিত, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, আর প্রধান অতিথি থাকবেন কৃষি উপদেষ্টা।

মেলার সমাপনী দিনে (শনিবার) বিকেলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সেরা স্টলকে পুরস্কৃত করা হবে।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই মেলায় দর্শনার্থীরা দেশি ফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং রাসায়নিকমুক্ত ফল কেনার সুযোগ পাবেন। ফল চাষে আগ্রহী কৃষক ও নাগরিকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




একীভূত হচ্ছে  পাঁচ ইসলামী ব্যাংক, কর্মীদের চাকরিও থাকবে: গভর্নর

দেশের বেসরকারি খাতের পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে খুব শিগগিরই একীভূত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মী চাকরি হারাবেন না বলে আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

রোববার (১৫ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গভর্নর। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সঙ্গে ব্যাংক মার্জারের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা আশা করছি, পরবর্তী সরকার এ প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নেবে। তবে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের মার্জার সম্পন্ন করা হবে।”

গভর্নর জানান, একীভূতকরণের ফলে কর্মীদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নেই। তবে প্রয়োজন হলে শাখা পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। শহরাঞ্চলে অতিরিক্ত শাখা থাকলে সেগুলো গ্রামীণ এলাকায় স্থানান্তর করা হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, “এই প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে এগোতে হবে। আদালতের চূড়ান্ত রায় ছাড়া কোনো সম্পদ উদ্ধার সম্ভব নয়। এজন্য সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আইনি নথিপত্র প্রস্তুত করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রক্রিয়ায় আদালতের বাইরে সমঝোতার মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার ব্যবস্থাও রয়েছে। এই পদ্ধতিতেও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যেখানে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে নেবেন।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “দেশীয় সম্পদের জন্য দেশের আদালতে এবং বিদেশি সম্পদের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতে মামলা পরিচালনা করতে হবে। ইতোমধ্যে এই লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা পেলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আইনজীবী নিয়োগ করবে।”




দীর্ঘ ছুটি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে না: অর্থ উপদেষ্টা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘোষিত টানা ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে দেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার (৪ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবেই চলবে, কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যেই নির্ধারণ করে দিয়েছে— ঈদের ছুটির মধ্যে কোন দিনগুলোতে, কোন কোন স্থানে ব্যাংক খোলা থাকবে এবং কোরবানির পশুর হাটের সময় ব্যাংক সেবাও কীভাবে চলবে, সেই পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। তিনি বলেন, “স্থবির হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, আমাদের ব্যবসায়ীরা তাদের মতো করে ব্যবসা করবেন।”

ছুটির প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “বড়দিন উপলক্ষে অনেক দেশে ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত ছুটি থাকে, নেপালে দুর্গাপূজায় ৩০ দিন পর্যন্ত ছুটি থাকে। তবে এসব দেশের অর্থনীতি চলেই, থেমে যায় না। বাংলাদেশও সেই ধারাবাহিকতায় চলবে। ইতোমধ্যেই বাজেট পেশ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কাজ চলছে।”

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে কারো মতামত গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১৯ জুন পর্যন্ত জনসাধারণ, প্রতিষ্ঠান বা বিশেষজ্ঞরা বাজেট সংক্রান্ত মতামত দিতে পারবেন। এরপর ২২ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেট অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তবে তিনি বলেন, “মতামত গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে, একদিনে সব কিছু আসবে না— এটি চলমান প্রক্রিয়া।”

সাধারণ জনগণের দৃষ্টিতে প্রস্তাবিত বাজেটে স্বস্তি আছে কিনা জানতে চাইলে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “বাজেটে স্বস্তি রয়েছে। অনেক জায়গায় পরিবর্তন এসেছে। দরিদ্র মানুষের জন্যও বাজেটে সুখবর আছে। কেউ ভালোভাবে বাজেট পর্যালোচনা করলে তা স্পষ্ট হবে।”

অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, বাজেটে যেসব কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি গতিশীল থাকবে। ছুটি থাকলেও সব খাত পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে, এবং কোনো খাতে স্থবিরতা তৈরি হবে না।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রপ্তানিতে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৯৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) মঙ্গলবার (৩ জুন) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মে মাসেই এককভাবে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৭৪ কোটি মার্কিন ডলারের, যা গত বছরের মে মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি। এটি চলতি অর্থবছরের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মে মাসে রপ্তানির শীর্ষে ছিল তৈরি পোশাক খাত। এই খাত থেকে এক মাসেই এসেছে ৩৯২ কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা, যা গত বছরের মে মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।

অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৫৬ কোটি ডলারে— আগের বছরের তুলনায় এটি ১০ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে এই খাত থেকে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আরও একবার প্রমাণ করলো। শিল্প মালিকরা বলছেন, উৎপাদন দক্ষতা, নতুন বাজার অন্বেষণ এবং পণ্যে বৈচিত্র্য আনার কারণে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

তৈরি পোশাক ছাড়াও ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, মে মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল সামগ্রী, প্লাস্টিক এবং চামড়াবিহীন জুতার রপ্তানিও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। তবে কিছুটা হতাশার দিক হলো— কৃষিপণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে বলে জানিয়েছে ইপিবি।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এই ধারা ধরে রাখতে হলে পণ্যের গুণগত মান, দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক নীতিমালা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার রপ্তানির বাজার আরও প্রসারিত করতে পারবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মে মাসে মূল্যস্ফীতির হালকা কমতি, স্বস্তিতে ভোক্তারা

দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি মে মাসে কিছুটা কমেছে। এক মাস আগের তুলনায় কমেছে খাদ্য ও অখাদ্য উভয় খাতে মূল্যস্ফীতির হার। ফলে সামান্য হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ জনগণ।

সোমবার (২ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, এ চিত্র দেখা গেছে।

বিবিএস জানায়, মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, কমেছে শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতিও সামান্য হ্রাস পেয়েছে। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশে, যা পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ কম।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত (নন-ফুড) মূল্যস্ফীতির হারও কমেছে। এপ্রিলে যা ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, মে মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে। হ্রাস পেয়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।

গ্রাম ও শহরভিত্তিক তথ্য:

  • গ্রামাঞ্চলে মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ, যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
  • শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য খাতে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং অখাদ্য খাতে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পণ্যের দাম কমায় এ পরিবর্তন হলেও সামগ্রিকভাবে এখনও মূল্যস্ফীতির চাপ অনেক বেশি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




যেমন হচ্ছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট _

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট আজ উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিকেল ৩টায় তার বাজেট বক্তব্য রেকর্ড করা হবে এবং সন্ধ্যা ৪টায় তা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত হবে। অন্যান্য বেসরকারি টিভি ও রেডিও চ্যানেলগুলোকেও বিটিভির ‘ফিড’ থেকে একই সময়ে সম্প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বাজেটের আকার গত অর্থবছরের তুলনায় সামান্য কম। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। তবে বাস্তবায়নের সময় তা কাটছাঁট হয়ে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকায়।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একটি প্রস্তাবিত বাজেট আগের বছরের তুলনায় আকারে ছোট হচ্ছে। জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত থাকায় এবারের বাজেট নিয়ে কোনো সংসদীয় আলোচনা বা বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে না। পরিবর্তে বাজেট ঘোষণার পর নাগরিকদের মতামত আহ্বান করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। সেই মতামতের আলোকে বাজেটে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে ২৩ জুনের পর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের বাজেট কার্যকর করা হবে।

এছাড়া, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসূচির আওতায় ভাতা এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, যেমন—রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙা রাখার চেষ্টা থাকবে বাজেটে।

এভাবেই অনন্য এক প্রেক্ষাপটে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আজ উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট।