আবারও ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২৪ জুলাই পর্যন্ত দেশের মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৪৫ লাখ ডলার, যা প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ২৪ জুলাই পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ বা মোট রিজার্ভের পরিমাণ ৩০০০৪.৫০ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্দেশিত হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ ২৪৯৮৮.২৪ মিলিয়ন ডলার।

এর আগের হিসাব অনুযায়ী, ১৬ জুলাই পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০০২৬.৬২ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৪৯৯৫.৪৫ মিলিয়ন ডলার।

উল্লেখযোগ্য যে, আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট রিজার্ভ হিসাব করা হয়, যেখানে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে প্রকৃত মজুত অর্থের হিসাব দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে নিট রিজার্ভের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও এটি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী রিজার্ভের প্রকৃত অবস্থা নির্দেশ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক ঋণের ডলার ছাড়ে এই রিজার্ভ উন্নয়নের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।


আল-আমিন



ভরা মৌসুমেও বরিশালে ইলিশের সংকট, দাম কেজিতে ২৮০০ টাকা

বর্ষার ভরা মৌসুমেও দক্ষিণাঞ্চলের বাজারে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না। প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ইলিশের দেখা যেত যেখানে, সেই বরিশালের বাজারেই এখন এক পিস ইলিশ পাওয়াই ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেটুকু ইলিশ বাজারে আসছে, তার দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রতিমণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ ১২ হাজার টাকায়, যা কেজিপ্রতি দাঁড়ায় ১৭৫০ থেকে ২৮০০ টাকার মতো।

বরিশালের কাগাশুরা থেকে পোর্ট রোডে এসে ইলিশ কিনতে গিয়ে হতাশ হয়েছেন এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন, “একটা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য বড় সাইজের কিছু ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু যা দাম, তা শুনে গাড়িভাড়াই শুধু খরচ হলো। আগের মতো মাছ নেই, আর যেটুকু আছে সেটা আমাদের সাধ্যের বাইরে।”

খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন একই কথা। পোর্ট রোডের বিক্রেতা রুবেল হাওলাদার জানান, “মাছ আসছেই কম। যেটুকু আসে তাও সোজা চলে যায় ঢাকার দিকে। নদীর কিছু মাছ বাজারে এলেও তা অনেক দামি। সাগরের মাছ এলেই হয়তো দাম কিছুটা কমবে।”

জেলেরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তারা সাগরে যেতে পারছেন না। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর জেলে সুজন আকন বলেন, “নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও সাগর উত্তাল। সিগন্যাল থাকায় অনেক ট্রলার মালিক সাগরে বোট পাঠাননি। একেকটি ট্রলার চালাতে এখন পাঁচ লাখ টাকারও বেশি খরচ পড়ে, সেই টাকা উঠে আসবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা।”

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ছোট সাইজের (৪০০ গ্রাম) ইলিশের মণপ্রতি দাম ৬৮-৭০ হাজার টাকা, মাঝারি (৮০০-৯০০ গ্রাম) সাইজের এক লাখ, আর এক কেজির বেশি সাইজের ইলিশের দাম ১ লাখ ৮ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। গত ১০ দিনের ব্যবধানে বড় সাইজের ইলিশের দাম মণপ্রতি ১২ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপণ কান্তি ঘোষ জানান, “রবিবার পোর্ট রোডে মাত্র ৩০ মণ ইলিশ উঠেছে। সাগরে সিগন্যাল থাকায় জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না। তবে মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কয়েকটি ট্রলার ফিরেছে, এতে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “পদ্মা সেতু হওয়ার ফলে ট্রলার থেকে মাছ তুলে সরাসরি ঢাকায় পাঠানো যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে সংকট তৈরি হচ্ছে। সাগরের মাছ এলেই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশালে সবজির বাজারে স্বস্তি, কমেছে ২০ টাকা পর্যন্ত

কয়েক দিনের ব্যবধানে বরিশালের সবজির বাজারে দামের ক্ষেত্রে স্বস্তি ফিরেছে। পাইকারি বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সোমবার (৭ জুলাই) নগরীর সাগরদী, বাংলাবাজার, বহুমুখী সিটি মার্কেটসহ একাধিক বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

পাইকারি বাজারে শসা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫-৩০ টাকা। কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা থেকে কমে এসেছে ৩০ টাকায়, বরবটি ৪৫ থেকে ৩০ টাকায়, করলা ৬৫ থেকে ৪৫ টাকায় এবং পটল পাওয়া যাচ্ছে ৩০ টাকায়। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ৩০-৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৩৫ টাকা এবং লাউ ৩০-৫০ টাকায়। এছাড়া কাঁচা কলা হালি প্রতি ২০-৩০ টাকা এবং লেবু ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে সবজির দাম কিছুটা বেশি হলেও তা এখনও সাধারণের নাগালের মধ্যেই আছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, লেবার, পরিবহন, ইজারা ও বৃষ্টির কারণে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় দাম কিছুটা বাড়ে।

মাংসের বাজারে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৭০-২৮০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ২৫০-২৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা।

মাছের বাজারেও একই ধরনের স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪৫০ টাকা কেজি, টেংরা ৫০০-৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, পাঙাস ১৫০-১৮০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৮৫০ টাকা, পাবদা ২৫০-৪০০ টাকা এবং মাঝারি ভেটকি ৪০০ টাকায়।

বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি বিক্রেতা মো. আমিন শুভ জানান, বর্তমানে সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে খুচরা বাজারে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা পরিবহন ও অন্যান্য খরচের কারণে স্বাভাবিক।

এদিকে, বরিশাল বিভাগীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বিশ্বের ১২ দেশের ওপর শুল্ক আরোপ; চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফায় বিশ্বের ১২টি দেশের জন্য নতুন শুল্ক হার নির্ধারণ করেছে। এ সংক্রান্ত একটি সরকারি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (৫ জুলাই) নিউজার্সিতে যাওয়ার পথে প্রেসিডেন্টের বিমান সফরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, শুল্ক নির্ধারণ সংক্রান্ত চিঠিতে তিনি ইতোমধ্যেই স্বাক্ষর করেছেন এবং আগামী সোমবার (৭ জুলাই) প্রকাশ করা হবে কোন কোন দেশের পণ্যে নতুন হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, “এই সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য—না হয় প্রত্যাখ্যানযোগ্য। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান কঠোর।”

এর আগে গত এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দেয়, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করছে, তাদের জন্য পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নির্দিষ্ট ১২টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক বসানো হলো।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব দেশের জন্য ন্যূনতম ১০ শতাংশ এবং কিছু কিছু দেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য।

তবে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ৯০ দিনের জন্য শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা স্থগিত করেছিল। আগামী ৯ জুলাই সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এরপর থেকে শুল্ক কার্যকর হতে শুরু করবে। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন, কিছু দেশের ক্ষেত্রে এই হার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তা আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে পারে।

ট্রাম্প জানান, ১২টি দেশের প্রতিটির জন্য পৃথকভাবে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। কারও ওপর বেশি, আবার কারও ওপর তুলনামূলক কম হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

তবে শুল্ক আরোপের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা এখনও প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে জানা গেছে। বাকিদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে বলেও জানায় হোয়াইট হাউস।




রোহিঙ্গা, বিনিয়োগ ও যুব উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তা এবং যুব উন্নয়ন—বিশেষ করে শিক্ষাবৃত্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাইকার নির্বাহী সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়াজাকি কাতসুরার সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জাপান সবসময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। আমি সম্প্রতি জাপান সফরে গিয়ে আতিথেয়তা ও আন্তরিকতায় অভিভূত হয়েছি। আমরা জাপানের সঙ্গে আরও গভীর সহযোগিতা চাই।”

তিনি জাপানে শিক্ষাবৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো এবং বাংলাদেশি তরুণদের কর্মসংস্থানে সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। “অনেক তরুণ জাপানে কাজ করতে আগ্রহী, তবে ভাষা একটি বড় বাধা,”—উল্লেখ করে তিনি প্রস্তাব দেন যে, জাপানি ভাষা ও আচরণ শেখাতে শিক্ষক পাঠানো বা অনলাইন দূরশিক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “হাজার হাজার তরুণ এখন ক্যাম্পে বেড়ে উঠছে কোনো ভবিষ্যৎ আশা ছাড়াই। এ অবস্থায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।” তিনি বিষয়টিকে মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন।

এছাড়া, মাতারবাড়ি প্রকল্পকে দেশের জন্য “ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল” হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি জাপানের চলমান বিনিয়োগকে আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

জবাবে জাইকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়াজাকি কাতসুরা বলেন, “বাংলাদেশ জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।” তিনি জানান, জাইকা ইতোমধ্যে বিচার ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য ও আইসিটি খাতে সহায়তা দিচ্ছে এবং ২০২৬ সালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

নারী খেলোয়াড়দের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের মেয়েরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পাচ্ছে। আমরা হোস্টেল সুবিধা বাড়াচ্ছি, তবে আরও সহায়তা দরকার।” মিয়াজাকি জানান, জাপান এরইমধ্যে বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ও খেলাধুলায় স্বেচ্ছাসেবক পাঠাচ্ছে এবং বাংলাদেশে এ খাতেও সহযোগিতার কথা বিবেচনায় নেবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সংস্কার, রেলপথ নির্মাণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়িয়ে ৪৫০ বিলিয়ন ইয়েনে উন্নীত করার অনুরোধ জানান।

ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ সবসময় জাপানের বন্ধুত্ব ও অবদানের কথা মনে রাখবে।”




নির্বাচনী বাজেটে কৃপণতা নয়, বরাদ্দ হবে প্রয়োজনমতো: অর্থ উপদেষ্টা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাজেট বরাদ্দে কোনো কার্পণ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (১ জুলাই) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচন একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের ব্যয় বিবেচনা করা হবে। নির্বাচনের জন্য যথাযথ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে।”

এদিন বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং ডিএপি, ইউরিয়া সার ও এলএনজি কেনার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এলএনজি আসলে সারের সরবরাহও বাড়বে, যা কৃষি উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এনবিআরকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা হিসেবে ঘোষণা করে যেই প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে, সেটাই চূড়ান্ত। এর বাইরে আর কোনো নতুন প্রজ্ঞাপন নেই।”

বন্দরের সাম্প্রতিক অচলাবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পণ্য পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। যেসব পণ্য বন্দরে ঢুকেছে, সেগুলোর জাহাজীকরণ প্রক্রিয়া চলছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি, তবে ব্যাপক ক্ষতি হয়নি বলেই মনে হচ্ছে।”

সরকারের এই দুটি উপদেষ্টা মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, নির্বাচন ও অর্থনীতি—দুই দিকেই সরকার প্রস্তুতির ঘাটতি রাখতে চায় না।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কমপ্লিট শাটডাউন প্রত্যাহার করলো এনবিআর : অর্থনীতি সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত

দেশের আমদানি-রপ্তানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখার স্বার্থে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার রোববার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের অনুরোধ এবং অর্থনীতি ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাজস্ব ব্যবস্থার টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের লক্ষ্যে তাদের প্রচেষ্টা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি ২৮ ও ২৯ জুনের শাটডাউন কর্মসূচির ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে যে স্থবিরতা দেখা দেয়, তা নিরসনে ব্যবসায়ী নেতারা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় বসেন। অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গেও আলোচনা শেষে কিছু বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

সংগঠনটি সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যের রাজস্ব উপদেষ্টা কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে জানায়, তারা এই কমিটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। সভাপতি হাছান তারেক রিকাবদার বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই কমিটির সঙ্গে কাজ করে আমরা একটি টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থার ভিত্তি রচনা করতে পারব।”

এদিকে এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের জের ধরে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে সরকার। রবিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান। তবে এদিন বিকেলে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হয়।

অন্যদিকে, রোববারও এনবিআরের চেয়ারম্যানের অপসারণ ও রাজস্ব খাতে গণমতভিত্তিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ের সব গেট বন্ধ রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সংগঠনের ব্যানারে কমপ্লিট শাটডাউন ও “মার্চ টু এনবিআর” কর্মসূচি পালন করা হয়।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদ জানায়, একটি পূর্ণাঙ্গ, বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই রাজস্ব সংস্কারের দাবি আদায়ে তারা এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানকে অপসারণের আহ্বান জানায়। তাদের ভাষায়, “ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর” হিসেবে চিহ্নিত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সুষ্ঠু সংস্কার সম্ভব নয়।

এর আগে, ১২ মে জারি করা এক অধ্যাদেশে এনবিআর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করে সরকার। এর বিরোধিতা করে এনবিআরের অধীন কর্মকর্তারা ২৬ মে পর্যন্ত কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

পরে ২৫ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এনবিআর বিলুপ্ত করা হয়নি; বরং এটি স্বাধীন ও বিশেষায়িত বিভাগে উন্নীত করা হবে। এই আশ্বাসের পর ২৬ মে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত হলেও চেয়ারম্যান অপসারণ ও তার সঙ্গে অসহযোগিতার ঘোষণা বহাল থাকে।

কোনো সমঝোতা বা অগ্রগতি না থাকায়, ২৩ জুন থেকে দ্বিতীয় দফায় আন্দোলনে নামে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অবশেষে ২৯ জুন সন্ধ্যায় শাটডাউন প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও রাজস্ব সংস্কারের দাবি থেকে সরছে না আন্দোলনকারীরা।




সরকারি দাবি প্রত্যাখ্যান, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর’ চলবে

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পরও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। তারা বলছে, আগামীকাল শনিবার (২৮ জুন) থেকে ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে লাগাতার কর্মবিরতি চলবে।

শুক্রবার রাতে ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ও মহাসচিব সেহেলা সিদ্দিকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “২৬ জুন অর্থ উপদেষ্টার কার্যালয়ে যে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। আলোচনায় আমন্ত্রণ না জানানোয় ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও ছিল না। তাই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চলবে।”

অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এনবিআর সংস্কার আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়: ১. এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ঘোষিত কমপ্লিট শাটডাউন ও মার্চ টু এনবিআর কর্মসূচি প্রত্যাহার।
২. জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাম্প্রতিক দুটি বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনা।
৩. আগামী ১ জুলাই বিকাল ৪টায় এনবিআর সংস্কার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে রাজস্ব আইন সংশোধন বিষয়ে আলোচনা সভা।

তবে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ জানায়, “দেশ ও রাজস্বের স্বার্থে আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে দাবি বাস্তবায়নের আগে আন্দোলন থেকে পিছু হটার প্রশ্নই আসে না। আমরা প্রধান উপদেষ্টার সানুগ্রহ হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

সংগঠনটি জানায়, শাটডাউন কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ব্যতীত ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে কাজ বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে এনবিআরের প্রতি শান্তিপূর্ণ ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচিও চলবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান কর্মসূচির কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি ও জনসেবায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সকল কর্মকর্তাকে নিজ নিজ দপ্তরে ফিরে কার্যক্রমে মনোনিবেশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান বৈঠক নিয়ে জোট গঠনের গুঞ্জন অস্বীকার করলেন উপদেষ্টা

চীনের কুনমিংয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় বৈঠককে ঘিরে জোট গঠনের জল্পনা-কল্পনা তৈরি হলেও বাংলাদেশ তা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, “আমরা কোনো জোট গঠন করছি না।”

তিনি বলেন, “এই উদ্যোগটি মূলত চীনের, এবং এটি একেবারেই অফিসিয়াল পর্যায়ের—রাজনৈতিক নয়। সেখানে একটি প্রদর্শনীর সময় তিন দেশের পররাষ্ট্র সচিবেরা সাইডলাইনে বৈঠক করেছেন। আলোচনা ছিল কেবল কানেক্টিভিটি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিকে ঘিরে। জোট গঠনের কোনো বিষয় সেখানে ছিল না।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “এটা ছিল একটি প্র্যাকটিক্যাল সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করার প্রয়াস। এটিকে বেশি স্পেকুলেট করা ঠিক হবে না। আমরা মনে করি না, এই বিষয়টি নিয়ে আর বাড়তি কিছু বলার দরকার আছে।”

ত্রিপক্ষীয় ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাব

বৈঠকে চীন ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি যৌথ কর্মপরিষদ (Joint Working Group – JWG) গঠনের প্রস্তাব আসে বলে জানা গেছে। তবে তিন দেশের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নতা দেখা যায়।

এ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, “কোনো কিছু অস্বীকার করার প্রয়োজন নেই। আমরা আমাদের বক্তব্যে পরিষ্কার করে দিয়েছি যে বৈঠকটি কোনো কাঠামোগত বা বড় ধরণের চুক্তির অংশ ছিল না। প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখেছে, আমরাও তাই করেছি।”

জোট গঠন তৃতীয় কোনো দেশকে লক্ষ্য করে কি না—এমন প্রশ্নে পরিষ্কার জবাব

জোট গঠনের আলোচনা তৃতীয় কোনো দেশকে উদ্দেশ্য করে হচ্ছে কি না—জানতে চাইলে উপদেষ্টা সাফ জানিয়ে দেন, “অবশ্যই নয়। টার্গেট করার মতো কিছু নেই এখানে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি এটি কোনো দেশকে উদ্দেশ্য করে নয়।”

তিনি বলেন, “যদি ভারত, নেপাল বা অন্য কোনো দেশ কানেক্টিভিটি নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করতে চায়, আমরাও রাজি আছি। এমন বৈঠক করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। এটা নিয়ে অতিরিক্ত সন্দেহ করার প্রয়োজন নেই।”

উল্লেখ্য, কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক নিয়ে সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হলো, এটি কোনো জোট গঠনের সূচনা নয়, বরং একটি যৌথ আলোচনার প্ল্যাটফর্ম মাত্র।




২০২৬ সালের জুলাইয়ে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে যাচ্ছে পায়রা বন্দর

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল কার্যক্রমে প্রবেশ করবে বলে জানিয়েছেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাসুদ ইকবাল।

বুধবার (২৫ জুন) সকালে বন্দরের প্রথম টার্মিনাল ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বন্দরের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “এই বন্দরের ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এটি একটি আধুনিক, পূর্ণাঙ্গ ও প্রতিযোগিতামূলক সমুদ্রবন্দরে রূপ নেবে।”

তিনি জানান, বর্তমানে বন্দরের চ্যানেলের গভীরতা সাড়ে ছয় মিটারের বেশি, ফলে এখানে ৪০-৫০ হাজার মেট্রিকটন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মাদার ভেসেল ভিড়তে পারছে। ভবিষ্যতে গভীরতা বাড়িয়ে সাড়ে ১০ মিটার করা হবে। এজন্য দুটি ড্রেজার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু করা হবে, যাতে খরচ কমে আসে।

চেয়ারম্যান মাসুদ ইকবাল আরও বলেন, বন্দর ঘেঁষা দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমেই ড্রেজিংয়ের খরচ মেটানো সম্ভব। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে নদীপথে ও সড়কপথে স্বল্প দূরত্বের কারণে এই বন্দর হবে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী।

বর্তমানে বন্দরে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ ৬৫০ মিটার দীর্ঘ জেটি, ৩ লাখ ২৫ হাজার বর্গমিটার ব্যাকআপ ইয়ার্ড, ১০ হাজার বর্গমিটার সিএফএস শেড এবং নিরাপদ চ্যানেলে ১৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধা। এতে দ্রুত পণ্য লোড-আনলোড করা যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বন্দরে এখন পর্যন্ত ৫২৯টি আন্তর্জাতিক জাহাজ এবং ৩৪২৬টি দেশীয় লাইটারেজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ২,০৭৯ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল কাদের, সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, মোংলা, পায়রা, পানগাঁও ও ল্যান্ড পোর্টের পরিচালক সুমন হাওলাদার, ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট ফেডারেশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মামুনুর রশিদ এবং পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন।

বক্তারা বলেন, পায়রা বন্দরের পূর্ণাঙ্গ অপারেশন শুরু হলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অনগ্রসর এলাকাগুলোর শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতির বিকাশে বিশাল ভূমিকা রাখবে। তারা দ্রুত সীমাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি এই সম্ভাবনাময় বন্দরের উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

চেয়ারম্যান মাসুদ ইকবাল নিজ বক্তব্যে সবাইকে পায়রা বন্দরের অগ্রযাত্রায় অংশগ্রহণ ও সহায়তা করার আহ্বান জানান এবং বলেন, “এই বন্দর হবে দেশের অর্থনীতির নতুন দিগন্ত।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম