শুল্ক হ্রাসে ইউনূস ও ট্রাম্পকে জামায়াত আমিরের ধন্যবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক শুল্ক আলোচনায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানোয় আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পোস্টে জামায়াত আমির লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে উচ্চ শুল্কহার ঘোষণা করা হয়েছিল, তা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের কার্যকর উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আন্তরিকতায় কমে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। এজন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং অধ্যাপক ইউনূসকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “আশা করছি ভবিষ্যতে ড. ইউনূস এবং যারা পরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তারা সম্মানজনক কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রেখে বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।”

এই সাফল্য বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, রপ্তানিকারকদের স্বস্তি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে উৎসাহ সৃষ্টিতে এ ধরণের চুক্তিকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এছাড়া ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা, আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দল ও কূটনৈতিকদেরও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যনীতির আওতায় বিভিন্ন দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এ অবস্থায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে উল্লেখযোগ্য হারে শুল্ক হ্রাসে সক্ষম হয়, যা অর্থনৈতিকভাবে বড় একটি সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শুল্ক আলোচনায় সফল বশিরউদ্দীন, প্রশংসায় জ্বালানি উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক কমানোর আলোচনায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের কূটনৈতিক দক্ষতা ও নেতৃত্বকে “যোগ্যতার প্রমাণ” হিসেবে অভিহিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

শুক্রবার (১ আগস্ট) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফাওজুল কবির লেখেন, “দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্যমূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশের সঙ্গে সফল চুক্তি—সবখানেই শেখ বশিরউদ্দীন নিজেকে অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।”

পোস্টে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর আরোপিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা—এটিই শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে আলোচনার একটি বড় সফলতা। দেশের অর্থনীতি, রপ্তানিখাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেও মন্তব্য করেন জ্বালানি উপদেষ্টা।

ফাওজুল কবির জানান, “প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে আমি শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে দেখা করি। তখন তার পূর্বপরিচয় ছিল না, কিন্তু প্রথম সাক্ষাতেই তার দেশপ্রেম, যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ ও বিনয় আমাকে মুগ্ধ করে। একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে উপযুক্ততা নির্ধারণে এটাই যথেষ্ট ছিল।”

তিনি আরও লেখেন, “আমার অফিস থেকে যে নাশতা দেওয়া হয়েছিল, তিনি বিনয়ের সঙ্গে সেটি গ্রহণ করেননি। তার মাঝে আমি যেসব গুণ খুঁজে পেয়েছি, তা হলো—দেশের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ, অযুক্তিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার সাহস এবং তথ্য বিশ্লেষণের অসাধারণ ক্ষমতা।”

এই প্রসঙ্গেই জ্বালানি উপদেষ্টা আল্লাহর কাছে শেখ বশিরউদ্দীনের দীর্ঘ হায়াত কামনা করে লেখেন, “তিনি যেন দেশকে আরও দীর্ঘদিন সেবা দিতে পারেন—হোক তা সরকারি অথবা বেসরকারি পর্যায়ে।”

এই সফল আলোচনার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি যেমন লাভবান হবে, তেমনি রাজনৈতিকভাবেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশকে ড্রোন প্রযুক্তি দিতে আগ্রহী চীন: কৃষিতে যৌথ সহযোগিতার প্রস্তাব

বাংলাদেশের কৃষি খাতে অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি হস্তান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। বুধবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এ আগ্রহের কথা জানান।

চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৃষি পণ্য রপ্তানি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে উপদেষ্টা বলেন, “চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস অর্ধশতাব্দির। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।”

চলতি মৌসুমে আম আমদানির জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানান উপদেষ্টা। পাশাপাশি আগামী মৌসুমে কাঁঠাল ও সুগন্ধি চালসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানির অনুরোধ জানান তিনি।

বাংলাদেশের কৃষির আধুনিকায়নে যান্ত্রিকীকরণ, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ সহযোগিতার বিষয়ে চীনকে আহ্বান জানান উপদেষ্টা।

জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, “কৃষিখাতে বাংলাদেশকে সহায়তায় চীন প্রস্তুত। সার কারখানা স্থাপন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী চীন।”

সাক্ষাতে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কৃষি সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়।




সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা, পুঁজিবাজারে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাশাপাশি তাকে পুঁজিবাজারে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ জুলাই) বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

অনিয়মের বিষয়টি ঘনীভূত হয় ‘আইএফআইসি গ্যারান্টেড শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড’ ইস্যু নিয়ে, যার মাধ্যমে শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। কিন্তু কোম্পানিটি মাত্র কয়েক মাস আগেই গঠিত হয়েছিল এবং পরিশোধিত মূলধন থাকা সত্ত্বেও অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে ২৪৮ কোটি টাকা উত্তোলন করেছিল, যা বিএসইসির কাছে সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।

এই বন্ড ইস্যুতে আইএফআইসি ব্যাংক মূল ইস্যুকারী না হলেও জামিনদার হিসেবে যুক্ত ছিল, অথচ বিজ্ঞাপনে এমনভাবে প্রচার করা হয় যেন এটি ব্যাংকের নিজস্ব বন্ড। এতে করে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হন ও প্রতারিত হন বলে তদন্তে উঠে আসে।

বিএসইসির গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:

১. সালমান এফ রহমান – ১০০ কোটি টাকা জরিমানা; পুঁজিবাজারে আজীবন অবাঞ্ছিত।
২. সায়ান ফজলুর রহমান (ছেলে) – ৫০ কোটি টাকা জরিমানা; আজীবন অবাঞ্ছিত।
৩. ইমরান আহমেদ (আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টের তৎকালীন সিইও) – ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ।
৪. শাহ আলম সারওয়ার (আইএফআইসি ব্যাংকের তৎকালীন এমডি) – এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ।
৫. আইএফআইসি ব্যাংক ও পরিচালকদের সতর্ক করা।
৬. ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ECRL) – ১০ লাখ টাকা জরিমানা।
৭. অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম (তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান) – আজীবন অবাঞ্ছিত।
৮. ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ (কমিশনার) – ৫ বছরের জন্য অবাঞ্ছিত।

এই ঘটনায় দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রভাবশালী মহলের অপব্যবহারের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অনেকেই একে “পুঁজিবাজারে আস্থা সংকটের গভীর রূপ” হিসেবে দেখছেন।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার | চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় দফা শুল্ক আলোচনায় অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল

বাংলাদেশ থেকে মার্কিন বাজারে রপ্তানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। আজ সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেলে তারা ঢাকা ত্যাগ করবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ডিসিতে আগামী ২৯ ও ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে এই তৃতীয় দফা আলোচনা। এ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।

রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন শুল্কহার কার্যকর হলে বাংলাদেশি রপ্তানিপণ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে। এই প্রেক্ষাপটে শুল্কহার পুনর্বিবেচনার দাবি জানাতেই তারা বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, আগামী ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড় শুল্কহার দাঁড়াবে ৫০ শতাংশ। এই শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, এ আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে এবং অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাসের মাধ্যমে রপ্তানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আল-আমিন



দুই দফা বৈঠকেও ভোজ্যতেলের দাম কমছে না

ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দাম কমানোর উদ্দেশ্যে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে টানা দুই দফা বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। আজ রোববার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার বৈঠকও ফলপ্রসূ হয়নি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দুটি বৈঠকেই দীর্ঘ সময় আলোচনা চললেও, ভোজ্যতেলের দাম কমানো নিয়ে ব্যবসায়ীরা স্পষ্ট আপত্তি জানান। এতে আলোচনা শেষ হয় সিদ্ধান্তহীন অবস্থায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দামের অস্থিরতা ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি দেখিয়ে দাম না কমানোর পক্ষে অবস্থান নেন।

রোববারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশনের প্রতিনিধিরা এবং ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান—সিটি, মেঘনা, টি কে, বসুন্ধরা, এস আলমসহ অন্যান্য কোম্পানির প্রতিনিধি।

এর আগে ট্যারিফ কমিশন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে, যা প্রথম বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ১৫ জুলাই পর্যন্ত অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের FOB মূল্য ছিল ১,০৭৯ মার্কিন ডলার ও পাম অয়েলের ১,০১৭ ডলার। অথচ গত ১৫ এপ্রিল এই দাম ছিল যথাক্রমে ১,০০৩ ও ১,০৫২ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এই সময়ে সয়াবিন তেলের দাম সামান্য বেড়েছে ০.৭% এবং পাম তেলের দাম কমেছে প্রায় ৩%।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলেও, দেশের বাজারে ভোক্তারা তুলনামূলক বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে সরকারকে শক্ত অবস্থানে থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলেই মনে করছেন ভোক্তাসাধারণ।

ভোজ্যতেলের দাম কমানোর বিষয়ে আগামীতে আরেকটি বৈঠক আহ্বান করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রেমিট্যান্সে নতুন উল্লম্ফন, জুলাইতেই দেশে এল ১৯৩ কোটি ডলার

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২৬ দিনেই বৈদেশিক মুদ্রায় আয় পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ২৬ জুলাই পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১.৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ২৩ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।

মাসের বাকি দিনগুলোতেও এই গতি অব্যাহত থাকলে, পুরো জুলাই মাস শেষে রেমিট্যান্সের অঙ্ক ২৩০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে বছরজুড়েই রেমিট্যান্স প্রবাহে স্থিতিশীলতা দেখা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, প্রবাসী আয়ে এ ঊর্ধ্বগতি হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, ব্যাংকিং চ্যানেলের সহজলভ্যতা এবং প্রণোদনার যৌক্তিক বাস্তবায়নের ফল। এছাড়াও, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি দূতাবাসের সচেতনতামূলক কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

সবশেষ জুন মাসেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮২ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের জুন মাসের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধারাবাহিক ইতিবাচক গতি বজায় রয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুটা রেমিট্যান্স প্রবাহের নতুন রেকর্ড দিয়ে শুরু হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রবাহে নজিরবিহীন অগ্রগতি লক্ষ করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, গত অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের (২৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি।

এটি এক অর্থবছরে দেশে আসা সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এমন আয় শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফেরায়নি, একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং ডলার সংকট মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রেমিট্যান্স প্রবাহ যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে তা বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি ভারসাম্য রক্ষা, বিনিয়োগে স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রবাসীদের পক্ষ থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর এ প্রবণতা আরও উৎসাহিত করতে সরকারের উচিত ব্যাংকিং প্রক্রিয়া আরও সহজ করা, দ্রুততম সময়ে লেনদেন সম্পন্নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং আকর্ষণীয় হারে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মুনাফায় ধস, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অন্যতম বড় বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবিসি) এবার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুনাফা সংকটে পড়েছে। ঢাকা মহানগরের কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কারণে কোম্পানিটির ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মুনাফা প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পাওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিএটিবিসি’র শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ১ টাকা ৮০ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে এই অংক ছিল ৯ টাকা ৪৮ পয়সা। ১৯৭৭ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে এটি কোনো একক প্রান্তিকে সবচেয়ে কম মুনাফা।

মুনাফার এই ধস অর্ধবার্ষিক হিসাবেও স্পষ্ট। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৭ টাকা ৬৯ পয়সা, যেখানে গত বছরের প্রথমার্ধে তা ছিল ১৭ টাকা ১৪ পয়সা।

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকার মহাখালীর কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সামগ্রিকভাবে বাজারে বিক্রি কমে যাওয়াই মুনাফায় এই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

গত ১ জুলাই থেকে মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকায় বিএটিবিসির তামাক কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে কোম্পানির রেজিস্টার্ড অফিস স্থানান্তর করে নেওয়া হয় আশুলিয়ার দেওড়া এলাকায়। এই কারখানায় বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড যেমন ডানহিল, কেন্ট, পলমল, বেনসন, রথম্যান্স, কুল প্রভৃতি তামাকজাত পণ্য প্রস্তুত করা হতো। কোম্পানিটি বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম তামাক উৎপাদনকারী হিসেবে পরিচিত।

এদিকে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) দাবি জানিয়েছিল, আবাসিক এলাকায় তামাক কারখানা পরিচালনা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। বিশেষ করে শিশুস্বাস্থ্যে এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং ডিওএইচএস এলাকায় যানজট, শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ বাড়ানোর মতো প্রভাব তুলে ধরেছিল সংগঠনটি। দাবি ছিল, কীভাবে এই কারখানা পরিবেশ ছাড়পত্র পেয়েছে তা তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

পবা আরও অভিযোগ করে, তামাক কোম্পানিগুলোর প্রভাবে ২০২৩ সালে তামাক শিল্পকে ‘লাল শ্রেণি’ থেকে ‘কমলা শ্রেণিতে’ নামিয়ে আনা হয় এবং তামাক চাষে শুল্কও শূন্যে নামিয়ে আনা হয়, যা দেশের পরিবেশবিষয়ক নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবাসিক এলাকার ভেতরে থাকা তামাক কারখানা ধ্বংস করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাবলিক পার্ক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ব্যাংককের বেঞ্জাকিট্টি ফরেস্ট পার্ক, এথেন্স ও কুর্দিস্তানের প্রাক্তন তামাক কারখানা এখন রূপান্তরিত হয়েছে জনকল্যাণমূলক স্থানে। অথচ বাংলাদেশে এখনো শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমন ক্ষতিকর শিল্প প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের জন্য উদ্বেগজনক।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ তামাকজনিত কারণে মারা যায়। প্রায় ১৫ লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হন ফুসফুস ক্যানসার, স্ট্রোক, হৃদরোগ ও অ্যাজমার মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুখে। ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া ৯২% শিশুর মুখের লালায় উচ্চমাত্রার নিকোটিন পাওয়া যাওয়ার মতো তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

তামাক উৎপাদন পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রতি একর জমিতে তামাক শুকাতে লাগে প্রায় ৫ টন কাঠ, যা দেশের বনভূমির ৩০ শতাংশ ধ্বংসে ভূমিকা রাখছে। ২০২৪ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ থেকেই দেশে ৪,১৩৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা মোট ঘটনার ১৫.৫২%।

সব মিলিয়ে মুনাফার ধস, সামাজিক চাপ এবং পরিবেশগত উদ্বেগ—সব দিক থেকেই ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ এখন কঠিন চাপে রয়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের সামনে বড় নীতিগত ও বাজারিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সবজির দামে আগুন, বৃষ্টি এলে আরও সংকটের শঙ্কা

রাজধানীর বাজারে সবজির সরবরাহ ঠিক থাকলেও তা যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে প্রতিটি সবজি এখন অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি জোগান কম, টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতের ক্ষতি এবং পরিবহন সংকটকে এর মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিক্রেতারা। তবে শঙ্কা আরও বাড়ছে—বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সবজির দাম আরও উর্ধ্বমুখী হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর পূর্ব রামপুরার বউ বাজার ও আশপাশের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকানে সবজির পরিমাণ ভালোই রয়েছে, কিন্তু ক্রেতাদের মুখে কোনো হাসি নেই। দাম শুনে কেউ কেউ হাত গুটিয়ে ফিরে যাচ্ছেন, কেউ আবার প্রয়োজনের চেয়ে কম কিনছেন।

অসময়ের টমেটো প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে এক মাস আগেও এই দাম ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। গাঁজর ১০০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০, কাঁকরোল ৭০, করলা ৮০, বরবটি, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, ধন্দুল—সব কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। এ ছাড়া কচুর লতি, পটল ও লম্বা বেগুন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন দামে গৃহস্থালি খরচ সামাল দেওয়া ক্রেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

অন্যান্য সবজির অবস্থাও একই। প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০, কচু ৬০, আর মিষ্টি কুমড়া প্রতি ফালি ৩০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে।

বউ বাজারের ষাটোর্ধ্ব বিক্রেতা কাশেম মিয়া বলেন, “আমরা তো পাইকারি বাজার থেকে এনে ২-৫ টাকা লাভে বিক্রি করি। দাম বাড়লে আমাদের লাভ বাড়ে না বরং ক্রেতা কমে যায়। মানুষ দাম শুনেই চলে যায়।”

তিনি জানান, গত দুই সপ্তাহে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম ৫ থেকে ১০ টাকা করে বেড়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়েছে, আবার অনেক এলাকায় পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তার ভাষায়, “মরিচের দাম কিছুটা কমেছে, যেটা আগে ২৪০ টাকা ছিল, এখন ১৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।”

দাম বাড়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ভোক্তা। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের গৃহিণী লায়লা বেগম বলেন, “৭০-৮০ টাকা কেজি দরে সবজি কিনে সংসার চালানো এখন কঠিন হয়ে গেছে। আমরা কম আয়ের মানুষ। বাজারে গিয়ে হতাশা ছাড়া কিছু নেই।”

বাজারের বর্তমান অবস্থা দেখে বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সবজির সরবরাহ আরও কমে আসবে, ফলে দাম আরও বাড়তে পারে। অনেক ক্রেতা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি জরুরি। একইসঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিয়মিত ও সুষ্ঠুভাবে পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থাও নিতে হবে—না হলে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে নাভিশ্বাস উঠবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




‘জুলাই বিপ্লব প্রমাণ করে, বাংলাদেশে এখনো ভালো মানুষ আছে’ : জ্বালানি সচিব

“বাংলাদেশ এখনো নষ্ট হয়ে যায়নি, দেশের মানুষের মধ্যে এখনো দেশের প্রতি ভালোবাসা, আত্মত্যাগের চেতনা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের মর্যাদা রক্ষার স্পৃহা রয়েছে”—এমন মন্তব্য করে জুলাই বিপ্লবকে একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

শনিবার (৩৬ জুলাই) রাজধানীর পেট্রোসেন্টারে আয়োজিত ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এই মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ১৬টি পরিবার এবং একজন আহত যোদ্ধার হাতে সম্মাননা স্মারক হিসেবে এক লাখ টাকা করে মোট সতেরো লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “এই আন্দোলন থেকে প্রমাণ হয় দেশে ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি। কিছু খারাপ মানুষ আমাদের পথ আটকাতে পারে না। তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে, যেন তারা দেশের ক্ষতি করতে না পারে।” তিনি আরিফ নামের একজন শহীদের কথা স্মরণ করে বলেন, “সে তার মাকে চিঠি লিখে আন্দোলনে গিয়েছিল, সে জানত সে ফিরবে না, কিন্তু দেশ ফিরবে। এটা সরাসরি দেশপ্রেমের চূড়ান্ত প্রকাশ।”

মাইলস্টোন কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষকদের স্মরণ করে সচিব বলেন, “এই আত্মত্যাগ ছিল এক অনন্য উদাহরণ, যা জাতির প্রতি ভালোবাসার প্রতিফলন। তাদের অবদান আমাদের অনুপ্রাণিত করে।”

আহত জুলাই যোদ্ধা হোসাইন আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পুলিশ বন্দুক ঠেকিয়ে আমার হাতে গুলি করে। আমার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর আমাকে মৃত ভেবে গাড়িতে তোলে, কিন্তু আমার ভাইয়েরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।”

নিহত ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলের সরকারি চাকরিতে যোগদানের কথা ছিল, বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে আন্দোলনে গিয়েছিল বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে। ১৮ জুলাই ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে তাকে হত্যা করা হয়। সন্তানের লাশ বাবার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী জিনিস। তবে আজকের এই সম্মাননা আমাকে গর্বিত করেছে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান বলেন, “আমরা যদি আমাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি, তাহলে কোনো বৈষম্য বা অন্যায় সৃষ্টি হবে না। সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমাদের মনে রাখতে হবে, একদিন জবাবদিহি করতে হবে—প্রধান বিচারপতি হলেও নয় ছয় চলবে না।”

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান সভাপতির বক্তব্যে শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবের চেতনা শুধু আন্দোলনের নয়, এটি দেশ গঠনের অনুপ্রেরণা। আমরা সবাই যদি এই চেতনা লালন করি, তাহলে দুর্নীতি ও অন্যায় দূর হবেই।”

অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে আন্দোলনের শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম