টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রি শুরু

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) দেশের সাধারণ জনগণের জন্য ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও মশুর ডাল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি আগামী রোববার (১০ আগস্ট) থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

শনিবার (৯ আগস্ট) টিসিবির উপপরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০ দিন (শুক্রবার বাদে) ঢাকা মহানগরীতে ৬০টি ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি হবে। প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন ৫০০ জন ভোক্তা ভর্তুকি মূল্যে এসব নিত্যপণ্য কিনতে পারবেন।

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২৫টি, গাজীপুর মহানগরীতে ৬টি, কুমিল্লা মহানগরীতে ৩টি, ঢাকা জেলায় ৮টি, কুমিল্লা জেলায় ১২টি, ফরিদপুর জেলায় ৪টি, পটুয়াখালী জেলায় ৫টি এবং বাগেরহাট জেলায় ৫টি ট্রাক চলাচল করবে। এসব জেলায় ১০ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১৯ দিন (শুক্রবার বাদে) বিক্রি চলবে।

টিসিবি নির্ধারিত দামে প্রতিটি পণ্যের মূল্য হবে—ভোজ্যতেল ২ লিটার ২৩০ টাকা, চিনি ১ কেজি ৮০ টাকা এবং মশুর ডাল ২ কেজি ১৪০ টাকা। যেকোনো ভোক্তা ট্রাকের কাছ থেকে সরাসরি এসব পণ্য ক্রয় করতে পারবেন, এজন্য আলাদা কোনো কার্ডের প্রয়োজন হবে না।

টিসিবি জানায়, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ ও উৎসবের আগে পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য এটি বড় সহায়তা হবে।

ভোক্তারা জানিয়েছেন, এ উদ্যোগ তাদের দৈনন্দিন খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগের কার্যক্রমে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হলেও তারা কম দামে মানসম্মত পণ্য পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

টিসিবির এই ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রমে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিম কাজ করবে এবং অনিয়ম রোধে প্রতিদিনই মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং চালানো হবে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়েছে

দেশজুড়ে আবারও বাড়ল মূল্যস্ফীতির চাপ। চলতি বছরের জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি, খাদ্য মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি—তিনটিই বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এ সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যা জুন মাসে ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ০.০৭ শতাংশ। এটি দেশের ভোক্তাদের জন্য আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

খাদ্য মূল্যস্ফীতির দিক থেকে দেখা যায়, জুনে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা জুলাইয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ খাদ্যসামগ্রীর দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে। জুন মাসে এর হার ছিল ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা জুলাইয়ে বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। যদিও বাড়ার পরিমাণ মাত্র ০.০১ শতাংশ, তবুও এতে প্রমাণ হয়—জ্বালানি, পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য খাতে খরচ কমছে না বরং ধীরে ধীরে বাড়ছেই।

গ্রাম ও শহরভেদে মূল্যস্ফীতি বিশ্লেষণেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। গ্রামাঞ্চলে জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

অপরদিকে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেশি। শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার জুলাই মাসে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

এই তথ্যগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে যে, দেশের জনগণের উপর মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিবারগুলো এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে—না হলে দীর্ঘমেয়াদে তা অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“অনেক কিছু দেখবেন”— শুল্ক বাড়িয়ে চীন-ভারতকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতসহ আরও অনেক দেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের কয়েক ঘণ্টা পরেই এ বার্তা দেন তিনি।

বুধবার (৬ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আপনারা আরও অনেক কিছু দেখবেন। প্রচুর সেকেন্ডারি স্যাংশন (পरोক্ষ নিষেধাজ্ঞা) আসছে।” তিনি বলেন, রুশ জ্বালানি কিনে তা পুনরায় রপ্তানি করে ভারত বিপুল মুনাফা করছে। এ কারণেই তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

ট্রাম্প জানান, শুধু ভারত নয়, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ব্যবসায় জড়িত থাকলে চীনসহ আরও অনেক দেশকেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে।

এই মন্তব্যের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এ আদেশ ২১ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে।

একই আদেশে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাশিয়ান তেল সরবরাহে জড়িত দেশগুলোকে চিহ্নিত করার জন্য।

ট্রাম্প আরও জানান, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলাপ এবং মস্কো সফরে নিযুক্ত বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তী নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ৩১ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একসঙ্গে ৯০টিরও বেশি দেশের ওপর নতুন শুল্কহার ঘোষণা করেন। তখন থেকেই ভারতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যার সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল এই নতুন শুল্ক ও হুঁশিয়ারির মধ্যে।




অর্থনীতিতে ফিরে এসেছে স্থিতিশীল গতি : অর্থ উপদেষ্টা

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছরের দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার ভাষায়, এক সময় ধ্বংসপ্রায় হয়ে পড়া অর্থনীতি এখন অনেকটাই স্থিতিশীল অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধির জন্য শুধু বাইরের দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং গভীর অন্তর্দৃষ্টি দরকার। কারণ, গত কয়েক মাসেই নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির দুটি পৃথক সভায় সভাপতিত্ব করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগে দেশের অর্থনীতি ছিল এক ভয়াবহ সংকটে। সেই জায়গা থেকে আজকের অবস্থান অনেক বেশি শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, সামনে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতিকে আরও নিয়ন্ত্রণে আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়ন সেই চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে নতুন করে আস্থা ফিরিয়ে আনাটাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ বিগত সময়গুলোতে এই খাতটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও নন-ফুড মূল্যস্ফীতি এখনও বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। এটি কোনো গাড়ির ব্রেক নয় যে এক মুহূর্তে থামিয়ে ফেলা যাবে—এর জন্য সময় ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক বিষয়ক আলোচনার অগ্রগতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, ৩৫ শতাংশ শুল্ক হার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে খারাপ নয় এবং নিটওয়্যার শিল্প এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। তবে ওভেন গার্মেন্টস কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, কারণ তাদের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সাপোর্ট এখনও দুর্বল।

তিনি আরও জানান, এই চুক্তি এখনো স্বাক্ষর হয়নি এবং কোন খাতে শুল্ক হ্রাস করা হবে তা বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে স্বল্পমেয়াদি কিছু আর্থিক সংস্কার হাতে নিয়েছে এবং মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য প্রয়োজন হবে আরও কিছু সময়। ব্যাংকিং খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছে, যার বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে করা হবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারেও সংস্কার চলছে, যার ইতিবাচক প্রভাব অচিরেই দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, এনবিআরকে দুটি বিভাগে ভাগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—একটি রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং অন্যটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ। ডিসেম্বরের মধ্যে এর বাস্তব রূপায়ণে অগ্রগতি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অবশেষে উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন জানান, সরকার এমন প্রকল্প গ্রহণ করছে, যা বাস্তবায়নযোগ্য এবং দেশের প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রিজার্ভে স্বস্তি: ৩০ বিলিয়ন ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রা মজুদ

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। সম্প্রতি রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) বৃদ্ধি পাওয়ায় রিজার্ভে যে চাপ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল, তা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গৃহীত হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গতকাল (বুধবার, ৬ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান।

উল্লেখ্য, মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ পাওয়া যায়। তবে এর বাইরে রয়েছে ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ, যা বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে না। এই ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ হিসাব করতে আইএমএফের এসডিআর (Special Drawing Rights), ব্যাংকগুলোর ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর (Asian Clearing Union) বিল বাদ দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ বর্তমানে ২০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

প্রতিমাসে গড়ে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয়ের বিবেচনায়, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব। অর্থনীতিবিদদের মতে, তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান রিজার্ভ একটি দেশের জন্য ন্যূনতম নিরাপদ সীমা হিসেবে বিবেচিত হয়।

দেশে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পাশাপাশি আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রিত থাকায় ডলারের চাহিদা কমেছে। এতে টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময়মূল্যও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনছে।

গত এক বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে না। এর ফলে রিজার্ভের ওপর চাপও অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। এক্ষেত্রে বাজেট সহায়তা, বৈদেশিক ঋণ এবং দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা রিজার্ভ বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একই সঙ্গে হু হু করে বাড়ে অর্থ পাচার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নজিরবিহীনভাবে বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে পাচার হয় বলেও অর্থনীতিবিদদের অভিযোগ রয়েছে।

ফলে রিজার্ভ টিকে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় আকারে ডলার বিক্রি শুরু করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০২২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার আইএমএফ-এর কাছে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার আবেদন করে।

বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতিতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ ও কঠোর নজরদারির ফলে বৈদেশিক সহায়তা আবারও আসতে শুরু করেছে। তারই প্রভাবে রিজার্ভ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আস্থা ফিরিয়ে আনা: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থনীতি ধ্বংসপ্রায় অবস্থা থেকে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে সামনে এখনো রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ—বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট, জ্বালানি পরিস্থিতি এবং শুল্ক নীতি। আর সবকিছুর চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং স্থবির হয়ে পড়া ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি সৃষ্টি।

বুধবার (৬ আগস্ট) অর্থনৈতিক ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “অর্থনীতি এখন আর সেই টালমাটাল অবস্থায় নেই। খাদের কিনারা থেকে অনেকটা উপরে উঠে এসেছে। তবে এই অগ্রগতি বোঝার জন্য প্রয়োজন দৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টি।”

তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থান, শুল্ক—সবই চ্যালেঞ্জ। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বাণিজ্যে গতি ফেরানো। এখন আমরা সেসব প্রকল্পে মনোযোগ দিচ্ছি, যেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য ও ব্যবসার পরিবেশ সহজতর করবে।”

মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা এমন না যে ঘোড়ার লাগাম টেনে একদিনে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। কিছুটা কমেছে, তবে খাদ্যবহির্ভূত (নন-ফুড) খাত এখনো চ্যালেঞ্জিং।”

বাজেট ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচন উপলক্ষে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। এখন পর্যন্ত ঘাটতি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যা আমাদের নির্ধারিত সীমা ৪ দশমিক ৫-এর মধ্যে রয়েছে।”

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ব্যাংক রেজুলেশন আইন, এনবিআরের সংস্কার, পুঁজিবাজার উন্নয়নসহ কিছু উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও কিছু বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “শুল্ক আরও কিছুটা কমলে ভালো হতো। তবে তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ খুব খারাপ অবস্থায় নেই। আমাদের আরএমজি খাত এখনো প্রতিযোগিতায় রয়েছে।”

চুক্তির বিষয়ে তিনি জানান, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তি হয়নি, তবে দরকষাকষি চলছে। “ওয়ান-টু-ওয়ান নেগোশিয়েশনে অনেক কিছু বলা যায় না। তবে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের ওপর আস্থা আছে।”

তিনি বলেন, “শেভরন, মেটলাইফের মতো কোম্পানির অর্থ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গিও এখন অনেক ভালো।”




জালিয়াতি মামলায় খায়রুল হকসহ ৮ জন ফাঁসছেন

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছয়তলা বাড়ি থাকার পরও সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে পূর্বাচলে প্লট গ্রহণের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকসহ রাজউকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (৪ আগস্ট) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের ১ নম্বর সেক্টরের ১০২ নম্বর রোডের ০০৪ নম্বর প্লটটি নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করান। অথচ তার নামে এরই মধ্যে ঢাকার নায়েম রোডে একটি ছয়তলা বাড়ি রয়েছে। এ তথ্য গোপন রেখে তিনি রাজউক বরাবর মিথ্যা হলফনামা দাখিল করেন।

পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে এমন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ সরকারি চাকরি আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। অভিযোগ উঠেছে, সাবেক বিচারপতি এই অনিয়ম করতে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং এ কাজে রাজউকের একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশ ছিল।

যাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে তারা হলেন–
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা, সদস্য (অর্থ) ও সদস্য (এস্টেট) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, সদস্য (অর্থ) মো. আবু বক্কার সিকদার, সদস্য (পরিকল্পনা) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, সদস্য (এস্টেট) আখতার হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক যুগ্ম সচিব ও সদস্য (উন্নয়ন) এম মাহবুবুল আলম এবং সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) নাজমুল হাই।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, আসামিরা আইনসম্মতভাবে প্লট বরাদ্দের যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও, একে অপরের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিজেদের এবং অন্যদের অবৈধভাবে লাভবান করেছেন। এতে শুধু সম্পদ আত্মসাৎই নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারও ঘটেছে।

তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

তদন্ত শেষ হলে খুব শিগগিরই আদালতে মামলাটি দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




‘সমালোচনার চেয়ে অন্তর্দৃষ্টিতে দেখুন অগ্রগতি’ — পরামর্শ অর্থ উপদেষ্টার

অর্থনীতির অগ্রগতি মূল্যায়নে শুধু সমালোচনার চেয়ে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “দেখতে হলে দৃষ্টি লাগে, অন্তর্দৃষ্টি লাগে। দেখতে না চাইলে কেউই দেখতে পারবে না।”

সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের কর-ভ্যাট-কাস্টমস সংক্রান্ত পরিবর্তন তুলে ধরা এবং ই-রিটার্ন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। বক্তব্য রাখেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “আমাদের জুনিয়র অর্থনীতিবিদরা বলে কিছুই দেখেন না। আমি তাদের অনেককেই চিনি, কারণ ৭০ সাল থেকে শিক্ষকতা করছি। সমালোচনা থাকবে, তবে ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরতে হবে। যদি কেউ শুরু থেকেই ভাবেন, অনেক কিছুই নাই — তাহলে উন্নয়নের দিকে দৃষ্টি যাবে না।”

তিনি অনলাইনে আয়কর রিটার্ন ব্যবস্থাকে আরও সহজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “৬৫ বছরের বেশি বয়স আমার। আমি খুব টেকসেভি নই। শুধু ফোনে মেসেজ নিতে পারি, ইমেইল করতে পারি। এর বেশি করলে আটকে যাই। তাই আমি মনে করি, এই প্রক্রিয়াটি এমন হওয়া উচিত যেন সবার জন্য বোধগম্য হয়।”

সমালোচনার জায়গায় স্বচ্ছতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “আমি সব সময় বলি, সানশাইন ইজ দ্য বেস্ট এন্টিসেপটিক। যতই জীবাণুনাশক ব্যবহার করি, কিন্তু আসল নিরাময় হলো দিনের আলোয় সত্য প্রকাশ হওয়া।”

সেমিনারে ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা বলেন, “বাজেটের পরে সরকার সংবাদ সম্মেলন করলেও এনবিআর থেকে গণমাধ্যমকে পরিষ্কার করে জানানো হয় না কোন পরিবর্তন এসেছে। এতে ভুল বোঝাবুঝি হয়, বিশেষ করে বেসরকারি খাত থেকে পাওয়া তথ্য সব সময় সঠিক নাও হতে পারে।”

তিনি বাজেটের পর গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এনবিআর আয়োজিত আলাদা সেমিনারের পরামর্শ দেন, যাতে তারা রাজস্ব নীতির সঠিক ব্যাখ্যা জাতির কাছে তুলে ধরতে পারেন।

সেমিনারে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাজেট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরিবর্তনের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। উপস্থিত ছিলেন আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




বৈদেশিক মুদ্রার উৎস এখন পিরোজপুরের কচুরিপানা

এক সময় অযত্ন আর অবহেলার প্রতীক ছিল কচুরিপানা, এখন তা পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মানুষের জন্য রীতিমতো স্বপ্নের সোপান। উপজেলার দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের এই জলজ উদ্ভিদ এখন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করছেন পাপোশ, রকমারি ফুলদানি, দৃষ্টিনন্দন ঝুড়ি, রঙিন পাটি, ব্যাগ, টুপি, জায়নামাজসহ নানা ধরনের কুটির শিল্প পণ্য। এসব পণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়ায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে আয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

প্রথমে জলাশয় থেকে ১৮ ইঞ্চি মাপের কচুরিপানা সংগ্রহ করে তা কেটে ৩-৪ দিন রোদে শুকানো হয়। শুকনো কচুরিপানা প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও যুক্ত হচ্ছেন, তৈরি হচ্ছে গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থান।

সরেজমিন দেখা গেছে, ছোট ছোট গ্রামীণ সড়কের পাশে কর্মচঞ্চল শ্রমিকরা কচুরিপানা শুকানোর কাজে ব্যস্ত। মৌসুম মাঘ থেকে জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত হলেও, সারা বছরই এ কাজ চলে।

মাদরাসা ছাত্র হাফিজুর রহমান বলেন, “অবসর সময়ে কচুরিপানা শুকিয়ে দৈনিক একশ থেকে দুইশ টাকা আয় করছি।” উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে এ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান মিল্টন জানান, “নাজিরপুরের কৃষকদের উদ্ভাবনী শক্তি অসাধারণ। কচুরিপানা প্রসেসিং করে কুটির শিল্পের কাঁচামাল বানিয়ে তারা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। এর পণ্যকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আমরা উদ্যোগ নেব।”

অবহেলিত কচুরিপানার এমন রূপান্তর শুধু নাজিরপুর নয়, গোটা দেশের কুটির শিল্পের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ঝুঁকিতে নয় বাংলাদেশ: বাণিজ্য উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। শুক্রবার (১ আগস্ট) বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রফতানি প্রতিযোগিতামূলক থাকবে। ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হলেও রফতানি বাধাগ্রস্ত হবে না। তবে আমরা আরও কম শুল্ক প্রত্যাশা করেছিলাম।” তিনি উল্লেখ করেন, আগের তুলনায় এই শুল্ক হার ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কারণ পূর্ববর্তী হারে (৩৭ শতাংশ) শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যা পরে ৩৫ শতাংশে নামানো হয়। এবার তা ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের মধ্যে তৃতীয় দফার শুল্ক আলোচনা শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আলোচনায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ এবং কম্বোডিয়া ও পাকিস্তান থেকে আমদানিতে ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে টিকে রয়েছে।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত রফতানিকারকদের জন্য এক ধরনের স্বস্তির বার্তা হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক রফতানি বাজার নিশ্চিত করতে পণ্যের বৈচিত্র্য এবং মান বজায় রাখতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম