টানা তিনবার টেকসই ব্যাংকের শীর্ষ তালিকায় যমুনা ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ২০২৪ সালের টেকসই ব্যাংক রেটিংয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে যমুনা ব্যাংক লিমিটেড। দেশের আর্থিক খাতে ধারাবাহিক উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতায় সক্রিয় অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা অর্জন করেছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত সাসটেইনেবিলিটি রেটিং রিকগনিশন অনুষ্ঠান-এ যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মির্জা ইলিয়াস উদ্দীন আহম্মদ-এর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন্নাহার, সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক চৌধুরী লিয়াকত আলী, যমুনা ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ প্রসান্ত সামিরসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টেকসই ও সবুজ অর্থায়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ও বহুমুখী সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি যমুনা ব্যাংককে এই স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। ব্যাংকটি মনে করে, টেকসই উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।

সম্মাননা গ্রহণের পর ব্যাংকের এমডি ও সিইও মির্জা ইলিয়াস উদ্দীন আহম্মদ বলেন,
“যমুনা ব্যাংকের টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলো কেবল সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতীক নয়; বরং এগুলো আমাদের আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার একটি কৌশলগত অংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ স্বীকৃতি আমাদের ভবিষ্যৎমুখী ও দায়িত্বশীল ব্যাংকিং কার্যক্রমের প্রতিফলন।”

টানা তিনবার শীর্ষ তালিকায় থাকা ব্যাংকের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর্থিক খাতে টেকসই ব্যাংকিং প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগকে মাইলফলক হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করছেন, সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ চালু হলে শুধু মানুষের যাতায়াতই নয়, বরং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও সহজ হবে। এ বিষয়ে দুই দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যদি যৌথভাবে একটি সঠিক ব্যবসায়িক রোডম্যাপ তৈরি করতে পারে, তাহলে নিঃসন্দেহে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি আসবে। আমাদের জনগণ একে অপরের সংস্কৃতি সম্পর্কে অবগত এবং দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এখন প্রয়োজন কেবল নতুন সম্ভাবনা বাস্তবায়ন।”

জাম কামাল খান আরও জানান, পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে অত্যন্ত আগ্রহী। পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে একাধিক বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে এবং আগামী ২৪ আগস্ট ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে। এর মাধ্যমে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার রোডম্যাপ তৈরি করবে।

সভায় বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, “বৈচিত্র্য আনতে এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ সর্বদা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী। পাকিস্তানের সঙ্গে একাধিক সম্ভাব্য ব্যবসায়িক খাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা চাই উদ্যোক্তারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করুন।”

চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রশাসক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা জানান, বর্তমানে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করছে, কিন্তু রপ্তানি মাত্র ৫৮ মিলিয়ন ডলারের মতো। সাফটা (SAFTA) ও ডি-৮ পিটিএ (D-8 PTA) কার্যকর করার পাশাপাশি নন-ট্যারিফ বাধা হ্রাস করা গেলে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে। একই সঙ্গে বিটুবি (B2B) সংযোগ উৎসাহিত করলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাওসার চৌধুরী, বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলী হুসেইন আকবর আলী, চেম্বারের সাবেক পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী, পাকিস্তান হাইকমিশনের ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাচে জাইন আজিজ, চেম্বারের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এমএ সালাম, এরশাদ উল্লাহ এবং পান রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. একরামুল করিম চৌধুরী।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল চালু হলে শুধু পণ্য বাণিজ্যই বাড়বে না, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তারা আশা করছেন, নতুন উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশে বড় সংশোধনী অনুমোদন

বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত পরিষদের ৩৯তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশোধিত অধ্যাদেশে পূর্বে জারি করা অধ্যাদেশের ১১টি ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিবসহ বিভিন্ন পদে সুনির্দিষ্ট ক্যাডারের কর্মকর্তার পরিবর্তে বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মকর্তাদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে

নতুন বিধান অনুযায়ী, রাজস্ব নীতি বিভাগের সচিব পদে সামষ্টিক অর্থনীতি, বাণিজ্য নীতি, পরিকল্পনা, রাজস্ব নীতি কিংবা রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অভিজ্ঞ যে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা যাবে। অপরদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব পদে রাজস্ব আহরণ বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন যোগ্য সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়োগ করার বিধান রাখা হয়েছে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, রাজস্ব নীতি বিভাগের আয়কর নীতি, দ্বৈতকর পরিহার চুক্তি, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও মতামত, শুল্ক নীতি, মূল্য সংযোজন কর নীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কাস্টমস বিষয়ক চুক্তি অনুবিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়কর, ভ্যাট, কাস্টমস আইন বাস্তবায়ন ও মাঠ পর্যায়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের বিভিন্ন পদ রাজস্ব আহরণ কাজে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

এছাড়া, উভয় বিভাগের অন্যান্য অনুবিভাগেও সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা সম্পন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন থেকে শুরু করে রাজস্ব আহরণ ও বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে

সরকার মনে করছে, এই সংশোধনী কার্যকর হলে রাজস্ব প্রশাসন আরও গতিশীল হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যুক্তরাজ্য থেকে তিন কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য থেকে তিন কার্গো তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এ জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪৪২ কোটি ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৮ টাকা

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে তা গৃহীত হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে তিনটি আলাদা সময়ের জন্য এই এলএনজি কেনা হবে। সবগুলোই যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান মেসার্স টোটাল এনার্জিজ গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে আমদানি করা হবে।

প্রথম কার্গো (১৯-২০ অক্টোবরের জন্য ৪২তম) আমদানিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ১১.৪৪ মার্কিন ডলার। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৪৮০ কোটি ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯৬ টাকা

দ্বিতীয় কার্গো (৬-৭ অক্টোবরের জন্য ৪৩তম) কেনা হবে প্রতি এমএমবিটিইউ ১১.৩৪ মার্কিন ডলার দরে। এর বিপরীতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৭৬ কোটি ৪৭ লাখ ৮১ হাজার ৩২৪ টাকা

তৃতীয় কার্গো (২৮-২৯ অক্টোবরের জন্য ৪৪তম) আমদানির অনুমোদনও একই প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছে। এর দাম নির্ধারিত হয়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ১১.৫৪ মার্কিন ডলার। এতে খরচ হবে প্রায় ৪৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ২৬৮ টাকা

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির খরচকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে। সরকার দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাত সচল রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিয়মিত এলএনজি আমদানি করে আসছে। নতুন এ অনুমোদনের ফলে আগামী অক্টোবর মাসে দেশের জ্বালানি সরবরাহ কিছুটা স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ই-রিটার্নে করদাতার রেকর্ড, ১০ দিনে প্রায় এক লাখ জমা

২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরুর পর প্রথম ১০ দিনেই (১৩ আগস্ট পর্যন্ত) ৯৬ হাজার ৯৪৫ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে ই-রিটার্ন সিস্টেম উদ্বোধন করেন। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের একই সময়ে (প্রথম ১০ দিনে) অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছিলেন মাত্র ২০ হাজার ৫২৩ জন। অর্থাৎ এ বছর দৈনিক গড় রিটার্ন দাখিলের হার বেড়েছে প্রায় ৫ গুণ।

এনবিআরের বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, ৩ আগস্ট থেকে সারা দেশের সব ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে (www.etaxnbr.gov.bd) আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, শারীরিকভাবে অসমর্থ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা এবং মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি—এরা এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। ১১ আগস্ট সংশোধিত আদেশে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদেরও এ বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

যারা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন না, তারা ৩১ অক্টোবর ২০২৫-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে যৌক্তিক কারণসহ আবেদন করতে পারবেন। অনুমোদন মিললে তারা পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।

করদাতারা এখন ঘরে বসেই ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ যেকোনো মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধ করতে পারছেন। অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে acknowledgement slip ও আয়কর সনদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রিন্ট নেওয়ার সুবিধাও থাকছে।

ই-রিটার্ন প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য এনবিআর একটি কল সেন্টার চালু করেছে, যেখানে ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১ নম্বরে ফোন করে তাৎক্ষণিক সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া www.etaxnbr.gov.bd পোর্টালের eTax Service অপশন ব্যবহার করেও করদাতারা লিখিতভাবে সমস্যার সমাধান পেতে পারেন।

এনবিআর দেশের দায়িত্বশীল নাগরিকদের যথাসময়ে প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায় উল্লেখ করে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের আহ্বান জানিয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চট্টগ্রাম বন্দরে বিস্ফোরণ আতঙ্ক, তেজস্ক্রিয়সহ শত শত কনটেইনার ঝুঁকিতে

বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম এখন ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বন্দরের ভেতরে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও তেজস্ক্রিয় পদার্থসমৃদ্ধ শত শত কনটেইনার বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে। এর মধ্যে একটি কনটেইনারে তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হলেও আরও ১২টি কনটেইনারে একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, যেগুলো এখনো ইয়ার্ড থেকে অপসারণ করা হয়নি।

বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে বর্তমানে ৩৫৭টিরও বেশি কনটেইনার রয়েছে, যেখানে সালফিউরিক এসিড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইডসহ উচ্চমাত্রার বিপজ্জনক রাসায়নিক মজুদ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, অবহেলা অব্যাহত থাকলে ২০২২ সালের সীতাকুণ্ড কনটেইনার ডিপো বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে, যেখানে কমপক্ষে ৪১ জন নিহত ও শত শত মানুষ আহত হয়েছিল।

কনটেইনারগুলোর বেশিরভাগই ১০ থেকে ২০ বছরের পুরনো। কিছু কনটেইনার ভেঙে গিয়ে রাসায়নিক পদার্থ বাইরে গড়িয়ে পড়ছে। একাধিক কনটেইনারে পাউডার জাতীয় বিপজ্জনক পদার্থ রয়েছে, আবার অনেকগুলোতে তরল রাসায়নিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের রাসায়নিক দীর্ঘদিন জমে থাকলে তা বিস্ফোরক হয়ে উঠতে পারে।

অফিসিয়াল তথ্যে জানা গেছে, বন্দরের সিসিটি, এনসিটি এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ডে সালফিউরিক এসিড, জিংক অক্সাইড, মিথানল, সোডিয়াম সালফেট, ফসফরিক এসিড, ইথাইল অ্যাসিটেট, কস্টিক সোডাসহ অতি বিপজ্জনক ১৩৪টি কনটেইনার বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে আছে। এর মধ্যে আবুল খায়ের গ্রুপ, কেএসআরএম, সিটাডেল গ্লোবাল করপোরেশন, মেসার্স সাজ্জাদ হোসেন, আনোয়ার ইস্পাত লিমিটেড এবং এসএস স্টিল লিমিটেডের নামে থাকা কনটেইনারও রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ২০১৭ সালে শনাক্ত হওয়া কিছু তেজস্ক্রিয় কনটেইনার এখনও সরানো সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও পদার্থবিজ্ঞানী মাসুদ কামাল সতর্ক করে বলেছেন, “রাসায়নিক পদার্থও দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে দাহ্য ঝুঁকি বেড়ে যায়। তেজস্ক্রিয় উৎস বাইরে গেলে বা বিকিরণ ঘটলে মানবদেহ ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।”

চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও সচিব ওমর ফারুক জানিয়েছেন, “তেজস্ক্রিয় ও রাসায়নিক থাকা কনটেইনারগুলো চরম ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু ২০ বছরেরও পুরনো। এগুলো দ্রুত অপসারণ জরুরি।” চট্টগ্রাম কাস্টমসকে এক ডজনের বেশি চিঠি পাঠানোর পরও বিপজ্জনক কনটেইনারগুলোর বড় অংশ রয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নিলাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার মো. সাকিব হোসেন জানিয়েছেন, “আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিপজ্জনক কনটেইনার খালি করছি। গত ৩০ জুলাই ৪২টি কনটেইনার খালি হয়েছে, আগস্টের মধ্যে আরও ৫০টি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

কিন্তু এখনো ৩০০-র বেশি বিপজ্জনক কনটেইনার বন্দরে পড়ে থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর রয়ে গেছে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞরা জোর সুপারিশ করেছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাবেক ৩ গভর্নর ও ৬ ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব তলব

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সাবেক ৩ গভর্নর এবং ৬ ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে। এই তলব দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধে করা হয়েছে।

বিএফআইইউ ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, লেনদেনের বিস্তারিত, কেওয়াইসি (Know Your Customer) ফরমসহ সব তথ্য আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। যদি কোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে থাকে, সেগুলোর তথ্যও জমা দিতে হবে।

তলবকৃত তালিকায় থাকা সাবেক গভর্নররা হলেন:

  • ড. আতিউর রহমান
  • ফজলে কবির
  • আব্দুর রউফ তালুকদার

তাদের মধ্যে আতিউর রহমান সরকার পতনের পর বিদেশে চলে গেছেন। আব্দুর রউফ তালুকদার পলাতক অবস্থায় গত বছরের ৭ আগস্ট ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগ করেছেন।

৬ ডেপুটি গভর্নরের মধ্যে রয়েছেন:

  • এস কে সুর চৌধুরী (সরকার পতনের পর দুদকের মামলায় জেলে ছিলেন)
  • মো. মাসুদ বিশ্বাস (বিএফআইইউ প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন)
  • আবু হেনা মো. রাজী হাসান (মাসুদ বিশ্বাসের আগে দীর্ঘদিন বিএফআইইউ প্রধান ছিলেন)
  • এসএম মনিরুজ্জামান (সাবেক ডেপুটি গভর্নর)
  • কাজী ছাইদুর রহমান
  • আবু ফরাহ মো. নাছের

বিএফআইইউর এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রাক্তন কর্মকর্তাদের আর্থিক লেনদেন ও হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুনভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আগস্টের প্রথম ১২ দিনে প্রবাসী আয় ছাড়াল এক বিলিয়ন ডলার

আগস্ট মাসের মাত্র ১২ দিনে (১ থেকে ১২ আগস্ট) প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো আয় এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছুঁয়েছে, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৮৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানিয়েছেন।

তাঁর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে এসেছে ১০৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৭২ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ৪ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা শতাংশ হিসেবে প্রায় ৩৪% বেশি।

এর আগে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় হয়েছিল ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা সমান। তবে জুলাই মাসে দেশের ৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে এক ডলারও রেমিট্যান্স আসেনি। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি খাতের কমিউনিটি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক এবং বিদেশি খাতের হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া রয়েছে।

পূর্ববর্তী অর্থবছরের (২০২৪-২৫) মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসে, যা সেই বছরের রেকর্ড। পুরো অর্থবছর শেষে প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই অঙ্ক ছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।

গত অর্থবছরে মাসওয়ারি রেমিট্যান্স চিত্রে দেখা যায়—জুলাইয়ে ১৯১ দশমিক ৩৭ কোটি ডলার, আগস্টে ২২২ দশমিক ১৩ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ দশমিক ৪১ কোটি ডলার, অক্টোবরে ২৩৯ দশমিক ৫০ কোটি ডলার, নভেম্বরে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি ডলার, মে মাসে ২৯৭ কোটি ডলার এবং জুনে ২৮২ কোটি ডলার দেশে এসেছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরকারি প্রণোদনা, প্রবাসী আয়ের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ক্রমাগত ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আসন্ন নির্বাচনে কালোটাকা ও ঋণখেলাপি রুখতে কঠোর নির্দেশনা

ঋণখেলাপিরা যেন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত ইপি পেনশন উদ্বোধন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব তাদের শনাক্ত করা। তবে বাস্তব সমস্যার মধ্যে রয়েছে আদালতের স্টে অর্ডার। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, মহিউদ্দিন খান আলমগীর পাঁচ বছর ধরে কেবল স্টে অর্ডার নিয়েই সময় কাটিয়েছেন।”

সংবাদ সম্মেলনে আগামী নির্বাচনে কালোটাকা রোধে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, “কালোটাকার দুটি দিক—উৎস ও প্রক্রিয়া। উৎস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগে এক ব্যক্তিই ছিল ব্যাংকের মালিক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক, সংবাদপত্রের মালিক ও ফ্ল্যাটের মালিক। এখন সেই চিত্র অনেকটা বদলেছে। এখন কিছুটা হলেও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স চালু হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেকাংশে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর নির্ভরশীল। যদি রাজনীতিবিদরা অর্থ দিয়ে মনোনয়ন ও ভোটের সংস্কৃতি চালিয়ে যান, তাহলে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কিছু করার সুযোগ থাকে না।”

উপদেষ্টার বক্তব্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শুদ্ধাচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়, যা আগামী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।




পটুয়াখালীতে সবজির বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে এবার মৌসুমি সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে চাষাবাদ করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন বহু কৃষক পরিবার। উৎপাদনের পাশাপাশি বাজার দর ভালো থাকায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।

জেলার চরাঞ্চলসহ বাউফল, গলাচিপা, দশমিনা, দুমকী, মির্জাগঞ্জ, কলাপাড়া ও রাঙাবালি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয়েছে। এসবের মধ্যে শীতকালীন সবজির পাশাপাশি বারোমাসি হাইব্রিড বেগুন, ঢেঁড়স, পুঁইশাক, পটল, চালকুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচকলা, পেঁপে, লাউ, টমেটো, গাজরসহ নানা ধরনের শাকসবজি রয়েছে।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য বলছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় এ বছর ১৮০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে, উৎপাদন ৩ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন। বাউফলে ২৫০ হেক্টরে ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, গলাচিপায় ৩৮০ হেক্টরে ৬ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন, কলাপাড়ায় ৩৫০ হেক্টরে ৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন, দশমিনায় ১৬৫ হেক্টরে ২ হাজার ৯৭০ মেট্রিক টন, মির্জাগঞ্জে ১৫০ হেক্টরে ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন, দুমকিতে ৭৫ হেক্টরে ১ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙাবালিতে ১২০ হেক্টরে ২১৬ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদিত হয়েছে। এছাড়া ১০৭ হেক্টর জমিতে কাঁচকলা আবাদ হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০ মেট্রিক টন।

বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের পাতারপোল গ্রামের আদর্শ কৃষক মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি বাড়ির আঙিনায় ৫০ শতক জমিতে চাল ও মিষ্টি কুমড়া, পুঁইশাক, কাঁচকলা, পেঁপে, ঝিঙা ও বেগুন চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এরই মধ্যে প্রায় ১ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছেন, আর দুই-তিন মাস এই আবাদ থেকে আয় হবে বলে আশা করছেন। সবজি বিক্রির অর্থেই পরিবারের চাহিদা মেটানো ও সন্তানদের পড়াশোনা চলছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানাচ্ছেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় শীতকালীন ও বারোমাসি হাইব্রিড সবজি চাষ করছেন তারা। লাভজনক হওয়ায় অনেকেই জমি ও বাড়ির আঙিনায় আবাদ বাড়াচ্ছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে এসব বাগানের যত্ন নিচ্ছেন।

সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মিষ্টি কুমড়া আকারভেদে ছোট ৫০-৮০ টাকা, মাঝারি ৮০-১২০ টাকা এবং বড় ১৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলা হালি ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা জানান, বাজারে চাহিদা থাকায় সব ধরনের সবজি ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হাট-বাজার থেকে কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন।

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, বন্যা ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এবার কিছুটা কম সবজি আবাদ হয়েছে, তবে বাজার ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহাদাত হোসাইন জানান, এ বছর জেলায় ১ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে, উৎপাদন ৩০ হাজার ৬০ মেট্রিক টন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম