বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি

বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ৩০০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। তিনি বলেন, যৌথ অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারবে।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ এক্সিবিশন’–এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এ তথ্য জানান।

শেখ বশির উদ্দিন বলেন, “আমাদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। উৎপাদন ও প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে বাংলাদেশ আরও অগ্রসর হতে পারবে। ইতিমধ্যে তৈরি পোশাক খাতে আমরা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক। তবে সামগ্রিকভাবে আমাদের আরও উন্নতি করা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়। তাই সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবহন খাত আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে আমরা চীনের সহযোগিতা চাইছি।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্যারিফ আলোচনার প্রসঙ্গেও তিনি কথা বলেন। শেখ বশির উদ্দিন জানান, আগামী রোববার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে। সেখানে পারস্পরিক শুল্ক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে এবং একটি টেকসই সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ৮টি এবং চীনের ৩২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। অবকাঠামো, প্রযুক্তি, টেলিকম, স্বাস্থ্য, কৃষি, শক্তি, পরিবহন ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে।

দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সিঙ্গাপুর থেকে আসছে ২ কার্গো এলএনজি, খরচ ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য সরকার সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমদ।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ অনুসারে স্পট মার্কেট থেকে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় প্রথম কার্গো এলএনজি (নভেম্বর ২২-২৩, ২০২৫) আমদানি করা হবে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা, প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ১১.৮৫ মার্কিন ডলার।

এছাড়া, ডিসেম্বর ২৬-২৭, ২০২৫ সময়ের জন্য দ্বিতীয় কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। উভয় কার্গো আমদানি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি ব্যবস্থাপনায় গেলে আয় বাড়বে: উপদেষ্টা সাখাওয়াত

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং রাজস্ব আয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত গত এক বছরের অর্জন সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা সাখাওয়াত জানান, দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রার অবকাঠামো ও টার্মিনাল নির্মাণ এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী বছরের জুলাই মাস থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে এ বন্দরের কার্যক্রম চালু হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হলে প্রযুক্তি, কারিগরি দক্ষতা এবং রাজস্ব—সব ক্ষেত্রেই উন্নতি হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, গত অর্থবছরে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৪ শতাংশ এবং কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৬ শতাংশ। একই সময়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি।

দেশে প্রথমবারের মতো নৌশুমারি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলেও জানান তিনি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সব নৌযানের ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এ ছাড়া ১২৫ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’ আবারও চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে উপদেষ্টা সাখাওয়াত উল্লেখ করেন, বিআইডব্লিউটিএর মিঠামইন প্রকল্পসহ কিছু অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এমন উদাহরণ শুধু নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়েই নয়, অন্যান্য মন্ত্রণালয়েও বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ব্যাংকিং জটিলতায় ৪০০ পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আবারও সংকটে পড়েছে। ব্যাংকিং জটিলতার কারণে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। রপ্তানিমুখী এ শিল্পে স্থবিরতার ফলে লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে সরকার নীতি সহায়তা দিলে এ কারখানাগুলো পুনরায় চালু হয়ে অতিরিক্ত এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে সদস্যদের সঙ্গে ব্যাংকিং সমস্যা নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ৭০টিরও বেশি সদস্য প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এ সময় সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, এক্সিট পলিসি সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম এবং ওয়ান স্টপ সেল কমিটির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

সভায় খেলাপি ঋণ নীতিমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সদস্যরা প্রস্তাব দেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান সার্কুলার অনুযায়ী খেলাপি ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করতে হবে। কারণ স্বল্প সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করা অধিকাংশ উদ্যোক্তার পক্ষে সম্ভব নয়। একইসঙ্গে ডাউন পেমেন্ট কমানোরও দাবি তোলেন তারা।

বিজিএমইএর সদস্যরা অভিযোগ করেন, অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে ফোর্সড লোনের শিকার হয়ে চেক ডিজঅনার ও অর্থঋণ মামলায় জড়িয়ে পড়ছে। এতে করে তাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ অবস্থার দ্রুত সমাধানে বিজিএমইএকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় উদ্যোক্তারা সহনশীল এক্সিট নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাদের দাবি, এমন নীতি উদ্যোক্তাদের সম্মানের সঙ্গে ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বাসন সহজ হবে।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা যেন শুধু বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য সীমাবদ্ধ না থাকে। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোকেও একই সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ৭৭টি পোশাক কারখানার সমস্যারও দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সদস্যদের উত্থাপিত প্রতিটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। তিনি আরও আহ্বান জানান, যেসব কারখানা ব্যাংকিং জটিলতায় ভুগছে, তারা যেন লিখিত আকারে তাদের সমস্যার বিবরণ বিজিএমইএকে জানায়।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তবে ব্যাংকিং সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু শ্রমিকদের কর্মসংস্থানই নয়, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে ৪২ ডলার, এখন ২,৫৯৩ ডলার

বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ৪২ মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২,৫৯৩ ডলার। এটি বিশ্বব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম, যেখানে প্রতিবেশী দেশ ভারত ১৪তম স্থানে রয়েছে, মাথাপিছু আয় ২,৬৯৬ ডলার। পাকিস্তানের অবস্থান ৮ম, মাথাপিছু আয় ১,৪৮৪ ডলার।

এশিয়ার সবচেয়ে নিম্ন আয়ের দেশ আফগানিস্তান, মাথাপিছু আয় ৪১৩ ডলার। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইয়েমেন (৪৩৩ ডলার)।

অন্য সার্কভুক্ত দেশসমূহের আয়:

  • নেপাল: ১,৪৪৭ ডলার
  • ভুটান: ৩,৮৩৯ ডলার
  • শ্রীলঙ্কা: ৪,৫১৫ ডলার

তালিকায় এশিয়ার ২০টি দরিদ্র দেশের মধ্যে জর্ডান মাথাপিছু আয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে।

বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ধারা দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আলু সিন্ডিকেট করলে কঠোর ব্যবস্থা: বাণিজ্য উপদেষ্টা

আলু বাজারে সিন্ডিকেট গড়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন,
“গত বছর আলুর দাম ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। দাম ভালো পাওয়ায় এবার আলুর উৎপাদনও ভালো হয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় বেশি আলু থাকায় বাজারে কিছুটা সংকট দেখা দিচ্ছে। তবে, কেউ সিন্ডিকেট করে কৃত্রিমভাবে এই সংকট তৈরি করলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আলুর দাম নিয়ে কেবিনেট মিটিংয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। সরকার আলু রপ্তানিতে প্রণোদনা দিচ্ছে। পাশাপাশি, বাজারে চাহিদা বাড়াতে টিসিবির মাধ্যমে আলু কেনা ও বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে আমরা মনে করি, এই সংকট উত্তরণে একমাত্র সমাধান হলো রপ্তানি।”বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, “গত বছর আলুর ফলন বাম্পার হয়েছিল। কৃষক যেন সঠিক মূল্য পান এবং বাজারে ভারসাম্য বজায় থাকে, সে জন্যই রপ্তানি সবচেয়ে কার্যকর পন্থা।”

পরে হেলিকপ্টারে করে জয়পুরহাট সফরে আসা শেখ বশিরউদ্দীন বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার মত্তুর্তাপুর সিদ্দিকীয়া দারুল হেদায়েত খানকা শরীফে জুমার নামাজ আদায় করেন। সেখানে তিনি তার শ্বশুর, জয়পুরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক আকন্দের কবর জিয়ারত করেন।

এর আগে দুপুর পৌনে ১টায় গোপীনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপদেষ্টাকে বহনকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করে। তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও গার্ড অব অনার দিয়ে বরণ করে নেয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫


 




কয়লা সরবরাহে অনিয়ম: পটুয়াখালী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচ বছরের দরপত্র বাতিল

পটুয়াখালী কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের পর পাঁচ বছর মেয়াদী টেন্ডার (দরপত্র) বাতিল করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অপারেটর প্রতিষ্ঠান আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেডকে (আরএনপিএল) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে দ্রুত নতুন দরপত্র আহ্বান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন শর্ত অনুযায়ী, চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে দুই বছর করার কথা বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি দরপত্র প্রক্রিয়ার কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নে অনিয়ম পাওয়ার পর গত ৭ আগস্ট এই নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা সংগ্রহে যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, সেটি অনিয়ম ও ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় বাতিল করা একান্ত জরুরি।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেন,
“কয়লা সরবরাহকারী নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক না হলে কয়লার দাম বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত তা বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিবে। সংক্ষিপ্ত মেয়াদের দরপত্র আহ্বান করলে ছোট সরবরাহকারীরাও অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।”

এর আগে, চলতি বছরের ১১ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দরপত্রে এমন কিছু শর্ত রাখা হয়েছিল যা শুধু সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইয়ংটাই এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেডকে সুবিধা দেয়। ২০২৪ সাল থেকে তিন দফা আহ্বান করা দরপত্রে প্রতিষ্ঠানটিই একমাত্র যোগ্য দরদাতা হিসেবে উঠে আসে।

 

আল-আমিন



ইলিশের সংকটে চড়া দাম, ভোক্তাদের নাগালের বাইরে জাতীয় মাছ

দেশের প্রধান নদীগুলোতে অতিরিক্ত পলি জমা, জলবায়ু পরিবর্তন, পানিদূষণ এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে মাছ শিকারের কারণে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে সাধারণ মানুষের বাজারে। ভোক্তাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে ইলিশ, আর ব্যবসায়ীরা বলছেন—এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখেননি।

মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ৫২টি নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যাপক পলি জমা হয়েছে। বিশেষ করে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর সোনারচর থেকে নোয়াখালীর ঢালচর পর্যন্ত মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় নাব্যতা সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে সাগর থেকে নদীতে ইলিশ ওঠার স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে জরুরি ভিত্তিতে পলি অপসারণ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছে অধিদপ্তর।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ বলেন, “সরকার নদীকেন্দ্রিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিলেও সাগরে ইলিশ সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই। অথচ দেশের মোট ইলিশ আহরণের ৬০ শতাংশই সাগরে ধরা হয়।”

অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকার বাজারে ইলিশের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। পুরান ঢাকার নবাবগঞ্জ বাজারে স্কুল শিক্ষক নুরন্নবী হোসেন বলেন, “গত বছর ১,২০০ টাকা কেজি দরে ইলিশ কিনেছি, আর এবার একই মাছ কিনতে খরচ হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি।”

নিউ মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী সানাউল্লাহ মৃধা জানান, ছোট ইলিশ (৬০০ গ্রামের নিচে) প্রতি কেজি ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের (৮০০-৯০০ গ্রাম) ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকায়। তিনি বলেন, “পাইকারি দামে ভয়াবহ বৃদ্ধি ঘটেছে। সদরঘাটে এক মণ (৪০ কেজি) মাঝারি আকারের ইলিশ এখন ৭২ থেকে ৭৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।”

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. রমজান আলী জানান, উপকূলীয় বাজারগুলোতেও একই অবস্থা। বরিশাল, বরগুনা, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর পাইকারি বাজারে এক কেজির বেশি ওজনের বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। মাঝারি আকারের ইলিশ কেজিপ্রতি ১,৭০০ থেকে ১,৭৫০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ১,১৫০ থেকে ১,২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইলিশ সংরক্ষণে নদী ও সাগর উভয় ক্ষেত্রেই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। একদিকে দেশের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় মাছ হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে ভোক্তাদের জন্য ইলিশ এখন ক্রমেই ‘অলভ্য বিলাসিতা’তে পরিণত হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমল

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম আবারও কমানো হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩ টাকা কমিয়ে ১,২৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি কেজি এলপিজির দাম কমানো হয়েছে মাত্র ২৫ পয়সা।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন এই দাম ঘোষণা করেছে। নতুন দাম সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, “আগস্ট মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম ১,২৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা এবার ৩ টাকা কমিয়ে ১,২৭০ টাকা করা হয়েছে।”

এছাড়া, অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম ১৩ পয়সা কমিয়ে ৫৮ টাকা ১৫ পয়সা করা হয়েছে। বিইআরসি জানিয়েছে, সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী প্রোপেন ও বিউটেনের গড় সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৫০০.৫০ মার্কিন ডলার বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ৩ আগস্ট শেষবার এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভারত থেকে ৫২৫ টন চাল আমদানি, বাজারে দাম কমার আশা

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আবারও ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। পেট্রাপোল বন্দর হয়ে দুই চালানে মোট ৫২৫ মেট্রিক টন চাল দেশে প্রবেশ করেছে।

মোট ১৫টি ট্রাকে এ চাল আনা হয়, যার মধ্যে একটি চালানে ছিল ৩১৫ টন এবং অন্যটিতে ২১০ টন। চাল আমদানি করেছে মেসার্স হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্স। ভারতীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে লক্ষ্মী ট্রেডিং কম্পানি ও শর্মা অ্যাগ্রো লিমিটেড।

আমদানিকারক আব্দুস সামাদ জানান, “চালের বাজার অনেকদিন ধরেই অস্থির। সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর দ্রুত চাল এনেছি। আশা করি, এতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসবে।”

বেনাপোল আমদানি ও রপ্তানি কারক সমিতির সভাপতি হাজী মহাসিন মিলন বলেন, “ভোক্তাদের কাছে স্বস্তিতে চাল পৌঁছে দেওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য। আমদানির প্রক্রিয়া সহজ হলে আরও বেশি চাল আনা সম্ভব হবে। সরবরাহ বাড়লেই বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে।”

যশোরের খুচরা ব্যবসায়ী মো. জাহিদ হাসান জানান, “গত কয়েক সপ্তাহে মোটা চালের দাম কেজিতে ৫-৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। নতুন চাল এলে দাম কিছুটা হলেও কমবে।” পাইকারি ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, “যত বেশি আমদানি হবে, বাজার তত দ্রুত স্থিতিশীল হবে। নতুন চাল এলে পাইকারি দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।”

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক মো. শামীম হোসেন বলেন, “দুই চালানের সব ট্রাক বন্দরে পৌঁছে খালাস সম্পন্ন হয়েছে। কাস্টমস প্রক্রিয়া শেষে খুব দ্রুতই চাল বাজারে পৌঁছাবে। এতে শুধু বাজারে স্বস্তি আসবে না, সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।”

গত বছর (২০২৪ সালে) বেনাপোল দিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছিল। তবে চলতি অর্থবছরে নীতিগত কারণে কয়েক মাস চাল আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে চাহিদা-সরবরাহে অসামঞ্জস্য দেখা দেয়।

বর্তমানে বাজারে সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭২ টাকা কেজি দরে এবং মোটা চাল ৫২-৫৭ টাকা দরে। পাইকারদের ধারণা, আমদানিকৃত চাল বাজারে এলে দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫