ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত, সাধারণের ভোগান্তি বাড়তে পারে

ভোজ্যতেলের বাজারে কয়েকদিন ধরে চলা অস্থিরতার মধ্যে সরকার বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন এবং পাম তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন এবং পাম তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে কতটুকু বাড়ানো হয়েছে, তা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হবে।

দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের অজুহাতে ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছে ব্যবসায়ীরা। এরই ধারাবাহিকতায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম হ্রাস-বৃদ্ধি থাকলেও বাংলাদেশে তার প্রভাব সব সময় উল্টোভাবে পড়ে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমছে না, বরং দিন দিন বাড়ছে।

সরকারি সিদ্ধান্তের পর ভোক্তাদের মধ্যে ভবিষ্যতে আরও মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহজনিত উদ্বেগ নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ট্যাক্স দিলেও সেবা না পেলে মানুষ ‘গোসা’ করবে: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিদেশে মানুষ বেশি ট্যাক্স দিলেও সেবা পায়, কিন্তু আমাদের দেশে ট্যাক্স দিয়ে সেবা না পেলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হবে। তিনি বলেন, “ট্যাক্স দিলাম, আর সেবা পেলাম না। তাই মানুষ একটু গোসা করবেই।”

তিনি এই মন্তব্য করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের যৌথ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সুকুক বাজার উন্মোচন: রাজস্ব স্থিতি, অবকাঠামো বাস্তবায়ন ও ইসলামি মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দেশে সমস্যা হলো অর্থায়নের অভাব। সরকারি কর্মকর্তারা ভাবেন সবকিছু দেওয়া যাবে, কিন্তু বাস্তবে অর্থের পরিমাণ যথাযথভাবে পাওয়া যায় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্যাক্স, নন-ট্যাক্স রেভিনিউ যথেষ্ট নয়, তাই প্রাইভেট সেক্টরের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি।

তিনি বলেন, “বড় বড় প্রজেক্ট করা হয়, কিন্তু সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যখাত ও শিক্ষার জন্য অর্থায়ন করতে পারছি না। আমাদের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও ৭.২%, যেখানে ব্রাজিলে ২৬%।”
তিনি মন্তব্য করেন, সঠিক সেবা প্রদান করলে মানুষ বেশি ট্যাক্স দিতে উৎসাহী হবে। সেবা ভালো না দিলে ট্যাক্স বৃদ্ধির আশা করা যায় না।

সেমিনারে তিনি পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সুকুক বন্ড সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা জানান। এর মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পগুলোর ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “মানুষকে বোঝাতে হবে যে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও সিকিউরিটিজে ঝুঁকি জড়িত। এটি কোনো চিরস্থায়ী আয়ের উৎস নয়।”

ড. সালেহউদ্দিন আরও বলেন, দেশের ২৪ হাজার কোটি টাকার সুকুক আছে, কিন্তু প্রায় সব সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। বেসরকারি খাতও এটি অবকাঠামো ও ব্যবসায়িক উদ্যোগে ব্যবহার করতে পারে। বড় প্রকল্প যেমন এমআরটি ব্যবস্থায় সিকিউরিটাইজেশন প্রয়োজন।

তিনি বিমা খাতের দুর্বলতাও তুলে ধরেন এবং বলছেন, “এটি সংস্কারের অপেক্ষায় আছে। একটি গতিশীল আর্থিক খাতে শুধু ব্যাংক নয়, শক্তিশালী পুঁজিবাজার, বিমা খাত ও বিশেষ ট্যাক্স ইনস্ট্রুমেন্টও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”

অর্থ উপদেষ্টা জনগণ ও সরকারের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “মানুষ ট্যাক্স দেয় এবং বিনিময়ে সেবা পায়। এটাই ভালো শাসনের চূড়ান্ত পরীক্ষা।”

সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ অর্লিন্সের অধ্যাপক এম কবীর হাসান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খোন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তিন মন্ত্রণালয়ে এক বছরে ৪৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়

দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হিসেবে দুর্নীতি, অপচয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কথা উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, “দুর্নীতি ও অপচয় রোধের মাধ্যমে শুধু জ্বালানি আমদানি খাতেই বছরে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। আর সড়ক পরিবহন, রেল ও জ্বালানি—এই তিন মন্ত্রণালয়ে এক বছরের ব্যবধানেই প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।”

শনিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে সরাসরি জ্বালানি তেল পরিবহনের পাইপলাইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রায় দেড় মাস পরীক্ষামূলকভাবে এই পাইপলাইন ব্যবহার করে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা ডিপোতে ৫ কোটি লিটার ডিজেল সরবরাহ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরাসরি জ্বালানি তেল পরিবহন শুরু হলো।

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, “আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত, তাই মানবসম্পদ ও প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়নই প্রধান ভরসা। কিন্তু দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে এবং সময়ক্ষেপণের ফলে উন্নয়নে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। সঠিকভাবে সম্পদ ব্যবহার করলে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব।”

২০১৬ সালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রকল্পটি হাতে নিলেও ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে শেষ হয় চলতি বছরের মার্চে। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোয় ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৮৩৮ কোটি টাকা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা গুপ্তখাল থেকে শুরু হওয়া এই পাইপলাইন ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গিয়ে শেষ হয়েছে। পথে ২২টি নদীর তলদেশ অতিক্রম করেছে পাইপলাইনটি। এছাড়া রয়েছে ৯টি মিড-স্টেশন, ৪টি পাম্প হাউস এবং ২১ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি ডিপো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহে এটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক পরিকল্পনা অপরিহার্য। তাদের মতে, আগে যেখানে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় জ্বালানি পৌঁছাতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগত, সেখানে পাইপলাইনের মাধ্যমে এখন তা মাত্র ১২ ঘণ্টায় সম্পন্ন হবে। এতে শুধু সময়ই বাঁচবে না, খরচ সাশ্রয়ও হবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে এই প্রকল্প নতুন গতি যোগ করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে নতুন দাম ঘোষণা করেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এবার ১ হাজার ১৫৫ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে, স্বর্ণের দাম টানা ৮ দফা বৃদ্ধি পেয়ে কমানো হয়েছিল। ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে বাজুস ঘোষণা করে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৭০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা করা হয়েছে। সেই সময়ও স্থানীয় বাজারের দাম কমার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন দাম বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছিল।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থার কারণে দাম ওঠানামা করছে। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আরব আমিরাতের ভিসা নিষেধাজ্ঞার কবলে বাংলাদেশসহ ৯ দেশ

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: দিন দিন  সংকুচিত হচ্ছে বাংলাদেশীদের শ্রমবাজার।আর তারই ধারাবাহিকতায়  বাংলাদেশসহ নয়টি দেশের ওপর পর্যটন ও কর্ম ভিসার উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এই নির্দেশনা।

শ্রমিক, পর্যটক এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক এই ৯ দেশের নাগরিকরা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন।

বাংলাদেশিদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে  ছিল  সংযুক্ত আরব আমিরাত   আর সেখানে  ভ্রমণ, কাজ বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা একটি অপরিহার্য নথি। যদিও বেশিরভাগ নাগরিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন ভিসা বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাজের ভিসার জন্যই আবেদন করেন।

তবে এবার বেশ কিছু দেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করলো আমিরাত। এই বিধিনিষেধের অর্থ হলো- পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দেশগুলোর নাগরিকরা শ্রমিক, পর্যটক এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

দেশটির অভিবাসন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো- আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, বাংলাদেশ, ক্যামেরুন, সুদান এবং উগান্ডা।

এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক বলে মনে করা হচ্ছে এবং আরব আমিরাতের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য মূল্যায়ণের ওপর নির্ভর করে তা পর্যালোচনা করা হবে। তবে যারা বৈধ ভিসা নিয়ে এরই মধ্যে আমিরাতে বসবাস করছেন, তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছেন না।




পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে বাংলাদেশ: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশকে এখনই জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানির দিকে এগোতে হবে। তিনি মনে করেন, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিকল্প জ্বালানি গ্রহণ এখন আর বিলম্ব করার মতো নয়।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে অ্যানথ্রোপোসিন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান কার্ল পেজ ও তার সহকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তিনি। শনিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই দীর্ঘদিন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল থাকার সামর্থ্য আমাদের নেই। বিকল্প জ্বালানির পথ খুঁজে বের করতে হবে, যার মধ্যে বৃহৎ আকারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য।”

সম্মেলনে অংশ নিয়ে গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের ভাই কার্ল পেজ বলেন, পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং হাইব্রিড সিস্টেম নির্ভরযোগ্য ও শূন্য-কার্বন বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। বিশেষ করে বার্জ-ভিত্তিক পারমাণবিক চুল্লি সাশ্রয়ী, কম রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতকে দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পারমাণবিক শক্তি এখন আর উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থাগুলোর কাছে নিষিদ্ধ বিষয় নয়। ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ ইতোমধ্যেই এ প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। উদ্ভাবনে বাংলাদেশের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় দেশটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা বাড়বে।

কার্ল পেজ বলেন, “বাংলাদেশ ভবিষ্যতে উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য একটি কৌশলগত কেন্দ্র হতে পারে এবং পারমাণবিক উদ্ভাবনে শান্তিপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করতে পারবে।”

অধ্যাপক ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি নতুন জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি প্রণয়ন করেছে, যেখানে সৌর জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “পারমাণবিক বিকল্প নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে কঠোর গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই জরুরি। প্রতিশ্রুতিশীল এসব প্রযুক্তি নিয়ে গভীর গবেষণা না করলে ঝুঁকি থেকে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অবশ্যই এই সুযোগগুলো অনুসন্ধান করব। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—বাংলাদেশকে দ্রুত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সরকারের সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বৈদেশিক ঋণে নতুন রেকর্ড, বাংলাদেশ ছাড়াল ১১২ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশের ইতিহাসে বৈদেশিক ঋণ নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১১ হাজার ২১৬ কোটি ডলার)। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা।

মাত্র ছয় মাসে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অবকাঠামো খাতের ব্যাপক প্রকল্প, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপই এই ঋণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে ঋণের পরিমাণ ছিল ১০৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ তিন মাসে বেড়েছে প্রায় ৭৩৬ কোটি ডলার। আবার গত ডিসেম্বরে ঋণ ছিল ১০ হাজার ৩৭৩ কোটি ডলার, সেখান থেকে ছয় মাসে ঋণ বেড়েছে ৮৪৩ কোটি ডলার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের নেওয়া ঋণের বড় অংশ অবকাঠামো ও উন্নয়ন খাতের জন্য ব্যয় হলেও অনেক ক্ষেত্রে অপচয় হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “ঋণ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে পরিশোধ সক্ষমতা বাড়বে। তবে ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।”

সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে মোট বৈদেশিক ঋণের ৮২ শতাংশ সরকারি খাতে এবং ১৮ শতাংশ বেসরকারি খাতে। ২০২৫ সালের জুন শেষে সরকারি খাতের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৩৭ কোটি ডলার, যা মার্চের তুলনায় প্রায় ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের ঋণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

গত এক দশকে বৈদেশিক ঋণ প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ ছিল ৪১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ১০০ বিলিয়ন ডলার ঋণের মাইলফলক অতিক্রম করে।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৫৭ লাখ। সেই হিসেবে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ এখন ৬৩৮ ডলার বা প্রায় ৭৭ হাজার ৪৩৩ টাকা। দশ বছর আগে মাথাপিছু ঋণ ছিল মাত্র ২৫৭ ডলারের কিছু বেশি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জিডিপির তুলনায় এই ঋণ এখনো সহনীয় হলেও পরিশোধে কঠিন চাপ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা ছাড়া ঋণের বোঝা অর্থনীতিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে এগোতে এখনই উদ্যোগী হতে হবে: অধ্যাপক ইউনূস

বাংলাদেশকে দ্রুত পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানি খাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে অ্যানথ্রোপোসিন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান কার্ল পেজ ও তার সহকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে দীর্ঘদিন জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাই এখন সময় এসেছে বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়ার।

সম্মেলনে গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের ভাই ও অ্যানথ্রোপোসিন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান কার্ল পেজ বলেন, আধুনিক পারমাণবিক প্রযুক্তি ও হাইব্রিড সিস্টেম নির্ভরযোগ্য এবং শূন্য-কার্বন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। তিনি উল্লেখ করেন, বার্জ-ভিত্তিক পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরগুলো সাশ্রয়ী, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের শিল্পখাতকে বিদ্যুৎ সরবরাহে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

কার্ল পেজ আরও জানান, বর্তমানে বিশ্বব্যাংকসহ বড় অর্থায়ন সংস্থাগুলো পারমাণবিক শক্তিকে আর নিষিদ্ধ খাত হিসেবে দেখছে না। ইতোমধ্যেই ইন্দোনেশিয়া এ প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে তাদের বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করছে। উদ্ভাবন খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতার কারণে দেশটি এ রূপান্তরের নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে নতুন জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি প্রণয়ন করেছে। সেখানে সৌর জ্বালানির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যথাযথ গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই অত্যন্ত জরুরি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিশ্রুতিশীল প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ অবশ্যই অনুসন্ধান চালাবে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গভীর গবেষণা অপরিহার্য। তিনি আরও যোগ করেন, “কোনো সন্দেহ নেই—বাংলাদেশকে দ্রুত জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসতেই হবে।”

ভার্চুয়াল সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সরকারের সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রিজার্ভ ফের ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিন শেষে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ বিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি।

তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি ‘বিপিএম-৬’ অনুযায়ী এ রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) কাছে দেড় বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ নেমে গিয়েছিল ৩০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ফিরল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ বর্তমানে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার। মাসিক গড়ে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় হিসেব করলে এই রিজার্ভ দিয়ে চার মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশের রিজার্ভ অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় কভার করতে পারলেই তা নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।

রিজার্ভের তিনটি ধরন রয়েছে। প্রথমত, গ্রস রিজার্ভ—যেখানে পুরো সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব থাকে। দ্বিতীয়ত, নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ—যেখানে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দেওয়া হয়। তৃতীয়ত, ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ—যা প্রকাশ করা হয় না আনুষ্ঠানিকভাবে। ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ গণনায় ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা, ক্লিয়ারিং হিসাবে থাকা অর্থ, এসডিআর খাতের ডলার এবং আকুর বিল বাদ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। কিন্তু বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চাপ, কোভিড-পরবর্তী আমদানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি, বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে রিজার্ভ দ্রুত কমতে থাকে। এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার স্থিতিশীল রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রিজার্ভ ফের বাড়ায় দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেলেও এখনও চাপ কাটেনি। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, আমদানি ব্যয়, জ্বালানি খাতের চাপ ও বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানো—এসব ক্ষেত্রে দক্ষ ব্যবস্থাপনা না করলে রিজার্ভ আবারও চাপে পড়তে পারে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রিজার্ভের সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ২০২২ সালের জুলাইয়ে আইএমএফ-এর কাছে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার আবেদন করে। বর্তমানে ধাপে ধাপে সেই ঋণের অর্থ ছাড় করছে সংস্থাটি।

অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিজার্ভের পুনরুদ্ধার আশাব্যঞ্জক হলেও এ ধারা টিকিয়ে রাখতে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও জোরদার করতে হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অবরোধে দেড় মাসে ক্ষতি প্রায় ৮ কোটি, জনদুর্ভোগ বাড়লো বরিশালে

বিগত দেড় মাসে শহরে চলমান একের পর এক মহাসড়ক অবরোধে বরিশালের জীবনযাত্রা মারাত্মক ঝামেলায় পড়েছে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আট কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে দাবি করেছেন পরিবহন ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা।

বরিশাল জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন জানান, মহাসড়ক অবরোধের কারণে পরিবহন খাতের দৈনিক গড়ে ক্ষতি প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এই হার ধরে একেবারে ২০ দিন অবরোধ চলার ফলে মোট ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ≈৮০,০০,০০০ টাকা (আট কোটি টাকা)। তিনি বলেন, “সারা দেশে থেকে এখানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০-৫০০টি উচ্চ দূরপাল্লার গাড়ি আসে। অবরোধ হলে শুধু মালিকদের না—যাত্রী ও সাধারণ মানুষেরও অসীম কষ্ট লাগছে। আন্দোলন করা উচিত, কিন্তু রাস্তা আটকিয়ে নয়।”

সংবাদ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে মোট অন্তত ২০ দিন বিভিন্ন দাবি নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাত আন্দোলন নিয়ে মহাসড়ক ছয় দিন বন্ধ ছিল; বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা অবকাঠামো দাবিতে পাঁচ দিন অবরোধ করে; পরীক্ষা পেছানোর প্রতিবাদে ছাত্রদের দ্বিদিনব্যাপী রাতের অবরোধ ছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও বড় দাবি মেনে নেওয়ার দাবিতে অগণিত দিন একাধিক সময় মহাসড়ক আটকা পড়ে। অবরোধ চলাকালীন সারা দেশের সঙ্গে বরিশালের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ভেঙে পড়ে এবং খাদ্য ও কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হয়, ফলে ব্যবসায়িক ও কৃষিপণ্য নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

ব্যবসায়ীদের শোকেসতা তুলে ধরে বরিশাল বিভাগের ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রহিম বলেন, “আন্দোলন আমরা করব, কিন্তু সড়ক আটকে করে নয়। এক দিন অবরোধ থাকলে স্ট্যান্ডগুলোতে বিপুল লোকসান হয়; শাক-সবজি, মাছসহ কাঁচা পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনায় বৈকল্পিক সমাধান বের করা উচিত।”

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সদর দফতর) সুশান্ত সরকার বলেন, “সড়ক অবরোধ জনদুর্ভোগের বড় কারণ। যখন অবরোধ দীর্ঘ হয় আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সমাধানে চেষ্টা করি এবং বিকল্প পথ চালু করি। তবে সেই বিকল্প পথও সীমিত। আন্দোলনের যৌক্তিকতা থাকলেও পথ অবরোধের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো উচিত নয়।”

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও বলেছেন—যৌক্তিক দাবি থাকলে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে দাবি দাখিল ও ঐতিহ্যগত আন্দোলন পদ্ধতি অবলম্বন করলে জনদুঃখ ও আর্থিক ক্ষতি কমানো সম্ভব। মিজানুর রহমান (বরিশাল নাগরিক সমাজ) বলেন, “দাবি রাখুন, কিন্তু জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়ে নয়; সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে আলোচনায় বসাতে হবে।”

যাত্রীদের কাঁঠালের মতো অভিজ্ঞতাও কষ্টসঙ্কুল। একজন যাত্রী সোহরাব হোসেন জানান, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়; শিশুসহ অনেকেই ভীষণ কষ্ট পান। আন্দোলন করলে মানববন্ধন, অনশন ও সহমর্মিতা দেখিয়ে করা উচিত—রাস্তা আটকে নয়।” চালক ও হেলপাররা বলছেন, অবরোধে তারা টিকেট কেটে যাত্রী ওঠার পর অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে নামলে টাকার ফেরত দিতে হয়, যার ফলে মালিক-চালক-হেলপার প্রত্যেকে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতিগ্রস্ত হন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন ও সামাজিক গ্রুপগুলো প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—মাল্টি-স্টেকহোল্ডার আলোচনার মাধ্যমে বিকল্প আন্দোলন কৌশম তৈরি করলে নগরের অর্থনীতিকে সংরক্ষণ করা সম্ভব এবং জনদুর্ভোগ কমবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫