অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিদেশে মানুষ বেশি ট্যাক্স দিলেও সেবা পায়, কিন্তু আমাদের দেশে ট্যাক্স দিয়ে সেবা না পেলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হবে। তিনি বলেন, “ট্যাক্স দিলাম, আর সেবা পেলাম না। তাই মানুষ একটু গোসা করবেই।”
তিনি এই মন্তব্য করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের যৌথ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সুকুক বাজার উন্মোচন: রাজস্ব স্থিতি, অবকাঠামো বাস্তবায়ন ও ইসলামি মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দেশে সমস্যা হলো অর্থায়নের অভাব। সরকারি কর্মকর্তারা ভাবেন সবকিছু দেওয়া যাবে, কিন্তু বাস্তবে অর্থের পরিমাণ যথাযথভাবে পাওয়া যায় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্যাক্স, নন-ট্যাক্স রেভিনিউ যথেষ্ট নয়, তাই প্রাইভেট সেক্টরের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি।
তিনি বলেন, “বড় বড় প্রজেক্ট করা হয়, কিন্তু সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যখাত ও শিক্ষার জন্য অর্থায়ন করতে পারছি না। আমাদের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও ৭.২%, যেখানে ব্রাজিলে ২৬%।”
তিনি মন্তব্য করেন, সঠিক সেবা প্রদান করলে মানুষ বেশি ট্যাক্স দিতে উৎসাহী হবে। সেবা ভালো না দিলে ট্যাক্স বৃদ্ধির আশা করা যায় না।
সেমিনারে তিনি পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সুকুক বন্ড সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা জানান। এর মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পগুলোর ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “মানুষকে বোঝাতে হবে যে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও সিকিউরিটিজে ঝুঁকি জড়িত। এটি কোনো চিরস্থায়ী আয়ের উৎস নয়।”
ড. সালেহউদ্দিন আরও বলেন, দেশের ২৪ হাজার কোটি টাকার সুকুক আছে, কিন্তু প্রায় সব সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। বেসরকারি খাতও এটি অবকাঠামো ও ব্যবসায়িক উদ্যোগে ব্যবহার করতে পারে। বড় প্রকল্প যেমন এমআরটি ব্যবস্থায় সিকিউরিটাইজেশন প্রয়োজন।
তিনি বিমা খাতের দুর্বলতাও তুলে ধরেন এবং বলছেন, “এটি সংস্কারের অপেক্ষায় আছে। একটি গতিশীল আর্থিক খাতে শুধু ব্যাংক নয়, শক্তিশালী পুঁজিবাজার, বিমা খাত ও বিশেষ ট্যাক্স ইনস্ট্রুমেন্টও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
অর্থ উপদেষ্টা জনগণ ও সরকারের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “মানুষ ট্যাক্স দেয় এবং বিনিময়ে সেবা পায়। এটাই ভালো শাসনের চূড়ান্ত পরীক্ষা।”
সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ অর্লিন্সের অধ্যাপক এম কবীর হাসান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খোন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫