এডিবি পূর্বাভাস: ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি ৪%, পরের বছর বাড়বে ৫%

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে ধীরগতির হলেও আগামী বছর তা আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির সর্বশেষ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরের শেষে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৪ শতাংশে, আর ২০২৬ অর্থবছরের শেষে তা বেড়ে ৫ শতাংশে পৌঁছাবে।

এডিবি মনে করছে, চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বারবারের বন্যা, শিল্পে শ্রমিক বিরোধ এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস করেছে। তবে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা রয়ে গেছে এবং মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব সামনে দেখা দিতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, নীতিগত দুর্বলতা ও আর্থিক খাতের ঝুঁকি প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি এবং কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব, টাকার দুর্বলতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সীমাবদ্ধতার কারণে ২০২৫ অর্থবছরে গড় মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়াতে পারে ১০ শতাংশে, যা ২০২৪ অর্থবছরের ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে বেশি।

অন্যদিকে বাণিজ্য ব্যবধান সংকুচিত হওয়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে ২০২৫ অর্থবছরে চলতি হিসাবে জিডিপির ০ দশমিক ০৩ শতাংশ উদ্বৃত্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের অর্থবছরের ১ দশমিক ৫ শতাংশ ঘাটতির তুলনায় অনেকটা ইতিবাচক।

এডিবি আশা করছে, ২০২৬ অর্থবছরে ভোগব্যয় হবে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। এর পেছনে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে আর্থিক ও রাজস্ব নীতির কড়াকড়ি এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগে ধীরগতি দেখা দিতে পারে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর শুল্ক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রতিযোগিতা বাড়ায় রপ্তানি খাতে চাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে রপ্তানিকারকদের পণ্যের দাম কমাতে হতে পারে, যা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলবে।

১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবি বর্তমানে ৬৯টি দেশের সদস্যভুক্ত। সংস্থাটি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে কাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইসলামী ব্যাংকে ব্যাপক রদবদল, হাজারো কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযান। চাকরিবিধি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং আরও ৪ হাজার ৯৭১ জনকে করা হয়েছে ওএসডি (অন স্পেশাল ডিউটি)। ওএসডি হওয়া কর্মকর্তারা বেতন-ভাতা পাবেন বটে, তবে কোনো পদে দায়িত্ব পালন করবেন না। ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হাজারো কর্মীকে কোনো লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি সিভির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের বেশিরভাগই একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দা। পরবর্তীতে তাদের নিয়োগ ও যোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

গত শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ও আদালতের নির্দেশনায় কর্মীদের একটি বিশেষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৫ হাজার ৩৮৫ কর্মীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলেও মাত্র ৪১৪ জন এতে অংশ নেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কর্মীরা স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। তবে যারা পরীক্ষা দেননি, তাদেরকে পরদিন থেকেই ওএসডি করা হয়। আর পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো ও প্রকাশ্যে বিরোধিতা করা ২০০ কর্মীকে সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়।

তবে ওএসডি হওয়া কর্মকর্তাদের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশে নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও ব্যাংক সেই আদেশ অমান্য করে নতুন পরীক্ষা নিয়েছে। তারা এই সিদ্ধান্তকে বেআইনি দাবি করে পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কর্মীদের মান যাচাইয়ের জন্য সরাসরি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা দেশে এই প্রথম। সাধারণত পদোন্নতির জন্য ভাইভা নেওয়া হয়। তবে যেহেতু ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই আইন ও নীতিমালার মধ্যে থেকে কর্মী নিয়োগ বা যোগ্যতা যাচাই তাদের এখতিয়ারভুক্ত।

এদিকে, এস আলম গ্রুপের আমলে ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ এবং আর্থিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে বর্তমান কর্তৃপক্ষ যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষার মাধ্যমে শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রক্রিয়া ব্যাংকটির ভেতরে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংকিং খাতে এটি নতুন এক নজির হিসেবে দেখা দেবে, যেখানে কর্মীদের দক্ষতা যাচাইয়ের ওপর চাকরি টিকে থাকার বিষয়টি নির্ভর করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সেপ্টেম্বরে ২৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকা

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত সময়ে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার টাকার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫৭২ কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানান। তিনি জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২০৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার, আর এবার এসেছে ২৩৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ ২৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার বেশি এসেছে, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ব্যাংকভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী,

  • রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার ডলার
  • বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ২১ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার
  • বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৭৩ কোটি ৬১ লাখ ডলার
  • বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৭২৪ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬২৩ কোটি ২০ লাখ ডলার

এর আগে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছিল ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলার (প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা)। আগস্টে প্রবাসীরা পাঠান ২৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার (২৯ হাজার ৫৪৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা)। সেপ্টেম্বরের এই আয় প্রমাণ করে যে প্রবাসীরা নিয়মিতভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির এই ধারা দেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




যুব বেকারত্ব বিশ্বজুড়ে বড় সংকট : ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তরুণরাই পৃথিবীর পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি, কিন্তু একইসঙ্গে তারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আজকের বৈশ্বিক বাস্তবতায় যুব বেকারত্ব এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে, যা নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে আরও বেশি প্রকট।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে তিনি যুবকদের জন্য বিশ্ব কর্মপরিকল্পনার (ওয়ার্ল্ড প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন ফর ইয়ুথ) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তৃতা দেন। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল — “আন্তঃপ্রজন্ম সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক অগ্রগতি।”

বক্তব্যের শুরুতে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি আজ ৮৫ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করছি এই প্রতিপাদ্যের গভীর তাৎপর্য। বাংলাদেশে আমরা গত বছর প্রত্যক্ষ করেছি যুবসমাজের অসাধারণ শক্তি। তারা সাহসিকতার সঙ্গে স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়েছে এবং জাতিকে নতুন পথে পরিচালিত করেছে। এই তরুণ প্রজন্মই আমাকে সংস্কার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দায়িত্ব দিয়েছে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী তরুণরা অসমতা, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, সুরক্ষাবাদ ও ডিজিটাল বিভাজনের মতো সংকটের প্রথম শিকার। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সংকট তাদের জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তিনি তুলে ধরেন, নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে যুব বেকারত্ব প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা জাতীয় যুব উদ্যোক্তা নীতি চালু করেছি। এর মাধ্যমে তরুণদের অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই আমরা।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, সংস্কার কমিশনগুলোতে যুবকদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নীতি প্রতিযোগিতা চালু করা হয়েছে, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনে তরুণদের চিন্তাভাবনা প্রতিফলিত হয়।

ড. ইউনূস আরও বলেন, “আমরা বিশ্বব্যাপী কর্মপরিকল্পনা ফর ইয়ুথ, ফ্যাক্ট ফর দ্য ফিউচার, জাতিসংঘ যুব কৌশল ২০৩০ এবং ইয়ুথ, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্ডাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি। তবে মনে রাখতে হবে, কোনো দেশ একা যুব ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পারবে না। বৈশ্বিক সহযোগিতা ছাড়া প্রতিবন্ধকতা দূর করা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “তরুণদের প্রতি অবহেলা করলে হতাশা দ্রুত অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে। তাই আমাদের ভবিষ্যৎ একা বহন করতে হবে না। কেবল তাদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ পরিবেশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, তরুণরা নিজেদের জন্য, পৃথিবীর জন্য এবং ভবিষ্যতের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আহ্বান ইউনূসের

বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ এক্সিকিউটিভ বিজনেস গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। ‘অ্যাডভান্সিং রিফর্ম, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক এই গোলটেবিলের আয়োজন করে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল (ইউএসবিবিসি)।

অনুষ্ঠান শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, মেটলাইফ, শেভরন, এক্সেলেরেটসহ যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তুলে ধরেন। তিনি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সফররত বাংলাদেশের ছয়জন রাজনৈতিক নেতাকে সভায় উপস্থিত মার্কিন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, যাতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। আগামী ২ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পালে হাওয়া বর্তমান রিজার্ভ ৩১.২৮ বিলিয়ন ডলার

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ:দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.২৮ বিলিয়ন ডলার।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.২৮ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) পদ্ধতি অনুসারে বাংলাদেশের নিট রিজার্ভ বর্তমানে ২৬.৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।




অকটেন আমদানিতে সরকারের অনুমোদন

দেশে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন (অকটেন) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মেয়াদে ৫০ হাজার টন গ্যাসোলিন ৯৫ আনলেডেড (অকটেন) আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ক্রয় সম্পন্ন হবে প্রিমিয়াম ও রেফারেন্স প্রাইস অনুযায়ী।

প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টন গ্যাসোলিন ৯৫ আনলেডেডের (অকটেন) চাহিদা থাকবে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার টন জিটুজি (সরকারি পর্যায়ে) ভিত্তিতে, সমপরিমাণ আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতিতে এবং বাকি ৪ লাখ টন স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন থেকে ৫০ হাজার টন অকটেন আমদানি করা হবে। প্রতি ব্যারেল গ্যাসোলিন ৯৫ আনলেডেডের (অকটেন) মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫.২০ ডলার, যা প্রিমিয়াম ও রেফারেন্স প্রাইসসহ গণনা করা হয়েছে।

জ্বালানি খাতের এই ব্যয়ভার বহন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। অর্থায়নের জন্য বিপিসি তাদের নিজস্ব বাজেট বরাদ্দ, জ্বালানি তেল বিক্রয়লব্ধ অর্থ এবং প্রয়োজনে ঋণের ব্যবস্থা করবে।

এই অনুমোদনের ফলে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পরিবহন ও শিল্প খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে রাজস্ব আদায়ে ২১% প্রবৃদ্ধি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দেশের রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) এনবিআর-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আগস্ট মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট আদায় দাঁড়িয়েছে ২৭,১৭৪ কোটি টাকায়। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের একই মাসে আদায় হয়েছিল ২৩,০৮৯.৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি বছরের আগস্ট মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪,০৮৪.৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে। এ অনুযায়ী, অর্জিত প্রবৃদ্ধির হার ১৮ শতাংশ।

জুলাই ও আগস্ট দু’মাস মিলিয়ে ২০২৫ সালের মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৪,৪২৩ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের একই সময় এই পরিমাণ ছিল ৪৫,০০৫.১৬ কোটি টাকা। ফলে এ বছরের দুই মাসে রাজস্ব আদায়ে ২১ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ের মূসক খাত থেকে আগস্ট মাসে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১,০৮৫ কোটি টাকা, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এটি ছিল ৮,২৮৩.১৫ কোটি টাকা। এ থেকে স্থানীয় পর্যায়ের মূসক আদায়ের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩৩.৮৩ শতাংশ।

আয়কর ও ভ্রমণ কর খাত থেকে আগস্টে ৮,৪৪২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ২০২৪ সালের একই মাসে এই খাত থেকে আদায় ছিল ৬,৭৯৮.৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ আয়কর ও ভ্রমণ করের ক্ষেত্রে ২৪.১৭ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

আমদানি ও রপ্তানি খাত থেকে আগস্ট মাসে আদায় হয়েছে ৭,৬৪৭ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের আগস্টে এ খাতের আদায় ছিল ৮,০০৭.৬২ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, আইবাস প্লাস প্লাস সিস্টেমে অর্থনৈতিক কোড পরিবর্তনের কারণে কাস্টমস হাউসসমূহের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব সেপ্টেম্বর ২০২৫ মাসে জমা হওয়ার কারণে এই খাতে আগস্টে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর নেট সম্প্রসারণ, কর পরিপালন নিশ্চিতকরণ এবং কর ফাঁকি উদঘাটনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে আরও ধারাবাহিক বৃদ্ধি আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। করদাতারা আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে সময়মতো কর পরিশোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অংশীদার হবেন বলে এনবিআর আশাবাদ প্রকাশ করেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সেপ্টেম্বরে ২১ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২০৩ কোটি ডলার

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২১ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২০৩ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার (২.০৩ বিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স। প্রতিদিন গড়ে এসেছে প্রায় ৯ কোটি ৬৭ লাখ ডলার।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। শুধু ২১ সেপ্টেম্বর একদিনেই দেশে এসেছে ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৬৯৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

এর আগে আগস্ট মাসে দেশে এসেছে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার এবং জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে বৃষ্টিতে ক্রেতা কম, সবজির দাম কমলেও বাজারে জমজমাট নেই

বরিশালে দুই দিনের টানা বৃষ্টির কারণে সবজির দাম কমলেও বাজারে ক্রেতা তুলনামূলক কম উপস্থিত হয়েছেন। পাইকারি বাজারে শসার দাম ২৫-৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা, বরবটি ২০ টাকা, করল্লা ৩০-৩৫ টাকা এবং পটোল ২৫-৩০ টাকা প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজিও গত সপ্তাহের তুলনায় ১৫-২০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর খুচরা বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। শসা বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, বরবটি ৩৫ টাকা, করল্লা ৩৫-৪০ টাকা, পটোল ৩০-৩৫ টাকা করে।

মাছ ও মাংসের বাজারে দাম স্থিতিশীল। রুই মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা, টেংরা মাছ ৫০০-৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, পাঙাস ১৫০-১৮০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৮৫০ টাকা, ইলিশ এখন উচ্চমূল্যে এবং সীমিত মানুষের নাগালের মধ্যে। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ক্রেতারা জানিয়েছেন, সবজির দাম কম হলেও মাছের দাম অনেক বেশি, বিশেষ করে ইলিশ। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে আনার খরচ ও বিদ্যুৎ, ইজারার খরচে কিছুটা মূল্য বৃদ্ধি হলেও বৃষ্টির কারণে ক্রেতা কম।

বরিশালের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী মো. আমিন শুভ জানিয়েছেন, “বৃষ্টি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, পাশাপাশি সবজি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় দাম কমানোর পরও ক্রেতা কম।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫