মে দিবসে অশ্রুত কণ্ঠ: সরকারি স্বীকৃতি বঞ্চিত উপকূলের নারী জেলেরা

গতকাল ছিল পহেলা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দেশজুড়ে শোভাযাত্রা, স্লোগান আর ব্যানারে ভরে উঠেছে শহরের রাস্তাঘাট। শ্রমিকের অধিকারের কথা ওঠে বারবার। অথচ উপকূলের এক প্রান্তিক শ্রেণি—নারী মৎস্যজীবীরা থেকে যান এই আলোচনার বাইরে, নিঃশব্দে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আগুনমুখা নদীর ঘাটে প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই দেখা মেলে ৫৭ বছর বয়সী মনোয়ারা বেগমের। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নদীতে মাছ ধরছেন তিনি। কিন্তু এখনও পাননি একটি সরকারি জেলে কার্ড। ক্ষোভে-আক্ষেপে বলেন, “এতদিন মাছ মারছি, জাল বাইছি, কিন্তু কাগজে আমি জেলে না। মহিলা হইয়া কি জেলে হওয়া যায় না?”

মনোয়ারার মতো আরও অনেক নারী আছেন যারা পুরুষ সহকর্মীদের মতোই নদীতে মাছ ধরেন, অথচ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত। ভিজিএফ চাল, প্রণোদনা বা দুর্যোগকালীন ত্রাণ—সব কিছুতেই তারা উপেক্ষিত।

মানতা সম্প্রদায়ের নারী জেলে গোলাভানু বেগমের প্রশ্ন—“এই দুঃখ কই রাখি?” তিনি বলেন, “নদীতেই জন্ম, নদীতেই জীবন, অথচ সরকার কাগজে আমাদের জেলে বলে না।”

সরকারি হিসেবে দেশে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৭ লাখ ৬৪ হাজার হলেও নারী জেলের সংখ্যা সেখানে নেই বললেই চলে। পটুয়াখালী জেলায় নারী মৎস্যজীবীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার হলেও নিবন্ধন পেয়েছেন মাত্র ৫০০ জন।

ওয়ার্ল্ড ফিশ-এর গবেষক সাগরিকা স্মৃতি জানান, “৯৩ শতাংশ নারী জেলে কোনো না কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন। তারা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকলেও, তাদের কণ্ঠ সবচেয়ে কম শোনা হয়।”

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, “নারী জেলেরা মৎস্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হলেও তাদের স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। আজ মে দিবসে তাদের কথা না বললে এ দিবস শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে।”

গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী জানান, “মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের নিবন্ধনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।” জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, “নারী মৎস্যজীবীদের নিবন্ধনের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে, প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”

তবে বাস্তবচিত্র বলছে, কার্যক্রমের অগ্রগতি খুবই ধীর। এখনো উপকূলের এই নারীরা ‘নারী’ পরিচয়ের কারণে জেলে হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। যদি এই প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, তবে হয়তো দিনবদলের স্বপ্ন দেখতে পারেন মনোয়ারারা—নারী নয়, পরিচয় হবে ‘জেলে’ বলেই।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা নদীতে, কিন্তু নেই কাঙ্ক্ষিত মাছ

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে বরিশালের মেঘনাসহ কয়েকটি নদীতে মাছ ধরতে নেমেছেন জেলেরা। তবে কাঙ্ক্ষিত মাছের দেখা না মেলায় হতাশ তারা।

গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণে দেশের বিভিন্ন নদীর অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর, ভোলা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর মেঘনা, তেতুলিয়া, পদ্মা, কালাবদর ও গজারিয়া নদী।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাত থেকেই বরিশালের হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জেলেরা দলবেঁধে নদীতে নামেন।
তবে মাছ না থাকায় তাদের হাতে ফিরে এসেছে হতাশা।

হিজলার চর মান্দ্রা কুশরিয়া গ্রামের জেলে নাগর খান বলেন, “রাতভর নদীতে জাল ফেলেছি। কিন্তু খুব একটা মাছ ধরা পড়েনি। এখন নদীতে আগের মতো মাছ নেই।”

বরিশালের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম বলেন, “এ বছর জাটকা শিকার তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। যারা আইন ভেঙেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, নিষিদ্ধ সময়ে বরিশালের নদী থেকে জব্দ করা হয়েছে:

  • ৭৫ মন জাটকা
  • ১২ লাখ গলদা চিংড়ির রেনু
  • ১২ হাজার পাঙ্গাস পোনা
  • অন্যান্য মাছ ৮০ কেজি

এছাড়া উদ্ধার করা হয়:

  • ৩২ লাখ মিটার কারেন্ট জাল
  • ৫ লাখ মিটার ইলিশ সুতার জাল
  • বেহুন্দি জাল ৪৫টি
  • গলদা রেনু জাল ৫৩০টি
  • চরঘেরা জাল ৫৮২টি
  • পাই জাল ৯টি
  • চায়না দুয়ারি ৪০টি
  • কোণা জাল ৩টি
  • পাঙ্গাস শিকারের চাই ১টি
  • ১১টি ট্রলার

আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১২ জনকে কারাদণ্ড, তিনটি মামলা ও ৮২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

মাছ কম পাওয়ার বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, “ঝড় ও বৃষ্টির কারণে নদীতে ইলিশ আসছে না। তবে আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




উজিরপুরে শ্রমিকদল নেতাকে বাসচাপা দিয়ে হত্যা, হানিফ পরিবহনের বাস জব্দ

বরিশালের উজিরপুরে মে দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাসচাপায় মানিক গাজী (৬৫) নামের এক শ্রমিকদল নেতা নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১ মে) দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সাকুরা পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকায়।

নিহত মানিক গাজী উজিরপুর উপজেলার ওটরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ের শ্রমিকদলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১২-১৮৫৭) অতিরিক্ত গতিতে সাকুরা পেট্রোল পাম্প এলাকায় পৌঁছালে রাস্তা পার হতে থাকা মানিক গাজীকে চাপা দেয়।
তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

উজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সালাম বলেন, “বাসটি স্থানীয়রা জব্দ করেছে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”

ওসি আরও জানান, বাসের গতি অত্যধিক থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ হানিফ পরিবহনের গাফিলতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনায় বিএনপি অফিসে হামলার অভিযোগে ১৫৮ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

বরগুনায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং হাতবোমা বিস্ফোরণের অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১৫৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ও বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে।

২০২৩ সালের ১৭ মার্চের ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করেন জেলা বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক এস এম নজরুল ইসলামের ছেলে এস এম নইমুল ইসলাম। মামলায় একাধিক অজ্ঞাতনামা আসামিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ:
মামলার বাদী জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা অফিস কক্ষ ভাঙচুর, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী তছনছ করে বাইরে এনে সড়কে স্তূপ করে। এরপর টায়ারে গান পাউডার ছিটিয়ে আগুন ধরানো হয় এবং একাধিক হাতবোমা ফাটানো হয়।

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়েও পাইনি।”

মামলায় নাম থাকা উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:

  • সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু
  • জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ জাহাঙ্গীর কবির
  • সাবেক এমপি ও সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু
  • সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ
  • সাবেক মেয়র শাহাদাত হোসেন
  • আমতলী পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান
  • বেতাগী পৌরসভার মেয়র গোলাম কবির
  • বরগুনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনির
  • তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবিউল কবির জমাদ্দার

মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামি আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান বাদল  কে গতকাল রাত ৯টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি অন্য একটি মামলায় জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় সড়ক থেকে গ্রেফতার হন।

বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, “বিশেষ ক্ষমতা আইন, স্যাবোটাজ এবং বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং গ্রেপ্তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া কোন দিকে যায় তা নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / 




চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা, পরে তিন সদস্যের পিছু হটা

বরিশাল গৌরনদীর নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধার বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছেন ১১ জন ইউপি সদস্য। তবে এর মধ্যে তিনজন সদস্য পরে ভুল স্বীকার করে অনাস্থা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে।

বুধবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর অধিকাংশ ইউপি সদস্য পরিষদে অনুপস্থিত ছিলেন। এমনকি তারা নিজ এলাকায়ও ছিলেন না।

তিনি আরও জানান, টিআর, কাবিটা, কাবিখা ও ৪০ দিনের কর্মসূচির প্রায় এক কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সদস্যদের ডাকা হলেও তারা আসেননি। ফলে তিনি সদস্যদের অনুপস্থিতির বিষয়ে ইউএনও বরাবর লিখিত দেন। এরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে তারা অনাস্থা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রেহানা বেগম, আলেয়া বেগম ও আলাউদ্দিন মীর বলেন, “আমরা ভুল বুঝে অনাস্থা দিয়েছিলাম। পরে উপলব্ধি করে ইউএনও’র কাছে অনাস্থা প্রত্যাহারের আবেদন করেছি।”

তবে অনাস্থা প্রস্তাবে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বরাদ্দ আত্মসাত, অনিয়ম, দুর্নীতিসহ সদস্যদের প্রাপ্য ভাতার অর্থ না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। ইউএনও রিফাত আরা মৌরি বলেন, “উভয় পক্ষের অভিযোগ লিখিতভাবে পেয়েছি। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ওসি ও এসআই’র বিরুদ্ধে মামলা, গ্রামবাসীর বিক্ষোভ

ঘুষ দাবির অভিযোগে থানার ওসি ও এক এসআই’র বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা দায়েরের প্রতিবাদে বরিশালের গৌরনদীতে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার (৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের নারী-পুরুষ মিলে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তারা মামলাটি দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল নোয়াপাড়া গ্রামের প্রবাসী আজাদ সরদারের স্ত্রী সুমা বেগম বরিশালের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়া ও হয়রানির অভিযোগ এনে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয়দের দাবি, সুমা বেগম গ্রামবাসীর চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ করে পারিবারিক কবরস্থানের নামে একটি পাকা দেয়াল নির্মাণ করছিলেন। এতে বাধা দিলে তিনি উল্টো পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ওসি মো. ইউনুস মিয়া জানান, গত ১১ এপ্রিল জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে এসআই নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান এবং পরবর্তীতে নির্মাণাধীন দেয়ালের জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপর এসআই নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখতে বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

তিনি আরও বলেন, থানার পক্ষ থেকে কোনো ঘুষ দাবি করা হয়নি বা কাউকে আটকে রাখা হয়নি। বরং প্রবাসীর স্ত্রী মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছেন।

তবে বাদী সুমা বেগম তার অভিযোগে অনড় থেকে বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি তিনি নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে বরিশাল আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম বলেন, মামলাটি বিচারকের আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫

নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী মো. আতিকুর রহমান মামুন (৪২) বৃহস্পতিবার (১ মে) সকালে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী হিরন, লিমনসহ ১২-১৩ জনের একটি দল আবাসিক এলাকায় হামলা চালায়। তারা বসতঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধর করে। এতে আবদুল হালিমসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আতিকুর রহমান মামুন অভিযোগে উল্লেখ করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / 




জিআই স্বীকৃতি পেল বরিশালের ঐতিহ্যবাহী আমড়া

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় মৌসুমি ফল আমড়া এখন থেকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতি বরিশালের কৃষি, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।

গতকাল বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে বরিশাল জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেল থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো হয়।

এ উপলক্ষে ঢাকার বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে (রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধা) এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানসংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই নিবন্ধনের সনদ তুলে দেন।

সূত্র জানায়, আমড়া বরিশালের মানুষের জীবনধারায় গভীরভাবে জড়িত। শুধু একটি ফল নয়, এটি এই অঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির প্রতীক। টক স্বাদের এই ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং নানা ধরনের খাদ্য ও আচারে ব্যবহৃত হয়। বরিশালের হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব বা অনুষ্ঠানে ‘শেষ পাত’ হিসেবে আমড়া পরিবেশনের একটি প্রাচীন সংস্কৃতিও রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, “আমড়ার জিআই স্বীকৃতি বরিশালের জন্য গর্বের বিষয়। এর ফলে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের ফলটি পরিচিতি লাভ করবে। এটি দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।”

এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী আমড়া একটি জাতীয় সম্পদে পরিণত হলো।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভারতে পলাতক’ ও ‘ওসামা বিন লাদেনের মতো ভিডিও বার্তা দিচ্ছেন : রিজভী

মহান মে দিবস উপলক্ষে বরিশালে অনুষ্ঠিত এক শ্রমিক সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এক বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভারতে পলাতক’ ও ‘ওসামা বিন লাদেনের মতো ভিডিও বার্তা দিচ্ছেন’। একই সঙ্গে তিনি শেখ হাসিনাকে ‘ওসামার খালাতো বোন’ বলেও আখ্যা দেন।

বৃহস্পতিবার (১ মে) সকালে বরিশাল জেলা ও মহানগর শ্রমিক দলের উদ্যোগে সদর রোডের মহাত্মা অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এই শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে রিজভী বলেন, “দেশে নির্বাচিত সরকার না থাকায় ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করতে হলে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শেখ হাসিনার বিচার অনতিবিলম্বে সম্পন্ন করতে হবে।”

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিষয়ে বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচিত সরকারপ্রধান নন। তাই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তার নেই। অনতিবিলম্বে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে, যেন জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরে যায়।”

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. ফয়েজ আহমেদ খান, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, জেলা আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান, সদস্য হাসান মামুন, বন ও পরিবেশ সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, মহানগর আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, জেলা শ্রমিক দলের সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জাপার  মহাসচিব হলেন বরিশালের ইকবাল হোসেন তাপস

দক্ষিণাঞ্চলে জাতীয় পার্টির (জাপা) সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে বরিশালের সন্তান ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপসকে বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত মহাসচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে বরিশাল মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালনকারী তাপস এখন অতিরিক্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে তার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন দলীয় চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, “জাতীয় পার্টি দেশের বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন দায়িত্ব নিয়ে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবো।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /