“রাজনীতিকরণের ফলে সাংবাদিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত” : তথ্য উপদেষ্টা

রাজনীতিকরণের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গণমাধ্যম এবং এর মূল ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা—এ মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।

রোববার (৪ মে) ঢাকার ধানমন্ডিতে ‘Brave New Bangladesh: Reform Roadmap for Press Freedom’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এই আয়োজনে ইউনেসকো ঢাকা অফিস, টিআইবি ও সুইডেন দূতাবাস যৌথভাবে অংশ নেয়।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “স্বৈরশাসনের সময় মিডিয়ার ভূমিকা তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।” তিনি বেতার, বিটিভি ও বাসসকে একত্র করে জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা গঠনের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, “বেশিরভাগ গণমাধ্যম রাষ্ট্রকে ট্যাক্স দেয় না। সরকারি বিজ্ঞাপন ও সংবাদপত্রের লাইসেন্স মূল্য নির্ধারণে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।”

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা এখনো হামলা, গালাগালি ও হত্যার শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও নীতিগত সহায়তা ছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্ভব নয়।”

সেমিনারে আরও উঠে আসে—পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মডেলে গণমাধ্যম পরিচালনার প্রস্তাব, অতিরিক্ত ছাড় দিয়ে বিজ্ঞাপন নেওয়ায় বাজারে ভারসাম্যহীনতা এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত গণমাধ্যমের কারণে সংকট তৈরির বিষয়গুলো।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস বলেন, “ভুল তথ্য মোকাবেলায় এআই ব্যবহৃত হতে পারে, তবে এখনো সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

নোয়াব সভাপতি ও টাইমস মিডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ বলেন, “নির্বাচনের সময় সাংবাদিকতা স্বাধীন হলেও রাজনৈতিক সরকার আসার পর তা সংকুচিত হয়। প্রেস কাউন্সিল পঙ্গু, মফস্বলে সাংবাদিকরা ভয়ের পরিবেশে কাজ করছেন।”

এছাড়াও এএফপির ব্যুরো চিফ শেখ সাবিহা আলম, বিজেসি চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক রাজা, এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সেমিনারে বক্তব্য দেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




তিন অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির পদত্যাগ দাবি শিক্ষার্থীদের

ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন, শিক্ষার্থীদের প্রতি বিমাতা সুলভ আচরণ এবং শিক্ষকদের অপমান—এই তিন অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী। সংবাদ সম্মেলন শেষে তারা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ছাত্রনেতা সুজয় শুভ। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমরা নানান দাবিদাওয়া উপস্থাপন করেছি। ভিসি সেগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও আজকের সংবাদ সম্মেলনে তার অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। উল্টো তিনি শিক্ষার্থীদের মামলা ও সাধারণ ডায়েরি থেকে নাম বাদ দিতে মুচলেকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “নতুন স্বপ্ন ও অগ্রগতির নামে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের চেষ্টামাত্র। ভিসি দায়িত্ব নেওয়ার পর একমাত্র অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দিনকে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল থেকে অপসারণের ভাষা ছিল অশোভন। এ নিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করতেও রাজি হননি।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন:
দফা এক দাবি এক, ববি ভিসির পদত্যাগ”,
এক দফা এক দাবি, ভিসি তুই কবে যাবি”,
এক দুই তিন চার, ভিসি তুই গদি ছাড়”।

এছাড়াও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা ভিসির নীতিনির্ধারণী ভূমিকা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণ চিকিৎসকের মৃত্যু

বরিশালের গৌরনদীতে পিকআপভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে শরিফুজ্জামান মাহিন (২৮) নামের এক তরুণ চিকিৎসক প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার দুপুরে দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা নেওয়ার পথে রোববার সকালে তিনি মারা যান।

নিহত মাহিন গৌরনদী পৌরসভার আশোকাঠী গ্রামের বাসিন্দা ও সৈয়দ শাহ আলমের ছেলে। তিনি মুগদা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন এবং একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দিতেন। এছাড়াও তিনি মুগদা মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে ভুরঘাটা এলাকায় একটি ক্লিনিকে রোগী দেখে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বার্থী এলাকায় একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যালে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. আমিনুর রহমান জানান, “দুর্ঘটনার পর পিকআপভ্যান ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভুয়া ডিবি সেজে চাঁদাবাজি, বরগুনায় দুই প্রতারক গ্রেফতার

বরগুনার তালতলী উপজেলায় নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে মামলার তদন্তের নামে চাঁদাবাজি করার অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শনিবার (৩ মে) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তালতলীর পঁচাকোড়ালিয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—রিয়াজ উদ্দিন (২৬), পিতা মো. হাবিব তালুকদার এবং রাসেল (২৫), পিতা মো. আবু হানিফ। রিয়াজ পেশায় আইনজীবীর সহকারী এবং রাসেল ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলচালক। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, এই প্রতারক চক্র কোর্ট থেকে বিভিন্ন মামলার কপি সংগ্রহ করে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিত। পরে মামলার তদন্তের কথা বলে হুমকি-ধমকি দিয়ে টাকা দাবি করত। অনেকেই হয়রানি ও ভয়ে টাকা দিয়ে তাদের ‘ম্যানেজ’ করে আসছিল।

তাদের প্রতারণার শিকার হন আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুম মৃধা। তিনি বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে বরগুনা জেলা ডিবি পুলিশের ইনচার্জ মো. ইকরাম হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ডিবি। নজরদারির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের প্রতারণার একাধিক প্রমাণ পাওয়ার পর শনিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মো. ইকরাম হোসেন বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিমকে বিষয়টি জানাই। তার নির্দেশনায় তদন্ত করে সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম বলেন, “এই ধরনের প্রতারণা শুধু ভুক্তভোগীদের হয়রানি নয়, বরং পুলিশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করে। তাই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভোলা সমিতি ঢাকার নতুন নেতৃত্বে ৭১ সদস্যের কমিটি গঠন

ঢাকাস্থ ভোলাবাসীদের বৃহৎ অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভার মাধ্যমে “ভোলা সমিতি ঢাকা”র নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন তালুকদার।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় বসবাসরত ভোলার বিশিষ্ট শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতভাবে প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন তালুকদারকে আহ্বায়ক এবং গোলাম মাসুদ খান লাবলুকে সদস্য সচিব করে ৭১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি এক সময় ঢাকাস্থ ভোলাবাসীর মিলনমেলায় পরিণত হয়। সভায় আরও গঠন করা হয় ৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ। উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম – বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী
  • নাজিম উদ্দিন আলম – বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি
  • হাফিজ ইব্রাহিম – বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি
  • আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর – ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক
  • নুরুল ইসলাম নয়ন – জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক
  • আমিনুল হক – বিএনপি কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক
  • সাইফুল ইসলাম নিরব – বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য
  • হায়দার আলী লেলিন – বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য

ভবিষ্যতে ঢাকায় বসবাসরত ভোলাবাসীর সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে এই কমিটি অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় সভায়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জিও ব্যাগ ফেলতে গিয়ে নদীতে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে কাজ করার সময় পা পিছলে পড়ে মো. মোসলেম উদ্দিন মোল্লা (৪৫) নামের এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার সকালে শহরের পুলিশ লাইনের সামনে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল।

নিহত মোসলেম উদ্দিন ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার ধলীগর নগর ইউনিয়নের পূর্ব চতলা এলাকার বাসিন্দা। পেশাগত কারণে তিনি ঝালকাঠি শহরে অবস্থান করছিলেন এবং নদী খনন কাজে জিও ব্যাগ ফেলায় নিয়োজিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকালবেলা শহরের কুতুবনগর এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে গিয়ে হঠাৎ পা পিছলে নদীতে পড়ে যান মোসলেম। সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। খবর পেয়ে ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তবে অভিজ্ঞ ডুবুরি না থাকায় বরিশাল থেকে অতিরিক্ত ডুবুরি দল আনা হয়।

প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযান শেষে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ লাইনের সামনে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার পর আমরা উদ্ধার কাজ শুরু করি। পরে বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দলের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়।”

ঝালকাঠি সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




সুগন্ধা নদীতে জিও ব্যাগ ফেলতে গিয়ে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে জিও ব্যাগ ফেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন মোছলেউদ্দিন মোল্লা (৪৫) নামে এক শ্রমিক।

রবিবার (৪ মে) সকাল ১০টার দিকে পুলিশ লাইনের সামনের অংশে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের দুই ঘণ্টার অভিযান শেষে এই উদ্ধার অভিযান সফল হয়।

নিহত মোছলেউদ্দিন ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার ধলীগর নগর ইউনিয়নের পূর্ব চতলা গ্রামের করিম মোল্লার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কয়েকজন শ্রমিক মিলে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছিলেন। কাজের এক পর্যায়ে মোছলেউদ্দিনের পা পিছলে তিনি নদীতে পড়ে যান এবং নিখোঁজ হন।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা উদ্ধার অভিযানে নামে এবং বরিশাল ডুবুরি দলের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বাংলার বাঘ কিংবা গরিবের ‘হক সাহেব’

‘শের-ই-বাংলা’ বা বাংলার বাঘ—এই উপাধি শুধু বাহ্যিক তর্জনে নয়, গভীর রাজনৈতিক দর্শনে, সাহসিকতায় ও নিপীড়িতদের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে যথার্থভাবে মানানসই এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন আবুল কাশেম ফজলুল হক।

তিনি ছিলেন এলিট শ্রেণির প্রতিনিধি, কিন্তু মনের ভিতরে ছিলেন খাঁটি কৃষকসমাজের বন্ধু। বাংলার সাধারণ মানুষ তাকে ভালোবেসে ডাকতো ‘হক সাহেব’ নামে।

যেভাবে শুরু…

১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশালের ঝালকাঠির রাজাপুরে জন্মগ্রহণ করেন ফজলুল হক। পড়াশোনা শেষ করে হাইকোর্টে আইনজীবী, তারপর প্রশাসনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, পরে চাকরি ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ। জীবনের প্রতিটি বাঁকে তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন, এবং নিজের আদর্শ থেকে সরে আসেননি।

রাজনীতির উদ্দেশ্য : কৃষকের মুক্তি

১৯২৯ সালে ‘নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি’ গঠন এবং ১৯৩৭ সালে ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি কৃষক সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনীতির মাঠে শক্তভাবে দাঁড়ান। ‘লাঙল যার, জমি তার’—এই স্লোগান দিয়েই বাংলার রাজনীতিতে নতুন ধারা এনেছিলেন।

মহাজন ও জমিদারদের বিরুদ্ধে সরব কণ্ঠ

ফজলুল হক জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পদক্ষেপ নেন, প্রজাস্বত্ব আইন পাস করান, এবং চাষিদের ঋণ সুরক্ষায় ‘খাতক আইন’ সংশোধন করেন। ১৯৩৮ সালে প্রণীত ‘পাট অধ্যাদেশ’ পাটচাষিদের জন্য ছিল এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে অংশ

তিনি ছিলেন একমাত্র বাঙালি নেতা যিনি নিখিল ভারত কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। খেলাফত আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, সংবিধান প্রণয়ন—সব ক্ষেত্রেই ছিল তার অগ্রণী ভূমিকা।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান

তিনি ছিলেন শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। মুসলমানদের জন্য চাকরিতে ৫০% কোটা, প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, কলেজ প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ছিল তার উল্লেখযোগ্য অবদান।

গল্প আর কিংবদন্তি

শের-ই-বাংলাকে ঘিরে রয়েছে নানা গল্প—এক বসায় ২০টি ডাব, ৪৫টি আম খাওয়া, খালি হাতে বাঘ মারার কাহিনি, মাতৃভাষা ছাড়াও ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় দক্ষতা। দাবা খেলায় নাকি তিনি কখনো হারেননি!

অবসান ও অনন্ত স্মৃতি

১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন বাংলার প্রিয় ‘হক সাহেব’। আজও তার জীবন, সংগ্রাম ও আদর্শ বাংলার মাটি, কৃষক এবং মানবিক রাজনীতির অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।




বরিশালের নদীপথে নেই নির্দেশনা বাতি, রাত্রিকালীন নৌযান চলাচলে চরম ঝুঁকি

বরিশালের নদীপথে নেই পর্যাপ্ত নৌপথ নির্দেশনা বাতি। ফলে বিশেষ করে রাতের বেলায় যাত্রীবাহী নৌযানগুলো চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। চুরি ও যন্ত্র বিকলের কারণে অধিকাংশ নির্দেশনা বাতি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলতে হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রী ও নৌযান চালকদের।

বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ নৌপথে রয়েছে অসংখ্য চর ও সংকীর্ণ পথ। দুর্ঘটনা এড়াতে এসব ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় স্থাপন করা হয়েছিল ১৩৮টি নৌপথ নির্দেশনা বাতি। এর মধ্যে রয়েছে ৪০টি বয়া ও ৯৮টি বিকন বাতি।

কিন্তু বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের তথ্য অনুযায়ী, এসব বাতির অধিকাংশই এখন আর সচল নেই। বড় একটি অংশ চুরি হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি অসাধু জেলে গোষ্ঠী বাতি চুরির সঙ্গে জড়িত।

নৌপথে চলাচলকারী চালকেরা বলছেন, এই অবস্থায় রাতে চলাচল করা রীতিমতো দুঃসাহসিক কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্ধকারে চর দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বেড়েছে।

“বাতি না থাকায় চর দেখা যায় না। ছোট একটি ভুলেই বড় দুর্ঘটনা হয়ে যেতে পারে। আমরা নিজেরাই আতঙ্কে থাকি, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা তো বলাই বাহুল্য,” — জানান এক লঞ্চচালক।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের নৌপথ নির্দেশনা বিভাগের পরিদর্শক মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, বাতি চুরির ঘটনায় ইতোমধ্যে ৪৯টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত একটি ঘটনারও কোনো সমাধান হয়নি।

বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান আহমেদ বলেন,
“বিষয়টি নিয়ে আমরা কঠোর নজরদারিতে আছি। স্থানীয় পুলিশ ফোর্সকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানিয়েছেন,আসন্ন কোরবানির ঈদ ও বর্ষা মৌসুমের আগেই সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করা হবে। বিকল বাতিগুলো সংস্কার ও নতুন বাতি স্থাপন করা হবে।”

উল্লেখ্য, প্রতিটি বয়ার বাজারমূল্য ২৬ থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং প্রতিটি বিকনের দাম প্রায় ৩ লাখ টাকা। অথচ এই মহামূল্যবান যন্ত্রপাতি নিরাপত্তার অভাবে আজ অকার্যকর ও অদৃশ্য হয়ে গেছে।

নদীবেষ্টিত বরিশালে নৌপথ যেন প্রাণরক্ষার চেয়ে প্রাণহানির আশঙ্কা বেশি করে তুলছে। রাতের অন্ধকারে নির্দেশনা বাতি ছাড়া নৌযান চালানো একটি ভয়াবহ বাস্তবতা। এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনার মোহনায় মৃত ডলফিন উদ্ধার, দূষণ ও ট্রলারের ধাক্কায় প্রাণ হারানোর আশঙ্কা

বরগুনার তালতলী উপজেলার শুভসন্ধ্যা সাগর মোহনায় পায়রা নদীর তীরে একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২ মে) দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় জেলেরা ডলফিনটির মৃতদেহ দেখতে পান এবং পরে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ তালতলী শাখার সহায়তায় তা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত ডলফিনটির শরীরে গভীর আঁচড়, কেটে যাওয়া দাগ ও রক্তাক্ত লেজ ছিল। স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সমুদ্রে চলাচলকারী ট্রলারের প্রপেলারের আঘাতেই প্রাণ হারিয়েছে ডলফিনটি।

পরিবেশবাদী আরিফুর রহমান বলেন, “এটি শুধু একটি ডলফিনের মৃত্যু নয়, বরং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকির বার্তা। অনিয়ন্ত্রিত ট্রলার, দূষণ ও অতিরিক্ত মাছ ধরা আমাদের উপকূলীয় পরিবেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”

তালতলী বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, “এই মৃত্যু শুধু দুর্ঘটনা নয়, বরং নদী ও সাগরের পানি ও পরিবেশের অবনতির প্রতিচ্ছবি। প্লাস্টিক, তেল ও শিল্পবর্জ্যে সৃষ্ট দূষণে নদী আজ প্রাণহীন হয়ে উঠছে, যেখানে ডলফিনের মতো সংবেদনশীল প্রাণী আর টিকে থাকতে পারছে না।”

পরিবেশবাদীরা অবিলম্বে নদী ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, ট্রলার নিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দূষণ বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে তালতলী ও আশপাশের নদীতে একাধিকবার মৃত ডলফিন ভেসে ওঠার ঘটনা ঘটেছে, যা সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য এক ভয়াবহ সতর্ক সংকেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।