দুমকির পায়রা পয়েন্ট মার্কেটে ইসলামী ব্যাংকের নতুন এটিএম বুথ উদ্বোধন

পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার পায়রা পয়েন্ট মার্কেট এলাকায় চালু হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পটুয়াখালী জেলার ১০ম এটিএম বুথ।

বুধবার (৭ মে) সন্ধ্যায় এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আধুনিক বুথের উদ্বোধন করা হয়। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবার উন্নয়নে এটি ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ব্যাংক পটুয়াখালী শাখার ব্যবস্থাপক খলিলুর রহমান। এছাড়াও ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার রফিকুল ইসলাম বাসার এবং অফিসার আব্দুল কুদ্দুস অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বক্তৃতায় রফিকুল ইসলাম বাসার বলেন, এটিএম বুথটি শুধু নগদ লেনদেনের একটি মাধ্যম নয়, বরং এটি এ এলাকার মানুষের জন্য একটি আধুনিক আর্থিক সহায়তা কেন্দ্র। এখন পায়রা পয়েন্টসহ আশপাশের মানুষ ঘরে বসেই নিরাপদ, দ্রুত ও ঝামেলাবিহীন ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে এটি পটুয়াখালী জেলার ১০ম বুথ। ব্যাংকটি জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আরও বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের আধুনিক ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা। এ সময় তিনি জানান, ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর ব্যাংকিং সেবা চালু করে সারা দেশের গ্রামীণ জনপদে সেবা বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।

বুথ উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত। দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে একটি আধুনিক এটিএম বুথ স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাই এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা এবং ইসলামী ব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এই নতুন বুথটি এখন থেকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে, যেখানে গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন, ব্যালেন্স চেকসহ অন্যান্য সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই সেবার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহক সন্তুষ্টি আরও বাড়বে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথ সুগম হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক গ্রামে ছিলেন তিন জমিদার, ছিল না কোনো বিরোধ  হারিয়ে যাচ্ছে চাঁদশীর ইতিহাস

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী গ্রামে এক সময় সহাবস্থান করতেন তিনজন প্রভাবশালী জমিদার—অন্মিকা চরন গুহ, কেদারনাথ বসু ও অন্যদা বসু। তাদের মধ্যে কখনো কোনো বিরোধ ছিল না, বরং ছিল আন্তরিক সহযোগিতা ও সুসম্পর্ক। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এবং দেশভাগের পর তারা দেশত্যাগ করলে তাদের সকল ঐতিহাসিক নিদর্শন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে দখলদারদের কবলে।

প্রবীণরা জানান, ১৯৪৮ সালে দেশভাগের পর জমিদাররা ভারতে পাড়ি জমালে তাদের সম্পত্তি দখল করে নেয় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমিদার বাড়ি, দালান-কোঠা, মন্দির ও দীঘি দখল করে নিয়েছে। ধ্বংস করে দিয়েছে মূল্যবান সব নিদর্শন।

উত্তর চাঁদশী গ্রামের এই জমিদার একটি পঞ্চরত্ন সমাধী নির্মাণ করেছিলেন বাংলা ১৩১৮ সালে। বর্তমানে এই সমাধীটিও ধ্বংসপ্রায়, তার ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে শৌচাগার। প্রায় ১১ একর জমিতে ছিল তার বাড়ি, দাওয়াখানা, দুর্গা মন্দির ও বিভিন্ন পুকুর। এলাকাবাসীর মতে, গুহ বাড়ির দীঘি এবং অনুষ্ঠানপূর্ণ জীবনযাপন আজ কেবল স্মৃতি।

তার বাড়িটি আজও দাঁড়িয়ে আছে, তবে জীর্ণ অবস্থায়। ছিল বৌঠাকুরানীর দীঘি, দুর্গা পূজার আয়োজন, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ধারা। তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘চাঁদশী ঈশ্বর চন্দ্র বসু মাধ্যমিক বিদ্যালয়’। তার অবর্তমানে কেয়ারটেকার জিতেন্দ্র নাথের পরিবার এখন ওই বাড়িতে বসবাস করছে।

তার নাতী তপন বসু এখনও বাস করছেন বিশাল অট্টালিকায়। তিনি জানান, দেশভাগ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে তাদের বাড়িতে পাকিস্তানি সেনারা হামলা চালায় এবং তার ভাইবোন শহীদ হন। কিন্তু আজও তারা শহীদ পরিবার বা মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পাননি। সেই দুঃখ নিয়েই তিনি এখনো জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ আগলে রেখেছেন।

চাঁদশী গ্রামের এই তিন জমিদার ছিলেন ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তাদের মধ্যে ছিল বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং সম্মানবোধ। আজ দখলদারদের অবহেলায় এবং প্রশাসনের উদাসীনতায় এই সমৃদ্ধ ইতিহাস ধ্বংসের মুখে। একসময়কার ঐশ্বর্যপূর্ণ জমিদার বাড়িগুলো এখন শুধু দুঃখের ইতিহাস আর বিলুপ্তপ্রায় স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ডায়াবেটিসবান্ধব ব্রি ধান-১০৫ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযোগী ব্রি ধান-১০৫ এখন বরিশালের কৃষকদের মাঠেও সাফল্যের মুখ দেখছে। আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় এই নতুন জাতের ধান চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রী) উদ্ভাবিত ব্রি ধান-১০৫ হচ্ছে দেশের প্রথম কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) সম্পন্ন ধান, যা বিশেষভাবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ। বরিশালে এই জাতের ধান এ বছর প্রথমবার চাষ করা হয়েছে এবং কৃষকরা এর উৎপাদনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বরিশাল ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশিক ইকবাল খান জানান, “ব্রি ধান-১০৫-এর আন্তর্জাতিক গ্লাইসেমিক ভ্যালু ৫৫-এর নিচে। ফলে এই চালের ভাত খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে না, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বর্তমানে ধানটির উৎপাদন ও সম্প্রসারণ বাড়াতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।”

চাষের অনুমোদন পাওয়া ব্রি ধান-১০৫-এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭.৮ টন হলেও সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশে ফলন হতে পারে ৮.৫ টন পর্যন্ত। এই ধানের জীবনকাল ১৪৮ দিন। কৃষকরা জানান, প্রথমবার চাষ করেই তারা ভালো ফলন আশা করছেন, ফলে ভবিষ্যতে এ ধানের চাষ আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

বরিশাল অঞ্চলের কৃষকদের মতে, ধানটি শুধু লাভজনকই নয়, জনস্বাস্থ্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা যেহেতু দিন দিন বাড়ছে, তাই এমন ধানের উৎপাদন বাড়লে তা খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসুরক্ষাতেও অবদান রাখবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

বরিশাল নগরীর বাজার রোড এলাকায় অবস্থিত খাজা মইনুদ্দিন মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে শেখ রাফি (১২) নামের এক ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ১ মে। মাদ্রাসার তিনতলার ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় রাফি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (৪ মে) তার মৃত্যু হয়।

রাফির মৃত্যুর বিষয়টি তার মামা মনিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।

নিহত রাফির পরিবার অভিযোগ করেছে, মাদ্রাসার ছাদে কোনো ধরনের রেলিং বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি শিশুদের ছাদে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে কোনো তদারকি ছিল না বলেও দাবি করেন তারা।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হালিম হুজুর বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা শিশুটির চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি এবং পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছি।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গরমে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ পানীয়

প্রচণ্ড গরমে শরীর হাইড্রেটেড রাখা যেমন জরুরি, তেমনি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ পানীয় নির্বাচন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীষ্মের দাবদাহে তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই ঠান্ডা পানীয়ের দিকে ঝুঁকেন, তবে প্যাকেটজাত জুস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য হতে পারে মারাত্মক ক্ষতির কারণ। তাই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য কিছু প্রাকৃতিক, চিনিমুক্ত ও পুষ্টিকর পানীয়ের বিকল্পই হতে পারে সেরা সমাধান।

নিচে এমন কয়েকটি পানীয়ের তালিকা দেওয়া হলো, যেগুলো গরমে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য উপযোগী:

🔹 ঘোল:
প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ এই পানীয় হজমে সহায়তা করে এবং শরীর ঠান্ডা রাখে। দুধ বা পাতলা দই দিয়ে তৈরি ঘোলে থাকে কম শর্করা এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া। এতে ভাজা জিরা গুঁড়া, এক চিমটি লবণ, ধনেপাতা বা গোলমরিচ মিশিয়ে স্বাদে ভিন্নতা আনা যায়।

🔹 ডাবের পানি:
স্বল্প ক্যালোরি এবং স্বাভাবিকভাবে চিনিমুক্ত এই পানীয় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ। এতে থাকা পটাশিয়াম ও ইলেক্ট্রোলাইট শরীরকে ঠান্ডা রাখে ও হাইড্রেটেড থাকতে সহায়তা করে। তবে দিনে পরিমিত পরিমাণেই পান করা উচিত।

🔹 আমলকির রস:
ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আমলকি রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাজা আমলকি থেকে রস বের করে পানি মিশিয়ে পান করলে শরীর থাকবে সতেজ। চাইলে সামান্য লবণ ও পুদিনা পাতা মিশিয়ে স্বাদ বাড়ানো যায়।

🔹 শসা-পুদিনা ডিটক্স ওয়াটার:
এক জগ পানিতে পাতলা করে কাটা শসা ও পুদিনা পাতা দিয়ে ঘণ্টাখানেক রেখে দিন। এই ডিটক্স ওয়াটার শরীরকে শীতল রাখবে, হজমে সাহায্য করবে এবং গ্লুকোজ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পানীয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তা যেন চিনিমুক্ত, প্রাকৃতিক এবং শরীরের জন্য উপকারী হয়। তাই সতেজ ফল বা ভেষজ উপাদান দিয়ে ঘরেই তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর পানীয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




এখনই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বর্তমানে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

রোববার (৪ মে) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এ (বিইউপি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন: আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে, তবে সেটি তখনই সম্ভব যখন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে, যেখানে তারা অতীতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমরা কি তাদের আবার সেই নির্যাতনের মুখে ঠেলে দিতে পারি?”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি শুধু একটি রাজনৈতিক সমস্যা নয়, এটি নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই মুহূর্তে প্রত্যাবাসন সম্ভব নয় এবং এই ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কার্যকর ফল দিচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, “বছরের পর বছর আলোচনার পরও একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো যায়নি।”

তিনি আরও বলেন, “মিয়ানমার কখনোই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ছিল না। এমনকি অং সান সু চির নেতৃত্বেও সেখানে ছিল একটি আধা-সামরিক শাসন। বর্তমানে দেশটি পুরোপুরি গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে এবং মূল শক্তিগুলো হলো সামরিক জান্তা, আরাকান আর্মি এবং জাতীয় ঐক্য সরকার (NUG)। কোনো স্থায়ী সমাধানের জন্য এই তিন পক্ষের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে আরাকান আর্মির, যারা বর্তমানে রাখাইন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “বিশ্বে অন্যান্য সংকটের মধ্যেও যেন রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব হারিয়ে না ফেলে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রোডম্যাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মারা গেছেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আজ (৪ মে) রবিবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং বর্তমানে ইবনে সিনা হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পরিবারে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার দুই ছেলে এবং তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর তিনি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেন এবং পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন। ৬ জানুয়ারি তার জুনিয়র আইনজীবীরা তাকে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনে সংবর্ধনা প্রদান করেছিলেন।

১৯৪৯ সালে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় জন্মগ্রহণ করা আব্দুর রাজ্জাক ১৯৮০ সালে যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৫ পর্যন্ত তিনি লন্ডনে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন এবং দেশে ফিরে ১৯৮৬ সালে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগ এবং ১৯৯৪ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০২ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী হন।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে থাকার সময় তিনি জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন এবং তার পর “আমার বাংলাদেশ” (এবি) পার্টির প্রধান উপদেষ্টা হন, যদিও পরবর্তীতে সেই পদ থেকেও তিনি পদত্যাগ করেন।

তিনি ছিলেন বাংলাদেশের আইনজীবী সমাজের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, এবং তার অবদান বাংলাদেশের আইনি পরিসরে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




লিটন দাস বাংলাদেশের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে লিটন কুমার দাসের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গুঞ্জনটি সত্য প্রমাণিত হল, এবং নাজমুল হোসেন শান্তর জায়গায় লিটন কুমার দাস নেতৃত্ব দেবেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আজ (৪ মে) এই ঘোষণা করেছে, জানিয়ে দিয়েছে যে লিটন দাস আগামী সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং পাকিস্তান সফরে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

লিটন দাসকে বিসিবি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অধিনায়ক করা হয়েছে। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাকে দলের নেতৃত্ব দিতে দেওয়া হবে।

এদিকে, আজই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। দলে ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়, যারা ইনজুরির কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে খেলতে পারেননি। অন্যদিকে, বাদ পড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, রিপন মন্ডল ও তাসকিন আহমেদ।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তান সিরিজে স্পিনার মেহেদী হাসানকে সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এটি শুধুমাত্র এই দুটি সিরিজের জন্য।

পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আগামী ২৫ মে থেকে শুরু হবে। তার আগে, বাংলাদেশ ১৮ ও ২০ মে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। এই সিরিজ থেকেই লিটন দাসের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ দলের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

বাংলাদেশ দলের টিম লিস্ট (সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তান সিরিজ):

  • লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক)
  • তানজিদ হাসান তামিম
  • পারভেজ হোসেন ইমন
  • সৌম্য সরকার
  • নাজমুল হোসেন শান্ত
  • শামীম পাটোয়ারী
  • জাকের আলী অনিক
  • রিশাদ হোসেন
  • শেখ মেহেদী হাসান
  • তানভীরুল ইসলাম
  • মুস্তাফিজুর রহমান
  • হাসান মাহমুদ
  • তানজিম হাসান সাকিব
  • নাহিদ রানা
  • শরিফুল ইসলাম

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




এবারের কোরবানির ঈদে দেশের মধ্যে পর্যাপ্ত পশু, আমদানি হবে না

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, চলতি বছর কোরবানির ঈদে দেশের চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি গবাদি পশু রয়েছে। তাই বিদেশ থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন নেই। রবিবার (৪ মে) সচিবালয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চাহিদা এবং সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, আগামী কোরবানির ঈদে মোট ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি গবাদি পশু থাকবে, যার মধ্যে ৫৬ লাখ ২ হাজার ৯০৫টি গরু-মহিষ, ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯২০টি ছাগল-ভেড়া এবং অন্যান্য প্রজাতির ৫ হাজার ৫১২টি পশু অন্তর্ভুক্ত। কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় পশু সরবরাহের পরেও প্রায় ২০ লাখ ৬৮ হাজার অতিরিক্ত গবাদি পশু দেশে থাকবে।

এছাড়াও, নিরাপদ, মানসম্মত এবং পর্যাপ্ত প্রাণিজ আমিষ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাণিস্বাস্থ্য সেবা বৃদ্ধি, উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের জন্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার আরও জানান, এবারে কোনোভাবেই অবৈধ পথে গবাদি পশু আমদানির সুযোগ দেয়া হবে না। অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিশেষ করে, মিয়ানমার থেকে অবৈধ পশু প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হবে।

এছাড়া, কোরবানির পশু সরবরাহের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চলতি বছর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই বিশেষ ট্রেন চলবে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় ১৯টি পশুর হাটে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম এবং দুইটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বাংলাদেশিদের ইউএই ভিসা দেওয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি: রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশিদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ভিসা প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল-হামৌদি। তিনি জানান, বর্তমানে ঢাকাস্থ ইউএই দূতাবাস থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০টি ভিজিট ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে।

রোববার (৪ মে) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এসব তথ্য জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, “দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশিদের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলগুলোর জন্য বাল্ক ভিসা প্রক্রিয়াও দ্রুততর করা হয়েছে, যা বাণিজ্যিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করছে।”

তিনি আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় দক্ষ কর্মীদের জন্য অনলাইন ভিসা আবেদন ব্যবস্থা পুনরায় চালু করেছে। এর আওতায় ইতোমধ্যে মার্কেটিং ম্যানেজার ও হোটেল কর্মীদের জন্য ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য ৫০০টি ভিসা ইতোমধ্যে ইস্যু হয়েছে, আরও ১ হাজার ভিসা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ভবিষ্যতে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করা হবে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ যেসব মানবিক ও জরুরি ভিসা মামলার সুপারিশ করছে, সেগুলো বিশেষ বিবেচনায় দেখা হচ্ছে।”

বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ইউএই রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশ ও আমিরাতের মধ্যে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনার যে প্রস্তুতি চলছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /