সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে: আব্দুস সোবহান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান।

তিনি বলেন, “হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মাবলম্বী নাগরিক এ দেশের সমান অধিকারভোগী। তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিএনপির নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়। এই বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।”

শুক্রবার (৯ মে) সন্ধ্যায় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাটরা প্রেমচাঁদ বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন কীর্তন আঙ্গিনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুস সোবহান আরও বলেন, “ধর্ম যার যার, দেশ সবার। ধর্মীয় পরিচয়ে বিভাজনের রাজনীতিতে বিএনপি বিশ্বাস করে না। বরং আমরা চাই, সবাই একসাথে থেকে একটি উন্নত ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।”

তিনি জানান, হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক সজাগ আছেন। বিগত দিনগুলোর মতো ভবিষ্যতেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে থাকবে বিএনপি।

রাজিহার ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তরুণ কান্তি হালদার। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শোভন রহমান, মনির মোল্লা, বিএনপি নেতা অ্যাপোলো তালুকদার, নবীন সরকার, পরিতোষ রায়, রবীন্দ্রনাথ গাইন, মন্টু লাল হালদার ও যতীন্দ্রনাথ হালদার।

বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল লোকমান, আনোয়ার সাদাত তোতা, ডা. মাহবুবুল ইসলাম, আব্দুল মালেক আকন, জেলা উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম মোর্শেদ মাসুদ, গৌরনদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মনির হোসেন হাওলাদার এবং জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এসএম হীরা।

এসএলটি/চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম/




বাংলাদেশে এসে প্রেম, ভোলার মেয়েকে বিয়ে করলেন চীনা তরুণ

সফর করতে এসে ভালোবাসায় আবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের ভোলার এক তরুণীকে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন চীনা নাগরিক মাওয়েন হুয়া ইরিছা (২৪)। ঘটনাটি ঘটেছে ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চীনের গানছু প্রদেশের লানজু এলাকার বাসিন্দা মাওয়েন হুয়া ইরিছা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউচ্যাটে নাভিয়া আক্তারের বড় ভাই মো. রনির সঙ্গে পরিচিত হন প্রায় আড়াই বছর আগে। সেই বন্ধুত্ব থেকেই ইচ্ছা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ভ্রমণের। এরপর গত ১১ এপ্রিল তিনি ভোলায় রনির বাড়িতে বেড়াতে আসেন এবং এক মাস অবস্থান করেন।

সেই সময়ের মধ্যে মাওয়েন হুয়া রনির ছোট বোন নাভিয়াকে পছন্দ করেন এবং বিয়ের প্রস্তাব দেন। শুরুতে কিছুটা আপত্তি থাকলেও উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত ৪ মে (রোববার) সন্ধ্যায় ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। দেনমোহর ধার্য করা হয় ১০ লাখ টাকা।

নাভিয়া আক্তার ভোলা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ইলিয়াস হাওলাদার ও খুকুমণি দম্পতির বড় মেয়ে। চীনা বর মাওয়েন হুয়া নিজেও মুসলিম এবং একটি মাদরাসার ছাত্র বলে জানা গেছে।

বিয়ের পরদিন ৫ মে গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়। বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে নবদম্পতিকে দেখতে স্থানীয়রা ভিড় করেন তাদের বাড়িতে। কেউ কেউ বলেন, ভোলায় এমন বিদেশি বিয়ের ঘটনা বিরল, তাই দেখার আগ্রহ ছিল।

নববধূ নাভিয়া বলেন, “আমি খুশি, পরিবার আমাকে যেখানে বিয়ে দিয়েছে, আমি সেখানে থেকে সুখে জীবন কাটাতে চাই।” বর মাওয়েন হুয়াও স্ত্রীকে চীনে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহের কথা জানান এবং ইসলামিক ভাবে সুরা ফাতিহা পাঠ করে উপস্থিত সবাইকে চমকে দেন।

এদিকে, নবদম্পতির জন্য এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজন শুভ কামনা জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করেছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / 




দাফনের ৬ দিন পর ‘মৃত’ রহিম জীবিত ফিরে এলেন!

চট্টগ্রামে ‘দাফনের ছয় দিন পর’ জীবিত ফিরে এলেন আব্দুর রহিম নামের এক নির্মাণ শ্রমিক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার চাক্তাই এলাকায়।

গত ৩ মে (শনিবার) চাক্তাই খাল থেকে এক অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ভোলার উবায়দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি মরদেহটি তার নিখোঁজ ছেলে আব্দুর রহিমের বলে শনাক্ত করেন এবং মরদেহ ভোলায় নিয়ে গিয়ে দাফন করেন।

কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায় ৮ মে, বৃহস্পতিবার। এদিন রহিমের মোবাইল নম্বর সচল পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে।

পিবিআই ও চট্টগ্রাম মেট্রো পুলিশের পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা জানান, পাওনাদারদের ভয়েই আত্মগোপনে ছিলেন রহিম। মোবাইল চালু হওয়ার পর তাকে খুঁজে বের করা হয়। পরে বাবা-ছেলেকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে রহিম জানান, আর্থিক ঝামেলার কারণে মোবাইল বন্ধ করে গা-ঢাকা দেন।

লাশ শনাক্তের বিষয়ে রহিমের ফুফাতো ভাই মো. নোমান জানান, মরদেহে থাকা ঘাড় ও পেটের পুরনো কাটা দাগ দেখে তারা নিশ্চিত হয়েছিলেন সেটি রহিমেরই। ওই দাগগুলো ২০১৪ সালে একটি নির্মাণ দুর্ঘটনায় পড়ে অস্ত্রোপচারের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল।

পিবিআই আরও জানায়, ভুল করে অন্য ব্যক্তিকে দাফন করা হয়েছে। সেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে দাবিদার পাওয়া গেলে মিলিয়ে দেখা যায়।

এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার আরও নির্ভুলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




বরিশালে তাপপ্রবাহের তাণ্ডব, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে বিপর্যয়

বরিশালসহ মেঘনা অববাহিকায় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার (৯ মে) বরিশালে মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪.৫ ডিগ্রি বেশি।

এ দিন সকালেও তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি বেশি। রাতের শেষভাগে কুয়াশা থাকলেও দুপুরের আগেই সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপে তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষ, কৃষক ও রোগীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বরিশাল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপের প্রভাবে এই তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে এবং তা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবার তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং রোববার কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ উপকূল অতিক্রম করার পর থেকে বরিশালে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় ৯০-৯৫% কমে গেছে। এপ্রিল মাসে কিছুটা বৃষ্টি হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় ছিল নগণ্য। চলতি মে মাসে ২৪৫ থেকে ৩১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হচ্ছে না।

এর প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। বোরো মৌসুমে অতিরিক্ত সেচের কারণে ধান চাষে খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি রোগবালাইয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।

স্বাস্থ্য খাতেও এর মারাত্মক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালে অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ ডায়রিয়া ও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। গত বছর একই ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়েছিল প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ।

শুক্রবার বিকেলে বরিশালের আকাশ মেঘে ঢেকে যায়, হালকা থেকে মাঝারি বজ্রপাতও হয়। এতে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন বৈরী আবহাওয়া দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। এর সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তা মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ফুটপাত দখলে বিআইডব্লিউটিএ, প্রশ্ন সাধারণ মানুষের

বরিশাল নগরীর বান্দ রোডে ফুটপাত দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এই প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, বান্দ রোডের লঞ্চঘাট এলাকায় প্রায় পাঁচ ফুট প্রস্থের ফুটপাতটি ছিল জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু সম্প্রতি সেই ফুটপাতের ওপরই বিআইডব্লিউটিএ নতুন করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেছে। এমনকি ফুটপাতের নিচে থাকা ড্রেনও মাটি ও বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওসার শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। তার নির্দেশনায় ইতোমধ্যে নগরীর বহু সড়ক থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

তবে একই সময়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক এই দখলের ঘটনায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠান কিভাবে জনসাধারণের হাঁটার জায়গা দখল করতে পারে?”
মাহিন্দ্রা চালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “ফুটপাত দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করলে মানুষ হাটবে কোথায়?”

বিষয়টি নিয়ে বরিশাল নদী বন্দরের কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা দাবি করেন, আগের জায়গাতেই পুরনো প্রাচীর ভেঙে নতুন প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে, ফলে ফুটপাত দখলের প্রশ্নই আসে না। অন্যদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুরক্ষায় এই ধরনের নির্মাণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে উত্তপ্ত বরিশাল, মহাসড়কে আগুন

বরিশাল শহর উত্তাল হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ছাত্র ও জনতার ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভে। শুক্রবার (৯ মে) রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ব্যানারে একটি বিশাল মিছিল বের হয়।

মিছিলটি বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ঘুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

বিক্ষোভকারীরা আওয়ামী লীগকে ‘গণহত্যাকারী’ এবং ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। তারা বলেন, “জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার ওপর যে নৃশংস হামলা হয়েছে, তা জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় হয়ে থাকবে।”

বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কের ওপর বসে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং একপর্যায়ে টায়ার ও কাঠে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

পরবর্তীতে আয়োজকরা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানান, “গণতন্ত্র হত্যাকারী কোনো দলকে রাজনীতির মাঠে থাকার অধিকার নেই। এই আন্দোলন কোনো দলের নয়, এটি দেশের সাধারণ জনগণের ন্যায়ের দাবি।” তারা আরও বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও দাবি না মানলে এই আন্দোলন আরও তীব্র ও বৃহত্তর হবে।”

ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ধ্বংসের মুখে উপকূলের স্লুইসগেট, কৃষিতে শঙ্কা

কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা বর্তমানে চরম দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কারণ এলাকার অধিকাংশ স্লুইসগেট এখন আর কার্যকর নেই। যেগুলো কিছুটা সচল, সেগুলো দখলে রেখেছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি। কৃষিকাজের জন্য জরুরি এই স্লুইসগেটগুলো এখন মাছ ধরার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে কৃষকদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঠালপাড়ার ছয় ভেন্টের স্লুইসগেটটির অবস্থা এতটাই করুণ যে, এর পিলার থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে। কপাটগুলো নষ্ট হয়ে লোনা পানির অনবরত চলাচলে এলাকাজুড়ে কৃষিকাজ হুমকিতে পড়েছে। গাইড ওয়াল ভেঙে গেছে, নিরাপত্তা রেলিং উধাও, আর প্রতিটি গেটের উপর ঝুলছে জাল। স্লুইস গেটটির সামনে মাছ ধরেই এক মহল প্রতিদিন ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করছে।

এই স্লুইসের সুবিধাভোগী অন্তত ৩০টি গ্রামের কৃষকরা এখন পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পেরে হতাশ। এক সময় যে গেট তাদের জীবন ও জীবিকার প্রধান সহায়ক ছিল, এখন তা ধ্বংসের কিনারায়। শুধু কলাপাড়ার চাকামইয়া নয়, বরগুনার তালতলী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষকরাও এই স্লুইস ব্যবহার করতেন। কিন্তু ৬৫ সালে নির্মিত গেটটি এখন অচল।

এদিকে তালতলীর তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে কলাপাড়ার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্লুইস সংলগ্ন নদীপাড়ের অন্তত ৩০ হাজার কৃষক শঙ্কার মধ্যে দিন পার করছেন। কৃষকরা বলছেন, এভাবে চললে সবজি, রবিশস্যসহ অন্যান্য উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

একই সমস্যা দেখা দিয়েছে নীলগঞ্জের যুগীর স্লুইসগেটেও। এখানকার শতকরা ৮০ ভাগ কৃষক নিজস্ব উদ্যোগে বাঁধ দিয়ে মিঠা পানির সংরক্ষণ করে সারা বছর সবজি উৎপাদন করেন। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ স্লুইসটির রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই।

কৃষক সুলতান গাজী জানান, তাদের উৎপাদিত সবজি কলাপাড়ার প্রায় অর্ধেক চাহিদা পূরণ করে। অথচ এই স্লুইসের ওপর তারা কোনো নিয়ন্ত্রণ পান না। শতকরা ৯০ ভাগ স্লুইসগেটই এখন আর প্রকৃত কৃষকের নিয়ন্ত্রণে নেই। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালীরা এসব গেটের মালিকানা দাবি করে মাছ ধরার জন্য ব্যবহার করছে।

গত ২৫ বছরে স্লুইসগেটের দখল নিয়ে ঘটেছে প্রায় ৩০টি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অসংখ্য মামলা। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। প্রশাসনিকভাবে স্লুইসগেট পরিচালনার জন্য কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও, তা শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ। ফলে ভোগান্তি বাড়ছে কৃষকদের।

প্রকৃত কৃষকরা বলছেন, স্লুইসগেটগুলো এখন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আয়ের উৎস। তারা মাছ ধরেই লাভবান হচ্ছেন, অথচ কৃষকের ধান-পানির ব্যবস্থা নেই। এভাবে প্রায় অর্ধশত স্লুইসগেট ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন সিকদার বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পায়রা বন্দর উন্নয়নের নামে ধানখালী ও লালুয়ার ১৩টি খাল ভরাট করে মানুষের সর্বনাশ করা হয়েছে। এসব এলাকায় নয়টি স্লুইসগেট এখন অকেজো। ফলে জলাবদ্ধতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, কলাপাড়ায় মোট ১২৭টি স্লুইসগেট রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি সম্পূর্ণ অকেজো, ৩০টি আংশিক বিকল। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানিয়েছেন, ৪৫টি স্লুইসগেটের গেট সংস্কার প্রয়োজন। কাঠালপাড়ার স্লুইসটি নতুন করে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। নীলগঞ্জের নিচকাটায় নতুন একটি আট ভেন্টের স্লুইস নির্মাণ কাজ চলমান। পর্যায়ক্রমে সবগুলো স্লুইসগেট মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে বাস্তবায়নের অভাবে কৃষকরা শঙ্কিত। তারা সরকারের কাছে দ্রুত স্লুইসগেট পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কৃষিকে বাঁচাতে হলে স্লুইসগেটকে কৃষকের দখলে ফেরানোই একমাত্র সমাধান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পিরোজপুরে ইয়াবা মামলায় ২ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় ইয়াবা রাখার দায়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোক্তাগীর আলম আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পুটিয়াখালী এলাকার আরাফাত আল আহসান ওরফে রিয়াদ তালুকদার (৫২) এবং ভান্ডারিয়ার লক্ষিপুরা এলাকার ইকবাল মল্লিক (৪৫)।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ হাসান বাবু জানান, ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভান্ডারিয়া থানার পুলিশ শহরের রির্জাভ পুকুর এলাকা থেকে ৩২৯ পিস ইয়াবাসহ আসামিদের আটক করে। পরদিন থানার এসআই নুর আমিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এরপর ৩০ নভেম্বর এসআই খন্দকার মো. কামরুল ইসলাম ৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলায় অপর ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেন আদালত।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪.কম




বরগুনার নদীতে নিষিদ্ধ জালে পোনা নিধন, হুমকিতে মৎস্যসম্পদ

প্রতিদিন কোটি কোটি পোনা পাচার, প্রশাসনের অভিযানে সফলতা সামান্য

বরগুনার বিষখালী, বলেশ্বর ও পায়রা নদীতে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে পোনা আহরণ চলছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় শতাধিক প্রজাতির মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর বংশবিস্তার। রাতের আঁধারে এসব পোনা পাচার হচ্ছে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন হ্যাচারিতে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও জনবল সংকট ও সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের প্রভাবে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।

পোনা আহরণ এখন ‘মহোৎসব’:
স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিন শুধু পাথরঘাটা এলাকার নদীতেই কয়েক কোটি পোনা ধরা হয়। চরদুয়ানী, বাদুড়তলা, কাঁঠালতলী, রূপধনসহ নদীতীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছে পাইকারি বাজার। পোনার দাম মাত্র এক টাকা করে হলেও পাইকাররা এসব খুলনা-বাগেরহাটে মোটা দামে বিক্রি করে। মাসোহারার বিনিময়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চলছে এই অবৈধ ব্যবসা।

মৎস্য কর্মকর্তা ও ট্রলার মালিকদের উদ্বেগ :
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন বলেন, “নিষিদ্ধ পোনা আহরণ মৎস্যসম্পদের ওপর বড় হুমকি। অভিযান চলছে, তবে জনবল কম থাকায় শতভাগ সফলতা সম্ভব হচ্ছে না।”
ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে মাছের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। এখনই পদক্ষেপ দরকার।”

জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি প্রকট:
পোনা আহরণের ফলে মাছের ঘাটে মাছের উপস্থিতি কমে গেছে বলে জানান চরদুয়ানী বাসিন্দা নুরুজ্জামান আলমাস। “আগে প্রতিদিন টনকে টন মাছ আসত, এখন অনেকে দিন ঘাটে এক বোতল পানিও পড়ে না,”—বললেন তিনি।

কোস্ট গার্ডের অভিযানেও ধরা পড়ে না মূল অপরাধী :
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রায় ২০ লাখ পোনা ও ১৫ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশবাদীদের মতে, এখনই কঠোর নজরদারি, সচেতনতা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ না নিলে এক দশকের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়তে পারে।

এস এল টি তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২৫




ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী অংশ যেন মৃত্যুফাঁদ

ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী অংশ যেন মৃত্যুফাঁদ দুই বছরে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনায় নিহত ২৫, আহত শতাধিক

ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরগুনার আমতলী অংশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাত্র ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে গত দুই বছরে ঘটেছে ৫০টিরও বেশি দুর্ঘটনা। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫ জন, আহত হয়েছেন শতাধিক।

বাঁক, বাজার ও থ্রি-হুইলারের কারণে বিপজ্জনক অবস্থা :
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন চালকদের মতে, সড়কের একাধিক বাঁক, যত্রতত্র বাজার বসা এবং থ্রি-হুইলারের অবাধ চলাচল মহাসড়কটিকে কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত করেছে। যদিও মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ, বাস্তবে আমতলী উপজেলার চৌরাস্তা থেকে পটুয়াখালী ও কুয়াকাটার দিকে প্রতিনিয়ত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা চলাচল করছে।

সড়ক পরিদর্শনে দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে অবৈধ দোকানপাট, ট্রাক্টর ও টমটমের দৌরাত্ম্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি কোনো গ্রামীণ সড়ক বলেই মনে হয়।

বরিশাল থেকে কুয়াকাটাগামী বাসচালক মিজান বলেন, “অবৈধ দোকানপাটের কারণে পথচারীরা রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।”

শ্যামলী পরিবহনের চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “থ্রি-হুইলারগুলো হঠাৎ রাস্তা পার হয়। তখন আমাদের গাড়ি বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।”
চালক সোহেল জানান, “রাস্তায় প্রচুর বাঁক রয়েছে। কুয়াশার সময় এগুলো দেখা যায় না। চিহ্নিত করার জন্য লাইট বসানো হলে দুর্ঘটনা কমবে।”

আমতলী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, “বাঁক, বাজার ও থ্রি-হুইলার—তিনটির সম্মিলিত কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে।”
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, “আমতলী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশের ব্যবস্থা নেই। তারপরও আমরা ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল অফিস জানিয়েছে, মহাসড়কের এই অংশকে চার লেনে উন্নীত করতে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এস এল টি /