বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস ২০২৫: নগর হোক পাখিরও আশ্রয়

দূর দিগন্ত পেরিয়ে প্রতিবছর কোটি কোটি পাখি হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় নতুন আশ্রয় খোঁজে। এই অসাধারণ পরিযাণ শুধু প্রকৃতির খেলা নয়, বরং জীবন বাঁচানোর এক নিরন্তর লড়াই। কিন্তু আজ সেই পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ক্রমেই কমছে মানুষের নগরায়ণের দাপটে। তাই ২০২৫ সালের বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস-এ নতুন করে আহ্বান জানানো হয়েছে: “অংশীদারিত্বের স্থান: পাখিবান্ধব নগর ও সমাজ গঠন”।
প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় শনিবার পালিত হয় এই দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য মানুষ ও পাখির সহাবস্থানের গুরুত্বকে সামনে এনেছে। পরিযায়ী পাখি কেবল সৌন্দর্য নয়, বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায়, ফসল রক্ষা, পরাগায়ন ও বীজ বিস্তারে অনন্য ভূমিকা রাখে। অথচ, জলাভূমি ভরাট, গাছ কাটাসহ নানা কারণে পাখিরা হারাচ্ছে তাদের প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আলো ও শব্দ দূষণ, রাসায়নিকের ব্যবহার, বিদ্যুতের খুঁটি ও যানবাহনের ধাক্কায় প্রতিনিয়ত পাখির জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। শহরের শিশুরা কখনো কৌতূহলে, আবার কেউ কেউ শিকার করতেও পাখিদের ক্ষতি করছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে গুলশান লেক, হাতিরঝিল, রমনা উদ্যান, সংসদ ভবন এলাকায় পরিযায়ী পাখি আসে, কিন্তু নিরাপদ নয় তারা।
পরিবেশবিদরা বলছেন, পাখিবান্ধব শহর মানে শুধু পাখির নিরাপত্তা নয়— এটি পরিবেশবান্ধব, বাসযোগ্য ও মানসিকভাবে শান্তিপূর্ণ সমাজের প্রতিচ্ছবি।
এ জন্য প্রয়োজন—
- শহরের পরিকল্পনায় সবুজ বেল্ট ও গাছ সংরক্ষণ
- কাচ ও আলো ব্যবহারে সচেতনতা
- শিশুকিশোরদের বার্ড ওয়াচিংয়ের মাধ্যমে সচেতন করা
- স্থানীয় প্রজাতির গাছ রোপণ
- জলাশয় সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ
- শব্দ ও আলোক দূষণ হ্রাসে কঠোর ব্যবস্থা
- পাখির খাদ্যের জন্য বিষমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা
বাংলাদেশের বন অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন প্রয়োগ, অবৈধ পাখি বাজারে অভিযান, কমিউনিটি প্যাট্রল দল, সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে তারা।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমরা কী করতে পারি?
- বারান্দা ও ছাদে পানির পাত্র রাখা
- কীটনাশক এড়িয়ে জৈব বাগান করা
- আহত পাখিকে সাহায্য করা
- পাখি নিয়ে শিক্ষামূলক প্রচারণায় অংশ নেওয়া
এই দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়— আমরা প্রকৃতির অংশ, পাখি শুধু সৌন্দর্যের বাহক নয়, টেকসই পৃথিবীর রক্ষাকর্তাও। আসুন, শহর গড়ি পাখির জন্য, প্রকৃতির জন্য, নিজেদের জন্য।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /








