আ.লীগ নিষিদ্ধে বারবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়েছে বিএনপি: ফখরুল

আওয়ামী লীগকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত রাজনৈতিক দল’ হিসেবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ করার দাবিতে বিএনপি একাধিকবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে পত্র দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১১ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে বিএনপি ‘ফ্যাসিবাদী দল’ আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের বিচার ও নিষিদ্ধকরণের দাবি তোলে।

ফখরুল বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলেছি, প্রশাসনিক আদেশে নয়—আইনি প্রক্রিয়ায়ই এই ফ্যাসিবাদী দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত। আমরা অতীতে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলাম একই যুক্তিতে।”

তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিএনপি তা ‘বিলম্বিত হলেও যৌক্তিক’ হিসেবে দেখছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “যদি আগেই আমাদের প্রস্তাব গুরুত্ব পেত, তবে সরকারকে চাপের মুখে এমন বিব্রতকর সিদ্ধান্ত নিতে হতো না।”

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ এখনো ঘোষণা না করায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সাবেক রাষ্ট্রপতির বিদেশ যাত্রা নিয়ে তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের বিদেশ যাত্রা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার।

রোববার (১১ মে) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, এই কমিটি গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো সাবেক রাষ্ট্রপতির গত ৭ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশ যাত্রার প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করা।

কমিটির তিন সদস্য হলেন—

  • অধ্যাপক সি আর আবরার (শিক্ষা উপদেষ্টা ও কমিটির সভাপতি)
  • সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা)
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন (নৌ উপদেষ্টা)

কমিটিকে তিনটি বিষয় খতিয়ে দেখে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে:
১. সাবেক রাষ্ট্রপতি কীভাবে বিদেশ গমন করেছেন।
২. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি বা ব্যত্যয় ঘটেছে কি না।
৩. দায়িত্বে অবহেলা থাকলে কারা দায়ী এবং কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে তার সুপারিশ।

কমিটি প্রয়োজনে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যন্ত্রপাতি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা কমিটিকে সহায়তা করতে আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




কুয়াকাটায় কার্পেটিংয়ের নামে অনিয়ম, টিকবে না এক বছরও অভিযোগ স্থানীয়দের

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সৈকতসংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, নিয়ম মেনে প্রাইম কোট না দিয়ে ধুলাবালির ওপর সরাসরি কার্পেটিং করা হচ্ছে, যা এক বছরও টিকবে না।

জানা যায়, এলজিইডির বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় ৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণ করছে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে ধোলাই বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের প্রস্থ নির্ধারিত হয়েছে ১৬ ফুট এবং কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ৪০ মিলিমিটার হলেও প্রকৃতপক্ষে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয়রা জানান, বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এই সড়ক উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে আসছে বহুদিন ধরে। তবে বর্তমানে চলমান সংস্কারকাজে মান রক্ষা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

মনির হোসেন নামের এক বাসিন্দা বলেন, “যেভাবে কাজ হচ্ছে, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা ভেঙে যাবে। আমরা চাই টেকসই রাস্তা।” একই অভিযোগ করেন পাঞ্জুপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ নাঈম, যিনি বলেন, “প্রাইমকোট ছাড়া কার্পেটিং করা হচ্ছে। কোনো ফিনিশিং নেই। এই রাস্তা এক বছরও টিকবে না।”

স্থানীয় হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, “অনিয়ম দেখেও সংশ্লিষ্টরা চুপ করে থাকেন। আমরা চাই কুয়াকাটার স্বার্থে একটি মানসম্মত রাস্তা।”

তবে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও সাব-কন্ট্রাক্টর ফোরকান হোসেন দাবি করেন, কাজ এলজিইডি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী হচ্ছে এবং কোনো অনিয়ম করা হয়নি।

এদিকে এলজিইডি কলাপাড়া উপজেলার প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, “কিছু স্থানে কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব কম পাওয়া গেছে। এসব ঠিক করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং শিডিউল অনুযায়ী কাজ করতে কঠোরভাবে বলা হয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি এই প্রকল্পে দুর্নীতির সুযোগ না রেখে যথাযথ মান বজায় রেখে কাজটি শেষ করা হোক, যাতে উপকূলবাসী ও পর্যটক উভয়েই দীর্ঘ মেয়াদে উপকৃত হন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলা-চরফ্যাশন রুটে বাস ভাড়া কমলো, যাত্রীদের মুখে হাসি

যাত্রী সাধারণের স্বস্তির কথা মাথায় রেখে ভোলা-চরফ্যাশন রুটসহ জেলার কয়েকটি রুটে বাস ভাড়া কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ভোলা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতি। নতুন এ ভাড়া শনিবার (১০ মে ২০২৫) থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে সমিতির এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে।

ভোলা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যাত্রী সেবার মান উন্নয়ন এবং পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরনো ভাড়ার তালিকা বাতিল করে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী:

  • ভোলা থেকে চরফ্যাশন রুটের বাস ভাড়া ১৮০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • ভোলা-লালমোহন রুটে ভাড়া ১২০ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকায়।
  • ভোলা-বোরহানউদ্দিন রুটে ভাড়া ৬০ টাকা থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৫০ টাকা।

লোকাল বাসগুলোতেও একই হারে ভাড়া হ্রাস কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তিনি আরও বলেন, নতুন এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল চালক, হেলপার ও কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বাস মালিক সমিতির এমন উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিয়মিত যাত্রীরা। অনেকে জানিয়েছেন, জ্বালানি খরচ ও নিত্যপণ্যের দামের চাপে যেখানে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, সেখানে ভাড়া কমানো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলা-বরিশাল সেতু: বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বদলের অগ্রদূত

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর নতুন আশার আলো জাগাচ্ছে ভোলা-বরিশাল সেতু। দেশের একমাত্র বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলা ভোলার মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন এটি। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে প্রায় ২২ লাখ মানুষের জীবনধারা। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভোলার গায়ে ‘বিচ্ছিন্ন’ ট্যাগটি মুছে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভোলার মানুষের দাবি, শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে যে পশ্চাদপদতা দেখা যায়, তার মূল কারণ সড়ক যোগাযোগের অভাব। বর্তমানে বরিশালের সঙ্গে ভোলার একমাত্র সংযোগ পথ হলো ফেরি সার্ভিস, যা সময়সাপেক্ষ এবং দুর্ভোগে ভরা। দিনের পরে দিন ফেরিঘাটে অপেক্ষা করতে হয়, বিশেষ করে বাস ও ট্রাকচালকদের।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মজীবী মানুষরা বলছেন, সন্ধ্যার পর নদীপথে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে তারা ভোগান্তিতে পড়েন। অন্যদিকে, শিল্প উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগে আগ্রহ হারান সড়ক যোগাযোগ না থাকায়। অথচ প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ ভোলা শিল্প স্থাপনের জন্য আদর্শ স্থান।

৮ মে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন এবং সেতু বিভাগের সচিব মো. আবদুর রউফ ভোলা-বরিশাল সেতুর সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। তাদের এই সফর নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে স্থানীয়দের মনে।

সেতু বিভাগের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ কিলোমিটার। প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা, যা সময় ও নকশা অনুযায়ী বাড়তেও বা কমতেও পারে।

ভোলার নাগরিক ও সাংবাদিক নেতারা বলছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ হলেও তার সরাসরি সুবিধা ভোলাবাসী পাননি। অথচ এই জেলা থেকেই গ্যাস, ইলিশ, ধান, গমসহ নানা সম্পদ সরবরাহ হয় সারাদেশে। কিন্তু জেলার মানুষ পায় না কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন।

তারা বলছেন, ভোলা-বরিশাল সেতু হলে শুধু ভোলার নয়, বরিশাল বিভাগসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে বিপ্লব ঘটবে।

সরকারের প্রতি জেলাবাসীর দাবি, আর আশ্বাস নয়—সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা হোক।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




দাবি না মানলে আমরণ অনশনে নার্সিং শিক্ষার্থীরা

বরিশাল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের চার দফা দাবির প্রেক্ষিতে চলমান আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দাবি আদায়ের আন্দোলনে অংশ নিতে গেলে ৬ মে শিক্ষকদের বাধার মুখে পড়তে হয় এবং তাদের মারধরের শিকার হতে হয়। এ ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা ঘনীভূত করেছে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ।

আজ রোববার (১১ মে) বরিশাল নার্সিং কলেজের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে এবং হামলায় জড়িত শিক্ষকদের বিচার না হলে আমরা সোমবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করব।”

উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল থেকে সারা দেশের সরকারি ৩২টি এবং বেসরকারি ১৫৪টি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষক নিয়োগসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও মারধরের ঘটনার বিচার।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং কোনো রকম সমঝোতায় তারা রাজি নন। এ সময় একাডেমিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা হামলায় জড়িত শিক্ষকদের প্রতিকৃতিসহ কুশপুতুল দাহ করে প্রতিবাদ জানান।

আন্তর্জাতিক নার্সেস ডে উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা জানান, তারা এই দিনটিতে কোনো উদযাপনে অংশ নেবেন না, বরং এটি বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / 




অপার সম্ভাবনার নিদ্রা সমুদ্র সৈকত: একটি নতুন পর্যটন কেন্দ্র

বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নে অবস্থিত নিদ্রা সমুদ্র সৈকত, যা স্থানীয়ভাবে ‘নিদ্রার চর’ নামেও পরিচিত, বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই সৈকতটি পর্যটকদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য:
নিদ্রা সৈকত তার অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। একদিকে সাগর, অন্যদিকে নদী এবং মাঝখানে সবুজ কেওড়া ও ঝাউবনের পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এখানে জোয়ার-ভাঁটার খেলা, শ্বাসমূলের সমারোহ এবং বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর পর্যটকদের কাছে এক অপূর্ব দৃশ্য উপস্থাপন করে।

পার্শ্ববর্তী পর্যটন স্থান:
নিদ্রা সৈকত তার আশেপাশে আরও কয়েকটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান সমৃদ্ধ। এর কাছেই রয়েছে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, যেখানে প্রতি বছর জোছনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন টেংরাগিরি, ফাতরার চর এবং সোনাকাটা ইকোপার্ক এই এলাকায় অবস্থিত। নিদ্রা সৈকত এবং এর আশপাশের এলাকা পর্যটকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতার প্যাকেজ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অধিকারী ব্যক্তির মতামত:
স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফ রহমান বলেন, নিদ্রা সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্য পর্যটকদের সহজেই আকর্ষণ করতে সক্ষম। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি এখানে পর্যটন অবকাঠামো উন্নত করা যায়, তবে এটি খুব শীঘ্রই দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

এছাড়া, তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা বলেন, নিদ্রা সৈকতকে কেন্দ্র করে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন।

কীভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে সড়কপথে সরাসরি বাসে বা নিজের গাড়িতে তালতলী উপজেলা হয়ে নিদ্রা সৈকতে যাওয়া যায়। নৌপথে বরগুনা বা আমতলীর লঞ্চে এসে ভাড়া গাড়ি বা মোটরসাইকেলে তালতলী হয়ে সোনাকাটা ইউনিয়নে অবস্থিত নিদ্রা সৈকতে পৌঁছানো সম্ভব।

তালতলী শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল এবং জেলা পরিষদ ডাক বাংলোয় রাত কাটানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই সহজ অভ্যাসগুলো

দেশজুড়ে চলমান তীব্র গরমে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি ও ক্লান্তি। এই সময়ে সামান্য অবহেলাও শরীরের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাই গরমের এই মৌসুমে সতর্কতা অবলম্বন করে চলা অত্যন্ত জরুরি।

তীব্র গরমে সুস্থ ও সতেজ থাকতে যা করণীয়:

প্রচুর পানি পান করুন
এই গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি দ্রুত বের হয়ে যায়। ফলে ডিহাইড্রেশনের আশঙ্কা থাকে। প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি ফলের রস, ডাবের পানি ও লেবু-শরবতও খেতে পারেন।

হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন
সূর্যের তাপ থেকে বাঁচতে হালকা রঙের সুতির এবং ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করুন। বাইরে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস ও টুপি পরার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো। যেতে হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করুন।

খাবারে সচেতন হোন
গরমে বেশি তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সহজে হজম হয় এমন হালকা খাবার খান। তরমুজ, বাঙ্গি, শসার মতো পানিযুক্ত মৌসুমি ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
তাপমাত্রা বেশি থাকলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম ও মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেয়া জরুরি।

শিশু ও বৃদ্ধদের বাড়তি যত্ন দিন
এই বয়সভিত্তিক দুই শ্রেণি গরমের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। তাই তাদের পর্যাপ্ত পানি পান ও রোদ থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

স্বাস্থ্য সমস্যা হলে অবহেলা নয়
অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা দুর্বল লাগলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এগুলো হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই তীব্র গরমেও নিজেকে সুস্থ রাখা সম্ভব।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল ৬ লেন মহাসড়ক সীমিত হলো পায়রা সেতু পর্যন্ত

বরিশাল-ফরিদপুর হয়ে পায়রা সেতু পর্যন্ত ছয় লেন মহাসড়ক প্রকল্প আপাতত সীমিত রাখা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমি অধিগ্রহণজনিত জটিলতা এবং ব্যয়ের অতিরিক্ত বৃদ্ধি। পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন না মেলায় ৬ হাজার কোটি টাকার উন্নীত প্রস্তাব আপাতত স্থগিত রেখে পূর্বে বরাদ্দকৃত ১,৮৫৭ কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্প সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

একনেকের সর্বশেষ বৈঠকে প্রাথমিকভাবে ফরিদপুর থেকে বরিশাল হয়ে লেবুখালীর পায়রা সেতু পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এই কাজ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ১,৮৫৭ কোটি টাকায় বরিশাল-ফরিদপুর ও বরিশাল-পটুয়াখালী-পায়রা-কুয়াকাটা মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ২০২১ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন বছর অতিবাহিত হলেও এখনও অর্ধেকের বেশি জমি অধিগ্রহণ হয়নি। এ সময়ে জমির মূল্য প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেছে, ফলে বরাদ্দকৃত অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, নতুন পরিকল্পনায় ফরিদপুর থেকে বরিশালের গড়িয়ার পাড় এবং দপদপিয়া সেতুর পাড় হয়ে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত অধিগ্রহণের কাজ আগামী অর্থবছরের মধ্যে শেষ করার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে বরিশাল বাইপাসের ১৬ কিলোমিটার অংশ আপাতত বাদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, প্রকল্প ব্যয় ও সময় বাড়লেও ৬ জেলা প্রশাসনের অদক্ষতা এবং ল্যান্ড এক্যুইজিশন অফিসের উদাসীনতার কারণে প্রকল্প বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এডিবির আগ্রহও কমেছে, কারণ এখনো পরিপূর্ণ ডিপিপি অনুমোদন হয়নি। সবকিছু ঠিকঠাকভাবে হলে আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা করছে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়।

দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত পদ্মা সেতুর সুফল যেন পূর্ণ মাত্রায় পাওয়া যায়। যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




দীপ্ত স্টার হান্টে বাজিমাত করলেন মিষ্টি ও শাকিব

২০২৫ সালের দীপ্ত স্টার হান্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতেছেন কিশোরগঞ্জের মিষ্টি ঘোষ ও বরিশালের শাকিব হোসেন। প্রথম রানার্সআপ হয়েছেন যশোরের ফারিহা রহমান এবং বরিশালের শফিউল রাজ। দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছেন সিলেটের সানজিদা চৌধুরী ও বরিশালের হাফিজ রহমান।

গতকাল শুক্রবার রাত ১০টায় দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত হয় এই রিয়েলিটি শোর গ্র্যান্ড ফিনালে। টপ ৬ প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে আয়োজিত হয় নাচ, কমেডি স্কিট ও মিউজিক ম্যাশআপ। এতে পারফর্ম করেন শিল্পী সন্ধি, সভ্যতা ও কর্নিয়া।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিচারক তারিক আনাম খান, শিহাব শাহীন ও রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। এছাড়া দীপ্ত টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, পরিচালক কাজী জাহিন হাসান, সিইও তাসনুভা আহমেদ টিনা, নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম, অনিমেষ আইচ, চয়নিকা চৌধুরীসহ চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

প্রতিযোগিতায় শুরুতে অংশ নিয়েছিলেন তিন হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী। নানা বাছাইপর্ব পার হয়ে বিচারকমণ্ডলী চূড়ান্তভাবে বেছে নেন সেরা দশ জনকে। তাদের মধ্যে ছিলেন— শফিউল রাজ, হাফিজ রহমান, শাকিব হোসেন, শিমুল বিশ্বাস, এম এস এইচ লাবন, সানজিদা চৌধুরী, নূপুর আহসান, মিষ্টি ঘোষ, ফারিহা রহমান ও শেখ ফারিয়া হোসেন।

দুই বছরের বিশেষ চুক্তির আওতায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপরা কাজের সুযোগ পাবেন সিনেমা, ওয়েব ফিল্ম, সিরিজ এবং টিভি নাটকে। প্রযোজনা ও প্রচারে থাকবে কাজী মিডিয়া লিমিটেড। সুপারস্টার হওয়ার পথে এটি তাদের জন্য বড় এক মঞ্চ।

চ্যাম্পিয়ন শাকিব হোসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থী। ক্যামেরার পেছনে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল কম। কিন্তু দীপ্ত স্টার হান্টের একটি পোস্ট দেখে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শাকিব বলেন, “আমি জানি আমি সেরা। স্টেজে অনেকবার উঠেছি, তাই নার্ভাস হইনি। আমি সামনে-পেছনে, দুই জায়গাতেই নিজেকে প্রমাণ করতে চাই।”

অপর বিজয়ী মিষ্টি ঘোষ ঢাকার একটি ফ্যাশন হাউসে ডিজিটাল বিপণন বিভাগে কর্মরত। একবার বাদ পড়েও বিচারকদের সিদ্ধান্তে ফিরে আসেন প্রতিযোগিতায়। সেই প্রত্যাবর্তনে সেরা পারফর্ম করেই জয় ছিনিয়ে নেন। মিষ্টি বলেন, “আশা করিনি। ফিরে আসার পর প্রচণ্ড চাপ ছিল। যখন আমার নাম ঘোষণা হলো, তখন বিশ্বাসই করতে পারিনি—আমি চ্যাম্পিয়ন!”

এই প্রতিযোগিতা যেমন নতুন প্রতিভার খোঁজ দিয়েছে, তেমনি তাদের দিয়েছে স্বপ্ন পূরণের পথ। দীপ্ত স্টার হান্ট এর মাধ্যমে উঠে আসা এই মুখগুলোই হতে পারে আগামী দিনের তারকা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /