বরগুনা আদালতে বিচারক সংকট, ন্যায়বিচারে ভোগান্তি

বরগুনা জেলা জুড়ে আদালত ব্যবস্থা এখন তীব্র সংকটে। বিচারক ও অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে প্রতিদিন হাজারো বিচারপ্রার্থীকে নানান বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে শুধু মামলার দীর্ঘসূত্রিতা বাড়ছে না, বরং জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও হুমকির মুখে পড়েছে।
জেলা আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরগুনায় বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। অথচ ২১টি বিচারকের পদের মধ্যে ৬টি পদই শূন্য পড়ে আছে। বিচারকের অভাব এবং এজলাস সংকটের কারণে একই এজলাস ভাগাভাগি করে বিচারকরা পালাক্রমে বিচারকার্য পরিচালনা করছেন। এর ফলে মামলার নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে।
প্রতিদিন গড়ে ২ হাজারের বেশি মানুষ আদালত সংশ্লিষ্ট কাজে বরগুনার আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। কিন্তু বসার উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বারান্দা ও খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন শত শত মানুষ। তপ্ত রোদ কিংবা বৃষ্টির মধ্যে তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে খোলা জায়গায়। আদালতের ভেতরে প্রবেশ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে আইনজীবীদের জন্য।
দীর্ঘদিন ধরে বরগুনা সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারক না থাকায় মামলার জট বাড়ছেই। ২০০৭ সালে জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন বেতাগীর জামাল ইবনে মুসা। ১৮ বছর পার হলেও আজও তার মামলার সুরাহা হয়নি। একই অবস্থা কাজল রেখার, যিনি ২০১২ সালে মামলা দায়ের করেছিলেন, এখনো কোনো নিষ্পত্তি পাননি।
বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, “বিচারক সংকটের কারণে মামলার জট প্রকট আকার ধারণ করেছে। যত দ্রুত শূন্যপদ পূরণ হবে, তত দ্রুত সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে।”
চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়ে সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, “বর্ষায় লোকজন ভিজে থাকে, গরমে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। একটি ভবন হলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেন জানান, “প্রতিদিন এজলাস সংকট ও বিচারক সংকটের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, দাপ্তরিক কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। নতুন ভবন হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।”
পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, “পার্শ্ববর্তী জেলায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন থাকলেও বরগুনায় এখনো হয়নি। আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।”
বরগুনাবাসীর একটাই দাবি—বিচারক ও অবকাঠামোগত সংকট দ্রুত সমাধান করে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /








