পাচার করা অর্থে বিদেশে সামিট গ্রুপের বিপুল সম্পদ

দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী সামিট গ্রুপ এবং এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান ও তার পরিবারের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলে একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই পাচার করা অর্থ দিয়ে তারা বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল বাড়ি, শিপিং ব্যবসা, হোটেল ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় বড় বিনিয়োগ করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনে, বিদেশে বিনিয়োগ করতে হলে পূর্বানুমতি আবশ্যক। তবে সামিট গ্রুপ এই নিয়ম না মেনে অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামিটের পক্ষ থেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করে তারা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে ভিলা, অ্যাপার্টমেন্ট, বিলাসবহুল হোটেল ও বিপণিবিতান প্রতিষ্ঠা করেছে।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০২৪ সালের তালিকা অনুযায়ী, আজিজ খান বর্তমানে সিঙ্গাপুরের ৪১তম ধনী ব্যক্তি। তার সম্পদের পরিমাণ ১.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আজিজ খান সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা এবং তার পরিবারের সদস্যরাও একই দেশের নাগরিক।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে আজিজ খানের নাম উঠে আসে। তবে সে সময় দুর্নীতির অভিযোগে কার্যকর তদন্ত শুরু হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর পুনরায় তদন্ত শুরু হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমতি না নেওয়া এবং ব্যাংক চ্যানেলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থ পাঠানো সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের পাচারের মাধ্যমে দেশে আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন কমে যাচ্ছে।

সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি পরিবারের সদস্য। তার ভাই ফারুক খান ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী। এছাড়া সামিট কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফরিদ খান আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ) প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সামিট গ্রুপ অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রচুর আর্থিক অনিয়ম করেছে। বর্তমান সরকারের উচিত তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া এবং প্রকৃত তদন্ত নিশ্চিত করা।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারিভাবে মাত্র ২০টি প্রতিষ্ঠানকে বৈধভাবে বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সামিট গ্রুপের বিপুল বিনিয়োগ কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো তথ্য নেই। সরকারের প্রকাশিত শ্বেতপত্র অনুসারে, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




চায়ের আড্ডায় নেতাকর্মীদের চমকে দিলেন রুহুল কবির রিজভী!

রুহুল কবির রিজভী

নরসিংদীতে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হঠাৎ থেমে গেলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজধানীর অদূরে ৩শ ফুট এলাকার ফুটপাতে অপেক্ষমান নেতাকর্মীদের দেখে গাড়ি থামিয়ে দিলেন তিনি। এরপর পাশে থাকা একটি সাধারণ চায়ের দোকানে ঢুকে দাঁড়িয়ে চা খেলেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে।

এই দৃশ্য দেখে চমকে যান উপস্থিত অনেকেই। হঠাৎ এমন আচরণে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি চা হাতে রাজনীতি নিয়েও কিছুটা আলোচনা হয় বলে জানান উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

চা-পানের সেই মুহূর্তে রিজভীর সঙ্গে ছিলেন: বিএনপির সহ-সেচ্ছাসেবক সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সাংবাদিক নেতা রাশেদুল হক, সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জাহিদুল কবির, ছাত্রদল নেতা ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়াল এবং এলাকার অন্যান্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

নেতাকর্মীদের অনেকেই জানান, এমন আচরণ রিজভীর সরলতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগের শক্ত প্রমাণ। কেউ কেউ বলছিলেন, “এই জন্যই রিজভী ভাই আমাদের এত আপন। তিনি আমাদের সঙ্গে মিশে যান, আমাদের মতো করেই কথা বলেন, চলেন।”

সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলেও সেই চায়ের আড্ডায় দলের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক প্রস্তুতি, ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ছোটখাটো আলোচনা হয় বলে জানা যায়। এরপর রিজভী আবার গাড়িতে উঠে নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

নেতাকর্মীদের মতে, এমন হঠাৎ উপস্থিতি ও সরাসরি যোগাযোগে স্থানীয়ভাবে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, যা সাংগঠনিকভাবে দলকে আরও সক্রিয় করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন নেতা কর্মীরা।




ট্রাম্প একদিকে শান্তির আহ্বান করে অন্যদিকে যুদ্ধের হুমকি দেয়!

ট্রাম্প

একদিকে শান্তির আহ্বান, আরেকদিকে যুদ্ধের হুমকি—এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। শনিবার তেহরানে একটি নৌ-অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, “তিনি একদিকে শান্তির কথা বলেন, আবার অন্যদিকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে হুমকি দেন—আমরা কী বিশ্বাস করব?”

পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় আগ্রহী, তবে কোনো ধরনের হুমকিতে তারা ভয় পায় না। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু ভয় দেখিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত পাল্টানো যাবে না।”

এর আগে শুক্রবার, ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পেয়েছে এবং তারা জানে দ্রুত সমাধানে না এলে “খুব খারাপ কিছু” ঘটতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করার পর এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ট্রাম্পের ওই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব আমরা পাইনি। আমরা যে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার অর্জন করেছি, তা কখনোই ত্যাগ করব না।”

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও বলেন, “আমরা আমাদের বৈধ অধিকার থেকে একচুলও সরে যাব না। কেউ আমাদের দম্ভ দেখিয়ে পথচ্যুত করতে পারবে না, আর এজন্যই আমাদের অস্থিরতার উৎস বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়।”

প্রসঙ্গত, গত রবিবার ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চতুর্থ দফার আলোচনার সমাপ্তি হয়েছে, যদিও পরবর্তী দফার আলোচনার দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ হয়নি।




মাগুরায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হিটু শেখের ফাঁসি

মাগুরা জেলাজুড়ে আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও নির্মম হত্যার ঘটনায় অবশেষে ন্যায়বিচার পেল ভুক্তভোগী পরিবার। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে শনিবার মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান, প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। অন্যদিকে, মামলার আরও তিনজন আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন।

সরকারি কৌঁসুলি এহসানুল হক সমাজী সাংবাদিকদের বলেন, “১৬৪ ধারার জবানবন্দি, মেডিকেল রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য—সবকিছু বিশ্লেষণ করেই আদালত এই রায় দিয়েছেন। আমরা আশা করেছিলাম ন্যায়বিচার হবে, এবং সেটাই হয়েছে।”

মামলার শুরুটা ছিল হৃদয়বিদারক। চলতি বছরের ৬ মার্চ, মাত্র আট বছর বয়সী শিশুটি তার বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পাশবিকতার শিকার হয়। পরদিন সকালে গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়, যা পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি করে।

৮ মার্চ শিশুটির মা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে উঠে আসে ভয়ংকর সব তথ্য। তদন্তে জানা যায়, শিশুটির বড় বোনের স্বামীর বাবা হিটু শেখ তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের বোনের স্বামী ও ভাশুর ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং বোনের শাশুড়ি ঘটনাস্থলের আলামত ধ্বংসে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠে।

১৩ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয় এবং ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার।

২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে মামলার ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। ১৩ মে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

অবশেষে আদালত মামলার মূল আসামি হিটু শেখের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে। তার বোনের স্বামী, ভাশুর ও শাশুড়ি বেকসুর খালাস পেলেও এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, ন্যায়বিচার পেতে বড় অসাধ্য কিছু নয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই রায় সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দরকারি সড়ক নেই, অথচ বিলের মধ্যে পড়ে আছে কালভার্ট!

ঝালকাঠির নলছিটিতে সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক ও কালভার্ট প্রকল্পে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফয়রা গ্রামের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন—এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এমন স্থানে, যেখানে সড়কই নেই! এ ছাড়া নির্মিত বক্স কালভার্টগুলোর অর্ধেক রাস্তার সঙ্গে যুক্ত, বাকি অর্ধেক খালে পড়ে আছে। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব অবকাঠামো আজও কোনো কাজে আসছে না।

৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকার প্রকল্প, কিন্তু নেই বাস্তব সুফল

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে বরিশাল-ঝালকাঠি (বিঝেপি) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কুশঙ্গল ইউনিয়নের মনপাশা বাজার থেকে উকিলবাড়ি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়ক, একটি কালভার্ট ও আটটি বক্স কালভার্ট নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পান ঠিকাদার মহিউদ্দিন আহমেদ, যিনি কাজের কিছু অংশ সাব-ঠিকাদার হিসেবে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনকে দেন।

প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। কিন্তু বাস্তবে নির্মিত হয়েছে মাত্র ছয়টি বক্স কালভার্ট, বাকি দুইটির কাজ হয়নি। একমাত্র সেতুটি তৈরি হয়েছে বিলের মাঝখানে, যেখানে কোনও সড়কই নির্মিত হয়নি।

সরেজমিনে কী দেখা গেছে?

সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শনে দেখা গেছে, বিলের ভেতরে পড়ে থাকা কালভার্টটি ব্যবহার অযোগ্য। আশপাশের সড়ক ভেঙে খানাখন্দে ভরা, বহু আগের ইটের সলিং উঠে গিয়ে রাস্তা পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রকল্পের বরাদ্দের অপব্যবহার করে প্রয়োজনীয় স্থানে সড়ক না করে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে অপ্রয়োজনীয় স্থানে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

“দরকারি স্থানে নয়, প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ির পাশে”

ফয়রা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম, মো. দুলাল ও শামীম হোসেন জানান, “এই কালভার্টের আশপাশে কোনো রাস্তাই নেই। এই অবস্থায় এখানে সেতুর প্রয়োজনীয়তাও ছিল না। ১০ গ্রামের মানুষ এই রাস্তায় চলাচল করে, অথচ তাদের উপকারে আসেনি কোনো অবকাঠামো।”

ঠিকাদাররা গা ঢাকা দিয়েছেন

বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ঠিকাদার মহিউদ্দিন আহমেদ ও সাব-ঠিকাদার সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনের সাড়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র বলছে, তারা ৫ আগস্টের পর থেকে লাপাত্তা

এলজিইডির নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবির বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। নতুন করে এই সড়ক নির্মাণের জন্য আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।”

সরকারি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো জনসাধারণের উপকারে না এলে, তা শুধু অর্থ অপচয় নয়, প্রশাসনিক ব্যর্থতারও বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৃত প্রয়োজনে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত, আহত ২

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বার্থী বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম শাহারিয়া আজাদ তালহা (২০)। তিনি গৌরনদী উপজেলার পশ্চিম বার্থী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, তালহা ও তার দুই বন্ধু মোটরসাইকেলযোগে বার্থী বাজার যাচ্ছিলেন। পথে একটি অজ্ঞাত পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তালহা প্রাণ হারান। তার সঙ্গী হিমেল গোমস্তা ও শাহীন মাল গুরুতর আহত হন।

আহত হিমেল গোমস্তা (পিতা: নুর আলম গোমস্তা) এবং শাহীন মাল (পিতা: সোহেল মাল) একই গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, “ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।”

নিহতের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কে বেপরোয়া গতির পিকআপ ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




দেশের দীর্ঘতম হবে ভোলা-বরিশাল সেতু, ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা

প্রায় ২৫ লাখ মানুষের স্বপ্ন বাস্তব হতে যাচ্ছে। দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলাকে সরাসরি সড়কপথে সংযুক্ত করতে নির্মিত হতে যাচ্ছে ভোলা-বরিশাল সেতু—যা হবে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু।

প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।

ভোলার জীবনযাত্রায় আসবে আমূল পরিবর্তন: 

সেতুটি নির্মাণ হলে ভোলাবাসীর জীবনযাত্রায় আসবে ব্যাপক পরিবর্তন। বর্তমানে ভোলার সঙ্গে দেশের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা নৌপথ। ফলে সন্ধ্যার পর বরিশাল কিংবা অন্য কোথাও যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়েছে জেলার মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা মনির চৌধুরী, তালহা তালুকদার, মঞ্জুর আলম ও সুমা বেগম বলেন, “গ্যাসসমৃদ্ধ ভোলা জেলায় বড় কোনো শিল্পকারখানা নেই শুধু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে। সেতু হলে এখানকার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে।”

যাত্রা হবে সহজ, সময় কমবে ঘন্টার পর ঘন্টা:

গাড়িচালক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “এখন বাস বা ট্রাক নিয়ে বরিশাল যেতে ভেদুরিয়া-লাহারহাট ফেরি ধরতে হয়, তাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে। সেতু হলে মাত্র ৩০-৪০ মিনিটেই ভোলা থেকে বরিশাল যাওয়া সম্ভব হবে।”

বরিশালের বাসিন্দা হলেও ভোলায় কর্মরত ইলিয়াস, সাহাবুদ্দিন ও আকবর বলেন, “সন্ধ্যার পর বরিশালে জরুরি প্রয়োজনে ফিরতে হয়রানির শেষ থাকে না। এই সেতু আমাদের মতো কর্মজীবীদের জন্য আশীর্বাদ হবে।”

শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা :

সচেতন নাগরিক মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী বলেন, “পদ্মা সেতু হওয়ার পরও ভোলা এখনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। অথচ এখান থেকে গ্যাস, ধান, গম, ইলিশ যাচ্ছে সারা দেশে। কিন্তু বিনিময়ে উন্নয়ন আসছে না।”

তিনি আরও বলেন, “ভোলা-বরিশাল সেতু হলে এখানে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। বাড়বে কর্মসংস্থান, বদলে যাবে অর্থনীতি।”

জাপানি কোম্পানির আগ্রহ, শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রউফ জানিয়েছেন, “সেতুটি নির্মাণে জাপানি কোম্পানি ‘মিয়াগাওয়া’ আগ্রহ দেখিয়েছে। আগামী ২৫ বা ২৬ মে প্রধান উপদেষ্টা জাপান সফরে গেলে, সেই সময়ই এই প্রকল্প চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

ভোলার জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেছেন, “ভোলা-বরিশাল সেতু এই সরকারের মেয়াদেই শুরু হতে পারে। জাপান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক দূর এগিয়েছে।”

বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সেতু হতে পারে এটি:

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন বলেছেন, “ভোলা-বরিশাল সেতু শুধু দেশের দীর্ঘতম নয়, নির্মিত হলে এটি বিশ্বের দীর্ঘ সেতুগুলোর মধ্যে অন্যতম হবে।”

তিনি আশ্বস্ত করেন, “সেতুটি হবেই, তবে সময়সীমা এখনো নির্দিষ্ট নয়।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




১৪ বছরে ৫ ভিসি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের ছায়া যেন স্থায়ী

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) গত ১৪ বছরে পাঁচজন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এর মধ্যে তিনজনই শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ, অপসারণ কিংবা বাধ্যতামূলক ছুটিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এমন নজির বাংলাদেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরল।

২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের পাশে, কীর্তনখোলা নদীর তীরে ৫৩ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

তিন ভিসি গেলেন আন্দোলনের মুখে::

সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক শুচিতা শরমিন, যিনি ববির প্রথম নারী উপাচার্য ছিলেন, তাকে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে মাত্র আট মাসের মাথায়, ২০২৫ সালের ১৩ মে, শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় স্বৈরাচারী মনোভাব দেখিয়েছেন। এমনকি তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ‘ফ্যাসিস্ট আমলের লোক’ বলে আখ্যা দেন। একইসাথে, শিক্ষার্থী জেবুন্নেছা হক জিমির চিকিৎসা সহায়তার আবেদনেও স্বাক্ষর না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা পরবর্তীতে চরম সমালোচনার জন্ম দেয়।

তৎপূর্বে, অধ্যাপক মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া ২০২৪ সালের ৪ মার্চ উপাচার্য নিযুক্ত হন। তবে কয়েক মাসের মাথায়—২০ আগস্ট, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, তিনি শিক্ষকদের নিয়ে আন্দোলনবিরোধী বৈঠক করেন এবং নিজেও বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

এরও আগে দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস এম ইমামুল হক শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করে দুইবার আন্দোলনের মুখে পড়েন। টানা ৪৪ দিনের অবরোধ শেষে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়।

শুধু দুইজন পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন :;

প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. হারুনর রশিদ খান এবং তৃতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিনই একমাত্র উপাচার্য যারা কোনো উল্লেখযোগ্য আন্দোলন ছাড়াই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেছেন।

নতুন ভিসির আশাবাদ::

বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ ও বর্তমান উপাচার্য হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম। তিনি গত ১ মে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তালাবদ্ধ বাসভবনের গেট থেকে নিজ হাতে শিকল খুলে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “এই শিকল তোমাদের হাতে দিয়ে গেলাম, আমার মাধ্যমে কোনো অন্যায় পেলে আবার বন্ধ করে দিও।”

তিনি ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে জানান, “যদি এমন কিছু থাকে, আমার পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স থাকবে।”

তার ইতিবাচক মনোভাব ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের হল পরিদর্শন করেন, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার মতো মানবিক সম্পর্ক তৈরি করছেন।

শিক্ষার্থীদের ভাবনা :;

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেন, “আমরা চার সেমিস্টারে চারজন ভিসি দেখেছি। আন্দোলনগুলো অনেক ক্ষেত্রেই যৌক্তিক ছিল, কিন্তু বারবার প্রশাসনিক অস্থিরতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ধারাবাহিক প্রশাসনিক অস্থিরতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে—কবে বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্থায়ী, নিরপেক্ষ ও শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্ব পাবে?

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল প্রেসক্লাবে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ

শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বরিশাল প্রেসক্লাবে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা ক্লাবের টিনশেড হলরুম থেকে বেশকিছু মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাতের কোনো এক সময়।

চুরি হওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে:

  • ৭টি বৈদ্যুতিক ফ্যান
  • প্রায় ১০০ মিটার বৈদ্যুতিক তার
  • ২০টি এলইডি লাইট
  • একাধিক পুরনো স্টিলের চেয়ার

কীভাবে চুরি হলো?
প্রেসক্লাবের অফিস সহায়ক মো. মানিক হোসেন জানান, সকালে হলরুমে গিয়ে তিনি দেখতে পান ৯টি ফ্যানের মধ্যে ৭টি নেই। স্টোর রুম থেকে ব্যাডমিন্টন মাঠের জন্য রাখা বৈদ্যুতিক তার ও লাইটও গায়েব। ধারণা করা হচ্ছে, হলরুমের ডাইনিং স্পেসের ওপরের টিন ভেঙে চোরেরা প্রবেশ করে চুরি করে।

প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
প্রেসক্লাবের সহ সাধারণ সম্পাদক এ মোফাজ্জেল বলেন,

“শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকা একটি গণমাধ্যমকেন্দ্রে এমন চুরির ঘটনা অবিশ্বাস্য। এতে নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।”

বিষয়টি বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় জানানো হয়েছে। ওসি মিজানুর রহমান জানান,“খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। তদন্ত চলছে, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জবি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন এনসিপির

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

শুক্রবার (১৬ মে) রাজধানীর গুলিস্তানের আবরার ফাহাদ এভিনিউতে ‘জাতীয় যুবশক্তি’র আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ সমর্থন জানান।

তিনি বলেন,“জগন্নাথের ভাইয়েরা আজ রাস্তায়। আমরা তাদের ন্যায্য দাবির পাশে আছি। সরকারের প্রতি আহ্বান, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে তাদের মুক্তি দিন।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি সরকার দাবিগুলো না মানে, তাহলে ছাত্র ও জনতার চাপের মুখে সরকারকে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।

অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন,“জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অতীতে সাহসিকতার দৃষ্টান্ত রেখেছেন। তাদের অবদান ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। সরকারকে অবশ্যই তাদের দাবি মেনে নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন,“দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত জনগণের। কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। মানবিক করিডরসহ বড় সিদ্ধান্তগুলো সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ জানান,“জাতীয় যুবশক্তি কোনো লাঠিয়াল বাহিনী নয়। এটি দেশপ্রেমিক যুবকদের সংগঠন, যারা দেশের জন্য গার্ড হিসেবে কাজ করবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /