উপদেষ্টা আসিফের বক্তব্যের জবাব দিলেন ইশরাক হোসেন

বিএনপি নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন তাঁর শপথ ও মেয়াদ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের দেওয়া ১০টি যুক্তির জবাব দিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ইশরাক এ প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, “সরকারি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ মিথ্যা তথ্য ও আইনের অপব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। আমি তার তথাকথিত ১০টি পয়েন্টের যুক্তিসমূহের জবাব দিচ্ছি।”

➤ আসিফের যুক্তিগুলোর জবাবে ইশরাক যা বললেন:

  1. আর্জি সংশোধন ও আদালতের রায়:
    আসিফের দাবি ছিল, হাইকোর্টের রায় লঙ্ঘন করে নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত দিয়েছে। জবাবে ইশরাক বলেন, “আর্জি সংশোধন ‘অর্ডার ৬, রুল ১৭’ অনুযায়ী আইনসিদ্ধ। হাইকোর্টের অবজারভেশন কোনো বাধ্যতামূলক আদেশ নয়।”
  2. একতরফা রায় অভিযোগ:
    ইশরাক জানান, “এই রায় একতরফা নয়। সাবেক মেয়র তাপস এই মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং জবাবও দিয়েছেন।”
  3. গেজেট প্রকাশ ও লিগ্যাল নোটিশ:
    তিনি ব্যাখ্যা করেন, “রায়ে বলা হয়েছিল ১০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। তাই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে রাত ১০টায় তা প্রকাশ করা হয়। আর যারা লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন তারা ঢাকা দক্ষিণ সিটির ভোটার নন।”
  4. স্থানীয় সরকার বিভাগের ভূমিকা:
    “স্থানীয় সরকার বিভাগ এই মামলার পক্ষ নয়। তাদের কাজ হলো নির্বাচন কমিশনের আদেশ বাস্তবায়ন করা।”
  5. রিট ও শপথ:
    “কোনো রিট মামলার কারণে শপথ স্থগিত থাকে না,” বলেন ইশরাক।
  6. বরিশাল মামলার প্রসঙ্গ:
    ইশরাক দাবি করেন, “বরিশাল সিটি নির্বাচন নিয়ে সময়মতো কোনো মামলা হয়নি, তাই ট্রাইব্যুনাল আবেদন খারিজ করে দেয়।”
  7. মেয়াদ সংক্রান্ত জটিলতা:
    “মেয়াদ নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। কমিশন অপারগ হলে আদালত সিদ্ধান্ত দেবে।”
  8. আইনি জটিলতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের চিঠি:
    “নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে— যা খুবই উদ্বেগজনক।”
  9. আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত:
    “তারা কৃত্রিম জটিলতা সৃষ্টি করে মেয়র হতে বাধা দিতে চাইছে,” অভিযোগ করেন ইশরাক।
  10. আওয়ামী আমলের নির্বাচন:
    “আমি তাপসের মেয়র প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করেছি এবং আদালত সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে আমাকে মেয়র ঘোষণা করেছে। এটা আওয়ামী আমলের নির্বাচন বৈধ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন নয়।”

শেষে ইশরাক হোসেন বলেন, “আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। যারা নির্বাচন ও আদালতের সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করছেন, তারা জনগণের রায় মানতে নারাজ।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে কটুক্তি, সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা

ফেসবুকে একজন খ্যাতিমান বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে বরিশালের সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী হলেন পাঁচটি সম্মাননা পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. মজিবুর রহমান মাঝি। মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন গৌরনদী পৌরসভার আশোকাঠী এলাকার তুহিন ফকির ওরফে টিএম তুহিন, গোরক্ষডোবা গ্রামের সজিব মাঝি এবং তাঁরাকুপি গ্রামের পপি ও তার স্বামী আজমল সিদ্দিকী সোহাগ।

সোমবার (১৯ মে) বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দাখিল করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী এইচ এম মিজানুর রহমান পিকু জানান, বিচারক গোলাম ফারুক মামলাটি আমলে নিয়ে গৌরনদী থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মো. মজিবুর রহমান মাঝি ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৭১ সালে কুর্মিটোলা ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে পালিয়ে ৯ নম্বর সেক্টরে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর তিনি কর্পোরাল হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ১৯৮১ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে শুধু মজিবুর রহমান মাঝিকে নয়, বরং গোটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অপমান করেছে। অভিযোগে বলা হয়, পপি ও তার স্বামীর প্ররোচনায় তুহিন ফকির ও সজিব মাঝি তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একাধিক অশ্লীল, মিথ্যা ও মানহানিকর পোস্ট করেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, “মামলার কপি এখনো হাতে পাইনি। কপি পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পেলেন নুসরাত ফারিয়া

রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়েরকৃত হত্যাচেষ্টা মামলায় আলোচিত অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া জামিন পেয়েছেন

মঙ্গলবার (২০ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান জামিন আবেদন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে, গত রোববার (১৮ মে) সকালে ব্যক্তিগত সফরে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ নুসরাত ফারিয়াকে আটক করে। পরে তাকে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন বিকেলেই তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে নেওয়া হয় ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) কার্যালয় মিন্টো রোডে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

২০২4 সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে দায়ের হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় নুসরাত ফারিয়াকে আসামি করা হয়। মামলায় আরও রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস, আশনা হাবিব ভাবনা এবং নায়ক জায়েদ খানসহ মোট ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী এনামুল হক মামলায় অভিযোগ করেন, তারা সবাই মিলে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান নিয়েছেন এবং ক্ষমতাসীন সরকারের হয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। এ ছাড়া, মামলায় উল্লেখ রয়েছে, এ অভিনেত্রীদের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৩ জন সরকারি কর্মকর্তাকে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।

আদালতের বিচারক আসামিপক্ষের আইনজীবীর যুক্তি শুনে ফারিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ফারিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




আইএমএফ ঋণ ছাড়া বাজেট সম্ভব নয় কেন? জানালেন অর্থ উপদেষ্টা

আসন্ন বাজেট বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সহায়তা নিতে কেন বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। একইসঙ্গে তিনি এবারের বাজেটের অগ্রাধিকার, চ্যালেঞ্জ ও সংস্কার পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন।

এক জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আইএমএফের অর্থ না পেলে বাজেট ছোট করতে হতো অথবা অতিরিক্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ড ইস্যু করতে হতো। এতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বেড়ে যেত। এসব চিন্তা করেই ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাজেটের অগ্রাধিকার কী?

ড. সালেহউদ্দিন জানান, এবারের বাজেটে লক্ষ্য থাকবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি হলেও ডিসেম্বরের মধ্যে তা ৭.৫ থেকে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।তিনি বলেন, “এবারের বাজেট বাস্তবমুখী হবে, গতানুগতিক হবে না। সমতাভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের পদক্ষেপ থাকবে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

বড় কর্পোরেটের একচেটিয়া সুবিধা বন্ধ করে এবার ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) উন্নয়নেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তৈরি হবে এসএমই ডেটাবেইজ, বাড়বে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা তহবিল।

অলিগার্ক তৈরির নীতি থেকে সরে এসে সকল উদ্যোক্তার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য”—বলেন উপদেষ্টা।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নয়

ড. সালেহউদ্দিন দৃঢ়ভাবে বলেন, “এবার বাজেটে কোনোভাবেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হবে না।” জমির কেনাবেচায় প্রকৃত মূল্যে দলিল বাধ্যতামূলক করা হবে এবং করহার কমানো হবে, যাতে অবৈধ লেনদেন বন্ধ হয়।

বিনিয়োগ ও জ্বালানিতে প্রতিশ্রুতি

বিনিয়োগ বাড়াতে জ্বালানি ও সার খাতে কোনো আপস করা হবে না। গ্যাস ও বিদ্যুতে ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে, তবে সিস্টেম লস কমিয়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যাংক খাতে সংস্কার

অবসায়ন বা একীভূতকরণের মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংক সংস্কারে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ কার্যকর করা হয়েছে। ৬টি ব্যাংকের প্রকৃত খেলাপি ঋণ নির্ধারণ করা হয়েছে, বাকিগুলোও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

বড় অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডার হওয়ার সুযোগ, বন্ড বা শেয়ারে পরিশোধের ব্যবস্থা থাকবে। এজন্য আলাদা একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এনবিআর ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন

নতুন বাজেটে এনবিআরকে কেন্দ্র করে আলাদা রাজস্ব বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় একশ্রেণির কর্মকর্তাদের আপত্তি থাকলেও উপদেষ্টা জানিয়ে দিয়েছেন—এখানে কোনো সমঝোতা হবে না।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পরিচালন বাজেট বাড়ানো হবে, যাতে প্রকল্পনির্ভরতা কমে এবং বাস্তবায়ন দক্ষতা বাড়ে। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ যথেষ্ট হলেও ব্যবস্থাপনা দুর্বল, তাই কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাজেট হবে ব্যবসাবান্ধব, তবে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে। মুষ্টিমেয় বড় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নয়—সমতার ভিত্তিতে বাজেট সাজানো হবে”—জোর দিয়ে বলেন অর্থ উপদেষ্টা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বাংলাদেশে স্টারলিংকের যাত্রা, শুরুতেই দুটি প্যাকেজ

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের স্পেসএক্স পরিচালিত এ সেবাটি মঙ্গলবার (২০ মে) থেকে বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ–বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্টারলিংক সোমবার তাকে ফোনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এছাড়া স্টারলিংক তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টেও বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের ঘোষণা দিয়েছে।

কী থাকবে প্যাকেজে?

ফয়েজ আহমদের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে দুইটি প্যাকেজে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হবে:

  • Starlink Residence – মাসিক খরচ: ৬,০০০ টাকা
  • Residence Lite – মাসিক খরচ: ৪,২০০ টাকা

তবে প্রত্যেক ব্যবহারকারীকে শুরুতে সেটআপ যন্ত্রপাতির জন্য ৪৭,০০০ টাকা এককালীন প্রদান করতে হবে। এই যন্ত্রপাতির মধ্যে থাকবে রিসিভার ডিশ, রাউটার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

বিশেষ দিক হলো, এই প্যাকেজগুলোতে কোনো স্পিড বা ডেটা লিমিট নেই। গ্রাহক সর্বোচ্চ ৩০০ এমবিপিএস গতির আনলিমিটেড ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা?

বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ বলেন, “যদিও এটি ব্যয়বহুল, তবে এর মাধ্যমে প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য উচ্চমানের, স্থিতিশীল ইন্টারনেট সেবার একটি টেকসই বিকল্প তৈরি হলো।”

এই সেবা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, ফাইবার সংযোগহীন এলাকা, এনজিও, উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বছরব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেটের নিশ্চয়তা দেবে।

তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যে ৯০ দিনের মধ্যে স্টারলিংকের কার্যক্রম চালু করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সেটি সময়মতো বাস্তবায়ন হয়েছে।

আজ থেকেই বাংলাদেশের গ্রাহকরা স্টারলিংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অর্ডার দিতে পারবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ইশরাকের মেয়র শপথ ঠেকাতে হাইকোর্টে রিট, শুনানি দুপুরে

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ নিতে না দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট আবেদনের শুনানি হবে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ১টায়। শুনানি অনুষ্ঠিত হবে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে।

এর আগে গত সপ্তাহে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বাসিন্দা মো. মামুনুর রশিদ এই রিট আবেদন করেন। রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, আদালতের রায় এবং নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুসারে ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হলেও, তা বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অসঙ্গতি রয়েছে। একই সঙ্গে রিটে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।

কী ঘটেছিল?

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস প্রায় পৌনে দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ইশরাক হোসেন।

তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করেন।

এরপর নির্বাচন কমিশন ২৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করে তাকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে।

সমর্থকদের আন্দোলন

গেজেট প্রকাশের পরও এখনো শপথ গ্রহণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ইশরাক সমর্থকরা। তারা কয়েকদিন ধরে নগর ভবনের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। সোমবার তারা নগর ভবন ব্লক করে রাখেন এবং আজ মঙ্গলবারও তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

সবচোখ এখন দুপুর ১টার হাইকোর্টের শুনানির দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে—ইশরাক হোসেন আদৌ শপথ নিতে পারবেন কি না।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল বিভাগে চার মাসে ৫৪৬ অপমৃত্যু, আত্মহত্যায় শীর্ষে নারী

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র চার মাসে বরিশাল বিভাগে অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ৫৪৬টি। এর মধ্যে আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি, যা মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে আত্মহননের হার তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছে বরিশাল রেঞ্জ পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আত্মহত্যার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ, হতাশা, অভিমান এবং ব্যক্তিগত নানা সংকট।

আত্মহত্যার পরিসংখ্যান:

চার মাসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১৩৫ জন। মাসভিত্তিক হিসাব:

  • জানুয়ারি: ৩৩ জন
  • ফেব্রুয়ারি: ৩৩ জন
  • মার্চ: ৩২ জন
  • এপ্রিল: ৩৭ জন

বিষপানে মারা গেছেন ৫২ জন।

  • জানুয়ারি: ১৪
  • ফেব্রুয়ারি: ১৫
  • মার্চ: ১১
  • এপ্রিল: ১২

দুর্ঘটনায় মৃত্যু:

  • পানিতে ডুবে মারা গেছেন ১০৫ জন (সবচেয়ে বেশি এপ্রিল মাসে: ৪০ জন)।
  • বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিটে: ৩১ জন
  • বজ্রপাতে: ৩ জন
  • ছাদ থেকে পড়ে: ৬ জন
  • অন্যান্য দুর্ঘটনায়: ৮ জন

জেলার ভিত্তিতে মৃত্যু পরিসংখ্যান:

  • ভোলা: ১২৪ জন
  • পটুয়াখালী: ১২১ জন
  • বরগুনা: ৮৫ জন
  • পিরোজপুর: ৭৮ জন
  • বরিশাল: ৩৫ জন
  • ঝালকাঠি: ৩৪ জন

সবমিলিয়ে অপমৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৪৬-এ। তবে এই ঘটনাগুলোর মধ্যে মাত্র ১০টি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে, যা তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি বা উপেক্ষার বিষয়টিও ইঙ্গিত করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যা রোধে পারিবারিক বন্ধন মজবুত করা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় ভোট চান সারজিস আলম

জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি মনে করেন, এতে দেশের রাজনীতি আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে, পাশাপাশি জনপ্রতিনিধির মান এবং জবাবদিহিতা বাড়বে।

সোমবার (১৯ মে) রাত ১১টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।

সারজিস আলম লিখেছেন, “জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সব স্থানীয় নির্বাচন হলে যোগ্য, জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হবেন। এতে নির্বাচনী পরিবেশ আরও স্বচ্ছ হবে এবং জনগণের আস্থা বাড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি না থাকায় জনসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচন হলে সেই সেবাগুলো আবার সচল হবে। পাশাপাশি এই নির্বাচনগুলো নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচার বিভাগের জন্য একটি লিটমাস টেস্ট হিসেবে কাজ করবে।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, “জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় পর্যায়ে ভোট হলে অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি কমে আসবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ থাকবে। সরাসরি জাতীয় নির্বাচন দিয়ে এই সুযোগ হারালে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।”

এ সময় তিনি রাজনৈতিক পক্ষপাত এবং ‘মাইম্যান’ সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ক্ষমতাসীন দল নিজেদের পছন্দের লোককে নমিনেট করে বিভিন্নভাবে জনপ্রতিনিধি বানিয়ে ফেলে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু স্থানীয় নির্বাচন হলে প্রকৃত জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরাই নির্বাচিত হবেন।”

বিএনপির প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, “বিএনপি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি। সঠিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হলে তাদের জনপ্রিয়, সৎ ও দক্ষ নেতারাই জয়লাভ করবেন। অপরাধী, সিন্ডিকেটধারী ও তেলবাজরা জনগণের রায় পাবে না—এ বিষয়ে আশা করি বিএনপিরও দ্বিমত থাকবে না।”

তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, স্থানীয় নির্বাচনের কথা বলার অর্থ জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কোনো ষড়যন্ত্র নয়। তার মতে, “প্রয়োজনে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা যেতে পারে, যাতে এই বিষয় নিয়ে কেউ ভুল ব্যাখ্যা না দেয়।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত খাল দখলকারীরা

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ধানডোবা গ্রামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই নেতা বর্তমানে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত ব্যক্তির নাম আব্দুস সালাম মাঝি (৫৩)। তিনি বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং ধানডোবা গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছিলো স্থানীয় বাসিন্দা সরোয়ার চৌকিদার। রবিবার (১৮ মে) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে ওই অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।

আহত সালাম মাঝির ছেলে ও ছাত্রদল নেতা আরমান মাঝি অভিযোগ করে বলেন, “উচ্ছেদ অভিযানের জন্য আমার বাবাকে দায়ী করে সরোয়ার চৌকিদার, কাসেম চৌকিদার ও আলিমসহ আরও কয়েকজন মিলে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবাকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।”

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

অভিযুক্ত সরোয়ার চৌকিদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি খাল ও জমি দখল করে প্রভাবশালীরা স্থাপনা নির্মাণ করে আসছে। প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের পর এসব দখলদাররা ক্ষিপ্ত হয়ে এমন হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সরকারি খাল দখল করে ভবন নির্মাণ, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সরকারি খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাপোলো তালুকদারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, খালটি পানিপ্রবাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রভাবশালীরা একের পর এক দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাটরা বাজারে একটি কালভার্টের সামনে সরকারি খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করেন অ্যাপোলো তালুকদার, যিনি পাশের কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবেও পরিচিত।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অ্যাপোলো তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আমার নিজস্ব জায়গায় ভবন করছি।”

তবে বাটরা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পরিতোষ রায় জানান, “ভবনের অবস্থান আগৈলঝাড়া এলাকায়। অন্যরাও যেহেতু ভবন করেছে, সেহেতু অ্যাপোলো তালুকদারও করেছেন।”

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে ইমামা বানিন বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরেছি, সরেজমিন তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ ছাড়া খাল দখলের এমন প্রবণতা বন্ধ হবে না।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /