৪০ বছরের অপেক্ষার পর হজে গেলেন ইন্দোনেশীয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী দম্পতি

চার দশকের সঞ্চয়, অগাধ ধৈর্য আর অটুট বিশ্বাস—এই তিন শক্তিকে সম্বল করে অবশেষে হজ পালনের স্বপ্ন পূরণ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তার স্ত্রী। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে প্রতিদিন মাত্র ১,০০০ রুপিয়া করে জমিয়ে, ২০২৫ সালে এসে তারা সৌদি আরবে পৌঁছেছেন পবিত্র হজ পালনের জন্য।

লেজিমান নামের এই পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তার স্ত্রী ‘মক্কা রুট’ নামক একটি বিশেষ হজ কর্মসূচির আওতায় এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে সৌদি আরবে গিয়েছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু দেশের হজযাত্রীরা নিজ দেশেই ভিসা, পাসপোর্ট ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেন, ফলে যাত্রা হয় সহজ ও সাশ্রয়ী।

সৌদি প্রেস এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেজিমান বলেন,“আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে, আমি নিজের চোখে কাবা শরীফ দেখতে পাবো। আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তাদের প্রতি, যারা আমাদের পাশে ছিলেন।”

তিনি জানান,“১৯৮৬ সালে আমি প্রতিদিন মাত্র ১,০০০ রুপিয়া সঞ্চয় শুরু করি। আয় দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর ছিল, তবু আমরা হাল ছাড়িনি। কঠিন পরিশ্রমের মধ্যেও আমরা একদিন হজে যাব—এই আশা নিয়েই টিকে ছিলাম।”

এই দম্পতির এই সাধনার খবর ছড়িয়ে পড়েছে ইন্দোনেশিয়া ছাড়িয়ে সারা মুসলিম বিশ্বে। অনেকেই তাদের জন্য দোয়া করছেন যেন তারা সুস্থভাবে হজ পালন করে দেশে ফিরতে পারেন।

উল্লেখ্য, মুসলিম জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ, যদি শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম হওয়া যায়। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে এ বছর প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব যাচ্ছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভারতীয় জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২১ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি বাতিল করলো বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকার ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE)-এর সঙ্গে করা ২১ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করেছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

শুক্রবার (২৩ মে) ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এই খবর প্রকাশ করে জানায়, বাতিল হওয়া চুক্তিটি ছিল ৮০০ টন ওজনের সমুদ্রগামী টাগবোট নির্মাণ সংক্রান্ত, যা ২০২৪ সালের জুনে শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তিটি ভারতের ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ঋণ প্রকল্পের অধীনে প্রথম বড় অর্ডার ছিল।

সম্প্রতি GRSE এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ের মাধ্যমে ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ-কে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি বাতিল করেছে।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্কও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চলতি মে মাসে নয়াদিল্লি বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে, এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের ১১টি স্থলবন্দরে বাংলাদেশি ভোগ্যপণ্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে, যার প্রভাব পড়তে পারে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে।

এছাড়া, বাংলাদেশ সম্প্রতি ভারত থেকে সুতা রপ্তানি বন্ধ করেছে এবং ভারতও তৃতীয় দেশে পণ্য পরিবহনের বিশেষ ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুনভাবে পর্যালোচনার মুখে পড়েছে। চুক্তি বাতিল তারই এক বহিঃপ্রকাশ।


📌
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




“শুধু নির্বাচন নয়, ন্যায়বিচার ও সংস্কারের রোডম্যাপ চাই”  বিএনপিকে এনসিপি নেতার আহ্বান

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, “শুধু নির্বাচন নিয়ে কথা বললে আমরা আশাহত হই।” তিনি এই মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়।

শুক্রবার (২৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম বলেন, “বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে শুধু নির্বাচনের রোডম্যাপ চেয়ে দায় এড়াতে পারে না। তাদের আরও স্পষ্ট ও দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়া উচিত।”

তিনি উল্লেখ করেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, এবং যারা প্রাণপণ লড়াই করে রাজপথে নেমেছেন—তাদের স্বপ্ন কেবল একটি নির্বাচন ছিল না। তারা মৌলিক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।”

 বিএনপির প্রতি তিন দফা দাবি:

সারজিস আলম তার পোস্টে বিএনপির প্রতি তিনটি স্পষ্ট দাবি তুলে ধরেন:

  1. গণহত্যার বিচারের রোডম্যাপ প্রকাশ।
  2. দেশের মৌলিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের রোডম্যাপ দাবি।
  3. জুলাই গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে আখ্যায়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের রোডম্যাপ উত্থাপন।

সারজিস লিখেছেন, “যদি বিএনপি কেবল নির্বাচনের রোডম্যাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভেঙে পড়বে। ৫ আগস্টের গণজাগরণ শুধু একটি নির্বাচনের জন্য ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “এত বড় অভ্যুত্থানের পরে জনগণ প্রত্যাশা করে—বড় রাজনৈতিক দলগুলো ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও কাঠামোগত সংস্কারের পক্ষেও শক্ত অবস্থান নেবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জুলাইযোদ্ধা মো. হাসানের মৃত্যু, মরদেহ আসছে শনিবার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়া মোহাম্মদ হাসান (২৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাইল্যান্ডে মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে দেশটির একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের ব্যক্তিগত সহকারী ডা. মাহমুদুল হাসান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাসানের মরদেহ বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শনিবার (২৪ মে) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।

হাসানের মরদেহ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে, যেখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মরদেহ পাঠানো হবে নিজ জেলা চট্টগ্রামে।

চট্টগ্রামের টাইগারপাস এলাকায় গত বছরের ৫ আগস্ট ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ চলাকালে মোহাম্মদ হাসান পুলিশের গুলিতে মাথায় আহত হন। প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০২৪ সালের অক্টোবরে তাকে থাইল্যান্ডে নেওয়া হয়, সেখানে তিনি দীর্ঘদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

গত ১০ এপ্রিল হাসানকে লাইফসাপোর্ট থেকে সরিয়ে সাধারণ শয্যায় স্থানান্তর করা হলেও ২৫ এপ্রিল অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পুনরায় লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

মোহাম্মদ হাসান ছিলেন একজন হাফেজ, যিনি হিফজ শেষ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। একাদশ শ্রেণির ছাত্র হাসান সামাজিক অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, যে কারণে তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ বলা হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র উমামা ফাতেমা এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, “হাসান ভাই একটু আগে মারা গেছেন। তিনি আহত হওয়ার পর থেকে কলি আপু তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যুক্ত ছিলেন। কলি আপু বলছিলেন, তার অবস্থা ভালো নয়। ভাবছিলাম দেশে এলে দেখা করব। কী বলব এখন!”


📌
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




নারী কমিশন বাতিলসহ হেফাজতের ৪ দফা দাবিতে বিক্ষোভ

ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তরে শুক্রবার (২৩ মে) জুমার নামাজের পর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর শাখার আয়োজনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন এবং বিক্ষোভ শেষে একটি মিছিল বের করার ঘোষণা দেন।

হেফাজতের চার দফা দাবি হলো:

  1. নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল
  2. ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর এবং জুলাইয়ের অন্যান্য ঘটনার গণহত্যার বিচার
  3. হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার
  4. ফিলিস্তিন ও ভারতে মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “নারী সংস্কার কমিশন ইসলামী মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তাই এটিকে বাতিল করতে হবে। আমরা দেশের যুব সমাজকে আহ্বান জানাই, নৈতিকতা ও ইসলামী চেতনাকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধ হোন।”

এদিকে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ নামের আরেকটি সংগঠনও একই দিনে কাশ্মীর, ফিলিস্তিন ও আরাকানের স্বাধীনতার দাবিতে পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামী দলগুলো আবারও রাস্তায় সক্রিয় হচ্ছে এবং নানা সামাজিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে জনমত গঠনের চেষ্টা করছে।


📌
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল-১: জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত, বিএনপিতে মনোনয়ন যুদ্ধ

বরিশাল-১ আসনে (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) ২০২৫-২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মাওলানা কামরুল ইসলাম খানের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছে।

এ আসনটিতে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের আধিপত্য থাকলেও এবার রাজনৈতিক সমীকরণে ভিন্নতা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারের পতনের পর সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, যাদের মধ্যে আছেন:

  • জহির উদ্দিন স্বপন – সাবেক এমপি, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা
  • অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল – জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সংগঠক
  • আকন কুদ্দুসুর রহমান – জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক
  • ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান – সাবেক নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় নেতা

এদের অধিকাংশই মামলা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হলেও দীর্ঘদিন ধরে দলীয় ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।

অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান বলেছেন, অতীতের অনিয়ম ও রাজনৈতিক নিপীড়নের সময় পেরিয়ে এখন মানুষের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। আমি নির্বাচিত হলে সব রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করবো।”

এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২০১৮ সালে প্রার্থী হওয়া মেহেদী হাসান রাসেল আবার মনোনয়ন পাবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

বরিশাল-১ আসনের প্রায় তিন লাখ ভোটারের মধ্যে তরুণদের অংশগ্রহণ এবার মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারে। এক তরুণ ভোটার মো. হাসান বলেন, “আমরা এমন নির্বাচন চাই যেখানে ভয়হীনভাবে ভোট দিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে বিজয়ী করা যাবে।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মনে করেন, “আগামী নির্বাচন নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে নিয়মতান্ত্রিকতা ফিরলে গণতন্ত্রের পথ মসৃণ হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




বরিশালে সরকারি অফিসেই বিটিসিএলের বকেয়া ৬৭%

বরিশাল বিভাগে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর মোট বকেয়ার ৬৭ শতাংশই রয়েছে সরকারি অফিসগুলোর কাছে। ব্যক্তিগত গ্রাহক পর্যায়ে বকেয়ার পরিমাণ ৩৩ শতাংশ হলেও আইনগত বাধার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এই বকেয়া আদায় করা যাচ্ছে না।

১৮৮৫ সালের ব্রিটিশ আমলের টেলিগ্রাফ আইন অনুযায়ী ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ থাকলেও, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতামুক্ত। ফলে এই সংস্থাগুলোর কাছ থেকে টেলিফোন ও ইন্টারনেট বিল আদায় করতে পারছে না বিটিসিএল।

বিটিসিএল-এর বরিশাল বিভাগ জানিয়েছে, ছয় জেলায় মোট ১১ হাজার ৯৬১টি সংযোগের বিপরীতে প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে শুধু সরকারি অফিসগুলোর কাছেই রয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা মোট বকেয়ার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

জেলার ভিত্তিতে বকেয়ার হিসাব নিম্নরূপ:

  • বরিশাল: ৪৬৯৪ সংযোগ, বকেয়া ৯০.৫৮ লাখ টাকা
  • ভোলা: ১৫০৩ সংযোগ, বকেয়া ৩৪.২৪ লাখ টাকা
  • বরগুনা: ১৪৪৭ সংযোগ, বকেয়া ১৯.৬৮ লাখ টাকা
  • পটুয়াখালী: ১৮১০ সংযোগ, বকেয়া ৪০.৭৭ লাখ টাকা
  • পিরোজপুর: ১৮৫ সংযোগ, বকেয়া ১৮.৩৫ লাখ টাকা
  • ঝালকাঠি: ১৪২২ সংযোগ, বকেয়া ২৮.৩০ লাখ টাকা

বর্তমানে ৪২০টি বকেয়া মামলার মধ্যে ৩৮টি মামলার বিপরীতে মাত্র ৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশই ৮-১০ বছর পুরানো এবং অনেকগুলো মামলার বয়স কয়েক যুগ।

বিটিসিএল-এর বরিশাল অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম খান জানান, “বকেয়াগুলো অনেক পুরানো। আমরা নিয়মিত চিঠি দিচ্ছি, মামলা করছি। সরকার ১০০ দিনের বকেয়া আদায়ের যে নির্দেশ দিয়েছে তাতে কিছুটা সাড়া পেয়েছি। তবে জরিমানার বিধান না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পিরোজপুরে অপহরণ মামলায় তিনজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মামলায় তিনজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরে জেলা অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. মোক্তাগীর আলম এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ওয়াহিদ হাসান বাবু।

দণ্ডপ্রাপ্তরা কারা

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন:

  • ইলিয়াছ ফকির (৪৩), পিতা আশ্রাব আলী ফকির
  • আবুল ফকির (৪৬), ইলিয়াছের ভাই
  • রুহুল খান (৫০), পিতা আ. ছত্তার খান

তিনজনই ইন্দুরকানী উপজেলার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় সেউতিবাড়ীয়া প্রফেসার বাড়ি মসজিদে নামাজ পড়ার সময় রুবেল হোসেন (৩৪) নামের এক ব্যক্তিকে মসজিদ থেকে অপহরণ করা হয়। অভিযুক্তরা রুবেলের মোবাইল ফোন (মূল্য ১৭ হাজার টাকা) এবং পকেটে থাকা ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর মোটরসাইকেলে করে টগড়া ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে মারধর করে।

খবর পেয়ে পুলিশ রুবেলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর, ঘটনার আট দিন পর রুবেল ইন্দুরকানী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১৭ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. জাকির হোসেন খান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওয়াহিদ হাসান বাবু বলেন, “আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত প্রত্যেককে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অনাদায়ে আরও তিন মাসের দণ্ড দেওয়া হয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো সাবেক এমপি শম্ভুকে

বরগুনা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও বিস্ফোরণের মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২২ মে) বরগুনার আদালত এই আদেশ দেন।

সেদিন শম্ভুকে আদালতে হাজির করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। কেউ ডিম নিক্ষেপ করেন, আবার কেউ স্লোগানে মুখর করে তোলেন চত্বর।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ বরগুনা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এসময় বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে। এতে জেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের ১৫৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নজরুল ইসলামের ছেলে নাঈমুল ইসলাম। অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়।

আদালতে শম্ভুর আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন এর বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই মামলার প্রেক্ষাপটে বরগুনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




চরফ্যাশনের দ্বীপে পর্যটন ও অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার

ভোলার চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন চারটি দ্বীপ—ঢালচর, চরকুকরি-মুকরি, চরপাতিলা ও চরমন্তাজে—পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে খুলে গেছে সম্ভাবনার নতুন দ্বার। যাতায়াতে আধুনিকায়নের ছোঁয়া লেগেছে এসব দ্বীপে, বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনধারা।

উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চরকচ্ছপিয়া লঞ্চঘাট থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৯টি লঞ্চ ও ১০টি স্পিডবোট চারটি রুটে যাত্রী পরিবহন করছে। কিছুদিন আগেও যেখানে প্রতিদিন মাত্র ৪টি লঞ্চ চলতো, এখন সেখানে দ্বিগুণেরও বেশি যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে পর্যটক, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে নির্ধারিত সময় ছাড়া লঞ্চ চলতো না, ফলে অনেকেই সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারতেন না। এখন প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তর লঞ্চ ছাড়ায় যাত্রীদের আর বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে না। ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে বিপুল পর্যটক চরকুকরি-মুকরির মতো দ্বীপে বেড়াতে আসেন। নতুন লঞ্চ সংযোগে এখন তারা আরও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন।

চরকুকরি-মুকরির বাসিন্দা ফয়েজ ও মঞ্জুরুল আলম বলেন, “আগে মাত্র দুটি লঞ্চ আর কয়েকটি স্পিডবোট থাকায় পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন নতুন লঞ্চ সংযোজনের ফলে যাতায়াতে সময় ও ঝুঁকি—দুটোই কমেছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি জানিয়েছেন, “চরকচ্ছপিয়া ও কুকরি-মুকরি ঘাটে পন্টুন স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। এর মাধ্যমে যাত্রী উঠানামার দুর্ভোগ কমবে এবং পুরো অঞ্চলেই পর্যটন খাতে বড় অগ্রগতি আসবে।”

চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে নৌপথের উন্নতি শুধু যাতায়াতেই নয়, বরং পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন এ পরিবর্তন ভবিষ্যতে অঞ্চলটিকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /