এক মাস কেটে গেল, চাল পাননি ভোলার ৬৫ হাজার জেলে

ভোলার সাগরগামী জেলেরা সরকারের ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা মেনে তীরে ফিরে এসেছেন অনেক আগেই। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার এক মাস পার হলেও এখনো তারা পাননি প্রণোদনার চাল। এতে করে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৬৫ হাজার নিবন্ধিত জেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় ১৫ এপ্রিল, চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। এই সময়টিতে জেলেদের দুই ধাপে ৮৬ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কেউ একটি কেজিও পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভোলার দৌলতখানের সাগরগামী জেলে ফারুক মাঝি বলেন,“আমাদের নামে বরাদ্দ থাকলেও সেগুলো দেওয়া হয় অন্যদের। প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছি।”
জেলে শহীদ মাঝি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“সরকার বলছে অভিযান চলাকালীন চাল দেবে। কিন্তু এক মাস হয়ে গেল, এখনো পাইনি। এনজিওর কিস্তির চাপ বাড়ছে। পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে আছি।”
একই রকম অভিযোগ কাশেম মাঝিরও:“সাগরে না যাইতে পারি, নদীতেও মাছ নাই। কিস্তির চাপ, ধারদেনায় জীবন অচল হয়ে গেছে। অনেকেই চুরি করে সাগরে যায় মাছ ধরতে। এভাবে চললে আমরাও বাধ্য হবো।”
অভিযোগ ও প্রশাসনের অবস্থান
জেলেদের দাবি, বহু প্রকৃত জেলে এখনো সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। আর তালিকায় না থাকলে বরাদ্দের চালও মিলছে না। তারা আরও বলেন, প্রণোদনার চাল ছাড়াও এই সময় এনজিও ঋণের কিস্তি মওকুফ বা স্থগিত রাখা উচিত। নয়তো তারা চরম সংকটে পড়ে থাকবেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান,“এবারই প্রথম প্রতিবেশী দেশের সাথে মিল রেখে অভিযান ৬৫ দিনের পরিবর্তে ৫৮ দিনে কমানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে দ্রুত চাল বিতরণ শুরু হবে।”
বর্তমানে সরকারি হিসাবে ভোলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। যদিও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রকৃত সাগরগামী জেলের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। চাল বিতরণের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ৫৬ কেজি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩০ কেজি করে মোট ৮৬ কেজি চাল পাওয়ার কথা রয়েছে প্রতিজনের।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /








