ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দলের নেতারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মত প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ড. ইউনুস আশ্বাস দিয়েছেন—২০২৬ সালের ৩০ জুনের পর তিনি এক ঘণ্টাও ক্ষমতায় থাকবেন না, এর আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
রোববার (২৫ মে) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক। তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি সবাই সহযোগিতা করে, তবে তিনি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে জাতিকে একটি গন্তব্যে পৌঁছে দায়িত্ব শেষ করবেন।”
তিনি আরও জানান, ইসলামী দলগুলোর পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে:
১. সংস্কার বিষয়ে অনিশ্চয়তা দূর:
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেখা যায়নি। তাই তারা অনুরোধ করেছেন, সংস্কারগুলো যেন সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়।
২. অতীতের ঘটনার বিচার:
শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে অন্যান্য রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দায়ীদের বিচার প্রক্রিয়া যেন দ্রুত শুরু হয়। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন, অচিরেই ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাবে।
৩. নারী সংস্কার কমিশন নিয়ে উদ্বেগ:
ইসলামী আইন ও কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো পদক্ষেপ যেন না নেওয়া হয়, সেই দাবিও তুলেছেন নেতারা। তাদের মতে, জনমতের বিপরীতে কোনো আইন বাস্তবায়ন করা উচিত নয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর) বলেন, “আমরা আপনাকে জনগণের স্বার্থে এনেছি। আপনি যদি হাল ছেড়ে দেন, তবে আমরাও পরাজিত হবো। আমাদের কথা শুনে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন তিনি পথ থেকে সরে দাঁড়াবেন না।”
জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, “আমরা তাকে বলেছি, অনেক আশা নিয়ে জনগণ আপনাকে মঞ্চে বসিয়েছে। আপনিই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ দেখাতে পারেন।”
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান বলেন, “আমরা একসাথে থাকলে স্বৈরতন্ত্র কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি, হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা মামলা হয়েছে, তা যেন ছয় মাসের মধ্যে প্রত্যাহার করা হয়।”
নেতারা আরও জানান, আগামী নির্বাচন যাতে কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত থাকে, সে বিষয়ে তারা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
সবশেষে ইসলামী নেতারা জাতিকে বিভ্রান্ত না করে নির্দিষ্ট নির্বাচনের সময় ঘোষণা, রাজনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখা এবং ইসলামবিরোধী কোনো আইন যেন পাশ না হয়—সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /