“বিচারপতি মানিক মারা যাননি”গুজব উড়িয়ে দিল কারা অধিদপ্তর

কাশিমপুর কারাগার-২-এ বন্দি সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

সোমবার (২৬ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে কারা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খণ্ডন করে জানায়—বিচারপতি মানিক সুস্থ আছেন এবং বর্তমানে কাশিমপুর কারাগার-২ এ রয়েছেন।

এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানান, “বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এখনও জীবিত এবং সুস্থ আছেন। মৃত্যুর যে খবরটি ছড়ানো হয়েছে, সেটি মিথ্যা।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৩ আগস্ট সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করেন শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। বিজিবির হাতে আটক হওয়ার পর পরদিন ভোরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তখন থেকেই তিনি কারাবন্দি।

সাবেক এই বিচারপতির মৃত্যু সংক্রান্ত গুজব প্রসঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষ জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এবং কোনো তথ্য যাচাই না করে তা শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নয় দফা দাবিতে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলন

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে টানা তৃতীয় দিনের মতো চলছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। নয় দফা দাবিতে তারা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান, বিক্ষোভ মিছিল ও পথনাটকের আয়োজন করেছে।

সোমবার (২৬ মে) বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা “শিক্ষার অধিকার, লড়াই করে নিতে হবে” স্লোগানে মুখর করে তোলে ক্যাম্পাস। তারা প্রতীকীভাবে কম্বাইন্ড পরীক্ষা পদ্ধতির কুশপুত্তলিকা দাহ করে এবং মানসিক চাপের প্রতিবাদে পথনাটক পরিবেশন করে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবি হলো—কম্বাইন্ড পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল, অ্যাকাডেমিক স্বতন্ত্রতা প্রতিষ্ঠা, নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দিয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি, সময়মতো ফলাফল প্রকাশ, পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও ল্যাব সুবিধা, ছাত্রাবাস উন্নয়ন, মানসম্পন্ন শিক্ষা পরিবেশ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুবিধা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা।

এই নয় দফা দাবিতে তাঁরা কলেজের “অ্যাকাডেমিক শাটডাউন” ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. লিটন রাব্বানী বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। তবে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায় আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে কলেজের দুটি বিভাগে ৫১৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং চলমান আন্দোলনে কলেজ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




ধর্মীয় স্বাধীনতায় অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: অধ্যাপক ইউনূস

বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (২৬ মে), মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের (USCIRF) চেয়ারম্যান স্টিফেন স্নেকের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে, যেখানে দেশজুড়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের ১৭ কোটি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি। আমরা এখানে সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশে আগত সাংবাদিকদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “যেকোনো সাংবাদিক যেকোনো সময় বাংলাদেশে এসে বাস্তবতা যাচাই করতে পারেন। আমাদের কাছে লুকানোর কিছু নেই।”
এসময় তিনি জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এই সময়টিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব করার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা অনেকাংশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভুয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।”

দক্ষিণ এশিয়ার কিছু গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক উৎস বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ‘উগ্র ইসলামপন্থী আন্দোলন’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অধ্যাপক ইউনূস।
তিনি বলেন, “আমরা দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করছি। অথচ বাইরের প্রচারণা বাস্তবতার চেয়ে অনেক দূরে।”

স্টিফেন স্নেক জানতে চান, গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী সম্পর্কে।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস জানান, “ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের সমান অধিকার রক্ষায় এই সংবিধান সংশোধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছাতে সংলাপ চলমান রয়েছে।”

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশা ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক ইউনূস জানান, জাতিসংঘ তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “এই সংকটের দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম গড়ে উঠছে। তাদের আশার আলো দেখাতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




শিশুদের দাঁত ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে যা করবেন

অনেকেই ভাবেন, দুধের দাঁত পড়ে যাবে—তাই আলাদা যত্নের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই ধারণা ভুল। শিশুদের দুধের দাঁতের সুস্থতা ভবিষ্যতে তাদের স্থায়ী দাঁতের গঠন ও স্বাস্থ্যেও বড় প্রভাব ফেলে। তাই ছোটবেলা থেকেই দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

দাঁতের ক্ষয়ের কারণ কী?

শিশুর দাঁত ক্ষয়ের মূল কারণ হলো মুখের ব্যাকটেরিয়া এবং অতিরিক্ত চিনি। নিয়মিত মিষ্টিজাতীয় খাবার বা চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ করলে এবং ঠিকমতো দাঁত পরিষ্কার না করলে ব্যাকটেরিয়া থেকে অ্যাসিড তৈরি হয়, যা দাঁতের এনামেল নষ্ট করে দেয়। এর ফলেই শুরু হয় দাঁতের ক্ষয়।


করণীয় ৫টি ধাপ:

🔹 ১. নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করানো
সকালে নাশতার পরে ও রাতে ঘুমানোর আগে শিশুর দাঁত ব্রাশ করানো অভ্যাসে পরিণত করুন। দুই বছর বয়সের পর থেকে শিশুবান্ধব ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

🔹 ২. চিনি ও মিষ্টিজাত খাবার নিয়ন্ত্রণ
চকলেট, মিষ্টি, কোমল পানীয় ইত্যাদিতে থাকা চিনি দাঁতের ক্ষয় বাড়ায়। এগুলো খাওয়ানোর পরপরই মুখ ধোয়া বা দাঁত ব্রাশ করানো উচিত।

🔹 ৩. নিজে দাঁতের যত্ন নেওয়ার শিক্ষা দেওয়া
ব্রাশ, কুলি, ও টুথপেস্ট ব্যবহারের পরিমাণ শেখাতে হবে ধাপে ধাপে, যেন শিশু নিজের যত্ন নিজেই নিতে শিখে।

🔹 ৪. নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ
প্রতি ছয় মাসে একবার দাঁতের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে দাঁতের অবস্থা যাচাই করা ভালো। অনেক সময় দাঁতের ক্ষয় বাহ্যিকভাবে বোঝা যায় না।

🔹 ৫. রাতে দুধ খাওয়ার পর পানি পান করানো
ঘুমানোর আগে দুধ খাওয়ার পরে শিশুকে অল্প পানি খাওয়ানো বা দাঁত ব্রাশ করানো উচিত, কারণ দুধে থাকা প্রাকৃতিক চিনি দাঁতের ক্ষয় ঘটাতে পারে।


শিশুর দাঁতের প্রতি শুরু থেকেই যত্নবান হলে ভবিষ্যতে দাঁতের জটিলতা, ব্যথা ও খরচ—সবকিছুই অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ধনী হওয়ার সঠিক পথ: নবীজির শিক্ষা ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষই ধনী হতে চায়; তবে ধনী হওয়া শুধুমাত্র অর্থ-সম্পদে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত ধনী হওয়া মানে হলো অন্তর থেকে ধনী হওয়া—আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাওয়াক্কুল (বিশ্বাস) ও তাকদিরে বিশ্বাস রাখা। নবী করিম (সা.) বলেছেন, হৃদয়ের ধনী ব্যক্তিই প্রকৃত ধনী।

বিশ্বজুড়ে সফলতার মাপকাঠি ভিন্ন ভিন্ন; কেউ দুনিয়ার মাল-সম্পদ, কেউ স্বাস্থ্য বা ক্ষমতাকে সফলতা বলে মনে করে। কিন্তু ইসলামে সফলতার মাপকাঠি পরকালের জন্য প্রস্তুতি এবং জান্নাত অর্জন।

মানবস্বভাব অনুযায়ী, সম্পদের অভাব কখনো মেটানো যায় না, যেমন এক পাহাড় স্বর্ণ হলেও তার চেয়ে বড় পাহাড়ের আকাঙ্ক্ষা জন্মায়। এজন্য নবীজির শিক্ষা হলো—ধনী হওয়ার প্রকৃত মানদণ্ড হলো মন ও অন্তরের তৃপ্তি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন,
“ধন-সম্পদের আধিক্য হলেই ধনী হয় না, বরং অন্তরের ধনীই প্রকৃত ধনী।” (সহিহ বুখারী: ৬৪৪৬)
আরেকবার তিনি বলেন,
“সচ্ছলতা হলো হৃদয়ের সচ্ছলতা, আর হৃদয়ের দারিদ্র্যই প্রকৃত দারিদ্র্য।” (ইবনে হিব্বান: ৬৮৫)

অর্থাৎ, মনের শান্তি ও সন্তুষ্টিই প্রকৃত সম্পদ, যা পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে মুমিন বান্দাদের দেওয়া হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ড. ইউনুস ৩০ জুনের পর একদিনও ক্ষমতায় থাকবেন না: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ২০২৬ সালের ৩০ জুনের পর একদিনও ক্ষমতায় থাকবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার (২৫ মে) রাজধানীতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২০ জন নেতার সাক্ষাৎ ও বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুল আলম জানান, বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক নেতারা ড. ইউনুসের নেতৃত্বে চলছে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

প্রেস সচিব আরও জানান, বৈঠকে নির্বাচন ও সংস্কার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ড. ইউনুস জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ৩০ জুনের পর তিনি ক্ষমতায় থাকবেন না। এই ঘোষণা সব রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে সন্তোষ সৃষ্টি করেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ইসলামী দলগুলোর বৈঠক: নির্বাচন নিয়ে আশ্বাস, সংস্কারে উদ্বেগ

ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দলের নেতারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মত প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ড. ইউনুস আশ্বাস দিয়েছেন—২০২৬ সালের ৩০ জুনের পর তিনি এক ঘণ্টাও ক্ষমতায় থাকবেন না, এর আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

রোববার (২৫ মে) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক। তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি সবাই সহযোগিতা করে, তবে তিনি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে জাতিকে একটি গন্তব্যে পৌঁছে দায়িত্ব শেষ করবেন।”

তিনি আরও জানান, ইসলামী দলগুলোর পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে:

১. সংস্কার বিষয়ে অনিশ্চয়তা দূর:
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেখা যায়নি। তাই তারা অনুরোধ করেছেন, সংস্কারগুলো যেন সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়।

২. অতীতের ঘটনার বিচার:
শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে অন্যান্য রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দায়ীদের বিচার প্রক্রিয়া যেন দ্রুত শুরু হয়। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন, অচিরেই ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাবে।

৩. নারী সংস্কার কমিশন নিয়ে উদ্বেগ:
ইসলামী আইন ও কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো পদক্ষেপ যেন না নেওয়া হয়, সেই দাবিও তুলেছেন নেতারা। তাদের মতে, জনমতের বিপরীতে কোনো আইন বাস্তবায়ন করা উচিত নয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর) বলেন, “আমরা আপনাকে জনগণের স্বার্থে এনেছি। আপনি যদি হাল ছেড়ে দেন, তবে আমরাও পরাজিত হবো। আমাদের কথা শুনে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন তিনি পথ থেকে সরে দাঁড়াবেন না।”

জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, “আমরা তাকে বলেছি, অনেক আশা নিয়ে জনগণ আপনাকে মঞ্চে বসিয়েছে। আপনিই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ দেখাতে পারেন।”

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান বলেন, “আমরা একসাথে থাকলে স্বৈরতন্ত্র কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি, হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা মামলা হয়েছে, তা যেন ছয় মাসের মধ্যে প্রত্যাহার করা হয়।”

নেতারা আরও জানান, আগামী নির্বাচন যাতে কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত থাকে, সে বিষয়ে তারা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সবশেষে ইসলামী নেতারা জাতিকে বিভ্রান্ত না করে নির্দিষ্ট নির্বাচনের সময় ঘোষণা, রাজনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখা এবং ইসলামবিরোধী কোনো আইন যেন পাশ না হয়—সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 পাকিস্তানে ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টিতে প্রাণ গেল ১৩ জনের, আহত ৯২

প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯২ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু কাঁচা ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো।

রবিবার (২৫ মে) পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন-এর বরাতে জানা গেছে, প্রদেশজুড়ে ভারী বর্ষণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে ঘরবাড়ি ধসে পড়ার কারণে।

পাঞ্জাব প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (PDMA) জানিয়েছে, সকল নাগরিককে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের সব জরুরি সেবা সংস্থাকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাগরিকদের বিদ্যুৎ লাইন, খুঁটি ও ঝুলন্ত তার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 ঘরধসে প্রাণহানি বেশিস্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরনো ও কাঁচা ঘরবাড়িগুলোই ঝড়ের ধকল সহ্য করতে না পেরে ধসে পড়ে। বেশিরভাগ মৃত্যুই ঘটেছে এসব ঘরের নিচে চাপা পড়ে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পাঞ্জাব সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন এবং ঘরবাড়ি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




ঝালকাঠির আদালতে গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা

ঝালকাঠির আদালতে স্বামীর প্রতি ক্ষোভ ও অভিমানে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক গৃহবধূ।

রোববার দুপুরে ঝালকাঠির চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কাঠগড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

জানা গেছে, নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের কয়া গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে নুসরাত জাহান চলতি বছরের ১৭ মার্চ তার স্বামী আল-আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধরের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নলছিটি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

রোববার ছিল জামিন শুনানির দিন। আদালতে জামিন আবেদনের শুনানির সময় আল-আমিন তার স্ত্রী নুসরাত জাহানকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নুসরাত বিচারকের সামনেই তার স্বামীর উপস্থিতিতে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন আকন খোকন বলেন, “স্বামী সংসার করতে রাজি না হওয়ায় নুসরাত মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আত্মহননের চেষ্টা করেন।”

কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক পুলক চন্দ্র রায় বলেন, “তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে আদালত কক্ষে বসিয়ে রাখা হয় এবং পরে অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”

এ ঘটনার পর আদালত চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




 ধোনির রাজকীয় বিদায়, শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত জয় চেন্নাইয়ের

হয়তো এটিই ছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির শেষ ম্যাচ অধিনায়ক হিসেবে। আর এই বিদায়ী ম্যাচে যেন মাঠে রাজত্ব করেই গেলেন ‘থালা’। তাঁর নেতৃত্বে চেন্নাই সুপার কিংস ৮৩ রানে উড়িয়ে দিল গুজরাট টাইটান্সকে, শেষ করল এবারের আইপিএল যাত্রা এক স্মরণীয় জয় দিয়ে।

রবিবার (২৫ মে) নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ম্যাচের টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ধোনি। এই ম্যাচে তাঁর শরীরী ভাষা, কৌশল, এবং নেতৃত্ব সব কিছুতেই ছিল নিখুঁত পরিকল্পনার ছাপ। যদিও চেন্নাই এর আগেই প্লে-অফ দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছে, তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিল মাহির শেষ উপস্থিতি।

চেন্নাইয়ের ইনিংসের হাল ধরেন আয়ুষ মাত্রে, উর্বিল পটেল ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। এই তিন তরুণ মিলে মাত্র ৫৯ বলে যোগ করেন ১২৮ রান। সঙ্গে ছিলেন অভিজ্ঞ ডেভন কনওয়ে। চলতি আসরে এটিই ছিল চেন্নাইয়ের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এ সাফল্যের পেছনে ধোনির দূরদর্শী পরিকল্পনার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

গুজরাট অধিনায়ক শুভমান গিলের জন্য এই ম্যাচ যেন ছিল এক শিক্ষা। ব্যাটিং হোক কিংবা ফিল্ডিং, সবকিছুতেই ধোনির অভিজ্ঞতার কাছে পিছিয়ে পড়েন তিনি। পরপর দুই হারে গুজরাটের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মাঠে ধোনির উপস্থিতি যেন হয়ে উঠেছিল এক অনন্য অনুশীলন ক্লাস।

ম্যাচ শেষে ধোনি সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিত স্পষ্ট—এটাই হতে পারে তাঁর শেষ অধিনায়কত্ব। এমনকি খেলোয়াড় হিসেবে এটিই হতে পারে শেষ আইপিএল। তবে তিনি বিদায় নিলেন এমন একটি দল রেখে, যারা ভবিষ্যতে অনেক দূর যেতে পারে।

চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে পাঁচবার আইপিএল জয়ী এই কিংবদন্তি কেবল ক্রিকেটার নন, একজন কৌশলী নেতা, একজন অনুপ্রেরণা। মাঠের বাইরে গেলেও ক্রিকেটে তাঁর প্রভাব থাকবে দীর্ঘ সময়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /