শান্ত-মুশফিকের জাদুতে দুর্দান্ত শুরু বাংলাদেশের

গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, যেখানে প্রতিপক্ষরা প্রায়শই হার মেনে নেয়, সেখানে আজ বাংলাদেশ দেখিয়েছে সাহস, দৃঢ়তা আর প্রতিরোধের অসাধারণ উদাহরণ। দিনের শুরুটা ছিল ভয়ংকর—মাত্র ৪৫ রানে হারানো তিনটি উইকেট। মনে হচ্ছিল আরেকটি ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখেই হয়তো পড়বে বাংলাদেশ।

কিন্তু দৃশ্যপট বদলে দেন দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার—নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুশফিকুর রহিম। চতুর্থ উইকেটে ২৪৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশের হাল ধরেন তাঁরা। এটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি।

শান্ত খেলেছেন তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস—২৬০ বলে ১৩৬ রান, যাতে ছিল ১৪টি চারে ও একটি ছক্কা। অন্যদিকে মুশফিকের ১৮৬ বলে ১০৫ রানের ইনিংস ছিল পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার নিখুঁত প্রতিফলন। দু’জনই প্রতিপক্ষ বোলারদের ধৈর্য্যের কড়া পরীক্ষা নিয়েছেন। দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পরও শ্রীলঙ্কা কোনো উইকেট নিতে পারেনি।

৯০ ওভার শেষে দিনের শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩ উইকেটে ২৯২ রান। টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনে এটি একটি দৃঢ় ভিত। গলের পিচে যেখানে প্রথম দুই দিন ব্যাটিং সহায়ক হয় বলে পরিচিত, সেই সুবিধা কাজে লাগাতে যেভাবে ধৈর্য, কৌশল আর সাহস দরকার—তা দেখিয়ে দিয়েছেন শান্ত ও মুশফিক।

এদিন বাংলাদেশ একাদশেও এসেছে কিছু পরিবর্তন। চোটের কারণে মেহেদী হাসান মিরাজ অনুপস্থিত থাকায় দলে এসেছে নতুন ভারসাম্য। দীর্ঘদিন পর দেখা গেছে তরুণ পেসার নাহিদ রানাকে। চারে খেলছেন বিশেষজ্ঞ বোলার। সব মিলিয়ে টেস্টটি বাংলাদেশের জন্য এক নতুন পরীক্ষা।

তবে প্রথম দিন শেষে বোঝা যাচ্ছে, সেই পরীক্ষার শুরুটা বেশ ভালোভাবেই উতরে গেছে টাইগাররা। এখন অপেক্ষা, এই গল্প কতটা এগোয় গৌরবের পথে।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৯২/৩ (৯০ ওভার শেষে)
ব্যাটসম্যান: সাদমান ১৪, এনামুল ০, মুমিনুল ২৯, শান্ত ১৩৬*, মুশফিক ১০৫*
বোলিং: আসিথা ১৪-২-৫১-১, থারিন্দু ৩২-৩-১২৪-২


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জুলাইতেই প্রকাশ পাবে ‘জুলাই সনদ’: আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য গঠনে একটি সমন্বিত জাতীয় সনদ প্রণয়নের পথে দ্রুত এগোচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, জুলাই মাসের মধ্যেই এই জাতীয় সনদ প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়। সেখানে আলী রীয়াজ বলেন, “সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব না হলেও, আলোচনা এগিয়ে নিতে দলগুলোর মাঝে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকা জরুরি। আমরা জুলাইয়ের মধ্যেই জাতীয় সনদ প্রস্তুত করতে সংকল্পবদ্ধ।”

উল্লেখ্য, ঈদের আগেই আলোচনা পর্ব শুরু হলেও মঙ্গলবার থেকে বিএনপি, এনসিপিসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মূল আলোচনা শুরু হয়েছে।

আলোচনার প্রধান এজেন্ডাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ
  • সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব
  • সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতির মনোনয়ন পদ্ধতি
  • দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাব
  • প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া

কমিশন জানিয়েছে, আলোচনা টানা তিনদিন চলবে এবং প্রয়োজনে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তা অব্যাহত থাকবে। সব দলের সম্মতির ভিত্তিতেই ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ড. ইউনূসকে কলম ও বই উপহার দিলেন তারেক রহমান

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে লন্ডনে বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠক চলাকালে প্রধান উপদেষ্টাকে তিনটি উপহার দেন তিনি। উপহারগুলোর মধ্যে ছিল একটি কলম ও দুটি বই।

শুক্রবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় বৈঠকটি শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার কিছু পর শেষ হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে উপহারের বিষয়টি জানান।

শফিকুল আলমের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমানের দেওয়া উপহারগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি ফাউন্টেন পেন, গ্রেটা থুনবার্গের লেখা ‘No One Is Too Small to Make a Difference’ এবং ‘Nature Matters’ (সম্পাদনা করেছেন মোনা আর্শি ও ক্যারেন ম্যাকার্থি উলফ) বই দুটি।

এর আগে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে বাসা থেকে রওনা হয়ে বৈঠকের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছান তারেক রহমান। হোটেলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

বিএনপির পক্ষ থেকেও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।




টিউলিপের সঙ্গে দেখা করছেন না প্রধান উপদেষ্টা ; হতাশা প্রকাশ টিউলিপের

যুক্তরাজ্যে চার দিনের সফরে থাকা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন টিউলিপ।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস জানান, টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এখন আইনি প্রক্রিয়াধীন। তাই সাক্ষাৎ করলে সেটি আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের শামিল হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি আদালতের বিষয়। আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে মামলা চলার মতো যথেষ্ট উপাদান আছে কিনা। প্রসিকিউটরদের আরও স্বচ্ছ হওয়া উচিত কিনা, সে প্রশ্নের উত্তরে ইউনূস জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং কমিশন সঠিক কাজটিই করছে।”

এদিকে যদি টিউলিপ বাংলাদেশে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে প্রত্যর্পণ চাওয়া হবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, “যদি তা আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়, তবে অবশ্যই।”

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি বলেন, “মিডিয়ার কাছে কোনো প্রমাণ ছাড়াই, কাল্পনিক অভিযোগের ভিত্তিতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছড়ানো হচ্ছে। ইউনূস সে প্রতিহিংসার কেন্দ্রে রয়েছেন। যদি এটা প্রকৃত আইনি প্রক্রিয়া হতো, তবে তারা আমার আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত, ঢাকায় এমন এক ঠিকানায় ভুয়া চিঠিপত্র পাঠাত না, যেখানে আমি কখনও থাকিনি।”

টিউলিপ আরও বলেন, “আমি আশা করি তিনি এখন সংবাদমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়ার অভ্যাস বন্ধ করবেন এবং আদালতকে প্রমাণ করার সুযোগ দেবেন যে তদন্তের সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং যুক্তরাজ্যের সংসদের একজন গর্বিত সদস্য।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নৈতিক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাস টিউলিপের বিরুদ্ধে তদন্ত করেন। প্রতিবেদনে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি; তবে আত্মীয়তার কারণে সম্ভাব্য সুনামের ক্ষতির বিষয়ে সতর্কতা জানানো হয়।

বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে, যার একটি বড় অংশ যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে। এ অভিযোগের তদন্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ব্রিটিশ আইনজীবী নিয়োগ করেছে।

ড. ইউনূস জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য সরকার এই তদন্তে অত্যন্ত সহযোগিতামূলক। আন্তর্জাতিক দুর্নীতি সমন্বয় কেন্দ্র (আইএসিসিসি) বাংলাদেশের অনুসন্ধানে সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করছে।

তবে সফরকালে ড. ইউনূসের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের বৈঠক হয়নি। এ বিষয়ে ইউনূস বলেন, “আমি জানি না আমি হতাশ নাকি তিনি হতাশ। এটা এক প্রকার সুযোগ হারানো। বাংলাদেশে এলেই হয়তো পরিস্থিতি বোঝা যেত।”

স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ার পেছনে ডাউনিং স্ট্রিট কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এমন কোনো ব্যাখ্যা আমরা পেয়েছি বলে মনে হয় না। সম্ভবত তিনি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যস্ত ছিলেন।”




ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা

ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় অবস্থিত পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পূর্বে রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার।

ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, “এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো ধ্বংস করা। এই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে। কারণ ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষাই এখন প্রধান লক্ষ্য।”

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, অভিযানে ডজনখানেক পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তার দাবি, ইরানের কাছে এমন পরিমাণ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ১৫টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “নেশন অব লায়ন্স”। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে আসা তাৎক্ষণিক হুমকির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ জানিয়েছে, তেহরান শহর ও আশপাশে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান তার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে এবং ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

ইরানি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন প্রেস টিভি জানায়, হামলায় অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হামলায় ইরানের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের পারমাণবিক বিজ্ঞানীর মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই হামলাকে “প্রতিরোধমূলক আঘাত” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইরান থেকে শিগগিরই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা রয়েছে। হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বাজিয়ে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ভোর ৩টা থেকে জরুরি কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনসমাগম স্থলও বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশটির বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত নয়। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা সেনাদের ওপর হামলা হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।”

এর আগে, গত বুধবার ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়লে এবং যুদ্ধ শুরু হলে ইরান সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে।




তাপপ্রবাহ কমলেও ২৫ জেলা এখনো দাবদাহে, বৃষ্টির আভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের

সারা দেশের অনেক স্থানে বৃষ্টি শুরু হলেও আজও দেশের ২৫টিরও বেশি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী পাঁচদিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং তাপমাত্রাও কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকালে আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে সারাদেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

বর্তমানে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বাগেরহাট, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু এলাকায় এই তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ জুন) সকাল ৯টা থেকে একই ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (১৫ জুন) ও সোমবার (১৬ জুন) দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু স্থানেও দমকা হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে দেশের সার্বিক তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।




সাদাপাথরে ঈদের তৃতীয় দিনেও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে ঈদের তৃতীয় দিনেও ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই স্থানে সময় কাটিয়েছেন পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে।

সোমবার (৯ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধলাই নদীর পাড়ে সাদাপাথরের সাদা পাথর, স্বচ্ছ জলরাশি এবং সবুজ পাহাড়ঘেরা দৃশ্য উপভোগ করতে দেখা যায় পর্যটকদের। ঈদের ছুটির আনন্দ প্রকৃতির সান্নিধ্যে খুঁজে পেতে এখানে ছুটে এসেছেন অনেকেই।

নোয়াখালী থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, “সাদাপাথরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনকে প্রশান্তি দেয়। এখানে এসে প্রকৃতির এত কাছাকাছি থাকতে পেরে ঈদের আনন্দটা আরও গভীরভাবে অনুভব করেছি। সিলেট সত্যিই অসাধারণ।”

আরেক পর্যটক  বলেন, “ছবিতে যেমনটা দেখেছি, বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর সাদাপাথর। পাহাড়, নদী আর পাথরের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে অনন্য এক প্রাকৃতিক দৃশ্যপট।”

স্থানীয়রাও সাদাপাথরের পরিবেশে আনন্দ খুঁজে পান। সিলেট শহর থেকে আসা  এক পর্যটক  জানান, “প্রায়ই আসা হয় এখানে। তবে ঈদের সময় সাদাপাথরে আলাদা একটা আমেজ থাকে। বন্ধুদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটছে। নিরাপত্তার ব্যবস্থাও ভালো।”

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ রয়েছে সরব ভূমিকায়। কোম্পানীগঞ্জে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যুরিস্ট পুলিশের  এক কর্মকর্তা বলেন, “ঈদের তৃতীয় দিনেও সাদাপাথরে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক টিম সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে কাজ করছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।”

সাদাপাথরের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)বলেন, “সাদাপাথর এখন দেশের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিবিড় তদারকি রাখা হচ্ছে। একটি পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা সচেষ্ট এবং পর্যটকদের সহযোগিতা আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।”

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়ানো সাদাপাথর এখন শুধু সিলেট নয়, দেশের পর্যটন মানচিত্রে এক আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।




কারাগারে ঈদে বন্দিদের গান শোনালেন গায়ক নোবেল

ঈদের দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের জন্য আয়োজন করা এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেছেন কারাবন্দি গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল। শনিবার (৭ জুন) বিকেল তিনটার দিকে কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

কারাগারের মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নোবেল পরিবেশন করেন জনপ্রিয় শিল্পী জেমস ও আইয়ুব বাচ্চুর গান, যার মধ্যে ছিল ‘ভিগি ভিগি’ ও ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে’। তিনি নিজের একটি গানও পরিবেশন করেন।

নোবেলের কণ্ঠে গান শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অনেক বন্দি। গানের মধ্যে দিয়ে তারা ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন, কারাগারের পরিবেশে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর মুহূর্ত।

কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য ইতিবাচক ও মানবিক পরিবেশ তৈরি করতেই এই বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়েছে। নোবেলের অংশগ্রহণ সেই উদ্দেশ্যকে আরও রঙিন করেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি নারী নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তার হন নোবেল। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর ডেমরা থানায় মামলা দায়ের হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এক সময়ের জনপ্রিয় এই গায়ক এখন বিভিন্ন বিতর্কে জড়ালেও ঈদের এই ব্যতিক্রমী পরিবেশনায় কারাগারে থাকা বন্দিদের মাঝে কিছুটা আনন্দ ও আশার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




হার্টের রোগীদের যেই নিয়ম মেনে গরুর গোশত খেতে হবে!

গরুর মাংস অনেক পুষ্টিকর হলেও এতে থাকা অতিরিক্ত চর্বি ও কোলেস্টেরল হৃদরোগীদের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে হার্টের রোগীরাও সীমিত পরিমাণে গরুর মাংস খেতে পারেন।

চর্বিমুক্ত অংশ বেছে নিন:
মাংস রান্নার আগে ভালোভাবে চর্বি কেটে ফেলুন। লাল মাংসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে এতে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট। যতটা সম্ভব লীন বা চর্বিমুক্ত অংশ গ্রহণ করুন।

মাপজোখ করে খান:
সপ্তাহে ১-২ বার এবং একবারে ৫০-৭৫ গ্রাম (১-২ টুকরা) পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ বিবেচিত হয়।

সেদ্ধ বা গ্রিল করে রান্না করুন:
ভাজাপোড়া পরিহার করে সিদ্ধ, গ্রিলড বা হালকা তেলে রান্না করা খাবার বেছে নিন। তেলে ভাজা মাংস হৃদযন্ত্রে বাড়তি চাপ ফেলতে পারে।

লবণ কম ব্যবহার করুন:
উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের বড় কারণ। রান্নায় অতিরিক্ত লবণ, সস, ফাস্টফুড টাইপ মশলা ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

সাথে আঁশযুক্ত খাবার খান:
মাংসের সাথে সালাদ, সবজি, ডাল বা শাক খেলে হজম ভালো হয় ও রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রাতের খাবারে গরুর মাংস এড়িয়ে চলুন:
রাতে হজমের গতি কমে যায়, তাই গরুর মাংস দুপুরে খাওয়াই ভালো।

প্রক্রিয়াজাত (Processed) মাংস একেবারেই নয়:
সসেজ, সালামী, বিফ বারগার ইত্যাদি রেডি টু ইট খাবারে থাকে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও সংরক্ষণকৃত রাসায়নিক—যা হার্টের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

যাদের একদম এড়ানো উচিত:
যাদের হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানো হয়েছে বা ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে
উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল রয়েছে
কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউর বা হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়েছে

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
হার্টের রোগীদের খাদ্য তালিকা নির্ধারণে অবশ্যই একজন ডায়েটিশিয়ান বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ-এর পরামর্শ নেওয়া উচিত। স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী মাংস খাওয়ার পরিমাণ ও পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে।

হার্টের রোগীদের জন্য গরুর মাংস পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়, তবে এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও পরিমিতিবোধ অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্যই প্রথম—তাই আনন্দের খাবার যেন দুঃখের কারণ না হয়, তা নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

 




বিশ্ব মুসলিমকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (৬ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঈদুল আজহাকে ‘কুরবান বায়রাম’ বলে উল্লেখ করেন পুতিন। এতে তিনি বলেন, “এই উৎসব মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিন, যা পূর্বপুরুষদের শিক্ষা, করুণা এবং সহানুভূতির চেতনায় ভরপুর। মুসলিম সম্প্রদায় সেই শিক্ষা ধারন করে পরবর্তী প্রজন্মে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “রাশিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তারা নিজেদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়ার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে অবদান রাখছে। এসব অবদান বিশেষ স্বীকৃতি এবং প্রশংসার দাবি রাখে।”

রাশিয়ায় সরকারিভাবে চারটি ধর্ম—খ্রিস্টান, ইসলাম, ইহুদি ও বৌদ্ধধর্ম—স্বীকৃত। প্রায় ১৪ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে মুসলিমরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃত, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ।

ঈদুল আজহার এই বার্তায় পুতিন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের বার্তা দেন।