ভোলায় লবণ শিল্পে প্রাণ ফেরাচ্ছেন তরুণ ইয়াদ

দ্বীপজেলা ভোলার ঐতিহ্যবাহী লবণ শিল্প প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। নদীভাঙন, সরকারি উদ্যোগের ঘাটতি ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল শত বছরের পুরনো সনাতন পদ্ধতির লবণ উৎপাদন। কিন্তু সেই শিল্পে আবারও প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এগিয়ে এসেছেন তরুণ উদ্যোক্তা মো. ইয়াদ হোসেন।

এক সময় ভোলা সদর উপজেলার কালীনাথ রায়ের বাজার এবং বোরহানউদ্দিন উপজেলার মির্জাকালু বন্দর ছিল দেশের লবণ ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সারি সারি লবণ কারখানায় প্রতিদিন উৎপাদন হতো শত শত টন লবণ, যা সারা দেশে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু ক্রমাগত নদীভাঙন ও অবহেলায় সেই চাকা থেমে যায়।

এই মৃতপ্রায় শিল্পে নতুন করে সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছেন ইয়াদ। তিনি তার পিতার প্রতিষ্ঠিত কারখানায় আবারও সনাতন পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন শুরু করেছেন। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে ট্রলারে করে আনা কাঁচা লবণ জলীয় পদ্ধতিতে পরিশোধন করে র্ক্যাশিং মেশিনে শুকিয়ে তা আয়োডিন মিশ্রিত ভোজ্য লবণ ও শিল্পে ব্যবহার উপযোগী লবণে রূপ দিচ্ছেন।

ইয়াদের কারখানায় এখন প্রতিদিনই চলছে উৎপাদন। তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্যাকেটজাত লবণ, যা স্থানীয় আড়তদারদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। তার উৎপাদিত লবণ গুণগত মানসম্পন্ন ও দামেও সাশ্রয়ী—প্রতি কেজি মাত্র ১৪ টাকা। যেখানে বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ডের লবণ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪২ টাকা কেজি দরে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইয়াদ বিসিক শিল্পনগরীতে জমি বরাদ্দ নিয়ে আধুনিক ভ্যাকুয়াম পদ্ধতির একটি উন্নত লবণ কারখানা গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন। তবে আর্থিক সংকটে সেই কাজ আপাতত থমকে আছে। তিনি আশাবাদী, সরকারি ঋণ বা পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খুব শিগগিরই সেই কারখানার কাজ শেষ করে জাতীয় পর্যায়েও লবণ সরবরাহ করতে পারবেন।

এদিকে কোরবানি ঈদের আগে ইয়াদের মিল থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন ৬০ টন লবণ কিনে নেয়, যা তার উদ্যোগের প্রতি সরকারের আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভোলা বিসিক শিল্পনগরীর জেলা কর্মকর্তা এসএম সোহাগ হোসেন বলেন, “ভোলায় লবণ উৎপাদনের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকার আন্তরিক। আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।”

তরুণ উদ্যোক্তাদের এই সাহসী উদ্যোগ হয়তো আবারও ফিরিয়ে আনবে ভোলার লবণ শিল্পের হারানো গৌরব।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গঙ্গামতি চর: কুয়াকাটার বুকে এক নিসর্গের জাদুকাব্য

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের মাত্র ১০ কিলোমিটার পূর্বে বিস্তৃত গঙ্গামতি চর—একটি স্থান যেখানে সমুদ্রের গর্জন, লেকের শান্ত জলরাশি আর সবুজ বন মিলে সৃষ্টি করেছে এক অপার্থিব সৌন্দর্য। প্রকৃতিপ্রেমী আর ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই চর, যেখানে প্রতিটি সকাল শুরু হয় সূর্যের স্নিগ্ধ আলো আর কাঁকড়ার রঙিন নৃত্যে।

সূর্যোদয়ে রঙিন এক নাট্যাভিনয়

গঙ্গামতির লালচে বেলাভূমিতে ভোরের আলো পড়তেই শুরু হয় কাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ। সূর্যোদয়ের মুহূর্তগুলো যেন ক্যানভাসে আঁকা কোনো শিল্পকর্ম। এই দৃশ্য দেখে পল্লীকবি জসিমউদ্দিনের কবিতার মাঠগুলো মনে পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

বনজীবনের জীবন্ত নিদর্শন

চরজুড়ে বিস্তৃত কেওড়া, গেওয়া, বাইন ও ছইলার বনে নানা ধরনের বন্যপ্রাণীর বিচরণ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানে পাখির কলতান, বানরের লাফালাফি, শেয়ালের নিঃশব্দ পথচলা আর বুনো শুকরের মাটির নিচে কন্দ খোঁজার দৃশ্য সবই যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা একটি ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর।

লেকের হৃদয়স্পর্শী সৌন্দর্য

গঙ্গামতির লেক যেন চরটির প্রাণ। জোয়ার-ভাটার প্রভাবে প্রতিনিয়ত এর রূপ বদলায়। পর্যটকরা ট্রলার, ডিঙি নৌকা কিংবা হেঁটে এই লেক আর আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। ভাটার সময় গাছ থেকে ঝরে পড়া পাতা ও ফুল মিলে তৈরি করে অনন্য এক প্রাকৃতিক শিল্প।

যাতায়াতে সহজতা, অথচ উন্নয়ন নেই

কুয়াকাটা জিরোপয়েন্ট থেকে সহজেই মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, অথবা ভ্যানে গঙ্গামতিতে যাওয়া যায়। ভাটার সময় যাওয়া যায় মাইক্রোবাসেও। তবুও পর্যটন সুযোগ-সুবিধার অভাবে এই চর এখনও অবহেলিত। নেই পর্যাপ্ত সড়ক উন্নয়ন, নিরাপত্তা কিংবা পরিচ্ছন্নতা।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি সাদমান ও সিলভি বলেন, “এটা যেন এক অন্য জগৎ। লেক, বন আর কাঁকড়া মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা ছিল অসাধারণ।”

ঘুমিয়ে থাকা সম্ভাবনার গন্তব্য

স্থানীয়দের মতে, সরকারি উদ্যোগ ও বিনিয়োগের অভাবে গঙ্গামতির সম্ভাবনা এখনও অচর্চিত। যদিও কিছু হাউজিং কোম্পানি ইতোমধ্যে এখানকার জমিতে বিনিয়োগ শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা করছে। এখানে সাগরভাঙনের ঝুঁকি কম, ভূমির স্বাভাবিক ভারসাম্যও অনেক বেশি—সব মিলিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।

উপসংহার

গঙ্গামতি শুধু একটি চর নয়—এটি ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনাময়, টেকসই, পরিবেশবান্ধব আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে। দরকার শুধু দৃষ্টি প্রসারিত করা, পরিকল্পনা গ্রহণ এবং আন্তরিক সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




নৌবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প পাথরঘাটায়, উপকার পেল শতাধিক রোগী

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ‘সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা’ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হলো একদিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্প। সোমবার (২৩ জুন) আয়োজিত এ ক্যাম্পে প্রায় ৪০০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন।

এই কার্যক্রমটি পরিচালনা করে খুলনা নৌ অঞ্চল কমান্ডারের তত্ত্বাবধানে বরগুনা নৌ কন্টিনজেন্ট। সেবা দেন বানৌজা ‘উপশম’-এর দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা। রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি সাধারণ অসুখ থেকে শুরু করে কিছু জটিল সমস্যারও চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পাথরঘাটার দুর্গম ও উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জন্য এ সেবা বিশেষভাবে কার্যকর হয়েছে। রোগীরা চিকিৎসা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নৌবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

নৌবাহিনী সূত্রে আরও জানানো হয়, ভবিষ্যতেও দেশের অন্যান্য দুর্গম এলাকায় নিয়মিত এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত কোচিং সেন্টার বন্ধ

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁস ও গুজব রোধে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক তথ্য বিবরণীতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ জুন (বুধবার) মধ্যরাত থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে।

সম্প্রতি শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

তথ্য বিবরণীতে আরও বলা হয়:

  • প্রশ্নপত্র ফাঁস বা গুজব ছড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোনসহ কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • পরীক্ষার দিন ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে।
  • বিলম্বে উপস্থিত হলে রেজিস্টারে নাম, রোল, সময় ও কারণ উল্লেখ করে বোর্ডকে জানাতে হবে।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরীক্ষা বিলম্বিত হলে সময় সমন্বয় করে পূর্ণ সময় পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হবে।
  • প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও দায়িত্বে থাকবে।

চলতি বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন।




উজিরপুরে নিখোঁজ কৃষক, তিন দিনেও সন্ধান মেলেনি

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের কৃষক কাজী আবু তালেব (৫০) নিখোঁজ রয়েছেন তিন দিন ধরে। এ ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২১ জুন রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে জয়শ্রী বাসস্ট্যান্ড থেকে স্থানীয় সাজু পাম্প এলাকায় যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পরিবারের দাবি, তাকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পরপরই তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

📞 নিখোঁজের আগমুহূর্তে ফোন

নিখোঁজ আবু তালেবের স্ত্রী পলি বেগম জানান, ঘটনার দিন রাতে স্বামী তাকে কল না দিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফেরদৌস হাওলাদারকে ফোন করেন। ফোনে তিনি জানিয়ে ছিলেন— “আমাকে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হচ্ছে।” এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

🛂 থানায় সাধারণ ডায়েরি

নিখোঁজের ঘটনায় পরদিন ২২ জুন উজিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরিবার প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

🗣️ স্থানীয়দের বক্তব্য

সাবেক ইউপি সদস্য ফেরদৌস হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফোন কল পাওয়ার পরপরই তিনি আবু তালেবের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ঘটনাটি জানিয়ে দেন।

❗ পরিবারের আবেদন

আবু তালেবের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন। তারা প্রশাসনের কাছে আবু তালেবকে উদ্ধার করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।


📌 নিখোঁজ ব্যক্তির নাম: কাজী আবু তালেব
বয়স: ৫০ বছর
পিতা: মৃত কাজী আহাম্মত আলি
গ্রাম: জয়শ্রী, উজিরপুর, বরিশাল
নিখোঁজের তারিখ: ২১ জুন ২০২৫
জিডি নম্বর: [জিডির নম্বর পাওয়া গেলে এখানে যোগ করা যেতে পারে]


প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৫
📰 বার্তা২৪.কম




শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড জিতে দেশসেরা পটুয়াখালীর সুন্নাহ

বাংলাদেশ স্কাউটস আয়োজিত কাব কার্নিভাল ২০২৫-এ কলাপাড়ার কৃতী শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা সুন্নাহ শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করে অনন্য গৌরব অর্জন করেছে। সোমবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীতে আয়োজিত কাব কার্নিভালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মো. ইউনূসের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে সুন্নাহ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড মূল্যায়নে বরিশাল অঞ্চলে প্রথম স্থান অর্জন করে সুন্নাহ। সে বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ পটুয়াখালীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তার প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয় কলাপাড়ার মঙ্গলসুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখান থেকে এই মূল্যায়নে অংশ নেয় এবং অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে।

উম্মে হাবিবা সুন্নাহ’র গ্রামের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামে। তার পিতা আহসান হাবিব চুন্নু বরিশালে কর্মরত ব্র্যাকের একজন এলাকা ব্যবস্থাপক এবং মা রাবেয়া সুলতানা রিপা একজন স্কুল শিক্ষিকা।

সাফল্য সম্পর্কে সুন্নাহ বলেন, “এ অর্জন আমার পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের উৎসাহ আর ভালোবাসার ফল। ভবিষ্যতে আমি একজন চিকিৎসক হয়ে অসহায় মানুষের সেবা করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”

মঙ্গলসুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুস সাকিব খান কনা বলেন, “আমার স্কুল থেকে সুন্নাহ বরিশাল অঞ্চলে প্রথম হয়ে যে সম্মান এনে দিয়েছে, তা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমি তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।”

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ৯ মামলার আসামি জলিল ডাকাত গ্রেফতার

বাংলাদেশ স্কাউটস কলাপাড়া উপজেলা সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, “২০২৪ সালে কলাপাড়া উপজেলার ২৭ জন শিক্ষার্থী শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড ও ১০ জন প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে উম্মে হাবিবা সুন্নাহ বরিশাল অঞ্চলে প্রথম হয়েছে। কলাপাড়ার স্কাউটস কার্যক্রমে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।”

উল্লেখ্য, শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড হচ্ছে বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ কাব পর্যায়ের স্বীকৃতি, যা জাতীয় পর্যায়ে অভূতপূর্ব অর্জন হিসেবে বিবেচিত। সুন্নাহর এই অর্জন কেবল কলাপাড়া নয়, বরিশাল তথা গোটা দেশের জন্য গর্বের।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভোলা হাসপাতাল যেন পোকামাকড়ের আক্রমণে বন্দি

ভোলা জেলার একমাত্র প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল বর্তমানে যেন পোকামাকড় ও ময়লার দখলে চলে গেছে। প্রায় ২২ লাখ মানুষের এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপদ্রবে রীতিমতো অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা।

বিশেষ করে নারী ও শিশু ওয়ার্ডে পোকামাকড়ের উপদ্রব ভয়াবহ। রোগীদের শয্যার নিচে, দেয়ালের ফাঁকে ও মেঝেতে ঘুরে বেড়ানো পোকামাকড় রোগীদের কামড়াচ্ছে, খাবারে উঠে আসছে—আর রাতে এই উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল মমিন বলেন, “চিকিৎসা নিতে এসে পোকামাকড়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। ছারপোকার কামড়ে শুয়েও থাকা যায় না। রোগী হয়ে এসেছি, এখন আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।”

সদর উপজেলার ফাতেমা বেগম জানান, “রাতে ঘুমানোর সময় তেলাপোকা মুখে উঠে, কামড় দেয় ছারপোকা। খাবারেও পোকা উঠে যায়—তবুও সেই খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছি।”

রোগীর স্বজন নারগিছ বেগম ও সুরমা আক্তার জানান, টয়লেটগুলো দুর্গন্ধময় ও ব্যবহারের অযোগ্য। দরজা নেই, পানি নেই, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দেখা যায় না। একজন টয়লেট ব্যবহার করলে অন্যজনকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নিরাপত্তার জন্য।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১,০০০ থেকে ১,২০০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে, আর ভর্তি থাকে ধারণক্ষমতার চেয়ে দুই-তিন গুণ বেশি রোগী। অথচ হাসপাতালের ১৫ জন সরকারি ও ২৫ জন আউটসোর্সিং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তায়েবুর রহমান বলেন, “পোকামাকড় মারতে স্প্রে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ধাপে ধাপে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আশা করি দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু সুফিয়ান রুস্তম বলেন, “পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছে, কিন্তু আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। আমরা স্প্রে ছিটানো শুরু করেছি এবং এতে কিছুটা উন্নতিও এসেছে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর ধরে এমন দুরবস্থার কথা জেনে-শুনেও স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”




আওয়ামী লীগ-বিএনপি একই ধারার দল: মুফতি ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটি দলই একই চরিত্র বহন করে। শাসক পরিবর্তন হলেও দেশের জুলুমের চিত্র অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

রোববার লালমনিরহাটের কালেক্টর মাঠে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“আওয়ামী লীগ দোষী হলে, একই অপরাধে বিএনপিও দোষী হবে। শপথ ছাড়াই ক্ষমতা দখল, বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ সবই চলমান। শুধু শাসকের মুখ বদলেছে, পদ্ধতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।”

তিনি বলেন, পুঁজিবাদ ধনীকে আরও ধনী করে, গরীবকে আরও গরীব করে। অথচ ইসলাম ধনীদের মধ্যে ভারসাম্য আনে এবং গরীবদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করে। গত ১৬ বছরে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যার দায় সাধারণ জনগণকে বহন করতে হচ্ছে কৃষক, শ্রমিক, প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ঘামে গড়া এই টাকাই লুট হয়েছে।

ফয়জুল করীম বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষ, অথচ এই জনশক্তিকে কাজে লাগানো হয়নি। বরং তাদের মধ্যে মাদক, হিংসা, হানাহানি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার চেয়ে একজন ওয়ার্ড নেতার আয় বেশি—এটাই দেশের বাস্তব চিত্র। ৫ আগস্টের পর অনেকেই রাতারাতি ধনী হয়ে গেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ আজও নিঃস্ব।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে ইসলাম কাউকে জোর করে কিছু করবে না বরং অপরাধের পরিবেশই থাকবে না। তিনি বলেন,
“হাতপাখা প্রতীক বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে, শান্তি পৌঁছাবে ঘরে ঘরে।”

সমাবেশে লালমনিরহাটের তিনটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়:

  • লালমনিরহাট-১: মুফতি ফজলুল করীম শাহরিয়ার
  • লালমনিরহাট-২: মুফতি মাহমুদুর রহমান
  • লালমনিরহাট-৩: আলহাজ্ব মোকসেদুল ইসলাম

বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট হাসিবুল ইসলাম ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমেদ মানসুর।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”




আবারও কলম বিরতিতে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা আবারও কলম বিরতি শুরু করেছেন। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমানকে অপসারণ, ‘গোলামী আইন’ খ্যাত অধ্যাদেশ বাতিল এবং কর্মকর্তাদের ‘হয়রানিমূলক’ বদলি বন্ধের দাবিতে সোমবার আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকাল থেকে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী হাজির হন। অনেকে প্রতিবাদস্বরূপ কাফনের কাপড় পরে অবস্থান নেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—
“গোলামী আইন বাতিল কর”, “বদলির নামে প্রহসন মানি না”, “জুলুমবাজি বন্ধ কর” ইত্যাদি।

রবিবার এনবিআরের আয়কর বিভাগে উপকর কমিশনার পর্যায়ে পাঁচ কর্মকর্তার বদলিকে আন্দোলন দমনের চেষ্টা বলেই দাবি করেছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। তারা বলছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী বদলির পর যোগদানের জন্য ৫ কর্মদিবস সময় দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এবার তা মানা হয়নি।

গত ১২ মে সরকার এনবিআরকে দুই ভাগ করার একটি অধ্যাদেশ জারি করে। এরপর এনবিআর কর্মকর্তারা ২৬ মে পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতির ডাক দেন। সরকার তখন জানায়, এনবিআর বিলুপ্ত নয়, বরং এটিকে স্বাধীন ও বিশেষায়িত বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে কলম বিরতি স্থগিত হলেও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা চলমান রাখার ঘোষণা দেয় সংস্কার পরিষদ।

সরকার গত ২০ জুন এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার সমন্বয়ের জন্য ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। তবে এই কমিটিকে ‘একপেশে’ বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা।

শনিবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ও মহাসচিব অতিরিক্ত কর কমিশনার মিজ সেহেলা সিদ্দিকা জানান, চেয়ারম্যান অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”




একীভূত হচ্ছে ৫ ইসলামী ব্যাংক, আসছে ‘সরকারি মালিকানার সুপার ব্যাংক’

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার পরিকল্পনায় চূড়ান্ত রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে এই ব্যাংকগুলোর ফরেনসিক অডিট ও অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (AQR) সম্পন্ন হয়েছে এবং একীভূতকরণের মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর ব্যাংকিং কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে।

যেসব ব্যাংক একীভূত হচ্ছে
এদের মধ্যে রয়েছে :

  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
  • গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
  • ইউনিয়ন ব্যাংক
  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
  • এক্সিম ব্যাংক

এই ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুরবস্থার প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। এক্সিম ব্যতীত বাকিগুলোতে ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে ব্যাংকগুলোর এমডি ও চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রাথমিক রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ফরেনসিক অডিটের প্রতিবেদন চলতি মাসেই প্রকাশ পাবে। এরপর, শ্রেণিবিন্যাস, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধনের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে একীভূত প্রক্রিয়া শুরু হবে জুলাই মাস থেকে এবং অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে। একীভূত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে রাখার জন্য খারাপ ঋণগুলো হস্তান্তর করা হবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির (AMC) কাছে। এ ছাড়া সরকার ও বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীরা মূলধন জোগান দেবে। ব্যাংকের শাখা কমানো, জনবল হ্রাস ও পরবর্তী ধাপে বেসরকারি খাতে শেয়ার ছাড়া হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক একীভূত করে মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় যদি সুশাসন, খেলাপি ঋণ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার মূল কারণ দূর না করা হয়। ড. মুস্তফা কে মুজেরীর মতে, শুধুমাত্র দুর্বল ব্যাংক একত্র করলে শক্তিশালী ব্যাংক তৈরি হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশ্বস্ত করেছে, প্রাথমিকভাবে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হবে না এবং বেতনও কমানো হবে না। তবে ভবিষ্যতে কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশাসক নিয়োগের চিন্তা রয়েছে।

ব্যাংকগুলোর বর্তমান চিত্র

  • শাখা সংখ্যা: ৭৭৯
  • উপশাখা: ৬৯৮
  • গ্রাহক সংখ্যা: প্রায় ৯২ লাখ
  • মোট ঋণ: ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা
  • মোট আমানত: ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা
  • খেলাপি ঋণ: ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা
  • প্রভিশন ঘাটতি: ৭৪ হাজার ৫০১ কোটি টাকা

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, একীভূতকরণ কার্যকর করতে হলে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”