৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের একটি এলাকায় ওই নারী নিজ বাড়ির উঠানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে সংঘবদ্ধভাবে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। পরিবার জানায়, ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ঘটনার সময় নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি।

ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীর স্বামী বুধবার বিকেলে রাজাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং স্থানীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সন্দেহভাজন চার যুবককে চিহ্নিত করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মঠবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাউথপুর এলাকার বাসিন্দা মো. রাসেল সিকদার (২৩), মো. রাহাত হোসেন খান (১৯), মো. জহির রায়হান ব্যাপারী (২০) এবং মো. সাগর হোসেন হাওলাদার (২০)। বুধবার রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে। তিনি বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট ও তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত সত্যতা আরও স্পষ্ট হবে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত চার যুবককে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একজন অন্তঃসত্ত্বা ও প্রতিবন্ধী নারীর ওপর এমন নৃশংসতা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বার্তা বহন করে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কড়া অবস্থান, ভিসিসহ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্র

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে টানা শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর প্রসিকিউশন এই অবস্থান স্পষ্ট করে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার তৃতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের প্যানেল। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্কের একপর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করেন। ওই ফুটেজে আবু সাঈদ হত্যার সময় বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটক এলাকায় সংশ্লিষ্ট আসামিদের অবস্থান ও গতিবিধি তুলে ধরা হয়।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ভিডিওচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখান, ঘটনার মুহূর্তে কে কোথায় ছিলেন এবং কার কী ভূমিকা ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই ফুটেজ মামলার অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ, যা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে আরও দৃঢ় করে।

যুক্তিতর্ক শেষ করে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে প্রসিকিউটর বলেন, এই পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন শেষ হয়েছে এবং তারা অভিযুক্ত সকল আসামির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার পর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো আদালতে বক্তব্য দেন। তিনি বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ তিনজন আসামির পক্ষে আইনি লড়াই করছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় অভিযুক্ত ৩০ জনের মধ্যে বর্তমানে ছয়জন কারাগারে রয়েছেন। রোববার সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কারাবন্দি আসামিরা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ।

অন্যদিকে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত বেরোবির তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ আরও ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই হত্যা শুধু একজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানি নয়, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর সরাসরি আঘাত। তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিরাপত্তা শঙ্কায় থানায় জিডি, আতঙ্কে হাদির পরিবার

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শহীদ ওসমান হাদির মেঝো ভাই ওমর বিন হাদি। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা, হত্যার আশঙ্কা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় এই জিডি করা হয়। জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি এবং হাদির সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অপরাধী চক্র গ্রেপ্তার না হওয়ায় যে কোনো সময় তাদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

জিডির বিবরণে বলা হয়, হত্যার ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে পরিবারের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ওমর বিন হাদিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

ওমর বিন হাদি জিডিতে আরও জানান, এসব হুমকি ও অপপ্রচারের কারণে তিনি এবং হাদির সন্তান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় তারা সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, জিডির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। হুমকি ও অপপ্রচারের পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাও নেওয়া হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্যারোলে মুক্তির খবর ভুয়া, জানাল জেলা প্রশাসন

বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে যে তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সঠিক নয় বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে প্যারোলে মুক্তির জন্য কোনো ধরনের লিখিত বা আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়নি।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জুয়েল হাসান সাদ্দাম গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত হন। তার স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে শুরু হয়, যার মধ্যে প্যারোলে মুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যানের দাবিও ছিল।

তবে জেলা প্রশাসন জানায়, সময়ের স্বল্পতা ও পারিবারিক বাস্তবতার কারণে জুয়েলের পরিবার প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে মরদেহ কারা ফটকে দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবারের মৌখিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করে মানবিক বিবেচনায় কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বন্দির স্ত্রীর নামে লেখা একটি চিঠি ও বন্দি অবস্থায় তোলা কয়েকটি ছবি নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চিঠি ও ছবির সঙ্গে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

জেলা প্রশাসন আরও জানায়, ‘আবেদন করা হলেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি’—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। কারণ, প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়েনি।

বিষয়টি পরিষ্কার করার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায়িত্বশীলতা ও তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে না পড়ে এবং জনমনে ভুল বার্তা না যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজ আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  আজ ২৪ শে জানুয়ারী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী ।

২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি আরাফাত রহমান কোকো মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জন্ম ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এতে তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা বনানী কবরস্থানে কোকোর কবর জিয়ারত করবেন। পরে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বিএনপির কেন্দ্রীয়, মহানগর এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও কোকো রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না বরং খেলা ধুলা নিয়ে তিনি ব্যস্ত থাকতেন । তিনি ক্রীড়া সংগঠক ও শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবেই  বেশি পরিচিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।এ ছাড়া ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের চেয়ারম্যান ছিলেন। ছিলেন। বিসিবি ছাড়াও তিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও সিটি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন কোকো। ২০০৮ সালের ১৮ জুলাই চিকিত্সা নিতে সপরিবারে ব্যাঙ্ককে যান তিনি। পরে মালয়েশিয়ায় চলে যান। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।




দুদক অভিযানের পর গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোররুমে রহস্যজনক আগুন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানের মাত্র ২৪ দিনের মাথায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর রাতে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত স্টোররুমে আগুন লাগে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও স্টোররুমে সংরক্ষিত বেডশিট, কম্বল, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও চিকিৎসা সামগ্রী পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে দশমিনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট সহায়তায় যোগ দেয়। অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে স্টোররুমে সরাসরি প্রবেশ সম্ভব না হওয়ায় জানালার কাচ ভেঙে পানি ছিটিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুরোপুরি আগুন নির্বাপণে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা।

অগ্নিকাণ্ডের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত পানির কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে পানি জমে যায়। ফলে সকাল থেকে আউটডোর সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়, যা দুপুরের দিকে স্বাভাবিক হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরিয়ে নিতে গলাচিপা পৌরসভার পক্ষ থেকে সহায়তা করতে দেখা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে ভোরেই হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন। তিনি জানান, স্টোররুমে সংরক্ষিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কাগজপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে।

গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার মো. কামাল হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট ও দুটি পাম্প নিয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুনের উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আলাদা তদন্ত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান, গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত স্টোররুম ও হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, লিনেন সামগ্রীর একটি কক্ষ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, যাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় একটি মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ২৯ ডিসেম্বর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযানে হাসপাতালের স্টোর রেজিস্ট্রারে ওষুধ মজুদের তথ্য ও বাস্তব সরবরাহের মধ্যে গরমিল পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ মজুদ থাকলেও রোগীদের দেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ উঠে। পাশাপাশি খাবারের মান, কর্মচারীদের হাজিরা এবং সামগ্রিক সেবা ব্যবস্থায় অনিয়মের নানা প্রমাণ পায় দুদক।

পটুয়াখালী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল লতিফ হাওলাদারের নেতৃত্বে ওই অভিযানে উপসহকারী পরিচালক খালিদ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। তখন দুদক জানায়, হাসপাতালের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

দুদকের সেই অভিযানের মাত্র ২৪ দিনের মাথায় সংশ্লিষ্ট স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আগামী নির্বাচনে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে: মেজর হাফিজ

আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরে দেশের মানুষ নির্বাচনের নামে প্রহসনের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের দলীয় মনোনীত প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র ফেরানোর একটি বড় সুযোগ।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার লালমোহন পৌরশহরের শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউ মন্দির প্রাঙ্গণে উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

মেজর হাফিজ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মাটিতে গণতন্ত্র দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার জনগণ অবাধ ও নিরাপদ পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। যারা বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে, সেই দলের যোগ্য প্রার্থীকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ—যেখানে সবাই শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করবে।

মেজর হাফিজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউ মন্দির কমিটির সভাপতি নীরব কুমার দে’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বাবুল, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া জান্টু, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারীসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দাঁড়িপাল্লায় ভোটের আহ্বান এনসিপি নেত্রীর

জামায়াত জোটের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসন থেকে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু। দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে তিনি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি লেখেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলাম। আমার জীবনের প্রথম ভোট ইনশাআল্লাহ দাঁড়িপাল্লায় হবে। কাঁঠালিয়া-রাজাপুর আসনে যারা আমাকে ভালোবাসেন ও আমার পাশে থাকতে চেয়েছেন, তাদের কাছে অনুরোধ—আমার ভাই ড. ফয়জুল হকের পাশে থাকুন।”

এরপর একই দিন রাতে তিনি আরেকটি পোস্টে সরাসরি দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ সমর্থিত জামায়াত ইসলামের মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হককে সঙ্গে নিয়ে ১০ দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে রাজাপুরে পরিচিতি ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডা. মাহমুদা মিতু লেখেন,
“ইনশাআল্লাহ আগামীকাল (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় কাঁঠালিয়ায় থাকব। এখান থেকেই আমাদের ১০ দলীয় জোটের কার্যক্রম শুরু হলো। ঝালকাঠি-১ আসনের মাটিতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাই। আর ঢাকা-১১ আসনে শাপলা কলিতে ভোট চাই। পুরো বাংলাদেশে এবার ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের জয় হবে ইনশাআল্লাহ।”

এনসিপি নেত্রীর এ ঘোষণার পর ঝালকাঠি-১ আসনে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অপরাধ না করা আ.লীগ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা সরকারের দায়িত্ব: ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও বরিশাল সদর-বাকেরগঞ্জ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী কোনো অপরাধে জড়িত নন, তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তারা যাকে ইচ্ছা তাকেই ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্বাচনী প্রতীক গ্রহণের পর দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়জুল করীম অভিযোগ করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আসামি না হলেও যাকে-তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বিগত সময়ে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন মানুষ নিরাপত্তার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে প্রশাসন যেন একদিকে ঝুঁকে না পড়ে। কালো টাকা ও দখলদারিত্বের ব্যবহার যাতে না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কাউকে হয়রানি করা যাবে না। হয়রানি চলতে থাকলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নতুন করে কোনো জোটে যাওয়ার সুযোগ দেখছে না। তবে যদি শরিয়াভিত্তিক কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে আইন প্রণয়নের সুযোগ তৈরি হয়, তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের এক সময়ের জোটের মূল থিম ছিল ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স। কিন্তু পরে দেখা গেল তারা ইসলামের নীতি থেকে সরে গেছে। তাই ইসলামী আন্দোলন জোট ছেড়েছে। এখন ইসলামের পক্ষে হাতপাখার একটি বাক্স রয়েছে।”

জামায়াতের সঙ্গে জোটগতভাবে ভোট না করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এককভাবেই মাঠে থাকবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। নির্বাচিত হলে তিনি দুর্নীতিমুক্ত বরিশাল গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ এছহাক মোহাম্মাদ আবুল খায়েরসহ দলটির জেলা ও মহানগরের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




উন্নয়ন কাজ দেখতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইউপি সদস্যের মৃত্যু

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. মোহসিন নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোহসিন বলদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ছিলেন। তিনি বয়া গ্রামের মো. শাহবুদ্দিন মিয়ার ছেলে।

নিহতের বড় ভাই মো. মহিউদ্দিন আহম্মদ জানান, সকালে মোহসিন নিজ ওয়ার্ডের একটি লোহার সেতু (লোহারপুল) মেরামতের কাজ পরিদর্শনে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত ওয়েলডিং মেশিনের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. শাহিন হোসাইন বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

এদিকে মোহসিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুল ইসলাম সাঈদ। তিনি বলেন, “মোহসিন একজন সৎ, পরিশ্রমী ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল সদস্যকে হারাল।”

একজন জনপ্রতিনিধির এভাবে কর্মস্থলে প্রাণ হারানোতে এলাকায় ব্যাপক শোক ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫