সৃষ্টিকর্তা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য: গৌরনদীতে যুবক আটক

সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় সৈকত বিশ্বাস (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকালে গৌরনদী উপজেলা গেট এলাকায়। আটক সৈকত বিশ্বাস গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার দোয়ারিয়া গ্রামের কাঙ্গাল বিশ্বাসের ছেলে। তিনি গৌরনদী উপজেলা গেটের একটি স্থানীয় ভাতের হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনদিন আগে সৈকত বিশ্বাস সৃষ্টিকর্তা নিয়ে আপত্তিকর ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী মন্তব্য করে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার সকালে উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে গৌরনদী মডেল থানায় হস্তান্তর করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, অভিযুক্ত যুবককে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে তবে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নীলখোলায় জমজমাট কোটি টাকার পানের হাট

দিন শেষে সন্ধ্যা নামলেই জমে ওঠে বরিশালের গৌরনদীর নীলখোলা এলাকায় অবস্থিত কোটি টাকার পানের হাট। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই হাটটি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কার্যকলাপ নয়, বরং পুরো এলাকার কর্মসংস্থানের প্রাণকেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে।

সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও সোমবার বাদে বাকি পাঁচদিন বসে এই হাট। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে বিকিকিনি। বিক্রি হয় কোটি টাকার পান, যা বরিশালের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। হাট কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে কাঁচাবাজার, মাছ বাজারসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিকেল গড়ালেই জমে ওঠে পুরো নীলখোলা।

সরেজমিন দেখা গেছে, সন্ধ্যা নামতেই বিভিন্ন এলাকার পান চাষীরা ভ্যানে করে বরজের পান নিয়ে আসেন আড়তে। এরপর শুরু হয় পান গোছানো, মাপঝোক আর দামদর। নীলখোলার প্রায় ৫০টিরও বেশি পানের আড়তে প্রতিটি আড়তে কাজ করেন অন্তত ১০-১৫ জন শ্রমিক। এখানকার আয়ের উপর নির্ভর করেই চলে অসংখ্য পরিবারের জীবনযাপন।

পাইকার শাহজাহান তালুকদার জানান, “আমরা প্রতিদিন এখান থেকে ১০-১২ লাখ টাকার পান কিনি। এগুলো ঢাকা, সিলেট, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।”
চাষীরাও বলছেন, আগে গ্রামীণ হাটে পান বিক্রি করতে গিয়ে অনেক সময় পান অবিক্রিত থেকে যেত। এখন আড়তের সুবিধায় সব পান বিক্রি হয়ে যায়।

বর্তমানে আড়তে পানের দাম প্রতি বিড়া (আকারভেদে) ৭০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত হচ্ছে। শীতকালে এ দর আরও বাড়ে।

গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ জানান, “এ উপজেলায় প্রায় ৬৮০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। আমরা নিয়মিত পানচাষীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় চাষীরা ভালো লাভ করতে পারবেন।”

পানের আড়তের মালিকরা বলছেন, আড়তের মাধ্যমে চাষী ও পাইকার—দুই পক্ষই উপকৃত হচ্ছেন। তারা আরও আশাবাদী, ভবিষ্যতে এ হাট আরও প্রসার লাভ করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে আড়াই কেজির ইলিশ ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি

বরিশালে জেলের জালে ধরা পড়েছে এক বিশাল আকৃতির ইলিশ। দুই কেজি ৮শ গ্রাম ওজনের এই রুপালি রাণীটি বিক্রি হয়েছে রেকর্ড দামে—১৩ হাজার টাকায়। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে নগরীর পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বিরল এ দৃশ্য দেখা যায়।

ইলিশটি বাজারে আসার খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। ইলিশটি দেখতে উৎসুক ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ভিড় জমে যায়।

ক্রেতা ব্যবসায়ী আমজাদ তালুকদার বলেন, “ছোটবেলায় এমন বড় ইলিশ সহজেই পাওয়া যেত, কিন্তু এখন আর দেখা মেলে না। এত বড় ইলিশ কিনতে পেরে আমি দারুণ খুশি।”

মৎস্য ব্যবসায়ী মিলন সিকদার জানান, “এ মৌসুমে মাঝেমধ্যে বড় ইলিশ উঠলেও এত ভারী ইলিশ এর আগে দেখা যায়নি। বড় ইলিশ এখন খুবই দুর্লভ।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নদীতে পানি কমে যাওয়া, অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যের কারণে বড় আকারের ইলিশের সংখ্যা দিন দিন কমছে। তাই এমন একটি ইলিশের দেখা মেলা ইলিশপ্রেমীদের জন্য যেন আনন্দের মুহূর্ত।

**এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫**

 




নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্মদিন আজ

আজ ২৮ জুন, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্মদিন। তিনি ১৯৪০ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এই অর্থনীতিবিদ ২০০৬ সালে ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের এক নতুন মডেল উপস্থাপন করে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি যিনি এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেন। ইউনূস ও তার গ্রামীণ ব্যাংকের মডেল বিশ্বের অন্তত ৪০টি দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে।

ড. ইউনূসের পিতা দুলা মিঞা সওদাগর ছিলেন একজন মহুরী এবং মাতা সুফিয়া খাতুন। তার স্ত্রী অধ্যাপক দিনা আফরোজ এবং তাদের রয়েছে দুই কন্যা।

ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। চট্টগ্রাম কলিজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ৩৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬তম স্থান অর্জন করেন। এরপর চট্টগ্রাম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৬১ সালে চট্টগ্রাম কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং পরে অধ্যাপক হন।

১৯৬৫ সালে ফুলব্রাইট স্কলারশিপে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পান তিনি। ১৯৭১ সালে আমেরিকার ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার’ গঠন করে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ তাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। তিনি দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য শুরু করেন ‘গ্রামীণ অর্থনৈতিক প্রকল্প’। ১৯৭৬ সালে জোবরা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা এই উদ্যোগ ১৯৮৩ সালে পূর্ণাঙ্গ ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক (১৯৮৭), যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম এবং কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেলসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ড. ইউনূস। গত বছরের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের ছাত্র-জনতার বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হয়, যা পরে একদফা শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়। প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের পর, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে তিনি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন।

আজ তার জন্মদিনে দেশ-বিদেশে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।




উপকূলের জেলেপাড়ায় হতাশা, ঋণের বোঝায় জর্জরিত জীবন

৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সমুদ্রযাত্রায় ফেরার অনুমতি মিললেও স্বস্তি মেলেনি উপকূলের জেলে পরিবারগুলোর জীবনে। বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকে সমুদ্রে নামতেই পারছেন না, আর যারা গিয়েছেন, তারাও ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। ফলে উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে জমছে হতাশা, বাড়ছে ঋণের বোঝা।

বিশেষ করে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া এলাকার জেলেরা বিপাকে পড়েছেন। চরমোন্তাজের জেলে রফিক হাওলাদার জানান, “৫-৭ লাখ টাকার বাজার করে গভীর সাগরে গিয়েছিলাম। কিন্তু ঢেউয়ের কারণে জাল ঠিকমতো ফেলাই যায় না। কয়েকবার জাল ফেলেও মাছ পাইনি, তাই ফিরে এসেছি।”

রাঙ্গাবালী উপজেলা মেরিন ফিশারিজ অফিসার এস এম শাহাদাত হোসেন রাজু বলেন, “সাগরে মাছ থাকলেও বৈরী আবহাওয়ায় জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।”

উপকূলীয় অঞ্চলে বছরে প্রায় ২৫০–২৭০ দিন পর্যন্ত কোনো না কোনো নিষেধাজ্ঞা বা দুর্যোগে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও, অক্টোবর-নভেম্বরে মা ইলিশ রক্ষা, মার্চ-এপ্রিলে প্রজনন কেন্দ্র সংরক্ষণ এবং জাটকা রক্ষায় দীর্ঘ সময় জেলেদের জাল ফেলা বন্ধ থাকে।

বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলার মতো অঞ্চলের জেলেপাড়াগুলোয় এসব নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সবচেয়ে বেশি। আয়হীন সময়ে পরিবার চালাতে গিয়ে অনেকেই ঋণে ডুবে যাচ্ছেন। রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়ার জেলে আলাউদ্দিন মাঝি বলেন, “জেলে পেশা ছাড়তে চাই, কিন্তু বিকল্প কিছু নেই। মাছ না পেয়ে মহাজনের কাছে ঋণ নিতে হচ্ছে।”

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন ফিশারিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, “জেলেরা এখন অনির্দেশ্য আবহাওয়া আর অনিয়মিত নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বন্দি। পরিবেশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন, তবে সেই সময়টিতে জেলেদের জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ, খাদ্য সহায়তা এবং সহজ ঋণ প্রাপ্তির ব্যবস্থা না থাকলে তারা আরও দুর্বল হয়ে পড়বেন।”

তিনি আরও বলেন, “জেলেদের জন্য একটি ‘লাইভলি হুড সিকিউরিটি প্যাকেজ’ গড়ে তোলা জরুরি। এতে থাকবে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও বিকল্প পেশার প্রশিক্ষণ—যা তাদের জীবনমান টেকসইভাবে উন্নয়ন করতে সাহায্য করবে।”

প্রাকৃতিক বিপর্যয় আর বারবারের নিষেধাজ্ঞায় জেলেদের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায়। টিকে থাকার লড়াইয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হলে চাই বাস্তবভিত্তিক, দীর্ঘমেয়াদী এবং সম্মানজনক সহায়তা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনার ৬ কোটি টাকার সেতু, চলাচল করতে হয় মই বেয়ে!

বরগুনার আমতলীর গুলিশাখালী খালের ওপর নির্মিত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকার একটি গার্ডার সেতু। কিন্তু এক পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি এখন কার্যত অচল। ফলে প্রতিদিন গুলিশাখালী ও কুকুয়া ইউনিয়নের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ ও কাঠের তৈরি মই বেয়ে সেতুতে ওঠানামা করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির পশ্চিম পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয়রা নিজেরাই বাঁশ-গাছ দিয়ে অস্থায়ী মই তৈরি করেছেন। এই মই দিয়েই বয়স্ক নারী-পুরুষ, শিশুরা বৃষ্টির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরা বেগম বলেন, “বাজারে যেতে ব্রিজে উঠতে গিয়ে হাত-পা কাঁপে।”
আরেকজন, বাইনবুনিয়া গ্রামের আল আমিন বলেন, “সেতুতে রাস্তা না থাকায় উঠতে গিয়েই হাঁপিয়ে উঠি।”

সেতু নির্মাণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ত্রিপুরা জেভি’ ২০২৪ সালের জুনে মূল কাঠামোর কাজ শেষ করে। তবে পশ্চিম পাশে সেতুর ঢালের মাত্র ৫ ফুট দূরত্বে পূর্ব খেকুয়ানী গুচ্ছগ্রামের একটি কার্পেটিং সড়ক থাকায়, নকশা অনুযায়ী সংযোগ সড়ক তৈরি করলে সেই সড়কটি বন্ধ হয়ে যাবে। এজন্য প্রকল্পে পরিবর্তন এনে আন্ডারপাস করার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস মিয়া জানান, “নতুন নকশা ও বাজেট তৈরি করে প্রকল্প পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দরপত্র আহ্বান করে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হবে।”

এই সেতুটি ব্যবহার করে গুলিশাখালীর পূর্ব খেকুয়ানী, ডালাচারা, বাইবুনিয়া, কলাগাছিয়া ছাড়াও চাওড়া ও কুকুয়া ইউনিয়নের মানুষ আমতলী সদর, বরিশাল ও ঢাকায় যাতায়াত করে থাকেন। সংযোগ সড়ক না থাকায় পুরো অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু হতে পারে সম্পূর্ণ অকার্যকর এক স্থাপনা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পাশে ড. মাসুদের হেল্প ডেস্ক

পটুয়াখালীর বাউফলে এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় তিনটি প্রধান পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীবান্ধব হেল্প ডেস্ক চালু করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাউফল সরকারি কলেজ, বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ধান্দি কামিল মাদ্রাসায় এই হেল্প ডেস্ক চালু থাকে।

উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ লিমন হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত হেল্প ডেস্কগুলো থেকে পরীক্ষার্থীদের মাঝে ৫০০টি পানির বোতল, ৫০০টির বেশি খাবার স্যালাইন, হাজারের বেশি কলম ও মাস্ক বিতরণ করা হয়।

ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী আফনান ফাতেমা বলেন, “এ ধরনের সহযোগিতা আমাদের পরীক্ষার সময় অনেক উপকারে আসে। আমি ড. মাসুদ স্যার ও ছাত্রশিবিরের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

ধান্দি কামিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী হাফেজ তামিম বলেন, “পরীক্ষার পর গলা শুকিয়ে গিয়েছিল। তখন হেল্প ডেস্কে গিয়ে পানি ও মাস্ক পেয়েছি। এমন উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়।”

হেল্প ডেস্ক কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা ছাত্রশিবিরের বায়তুলমাল সম্পাদক আব্দুল্লাহ, অফিস সম্পাদক জুবায়ের, পূর্বজোন সভাপতি আবিদ আল নাহিয়ান, ধান্দি কামিল মাদ্রাসার সভাপতি হাফেজ সিফাত, বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি তাহসানুল বান্না, পৌর সভাপতি হাফেজ নাহিদুল ইসলাম, দক্ষিণ জোন সভাপতি জাকারিয়া এবং নাজিরপুর ইউনিয়নের বায়তুলমাল সম্পাদক নাঈমসহ আরও অনেক নেতা-কর্মী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জিরো সয়েল বাস্তবায়নে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ: পরিবেশ উপদেষ্টা

ঢাকার ধুলাবালি ও পরিবেশ দূষণ রোধে ‘জিরো সয়েল’ কর্মসূচির বাস্তবায়নে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, নগরীর খোলা জায়গা মাটি দিয়ে না রেখে ঘাস বা লতাগুল্ম দিয়ে ঢেকে দিতে হবে, বাড়ির ছাদে লাগাতে হবে গাছ।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর পূর্বাচলে বন অধিদপ্তর ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় পূর্বাচলের হারার বাড়ি চত্বরে। এসময় সড়ক বিভাজক, ফুটপাত, খালপাড় এবং অন্যান্য জায়গায় গাছের চারা রোপণ করা হয়।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, “জিরো সয়েল শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়—সিটি করপোরেশন, বন বিভাগ ও সাধারণ মানুষ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যাঁর যতটুকু সামর্থ্য, ততটুকু গাছ লাগাতে হবে। ঢাকাকে সবুজায়নের মাধ্যমে একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলতে চাই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই।”

তিনি আরও বলেন, “বনভিত্তিক পরিবেশ সৃষ্টি না করলে শুধু আবাসনই টিকবে না। আমাদের ইকোসিস্টেম রক্ষা করতে হবে। বন তৈরি করা যায় না, এটা প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী এবং ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

ডিএনসিসির সূত্র মতে, ভবিষ্যতে ১২০ কিমি মিডিয়ান এবং ১০৮ কিমি খালপাড় সবুজায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরা ও পূর্বাচল এলাকায় যৌথভাবে বনায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠান শেষে পরিবেশ উপদেষ্টা বনানী কবরস্থানের পাশের রাস্তায় ঘাস রোপণ করে ‘জিরো সয়েল’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নাজিরপুরে অবৈধ আইসক্রিম কারখানা সিলগালা, মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় অনুমোদনহীন ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রং-ফ্লেভার ব্যবহার করে আইসক্রিম উৎপাদনের দায়ে একটি অবৈধ কারখানাকে সিলগালা ও মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বি।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাতিলাখালী এলাকায় অবস্থিত ‘সাউথ ল্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কোনো লাইসেন্স ছাড়াই ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করে আইসক্রিম তৈরি করে আসছিল। অভিযানে বিপুল পরিমাণ আইসক্রিম, কেমিক্যাল রং ও ফ্লেভার জব্দ করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয়।

অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহমেদ এবং স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুজিত কুমার বিশ্বাস অংশ নেন। কারখানা মালিক মো. হাসান শেখ (৩৫), যিনি নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের কবির শেখের ছেলে—তাকে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১০ এর ৩৯ ধারায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফজলে রাব্বি বলেন, “এই কারখানার কোনো সরকারি অনুমোদন বা বিএসটিআই লাইসেন্স নেই। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ক্ষতিকর উপাদানে খাদ্য উৎপাদন করায় কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি সিলগালা থাকবে।”

প্রশাসন জানায়, জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ভোলায় মেঘনায় ধরা পড়ল ১৩ কেজির আইড় মাছ, নিলামে দাম ১৮ হাজার টাকা

ভোলার মেঘনা নদীতে এবার জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল আকৃতির একটি বিশাল আইড় মাছ। মাছটির ওজন ১৩ কেজি ২০০ গ্রাম। সোমবার দুপুরে ভোলা সদর উপজেলার তুলাতুলি মাছ ঘাটে নিলামের মাধ্যমে মাছটি ১৮ হাজার ৩৩০ টাকায় বিক্রি হয়।

মাছটি প্রথমে ধরা পড়ে দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নসংলগ্ন মেঘনা নদীতে, আলাউদ্দিন মাঝির একটি ট্রলারে। অন্যান্য মাছের সঙ্গে হঠাৎই বিশালাকৃতির আইড় মাছটি জালে উঠে আসে। পরে দুপুরে মাছটি ভোলা সদর তুলাতুলি ঘাটে নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করা হয়।

নিলামে অংশ নেন ঘাটের একাধিক আড়তদার ও মাছ ব্যবসায়ী। সর্বোচ্চ দর হাঁকিয়ে মাছটি কিনে নেন ঘাটের আড়তদার মো. জসিম ব্যাপারী। তিনি বলেন, “এত বড় আইড় মাছ খুব কমই ধরা পড়ে। বরিশালের পাইকারি বাজারে মাছটি ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায় বিক্রি হবে বলে আশা করছি।”

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মো. ইউনুছ বলেন, “মাছটি দেখার জন্য ঘাটে উৎসুক জনতার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এত বড় আইড় মাছ এক নজরে দেখার সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চায়নি।”

এ প্রসঙ্গে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, “জাটকা রক্ষা ও অবৈধ জাল অপসারণে আমরা ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছি। এরই সুফল হিসেবে বড় আকারের মাছ ধরা পড়ছে নদীতে। এ প্রবণতা চলমান থাকলে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন আরও বাড়বে।”

প্রসঙ্গত, এর আগে ১৯ জুন তুলাতুলি মাছ ঘাটেই ২ কেজি ৭০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ ধরা পড়ে, যার দাম ওঠে ৬ হাজার ৪৮০ টাকা।

মেঘনায় বড় মাছের এই ধরা পড়া জেলেদের মধ্যে যেমন আশার আলো জাগাচ্ছে, তেমনি স্থানীয় বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫