নলছিটিতে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ

 

ঝালকাঠির নলছিটিতে সাবেক স্বামী গোলাম রাব্বির বিরুদ্ধে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে অপহরণ করে ১৭ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ জুলাই) নলছিটি উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী নিজেই এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের ২ আগস্ট তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই স্বামী গোলাম রাব্বি যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। তার পরিবার থেকে ৭ লাখ টাকা দেয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। পরে রাব্বি প্রবাসে চলে যান এবং সেখান থেকেই স্ত্রীকে মৌখিকভাবে তালাক দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন। এরপর চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি কাজীর মাধ্যমে নারীটি রাব্বিকে তালাক দেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তালাকের পর ২৯ মার্চ ঢাকায় বোনের বাসা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে তাকে বরিশালের বেলতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত তালাবদ্ধ অবস্থায় আটকে রাখা হয় এবং সেখানে ধর্ষণের শিকার হন তিনি। পরে কৌশলে পালিয়ে আসেন। ৩ মাস পর দপদপিয়া ইউনিয়নের কয়া এলাকার জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়।

কিন্তু নতুন জীবন শুরু করার পর সাবেক স্বামী রাব্বি আদালতে ব্যভিচার ও চুরির অভিযোগ এনে মামলা করেন, যাতে নববিবাহিত স্বামী জাহিদুলকেও আসামি করা হয়। এ মামলায় তাঁরা ১৩ দিন কারাবন্দি ছিলেন। পরে আদালতে তালাক ও বিয়ের বৈধ কাগজপত্র জমা দিলে জামিন পান তারা।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, কারাবন্দি থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাব্বি তাদের নামে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানির চেষ্টা করেন। বর্তমানে তার লাগাতার হুমকিতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগীর বর্তমান স্বামী জাহিদুল ইসলাম এবং তার পিতা ইমদাদুল হক।

অন্যদিকে অভিযুক্ত গোলাম রাব্বি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতেই এসব বলা হচ্ছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




মায়ের লাশ রেখে সকালে পরীক্ষাকেন্দ্রে দুই কন্যা, শোকের মাঝেও অটুট দৃঢ়তা

মায়ের মৃত্যুর শোক এখনও চোখে-মুখে। রাতে হারিয়েছেন জীবনদাত্রীকে, আর সকালে বুক ভরা কষ্ট নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে হাজির হয়েছেন দুই কিশোরী। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায়। একদিকে চলছে দাফনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে ছুটেছেন সায়মা আক্তার ও লাবনী আক্তার নামের দুই শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, সায়মা আক্তার উপজেলার হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী এবং লাবনী আক্তার সানস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ছাত্রী। বুধবার (২ জুলাই) দিবাগত রাতেই মারা যান তাদের মায়েরা—সায়মার মা শিল্পী আক্তার (৪০) কিডনি জটিলতায় রাত ৩টার দিকে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন, আর লাবনীর মা সফিরন (৪৫) মারা যান রাত সাড়ে ৯টার দিকে।

বৃহস্পতিবার সকালে অশ্রুসিক্ত চোখে তারা হাজির হন পরীক্ষাকেন্দ্রে। সায়মা পরীক্ষায় অংশ নেয় সখীপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এবং লাবনী সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজ কেন্দ্রে। পরীক্ষার সময় তাদের পাশে ছিলেন শিক্ষক ও সহপাঠীরা। প্রিয়জন হারানোর বেদনা সয়ে মাথা উঁচু করে তারা লিখে যান ভবিষ্যতের যুদ্ধের উত্তরপত্র।

হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রহিজ উদ্দিন বলেন, “সায়মা অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। একজন মেয়ের পক্ষে মায়ের মৃতদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিতে আসা কতটা কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আল্লাহ যেন তাকে শক্তি দেন।”

পরিবার ও প্রতিবেশীদের ভাষ্য, এমন দৃশ্য শুধু শোকের নয়, বাঙালির মেয়েদের অসাধারণ মানসিক শক্তিরও প্রতীক। মায়ের মৃত্যু তাদের থামিয়ে দিতে পারেনি, উল্টো কাঁধে শোক নিয়ে তারা এগিয়ে গেছে শিক্ষা-জীবনের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই ৩৬ স্মৃতিফলক’ থমকে ভিত্তিপ্রস্তরেই, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া ‘জুলাই ৩৬ স্মৃতিফলক’ এখনো ভিত্তিপ্রস্তরেই থমকে আছে। গত ২৮ মে স্মৃতিফলকটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও এখনো শুরু হয়নি নির্মাণকাজ। নির্ধারিত স্থানে নেই কোনো নির্মাণ সামগ্রী, নেই প্রস্তুতির কোনো চিহ্ন। বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

২০২৪ সালের ১৭ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর সারা দেশে ছাত্রদের মাঝে শুরু হয় ব্যাপক আন্দোলন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ওই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং শহীদদের স্মরণে ক্যাম্পাসের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় একটি স্মৃতিফলক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পরদিন দেশব্যাপী ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় নির্মাণকাজ স্থগিত হয়ে যায়।

পরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শিক্ষার্থীরা স্মৃতিফলক নির্মাণের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করলে দায়িত্বে থাকা তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন প্রায় আট মাসেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে ব্যর্থ হন। আন্দোলনের মুখে তার পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম, যিনি ২৮ মে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

তবে স্মৃতিফলক নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক ড. আলমগীর মোল্লা জানান, পূর্বের উপাচার্য ইউজিসি থেকে বরাদ্দের আশ্বাস দিলেও প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট নিশ্চিত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। এমনকি ইউজিসিতে কোনো প্রতিবেদনও জমা দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর স্মৃতিফলকের প্রস্তাবিত ডিজাইন সংশোধনের নির্দেশ দেন এবং একজন পেশাদার স্থপতির মাধ্যমে সেটি পুনর্গঠনের পরামর্শ দেন। তবে পুরোনো বাজেট বর্তমানে অপ্রতুল হওয়ায় নতুন ইস্টিমেট তৈরি করে ইউজিসিতে আবেদন করার প্রয়োজন রয়েছে, যা এখনো করা হয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য ড. তৌফিক আলম বলেন, “নতুন ডিজাইন অনুযায়ী ইস্টিমেট তৈরি করে ইউজিসিতে আবেদন করবো। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলেই দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে।”

শিক্ষার্থীরা বলছেন, স্মৃতিফলকটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতীক। এটি নির্মাণে দেরি হলে আন্দোলনের চেতনাকেই অপমান করা হবে। তাই দ্রুত প্রশাসনিক অচলাবস্থা দূর করে কাজ শুরুর দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




“গণঅভ্যুত্থান দমন করতে ককটেল হামলা, এদেশে মাফিয়াতন্ত্র এখনো আছে ”—কর্মসূচি চলাকালে নাহিদের অভিযোগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটলেও দেশে মাফিয়াতন্ত্র এখনো টিকে আছে।” তিনি নতুন বাংলাদেশ গঠনে ‘সংস্কার আগে, নির্বাচন পরে’ এই নীতির ওপর জোর দেন।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার হাতিখানা কবরস্থানে জুলাই শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় শহীদের স্মরণে দোয়া পরিচালনা করেন সাজ্জাদ হোসেনের বাবা আলমগীর ইসলাম।

নাহিদ বলেন, “দেশ গড়তে আমরা জুলাই পদযাত্রা শুরু করেছি। উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলছে। এটি আমরা শিগগিরই সারাদেশে ছড়িয়ে দেব। উন্নয়ন কেবল ঢাকা কেন্দ্রিক হতে পারে না, উন্নয়ন ভাবনায় পুরো দেশকে রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংগ্রামের ইতিহাস ধরে রাখতে হবে। আজও যারা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে, তারা এই গণঅভ্যুত্থান ব্যাহত করতে চায়। তবে মানুষ আবারও রাজপথে নামবে, আর এবার কাউকেই ক্ষমা করা হবে না।”

পরে তিনি সৈয়দপুরের বিহারী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং পাঁচমাথা মোড়ে একটি গণসংযোগে অংশ নেন। বিকেলে নীলফামারী জেলা শহরের চৌরঙ্গীতে আয়োজিত পথসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, “জনগণের উদ্দীপনা এখন অভাবনীয়। তাদের দমন করতেই ভয় দেখানো হচ্ছে, হামলা চালানো হচ্ছে।”

পথসভায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “নতুন বাংলাদেশ মানে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। যেসব প্রক্রিয়ায় ফ্যাসিবাদ জন্ম নেয়, তা বন্ধ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন প্রশাসনিক সংস্কার ও সংবিধানের সংশোধন। বর্তমানে দেশে যে সংবিধান চালু আছে, তা ‘আওয়ামী বিধান’, প্রকৃত সংবিধান নয়।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

এর আগে, এনসিপির জুলাই পদযাত্রা সৈয়দপুরে পৌঁছালে রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবের সামনে জেলা আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবদুল মজিদ ও স্থানীয় নেতা তানজিমুল আলমসহ অন্যান্য নেতারা প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান।




এক সঙ্গে তিন ছেলে, দুশ্চিন্তায় দিনমজুর বাবা

একদিকে নতুন প্রাণের আগমনে খুশি, অন্যদিকে সংসারের ব্যয় সামলাতে দুশ্চিন্তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের এক গরিব দম্পতি। দিনমজুর অলি মিয়ার স্ত্রী হাছেনা বেগম একসঙ্গে তিনটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। আগেই তাদের তিন ছেলে রয়েছে।

রবিবার (২৯ জুন) রাতে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব শহরের হলিটাচ মেডিকেল কেয়ার অ্যান্ড হাসপাতালে সফল সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে হাছেনা বেগম (৩২) তিন নবজাতকের জন্ম দেন। চিকিৎসকরা জানান, মা ও সন্তানরা সুস্থ রয়েছেন।

হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, “সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে নিরাপদে প্রসব করানো হয়েছে। মা ও তিন নবজাতক সবাই ভালো আছেন।”

হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুল আলম জানান, “একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম আমাদের হাসপাতালের জন্যও একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। আমরা তাদের যতটা সম্ভব সহযোগিতা করছি।”

তবে খুশির পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও ঘিরে ধরেছে পরিবারটিকে। পেশায় দিনমজুর অলি মিয়া বলেন, “একদিকে আনন্দ, কিন্তু অন্যদিকে চিন্তা থামছে না। আগে থেকেই তিন সন্তান, এখন নতুন করে আরও তিন জন। দিন আনি দিন খাই, খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

হাছেনার শাশুড়ি আওলিয়া বেগম বলেন, “আল্লাহর রহমতে তিন নাতি পেয়েছি। চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তবে আমার ছেলে অন্যের বাড়িতে খেটে সংসার চালায়। এখন তার কাঁধে চাপ আরও বেড়ে গেল।”

স্থানীয় প্রশাসন কিংবা সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে এই দরিদ্র পরিবারের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফোটতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো মৌসুমী ফল উৎসব

পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দেশীয় মৌসুমী ফল উৎসব। বুধবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন চত্বরে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম ফল উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, “ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে আমাদের এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। আমাদের দেশে প্রচুর দেশীয় ফল হয়, কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম অনেক ফলের সাথেই অপরিচিত। এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা সেসবের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।”

উৎসবে আম, কাঁঠাল, আনারস, আমড়া, পেয়ারা, পেঁপে, কলা, ড্রাগন, লটকন, করমচা, সফেদা, কামরাঙা, কাউফল, ডেউয়া সহ নানা রকমের দেশীয় ফল প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়।

উপাচার্য আরও বলেন, “বাংলাদেশ প্রকৃতির দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ দেশের মাটি ও জলবায়ু ফল ও সবজি চাষের জন্য উপযোগী। এসব স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং নানা অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।”

তিনি দেশীয় ফলের চাষ ও ভোক্তাপ্রয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আকতার হোসেন এবং পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম রেজাউল ইসলাম শামীম। তারা এ ধরনের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

সকলের অংশগ্রহণে উৎসবস্থল এক প্রাণবন্ত পরিবেশে রূপ নেয়। উপস্থিত অতিথিরা দেশীয় ফলের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও অবগত হন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জুলাই জাগরণের দিনলিপি ২

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন দিনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির প্রথম দিনেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিক্ষোভ, গণসমাবেশ ও অবরোধ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিন রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি নীলক্ষেত থেকে শুরু হয়ে সায়েন্স ল্যাব, বাটা সিগন্যাল হয়ে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়।

এদিকে আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকার বাইরেও। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন প্রায় ২০ মিনিট।

গত দেড় দশকে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে প্রথাগত স্বৈরতন্ত্র থেকে একটি ভিন্ন ধরনের শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠে। যেখানে নির্বাচন থাকলেও ভোটাধিকার অনুপস্থিত ছিল। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা বলা হলেও তার প্রয়োগ হয়নি। উন্নয়নের নামে তৈরি হয় মুনাফাভিত্তিক একটি লুটপাটতন্ত্র। এই তন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাজনীতিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনী, পৃষ্ঠপোষক সাংবাদিক ও কিছু সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবী।

ফলে সাধারণ মানুষের ঘামে অর্জিত রেমিটেন্স এবং করের টাকা শুধু লুটই হয়নি, তাদের উপর চাপানো হয়েছে বৈদেশিক ঋণের বিশাল বোঝাও। মানুষের এই বঞ্চনা থেকেই জন্ম নেয় দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, যার বিস্ফোরণ ঘটায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

সরকার একদিকে এই গণআন্দোলন দমন করতে চেয়েছে, অন্যদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালো আইন প্রয়োগ করে তৈরি করেছে ভয়ভীতির এক সামাজিক বলয়, যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে। কিন্তু বাস্তবতায় সেই ভীতি আর ধরে রাখা যায়নি।

২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পথ ধরেই শুরু হয় এই নতুনধারার ছাত্র বিক্ষোভের রাজনীতি। ডাকসু নির্বাচনে ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গী ছিলেন মো. নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।  যারা পরে গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক হয়ে উঠেন।

২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি’র। এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই উঠে আসে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। যার মূল কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন সেই প্রজন্মের চেতনাসম্পন্ন ছাত্রনেতারা। সাহিত্যে, সমাজসেবায় ও চিন্তাশীল পাঠচক্রের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই নেতৃত্ব বৃহত্তর গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা ও মুক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এস এল টি তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম।




রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু করলো এনসিপি

শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে কেন্দ্রীয় নেতারা রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন নয়, এটি ছিল ন্যায়বিচার ও নতুন সমাজ বিনির্মাণের ছাত্র-জনতার স্বপ্ন। সেই চেতনার ধারাবাহিকতায় আমরা তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবো।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে কোনো গড়িমসি বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজন হলে আবারও রাজপথে নামবো। প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া নির্বাচনের আয়োজন হলেও তা মানা হবে না।”

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “ন্যায়ভিত্তিক সংস্কার ও মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এনসিপি এক পা-ও পিছিয়ে আসবে না।”

নেতারা জানান, জুলাই পদযাত্রার লক্ষ্য সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও মতামত সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি করা। জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে তারা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের রূপরেখা গড়ে তুলতে চায়।

বিকেলে শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনাস্থল ও রংপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনের কথা রয়েছে দলের নেতাদের। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর শহীদ মিনার থেকে জুলাই পদযাত্রা শুরু হবে। বিকেল ৩টায় রংপুর শহরের পার্কের মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে লালবাগ, শাপলা, জাহাজ কোম্পানি মোড়, টাউন হল মাঠ হয়ে ডিসির মোড়, ধাপ, মেডিকেল মোড় হয়ে চেকপোস্টে গিয়ে শেষ হবে।

গত বছর ১৬ জুলাই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালে আবু সাঈদ পুলিশের ছররা গুলিতে নিহত হন। আন্দোলনরত ছাত্ররা সরে গেলেও আবু সাঈদ লাঠি হাতে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পুলিশের ছররা গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

কবর জিয়ারতে অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা।

এই পদযাত্রা চলবে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পিরোজপুরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট, ভোগান্তিতে হাজারো রোগী

পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের চরম সংকটে পড়েছে রোগীরা। বিগত কয়েক মাস ধরে সরকারি ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে নিতে হচ্ছে মূল্যবান ভ্যাকসিন, যা অনেকের সামর্থ্যের বাইরে।

পিরোজপুর জেলার সাতটি উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শতাধিক রোগী আসে এই হাসপাতালে। কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্তদের জন্য জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন জীবন রক্ষাকারী হলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় তা এখন অনুপস্থিত।

ভ্যাকসিন নিতে আসা রোগী ফয়সাল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি হাসপাতালে এসে যদি টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে হয়, তাহলে এর উপকারিতা কোথায়? আমাদের বলা হচ্ছে, চারজন মিলে একটি ভ্যাকসিন কিনে নিতে!”

আরেক রোগী ফারজানা আক্তার বলেন, “বিড়ালের আঁচর খাওয়ার পর হাসপাতালে এসেছিলাম, কিন্তু এখানে ভ্যাকসিন নেই। বাধ্য হয়ে চারজন মিলে একটি ভ্যাকসিন কিনেছি। এতে করে সময়, অর্থ—সবই অপচয় হচ্ছে।”

তাসরিফ নামের আরেক রোগী বলেন, “সাধারণ মানুষ এই অতিরিক্ত খরচ কিভাবে চালাবে? সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সমস্যা আরও বাড়বে।”

জেলা হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিনই রোগী ও স্বজনদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা বলেন, “আমাদের তো কিছু করার নেই। রোগীর জীবন বাঁচানো জরুরি। তাই আমরা বাইরে থেকে ভ্যাকসিন এনে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। তবে নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকলে বড় বিপদ হতে পারে।”

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান বলেন, “প্রতি মাসে যত ভ্যাকসিন দরকার হয়, সেই পরিমাণ সরবরাহ পাওয়া যায় না। স্বাস্থ্য অধিদফতরে নতুন চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই ভ্যাকসিন এসে পৌঁছাবে এবং সংকট কেটে যাবে।”

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে অন্তত ৮ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকলে সামনের দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ইতিহাসের নীরব সাক্ষী পিরোজপুরের সাড়ে চারশ বছরের জমিদার বাড়ি

পিরোজপুর সদর উপজেলার রায়েরকাঠিতে অবস্থিত সাড়ে চারশ বছরের পুরোনো জমিদার বাড়িটি আজও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মোগল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে ১৬০০ সালের দিকে ভাটিয়াল রাজা রুদ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী এই বিশাল জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। প্রাসাদসদৃশ এ স্থাপনাটি এক সময় ছিল দক্ষিণ বাংলার জমিদার প্রশাসনের কেন্দ্র।

প্রায় ২০০ একর জমিতে বিস্তৃত এই রাজবাড়িতে ছিল প্রায় ২০০টি ভবন, ১১টি সুউচ্চ মঠ, শিব মন্দির, কালী মন্দির, অতিথিশালা, পাঠশালা, হাতিশালা, ঘোড়াশালা এবং দাতব্য চিকিৎসালয়। এখানে স্থাপিত রয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ২৫ মণ ওজনের কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ। প্রায় ৩০০ বছর আগেও এখানে হাইস্কুল চালু ছিল বলে জানা গেছে।

রাজা রুদ্র নারায়ণের জমিদারিতে পদার্পণ ঘটে রীতিমতো গল্পের মতো। হুগলির দে-গঙ্গায় এক ব্রাহ্মণ বাড়িতে রাখাল থাকাকালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের নজরে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে সম্রাটের নির্দেশেই বরিশাল অঞ্চলে জমিদারি লাভ করেন রুদ্র নারায়ণ, যা পরিণত হয় রাজপরিবারে।

বর্তমানে এই রাজবাড়ির বেশিরভাগ অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত। ভেঙে পড়ছে প্রাচীন স্থাপনাগুলো। তবুও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসে ইতিহাসের ছোঁয়া পেতে। রাজা রুদ্র নারায়ণের ১২তম প্রজন্মের উত্তরসূরি অপূর্ব রায় চৌধুরী বলেন, “এখন শুধু দুটি পরিবার এখানে বসবাস করে, বাকি সবাই ওপার বাংলায় চলে গেছেন। সরকার যদি উদ্যোগ নেয়, এই স্থাপনাগুলো রক্ষা সম্ভব।”

স্থানীয় বাসিন্দা সোলায়মান শেখ, কাঠমিস্ত্রি গোবিন্দ লাল এবং শিক্ষার্থী প্রিয়াঙ্কা সবাই একমত—রাজবাড়িটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে তা হতে পারে পিরোজপুরের অন্যতম বড় পর্যটন কেন্দ্র। এখান থেকে সরকারের রাজস্ব আসার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, আর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে তাদের অতীত ও সংস্কৃতি।

পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, “রায়েরকাঠি জমিদার বাড়ি একটি ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে জানানো হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

যদিও বছরের পর বছর ধরে জমিদার বাড়িটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে, তবুও ইতিহাসপ্রেমীদের আগ্রহ কমেনি। উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি উদ্যোগে রায়েরকাঠি রাজবাড়িকে পরিণত করা যেতে পারে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /