নির্বাচন যত দেরি হবে, দেশ তত পিছিয়ে যাবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের যতো বেশি দেরি হবে, দেশ ততো বেশি পিছিয়ে যাবে। বিনিয়োগ কমে যাবে, নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে, বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠবে। এজন্য প্রয়োজন একটি নির্বাচিত সরকার, যাদের পেছনে থাকবে জনগণের সমর্থন।

সোমবার (৭ জুলাই) সিলেটের পাঠানটুলাস্থ সানরাইজ কমিউনিটি সেন্টারে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালিকের আমন্ত্রণে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ মুক্তি বহু সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে সম্ভব হয়েছে। তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই করেছে, যেখানে মানুষ বাকস্বাধীনতা পাবে, মহিলারা নিরাপত্তা পাবে, তরুণদের কর্মসংস্থান হবে এবং সকলকে চিকিৎসার সুযোগ থাকবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। এছাড়া দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হলেও দলের পরামর্শ দিয়ে চলেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ভোট, গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যা জনঅধিকার লঙ্ঘন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করেছিলেন। বিএনপি দেশের উন্নয়নের জন্য ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।

ড. মুহম্মদ ইউনুসকে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করেছেন।

মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কেউ যেন দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে না পারে। জয় তাদের সুনিশ্চিত বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানকার মহান sufi শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) এর কীর্তি এবং তারেক রহমানের শ্বশুর বাড়ি এখানে অবস্থিত।

 




চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ মোড়ে তিন দফা দাবিতে অবস্থান নেওয়া চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ওপর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামানের পানি নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছুজনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (৭ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা সংলগ্ন কাকরাইল মসজিদ মোড়ে অবস্থান নেয়া এসব সদস্যদের পুলিশ সরে যাওয়ার আহ্বান দিলেও তারা সাড়া দেননি। পরে পুলিশ ১০ মিনিটের আলটিমেটাম দিয়ে বল প্রয়োগ শুরু করে।

পুলিশ ৬টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষে কিছুজন আহত হন। পরে পুলিশ ধীরে ধীরে আন্দোলনকারীদের মৎস্য ভবনের দিকে নিয়ে যায়।

এর আগে, বেলা পৌনে ১২টায় শাহবাগ মোড় থেকে যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে আসেন চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা। মিছিল কাকরাইল মসজিদ মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং সেখানে অবস্থান নিতে বাধ্য করে।

চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের দাবি:

  • ক্ষতিপূরণ প্রদান করে চাকরিতে পুনর্বহাল,
  • পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের বিভিন্ন ধারা বাতিল,
  • বিডিআর নাম পুনর্বহাল ও বন্দি সদস্যদের মুক্তি।

কেএন/টিকেএন

 




ভরা মৌসুমেও বরিশালে ইলিশের সংকট, দাম কেজিতে ২৮০০ টাকা

বর্ষার ভরা মৌসুমেও দক্ষিণাঞ্চলের বাজারে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না। প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ইলিশের দেখা যেত যেখানে, সেই বরিশালের বাজারেই এখন এক পিস ইলিশ পাওয়াই ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেটুকু ইলিশ বাজারে আসছে, তার দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রতিমণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ ১২ হাজার টাকায়, যা কেজিপ্রতি দাঁড়ায় ১৭৫০ থেকে ২৮০০ টাকার মতো।

বরিশালের কাগাশুরা থেকে পোর্ট রোডে এসে ইলিশ কিনতে গিয়ে হতাশ হয়েছেন এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন, “একটা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য বড় সাইজের কিছু ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু যা দাম, তা শুনে গাড়িভাড়াই শুধু খরচ হলো। আগের মতো মাছ নেই, আর যেটুকু আছে সেটা আমাদের সাধ্যের বাইরে।”

খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন একই কথা। পোর্ট রোডের বিক্রেতা রুবেল হাওলাদার জানান, “মাছ আসছেই কম। যেটুকু আসে তাও সোজা চলে যায় ঢাকার দিকে। নদীর কিছু মাছ বাজারে এলেও তা অনেক দামি। সাগরের মাছ এলেই হয়তো দাম কিছুটা কমবে।”

জেলেরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তারা সাগরে যেতে পারছেন না। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর জেলে সুজন আকন বলেন, “নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও সাগর উত্তাল। সিগন্যাল থাকায় অনেক ট্রলার মালিক সাগরে বোট পাঠাননি। একেকটি ট্রলার চালাতে এখন পাঁচ লাখ টাকারও বেশি খরচ পড়ে, সেই টাকা উঠে আসবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা।”

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ছোট সাইজের (৪০০ গ্রাম) ইলিশের মণপ্রতি দাম ৬৮-৭০ হাজার টাকা, মাঝারি (৮০০-৯০০ গ্রাম) সাইজের এক লাখ, আর এক কেজির বেশি সাইজের ইলিশের দাম ১ লাখ ৮ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। গত ১০ দিনের ব্যবধানে বড় সাইজের ইলিশের দাম মণপ্রতি ১২ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপণ কান্তি ঘোষ জানান, “রবিবার পোর্ট রোডে মাত্র ৩০ মণ ইলিশ উঠেছে। সাগরে সিগন্যাল থাকায় জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না। তবে মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কয়েকটি ট্রলার ফিরেছে, এতে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “পদ্মা সেতু হওয়ার ফলে ট্রলার থেকে মাছ তুলে সরাসরি ঢাকায় পাঠানো যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে সংকট তৈরি হচ্ছে। সাগরের মাছ এলেই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশালের ২ আ’লীগ নেতাসহ পুলিশের এসপি ভারতে গ্রেপ্তার, অত:পর…

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভাটপাড়া পৌরসভার বাসুদেবপুর মোড় এলাকার একটি বাড়ি থেকে বরিশালের দুই আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশের এক সাবেক এসপিকে আটক করে জগদ্দল থানার পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৈধ নথি থাকায় ভারতীয় পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম জুয়েল, আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুর রহমান এবং বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার হাসান আরাফাত আবিদ। তিনজনই বর্তমানে স্থান পরিবর্তন করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত পাঁচ মাস ধরে তারা বাসুদেবপুর এলাকার তিতাস মন্ডলের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। অভিযানের দিন ওই বাড়ি থেকেই তাদের আটক করা হয় এবং থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে পরবর্তীতে তাদের পাসপোর্ট ও বৈধ ভিসা যাচাই করে ভারতীয় পুলিশ ছেড়ে দেয়।

তাদের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ বিশ্বাস জানান, তিনজনই তিতাস মন্ডলের পরিচিত। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা ভারতে এসেছেন। এখানে এসে চিকিৎসাও নিয়েছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগেও তিতাস মন্ডলের বাড়িতে বাংলাদেশি নাগরিকদের আসা-যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এবারের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

ভারতে অবস্থানকালীন সময়ে তারা কোনো বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি বরিশাল ও ঢাকায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশালে ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি বেড়েই চলেছে

বরিশালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একজন হলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সাইফুল ইসলাম (৩৫) এবং অন্যজন বাবুগঞ্জ উপজেলার ১৮ বছর বয়সী ছনিয়া আক্তার।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, গত একদিনেই নতুন করে ৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯ জনে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৫৬৩ জন। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩ জন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার না হলে সংক্রমণের হার আরও বাড়তে পারে। সচেতনতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে ডেঙ্গু মোকাবিলার একমাত্র পথ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বগুড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বগুড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় রাকিব হোসাইন মোস্তাকিম (২১) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে শহরের ওয়াপদা গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাকিব জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের হিমাদ্রিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও সরকারি আজিজুল হক কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি জয়পুরহাট স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বগুড়া (জেসাব)-এর ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বগুড়া রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী কমিউটার নাইটি আপ ট্রেনটি ওয়াপদা গেট অতিক্রম করার সময় রাকিব তার মোটরসাইকেল নিয়ে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। অসচেতনভাবে লাইনের খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার মোটরসাইকেলটিও দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাকিবের সঙ্গে থাকা এক যুবক বাইক থামিয়ে দ্রুত সরে গিয়ে রক্ষা পান, কিন্তু রাকিব লাইন পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




আশুরার দিনে ফেরাউনের পতন: সত্য ও তাওহিদের ঐতিহাসিক জয়গাথা

‘ফেরাউন’—এই শব্দটি কেবলই ইতিহাসের কোনো একক নাম নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে চূড়ান্ত জুলুমের প্রতীক। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার ফিরে আসে এই নাম, যার অন্তর্নিহিত অর্থ দাঁড়ায় অহংকার, জুলুম ও আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণের চূড়ান্ত পরিণতি।

প্রাচীন মিসরের রাজারা ‘ফেরাউন’ বা ‘ফারাও’ উপাধিতে পরিচিত ছিল। সেই শাসকদেরই একজন ছিল হজরত মুসা (আ.)-এর যুগের ফেরাউন, যাকে মহান আল্লাহ সত্যের দাওয়াত দিতে পাঠান নবী মুসার মাধ্যমে। সেই ফেরাউন নিজেকে খোদা দাবি করত, বলত, “আমি তোমাদের মহান রব।” (সুরা নাজিয়াত: ২৪)

মুসা (আ.)-এর অলৌকিক মুজিজা দেখেও ফেরাউন অহংকারে ফিরে আসেনি। বরং বনি ইসরায়েলকে নিপীড়ন করে চলেছে। একপর্যায়ে আল্লাহর হুকুমে মুসা (আ.) তার অনুসারীদের নিয়ে মিসর ত্যাগ করেন। তখন ফেরাউন তার সেনাবাহিনী নিয়ে ধাওয়া করে। তখনই ঘটে আশুরার সেই ঐতিহাসিক ঘটনা—লোহিত সাগর বিভক্ত হয়ে যায়, বনি ইসরায়েল পার হয়ে যায়, আর ফেরাউন তার সেনাসহ ডুবে মরে। মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে সে ঈমান আনার চেষ্টা করে, কিন্তু তা কবুল হয়নি।

সুরা ইউনুসে আল্লাহ বলেন, “আজ আমি তোমার (ফেরাউনের) দেহ রক্ষা করব, যাতে তা তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়।” (সুরা ইউনুস: ৯২)

এই ঘটনাটি ঘটে ১০ মহররম—আশুরার দিনে। হাদিসে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখেন ইহুদিরা এ দিন রোজা রাখে। কারণ হিসেবে তারা জানায়, এই দিনে মুসা (আ.) ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্ত হন। রাসুল (সা.) বলেন, “মুসার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তাদের চেয়ে বেশি।” অতঃপর তিনি নিজে রোজা পালন করেন ও মুসলিমদের তা রাখতে নির্দেশ দেন। (বুখারি: ৩৩৯৭)

আশুরা আমাদের শেখায়, জুলুম যত বড়ই হোক না কেন, তার পতন অনিবার্য। সত্য ও তাওহিদের বিজয় চিরন্তন। ফেরাউনের দেহ আজো সংরক্ষিত আছে—আল্লাহর এক অমোঘ নিদর্শন হিসেবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




অবশেষে জনসম্মুখে আসলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ শুরুর পর দীর্ঘ ১২ দিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে উপস্থিত হয়েছেন। শনিবার (৫ জুলাই) পবিত্র আশুরার আগের দিন তেহরানের ইমাম খোমেইনি মসজিদে আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়। এই উপস্থিতি ইরানি জনগণের মধ্যে ব্যাপক আবেগঘন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, খামেনি প্রবীণ শিয়া ধর্মীয় নেতা মাহমুদ কারিমিকে অনুরোধ করছেন দেশাত্মবোধক গান “ও ইরান” পরিবেশনের জন্য, যা সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই গান এবং খামেনির উপস্থিতি, উভয়ই ইরানিদের মনে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

১৩ জুন শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষে ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে, ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায়। এরপর ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয় এবং ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় আঘাত হানে। অভিযানে অংশ নেয় ১২৫টি মার্কিন যুদ্ধবিমান। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ।

যুদ্ধ চলাকালীন খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় বিভিন্ন মহলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি গোপন বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন। যদিও তিনি এ সময়ের মধ্যে তিনটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন, তবুও সরাসরি তার দেখা না পাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দেয়। অবশেষে আশুরার আগের দিন তার সরাসরি উপস্থিতি সেই সকল গুজব ও শঙ্কার অবসান ঘটিয়েছে।

প্রতিবছর আশুরার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে খামেনির উপস্থিতি নিয়মিত ঘটনা হলেও এবার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রা তৈরি করেছিল। তবে এবারও তিনি উপস্থিত থেকে তার নেতৃত্ব ও মনোবলের বার্তা দিয়েছেন। আশুরা মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন, যেদিন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেইন (রা.) কারবালার প্রান্তরে শহীদ হন। শোকাবহ এই দিনে খামেনির উপস্থিতি ইরানি সমাজে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিকভাবে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




সৌদিতে মৃত ভাইয়ের লাশ আনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ফটিকছড়ির দুই ভাই

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির তালুকদার পাড়ায় নেমে এসেছে এক হৃদয়বিদারক শোকের ছায়া। প্রবাসে মৃত্যুবরণ করা ভাইয়ের লাশ আনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুই ভাই। পরিবার ও এলাকাজুড়ে বইছে আহাজারি আর কান্নার রোল।

২০২৪ সালে সৌদি আরবে জীবিকার তাগিদে পাড়ি দেন মোহাম্মদ রুবেল (২৭)। কিন্তু সেখানে এক মালিকের অনুমতি ছাড়াই বার্গার খাওয়ার অপরাধে তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলে গত বছরের ১৭ জুলাই মৃত্যু হয় তাঁর। দীর্ঘ এক বছরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে গত শনিবার (৬ জুলাই) দেশে ফেরে তাঁর মরদেহ।

ভাই রুবেলের মরদেহ গ্রহণ করতে ঢাকায় যান বড় ভাই মোহাম্মদ বাবুল (৩৭) ও ফুফাত ভাই মো. ওসমান গণি (৩৫)। কিন্তু বিকেলে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাতিসা এলাকায় পৌঁছালে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে যান তারা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাবুল ও ওসমান।

এই দুঃসংবাদের পর গোটা ফটিকছড়ির তালুকদার পাড়ায় নেমে আসে অশ্রু-নীরবতার ছায়া। নিহত রুবেল ও বাবুলের মা আনোয়ারা বেগম লাশ দেখার আগেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তিন ছেলে, তিন মেয়ের মধ্যে দুই উপার্জনক্ষম সন্তানকে একসঙ্গে হারিয়ে দিশেহারা তিনি। লাশের খাটিয়ায় ছুঁয়ে বলতে থাকেন—“বাবা, শুধু একবার কথা বলো…”

বাড়ির উঠোনজুড়ে শোকের মাতম, কান্নার রোল। বাবুলের স্ত্রী সাহেদা আক্তার বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন, আর দুই কন্যা সন্তানকে জড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। বলেন, “আমি এখন সন্তানদের কী জবাব দেব? কী নিয়ে বাঁচব?”

ওসমান গণির স্ত্রী শিমা বলেন, “দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও কথা হয়েছিল। বলেছিল লাশ নিয়ে ফিরছি। অথচ সে নিজেই ফিরল লাশ হয়ে।” তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে কীভাবে চলবেন, সেই উৎকণ্ঠায় চোখ ভাসান।

শনিবার রাতেই তালুকদার পাড়ায় তিন ভাইয়ের মরদেহ পৌঁছে গেলে ভেঙে পড়ে গোটা জনপদ। শত শত মানুষ সাক্ষী হয় এই মর্মন্তুদ বিদায়ের। স্থানীয় মসজিদের পাশের কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় রুবেল, বাবুল ও ওসমানকে।

ফটিকছড়ির এই ঘটনা শুধুই একটি পারিবারিক বিপর্যয় নয়—এ যেন পুরো একটি সমাজের হৃদয়ে ক্ষত হয়ে রইল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




আশুরার শোক ও আত্মত্যাগে ভরা স্মরণীয় দিন আজ

আজ ১০ মহররম—পবিত্র আশুরা। হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররমের এই দশম দিনটি মুসলমানদের জন্য গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ এক দিবস। এই দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা, নামাজ, দান-খয়রাত, জিকির-আসকারের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নৈকট্য লাভের আশায় দিনটি পালন করে থাকেন।

আশুরা শব্দটি এসেছে আরবি ‘আশারা’ থেকে, যার অর্থ দশ। ‘মহররম’ অর্থ সম্মানিত। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালার মর্মন্তুদ প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) পরিবার-পরিজনসহ নির্মমভাবে শহীদ হন। ফোরাত নদীর তীরে ঘটে যাওয়া সেই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস হয়ে আছে মানবতার পাতায়।

ইমাম হোসেন (রা.)-এর এই আত্মত্যাগ কেবল শোকের আবরণে ঢাকা নয়, বরং এটি অন্যায়, জুলুম ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তাঁর ত্যাগ মুসলিম উম্মাহকে সত্য, ন্যায়ের পথ অনুসরণ ও ইসলামের শান্তিপূর্ণ আদর্শে অবিচল থাকার আহ্বান জানায়।

শিয়া সম্প্রদায় আশুরার দিনে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালন করে থাকে, এর মধ্যে তাজিয়া মিছিল অন্যতম।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এক বাণীতে বলেন, আশুরার চেতনা জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয় এবং মানবজাতিকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি হজরত ইমাম হোসেন (রা.) ও কারবালায় শাহাদাত বরণকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং এই দিনে বেশি বেশি নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম