‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালিত হবে

কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের স্মরণে আগামী বুধবার (১৬ জুলাই) রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হবে। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যু ঘটে। সেই দিনটিকে স্মরণ করে সরকার ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং ১৬ জুলাই রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে বুধবার দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

এছাড়া শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

সরকারি এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আবেগময় প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শোক দিবসটি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




দিনপঞ্জির পাতায় আন্দোলন: ১৪ জুলাই

১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। এরপর রাতেই দেশজুড়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

গণভবনে অনুষ্ঠিত সেই সংবাদ সম্মেলনে পূর্বনির্ধারিত কিছু সাংবাদিক—বিশেষ করে প্রভাষ আমিন ও ফারজানা রূপা—প্রশংসাসূচক প্রশ্ন করলে তার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতি চাকরি পাবে না, তাহলে রাজাকারের নাতিপুতি পাবে?” এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান আন্দোলনকারীরা।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাত ১১টার পর রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে টিএসসি এলাকা। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন।

বিশেষত রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এই মিছিলে। তাঁরা বলেন, “আমাদের অধিকার নিয়ে কথা বললেই যদি রাজাকার তকমা দেওয়া হয়, তাহলে এ দেশ কার?”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও রাতভর বিক্ষোভ হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাত ১২টার দিকে তাঁতীবাজার অবরোধ করে। চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ মিছিল বের করলে বাধা দেয় ছাত্রলীগ। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ মারধরের শিকার হন। তিনি বলেন, “আমরা অধিকার চেয়েছি, আর শেখ হাসিনা আমাদের রাজাকার বললেন। প্রতিবাদ করতেই ছাত্রলীগ হামলা করেছে।”

একই দিনে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল শুরু করে দুপুরে গুলিস্তান পৌঁছে সেখানে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।

সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “সরকার কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে এক দফা দাবির বাস্তবায়নে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছি। প্রয়োজনে জরুরি সংসদ অধিবেশন ডেকে আইন পাস করতে হবে।”

ঢাকার বাইরে অধিকাংশ জেলাতেও শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালন করেন। তবে গাইবান্ধা সরকারি কলেজে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং শিক্ষার্থীদের মারধর করে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হন।

 




দিনপঞ্জির পাতায় আন্দোলন: ১৩ জুলাই

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কার দাবিতে আন্দোলনের শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়। ছাত্রলীগ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হলে তালাবদ্ধ করে রাখার অপচেষ্টা হয়। তাতেও কাজ না হওয়ায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করানো হয়। তবে এসব অপকৌশল শুধু যে, ব্যর্থ হয় তাই নয় উল্টো শিক্ষার্থীদের আরও বেশি বিক্ষুব্ধও করে তোলে।

এরই ধারাবাহিকতায় সরাসরি পুলিশকে ব্যবহার করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর আঘাত ও যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়। অজুহাত হলো শাহবাগে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেওয়া। অন্যদিকে এদিন আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের বেশ সরব দেখা যায়। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে পরামর্শ দিতে থাকে যে, ‘এখন আন্দোলন থামিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরা উচিত’।

তবে অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুবরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশের মামলা প্রত্যাহার এবং কোটাবৈষম্য নিরসনে সংসদে আইন পাসের লক্ষ্যে জরুরি অধিবেশন আহ্বানের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

১৩ জুলাই শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন পরের দিন, বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে গণপদযাত্রা শুরু হয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

গণপদযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, নজরুল ইসলাম কলেজ, তিতুমীর কলেজ, বদরুন্নেসা সরকারি কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবেন বলেও জানানো হয়। আর অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজ নিজ পদযাত্রা নিয়ে একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেবে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, চলমান বাংলা ব্লকেড কর্মসূচিকে জনভোগান্তির কারণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। আমরা বলতে চাই, যদি প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করতে না পারেন, তাহলে একটি সন্তানবিবর্জিত পৃথিবী হবে। সুতরাং, সুন্দর পৃথিবীর জন্য সাময়িক যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে।’

মামলার বিষয়ে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছিলেন, কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি। তাহলে হঠাৎ অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দেওয়া হলো কেন, সে বিষয়ে আমরা জবাবদিহি চাইছি। ছাত্রসমাজকে এ রকম মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন নাহিদ ইসলাম।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার পুলিশের রমনা জোনের এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমাদের সাঁজোয়া যান ছিল, শিক্ষার্থীরা তার পাশে দাঁড়িয়ে নাড়িয়ে ছবি তুলেছে। এখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

অথচ এর পরেরদিন সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের ওপর আঘাত ও যানবাহনের ক্ষতি করার অভিযোগে শুক্রবার মামলা দায়ের হয়। এতে আসামির সংখ্যা ও নাম-পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।

এজাহারে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল। সে জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে অজ্ঞাতনামা ছাত্ররা জড়ো হয়ে বিভিন্ন হলে ঘুরে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহবাগ মোড়ের দিকে আসে। একপর্যায়ে তারা শাহবাগ মোড় অতিক্রম করে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও এলোপাতাড়ি মারধর করে।

এজাহারে আরও বলা হয়, সেদিন দুটি যানের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

এদিন, ছাত্রদের আন্দোলন থামানো উচিত বলে বক্তব্য দেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, জনদুর্ভোগ মেনে নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না ফিরলে তাদের ঘরে ও ক্লাসে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার।

আরও এক ধাপ বাড়িয়ে এদিন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে ক্ষমতা, আমরা সেটাই করব। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে কিনা, ঘটনাটি অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে কিনা-এসব নিয়ে ডিবির টিম ও পুলিশ কাজ করছে।

১৩ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগ সরকারি চাকরিতে কোটা ইস্যু নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবনা সংগ্রহ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কর্মসূচি পরিহার করার জন্য ‘পলিসি অ্যাডভোকেসি’ ও ‘ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন’ শুরু করে।

এসময় তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের সভাপতি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পেশাদার আন্দোলনকারীরা হিসেবে অভিহিত করে বলে, এরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য রাজপথে রয়েছে।

তবে এমন কর্মসূচিকে আন্দোলন দমনের পাল্টা কর্মসূচি বলেই মনে করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অন্যতম সমন্বয়ক বাকের মজুমদার জানান, শিক্ষার্থীরা যেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিতে না পারেন, সেজন্য একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে কর্মসূচি দিয়ে রাখে ছাত্রলীগ। সেখানে অংশ না নিলে রাতে সেই শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ছাত্রলীগের পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এদিন, দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে যারা ছিলেন তাদের সঙ্গে দেখা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। দুপুরে প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করার পর কোটা সংস্কারের আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান সেখানকার নেতারা। তবে অন্য শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হওয়া শুরু করলে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের বের হতে নিষেধ করা হয়।

অপরদিকে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালসহ সাত দফা দাবিতে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন ও প্রজণা ৭১-এর সভাপতি আজিজুর রহমান।




দিনপঞ্জির পাতায় আন্দোলন: ১১ জুলাই

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর ১১ জুলাই প্রথমবারের মতো সরাসরি সহিংসতা চালায় পুলিশ এবং নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। এখন পর্যন্ত ছায়া থেকে হুমকি দিলেও, এদিন তা প্রকাশ্য সহিংসতায় রূপ নেয়।

আন্দোলন দমনে সরকারি অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সরকারের একাধিক মন্ত্রী, যেমন ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, আসাদুজ্জামান খান কামালদের বক্তব্যে কঠোর মনোভাব উঠে আসে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন সাংবাদিক সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ঢাকার আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলায় আহত হন আরও অন্তত ১০ জন। চট্টগ্রামেও শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

এই সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ায় রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায় শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে জরুরি সমন্বয় সভায় আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেল ৪টায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ও সমাবেশের ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “জরুরি সংসদ অধিবেশন ডেকে কোটা বাতিলের আইন পাস না করা পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না।”

এর আগে বিকেল ৫টায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা শাহবাগে জড়ো হন। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় পর্যন্ত পৌঁছান তারা। পরে শাহবাগ মোড়ে ফিরে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি চালিয়ে যান।

বিভিন্ন স্থানে অবরোধ কর্মসূচি:
সায়েন্স ল্যাব মোড়: অবরোধ করেন ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

ফার্মগেট-মিরপুর সড়ক: পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে অবরোধ, এতে পুলিশের হামলায় আহত হন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক: অবরোধ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়ক: বিক্ষোভে নামে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।

সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবরোধ।

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।

খুলনা: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নগরীর জিরো পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে, যা সামাজিক মাধ্যমে হাস্যরসে পরিণত হয়। পরে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন চলমান আন্দোলনকে ‘রাজনৈতিক’ বলে আখ্যা দেন।

১১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন এক নতুন মোড়ে প্রবেশ করে, যেখানে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির বিপরীতে সরকার ও শাসক দলের বিরুদ্ধে সহিংস দমন অভিযানের অভিযোগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ, আর দাবি একটাই—বৈষম্যহীন, যৌক্তিক কোটা সংস্কার।

 

 

 

 




কলাপাড়ায় আহত কাল নাগিনী সাপের এক্সরে, উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আহত একটি কাল নাগিনী সাপকে চিকিৎসা সেবা দিতে এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে প্রাণীপ্রেমী সংগঠন ‘এনিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালী’। ভেটেনারি সার্জনের পরামর্শে প্রথমবারের মতো সাপটির এক্সরে করানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের কলাপাড়া শাখার টিম লিডার বায়জিদ আহসান।

গতকাল রাত ১০টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সাপটিকে এনে এক্সরে করা হয়। এক্সরে রিপোর্টে দেখা যায়, সাপটির শরীরের মাঝামাঝি হাড়ে ফাটল ধরেছে।
এর আগে সকালেই পটুয়াখালীর পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলার পূজাখোলা এলাকার দফাদার বাড়ি সংলগ্ন একটি স্থানে সাপটিকে লাঠি দিয়ে পেটানো হচ্ছিল। খবর পেয়ে এনিমেল লাভারস এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে রক্ষা করে।

তাদের সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত কাল নাগিনী সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ ফুট এবং এর গায়ে সবুজ, লাল ও কালো রঙের ডোরাকাটা স্পষ্ট ছিল। এটি একটি প্রাপ্তবয়স্ক এবং মৃদু বিষধর প্রজাতির সাপ।

টিম লিডার বায়জিদ আহসান জানান, “আমরা কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদিক স্যারের সহায়তায় সাপটির এক্সরে করাতে পেরেছি। এক্সরে রিপোর্ট অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সাপটিকে ঢাকায় ভেটেনারি সার্জনের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।”

এমন উদ্যোগ দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন, তবে পরিবেশ সচেতন মহল এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, সাপসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করতে হলে সামাজিক সচেতনতা এবং এমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকল্প নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে তারা ভয় ও আতঙ্কের কারণে সাপ দেখলেই মেরে ফেলতেন। কিন্তু এখন অনেকে বুঝতে পারছেন পরিবেশে সাপের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব। এনিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালী’র মতো সংগঠনের কার্যক্রমে গ্রামাঞ্চলেও বন্যপ্রাণী রক্ষায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে।

এ ব্যাপারে পরিবেশবিদরা বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সাপের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু একটি প্রাণী রক্ষা নয়, বরং বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষার একটি বড় দৃষ্টান্ত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দিনপঞ্জির পাতায় আন্দোলন: ১০ জুলাই

এদিন সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ ও সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে কাঁটাবন, নীলক্ষেত, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, চানখাঁরপুল, বঙ্গবাজার, শিক্ষা চত্বর, মৎস্য ভবন, জিপিও, গুলিস্তান, রামপুরা ব্রিজ, আগারগাঁও, হাতিরঝিল মোড়, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মগবাজার-সাতরাস্তা ফ্লাইওভারসহ ১৭টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ‘ব্লকেট’ তৈরি করে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মহাখালী ও কারওয়ান বাজার রেলক্রসিংয়ে কাঠের গুঁড়ি ফেলে রেল চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে ঢাকা থেকে সারাদেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সবচেয়ে শক্তিশালী আন্দোলন চলে মহাখালী এলাকায়, যেখানে সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা আমতলীতে অবস্থান নিয়ে ফ্লাইওভার ও রেলক্রসিং অবরোধ করে রাখেন।

বাংলা ব্লকেডের প্রভাবে রাজধানী ছাড়িয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশালসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন।

‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির তৃতীয় দিনে সারাদেশে প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। রাজধানী ঢাকা কার্যত দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, কারণ শহরের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ।

ডুয়েট (গাজীপুর): ঢাকা-জয়দেবপুর-শিমুলতলী সড়ক ও ঢাকা-রাজশাহী রেলপথ অবরোধ।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ।

খুলনার বিএল কলেজ: খুলনা-যশোর মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রুয়েট: ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: বৃষ্টিতে ভিজেই সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ।

বরিশাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুরসহ অন্যান্য জেলাগুলোতেও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এদিন সকালে কোটা বাতিলের পরিপত্র বাতিল চেয়ে সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৫ সদস্যের বেঞ্চ ৭ আগস্ট পর্যন্ত সব বিষয়ের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। এতে কার্যত আগের হাইকোর্ট রায় বহাল থাকে—যেটি কোটা বাতিলকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল।

এরপরই দুপুরে শাহবাগ মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “শুধু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ ৫% কোটা রেখে সব গ্রেডে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করতে হবে। যৌক্তিক সংস্কার ছাড়া আন্দোলন চলবে।”

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তার সঙ্গে থাকা সারজিস আলম বলেন, “নির্বাহী বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কেউ যদি আজকেই ঘোষণা দেন বা ত্রুটিহীন পরিপত্র জারি করেন, তাহলে আমরা রাজপথ ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফিরব। রাজপথ আমাদের স্থায়ী জায়গা নয়।”

তবে শিক্ষার্থীদের এই ঘোষণার পরই নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান, আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান জানাতে বলেন।

তবে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড়, এবং বলেছে—যতক্ষণ পর্যন্ত সংসদে আইন পাস করে যৌক্তিক সংস্কার না হবে, ততক্ষণ তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবে না।




ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আয় ৩০ হাজার কোটি ডলারে উঠতে পারে

চলতি বছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার শুল্ক আয় করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কের কারণে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এই আয় ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারে উঠতে পারে।

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্কট বেসেন্ট বলেন, ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির কল্যাণে মূল আয় শুরু হয়েছে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে। অর্থাৎ গত ২ এপ্রিল পাল্টা শুল্ক আরোপের পর ৯ এপ্রিল তা স্থগিত করে যখন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত ন্যূনতম শুল্ক আরোপ করেন, তার পর থেকে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়িতেও শুল্ক আরোপ করেন তিনি।

স্কট বেসেন্ট বলেন, তাই ধারণা করা যায়, বছরের শেষে শুল্ক আয়ের পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। দেশটির অর্থ বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেন, এই ৩০ হাজার কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া পঞ্জিকা বছরের জন্য ধরা হয়েছে, সরকারের অর্থবছরের (যা শেষ হয় ৩০ সেপ্টেম্বর) জন্য নয়।

সংবাদে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালেই যদি ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারে উঠে যায়, তাহলে বোঝা যাবে আগামী দিনগুলোতে শুল্ক আদায়ের গতি অনেক বেড়ে যাবে। অর্থাৎ এখনকার তুলনায় শুল্ক আদায় অনেকটা বেড়ে যাবে।

বেসেন্ট আরও বলেন, কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের অনুমান, আগামী ১০ বছরে শুল্ক থেকে আয় হবে প্রায় ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার। কিন্তু তাঁর অনুমান, এই হিসাব বাস্তবতার তুলনায় অনেক কম, অর্থাৎ রক্ষণশীল হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ জানায়, মে মাসে রেকর্ড পরিমাণ শুল্ক আদায় হয়েছে। এই সময় মোট ২২ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ২ হাজার ২৮০ কোটি ডলার আয় হয়েছে। এই অঙ্ক আগের বছরের মে মাসের তুলনায় প্রায় চার গুণ। সেবার শুল্ক আদায় হয়েছিল ৬২০ কোটি ডলার।

২০২৫ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে মোট শুল্ক আদায় হয়েছে ৮৬ দশমিক ১ বিলিয়ন বা ৮ হাজার ৬১০ কোটি ডলার। আর ২০২৫ পঞ্জিকা বর্ষের প্রথম ৫ মাসে আদায় হয়েছে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার।

আগামী শুক্রবার জুন মাসের বাজেট দেবে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে শুল্ক আদায়ে বড় প্রবৃদ্ধির তথ্য উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শুল্ক ও আবগারি শুল্ক মিলিয়ে মোট আদায় হয়েছে ১২২ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তামার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে—আবাসন, ইলেকট্রনিকস, যানবাহন, বিদ্যুৎব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জামে এই ধাতু বহুল ব্যবহৃত। ট্রাম্প আরও জানান, সেমিকন্ডাক্টর ও ওষুধের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আসছে।




সাবেক মন্ত্রীদের বন্দিজীবন: পৃথক ওয়াশরুম চেয়েছেন সালমান, চুপচাপ আমু ও আনিসুল

কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশেই নির্মিত নতুন বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার এখন পরিণত হয়েছে একঝাঁক ভিআইপি বন্দির আবাসে। সাবেক মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা, আমলা ও রাজনীতিকদের এই কারাগারে রাখা হচ্ছে ‘বিশেষ বন্দি’ মর্যাদায়। এদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যাঁরা বর্তমানে মামলার কারণে কারাবন্দি।

জানা গেছে, কারাগারের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এসব ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে কেউ কেউ সন্তুষ্ট হলেও, অনেকে আলাদা সুবিধার আবেদন করছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। কারা সূত্র জানায়, তিনি ধর্মীয় বই পড়েই দিনের বড় সময় কাটান। নিয়মিত আদালতে যাওয়া লাগে তার। একান্ত জীবনধারা বজায় রাখতে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৃথক ওয়াশরুম, ওজুখানা এবং গোসলখানা চেয়েছেন। এমনকি নিজের রুমের জানালার জন্য নতুন পর্দাও চান তিনি। তবে কারাবিধির সীমাবদ্ধতার কারণে এসব দাবি মঞ্জুর হয়নি।

এই কারাগারে বন্দি আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- আমির হোসেন আমু, আনিসুল হক, শাজাহান খান, কামরুল ইসলাম, শাহজাহান ওমর, জুনাইদ আহমেদ পলক, আতিকুল ইসলাম, ডা. এনামুর রহমান, ফরহাদ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক প্রমুখ।

কারা সূত্রে জানা গেছে, ভিআইপি বন্দিরা প্রত্যেকে একটি করে চেয়ারে বসেন, টেবিলে পড়েন, বিছানায় শুয়ে থাকেন এবং পত্রিকা পড়েন। তবে বিশেষ এই কারাগারে টেলিভিশন নেই, যা অন্য কারাগারে সাধারণত থাকে। ফলে তারা টিভি দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

প্রতিটি ওয়ার্ডে চারজন করে ভিআইপি বন্দি থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা বাইরে বের হতে পারেন না। হাঁটাচলার সুযোগ সীমিত। শাজাহান খান পুরো কম্পাউন্ডে হাঁটার আবেদন করলেও অনুমতি পাননি। তবে যে ভবনে তিনি থাকেন, সেখানকার ওয়াকওয়েতে তাকে হাঁটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আতিকুল ইসলাম ও জ্যাকব একই রুমে থাকেন। তারা ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করে সময় কাটান। পলক উপন্যাসপ্রিয়, তাই কিছু প্রিয় বই চেয়ে রেখেছেন। শরীরিক সমস্যায় ভুগছেন অনেকে—কামরুল ইসলাম দুর্বল, ডা. এনামুর বিশ্রামে, ফরহাদ হোসেন পছন্দ করেন বিদেশি বইয়ের অনুবাদ।

আইন বিষয়ে আগ্রহী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ও বিচারপতি মানিক; দু’জনেই বেশি সময় বই পড়ে কাটান। মানিক অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসাও চলছে। আমু একেবারেই চুপচাপ সময় কাটান। কারো সঙ্গেও তিনি বিশেষ যোগাযোগ করেন না।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ৯৫ জন বন্দি এই বিশেষ কারাগারে আছেন। ধারণক্ষমতা ৩০০ হলেও ভিআইপি বন্দিদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজন বিবেচনায় সংখ্যাটি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। কারা সূত্র আরও জানায়, ভিআইপি বন্দিদের সেবায় সাধারণ বন্দিরাও নিয়োজিত আছেন।

কারা বিভাগের অতিরিক্ত আইজি (প্রিজন্স) জাহাঙ্গীর কবির জানান, “কারাবিধি অনুযায়ী যা যা সুবিধা পাওয়ার কথা, তা তাদের দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত কিছু দাবি আপাতত মানা সম্ভব নয়।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বৈরী আবহাওয়ায় ভোলা থেকে ১০টি রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

দক্ষিণাঞ্চলে টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোলা জেলার অভ্যন্তরীণ ১০টি রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এর মধ্যে ইলিশা-মজুচৌধুরীর হাট রুটটি চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে, যা স্থানীয়দের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ভোলা নদী বন্দর কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন জানান, আবহাওয়ার অবনতির কারণে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং নদী বন্দরে ১ নম্বর সংকেত দেখানো হলেও, ভোলার বেশ কয়েকটি রুটে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

বন্ধ থাকা রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেওলতখান-আলেকজান্ডার-মির্জাকালু, বেতুয়া-ঢাকা, হাতিয়া-মনপুরা, চরফ্যাশন-মনপুরা, চরফ্যাশন, হাতিয়া, মনপুরা এবং তজুমদ্দিন থেকে ঢাকাগামী রুটগুলো। তবে ভোলা-ঢাকা সরাসরি রুটে নৌযান চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।

অসহায় যাত্রীরা জানান, চার দিন ধরে এই অবরোধে তারা আটকে পড়েছেন। ভেলুমিয়া এলাকার কামরুল ইসলাম বলেন, “ইলিশা-মজুচৌধুরীর হাট রুট বন্ধ থাকায় মেয়ের বাড়ি যেতে পারছি না। জরুরি কাজ থাকলেও আবহাওয়া ঠিক না হলে যাওয়া সম্ভব না।” ঢালচরের মুসলিম মিজি জানান, “আমাদের রুটের ট্রলার বন্ধ। প্রয়োজনেও কোথাও যেতে পারছি না, খুব অসহায় লাগছে।”

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় টানা বর্ষণ হচ্ছে। এই বৃষ্টি আগামী দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা শেখ সেলিম রেজা জানিয়েছেন, বরিশাল-ঢাকা বা বরিশাল-ভোলা রুটে এখনো লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়নি। নদী বন্দরে শুধুমাত্র ১ নম্বর সংকেত থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকা রুটগুলোয় নৌযান চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




প্রতিরক্ষা সচিবের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, আইএসপিআরের সতর্কবার্তা

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনের ছবি ও দাপ্তরিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। কিছু অসাধু ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহল সচিবের নাম ভাঙিয়ে মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।

আইএসপিআর জানায়, প্রতারকরা ০১৩৩৭-৪০৯৩১৮ এবং ০১৩৩৯-০৫৪০০৮ নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণামূলক যোগাযোগ করছে। এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেউ যদি এমন ঘটনার শিকার হন, তবে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং দেশের জনগণকে এ বিষয়ে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম