স্বতন্ত্র কাঠামোর দাবিতে বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের অবরোধ

স্বতন্ত্র কাঠামো প্রতিষ্ঠার এক দফা দাবিতে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে দুই ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এই অবরোধে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তারা দীর্ঘ দুই মাস ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। তাদের মূল দাবি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন কাঠামোর অধীনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা। কারণ, বর্তমানে ঢাবির অধীনে থাকার কারণে প্রশাসনিক জটিলতা ও শিক্ষা কার্যক্রমে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এক শিক্ষার্থী জানান, ‘‘ঢাবিকে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা গতবার শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেছিলাম, কিন্তু তখন পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও আমাদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে, যাতে ৩০ শিক্ষার্থী আহত হয়।’’ আজকের কর্মসূচি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। দাবি পূরণ না হলে শিক্ষার্থীরা ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

অন্যদিকে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শাওন বলেন, ‘‘আমরা প্রথম থেকেই চাইছিলাম ঢাবি ও কারিগরি বোর্ড যৌথভাবে সমস্যার সমাধান করুক। কিন্তু তারা অপারগতা প্রকাশ করায় এখন বিআইটি (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) গঠনের মাধ্যমে স্বতন্ত্র কাঠামো দাবি করছি।’’

শিক্ষার্থী ইএইচ ইরান জানান, ‘‘এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের যাতে সমস্যা না হয়, সে বিবেচনায় আমরা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি দীর্ঘায়িত করিনি। কিন্তু আমাদের দাবির ব্যাপারে দ্রুত সুরাহা না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।’’

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রধান উপদেষ্টা শুধু বিপদে পড়লেই দলগুলোকে ডেকে আনে: মঞ্জু

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, “প্রধান উপদেষ্টা মাত্র বিপদে পড়লেই রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকে বসেন। তবে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি দলগুলোর সঙ্গে ঘনঘন বৈঠক করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।”

বুধবার (২৩ জুলাই) যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকের পর মজিবুর রহমান এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশ দুটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে। সরকারের ব্যর্থতার কারণে গণঅভ্যুত্থানের অংশীদারদের মধ্যে বিভেদ দেখা দিয়েছে। এই বিভেদেই ফ্যাসিবাদ বারবার সুযোগ পাচ্ছে।”

মঞ্জু আরও উল্লেখ করেন, “উত্তরার মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গতকাল দুই উপদেষ্টাকে আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার ঘটনা এবং সচিবালয়ে বিশৃঙ্খলা সরকারের দুর্বলতা ফুটিয়ে তোলে। এই ধরনের ঘটনা জনগণের মধ্যে উপদেষ্টাদের প্রতি অনাস্থা বাড়িয়েছে।”

তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “যদি সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রধান উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশ গঠনে আমরা নির্বাচন অ্যালায়েন্স গড়ার জন্য প্রস্তুত।”

মজিবুর রহমান আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোকে কি সমান প্রটোকল ও সরকারি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না তা নিয়ে আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রশ্ন তুলেছি। সরকার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা তাদের বড় ব্যর্থতা।”

তিনি বলেন, “বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। যদিও এটি গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে এতে নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে ক্যান্সারের ঝুঁকি, সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন

আগে ক্যান্সারকে প্রবীণদের রোগ হিসেবে ভাবা হলেও আধুনিক জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস ও আচরণগত পরিবর্তনের কারণে এখন তরুণদের মধ্যেও ক্যান্সারের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। চেন্নাইয়ের হেমাটো-অনকোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. গোপীনাথ জানাচ্ছেন, অবিরাম ক্লান্তি, শরীর বা জয়েন্টে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, বমি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গ অনেকেই গুরুত্ব না দিলেও এগুলোতে খেয়াল রাখা জরুরি। অনেকেই নিজে নিজে ওষুধ সেবন করে সাময়িক স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।

গত এক দশকে ক্যান্সারের হার বহুগুণ বেড়েছে। সচেতনতার অভাবে রোগ ধরা পড়ে প্রায়ই শেষ পর্যায়ে, তখন কেমোথেরাপির প্রয়োজন হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করলেই চিকিৎসা অনেক সহজ হয়। ডা. গোপীনাথ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ উল্লেখ করেছেন যা কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়, যেমন—

  • বারবার রক্তপাত বা ক্ষত হওয়া
  • হঠাৎ জন্ডিস বা শরীরে কোনো অস্বাভাবিক গঠন পাওয়া
  • দীর্ঘস্থায়ী আলসার
  • ক্ষুধা ও শক্তির অভাব

প্রতিরোধে করনীয়:

  • প্রতিদিন সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ
  • নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম
  • বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো
  • প্রতিরোধমূলক টিকা গ্রহণ, যেমন এইচপিভি ভ্যাকসিন

ক্যান্সারের প্রকোপ কমাতে এবং সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এই দুটি স্তরে কাজ করা প্রয়োজন।




এশিয়া কাপের আকাশে কালো মেঘ, অনিশ্চয়তার মুখে টুর্নামেন্ট

এশিয়া কাপ ক্রিকেট আয়োজনে গভীর অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। আসন্ন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভায় ভারতের কঠোর অবস্থান এবং পাকিস্তানের অনড় মনোভাবের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকায় এই বৈঠকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ভারত ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও ওমান বিসিসিআইয়ের অবস্থানকে সমর্থন করে ঢাকায় প্রতিনিধি না পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। এই তিনটি দেশের অনুপস্থিতিতে সভার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

এসিসির বার্ষিক সভা ২৪ ও ২৫ জুলাই ঢাকায় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, ভারতের অনুপস্থিতি পুরো বৈঠকের গুরুত্বই কমিয়ে দিয়েছে। এতে এসিসি চেয়ারম্যান ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি মহসিন রাজা নকভি কিছুটা দিশাহারা অবস্থায় রয়েছেন। তিনি নিজে ঢাকায় এসে সময় কাটাচ্ছেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করছেন।

আরো অনেক সদস্য দেশ—নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, বাহরাইন, মালদ্বীপ, মায়ানমার ও ইন্দোনেশিয়া—ও বৈঠকে অংশ নেওয়া নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন এবং ভারতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। ভারতের অনুপস্থিতিতে এই দেশগুলোর অনেকেই পিছু হটে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের কারণে এশিয়া কাপের আয়োজনে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে হওয়ার কথা ছিল এশিয়া কাপ, কিন্তু পাহেলগামের জঙ্গি হামলা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তা বাতিল হয়েছে। নিরপেক্ষ ভেন্যু ছাড়া ভারত ও পাকিস্তান একসঙ্গে খেলতে পারবে না বলেই ধারণা। এর আগে পিসিবি জানিয়েছে, তারা ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেবে না।

এসিসির একাংশ সদস্য সভাটি সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরিত করার পক্ষে, যাতে ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। কিন্তু মহসিন নকভি ঢাকাতেই সভা আয়োজনের পক্ষে অনড় রয়েছেন। অন্যত্র স্থানান্তর হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ক্ষুব্ধ হতে পারে, কারণ তারা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

এশিয়া কাপের ভবিষ্যৎ এখন বিসিসিআই ও এসিসির পারস্পরিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে। বড় দলগুলো না থাকলে টুর্নামেন্টের গুরুত্ব, স্পন্সরশিপ ও দর্শকসংখ্যা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


 




দুর্ঘটনা ও বিপদ থেকে বাঁচার দোয়া: জীবন রক্ষার মহান হাতিয়ার

দোয়া হলো মুসলিমদের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার, যা অসম্ভবকেও সম্ভব করে তোলে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমার কাছে দোয়া করো, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব।’ (সূরা মুমিন: ৬০)।

দোয়া শব্দের অর্থ হলো আহ্বান, প্রার্থনা বা কিছু চাওয়া। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া ছাড়া আল্লাহর সিদ্ধান্তকে বদলানো সম্ভব নয়।’ (জামে তিরমিজি: ২১৩৯)। তাই ইসলাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার জন্য নানা দোয়া শিক্ষা দিয়েছে—খাওয়া-দাওয়া থেকে ঘুম, যাতায়াত পর্যন্ত।

হঠাৎ দুর্ঘটনা, বিপদ ও ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত সকাল ও সন্ধ্যায় কিছু নির্দিষ্ট দোয়া পড়ার নির্দেশ রয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও এই দোয়া নিয়মিত পড়তেন, যা নিচে উল্লেখ করা হলো—

দোয়ার আরবি ও উচ্চারণ:
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ دِيْنِيْ وَدُنْيَايَ وَأَهْلِيْ، وَمَالِيْ، اللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِيْ، وَآمِنْ رَوْعَاتِيْ، اللّٰهُمَّ احْفَظْنِيْ مِنْ بَينِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِيْ، وَعَنْ يَمِيْنِيْ، وَعَنْ شِمَالِيْ، وَمِنْ فَوْقِيْ، وَأَعُوْذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِيْ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফি দ্বীনী ওয়া দুনইয়াইয়া, ওয়া আহলি ওয়া মালি।
আল্লাহুম্মাসতুর আওরাতি ওয়া আমিন রাওআতি।
আল্লাহুম্মাহফাজনি মিম্বাইনি ইয়াদাইয়্যা ওয়া মিন খালফি ওয়া আন ইয়ামিনি ওয়া শিমালি ওয়া মিন ফাওকি।
ওয়া আউজু বিআজামাতিকা আন উগতালা মিন তাহতি।

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্ষমা এবং নিরাপত্তা চাই আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও অর্থ-সম্পদের জন্য।
হে আল্লাহ! আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন, আমার উদ্বিগ্নতাকে নিরাপত্তায় রূপান্তরিত করুন।
হে আল্লাহ! আমাকে সামনের, পেছনের, ডান, বাম ও ওপর থেকে রক্ষা করুন।
আপনার মহত্ত্বের আশ্রয়ে নিচ থেকে হঠাৎ আক্রমণ থেকে বাঁচান।

অন্য একটি দোয়া যা দুর্ঘটনা, বিস্ফোরণ, বন্যা, ডুবে যাওয়া, আগুন লাগা থেকে রক্ষা করে—

দোয়া উচ্চারণ:
اللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي وَالْهَدْمِ وَالْغَرْقِ وَالْحَرِيقِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِيَ الشَّيْطَانُ إِذَا الْمَوْتُ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ لَدِغَةً

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি ওপর থেকে পড়ে যাওয়া, ঘরচাপা পড়া, পানিতে ডুবে যাওয়া ও অগ্নিদগ্ধ হওয়া থেকে।
আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শয়তানের ছোঁয়া থেকে।
আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আপনার পথে পলায়ন অবস্থায় মারা যাওয়া থেকে এবং সাপের কামড় থেকে।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া নিয়মিত পড়তেন এবং এ দোয়ার মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত সব বিপদ থেকে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব বিএনপির

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংবিধানে সংশোধন ও পৃথক আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে।

বুধবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপে অংশগ্রহণ শেষে এ কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, “সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের উপ-ধারায় নতুন সংযোজনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের জন্য নির্দিষ্ট আচরণবিধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে আমরা বলে এসেছি, সংবিধানেই শুধু স্বাধীনতার উল্লেখ থাকলেই হবে না, কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই।”

তিনি জানান, সংলাপে গঠিত প্রস্তাবনায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি সিলেকশন কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই কমিটিতে থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার (সভাপতি), বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রধান বিচারপতির মনোনীত একজন আপিল বিভাগের বিচারপতি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, এই কমিটির অধীনে একটি অনুসন্ধান প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে, যেখানে নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণ প্রার্থীর নাম জমা দিতে পারবে।

পরবর্তী ধাপে সার্চ কমিটি জমা পড়া জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে এবং তা পাঠাবে সিলেকশন কমিটির কাছে। কমিটি চাইলে সেই তালিকা থেকে অথবা অন্য প্রার্থীদের বিবেচনায় নিয়ে কমিশনারদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।

তিনি বলেন, “আগে প্রতিটি পদের জন্য দুটি করে নাম দেওয়ার যে প্রথা ছিল, এখন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিটি পদের জন্য একটি করে নাম যাবে। কমিশনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।”

বিএনপির দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব, যারা কার্যত স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। অতীতে কমিশন গঠন হলেও কার্যকর স্বাধীনতা তাদের মধ্যে দেখা যায়নি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, “নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছে, তাতে জাতি আজ ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।”

সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “এই প্রস্তাব সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তি তৈরি করবে এবং একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামোর পথ সুগম করবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সরকার এনসিপিকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে: নুরুল হক নুর

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র প্রতি সরকার পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে নুর বলেন, “সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সকল রাজনৈতিক দল তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ ধরনের পক্ষপাত থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।”

নুর আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, “পতিত আওয়ামী লীগ যেকোনো ইস্যুতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে।”

এ সময় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানান গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, “বিচার সংস্কার ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দায়িত্ব সরকারের। তাই দ্রুত নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে, যাতে দেশের মানুষ স্বস্তি পায়।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে সাকি আরও বলেন, “সরকারকে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আচরণ জরুরি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “সরকারের কিছু আচরণে দেশের রাজনীতিতে অনিশ্চয়তার মেঘ জমেছে। নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। যার ফলে বাড়ছে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।” এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারেরই দায়িত্ব বেশি বলে মনে করেন তিনি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




একই দিনে নয়, ২ দিনে হবে এইচএসসির স্থগিত পরীক্ষা

এইচএসসি ও সমমানের ২২ ও ২৪ জুলাইয়ের স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো দুইটি ভিন্ন দিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ২২ জুলাইয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৭ আগস্ট এবং ২৪ জুলাইয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে ১৯ আগস্ট।

বুধবার (২৩ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ও আহতের ঘটনায় ২২ ও ২৪ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষাগুলো এখন দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া বন্যা পরিস্থিতির কারণে ১০ জুলাই কুমিল্লা বোর্ডে স্থগিত হওয়া পরীক্ষা নেওয়া হবে আগামী ১২ আগস্ট এবং গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের কারণে স্থগিত হওয়া ১৭ জুলাইয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৪ আগস্ট।

পুনঃনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ব্যবহারিক পরীক্ষার সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২১ আগস্ট থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

এর আগে দুপুরে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার জানিয়েছিলেন, ২২ ও ২৪ জুলাইয়ের পরীক্ষা একই দিনে নেওয়ার চিন্তাভাবনা ছিল। তবে পরে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে তা দুইদিনে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জয়া আহসানকে ঘিরে বিজেপি নেতার ক্ষোভ

সম্প্রতি ওপার বাংলায় মুক্তি পেয়েছে অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর পরিচালনায় নির্মিত ছবি ‘ডিয়ার মা’। দীর্ঘ এক দশক পর পরিচালনায় ফিরে এই সিনেমায় মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। ছবির প্রচারণায় গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় সরব দেখা গেছে তাকে।

তবে এই প্রচারেই নতুন বিতর্কে জড়ালেন জয়া। কলকাতায় তার সক্রিয় উপস্থিতি ভালোভাবে নিতে পারেননি পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। একটি সংবাদ সম্মেলনে জয়ার বিরুদ্ধে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের এই অভিনেত্রী অনেকদিন ধরেই কলকাতায় আছেন। তবে তিনি কি একবারও বলেছেন, তাদের দেশে যা হচ্ছে, তা অন্যায়?”

শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন চলছে, আর সেই বিষয় নিয়ে কখনো মুখ খোলেননি জয়া আহসান। তার দাবি, একজন দায়িত্বশীল শিল্পী হিসেবে এই বিষয়ে অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল জয়ার।

বিজেপি নেতার বক্তব্যে ব্যঙ্গাত্মক সুর ছিল শুরু থেকেই। তিনি আরও বলেন, “জয়া আহসান বলে একজন অভিনেত্রী আছেন। একদম সামনে। মঞ্চ আলো করে! বড় মাপের অভিনেত্রী। তার জনপ্রিয়তা আছে, গ্রহণযোগ্যতা আছে। কিন্তু একবারও কি বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে যা হচ্ছে, অন্যায় হচ্ছে?”

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, জয়া একজন অভিনেত্রী হিসেবে সাংস্কৃতিক পরিসরে কাজ করছেন, তাই তাকে রাজনৈতিক ইস্যুতে জড়িয়ে আক্রমণ করা অনুচিত। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, একজন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত শিল্পীর পক্ষ থেকে এমন সংবেদনশীল বিষয়ে নীরবতা থাকা ঠিক নয়।

এদিকে, এই বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি জয়া আহসান। বরং তিনি বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন ‘ডিয়ার মা’ সিনেমার প্রচারণা নিয়েই। কলকাতার বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠান, সংবাদ সম্মেলন ও সিনেমা হলের আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন তিনি নিয়মিত।

‘ডিয়ার মা’ সিনেমার মধ্য দিয়ে অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর পরিচালনায় জয়ার কাজ দর্শকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে। ছবির গল্প ও অভিনয়ে তার উপস্থিতি ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

তবে রাজনৈতিক বিতর্ক ছাপিয়ে একজন শিল্পীর কাজ নিয়েই দর্শকরা যতটা আগ্রহী, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



১৮ জুলাই ‘ফ্রি ইন্টারনেট ডে’: পাঁচ দিন মেয়াদি ১ জিবি ডাটা পাবেন সব মোবাইল গ্রাহক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ১৮ জুলাই (শুক্রবার) দেশজুড়ে ‘ফ্রি ইন্টারনেট ডে’ পালন করা হবে। এদিন স্মরণীয় করে রাখতে দেশের সব মোবাইল ফোন গ্রাহককে পাঁচ দিন মেয়াদি ১ জিবি ফ্রি ইন্টারনেট ডাটা দেওয়া হবে। এ উদ্যোগ নিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ৩ জুলাইয়ের নির্দেশনা এবং ৮ জুলাই কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৯ জুলাই দেশের সব মোবাইল ফোন অপারেটরদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফ্রি ডাটা সংগ্রহের পদ্ধতি

বিটিআরসি জানায়, ফ্রি ইন্টারনেট ডাটা সংগ্রহ করতে গ্রাহকদের নিজ নিজ অপারেটরের নির্ধারিত কোড ডায়াল করতে হবে। কোডগুলো হলো:

  • গ্রামীণফোন (জিপি): 1211807#
  • রবি: *41807#
  • বাংলালিংক: 1211807#
  • টেলিটক: 1111807#

এই কোড ডায়াল করলেই গ্রাহকরা ১৮ জুলাই থেকে পরবর্তী পাঁচ দিন মেয়াদি ১ জিবি ইন্টারনেট প্যাক চালু করতে পারবেন।

সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণার নির্দেশনা

বিটিআরসির নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ফ্রি ইন্টারনেট ডে সম্পর্কে সর্বসাধারণকে অবগত করতে এই বার্তাটি টেলিভিশনের স্ক্রলে প্রচার করতে হবে। নির্ধারিত স্ক্রল বার্তাটি হলো:

*“জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ১৮ জুলাই সব মোবাইল ফোন গ্রাহক পাচ্ছেন ৫ দিন মেয়াদি ১ জিবি ফ্রি ডাটা। ফ্রি ডাটা পেতে ডায়াল করুন— জিপি 1211807#, রবি 41807#, বাংলালিংক 1211807#, টেলিটক 1111807# — ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।”

সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং জাতীয় ঐতিহাসিক দিবসকে স্মরণে রাখতে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।