নিহত সামিউলের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানাল বিমান বাহিনী

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের কিশোর সামিউল করিমের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের দেশখাগকাটা গ্রামে সামিউলের পারিবারিক কবরস্থানে বিমান বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল এ শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এরপর তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় কবর জিয়ারত ও মোনাজাতে অংশ নেয়। স্থানীয় মসজিদের খতিব মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নিহত সামিউলের মা-বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন মীর্জা নাজমুল কবীর।

তিনি বলেন, ‘বিমান দুর্ঘটনায় একটি অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। নিহত সামিউলের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে। এই দূরগ্রাম এলাকায় এসেছি শুধু শিশুটির কবর জিয়ারত নয়, তার পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়েই।’

সামিউল করিম সামি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার খারকি এলাকার বাসিন্দা এবং রেজাউল করিমের ছোট ছেলে। বড় বোন স্নেহা এবার মাইলস্টোন স্কুল থেকেই এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। দুর্ঘটনার পর সামিউলের মরদেহ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জানাজা শেষে তাকে নানা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

একের পর এক স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় বাবা রেজাউল করিমকে। ঘটনার দিনও তিনি নিজেই সামিউলকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে গেটের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ছেলেটি যখন দোতলায় উঠছিল, তখনও তাকিয়ে ছিলেন তিনি। আবার দুপুরে ছুটি হলে গেটে দাঁড়িয়ে ছেলেকে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। সামিউল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বাবার দিকে এগিয়ে আসছিল, তখনই আকস্মিকভাবে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে একটি জ্বলন্ত অংশ সামিউলের শরীরে আঘাত করে। সামিউলের শরীরের পেছনের অংশ পুড়ে যায়। রেজাউল করিম ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন আমার ছেলেকে বাঁচান, হেল্প… হেল্প । একজন সেনা সদস্য নিজের গায়ের পোশাক খুলে দিয়ে সহায়তা করেন। পরে সামিউলকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক জানান, তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানাবো। কিন্তু আমার চোখের সামনেই সব শেষ হয়ে গেল। আমার ছেলেটা জ্বলছিল, আমি কিছুই করতে পারিনি। এখন আর ঘুম আসে না। কীভাবে ওকে ছাড়া বাঁচব জানি না।’

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আ.লীগ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রাজপথে থাকবে জামায়াত : শামীম সাঈদী

পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বড় ছেলে আলহাজ শামীম সাঈদী বলেছেন, “যারা মনে করেন বিএনপি ও জামায়াতের আর অস্তিত্ব নেই, তারা চরম ভুল করছেন। আওয়ামী লীগ ভারতের দালাল দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল বলেই তাদের আশ্রয় নিতে হয়েছিল বিদেশে। তারা যেন আর এদেশে ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য আমরা রাজপথে থাকব।”

শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে পিরোজপুরের নেছারাবাদে তৃণা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা পর্যায়ের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম সাঈদী আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। আমাদের কোনো নেতাকর্মীর নামে দুর্নীতির অভিযোগ নেই। কিন্তু সরকার পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের রাজনীতি চালাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “শহীদ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে অতীতে যে অপপ্রচার করা হয়েছে তা ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই অন্যায়ের বিচার একদিন আল্লাহ এই মাটিতেই করবেন।”

তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, “পিরোজপুর-২ আসনের মানুষ ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী। নেছারাবাদে আমাদের শক্তিশালী ভোটব্যাংক রয়েছে। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করলে নেছারাবাদকে একটি আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং বেকারত্ব দূর করতে হবে নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেছারাবাদ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবুল কালাম আজাদ এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুর রশিদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, জেলা সেক্রেটারি মো. জহিরুল হক, জেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এবং ঢাকাস্থ নেছারাবাদ উপজেলা সেক্রেটারি আল আমিন সবুজ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




র‍্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমনের বাবাকে মারধরের অভিযোগ

ঝালকাঠির রাজাপুরে র‍্যাবের গুলিতে পা হারানো আলোচিত লিমন হোসেনের বাবা তোফাজ্জেল হোসেনকে (৫৫) পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইঁদুরবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী তোফাজ্জেল হোসেন রাজাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যেখানে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ছেলে লিমন হোসেন যে অভিযোগ দিয়েছেন, তা তুলে নিতে তাকে চাপ দিচ্ছিলেন প্রতিবেশী মো. ইব্রাহিম হাওলাদার ও আবদুল হাই। জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় তারা তাকে ঘিরে ধরে হুমকি দেন। অস্বীকার করায় তারা সংঘবদ্ধভাবে মারধর করে আহত করে।

এর আগেও ২০১৯ সালে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে বাঁশ কাটার চেষ্টা করলে বাধা দেওয়ায় তোফাজ্জেল হোসেনকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে মামলা করলে ঝালকাঠির আদালত ইব্রাহিম হাওলাদারকে দুই বছর ও আবদুল হাইকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।

সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে ইব্রাহিম হাওলাদার আবারও লিমনের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তোফাজ্জেলের। তিনি বলেন,“আমার ছেলের দায়ের করা আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগ তুলে না নেওয়ায় আমাকে পিটিয়ে আহত করেছে। থানায় অভিযোগ দিয়েছি, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযোগ অস্বীকার করে ইব্রাহিম হাওলাদার দাবি করেন,“জমি নিয়ে বিরোধ থেকেই এই মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে লিমনের পরিবার।”

এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে।”

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ রাজাপুরের নিজ বাড়ির পাশে র‍্যাবের গুলিতে আহত হন কলেজছাত্র লিমন হোসেন। তার বাঁ পা অস্ত্রোপচার করে কেটে ফেলতে হয়। ঘটনায় দায়মুক্তি পেলেও মামলা, হুমকি ও হয়রানির মধ্যে পড়তে হয় লিমন ও তার পরিবারকে।




বেড়িবাঁধ না থাকায় ইন্দুরকানীতে অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত অন্তত ২০ গ্রাম, ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারের পানি প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এলাকার রাস্তাঘাট, স্থানীয় বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বহু পরিবারের স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে হাজারো পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বলেশ্বর ও কচা নদীর তীরবর্তী ইন্দুরকানী, পাড়েরহাট, বালিপাড়া, টগড়া, চাড়াখালী, কালাইয়া, ঢেপসাবুনিয়া, সাঈদখালী, চরবলেশ্বর, কলারন, চন্ডিপুরসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরে পানি ঢুকে রান্নাবান্না বন্ধ, অনেকে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “মোগো কোলার সব ফসল তলিয়ে গেছে। ঘরে পানি ঢুকেছে, রান্না করা যাচ্ছে না। পরিবারের সবাই মিলে বিপাকে পড়েছি।”

উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মনিরুজ্জামান জানান, “জোয়ারের পানিতে আশি শতাংশ আমনের বীজতলা প্লাবিত হয়েছে। পানি নামা পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ বলা সম্ভব নয়।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে এই দুর্যোগ বারবার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। সাময়িক বালির বস্তা ও কাঁচা মাটি দিয়ে বেড়িবাঁধ তৈরি হলেও তা কার্যকর সমাধান নয়।

পাড়েরহাট ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন,“স্লুইসগেট না থাকায় কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। টগড়ায় করা বেড়িবাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত। এখানকার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ প্রয়োজন।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি এরিয়াতে এখনো বড় কোনো প্রকল্প নেয়নি। বরাদ্দের অভাবে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বালিপাড়া ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “টেকসই বেড়িবাঁধ না হলে ঘন ঘন দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের আলোকে দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ প্রকল্প সময়ের দাবি।”

ইন্দুরকানী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার জানান, “প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি, পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে।”

এস এল টি /




মেঘনায় ৭ বাল্কহেড ডুবে গেলো, ১৩ জনকে উদ্ধার

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় মেঘনা নদীতে বালুবোঝাই ৭টি বাল্কহেড নদীর প্রবল স্রোত ও ঝড়ের তোড়ে ডুবে যায়। শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের মল্লিকপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় জেলে ও নৌ পুলিশের সহায়তায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় ১৩ জনকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. সোহেল, আবাদুস সালাম, মো. অলি উদ্দিন, মো. বাকির হোসেন, সোহরাব হোসেন, মো. শহীদুল্লাহ, নজির হোসেন, মো. বাহাদুর, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ মিয়া, মো. শহীদুল এবং মো. নাহিদ ইসলাম।

রনজিতপুর ১ বাল্কহেডের মাস্টার বাহাদুর জানান, সিলেট থেকে বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে তারা বালুবোঝাই করে যাত্রা করছিলেন। মেঘনা নদীতে প্রবল ঝড় ও স্রোত পড়ায় জাহাজটি ডুবে যেতে থাকে। একপর্যায়ে একটি চর নোঙর করতে সক্ষম হলেও তাদের চোখের সামনে ৭টি বাল্কহেড ডুবে যায়।

নাহিদ হাওলাদার বলেন, “আমাদের রনজিত ১ বাল্কহেড মেঘনায় ঝড়ের কবলে পড়ে একটি চরতে নোঙর করতে সক্ষম হলেও ৭টি বাল্কহেড ভেসে যায়। আমাদের স্টাফরা নদীতে ভাসতে দেখেছে।”

মেহেন্দিগঞ্জের কালীগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. এনামুল হক জানান, “৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবা থেকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৩ জনকে উদ্ধার করেছি। কেউ নিখোঁজ আছে কিনা জানি না। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে ডুবে যাওয়া বাল্কহেডগুলোর সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।”

এদিকে মালিক পক্ষ বাল্কহেডগুলো উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে এবং নৌ-পুলিশ ইউনিটের টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো বাল্কহেডগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চোখ হারানো বেল্লালের জীবনে শুধু আলো চাই

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বেল্লাল হাওলাদার এক সময় অটো চালিয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু গত বছর ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে বেল্লাল তার এক চোখ হারিয়েছেন, আর অপর চোখের দৃষ্টি নষ্টের পথে। বর্তমানে চিকিৎসাবিহীন ও বেকার বেল্লালের জীবন মানবেতর হয়ে উঠেছে। অভাব-অনটনের সঙ্গে সাথে তার ১০ মাস বয়সী সন্তানসহ স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে গেছেন।

ঘটনাটি ঘটে যখন বরিশাল থেকে অটো নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বেল্লাল। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ছাত্রদের ডাকে যোগ দিলে পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হন। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে পাঠানো হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও চোখের অবস্থার উন্নতি হয়নি।

বেল্লালের প্রতিবেশীরা জানান, আগে তার আয় সংসার চলত, কিন্তু এখন শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় সংসারের চিন্তা তার নেই। বেল্লালের নিজের কথায়, “ছাত্রদের জন্য মায়া লাগত, তাই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলাম। শরীরে এখনো গুলির ক্ষত রয়েছে। এক চোখ হারিয়েছি, আরেকটির অবস্থা খুব খারাপ। চোখ না থাকলে বাঁচার কী মানে?”

তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন,“আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। টাকা-পয়সা চাই না, শুধু পৃথিবীর আলো একটু দেখতে চাই।”

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান বলেন,“আহত ও নিহত পরিবারদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং সহযোগিতা করা হচ্ছে। সরকার তাদের পাশে রয়েছে।”

বেল্লালের এই গল্প শুধু তার নয়, দেশের প্রতিটি আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যারা মানুষের অধিকার ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করেছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




পিরোজপুরে খাল দখল করে দোকান নির্মাণ, জনজীবনে বিপর্যয় আশঙ্কা

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ৪নং আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের আন্দাকুল গ্রামে বাণিজ্যিক খালের মোহনাস্থল দখল করে দুটি দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পেছনে উপজেলার প্যানেল চেয়ারম্যান (দায়িত্বপ্রাপ্ত) এবং ইউপি সদস্য সবুজ মজুমদারের নেতৃত্ব থাকার কথা স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এই ইউনিয়নটি পেয়ারা ও আমড়ার জন্য বিখ্যাত এবং অঘোষিত পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত। গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রধান খাল দিয়ে নৌকা ও ট্রলারে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে, বিশেষ করে পেয়ারা ও আমড়া মৌসুমে। খালটি ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের চলাচলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ পথ।

তবে খালের দুই পাশে দখল নিয়ে তৈরি হওয়া দোকানগুলোয় খালের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন,  “এই খাল আমাদের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। দোকান নির্মাণ করলে খালের মুখ বন্ধ হয়ে যাবে এবং এর ফলে যাতায়াতসহ সকল কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটবে।”

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সবুজ মজুমদার দাবি করেছেন, “এটি তার ব্যক্তিগত জমি যেখানে সরকার খাল কেটেছে। দরকারে দুজন গরিবকে দোকান নির্মাণ করতে দিয়েছেন।”

স্থানীয়রা এর সাথে একমত নন এবং বলছেন, “ক্ষমতার অপব্যবহার করে খাল দখল করে তারা জনগণের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

২৪ জুলাই সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের একপাশে দোকানঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং অন্য পাশে নির্মাণ কাজ চলছে।

এ বিষয়ে আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. খালেদ হোসেন জানান, “আমি বিষয়টি এখনও জানি না। অভিযোগ সঠিক প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

খালের অব্যবস্থাপনায় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পরিবেশ ও জনজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার, যা দ্রুত সমাধান না হলে বড় সংকটে পরিণত হতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালে কলাগাছের ভেলায় ভেসে এল ভারতীয় নারীর অর্ধগলিত লাশ

বরিশালের মুলাদী উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে এক অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত লাশটি আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এবং তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে হিন্দি ভাষায় লেখা চিরকুট পাওয়া গেছে, যা লাশটির পরিচয় স্পষ্ট করেছে।

নাজিরপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানান, চিরকুটে উল্লেখ আছে যে, নিহত ব্যক্তি ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের গোড্ডা জেলার পাথরঘামা গ্রামের পঞ্চায়েত ইটরা এলাকার নারায়ণের স্ত্রী শরিকা দেবী। যদিও লাশটি পচে গিয়ে কংকাল অবস্থায় রয়েছে।

ঘটনাটি ২৫ জুলাই দিবাগত রাতে ঘটে। নাজিরপুর ইউনিয়নের পাইকবাড়ি এলাকার খেয়াঘাট সংলগ্ন স্থানে জেলেরা নদীতে ভেসে আসা ভেলার পাশে ওই লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। এরপর নৌ-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা ও নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে তথ্য প্রেরণ করা হয়েছে। এসআই শফিকুল ইসলাম আরও জানান, এই ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ দ্রুত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




চলাচলের আগেই খালে ভেঙে পড়ল ৬ কোটি টাকার সেতু

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার পূর্ব জলাবাড়ি এলাকায় নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গার্ডার সেতু। খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ব্যবহার শুরু হওয়ার আগেই মঙ্গলবার (২২ জুলাই) খালের মধ্যে পুরো স্লাব ভেঙে পড়ে যায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৯ ডিসেম্বর মাদ্রা বাজার সড়কের ওপর দুটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য পিরোজপুরের মেসার্স ইফতি ইটিসিএলকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ব্রিজ দুটি ছিল ২২ ও ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এবং চুক্তি মূল্য ছিল ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। এক বছরের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার কথা থাকলেও প্রকল্পটি প্রায় তিন বছরেও শেষ হয়নি।

নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগে এর আগেই সেতুর স্লাবে ফাটল দেখা দেয়। পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্লাব পরিদর্শনে গিয়ে তা ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেন। কিন্তু সংস্কারকাজ শুরুর আগেই সেতুটির সম্পূর্ণ ছাদ খালের মধ্যে পড়ে যায়।

সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, কার্যাদেশ পেয়েছিলেন পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দীন মহারাজের ভাই মিরাজুল ইসলাম। তিনি নিজে কাজ না করে একাধিক সাব-কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেন। প্রথম দিকেই নিম্নমানের উপকরণ ও নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আরেক সাব-কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে গার্ডার ছাড়া সেতুর ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়, যা পরে ফাটল ধরে ভেঙে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা দিপু মিস্ত্রি বলেন,“চার বছর ধরে বারবার ঠিকাদার বদলানো হয়েছে। শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার হচ্ছিল। উপকরণ মানসম্মত না হওয়ায় স্লাব ফেটে যায়। সংস্কার শুরুর আগেই পুরো ব্রিজ খালের মধ্যে পড়ে গেছে।”

সেতু নির্মাণ নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ ঠিকাদার ও এলজিইডি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রায়সুল ইসলাম বলেন, “নির্মাণে অনিয়ম থাকায় সম্পূর্ণ স্লাব ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু মূল ঠিকাদার মিরাজুল ইসলাম এখনো অধরা থাকায় কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।”

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন মূল ঠিকাদার মিরাজুল ইসলাম।

একটি প্রকল্পে এমন অদূরদর্শিতা ও দুর্নীতির কারণে একদিকে যেমন কোটি টাকা ব্যয় বিফলে গেছে, অন্যদিকে জনসাধারণ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




পিরোজপুরে বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা, জমি বিরোধের অভিযোগ

পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের ভৈরমপুর গ্রামে নিজের ঘরেই নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে রোকেয়া বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধাকে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ।

নিহত রোকেয়া বেগম ওই গ্রামের মোক্তার হাওলাদারের স্ত্রী। শুক্রবার সকালে বৃদ্ধার চাচাতো দেবরের স্ত্রী হাওয়া বেগম ঘরের বাইরে বাতি জ্বলতে দেখে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া না পেয়ে পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা মরদেহ দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিহতের নাতি আমিনুল ইসলামকে বিষয়টি জানান।

আমিনুল ইসলাম জানান, “দাদিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে জানার পর আমি দ্রুত বাড়িতে এসে দেখি ঘরের মাঝখানে দাদি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। আমার ধারণা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড।”

নিহতার ছেলে লিটন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের একই এলাকার রুমান হাওলাদারের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। তারা আমাদের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। তবে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “গলাকাটা অবস্থায় এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫