দুর্গাসাগরের খাঁচা থেকে হরিণ উধাও, তদন্তে প্রশাসন

বরিশালের ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দীঘির খাঁচা থেকে একটি হরিণ উধাও হয়ে গেছে। খাঁচায় থাকা ১৩টি হরিণের মধ্যে একটির হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিষয়টি তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও প্রশাসন।
ঘটনাটি ঘটে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশায় অবস্থিত দুর্গাসাগর দীঘির খাঁচায়। দর্শনার্থীদের জন্য এখানে কিছু হরিণ সংরক্ষিত অবস্থায় খাঁচায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে হরিণ পরিচর্যাকারী আশিক খাঁচা পরিদর্শনের সময় দেখতে পান, একটি হরিণ খাঁচায় নেই।
এ বিষয়ে দুর্গাসাগর দীঘির তত্ত্বাবধায়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “রোববার রাতে নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্বে ছিলেন অলিউল হাওলাদার, জাহিদুর রহমান ও বশির শিকদার। তারা যথারীতি সকালে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। এরপর পরিচর্যাকারী আশিক খাঁচার ভেতরে ১২টি হরিণ দেখতে পান। খাঁচার তালা ঠিকঠাক অবস্থায় থাকলেও একটি হরিণ গায়েব ছিল।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয় এবং বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আবদুল মতিন খানসহ কর্মকর্তারা।
তবে খাঁচার আশপাশে স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো কাজ না করায় ফুটেজ দেখে কোনো তথ্য উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির শিকদার বলেন, জিডি করার পর থেকেই আমরা হরিণ উদ্ধারে মাঠে কাজ করছি। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আহমেদ জানান, “হরিণ উধাও হওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারও গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, দুর্গাসাগর দীঘি বরিশালের একটি ঐতিহাসিক জলাধার। এটি ১৭৮০ সালে চন্দ্রদ্বীপের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ণ তার স্ত্রী দুর্গামতির নামানুসারে খনন করেন। বর্তমানে এটি “দুর্গাসাগর দীঘির উন্নয়ন ও পাখির অভয়ারণ্য” প্রকল্পের অধীনে বরিশাল জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
হরিণটির হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ায় দর্শনার্থীসহ সচেতন মহলের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত হরিণটি উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে এলাকাবাসী।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫









