দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে এড়িয়ে চলুন ৩টি খাবার

উজ্জ্বল হাসি কেবল আত্মবিশ্বাস বাড়ায় না, এটি সামগ্রিক সুস্থতারও প্রতীক। তবে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস দাঁতের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার দাঁত ও মাড়ির মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ভারতের অর্থোডন্টিস্ট ডা. জৈনীল পারেখ জানিয়েছেন, দাঁতের যত্নে কিছু নির্দিষ্ট জিনিস এড়িয়ে চলা খুবই জরুরি।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত চিনি খেলে মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া তা অ্যাসিডে রূপান্তর করে, যা দাঁতের এনামেল নষ্ট করে। এতে দাঁতের ক্ষয়, ক্যাভিটি ও ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়।

যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি:

১. চিনিযুক্ত খাবার:
চকলেট, মিষ্টি, ক্যান্ডি, কোক বা চিনিযুক্ত পানীয় বেশি খেলে দাঁতের ক্ষয় দ্রুত হয়। চিনি ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে দাঁতের এনামেল ভেঙে দেয়।

২. কোমল পানীয় ও জুস:
সোডা, ফিজি ড্রিংকস, সাইট্রাস জুসে থাকা অ্যাসিড দাঁতের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। দাঁত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, হলুদ দাগ পড়ে এবং গহ্বর সৃষ্টি হয়।

৩. স্টার্চযুক্ত খাবার:
আলুর চিপস, সাদা পাউরুটি ও প্রেটজেলের মতো স্টার্চজাতীয় খাবার মুখে গিয়ে চিনিতে রূপ নেয়। এতে দাঁতে প্লাক তৈরি হয় যা দাঁতের ক্ষয় বাড়ায়।

করণীয়:

  • দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন।
  • ফ্লস ব্যবহার করুন।
  • চিনি ও কোমল পানীয় কমিয়ে আনুন।
  • ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য থেকে বিরত থাকুন।
  • প্রতি ছয় মাসে একবার দাঁতের ডাক্তারের কাছে যান।

দাঁতের যেকোনো সমস্যা যেমন ব্যথা, মাড়ি থেকে রক্তপাত বা ফোলা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। মনে রাখবেন, নিয়মিত যত্ন ও সচেতনতাই দাঁতের সুস্থতা নিশ্চিত করে এবং আপনাকে দেয় ঝকঝকে সুন্দর হাসি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শাকিবকে ঘিরে জয়ের মন্তব্য ভাইরাল: “দুই স্ত্রীকে খুশি রাখা অসম্ভব”

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান ও তার ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে আলোচনা যেন থামছেই না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীর একগুচ্ছ রোমান্টিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এর আগে তিনি সময় কাটিয়েছেন সাবেক স্ত্রী অপু বিশ্বাস ও ছেলে আব্রাম খান জয়ের সঙ্গে।

এই দুই স্ত্রীর প্রসঙ্গ নিয়েই এবার নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। রোববার (৩ আগস্ট) গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। ছবিতে দেখা যায়, জয় বিমান ভ্রমণে রয়েছেন।

ছবির ক্যাপশনে জয় ইঙ্গিত করে লেখেন,
“শাকিব খানের দুই স্ত্রী এবং দুই সন্তান। তিনি সবার প্রতি সমানভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তিনি এমন এক ফ্যাসাদে পড়েছেন, দায়িত্ব পালন করলেও খুশি করতে পারছেন না কাউকেই।”

তিনি আরও লেখেন, “অধিকাংশ মানুষ এক স্ত্রীকেই খুশি রাখতে পারে না। সেখানে দুই স্ত্রীকে খুশি রাখা অসম্ভব। তিনি যত বড় স্টার, তত বড় মেধাবী নন। আবার আমি যত মেধাবী, তত বড় স্টার নই।”

এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং শুরু হয় আলোচনার ঝড়। কেউ কেউ শাকিব খানের ‘দায়িত্বশীলতা’র প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে অনেকেই জয়ের মন্তব্যকে বাস্তবসম্মত বলে মন্তব্য করছেন।

একজন নেটিজেন কমেন্টে লিখেছেন, “দুই পক্ষকে খুশি রাখার চেষ্টা করেও কেউ খুশি নয়— কথাটা খুব সত্যি!”
আরেকজন মন্তব্য করেন, “স্টার হতে হলে শুধু জনপ্রিয়তা না, ব্যক্তিগত জীবনেও ভারসাম্য থাকতে হয়।”

উল্লেখ্য, শাকিব খান বর্তমানে তার দুই সন্তান—আব্রাম ও শেহজাদ—এবং তাদের মায়েদের নিয়ে একের পর এক আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। তবে, এসবের মাঝেও তিনি তার সন্তানদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন বলেই মনে করছেন তার ভক্তরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ভোলার গজারিয়ায় নৌকা নির্মাণের ঐতিহ্য জ্বলজ্বল করছে কাঠের বৈঠায়

তারিকুর ইসলাম তুহিন,বরিশাল :: ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া কাঠপট্টি নদী ও নৌকা জীবনযাপনের প্রাণকেন্দ্র। চারদিকে জলাঘেরা এই এলাকায় নৌকা শুধু যাতায়াতের বাহন নয়, এটি জীবিকার প্রধান অবলম্বন ও সংস্কৃতির অংশ। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে চলমান নৌকা নির্মাণ শিল্পে কাঠের ঘ্রাণ আর করাতের শব্দে মুখরিত এই এলাকা।

প্রতিদিন গজারিয়ায় প্রায় ১০টি টিম্বার দোকানে তৈরি হচ্ছে ডিঙি নৌকা, জয়া নৌকা ও বড় ফিশিং বোট। নৌকার দাম আকার ও গুণগতমান অনুযায়ী ৫০ হাজার থেকে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। শুধু ভোলাতেই নয়, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও কক্সবাজারেও এই নৌকা সরবরাহ করা হয়।

এ শিল্পে প্রায় ২০০ জন শ্রমিক কাজ করেন, যাদের অধিকাংশই মৌসুমী, বৈশাখ থেকে শ্রাবণ পর্যন্ত কর্মব্যস্ত থাকেন। কারিগর মনির উদ্দিন বলেন, “আগে মজুরি কম ছিল, এখন দিনে ৯০০ টাকা পাই, কিন্তু কাজ থাকে কেবল মৌসুমেই।”

নৌকা নির্মাণে সময় লাগে এক থেকে তিন সপ্তাহ, কাঠ, পেরেক, রঙ ও অন্যান্য উপকরণ মিলিয়ে নৌকায় লাখ টাকার খরচ হয়। লাভের অংশ সীমিত; ১ লাখ টাকার নৌকায় ২০ হাজার টাকা, আর ৫-৬ লাখ টাকার নৌকায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়।

পাইকার নুরু ব্যাপারী জানান, “দৈনিক কয়েক লাখ টাকার নৌকা বিক্রি হয়, কিন্তু শ্রমিক উন্নয়ন ও পুঁজি বৃদ্ধির জন্য সরকারি কোনো সহায়তা নেই। অধিকাংশ কাজ চলছে এনজিও ঋণের মাধ্যমে।”

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আকন্দ বলেন, “এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

তবে কারিগররা দাবি করেন, শুধু আশ্বাস নয়, সরকার থেকে সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও উপকরণে ভর্তুকি চাই। তারা বলেন, এ শিল্পকে প্রয়োজন সুষ্ঠু সহযোগিতা যাতে ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়।

গজারিয়া কাঠপট্টির কাজের গর্জন, শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম আর নৌকার নতুন রঙের গন্ধে স্পষ্ট যে, নদীর দেশ ভোলায় জীবন আজও কাঠের বৈঠা বেয়ে চলে। নদী যেখানে পথ, সেখানে নৌকা শুধু বাহন নয়, জীবনের প্রতিচ্ছবি। এই ঐতিহ্যবাহী নৌকা শিল্প রক্ষা করতে সরকারি দৃষ্টি ও সহযোগিতা অত্যাবশ্যক, কারণ এখানকার মানুষই দেশের উপকূলীয় সংস্কৃতি ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ধরে রেখেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“জানাজার নামাজে কান্না করার সুযোগ পেতাম না” : শামীম সাঈদী

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেছারাবাদ উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণজমায়েত ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বড় ছেলে ও সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ শামীম সাঈদী প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

শামীম সাঈদী বলেন, “স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা মিটিং মিছিল তো দূরের কথা, জানাজার নামাজে কান্না করার সুযোগ পর্যন্ত পেতাম না। জামায়াতের নেতাকর্মীরা যদি কারও জানাজায় অংশগ্রহণ করত, তাদের পোষ্য পুলিশ বাহিনী দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হত। এখন আমরা স্বাধীনভাবে চলতে পারছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের সব সীমা অতিক্রম করেছে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে জনগণ তার যথাযথ জবাব দিয়েছে। নতুন বাংলাদেশে আমরা ইসলাম ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।”

শামীম সাঈদী আরো বলেন, “শেখ পরিবারের সবাই চোর-ডাকাত। শেখ মুজিবের ছেলে স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম ব্যাংক ডাকাতি করেছে। তার মেয়ে ১৪টি ব্যাংক ডাকাতি করেছে। সারা দেশের রাস্তাঘাটের কাজ না করে বিল তুলে নিয়ে দেশ থেকে পালিয়েছে। শুধু পিরোজপুরেই ছাব্বিশ শত কোটি টাকা চুরি করেছে। আমরা চোরদের বিরুদ্ধে। তাই জুলাইয়ের বিপ্লব ছিল বৈষম্যবিরোধী ও দুর্নীতিবিরোধী বিপ্লব।”

তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু শব্দ নেই। পাসপোর্ট, ভিসা ও জাতীয় পরিচয়পত্রেও তা লেখা নেই। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও মুসলমান সবাই এক সূত্রে গাঁথা। ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমার বাবা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন।”

শামীম সাঈদী বলেন, “৫ আগস্টের পরে যেমন হিন্দুদের বাড়িঘর আমরা আগলে রেখেছিলাম, আগামীতেও তাদের মন্দির, জান-মাল, জমি ও সন্তানদের রক্ষা করব। আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে বিজয়ী করলে নেছারাবাদকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব।”

নেছারাবাদ উপজেলা আমির মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সিদ্দিকুল ইসলাম, সাঈদী ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমির জহিরুল ইসলামসহ নেছারাবাদ ফোরামের বিভিন্ন নেতারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানোর অভিযোগে প্রধান শিক্ষিকা শামীমার সাময়িক বরখাস্ত

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোনারঘোপ রমেশচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামীমা ইয়াছমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোন্দকার জসিম আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার (৪ আগস্ট) ওই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টানানোর ঘটনা নিয়ে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শামীমা ইয়াছমিন নিজে দাবি করেছেন, বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানো তার প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ। তিনি বলেন, “আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানোকে আমি গর্বের বিষয় মনে করি।”

নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত চলছে। বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে স্বাধীন মতপ্রকাশে বাধা ও রাজনৈতিক প্রভাবের ফল বলে মন্তব্য করছেন, আবার অনেকে প্রধান শিক্ষিকাকে ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর’ আখ্যা দিয়েছেন। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিক্ষক সমাজের একাংশ বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্য একাংশ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

প্রধান শিক্ষিকার মোবাইলে যোগাযোগ করলে তার স্বামী মো. হাফিজুর রহমান জানান, ‘সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অফিসে একটি চিঠি নিতে বলেছে, তবে বরখাস্তের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।’

নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোন্দকার জসিম আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদপত্রের রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। তদন্ত চলমান আছে, দোষী সাব্যস্ত হলে বিভাগীয় মামলা হতে পারে এবং স্থায়ীভাবে বহিষ্কারও হতে পারে।’

গত ৩ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় ও উপজেলায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। প্রধান শিক্ষিকা সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে। বঙ্গবন্ধু না হলে স্বাধীন বাংলাদেশ হতো না। তাই ছবিটি সরানো সম্ভব নয়।’ পরে জনসমক্ষে চাপের কারণে ছবিটি সরানো হয়।

এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্দেশনায় প্রাথমিক তদন্তের পর প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন: সিইসি

আগামী ফেব্রুয়ারির শুরুতেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণে প্রস্তুত।

বুধবার (৬ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিইসি বলেন, “যত কঠিন পরিস্থিতিই হোক, নির্বাচন আয়োজন থেমে থাকবে না। এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চিঠি না পেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতেই ভোট আয়োজনের জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ভোটের প্রায় দুই মাস আগে। এই তফসিল নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন চিঠি প্রাপ্তির পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করে সিইসি বলেন, “কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে সকল দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা। আমরা এমন একটি নির্বাচন করতে চাই, যা হবে আয়নার মতো পরিষ্কার। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও যেন প্রমাণ হয়—নির্বাচন কমিশনের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।”

তিনি জানান, ভোটারদের আস্থা ফেরাতে ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম চালাবে ইসি। এ ছাড়া নির্বাচনী সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই অগ্রগতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাত থাকবে না। কারও চেহারা দেখে নয়, তথ্য-উপাত্ত ও নীতিমালার ভিত্তিতেই আসনের সীমানা চূড়ান্ত হবে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন বিষয়ে সিইসি জানান, “যেসব দল শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের চিঠি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে যাদের কাগজপত্র সঠিক রয়েছে, তাদের তথ্য মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নিবন্ধনের কাজ শেষ হবে।”

ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হলেও তফসিল ঘোষণার আগপর্যন্ত তরুণ ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সবশেষে, সিইসি বলেন, “ভোটারদের কেন্দ্রে আনা এবং কমিশনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে নির্বাচন কমিশন।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘দেশ’ সিনেমা দিয়ে আবারও আলোচনায় নিরব

শিল্পী সংকট, লগ্নির ঘাটতি ও নতুন সিনেমার অভাবে যখন ঢালিউডে এক ধরনের স্থবিরতা, ঠিক তখনই ব্যতিক্রম উদাহরণ তৈরি করছেন চিত্রনায়ক নিরব হোসেন। জাতীয় গণ-অভ্যুত্থান দিবসে (৫ আগস্ট) নতুন একটি দেশপ্রেমভিত্তিক সিনেমার ঘোষণা দিয়ে আবারও আলোচনায় এই নায়ক।

সিনেমার নাম ‘দেশ’। এটি পরিচালনা করবেন কামরুল হাসান ফুয়াদ। নিরব থাকছেন নাম ভূমিকায়, অর্থাৎ চরিত্রের নামও ‘দেশ’। এই সিনেমায় তাকে দেখা যাবে একজন সাহসী পুলিশ অফিসারের চরিত্রে, যিনি দেশের জন্য লড়াই করবেন।

নিরব বলেন, “ছবির গল্প যেহেতু দেশ নিয়ে, দেশের মানুষের জন্য; তাই এর চেয়ে ভালো দিন আর হতে পারে না ছবির ঘোষণা দেওয়ার জন্য।” তিনি আরও বলেন, “আমার চরিত্রের নামও ‘দেশ’। নিজের নাম যখন দেশ হয় তখন মনে এক ধরনের গর্ব ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।”

সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। নিরব জানিয়েছেন, বর্তমানে তার হাতে দুটি ছবির কাজ রয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রায় শেষ, অন্যটি শুরু হবে সেপ্টেম্বর মাসে। এরপর ১৬ ডিসেম্বর ‘দেশ’ সিনেমার শুটিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেদিন ছবিটির ফার্স্ট লুক প্রকাশ করা হতে পারে।

মুক্তি নিয়ে নিরব বলেন, “ভাবনায় আছে ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার। তবে এখনই নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।”

বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে নিরব অভিনীত ‘শিরোনাম’, পরিচালনায় অনিক বিশ্বাস। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে পরীমনির সঙ্গে নতুন ছবি ‘গোলাপ’-এর কাজ শুরু করবেন তিনি, পরিচালনায় সামছুল হুদা।

ঢালিউড যখন সংকটে, তখন ধারাবাহিকভাবে কাজের মধ্যে থাকায় নিরব হয়ে উঠছেন এই প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য মুখ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাগরিকার ওপর ভরসা নিয়ে আজ সন্ধ্যায় মাঠে নামছে বাংলার মেয়েরা

তরতাজা সাফ ট্রফি জয়ের রেশ এখনো টাটকা। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ বুধবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে লাওসের রাজধানীতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দল। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে এটি তাদের প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক লাওস।

সাফ জয় শুধু একটি শিরোপার গল্প নয়, ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। এবার মূল লক্ষ্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া। কোচ পিটার বাটলার মনে করছেন, লাওস ম্যাচ থেকেই শুরু হবে নতুন এক আত্মবিশ্বাসের অধ্যায়।

বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়া (র‍্যাঙ্কিং ১৯), লাওস (১০৭) ও বাংলাদেশ (১২৮)। কাগজে-কলমে পিছিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে ভিন্ন কথা। গত মাসেই জাতীয় নারী দল হারিয়েছে মিয়ানমার ও বাহরাইনকে, যারা র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক ওপরে ছিল।

সেই জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ই আছেন এই অনূর্ধ্ব-২০ স্কোয়াডে। ফলে বাছাইপর্বের লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে স্বভাবতই আত্মবিশ্বাসী পুরো দল।

সাবেক তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে এসেছেন দলে অন্যতম ভরসা মোসাম্মৎ সাগরিকা। সাফের ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে তার একাই ৪ গোল দলের জয় নিশ্চিত করেছিল। এবারও তাকেই দেখা হচ্ছে সম্ভাব্য গোলমেশিন হিসেবে।

কোচ পিটার বাটলার বলেন, “লাওসের বিপক্ষে আমরা জয় চাই। মাঠে নিজেদের আধিপত্য তৈরি করাটাই হবে মূল লক্ষ্য। কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে লড়তে হলে আমাদের পেশাদারিত্ব ও প্রস্তুতিতে উন্নতি করতে হবে।”

দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলেন, “আমরা এখানে এসেছি কোয়ালিফাই করতে। প্রতিটি ম্যাচে আমরা সর্বোচ্চটা দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব।”

লাওসও বাংলাদেশ মতোই সিনিয়র দলভিত্তিক স্কোয়াড গঠন করেছে। উজবেকিস্তানে বাছাইপর্ব খেলে আসা দলটি ফর্মে রয়েছে। ফলে ম্যাচটি হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মূল পর্বে জায়গা পেতে হলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হবে বাংলাদেশকে। রানার্সআপ হলেও সুযোগ থাকছে, তবে সেক্ষেত্রে থাকতে হবে সেরা তিন রানার্সআপের তালিকায়। তাই প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি গোল এখন গুরুত্বপূর্ণ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কক্সবাজার ভ্রমণ ইস্যুতে এনসিপির ৫ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় কমিটির ৫ জন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় ‘রাজনৈতিক পর্ষদকে’ অবহিত না করে কক্সবাজার সফর করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি।

বুধবার (৬ আগস্ট) এনসিপির দফতর শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে এই পাঁচ নেতার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘ব্যক্তিগত সফর’ এর অভিযোগে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ ব্যাখ্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যাঁরা নোটিশ পেয়েছেন

নোটিশপ্রাপ্ত পাঁচ শীর্ষ নেতা হলেন

  • এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ,
  • মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম,
  • মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী,
  • জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা,
  • যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ

চিঠিতে বলা হয়, “গত ৫ আগস্ট, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী’ এবং একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে আপনারা ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার যান। বিষয়টি পূর্বে দলের রাজনৈতিক পর্ষদকে অবহিত করা হয়নি।”

এতে আরও বলা হয়, “আপনার এই সিদ্ধান্তের কারণ ও প্রেক্ষাপট আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেনের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে।”

এনসিপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে দলটি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় কোর্ট থেকে পালানো আসামি গ্রেপ্তার

বরগুনা আদালত চত্বর থেকে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যাওয়া আসামি আল আমিনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ক্রোক এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আল আমিন বরগুনা সদর উপজেলার লেমুয়া পাঠাকাটা গ্রামের বাসিন্দা এবং আলতাফ হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি পারিবারিক মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আল আমিনের প্রথম স্ত্রী ২০১৮ সালে বরগুনা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি পারিবারিক মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর আদালত তার বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করেন। এরপরে দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

গত শনিবার (৩ আগস্ট) বরগুনা সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে রোববার বিকেলে আদালত থেকে জেলহাজতে নেওয়ার সময় জেলা ও জজ আদালতের দক্ষিণ পাশের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশি হেফাজত থেকে সে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় কোর্ট পুলিশের পক্ষ থেকে আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সোমবার (৪ আগস্ট) একদিনের ব্যবধানে সদর উপজেলার ক্রোক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল আমিনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াকুব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আসামিকে আবারও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে এবং কোর্ট পুলিশের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

আসামির এমন দুঃসাহসিক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতপাড়ায় এবং প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করায় স্বস্তি ফিরেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫