লালন কন্যা খ্যাত কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন (১৯৫৪-২০২৫)আর নেই

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: জন্মিলে মরিতে হবে এ এক চিরন্তন সত্য যাহাকে এড়িয়ে যাবার কোন পন্থা নেই।আর এ তালিকায় যোগ হলো আর এক কিংবদন্তির নাম।বাংলাদেশের লোকসংগীতের বরেণ্য শিল্পী, লালনগানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। সপ্তাহে দুই দিন তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হতো। গত ২ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।
এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসেও তিনি একই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তখনও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউতে রাখা হয় এবং একাধিক মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তার চিকিৎসা হয়। কিছুটা সুস্থ হয়ে ২১ জুলাই তিনি বাড়ি ফেরেন।
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার শাওল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। যদিও জন্ম নাটোরে, তিনি বড় হয়েছেন কুষ্টিয়ায়। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে নজরুলসংগীত শিল্পী হিসেবে তার তালিকাভুক্তি হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
লালনসংগীতে তার তালিম নেন সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে। ধীরে ধীরে লালনগানের অপরিহার্য শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ফরিদা পারভীন।
সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া ২০০৮ সালে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার পুরস্কার পান। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ১৯৯৩ সালে সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবেও স্বীকৃতি পান তিনি।
লোকসংগীতের চর্চা বিস্তারে ফরিদা পারভীন প্রতিষ্ঠা করেন শিশুদের জন্য একটি গানের স্কুল “অচিন পাখি স্কুল”।








