লালন কন্যা খ্যাত কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন (১৯৫৪-২০২৫)আর নেই

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: জন্মিলে মরিতে হবে এ এক চিরন্তন সত্য যাহাকে এড়িয়ে যাবার কোন পন্থা নেই।আর এ তালিকায় যোগ হলো আর এক কিংবদন্তির নাম।বাংলাদেশের লোকসংগীতের বরেণ্য শিল্পী, লালনগানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। সপ্তাহে দুই দিন তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হতো। গত ২ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।

এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসেও তিনি একই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তখনও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউতে রাখা হয় এবং একাধিক মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তার চিকিৎসা হয়। কিছুটা সুস্থ হয়ে ২১ জুলাই তিনি বাড়ি ফেরেন।

১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার শাওল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। যদিও জন্ম নাটোরে, তিনি বড় হয়েছেন কুষ্টিয়ায়। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে নজরুলসংগীত শিল্পী হিসেবে তার তালিকাভুক্তি হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

লালনসংগীতে তার তালিম নেন সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে। ধীরে ধীরে লালনগানের অপরিহার্য শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ফরিদা পারভীন।

সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া ২০০৮ সালে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার পুরস্কার পান। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ১৯৯৩ সালে সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবেও স্বীকৃতি পান তিনি।

লোকসংগীতের চর্চা বিস্তারে ফরিদা পারভীন প্রতিষ্ঠা করেন শিশুদের জন্য একটি গানের স্কুল “অচিন পাখি স্কুল”।




বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে সিনেমা,

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ..বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে চলচিত্র নির্মানের জন্য বিসিবিকে প্রস্তাব ‍দিয়েছে একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তারা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওপর একটা সিনেমা বানাতে চায়। আর সেটি হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের মানচিত্র বদলে দেওয়া সেই আইসিসি ট্রফির ওপর।

১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের আইসিসি ট্রফি জয় ইতিহাসের একটি মাইলফলক।যা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্বের দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে ।এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, আমাদের কাছে একটা সিনেমা নির্মাতা হাউস এসেছিল। তারা একটা সিনেমা বানাতে চায়। তাদের সিনেমার বিষয়বস্তু: বাংলাদেশের আইসিসি ট্রফি জয়, ১৯৯৭ সালে কী ঘটেছিল। মিটিংয়ে আকরাম খানও ছিল।’

এরপরই আকরামকে নিয়ে বুলবুলের রসিকতায় হাসিতে ফেটে পড়ল পুরো মিলনায়তন, ‘আকরাম খানকে নিয়ে যখন কথা হচ্ছিল, তখন তিনি খুব লজ্জা পাচ্ছিলেন যে তাঁর নায়িকা কে হবেন! কারণ, তিনি অধিনায়ক ছিলেন। তাঁর ভূমিকাটা ছিল অনেক বড়। তিনি বলছিলেন, আচ্ছা আমি না হয় সিনেমায় মাঝে মাঝে আসব, কিন্তু আমার নায়িকা কে হবে? ভাবিকে কিছু বলব না। তবে ওঁর চোখ, আগ্রহ ছিল অবিশ্বাস্য!’




৩৩ বছর পর তেঁতুলিয়া নদী থেকে উদ্ধার হলো ডুবে যাওয়া জাহাজ

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে প্রায় ৩৩ বছর আগে ডুবে যাওয়া একটি মালবাহী জাহাজ অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় নদীর তলদেশে পলি জমে চর পড়ে যাওয়ায় জাহাজটি দৃশ্যমান ছিল না। এক যুগের বেশি সময় ধরে ব্যর্থ চেষ্টার পর সম্প্রতি প্রায় ৭০ ফুট গভীর থেকে জাহাজটি তোলা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯২ সালের আগস্টে চট্টগ্রাম থেকে বৈদ্যুতিক মালামাল নিয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ‘এমবি মোস্তাবি’ নামের জাহাজটি ঝড়ে পড়ে মেহেন্দীগঞ্জের মিঠুয়া-সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে ডুবে যায়। তখন কিছু মাল উদ্ধার করা হলেও পুরো জাহাজ তোলা সম্ভব হয়নি।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, ব্যক্তিমালিকানাধীন নৌযান ডুবে গেলে তিনবার চিঠি দেওয়া হয়। পরে মালিক সাড়া না দিলে নৌযান নিলামে তোলা হয়। ২০০৫ সালে নিলামে জাহাজটি কেনেন খুলনার ‘অগ্রণী ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট’। পরে সাব-ঠিকাদার হিসেবে বরিশালের ইউসুফ মিয়া দায়িত্ব পান।

ইউসুফ মিয়া জানান, ২০১২ সাল থেকে কয়েক দফা চেষ্টা করেও জাহাজটি তোলা যায়নি। তবে চার মাস আগে শুরু হওয়া নতুন প্রচেষ্টায় প্রায় পাঁচ একর জমি খনন ও চর কেটে বিশেষ বার্জ, ক্রেন ও ডুবুরির সাহায্যে জাহাজটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১৮০ ফুট, প্রস্থ ১৪ ফুট ও উচ্চতা ১৭ ফুট। দামি যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন এখনো ভালো অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ রাঢ়ী বলেন, “জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর বহুবার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু সফল হয়নি। চর গঠনের পর এবার উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।”

জাহাজ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভোলা ও আশপাশের জেলা থেকে বহু মানুষ কৌতূহলবশত তা দেখতে আসেন। শ্রমিকদের মতে, দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার পরও জাহাজের রং ও কাঠামোর প্লেট অনেকটা অক্ষত রয়েছে।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে জাহাজটি উত্তোলন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এটি কেটে টুকরো করে বিক্রির কাজ চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালী পৌর গোরস্থানে ছাত্রদলের এক মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষ

পটুয়াখালী পৌর গোরস্থানে দীর্ঘ এক মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে আজ শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদল। জঙ্গল, ঝোপঝাড় ও আগাছায় ভরাট হয়ে পড়া এ গোরস্থান দীর্ঘদিন অপরিচ্ছন্ন থাকায় মৃতদেহ দাফন ও কবর জিয়ারতে আগত মানুষকে ব্যাপক বিড়ম্বনায় পড়তে হতো।

এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে পৌর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করতে দেরি করায় গোরস্থানে আগাছা ও ঝোপঝাড় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। কর্তৃপক্ষ সানন্দে বিষয়টি গ্রহণ করে এবং তাদের কারিগরি ও সরঞ্জামাদি সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার করে।

গত ৮ আগস্ট থেকে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী ও সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী প্রায় ৭ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এ গোরস্থানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন। ষাটের দশকে প্রতিষ্ঠিত এই গোরস্থানে জায়গার অভাব ও আগাছার আধিক্যের কারণে দাফনকাজ প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এক মাসের পরিশ্রমের পর গোরস্থানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ফিরিয়ে আনার এ উদ্যোগের সমাপ্তি উপলক্ষে শনিবার সকাল ১১টার দিকে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মাহবুব আলম, জেলা বিএনপি নেতা বশির আহম্মেদ মৃধা ও মিজানুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ছাত্রদল মানবিকতার টানে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসারে মানুষের পাশে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার যে অঙ্গীকার, এই কার্যক্রম তারই প্রতিফলন। জাতীয়তাবাদী দল মানুষের দল—আমরা রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণে, এবং ছাত্রদলসহ সকলে সর্বত্র সচেষ্ট থাকব।”

পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) জুয়েল রানা বলেন, “চলতি বছরে অতিবৃষ্টির কারণে নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে পৌর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা শুরু করবে। জেলা ছাত্রদল বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করলে আমরা তাদের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেছি।”

এমন উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয়রা জানান, এখন কবর জিয়ারত ও দাফনকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৭ দলের সঙ্গে বিকেলে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা

৭ দলের সঙ্গে বিকেলে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও অগ্রগতির বিষয়ে সাতটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এই ধারাবাহিক সংলাপকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত রোববার (৩১ আগস্ট) বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা।




কীর্তনখোলা নদীতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত প্রায় ১২টার দিকে স্থানীয়রা নদীর তীরে লাশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে সদর নৌ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, লাশটি লঞ্চ টার্মিনালের পাশে ভেসে ছিল। মৃত ব্যক্তির পরনে ছিল একটি শার্ট ও টয়রা ট্রাউজার। তবে এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

এ বিষয়ে সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিম কুমার সিকদার জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে মৃতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই শহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে সিআইডিকে অবহিত করা হয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পিরোজপুরের সিয়াম

সিয়াম ফেরদৌস ইমন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম ফেরদৌস ইমন আসন্ন ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ উপলক্ষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

সিয়াম বর্তমানে জেনেটিক্স অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজিতে মাস্টার্স করছেন এবং Yeast Genetics Research Group-এ ক্যান্সার বায়োলজি ও মলিকুলার এইজিং বিষয়ক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনার্সে অসাধারণ ফলাফলের জন্য তিনি ৩.৯৩ সিজিপিএ অর্জন করেন এবং ২০২২ সালে জীববিজ্ঞান অনুষদ ডিনস অ্যাওয়ার্ড ও বোর্ড স্কলারশিপ লাভ করেন। এছাড়া ২০২৩ সালে অনার্সে অধ্যয়নকালেই তার একটি গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয় এবং আরও তিনটি কনফারেন্স পেপার উপস্থাপিত হয়।

গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বর্তমানে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে ভূষিত হয়েছেন। পাশাপাশি লেখক ও সম্পাদক হিসেবে সিয়াম ইতোমধ্যে এইচএসসি ও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য চারটি বই প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে HSC Booster Series ও Admission Biology।

শুধু গবেষণা নয়, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি। গত দুই বছরে সিয়াম অনলাইন ও অফলাইনে ১০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীর জন্য গবেষণা টুলস বিষয়ক ওয়ার্কশপ ও সেমিনার আয়োজন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Animal Genetics and Molecular Biology Club-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধান অঙ্গীকার

ইশতেহারে সিয়াম গবেষণা বাজেট বাড়ানোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন,

“বর্তমানে মাত্র ২ শতাংশ গবেষণা বাজেট রয়েছে। নির্বাচিত হলে এটিকে ২০ শতাংশ বা তার বেশি পর্যায়ে উন্নীত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। এক বছরে তা সম্ভব না হলেও কমপক্ষে দ্বিগুণ বা তিনগুণ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

এর পাশাপাশি তিনি যে অঙ্গীকারগুলো করেছেন তার মধ্যে রয়েছে—

একাডেমিক রাইটিং ও গবেষণা সফটওয়্যার (R, SPSS, Python, Excel, GIS, MS Word) বিষয়ক কর্মশালা আয়োজন।

বিভাগভিত্তিক গবেষণা তহবিল ও আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ সহায়তার জন্য “রিসার্চ হেল্পডেস্ক” প্রতিষ্ঠা।

শিক্ষার্থীদের জন্য ইনস্টিটিউশনাল মেইল আইডির সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিশ্বমানের জার্নালে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ।

ডাকসুর নিজস্ব স্টুডেন্ট জার্নাল প্রকাশ।

প্রতিটি থিসিস ও গবেষণার জন্য ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা।

গবেষণাভিত্তিক স্টুডেন্ট কনফারেন্স, ইয়ুথ কনফারেন্স ও সেমিনার আয়োজন।

স্কলারশিপের সার্টিফিকেট উত্তোলন ও ভেরিফিকেশনের অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে আনা।

ঐচ্ছিক কোর্স হিসেবে গবেষণা স্কিল ও প্রকাশনা টুলস প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা।

সিয়াম বিশ্বাস করেন, তার এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণামুখী পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।




প্রেম নিয়ে বিরোধে কিশোরী ঊর্মীকে হত্যা, বাবা-মা ও ভগ্নিপতি গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফ‌লে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে মাত্র ১৪ বছরের কিশোরী ঊর্মী ইসলামকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নিজের বাবা, মা ও ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতে সোপর্দ করলে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে ঊর্মীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি পরিবার জানতে পারলে ২০ আগস্ট রাতে এ নিয়ে ঝগড়া বাঁধে। এক পর্যায়ে বাবা নজরুল ইসলাম, মা আসেনা বেগম ও ভগ্নিপতি কামাল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েটির গলা টিপে শ্বাসরোধ করেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ঊর্মীর। পরে লাশ গোপন করার চেষ্টা করা হয়।

জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর বলেন, তদন্তে হত্যার সত্যতা পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করে। বুধবার (২৭ আগস্ট) আদালতে হাজির করা হলে তিনজনই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

এর আগে গত শনিবার সকালে কনকদিয়া ইউনিয়নের বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কুম্ভখালী খাল থেকে ঊর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হলেও পুলিশের ধারাবাহিক তদন্তে আসল চিত্র সামনে আসে।

বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই বিষয়টি সন্দেহজনক ছিল। তদন্তে নানা প্রমাণ হাতে এলে অবশেষে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এ হত্যাকাণ্ডে কিশোরীর বাবা, মা ও ভগ্নিপতি জড়িত।

স্থানীয়রা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, পরিবার যে সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সেই পরিবারেই যদি এভাবে প্রাণ দিতে হয়, তবে এটি সমাজের জন্য এক ভয়াবহ সতর্ক সংকেত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া নবজাতক কন্যা, কার কোলে উঠবে সে?

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় মাত্র একদিন বয়সী এক নবজাতক কন্যাশিশুকে রাস্তায় ফেলে রেখে যান তার অভিভাবকরা। শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন দম্পতি। বর্তমানে শিশুটিকে ভোলা জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্তে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মোল্লা পুকুরপাড় এলাকায় তালিমুল কুরআন মডেল মাদরাসার সামনে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। পরে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সবুজ জানান, “আমাদের দুই ছেলে সন্তান রয়েছে, কন্যা সন্তান নেই। তাই এই শিশুটিকে দত্তক নিতে আমি আগ্রহী। চিকিৎসার দায়িত্বও আমি নিয়েছি।”

তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, “কে শিশুটিকে ফেলে গেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শিশুটির শারীরিক জটিলতা থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর সমাজসেবা ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শিশুটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিশু কল্যাণ বোর্ড।”

তজুমদ্দিন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভাপতি শুভ দেবনাথ জানান, সমাজসেবা কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। দত্তক নিতে আগ্রহীদের যোগ্যতা যাচাই করা হবে। যদি উপযুক্ত পরিবার পাওয়া যায়, তাহলে শিশুটিকে জিম্মায় দেওয়া হবে; না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে সেফহোমে রাখা হবে।

এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। শিশুটি শেষ পর্যন্ত কোন পরিবারে আশ্রয় পাবে, সেটিই এখন সবার জানার আগ্রহের বিষয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিদ্যুতের টাওয়ারে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি, অচল পুরো উপজেলা

পিরোজপুরের নেছারাবাদে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির অস্বাভাবিক কাণ্ডে বিপাকে পড়েছে পুরো উপজেলা। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে প্রায় ৩৪০ ফুট উঁচু বিদ্যুতের টাওয়ারে উঠে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবস্থান করায় দুর্ঘটনা এড়াতে গোটা উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সেনা ক্যাম্পসংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর দুই পাড়ে মূল সঞ্চালন লাইনের জন্য দুটি টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানেই আনুমানিক চল্লিশোর্ধ্ব এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি হঠাৎ করেই টাওয়ারে উঠে পড়েন। উপস্থিত লোকজন নামতে বললেও তিনি উল্টো আরও ওপরে চূড়ায় চলে যান।

খবর পেয়ে নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নামানোর চেষ্টা করে। তবে এ বিষয়ে ফায়ার ফাইটার মো. রিয়াজ বলেন, “যদি স্বাভাবিক কোনো ব্যক্তি হতেন তবে কৌশলে নামানো যেত। কিন্তু যেহেতু তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ, তাই কাছে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করলে তিনি উল্টো আমাদের ওপর আক্রমণ করতে পারেন।”

এদিকে নেছারাবাদ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. জানে আলম জানান, টাওয়ার দিয়ে মূল লাইন টানা থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আপাতত পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।”

অবস্থাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে নিরাপদে নামানোর দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫