যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় নিহত তিন পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় এক বন্দুকধারীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে পুলিশের গুলিতে হামলাকারীও নিহত হন।

পেনসিলভানিয়া রাজ্য পুলিশের কমিশনার কর্নেল ক্রিস্টোফার প্যারিস জানিয়েছেন, নিহত কর্মকর্তারা আগের দিনের একটি তদন্তের কাজে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। যদিও তিনি তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি, তবে এটি পারিবারিক কলহ সম্পর্কিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার সময় আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের অবস্থা গুরুতর হলেও স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কর্মকর্তারা পারিবারিক কলহ সম্পর্কিত মামলার তদন্তে তল্লাশি চালাতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ও আহতদের সঙ্গে হামলাকারীর মुठোফাইটের পর পুলিশ তাকে হত্যা করে। হামলাকারীর পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জোশ শাপিরো হাসপাতাল পরিদর্শন করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “আজ ইয়র্ক কাউন্টি এবং পুরো রাজ্যের জন্য এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক দিন।” নিহত ও আহত কর্মকর্তাদের পরিবারের জন্য সকলের কাছে প্রার্থনার আহ্বান জানান।

নিহত তিন কর্মকর্তার সম্মানে গভর্নর রাজ্যের সব সরকারি ভবন ও স্থাপনায় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ছাত্রদলকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে : ইঞ্জিনিয়ার সোবহান

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন, দেশের ইতিহাসে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সবসময় ছাত্র সমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, ৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের সৃজনশীল নেতৃত্বের কারণে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান সময়েও দেশ ছাত্রদলের দিকে তাকিয়ে আছে।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার সোবহান। তিনি বলেন, এবারও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মাঠে থাকতে হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “অতীতের মতো বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের ছাত্রদল নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।”

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বরিশাল-১ আসনের ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার সোবহান আরও বলেন, ছাত্রদলের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত স্বপ্নের ৩১ দফা বাস্তবায়নে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে আস্থা অর্জন করতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজসহ কোন অপরাধীর স্থান ছাত্রদলে হবে না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক ও আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুরের কৃতি সন্তান সৈয়দ নাজমুল ইসলাম বাহার। এসময় গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখার ছাত্রদল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আ’লীগ ইসলাম বিলুপ্তের চেষ্টা করেছিল: মেজর (অব.) হাফিজ

ভোলার লালমোহনে আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে দেশের ইসলামকে বিলুপ্ত করার চেষ্টা করেছিল।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় লালমোহন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ওলামায়ে কেরাম সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা নবী করিম (স.) এর আদর্শের অনুসারী হয়েও সঠিকভাবে ইসলামকে মেনে চলি না। ভোগ-বিলাসের পেছনে মানুষ দৌড়াচ্ছে। একটি রাজনৈতিক দল টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশ থেকে ইসলাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার মাধ্যমে তারা যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তার সঠিক চিত্র এখনো প্রকাশ হয়নি। ভবিষ্যতে সত্য প্রকাশ পাবে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন লালমোহন উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হেফাজতের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সানাউল্যাহ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ছাদেক মিয়া জান্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারী, মাওলানা কামাল উদ্দিন, মাওলানা হোসাইন আহমেদ ও মাওলানা ইমরান হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ইসলাম ও মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে হাসনাত-সারজিসকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা কারিগরি শিক্ষার্থীদের

বরিশালে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন কারিগরি শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, এই দুই নেতা তাদের ন্যায্য দাবি পূরণের বিষয়ে বিরূপ অবস্থান নিয়েছেন।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বরিশাল নগরীর চৌমাথা এলাকায় ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। কর্মসূচিতে বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের বরিশাল জেলা আহ্বায়ক মাহফুজুল আলম মিঠু। তিনি বলেন, “হাসনাত ও সারজিস কারিগরি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাই তাদের বরিশালে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। ভবিষ্যতে তারা এলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—

  • ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরিক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ,
  • চার বছরের ডিপ্লোমা ডিগ্রিকে স্নাতকের মর্যাদা দেওয়া,
  • কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ,
    এছাড়াও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি আদায় না হলে আন্দোলন আরও কঠোর আকার ধারণ করবে এবং তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

অবরোধ চলাকালে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে খাল ও ড্রেন দখলমুক্ত, পয়ঃনিষ্কাশনে স্বস্তি

বরিশাল সিটি করপোরেশন নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে দখল ও জঞ্জালমুক্ত অভিযানে নেমেছে। ইতোমধ্যে নগরীর ১১টি খালের প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশ এবং সাড়ে ৩ একর সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর ড্রেনগুলোও পরিষ্কার করা হয়েছে। ফলে এ বছর ভারী বর্ষণেও নগরবাসীর দুর্ভোগ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল।

অতীতে নগরীর বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান খালের পাড় দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছিল। এমনকি ড্রেনের ভেতরেও বহু বছর ধরে দখল চলে আসছিল। বিভাগীয় কমিশনার ও নগর প্রশাসক মো. রায়হান কাওসার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব দখলদারির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। তিনি খাল ও ড্রেনের সীমানা নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে প্রবাহ সচল করেন।

নগরীর ৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় বর্তমানে ৪৬টি খাল এবং সিটি করপোরেশনের প্রায় ৫শ’ কিলোমিটার রাস্তা ও ১৬০ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে। তবে সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য আরও অন্তত ৮শ’ কিলোমিটার নতুন পাকা ড্রেন নির্মাণ প্রয়োজন। পাশাপাশি পুরনো ড্রেনগুলোর সংস্কারও জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে নবগ্রাম রোডের বটতলা বাজার থেকে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ পর্যন্ত আরসিসি ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে জঞ্জালে ভরাট হয়ে আছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ চার লেন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। যদিও সিটি করপোরেশন ড্রেনটি বারবার পরিষ্কার করছে, তবুও পূর্ণাঙ্গ সমাধান এখনো হয়নি।

এ বছর বর্ষাকালে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা টিম নিরলসভাবে ড্রেন পরিষ্কার রাখায় বরিশালের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো ছিল বলে সাধারণ মানুষও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, নগরীর পরিবেশ ও খাল পুনরুদ্ধারে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরীর ৪৬ খালের মধ্যে ২৯টির উন্নয়ন, প্রায় ৮০ কিলোমিটার খাল খনন ও সংস্কার এবং দু’পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে মৃতপ্রায় খালগুলো আবারও জীবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নগর প্রশাসক মো. রায়হান কাওসার।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মৌসুমের শেষ দিকে ইলিশের দাম আবারও চড়লো

মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে আবারও বাড়ল ইলিশের দাম। বরিশাল ও পাথরঘাটার মোকামগুলোতে পাইকারি ও খুচরা বাজারে এক কেজি ইলিশের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এর প্রধান কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করছেন ভারতে ইলিশ রপ্তানি এবং বাজারে সরবরাহ ঘাটতি।

গতকাল (১৭ সেপ্টেম্বর) বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মোকামে দেখা গেছে, ৬০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রায় পুরোপুরি কিনে নিচ্ছেন রপ্তানিকারকরা। ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ হচ্ছে মূলত ৫০০ গ্রামের নিচে ছোট আকারের ইলিশ। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি পাইকারি দর দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,০০০ টাকা। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২,২৫০ টাকায়। অন্যদিকে ছোট ইলিশ (প্রায় তিনটিতে এক কেজি) পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ১,০৫০ টাকা এবং চারটিতে এক কেজি আকারের ইলিশ মিলছে ৭৫০ টাকায়। খুচরা বাজারে এসবের দাম আরও ১০০-১৫০ টাকা বেশি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রপ্তানির অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো তিন-চার দিন ধরেই ইলিশ মজুত শুরু করেছে। বরিশাল মোকামে মাহিমা এন্টারপ্রাইজ, নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, তানিসা এন্টারপ্রাইজ ও এ আর এন্টারপ্রাইজ রপ্তানি অনুমতি পেয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও প্রতিনিধিরা ইলিশ কিনে রাখছেন। ফলে বাজারে সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মাছের মোকাম বরগুনার পাথরঘাটায় পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এখানে গত দুদিনের তুলনায় প্রতিমণ ইলিশের দাম প্রায় ১০ হাজার টাকা কমেছে। কারণ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন। তবে বাজারে ইলিশের সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত।

পাবনার সেভেন স্টার ফিশ প্রসেসিং করপোরেশনের প্রতিনিধি কামাল হোসেন স্বীকার করেছেন, আগেভাগেই তারা প্রায় পাঁচ টন ইলিশ কিনে মজুত করেছেন। এর একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই বেনাপোলে পৌঁছেছে এবং রপ্তানির অপেক্ষায় রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় সিনিয়র সহকারী পরিচালক জহিরুল ইসলাম আকন্দ জানান, এ বছর ইলিশ আহরণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়েছে। সেই কারণেই মৌসুমের শুরু থেকেই দাম অস্বাভাবিক ছিল। তিনি আরও জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখতে আশ্বিন মাসে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার মাঝামাঝি ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। সে হিসাবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই ইলিশ ধরার মৌসুম শেষ হয়ে যাবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে খেলাফত মজলিসের ৫ দফা দাবি ঘোষণা

আওয়ামী লীগসহ দেশের গণতন্ত্রবিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা ও সংসদ নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরে দলটির নেতারা। সভায় জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা জুবায়ের গালিব সভাপতিত্ব করেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের সার্বিক সংকট সমাধান, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে খেলাফত মজলিস দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারা মনে করেন, দাবিগুলো কার্যকর না হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

খেলাফত মজলিসের ৫ দফা দাবি হলো—
১. অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন।
২. আওয়ামী লীগসহ গণতন্ত্রবিরোধী রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।
৩. আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি।
৪. জুলাই গণহত্যার বিচার কার্যকর ও দৃশ্যমান করা।
৫. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন।

এসময় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল অঞ্চলে দলের প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): মাওলানা ফজলুল ইসলাম
  • বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর): মাওলানা আনিসুর রহমান
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): মাওলানা সাইফুল হোসেন
  • বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ): মাওলানা জুবায়ের গালিব
  • বরিশাল-৫ (সদর-দক্ষিণ): মাওলানা ফজলুল হক
  • বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): মাওলানা মাহমুদুর রহমান

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার ও ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ফ্যাসিস আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাসা ভাড়া না দিতে মাইকিং

চন্দ্রদ্বীপনিউজ: বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।তাতে দেখা যায় যে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাসা বা ফ্ল্যাট ভাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, লুঙ্গি ও জার্সি পরা এক যুবক সিএনজি অটোরিকশায় মাইকিং করে ঘোষণা দিচ্ছেন— ‘পরিচিত ভাড়াটিয়া না হলে এবং সঠিক কাগজপত্র ছাড়া কাউকে যেন বাসা ভাড়া দেওয়া না হয়।’

তিনি বলেন, ‘ঘর ভাড়া দেওয়ার আগে ভাড়াটিয়ার সব কাগজপত্র থানায় জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ‘নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের’ কাউকে ভাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই অভিযোগে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে আশ্রয়দাতা হিসেবে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘোষণার শেষ অংশে তাকে ‘কর্ণফুলী থানা, সিএমপি’ বলতে শোনা যায়।

এ ঘটনায় সাধারণ ভাড়াটিয়ারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনের নামে তাদের ওপরও এমন চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘আমরা কখনো এ ধরনের নির্দেশ দিইনি। এটি ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি সংশোধনও করা হয়েছে।




উপকূলীয় অঞ্চলে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও বাউফল উপজেলায় ফসলি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের ওপর, যা বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকরা ফসলের উৎপাদন বাড়াতে অধিক মাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন। বর্ষার সময়ে এই বিষাক্ত পদার্থগুলো বৃষ্টির পানির সঙ্গে নদী, খাল ও পুকুরে মিশে যাচ্ছে। এতে পানির প্রাণবৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে এবং মাছের প্রজনন ও জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে।

ফসলি জমিতে রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে স্থানীয় মাছ যেমন—পুঁটি, কৈ, শিং, মাগুর, পাবদা, টাকি, চিংরি, বাইম, বেদা, গজার, বেলে মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত এলাকা এখন আগের মতো দেশীয় মাছের জন্য পরিচিত নয়।

স্থানীয় মৎস্যজীবী আবদুল করিম বলেন, “এক সময় খাল-বিল নদী নালায় মাছের প্রাচুর্য ছিল। এখন ফসলি জমিতে হালচাষের পরও দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না, প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।”

কনকদিয়া ইউনিয়নের মৎস্যজীবী কেরামত আলী জানান, “আগে জাল মারলে প্রচুর মাছ ধরা যেত। এখন আর তা সম্ভব নয়। দেশীয় মাছ রক্ষা না করলে এগুলো হারিয়ে যাবে।”

স্থানীয়রা মনে করেন, দেশীয় মাছের সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দেশীয় মাছের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্যের সঙ্গে দেশীয় মাছের গভীর সম্পর্ক। সচেতনতা বৃদ্ধি, জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও জলাশয় রক্ষা না করলে দেশীয় মাছ হারিয়ে যাবে।”

রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, “ফসলি জমিতে রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে। মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে মাছ সংরক্ষণে কাজ করছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, “অধিক উৎপাদনের আশায় রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের ক্ষতি হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের জৈব পদ্ধতির মাধ্যমে কীটনাশক কমানোর পরামর্শ দিচ্ছি।”

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিলন জানান, “মাটিতে জৈব সার ব্যবহার করে রাসায়নিক কমানো সম্ভব। এটি জমির উর্বরতা বজায় রাখে এবং পরিবেশ রক্ষা করে।”

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “দেশীয় মাছ কমে যাওয়ার পেছনে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার, জলাশয়ের সংকট, মৎস্য অভয়াশ্রম কম থাকা, মৎস্য আবাস ভূমির চ্যানেল বন্ধ থাকা, অবৈধ জাল ও কিটনাশক ব্যবহারের মতো কারণ রয়েছে। আমরা কারেন্ট জাল ও চায়না জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল মনে করছে, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা না করলে উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্য ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




১৭ বিয়ে কান্ডের সেই বন কর্মকর্তাকে আটক, অতঃপর

সাময়িক বরখাস্তের পর রাতের আঁধারে কোয়ার্টার থেকে পিকআপযোগে নিজস্ব ও সরকারি মালামাল সরানোর সময় ১৭ বিয়ে কান্ডের সেই বরখাস্তকৃত বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারীকে আটক করেছে স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশ জনরোষ থেকে তাকে (কবির) বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় বন বিভাগের কোস্টাল সার্কেল কার্যালয়ের সামনে থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে পুলিশ রাতেই তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর থানার ওসি মো. আল-মামুন উল ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন-১৭ বিয়ে কান্ডের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তের পর ১৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত নয়টার দিকে কোয়ার্টার থেকে পিকআপযোগে নিজস্ব ও সরকারি মালামাল নিয়ে কবির হোসেন পালানোর চেষ্টা করছিলেন। পরে এলাকাবাসী তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।

বরিশাল সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান সাকিব বলেন, দায়িত্বে থাকাবস্থায় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারী বিভিন্ন সময় ধার বাবদ আমার কাছ থেকে ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। এছাড়া স্থানীয়দের কাছ থেকেও সে বিভিন্ন সময় টাকা নিয়ে আর পরিশোধ করেনি। হঠাৎ করেই বুধবার দিবাগত রাতে সরকারি বাংলো থেকে মালামাল নিয়ে তিনি চলে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে আমিসহ অন্য পাওনাদাররা এসে তাকে আটক করেছি। তাছাড়া তিনি পিকআপযোগে যে মালামাল নিচ্ছিলেন তার মধ্যে সরকারি কিছু মালামালও রয়েছে। সেগুলো আমি নামিয়ে রেখেছি।

বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন বাংলো থেকে সরকারি মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন বরখাস্তকৃত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারী। এছাড়া তিনি ওই কর্মকর্তার কাছে টাকা পাবেন। এলাকার বেশ কিছু মানুষও তার কাছে টাকা পাবে বলে আটকে রেখেছেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, উল্লেখিত অভিযোগের ভিত্তিত্বে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই বন কর্মকর্তাকে স্থানীয়দের কাছ থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে আনেন।

তবে পালিয়ে যাবার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাময়িক বরখাস্তকৃত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারী। এ বিষয়ে তিনি বক্তব্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে উল্টো সাংবাদিকদের অভিশাপ এবং হুমকি দেন।

বরিশাল বিমানবন্দর থানার ওসি মো. আল-মামুন উল ইসলাম বলেন-বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে রাতেই তাকে (কবির) ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে নানা প্রলোভনে ১৭ বিয়ে করে দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করা বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কবির হোসেন পাটোয়ারীকে ১৬ সেপ্টেম্বর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে বিয়ের নামে প্রতারণা, যৌতুক দাবি এবং নির্যাতনের অভিযোগ এনে বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন খুলনা জেলার সোনাডাঙা এলাকার বাসিন্দা খাদিজা আকতার।

তার আগে ২০১৯ সালে কবির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন তার (কবির) আরেক স্ত্রী বাগেরহাটের মোংলা এলাকার নাসরিন আকতার দোলন। সেই মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

সবশেষ গত ৯ এপ্রিল দেয়া স্ত্রীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইদুর রহমান বরিশালে সরেজমিন তদন্তে আসেন। নগরীর কাশিপুরে কোস্টাল সার্কেলে বসে অভিযোগকারী দুই স্ত্রী, তাদের স্বজন এবং বন কর্মকর্তাদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন।

ওই দিনই বিয়েপাগল বন কর্মকর্তার বিচার দাবিতে বন বিভাগের কোস্টাল সার্কেল অফিসের সামনে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী স্ত্রী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে প্রাথমিক শাস্তির অংশ হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সূত্রমতে, চাঁদপুর জেলার তুষপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেন পাটোয়ারীর ছেলে কবির হোসেন এর আগে ঢাকা, খুলনা, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ছিলেন। বন বিভাগের উচ্চ পদ ব্যবহার করে ফাঁদে ফেলেন অনেক নারীকে। এ কারণে একই অভিযোগে পূর্বে আরও দুইবার সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন বন কর্মকর্তা কবির হোসেন। তবে পতিত আওয়ামী সরকারের সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী দীপু মনির সুপারিশে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।

অপরদিকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ছাড়াও ১৬ সেপ্টেম্বর বরিশাল মহানগর আদালতে কবির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফিজ আহমেদ বাবলু। আদালতের বিচারক মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ।

এস এল টি তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /