মানুষ জামায়াতকে বিশ্বাস করে: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, সৎ নেতৃত্বের কারণেই দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করে। আগামী নির্বাচনে জনগণ জামায়াতকেই ভোট দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিশ্ব নবীর জীবন ও কর্মনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীর গোদাগাড়ী পৌর ওলামা বিভাগ।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (জাকসু) নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করেছে, জনগণ জামায়াতকে আস্থার জায়গায় রেখেছে। আধুনিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত হলো সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সেই রাষ্ট্রের রূপকার। তাঁর নীতি-আদর্শই আমাদের পথপ্রদর্শক।”

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগরের মাজলিসুল মুফাসসিরীনের সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন গোদাগাড়ী পৌর ওলামা বিভাগের সভাপতি শায়খ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক, রাজশাহী আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ড. ওবায়দুল্লাহ, গোদাগাড়ী পৌর আমির আনারুল ইসলাম, জেলার সহকারী সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান ও উপজেলা জামায়াতের আমির নোমায়ন মাস্টারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

দিনব্যাপী আলোচনা সভায় বক্তারা বিশ্বনবীর জীবন ও কর্মনীতি অনুসরণের আহ্বান জানান এবং সমাজে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অভ্যুত্থানকে ঘিরে উগ্রপন্থার আশঙ্কা: জোনায়েদ সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের সুযোগ নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকতে চাইছে। তারা আন্দোলনের সুযোগকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পরিকল্পনা করছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার টাউন হলে গণসংহতি আন্দোলনের দ্বিতীয় জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু।

জোনায়েদ সাকি বলেন, “যে কেউ যদি আবার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়, জনগণ তা মেনে নেবে না। অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সবাইকে সংগঠিত হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকেই গণসংহতি আন্দোলন জোর দিয়ে বলছে, এ দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে বিচার সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। যারা হত্যা ও ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গে সাকি বলেন, “আমরা ঐকমত্য চাই। আগামী জনপ্রতিনিধিরা যেন এই ঐকমত্য বাস্তবায়নে বাধ্য থাকে তার নিশ্চয়তা তৈরি করতে হবে। সংসদে বসে সংস্কার কার্যকর করার জন্য টেকসই গ্যারান্টি প্রয়োজন।”

তিনি অভিযোগ করেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি, দেশি-বিদেশি দোসর ও ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা এ অভ্যুত্থান ভিন্ন পথে নিতে চক্রান্ত করছে। তাই রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, জেলা সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান মিরাজ, কৃষক মজুর সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন এবং ছাত্র ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা রহমান বিথী।

দিনব্যাপী সম্মেলন শেষে গণসংহতি আন্দোলনের বরিশাল জেলা শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু। পরে জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে নগরীর সদর রোডে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়, যা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালীতে জলবায়ু সংকটে জারি গানের ভিন্নধর্মী আয়োজন

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে বৈশ্বিক জলবায়ু কার্যক্রম সপ্তাহকে ঘিরে আয়োজিত হলো এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। “প্রকৃতির ডাক: জারি গানে ন্যায় রূপান্তর” শীর্ষক এই আয়োজনের মাধ্যমে জলবায়ু সংকট, উপকূলবাসীর সংগ্রাম এবং টেকসই ভবিষ্যতের বার্তা তুলে ধরা হয়। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গ্রীন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে, গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং ধুমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে জারি গানের ছন্দে উঠে আসে উপকূলের নানান সংকটের চিত্র। লবণাক্ত পানির কষ্ট, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ভয়াবহতা, নদীভাঙনের দুঃখ—সবকিছুই লোকগানের সুরে দর্শকদের সামনে ফুটে ওঠে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা এবং ফসিল ফুয়েল নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

এ আয়োজনে স্থানীয় শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাদের অভিমত, জারি গানের মতো সহজবোধ্য সাংস্কৃতিক মাধ্যমের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজভাবে পৌঁছে যায়।

অনুষ্ঠানে শুকতারা মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহফুজা ইসলাম বলেন, “উপকূলের মানুষের টিকে থাকার জন্য এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। তরুণ প্রজন্ম যদি এগিয়ে আসে, তবে এই পরিবর্তন আরও দ্রুত ঘটবে।”

গ্রীন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক খাইরুল ইসলাম মুন্না জানান, “উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় আমাদের বিকল্প নেই। নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে রূপান্তর না হলে বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব নয়। তরুণদের সম্পৃক্ত করে আমরা নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন চালিয়ে যাব, যাতে উপকূল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে জলবায়ু ন্যায়ের দাবি আরও জোরালো হয়।”

আয়োজক সংগঠনগুলোর মতে, উপকূলীয় মানুষের টিকে থাকার জন্য ফসিল ফুয়েল বর্জন অপরিহার্য। এই ধরনের সাংস্কৃতিক আন্দোলন শুধু সচেতনতা তৈরি করে না, বরং সমাজে পরিবর্তনের জন্য শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করে। ভবিষ্যতেও তরুণদের সম্পৃক্ত করে তারা এমন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গুমের পূর্বাভাস পেয়েছিলেন ব্যারিস্টার আরমান: বইয়ে বর্ণনা

ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান তার নতুন বই ‘আয়নাঘরের সাক্ষী: গুম জীবনের আট বছর’-এ দাবি করেছেন, গুম হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে থেকেই তাকে বিভিন্ন সূত্র থেকে বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। বইয়ে তিনি লেখেন, শেখ পরিবার, একটি শীর্ষ বিএনপি নেতার সন্তান ও এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা জেনারেল—এই তিন সূত্র থেকে আলাদা আলাদা সতর্কবার্তা পেতেন তিনি। তবুও বাবা মীর কাশেম আলীর প্রতি শিষ্টাচার এবং পরিবারের পাশে থাকার সংকল্পে দেশেই থাকায় ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট তাকে তুলে নেওয়া হয় বলে বইতে বর্ণিত আছে। পরে দীর্ঘ আট বছর ‘আয়নাঘরে’ বন্দী থাকতে হয় তাকে; ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মুক্তি পান তিনি।

পাঠকের জন্য বইটির বর্ণনা থেকে সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—

প্রাথমিক সতর্কবার্তা
বইতে ব্যারিস্টার আরমান জানান, তিনি ইংল্যান্ডে বার অ্যাট লের পড়াশোনা চলাকালীন সময়ে শেখ পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে বান্ধবসম্মত সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওই সদস্য একদিন গোপনে ডেকে বলে যে—“তোমার নাম ওই কিছু লোকের মুখে শুনছি, দ্রুত দেশের বাইরে চলে যাও”। এটিই ছিল প্রথম সতর্কতা।

এর কয়েক দিনের মধ্যে বিএনপির এক শীর্ষ নেতার ছেলেও আরমানকে নিরাপদ জায়গায় ডেকে একই রকম সতর্ক করে বলেন—“তোমাকে নিয়ে সরকারখবর করছে, দ্রুত চলে যাও।” এরপরই তৃতীয় বার্তা হিসেবে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা জেনারেল যোগাযোগ করে, এনএসআই প্রধানের এ কথার উল্লেখ করে—“তোমাকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না”—এমন কথা শোনান এবং যত দ্রুত সম্ভব দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

বাবার প্রতি আনুগত্যেই দেশের থাকাই চয়েস
তিন পক্ষের বার্তা পেয়ে নিজ আত্মপর্যালোচনার পর আরমান লিখেন, তিনি প্রথমে ভেবে দেখেন—নিজেকে বাঁচালে কি তিনি বাবাকে বিপদের মুখে ছেড়ে দেবেন? আদালতের রায় ও পিতা-ক্ষমার পরিস্থিতি সব কিছু মাথায় রেখে অবশেষে বাবাকে সবটা জানিয়ে দেশেরই পক্ষে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সাক্ষাতে বাবার কাছ থেকে তিনি সাহস পান; বাবা বলেন, “আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করো, তুমি এখানে থাকো—পরিবারের জন্য তোমার থাকা দরকার।” সেই সিদ্ধান্ত থেকেই পরবর্তী ঘটনাগুলো ঘটে।

আয়নাঘরের দিনগুলি ও মুক্তি
বইটিতে আরমান গুম-পর্যায়, আটক থাকার সময়কার শারীরিক-মানসিক কষ্ট ও আইনি-মানবিক প্রেক্ষাপট বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন—নির্বাচিত সময়ে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে তাকে তুলে নেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলায় এবং তিনি আয়নাঘর থেকে মুক্তি পান—এই অভিজ্ঞতার বর্ণনাই মূলধারায় বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

লেখকের প্রতিপাদ্য ও প্রভাব
আরমানের লেখায় স্থান পেয়েছে ব্যক্তিগত বাস্তবতা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার-প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগের কথাও। তিনি বইয়ে জানান, বিদেশি ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে সাড়া দিয়েছেন এবং এই ধরনের ঘটনার আন্তর্জাতিক দিকগুলোর প্রতিফলনও আছে। বইটি প্রকাশের পর থেকে প্রাসঙ্গিক আলোচনার খোরাক তৈরিতে ভূমিকা রাখছে—আইনি মহল, তথ্যমাধ্যম ও নাগরিক অংশগ্রহণকারীরা এর প্রতি নজর দিয়েছেন।

প্রকাশনা ও প্রাসঙ্গিকতা
‘আয়নাঘরের সাক্ষী: গুম জীবনের আট বছর’ গ্রন্থটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে আরমানের ব্যক্তিগত বিবরণ ও অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক তথ্য রয়েছে। বইটি দেশের রাজনৈতিক, আইনগত ও মানবাধিকার পরিবেশ সম্পর্কে তীব্র প্রশ্ন ও প্রতিফলন তোলে। প্রকাশনার সঙ্গে সঙ্গে এই বর্ণনা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসায় পাঠক-চর্চা ও সমালোচনামূলক আলোচনা দেখা যাচ্ছে।

সংক্ষেপে, বইটিতে ব্যারিস্টার আরমানের যে দাবি ও বর্ণনা এসেছে—সেগুলো তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এসব বিবরণ সমালোচনারও কেন্দ্রবিন্দু বটে; তবু বইটি দেশের বিচার ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কে একটি নতুন কণ্ঠ যুক্ত করেছে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “

 




তানজিয়া জামান মিথিলা ”মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’২০২৫” নির্বাচিত

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫-এর মুকুট জিতেছেন । বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার তেজগাঁওয়ের এক  আলো ঝলমল  জমকালো অনুষ্ঠানে তিনি এ পুরস্কার জেতেন । আয়োজকদের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ মিথিলা আগামী নভেম্বরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘মিস ইউনিভার্স ইন্টারন্যাশনালের ৭৪তম প্রতিযোগিতার মঞ্চে বাংলাদেশ থেকে লড়বেন। এমন একটি আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জনের সুযোগ পেয়ে আনন্দিত মিথিলা।

মিথিলা শুধু একজন মডেল ও অভিনেত্রীই নন, তিনি বাল্যবিবাহবিরোধী প্রচারণা এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে কাজের জন্যও পরিচিত। ২০২০ সালে তিনি জাতীয় পর্যায়ে এই খেতাব জিতেছিলেন, তবে কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। ২০২৫ সালে আবার মুকুট জিতে তিনি ইতিহাস গড়লেন। মিথিলা এই জয় উৎসর্গ করেন তাঁর মাকে। এ সময় মিথিলা বলেন, ‘আজ আমি যা কিছু, তা আমার মায়ের জন্যই সম্ভব হয়েছে। তিনি সব সময় আমার শক্তি ও অনুপ্রেরণা ছিলেন। এই অর্জন যেমন আমার, তেমনি তাঁরও।’

আগামী নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক আসরকে সামনে রেখে মিথিলা আরও বলেন, ‘আমি গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। মর্যাদা, সাহস ও সম্মানের সঙ্গে দেশের সুনাম রক্ষার চেষ্টা করব আমি। আপনারা সবাই আমার পাশে থাকবেন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন।’

 




প্রতিবন্ধীরা সুবিধা বঞ্চিত থাকবে কতদিন, কারিতাসের সেমিনারে অভিযোগ

বরিশালে শারীরিক প্রতিবন্ধীরা সরকারের প্রতিশ্রুত সুবিধা প্রাপ্তিতে বাধার কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়টি উঠে এসেছে কারিতাস বাংলাদেশ বরিশাল অঞ্চলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী সেমিনারে।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নগরীর সাগরদী কারিতাস অঞ্চলিক কার্যলয়ে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বরিশাল জেলা-উপজেলার প্রতিবন্ধীসহ সমাজসেবা ও স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের বিষয় ছিল—“শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার, বিভিন্ন সেবা ও স্বাবলম্বী হওয়া।”

সভায় প্রতিবন্ধীরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি নানা সুবিধা তাদের হাতে পৌঁছায় না। ভুয়া প্রতিবন্ধী, রাজনৈতিক সুপারিশ এবং একই ব্যক্তির একাধিক কার্ডের কারণে প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সেমিনারে বক্তারা সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য নানা পরামর্শ দিয়েছেন। সভার প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যলয়ের উপপরিচালক এ কে এম আখতারুজ্জামান তালুকদার। সভার সভাপতিত্ব করেন কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের কর্মকর্তা মি. পল রায়। এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলার সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে এম কুদরত ই খুদা উপস্থিত ছিলেন।

কারিতাসের সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তির প্রকল্পের মাধ্যমে দুই শতাধিক প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ফরিদা ম্যামের গান শুনেই লালনগীতির প্রেমে পড়ি: নাসরিন আক্তার বিউটি

‘ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ রিয়েলিটি শোয়ের প্রথম সিজনের বিজয়ী নাসরিন আক্তার বিউটি দেশের মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন লালনগীতি মাধ্যমে। তাকে সাধারণত ‘লালনকন্যা বিউটি’ নামেও ডাকা হয়।

বিউটি বার্তা২৪.কম-কে বলেছেন, “ফরিদা পারভীনের গান আমাকে লালনগীতির সঙ্গে পরিচয় করিয়েছে। তার গান শুনেই প্রথম লালনের গান গাইতে শিখি। বাবার হাতে মাত্র ৪–৫ বছর বয়সে ফরিদা ম্যামের একটি লালনের গান শোনার পর ‘আমারে কি রাখবে গুরু চরণে’ গানটি আমি প্রথম গেয়েছি। এই গানই আমাকে ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় অডিশনে সুযোগ এনে দেয়।”

তিনি আরও জানান, ফরিদা ম্যামের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে অনেকেই নিন্দা-বিষয়ক মন্তব্য করেছেন, তবে ফরিদা ম্যামের ক্ষেত্রে তা হয়নি। বিউটি বলেন, “শিল্পী বা যে কোনো মানুষ চলে গেলে তার জন্য দোয়া করা উচিত। ফরিদা ম্যামের স্মরণে আমি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছি। যেমন যমুনা টিভির অনুষ্ঠান এবং ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ৮টি গান রেকর্ড করা হবে।”

বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে বিউটি বলেন, “স্টেজ শো কম হওয়ায় রেকর্ডিং ও টিভি অনুষ্ঠানে বেশি সময় দিচ্ছি। সম্প্রতি প্রয়াত বশির আহমেদের ছেলে রাজা বশিরের কম্পোজিশনে তিনটি গান করেছি। এগুলোতে আধুনিক, সেমি ক্ল্যাসিক্যাল ও দেশাত্মবোধক গান রয়েছে। ভবিষ্যতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলেও নিয়মিত কনটেন্ট দেব।”

পারিবারিক জীবনের সমন্বয় নিয়ে তিনি বলেন, “গানের কাজ আমার মনের খোরাক, তবে সন্তান ও পরিবারই সর্বাগ্রে। স্বামীর সমর্থন থাকলে সব কাজ পরিচালনা সহজ হয়। আমরা দুজন মিলেমিশেই সন্তানদের বড় করার চেষ্টা করছি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মুশফিকের শততম টেস্টের মঞ্চ তৈরি, নভেম্বরে আসছে আয়ারল্যান্ড

বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে একটি বিশেষ মুহূর্তের অপেক্ষা। সব ঠিক থাকলে নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট ম্যাচ। দেশের হয়ে এটি প্রথমবারের মতো কোনো ক্রিকেটারের জন্য মাইলফলক।

২০০৫ সালে লর্ডসে অভিষেকের পর থেকে মুশফিক দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দলের নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে মাঠে নামছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেকের পর আজ তিনি দেশের সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক।

এখন পর্যন্ত ৯৮ ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের সংগ্রহ ৬,৩২৮ রান। তার মধ্যে রয়েছে ১২টি সেঞ্চুরি, ৩টি ডাবল সেঞ্চুরি এবং ২৭টি অর্ধশতক। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার ২১৯ রানের অপরাজিত ইনিংস বাংলাদেশের যে কোনো ব্যাটারের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ।

নতুন সূচি অনুযায়ী, ১১ নভেম্বর মিরপুরে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ হবে ১৯ নভেম্বর সিলেটে। আয়ারল্যান্ড মূলত ওয়ানডে সিরিজ খেলতে চেয়েছিল, তবে তারা টেস্টকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

এই সিরিজ শেষে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি লড়াই। প্রথম দুটি ম্যাচ ২৭ ও ২৯ নভেম্বর, আর শেষ ম্যাচ ২ ডিসেম্বর ঢাকায়।

এর আগে, বাংলাদেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করবে। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত টাইগাররা তাদের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফাঁকা সময় থাকবে, সম্ভাব্যভাবে সেই সময়েই আয়োজন হতে পারে বিপিএলের। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হচ্ছে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত ও শ্রীলঙ্কায়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




দুর্গাপূজা ঘিরে মিথ্যাচার করছে পার্শ্ববর্তী দেশ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) জানিয়েছেন, আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দেশ নানা ধরনের মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এখনও দেশে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়নি, ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজা মণ্ডপের কাজ চলছে। এসময় পাশ্ববর্তী দেশ অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার বিকালে উত্তরায় র‌্যাব সদরদপ্তরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও র‌্যাবের কর্মকাণ্ড বিষয়ে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে র‌্যাবের কার্যক্রম অনেক উন্নত এবং তাদের পারফরমেন্স প্রশংসনীয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসহ তারা যথাযথভাবে কাজ করছেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেশের ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিছু ছোটখাটো ঘটনা ঘটতে পারে, তবে সেগুলোও পর্যবেক্ষণে রয়েছে। শিগগিরই আনসার সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি আরও সতর্ক করেছেন, সম্প্রতি পঞ্চগড় এলাকায় একটি ঘটনা নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে। সাংবাদিকদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান, এসব মিথ্যা সংবাদের বিপরীতে সঠিক তথ্য প্রচার করতে হবে। এছাড়া পূজামণ্ডপ কমিটিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে যারা অবসরে গেছেন, তাদের পুনরায় নিয়োগ নিয়ম মেনে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের নিয়োগ প্রথা আগেও ছিল এবং এখনও রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আলোচিত ‘থার্সডে-নাইট ট্রাঙ্ক হাউল’

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার এক অনন্য বিনোদন ও শপিং আয়োজন হিসেবে নজর কাড়ছে ‘থার্সডে-নাইট ট্রাঙ্ক হাউল’। প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজন গুলশান-২ এর বার্গার কিং-এর সামনের রাস্তায় অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজনের মূল ধারণা হলো গাড়ির ট্রাঙ্কে বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে বিক্রির ব্যবস্থা করা। এটি বিদেশে পরিচিত হলেও বাংলাদেশে একেবারেই নতুন একটি উদ্যোগ। এখানে দর্শনার্থীরা খুঁজে পান ভিন্নধর্মী ও আকর্ষণীয় পণ্য যেমন পারফিউম, স্লাইডস এবং রঙ-বেরঙের লেডিস ব্যাগ।

উদ্যোক্তাদের মধ্যে তিনজন বন্ধুর উদ্যোগ ‘মায়ের দোয়া সুগন্ধি’, ‘ট্রে’ন্ডজ বাংলাদেশ’ এবং ‘ক্লাসিভা’ অন্যতম। পারফিউমগুলো নিজ হাতে তৈরি হওয়ায় অন্যদের তুলনায় ভিন্ন ও আকর্ষণীয়, যা ক্রেতাদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

স্থানীয়রা জানান, এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা রাতের শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু স্বস্তি পান। উদ্যোক্তাদের আশা, ভিড় বাড়তে থাকলে এই উদ্যোগ দীর্ঘদিন টিকে থাকবে এবং আরও বেশি মানুষ এতে অংশগ্রহণ করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫