মহানবী (সা.) ছিলেন মানবাধিকারের অগ্রদূত: ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠায় অগ্রপথিক ছিলেন। পনেরো শতাধিক বছর আগে তিনি মানবাধিকারের মৌলিক তত্ত্ব ও প্র্যাকটিস সমন্বয় করে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. খালিদ বলেন, মানবাধিকারের ধারণা যেমন নারী, শিশু, মত প্রকাশের অধিকার—সবকিছুর বিষয়ে নবী (সা.) আগে থেকেই কথা বলেছেন। তিনি কেবল তত্ত্ব দিয়েই থেমে থাকেননি, তা বাস্তবায়নও করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে বর্ণবৈষম্য ও জাত্যাভিমানের অবসান ঘটানো হয়েছে। আরব-অনআরব, সাদা-কালো—কোনো মানুষের ওপর অন্যের প্রাধান্য নেই।

ধর্ম উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, মদিনার সনদকে প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে গণ্য করা যায়। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সংবিধান আবশ্যক, এবং দেড় হাজার বছর আগে নবী (সা.) এই ধারণাটি বাস্তবায়ন করেছেন। এটি প্রাচীন হাম্বুরাবির ‘দি কোড অব হাম্বুরাবি’-র তুলনায় অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অবদানও বিশেষভাবে তুলে ধরেন ড. খালিদ। প্রাচীন রোম, পারস্য ও ভারতীয় সাম্রাজ্যে নারীদের প্রতি নিন্দা ও অবমাননা ছিল। কিন্তু নবী (সা.) ঘোষণা দিয়েছেন, “মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত”, যা নারীদের মর্যাদা ও অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.)-এর শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতেও মহানবীর (সা.) অবদান ছিল অমূল্য।

অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ রেজাউল করিম উদ্বোধনী বক্তৃতা করেন। ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদদীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান এবং জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ মোশাররফ হোসেন। বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি আব্দুল মুনয়িম খাঁন মহানবীর সিরাত নিয়ে আলোকপাত করেন।

পরবর্তীতে অতিথিরা কেরাত, নাতে রাসুল (সা.), ক্যালিগ্রাফি ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে উত্তাল ফিলিপাইন

ফিলিপাইনে ভুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে বিপুল অর্থ অপচয়ের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। রাজধানী ম্যানিলাসহ দেশজুড়ে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ অপচয় হয়েছে এসব প্রকল্পে। জনগণের অভিযোগ, কাগজে-কলমে যেসব প্রকল্প দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বলা হচ্ছে “ঘোস্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট”।

বিক্ষোভকারীরা হাতে জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নামেন। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল, “আর নয়, যথেষ্ট হয়েছে বাড়াবাড়ি, এবার ওদের কারাগারে পাঠাও।” আন্দোলনকারীরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের দাবি তুলেছেন।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বার্ষিক ভাষণে এই দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ৮৫৫টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে অনিয়ম ধরা পড়েছে, যেগুলোর মোট মূল্য প্রায় ৫৪৫ বিলিয়ন পেসো (৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

প্রেসিডেন্ট মারকোস এক বিবৃতিতে জানান, জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে “রেড অ্যালার্টে” রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভুয়া প্রকল্পে বিপুল অর্থ লোপাটের অভিযোগ ফিলিপাইনের রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরোষ দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে, যা দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ চুরি: ফিলিপাইনে বাজেয়াপ্ত ৮১ মিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি)-এ জমা থাকা ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করেছে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান। তিনি জানান, আদালতের মাধ্যমে সিআইডি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ অর্থ বাজেয়াপ্ত করতে সক্ষম হয়েছে।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার সূত্রপাত হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে। জাল সুইফট বার্তার মাধ্যমে প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় পাঠানো প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ফেরত আসে। তবে বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের মাকাতি সিটির জুপিটার শাখার কয়েকটি ভুয়া অ্যাকাউন্টে জমা হয়।

পরে এই অর্থ বিভিন্ন ক্যাসিনোর মাধ্যমে পাচার হয়ে যায়। ঘটনাটি ইতিহাসের অন্যতম বড় সাইবার ডাকাতি হিসেবে পরিচিতি পায়। এ ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক মামলা দায়ের করে এবং ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে তদন্ত শুরু হয়।

ফিলিপাইনের আদালত পরবর্তীতে আরসিবিসি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মায়া ডিগুইটোকে মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। বর্তমানে বাজেয়াপ্ত অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন নুর

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি দেশ ছাড়বেন বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের পরামর্শে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন নুর। তার সঙ্গে থাকবেন দলের সহ-সভাপতি ডা. সাজ্জাদ হোসেন।

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) গণঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি দেশবাসীর কাছে নুরের সুস্থতার জন্য দোয়া চান।

উল্লেখ্য, গত ২৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করলে নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় নুরকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বর্তমানে শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলার ১৯ জেলে সাগরে নিখোঁজ, পরিবারের উদ্বেগ বৃদ্ধি

ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের ১৯ জন জেলে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাদের পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের পক্ষ থেকে ভোলা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, জেলেরা ভারতের সংরক্ষিত সুন্দরবন এলাকার সীমান্ত অতিক্রম করলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের আটক করেছে। পরে ভারতের কারাগারে পাঠানো হয়।

জেলেদের স্বজনরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর সাগরে ঝাঁকের ইলিশ ধরা পড়ার সংবাদ পেয়ে ৫ সেপ্টেম্বর বিকালে ১৯ জন জেলে মাছ ধরতে যান। তাদের সঙ্গে পরিবারের শেষ যোগাযোগ হয় ১২ সেপ্টেম্বর। এরপর থেকে তারা আর ফিরে আসেননি।

ভারতে আটককৃত জেলেদের নামগুলো হলো: মোঃ সফিজল বেপারী, মোঃ শাহে আলম, ছিডু মুন্সি, রাজিব চন্দ্র দাশ, মোঃ আক্তার হোসেন, মোঃ মিন্টু হাওলাদার, মোঃ ফরিদ, মোঃ আলমগীর, মোঃ ফরিদ, মোঃ ইউনুছ, মোঃ বাবুল সরদার, মোঃ নিরব হোসেন, মোঃ ইসমাইল, মোঃ শাহে আলম হাওলাদার, গৌতম চন্দ্র দাস, মোঃ জাকির, মোঃ ছগির সিকদার, মোঃ টুটুল এবং মোঃ শহিদুল ইসলাম। সকলেই দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সম্পাদক শেখ আল মামুন জানিয়েছেন, নিখোঁজ জেলেদের সকল তথ্য সংগ্রহ করে প্রশাসনকে প্রদান করা হবে, যাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের উদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে পারে। ভোলা জেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অধিদপ্তর থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

পরিবারগুলো সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাদের প্রিয়জনদের দ্রুত ফিরে পেতে চায়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলার মাঝেরচরে মেঘনার তীব্র ভাঙন: ঘর-বাড়ি ও বিদ্যালয় নদীতে বিলীন

ভোলা জেলার মাঝেরচর গ্রামে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙন ইতোমধ্যেই চরম আকার ধারণ করেছে। গ্রামের ঘরবাড়ি, স্কুল, মসজিদ ও কমিউনিটি ক্লিনিক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ষাটোর্ধ্ব শামসুন নাহার ও জাহানারা বেগম, দীর্ঘ ৩০ বছরের প্রতিবেশী, এখন নদীতীরের টং ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা জানেন না, আগামী দিনে কোথায় যাবে।

মাঝেরচর গ্রামের এক সময়ের শস্যভাণ্ডারখ্যাত এই এলাকা এখন ভয়াবহভাবে ক্ষতবিক্ষত। সদর উপজেলার বিচ্ছিন্ন কাচিয়া ইউনিয়নের রামদেবপুর, মধুপুর ও টবগী গ্রামে আট মাস আগে পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাস করত। বর্তমানে ছয়টি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট রামদেবপুর-৪ প্রকল্পও হুমকির মুখে।

নদীতে বিলীন হয়েছে একটি মাটির কিল্লা, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মাদরাসা, তিনটি মসজিদ, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, শত শত বসতভিটা, বাজার, রাস্তাঘাট এবং কয়েক কিলোমিটার এলাকার ফসলি জমি।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, নদী ভাঙনে স্কুল ভবন হারিয়ে ১৭৯ নং উত্তর-পশ্চিম কাচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলছে একটি পরিত্যক্ত সাইক্লোন শেল্টারে। কমিউনিটি ক্লিনিকও চলছে বসতবাড়ির ভেতরে গড়ে ওঠা মাটির কিল্লায়।

মাঝেরচরের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ভোটার ছিলেন। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে ছিল ১১০-১৩০টি করে ঘর। বারইপুরা-১, রামদেবপুর-২, রামদেবপুর-৩, রামদেবপুর-৫ এবং নতুন রামদেবপুর-৩ প্রকল্পগুলো নদীতে বিলীন। স্থানীয়দের অভিযোগ, চর রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।

জেলে মো. কালু ও মেহের নিগার দম্পতি বলেন, “এক রাইতের মইধ্যে নদী ঘরবাড়ি সব ভাইঙ্গা লইয়া গেছে। নদী আমাদের সব লইয়া গেছে।” অন্য বাসিন্দা জাহানারা বেগমও বলেন, “এখন খোলা আকাশের নিচে আছি। টাকা-পয়সা নাই, ঘরদুয়ার করতে পারি না।”

বারইপুর গ্রামের সরকারি মাটির কিল্লার আশপাশে অর্ধশতাধিক পরিবার টিনের টং ঘরে বসবাস করছে। কৃষকরা জানাচ্ছেন, এক সময় মধ্যেরচরের জমিতে বিদেশি সবজিসহ নানা ফসলের bumper ফলন হতো। এখন নদীতে সব ফসলি জমি হারিয়ে গেছে।

রামদেবপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মো. মাকসুদুর রহমান জিলাদার বলেন, “নদী ভাঙনে ক্লিনিকটি বিলীন হয়ে গেছে। এখন মাটির কিল্লার ভেতরে বসে স্বাস্থ্যসেবা চালাচ্ছি।”

চরবাসীর একমাত্র দাবি, অবশিষ্ট অংশ রক্ষায় দ্রুত জিওব্যাগ বা সিসি ব্লক বসানো হোক এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হোক।

ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ জানান, “বর্ষা মৌসুমে নদীর প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঝেরচর পরিদর্শন করেছি এবং প্রকল্প গ্রহণের জন্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করছি। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙন প্রতিরোধ করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে নগদ এজেন্টের ৪০হাজার টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র

মাত্র ১২ সেকেন্ডের ব্যবধানে বরিশালের এক নগদের এজেন্টের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। এ ঘটনা ঘটে গত ১৬ই সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর নথুল্লাবাদ কাঁচাবাজার সংলগ্ন রানা টেলিকমে।

প্রতারণার স্বীকার নগদের এজেন্ট আজম হাওলাদার রানা জানান, প্রতিদিনের মতো সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান চালু থাকলেও সন্ধ্যার পর বাজার জমে ওঠায় তখন চাপ একটু বেশি থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগায় প্রতারক চক্র। তারা প্রথমে কয়েক দফায় ছোট ছোট লেনদেন (৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা) করে দোকানে আসতে থাকে এবং রানার গতিবিধি খেয়াল করে ফোনের পিন সংগ্রহ করে।

পরে আনুমানিক ২৪ বছর বয়সী এক যুবক বাকপ্রতিবন্ধী সেজে নতুন কৌশল নেয়। সে নাম্বার সঠিকভাবে বলতে না পারায় নাম্বার ওঠানোর জন্য রানা নগদ এজেন্টের ফোন তার হাতে দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওই যুবক নাম্বার ওঠানোর সময় ফোন মিনিমাইজ করে নগদ এজেন্টের একাউন্টে প্রবেশ করে। এরপর নিজের পারসোনাল নগদ একাউন্ট ০১৩৩৮৪৯৪৩৯১-এ ৪০ হাজার টাকা ক্যাশইন করে ফেলে। পরে আবার রবি নাম্বার ০১৮২২৬৩১৭৯৮ উঠিয়ে ফ্ল্যাক্সিলোড করারা জন্য ফোন ফিরিয়ে দেয়।

কিছুক্ষণ পর রানা লেনদেন করতে গিয়ে মেসেজ দেখে বুঝতে পারেন পুরো টাকাই খোয়া গেছে। এরপর আশেপাশে খুঁজে না পেয়ে নগদ কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করলে তারা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ দেখিয়ে তাকে কোনো সহযোগিতা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী নগদের এজেন্ট রানা বিমান বন্দর থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার এএসআই সোহাগ জানান, যে নাম্বারে টাকা ক্যাশইন হয়েছে সেটি ট্র্যাক করার চেষ্টা চলছে। ডিটেইলস পাওয়া গেলে তদন্তে আরও সুবিধা হবে। তার ধারণা, ঘটনাটিতে কাস্টমার কেয়ারের লোকও জড়িত থাকতে পারে।

এদিকে বিমান বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন,”অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। আশা করি দ্রুতই সমাধান আসবে।




মৌ-এর অকপট স্বীকারোক্তি: ব্যক্তিগত জীবন ও বিতর্ক নিয়ে খোলাখুলি

দেশের নন্দিত মডেল ও নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ বরাবরই তার ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখতে পছন্দ করেন। তিনি কাজের বাইরে খুব কমই ক্যামেরার সামনে আসেন। তবে সম্প্রতি একটি পডকাস্টে মৌ মন খুলে তার জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।

মৌ বলেন, “তৌকীর ভাইয়ের সঙ্গে আমার কোনো ঠাণ্ডা লড়াই নেই। এটি সম্পূর্ণ গুজব। তবে সত্যি যে আমরা একসঙ্গে বেশি কাজ করিনি। দেখা হলে তিনি দুষ্টুমির ভঙ্গিতেই আমার সঙ্গে কথা বলেন।” তিনি আরও জানান, অতীতে বিটিভিতে তৌকীরের সঙ্গে একটি নাটকের জন্য রিহার্সেল করেছিলেন, কিন্তু নাচের শোয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে নাটকটি করা হয়নি। পরে তারা একাধিক নাটকে একসঙ্গে কাজ করেছেন।

কিছু দিন আগে মৌ-এর ছেলের সঙ্গে একটি মিষ্টি ছবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মৌ বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি, মা ও ছেলের একটি ছবি নিয়েও কেউ কুৎসিত মন্তব্য করতে পারে। আমার ছেলে তখন আমাকে টেক্সট করে বলেছিল, ‘মা, সবাই তোমাকে খারাপ বলছে। আমরা কি কিছু করতে পারি?’ আমি তাকে সান্তনা দিতে পারছিলাম না।”

পডকাস্টে মৌ-এর স্বামী জাহিদ হাসান উল্লেখ করেন, তার জীবনের প্রথম প্রেমের কথা। এ প্রসঙ্গে মৌ বলেন, “প্রত্যেকের জীবনের অতীত থাকে। যদি তা বর্তমানেও প্রভাব না ফেলে, দোষের কিছু নেই। আমি জাহিদের প্রথম প্রেমের চিঠিগুলোও সযত্নে রেখেছি। আমি কখনোই জাহিদকে নিয়ে সন্দেহ বা ইনসিকিউরড ছিলাম না। আমরা এমন পরিবেশে বড় হয়েছি, যেখানে সম্পর্ককে বিশ্বাস ও সমর্থনের ভিত্তিতে দেখা হয়।”

মৌ-এর খোলাখুলিভাবে ব্যক্তিগত জীবন, ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ও স্বামীর অতীত নিয়ে দেওয়া এই মন্তব্য সামাজিক মিডিয়ায় নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শ্রীলঙ্কা দিলো বাংলাদেশকে ১৬৯ রানের চ্যালেঞ্জ

এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্বের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে বাংলাদেশকে ১৬৯ রানের বড় চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা ৭ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান করেছে।

টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস। দলের একাদশে পরিবর্তন আনা হয়; শেখ মেহেদী হাসান ও শরিফুল ইসলাম দলে ফেরানো হয়, বাদ পড়েন নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদ হোসেন।

শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস দলের শুরুটা দারুণ করে দেন। নিসাঙ্কা ১৫ বলে ২২ রান করেন (৩ চার, ১ ছক্কা), আর কুশল মেন্ডিস ২৫ বলে ৩৪ রান যোগ করেন (১ চার, ৩ ছক্কা)। শেখ মেহেদীর বলে মেন্ডিস ৫৮ রানে আউট হন। এরপর নিয়মিত উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে লঙ্কানরা। কামিল মিশারা ১১ বলে ৫ ও কুশল পেরেরা ১৬ বলে ১৬ রান করে বিদায় নেন।

শেষ পর্যন্ত দাসুন শানাকা ইনিংস টেনে নেন। মাত্র ৩৭ বলে ৬৪ রান করে অপরাজিত থাকেন, ইনিংসে রয়েছে ৩ চার ও ৬ ছক্কা। শেষ বলে তাসকিন আহমেদকে ছক্কা মেরে ইনিংসের ইতি টানেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার ইনিংস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পাওয়ার প্লেতে ৫৩ রান, পরের ৬ ওভারে ৩০ রান এবং শেষ ৫ ওভারে ৫৩ রান।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান, ৪ ওভারে ২০ রান খরচে ৩ উইকেট নিয়েছেন। মেহেদী হাসান ২ উইকেট নেন ২৫ রানে। তবে শরিফুল ইসলাম সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছিলেন, ৪ ওভারে ৪৯ রান দিয়েছেন। শেষদিকে কিছু ক্যাচ মিস ও ফিল্ডিং ভুলে টাইগারদের আফসোস বাড়ে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চোরাই গরু-ছাগলসহ ট্রাক উদ্ধার

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় এক চোরাই ট্রাক রাস্তার পাশে খাঁদে আটকা পড়ে। ট্রাকের মধ্যে তিনটি গরু ও একটি ছাগল ছিল। চালকসহ চোর চক্রের সদস্যরা ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চোরাই গরু ও ছাগলসহ ট্রাকটি জব্দ করেছে।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ট্রাকের মালিক শনাক্ত করা হয়েছে এবং পুরো চোর চক্রকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কিছুদিন ধরে গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে এলাকার খামারি ও গরুর মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫