যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন বামপন্থী ও প্রগতিশীল সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নেতারা চুক্তিটিকে দেশের স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে তা বাতিলের জোর দাবি জানান।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকালে বরিশাল নগরের রূপাতলি, চৌমাথা ও নথুল্লাবাদ এলাকায় পথসভা, মিছিল ও গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন এবং জনসাধারণের মাঝে চুক্তির বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেন।

পথসভায় বক্তারা বলেন, ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ নামের এই চুক্তিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাদের মতে, চুক্তিতে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং এতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন শর্তে বাধ্য করা হয়েছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি। তাই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করে বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং জনমত গ্রহণের দাবি জানান তারা।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বরিশাল জেলা সভাপতি মিজানুর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক দুলাল মজুমদার, আইনজীবী এ কে আজাদ এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

তারা চুক্তিকে ‘অসম ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

এছাড়া কর্মসূচি থেকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়। নেতারা জানান, জনস্বার্থবিরোধী সব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

সমাবেশ থেকে আগামী ২৭ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল এবং স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




লোডশেডিংয়ের সুযোগে ট্রান্সফরমার চুরি, অন্ধকারে ঝালকাঠির এলাকা

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) গভীর রাতে পশ্চিম চারাখালি ব্যাপারি বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় কেউ বিষয়টি টের পাননি। সকালে উঠে এলাকাবাসী ট্রান্সফরমারটি খুঁজে না পেয়ে হতভম্ব হয়ে পড়েন।

এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান জানান, “রাতে লোডশেডিং ছিল, তাই কিছু বুঝতে পারিনি। সকালে উঠে দেখি ট্রান্সফরমারটি নেই। পরে কাছের জঙ্গলে এর কিছু ভাঙা অংশ পড়ে থাকতে দেখি। এতে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।”

ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্করা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নিত্যদিনের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত পুনঃস্থাপন করা হোক।

এ বিষয়ে রাজাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আতাউর রহমান জানান, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ চলছে, যাতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা যায়।”

ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি উঠেছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা, বরিশালে দুই শিক্ষক বহিষ্কার

বরিশালের উজিরপুরে এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশের পর শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিষয়টি সামনে আসার পর তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন—উজিরপুর উপজেলার হাবিবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো. ফারুক হোসেন এবং সহকারী শিক্ষক খগেন মণ্ডল। তারা ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা জানান, এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রে হাবিবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাতজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা ২০২৬ সালের নিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে নেওয়া হয়েছে। যা পরীক্ষার নীতিমালার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, “প্রথমদিকে বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা গোপন রাখার চেষ্টা করেন। পরে অভিভাবকদের মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পর তা যাচাই করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্র সচিবসহ দুই শিক্ষককে সব ধরনের পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

ইউএনও আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডকেও জানানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




তীব্র গরমে দাখিল পরীক্ষাকেন্দ্রে ৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ, একজন হাসপাতালে ভর্তি

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় দাখিল পরীক্ষাকেন্দ্রে অতিরিক্ত গরমে পাঁচজন পরীক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) টগড়া দারুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসা দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবার পরীক্ষায় অংশ নেয়।

অসুস্থ পরীক্ষার্থীরা হলেন— পত্তাশী এস দাখিল মাদ্রাসার লামিয়া আক্তার, বিথি আক্তার ও আজিমা, চন্ডিপুর বাগারহার আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার রাফিজা এবং কালাইয়া রাজিয়া রশিদ মহিলা দাখিল মাদ্রাসার মারিয়া আক্তার।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষার এক ঘণ্টার মধ্যেই তারা পরীক্ষার হলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

চিকিৎসা শেষে বিথি আক্তার ছাড়া অন্য চারজন পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপাল বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গরম, শারীরিক দুর্বলতা এবং ক্লান্তির কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। একজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে পরীক্ষায় ফিরে গেছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পরীক্ষা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা আরও জোরদার করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




উন্নয়নের সম্ভাবনায় বরগুনা, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় মহাপরিকল্পনা

নদী আর সাগরের মাঝে ঘেরা উপকূলীয় জেলা বরগুনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক পিছিয়ে পড়ার চ্যালেঞ্জে রয়েছে। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, সবুজ বন ও নীল জলরাশির মিলনে গড়া এই জনপদ সম্ভাবনাময় হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া এখনও পুরোপুরি পায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বরগুনার উন্নয়ন নিয়ে হতাশা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। শিল্পায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন ও কৃষি-মৎস্য খাতকে কেন্দ্র করে একাধিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাথরঘাটা ও তালতলী উপজেলায় প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

পাথরঘাটার ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিন এসমে বলেন, “এখানে শিল্পকারখানা হলে তরুণদের আর ঢাকায় যেতে হবে না, স্থানীয়ভাবেই কর্মসংস্থান হবে।”

তবে উন্নয়নের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা। জেলার ভেতরের অধিকাংশ সড়ক এখনো অনুন্নত, আর বাইরের সঙ্গে যোগাযোগও সীমিত। এ পরিস্থিতিতে ৫৯ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন, বরগুনা-বাকেরগঞ্জ-বরিশাল মহাসড়ক উন্নীতকরণ এবং পায়রা ও বিষখালী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গুরুত্ব পাচ্ছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরগুনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না।”

পর্যটন খাতেও বরগুনার রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা। হরিণঘাটা, ফাতরার চর, লালদিয়ার চর, পাখির চর ও নীলিমা পয়েন্টসহ একাধিক প্রাকৃতিক স্থান পর্যটনের জন্য উপযোগী হলেও অবকাঠামোর অভাবে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

বরগুনা জেলা পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোক্তা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ বলেন, “সঠিক পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বরগুনা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।”

অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি ও মৎস্য খাত। উপকূলীয় অঞ্চলে মহিষ পালন একটি ঐতিহ্য হলেও আধুনিকায়নের অভাবে এই খাত এখনও পিছিয়ে আছে। পাশাপাশি মাছ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় জেলেরা।

তালতলীর জেলে নুরুল ইসলাম বলেন, “মাছ পাই কিন্তু সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় লাভ কমে যায়। ভালো ব্যবস্থা হলে আমরা উপকৃত হবো।”

এছাড়া বরগুনা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ এলাকা হওয়ায় বেড়িবাঁধ শক্তিশালীকরণ, সাইক্লোন শেল্টার বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে রয়েছে আরও বড় প্রত্যাশা। স্থানীয়রা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।

সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল বলেন, “সমন্বিত পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়ন ছাড়া বরগুনার উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

সব মিলিয়ে বরগুনা এখন সম্ভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। পরিকল্পনা রয়েছে, উদ্যোগও শুরু হয়েছে—এখন প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জ্বালানি সংকটে ভোলা, তীব্র ভোগান্তি; সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

ভোলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, এতে স্থবির হয়ে পড়েছে পরিবহন ও মাছ ধরার কার্যক্রম। ডিজেল না পেয়ে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক নৌকা ও যানবাহন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলার প্রায় তিন লাখ জেলে।

পেট্রোল পাম্পগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে জ্বালানি পাচ্ছেন না। সরকারি নির্ধারিত দামে ডিজেল ১১৫ টাকা হলেও বাজারে তা ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলেরা জানান, “সিন্ডিকেটের কারণে তেল পাচ্ছি না। যে তেল ১ টাকায় পাওয়া যেত, এখন ৫ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে।” এতে মাছ ধরা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম লোকসানে পড়েছেন।

শুধু জেলে নয়, সড়ক ও নৌপথের পরিবহন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক যানবাহন জ্বালানি না পেয়ে অচল হয়ে পড়েছে, এতে যাত্রী দুর্ভোগ ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, পাম্পে সরবরাহ থাকলেও খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানি সংকট ও সিন্ডিকেটের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভোলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করছে। অবৈধ মজুদ, অতিরিক্ত দামে বিক্রি এবং অননুমোদিত জ্বালানি ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) জানিয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছেন। সংগঠনটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।

ভোলা জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান বলেন, “অননুমোদিতভাবে কেউ জ্বালানি মজুদ করলে তা জব্দ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট শুধু সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে না, বরং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সরকারি সিদ্ধান্তের আগেই বরিশাল–ঢাকা নৌপথে লঞ্চ ভাড়া বাড়াল মালিকরা

ঢাকা–বরিশাল নৌপথে লঞ্চ ভাড়া সরকারি সিদ্ধান্তের আগেই এক দফা বাড়িয়ে দিয়েছে লঞ্চ মালিকরা। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ডেক ও কেবিন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত সোমবার থেকে বরিশাল–ঢাকা রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে ডেক যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০ টাকা এবং কেবিন যাত্রীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

লঞ্চ মালিকদের দাবি, আগে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে তারা কম ভাড়া নিতেন যাত্রীদের সুবিধার্থে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন ভাড়া নিচ্ছেন।

তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর ৪২ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) চিঠি দিয়েছে। এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যেই লঞ্চে বর্ধিত ভাড়া কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে ডেক যাত্রীদের ভাড়া ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা করা হয়েছে। সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং বিভিন্ন ভিআইপি ও ফ্যামিলি কেবিনে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়াই এমন ভাড়া বৃদ্ধি অযৌক্তিক এবং এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

বরিশাল থেকে ঢাকাগামী এক ডেক যাত্রী আবদুল কাদের ফকির বলেন, “আমরা কষ্ট করে টাকা রোজগার করি। ৫০ টাকা ভাড়া বাড়ানো মানে আমাদের এক বেলার খাবারের খরচ। কিন্তু আমাদের কথা কেউ ভাবে না।”

এক কেবিন যাত্রী বলেন, “তেলের দাম বাড়লে ভাড়া বাড়ে, কিন্তু কমলে আর কমে না। এটা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।”

লঞ্চ মালিক সমিতির সাবেক সহসভাপতি রেজিন উল কবির জানান, আগে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নেওয়া হতো। বর্তমানে তেলের দাম বাড়ায় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

এদিকে লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, তারা ৪২ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন এবং সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর আরও ভাড়া বাড়তে পারে।

যাত্রী অধিকার সংগঠনের নেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম যতটা বেড়েছে, সেই অনুপাতে ভাড়া বৃদ্ধি যুক্তিসঙ্গত নয় এবং এতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।

সরকার সম্প্রতি ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম প্রতি লিটারে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মূল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’: ৫০ লাখ পরিবার পাচ্ছে মাসে ২ হাজার টাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর এবার সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে প্রান্তিক মানুষের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারাদেশে ৫০ লাখ স্বল্পআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই হিসাবে এক অর্থবছরে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৭২ কোটি টাকা, যার মধ্যে ক্যাশ-আউট চার্জও অন্তর্ভুক্ত। তবে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করলে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আগে থেকেই যেসব কর্মসূচি চালু আছে সেগুলোর উপকারভোগীদের তথ্য একীভূত করে নতুন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে প্রায় ৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা সাশ্রয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সরকারের নতুন করে অর্থের প্রয়োজন হবে প্রায় ৬ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী –এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কর্মসূচির সম্ভাব্য বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কারা অগ্রাধিকার পাবেন তা নিয়েও একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক হবে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল বা ইউনিয়ন পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। গ্রামীণ দরিদ্র, ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট পরিবার, নারীপ্রধান পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী, ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। যেসব পরিবারের বসতঘর মাটি, পাটকাঠি বা বাঁশের তৈরি এবং কৃষিযোগ্য জমি নেই, তারাও তালিকায় এগিয়ে থাকবে।

বর্তমানে –এর আওতায় প্রায় ৬৫ লাখ পরিবার ভর্তুকিমূল্যে পণ্য পাচ্ছে। এছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল ওম্যান কর্মসূচি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীদের তথ্য সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। দ্বৈত সুবিধা এড়াতে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে তথ্য যাচাই করে যাদের দ্বৈততা পাওয়া যাবে, তাদের বাদ দেওয়া হতে পারে।

প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। অর্থ বিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ব্যবহার করে পাইলট প্রকল্প চালুর প্রস্তাব রয়েছে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর ও ইউনিয়নের নাম—এই চারটি তথ্য প্রয়োজন হবে। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে ইতোমধ্যে ৪ কোটির বেশি উপকারভোগীর তথ্য সংরক্ষিত আছে, যা দিয়ে দ্রুত যাচাই সম্ভব।

জাতীয় পরিচয়পত্র ডাটাবেজ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, টিআইএন, বিটিআরসি আইএমইআই তথ্যভাণ্ডার, জাতীয় সঞ্চয়পত্র, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনার ডাটাবেজ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য যাচাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিকাশ, রকেট, নগদসহ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি গভর্নমেন্ট টু পাবলিক পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানো হবে। এতে রিয়েল-টাইম মনিটরিং সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে ৮টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই, পরবর্তী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নীতিমালা অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ, এরপর চার দিনের মধ্যে পে-রোল প্রস্তুত করে অর্থ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদ্যমান ডাটাবেজ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারলে ঈদের আগেই প্রথম ধাপে কার্ড বিতরণ সম্ভব।

নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরই বাস্তবায়ন শুরু হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শীতকালেও সুস্থ থাকার সহজ উপায়

শীতের আগমন সঙ্গে আনে কম রোদ, দীর্ঘ রাত ও ঠান্ডা বাতাস। দিন যত ছোট হচ্ছে, শরীরের ইমিউন সিস্টেম ততই পরীক্ষা হচ্ছে। সচেতন না হলে শীত নানা রোগের সুযোগ দেয়। সর্দি, কাশি, ফ্লু এবং শ্বাসকষ্ট শীতকালে সাধারণ সমস্যা।

ঠান্ডা ও রোগ প্রতিরোধ
শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্ত রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য ও হালকা ব্যায়াম অপরিহার্য। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন কমলা, কিউই ও পেয়ারা নিয়মিত খেলে ঠান্ডা ও ভাইরাস থেকে শরীরকে রক্ষা করা যায়।

খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা
শীতকালে ভারি, তেল-মশলাযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার শরীরকে ক্লান্ত ও স্থূল করে। হালকা, গরম ও পুষ্টিকর খাবার যেমন ডাল, হালকা স্যুপ, শাক-সবজি শরীরকে গরম রাখে এবং হজম সহজ হয়। পর্যাপ্ত পানি খাওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যায়াম ও সক্রিয় থাকা
শীতকালে ঘরে বসে সময় কাটানো সাধারণ হলেও শরীরকে সক্রিয় রাখা জরুরি। মাত্র ২০–৩০ মিনিট হাঁটা, যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং রক্ত চলাচল ঠিক রাখে এবং শরীর গরম রাখে।

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা
শীতকালে মানসিক চাপও বেড়ে যায়। কম আলো, ঘন কুয়াশা ও দীর্ঘ রাত মানুষকে বিষণ্ণতায় ফেলতে পারে। গান শোনা, বই পড়া বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

সতর্কতা
হঠাৎ ঠান্ডায় বের হলে গরম পোশাক ও মোজা ব্যবহার বাধ্যতামূলক। ঠান্ডার সময় ঠান্ডা পানির বদলে হালকা গরম পানীয় বা স্যুপ বেশি স্বাস্থ্যকর। শীতকালে জীবনধারা ও শরীরের যত্ন নিলে এই ঋতুকে সুন্দরভাবে উপভোগ করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিতে প্রবাসীদের শীতবস্ত্র বিতরণে স্বস্তি পেল অসহায়রা

তীব্র শীতে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা)। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বেরমহল হাচান মেমরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কয়েকশ’ অসহায় নারী ও পুরুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক লস্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “বিদেশের মাটিতে থেকেও প্রবাসীরা নিজ এলাকার অসহায় মানুষের জন্য এগিয়ে আসছে। এই মানবিক উদ্যোগ দেশপ্রেম ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শীতের কঠিন প্রকোপ থেকে অসহায় নারী-পুরুষরা কিছুটা হলেও স্বস্তি অনুভব করবে।”

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্কাস আলী সিকদার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চাখার ফজলুল হক ইনস্টিটিউটের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হালিম লস্কর।

শীতবস্ত্র বিতরণে সহায়তা করেন মার্কিন প্রবাসী ও সময় টিভির যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি লস্কর আল মামুন। প্রবাসীদের এই উদ্যোগে এলাকার অসহায় মানুষরা শীতের তীব্রতা থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে সক্ষম হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম