কলাপাড়ায় প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগে টেটাবিদ্ধ কুকুরের প্রাণরক্ষা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামাইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দেয় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। নির্মমভাবে টেটা (বর্শার মতো মাছ ধরার যন্ত্র) দিয়ে একটি নিরীহ কুকুরকে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব ইয়াসিন সাদেক

তিনি ঘটনাটি দ্রুত নজরে এনে স্বেচ্ছাসেবী প্রাণিকল্যাণ ও পরিবেশবাদী সংগঠন “অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী”-কে কুকুরটির চিকিৎসার নির্দেশ দেন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেন।

সংগঠনটির প্রাণী চিকিৎসা সদস্য মো. কাওসার ওরফে হৃদয় জানান, “খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কুকুরটি পুকুরপাড়ে টেটাবিদ্ধ হয়ে কাতরাচ্ছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের নিয়ে যাই।” সেখানে চিকিৎসা শেষে রাত ১০টার দিকে কুকুরটিকে নিজ হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে কুকুরটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে এবং চিকিৎসা ও যত্ন অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব ইয়াসিন সাদেক বলেন, “বায়েজিদ মুন্সী ঘটনাটি জানালে আমি সঙ্গে সঙ্গে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহকর্মীদের সহযোগিতা চাই। পরে অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে আহত কুকুরটির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাণী আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অপরিহার্য অংশ। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ মানবতার প্রকৃত প্রকাশ। কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও প্রাণিকল্যাণ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও উদ্ধার কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাবে।”

প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং প্রাণিপ্রেমী সংগঠনের সহযোগিতায় আহত কুকুরটির প্রাণরক্ষা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও প্রশংসার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক এ উদ্যোগে এলাকাজুড়ে প্রশাসনের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভ্যানই এখন তার ঘর, ভ্যানই তার পৃথিবী

স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে স্বপ্নের সংসার গড়েছিলেন কাঠুরে মো. ইমরান শেখ। প্রতিদিনের পরিশ্রমে চলত সংসার, সন্তানদের মানুষ করে তোলার স্বপ্নই ছিল তার জীবনের লক্ষ্য। কিন্তু ২০১৯ সালের ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর পর গাছ কাটতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ভেঙে যায় সব স্বপ্ন।

গাছ থেকে পড়ে গিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং স্পাইনাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইমরানের। সেই থেকে কোমরের নিচ থেকে তিনি চিরতরে অচল হয়ে পড়েন। হাঁটা-বসা তো দূরের কথা, সারাদিন তাকে শুয়ে থাকতে হয়।

গত ছয় বছর ধরে এমন করুণ বাস্তবতার সঙ্গেই বেঁচে আছেন তিনি। প্রতিদিন সকালে ভ্যানগাড়ির ওপর শুয়ে নিজেই ভ্যান চালিয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চান। দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়, তাতেই কোনোমতে চলে চার সদস্যের সংসার। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে নাজিরপুরের একটি আবাসনে থাকেন তিনি।

কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। এমনকি ভ্যানগাড়িতে ওঠা-নামার কাজও করতে হয় অন্যের সহায়তায়। সন্তানদের লেখাপড়াও এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

আক্ষেপ ভরা কণ্ঠে ইমরান বলেন,“ছয় বছর ধরে শুধু ভ্যানের ওপর শুয়ে আছি। এই ভ্যানই এখন আমার ঘর, আমার পৃথিবী।”

নাজিরপুরের এই অসহায় মানুষটির জীবন যেন সমাজের বঞ্চিত ও দুঃখী মানুষের প্রতিচ্ছবি। সামান্য সহায়তা, চিকিৎসা আর সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারো নতুন স্বপ্ন দেখতে পারতেন তিনি ও তার পরিবার।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ন্যাশনাল ইনফ্লুয়েন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন বরিশালের সন্তান সিফাত ই মঞ্জুর রোমান

জাতীয় পর্যায়ে অনন্য স্বীকৃতি অর্জন করলেন বরিশালের তরুণ স্বেচ্ছাসেবী মো: সিফাত ই মঞ্জুর রোমান। রাজধানীর মালিবাগের ফোর-স্টার হোটেল স্কাই সিটি-তে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় মর্যাদাপূর্ণ ন্যাশনাল ইনফ্লুয়েন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫

সামাজিক পরিবর্তন, স্বেচ্ছাসেবক নেতৃত্ব এবং তরুণদের সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার পান তিনি। সিফাত প্রহেলিকা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা, যা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, মানবিক কার্যক্রম, পরিবেশ সচেতনতা এবং সমাজ উন্নয়নকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কৃতি ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মোট ২০টি ক্যাটাগরিতে ৫০ জনকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর আগে সিফাত পেয়েছেন ন্যাশনাল টেক অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড

পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রোমান বলেন,“এই স্বীকৃতি শুধু আমার নয়; বরং বাংলাদেশের সকল স্বেচ্ছাসেবীর। যারা নিরলসভাবে সমাজ পরিবর্তনের জন্য কাজ করছেন, এই সম্মান তাদের প্রত্যেকের জন্য। ঐক্যবদ্ধ তরুণরাই পারে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে।”

প্রায় আট বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবায় যুক্ত আছেন তিনি। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাথেও কাজ করেছেন। বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক দূষণ কমানো, সচেতনতা সেশন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় টেকসই উন্নয়নকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন।

পরিবার থেকেও পেয়েছেন অনুপ্রেরণা ও সমর্থন। পুরস্কার প্রাপ্তির পর পরিবারের প্রতিক্রিয়াও ছিল আবেগঘন। পরিবারের সদস্যরা বলেন,“এটি শুধু সিফাতের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পরিবারের ও বরিশালের গর্ব। তরুণ প্রজন্মের জন্য এ সাফল্য অনুপ্রেরণার।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে সিফাত বলেন,“আমি চাই তরুণদের আরও বেশি স্বেচ্ছাসেবায় সম্পৃক্ত করতে, নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ সামাজিক সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে পেতে। প্রহেলিকা ইয়ুথ ফাউন্ডেশনকে দেশের প্রতিটি জেলায় বিস্তৃত করতে চাই, যেন তরুণরা ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।”

ইউনিভার্সিটি অফ গ্লোবাল ভিলেজ থেকে কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বিএসসি সম্পন্ন করেছেন তিনি। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত আছেন পুরোপুরি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু, তীরে ফিরেছেন ভোলার জেলেরা

মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে শুরু হয়েছে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। শনিবার (৪ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত।

সরকারি নির্দেশনা মেনে ইতোমধ্যেই জাল, নৌকা ও ট্রলারসহ মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে তীরে ফিরে এসেছেন ভোলার হাজারো জেলে। শনিবার সকালে ভোলা সদর উপজেলার তুলাতুলি, শিবপুরের ভোলার খাল এলাকা ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী জেলে পল্লীগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে ব্যস্ততার চিত্র। কোথাও জেলেরা ট্রলার নোঙর করছেন, কেউ ইঞ্জিন খুলে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ জাল গোছানো ও মেরামতে ব্যস্ত।

তুলাতুলি এলাকার জেলে ফিরোজ মাঝি ও আকবর মাঝি বলেন, মৌসুমের শুরুতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মেলেনি। সম্প্রতি মাছ ধরা শুরু হলেও নিষেধাজ্ঞা আসায় আবারও নদী থেকে ফিরতে হলো। তারা অভিযোগ করেন, বাজারে মাছ বিক্রি করলেও দাম বেশি মেলেনি।

এদিকে জেলে আলমগীর মাঝি ও ছগির মাঝি জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবেন। তবে দাবি করেন—নিষেধাজ্ঞার সময় যেন অসাধু জেলেরা নদীতে না নামে এবং জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল দ্রুত বিতরণ করা হয়।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ভোলা জেলার সাত উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৮ জন জেলেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে চাল বিতরণ শুরু হবে। আমাদের লক্ষ্য আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সম্পূর্ণ বিতরণ শেষ করা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুমকিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষার প্রস্তুতি, নদীতে নামতে জেলেদের সরব আয়োজন

দেশব্যাপী মা-ইলিশ রক্ষায় সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার বিভিন্ন নদীতে চলছে শিকারের প্রস্তুতি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলেরা জাল-নৌকা মেরামত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

সরকারি নির্দেশনায় ৪ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব নদীতে ইলিশ ধরা, মজুদ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ। কিন্তু দুমকির পায়রা, লোহালিয়া, পান্ডব ও পাতাবুনিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক নৌকা ইতোমধ্যেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। লোহালিয়ার বাহেরচর, আংগারিয়া, পাতাবুনিয়া, পাংসিঘাট, পায়রার লেবুখালী, আলগি, হাজিরহাট ও রাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলে পল্লীতে বিকল্প জাল ও নৌকার ব্যবস্থাও করে রেখেছেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন জেলে জানান, ভিজিএফ চালের বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। ফলে পরিবার চালাতে বাধ্য হয়ে তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামার পরিকল্পনা করছেন। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বিকল্প কর্মসংস্থান বা সহায়তা না থাকায় জীবিকার টানেই তারা এমন ঝুঁকি নিচ্ছেন।

এদিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, মা-ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, জাল ও নৌকা জব্দসহ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন মহলের মতে, জেলেদের জন্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে একদিকে ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদী তীরবর্তী মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।


মো:আল-আমিন



আজ লাহোরের বায়ু দুষণ সর্বোচ্চ, ঢাকার অবস্থান কত?

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : বৃহস্পতিবার (০২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণে  শীর্ষ তালিকা প্রকাশ করেছে  যার মধ্যে প্রথমে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির বাতাসের মানের স্কোর ১৭৪। বাতাসের এই মান নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, আজ বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ নগরীর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৬তম স্থানে। ঢাকার বাতাসের মানের স্কোর ৮১। এই মান স্বাস্থ্যের জন্য ‘সহনীয়’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আইকিউএয়ারের তথ্য বলছে, দূষিত বাতাসের তালিকার শীর্ষ ২ নম্বরে আছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের দোহা। শহরটির বাতাসের মানের স্কোর ১৫৮। বাতাসের এই মানও নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বায়ুদূষণে শীর্ষ ৩ নম্বরে আছে মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর কিনশাসা। ১৪৪ স্কোর নিয়ে শহরটির বাতাস আজ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর নাগরিকদের জন্য অস্বাস্থ্যকর।

আইকিউএয়ার স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা আইকিউএয়ার ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। সাধারণত একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে। যেমন—বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)। বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে থাকে। এটা সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ খুবই ক্ষতিকর।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) মতে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

বায়ুদূষণে প্রধানত স্ট্রোক, হৃদ্‌রোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ে।

 




গাজা ফ্লোটিলায় যোগ দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় শহিদুল আলম

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম। তার এই সাহসী পদক্ষেপকে ভূয়সী প্রশংসা করেছে ঢাকার ফিলিস্তিনি দূতাবাস। দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, ন্যায়বিচার ও মানবতার পক্ষে নির্ভীক কণ্ঠস্বর হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত শহিদুল আলমকে তারা গর্বের সাথে ধন্যবাদ জানায়। তিনি গাজা মুক্তির এই ঐতিহাসিক অভিযানে অংশ নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার শুক্রাবাদে দৃকপাঠ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল আলম জানান, গাজা উপত্যকায় চলমান নৃশংসতার বিরুদ্ধে নীরবতা ভাঙতে তিনি ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের উদ্যোগে পরিচালিত ‘মিডিয়া ফ্লোটিলা’ অভিযানে যোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে গণহত্যা চলছে। ইসরায়েল ও আমেরিকা মিলে গাজায় মানুষ হত্যা করছে। পাশ্চাত্যের অনেক দেশও এতে সহযোগিতা করছে। যদি আমরা এই সংগ্রামে পরাজিত হই, তবে মানবতা নিজেই পরাজিত হবে।”

ঘোষণার পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি ইতালির উদ্দেশে রওনা হন এবং ৩০ সেপ্টেম্বর ইতালির ওট্রান্টো থেকে ফ্লোটিলার সবচেয়ে বড় জাহাজ ‘কনসায়েন্স’-এ যোগ দেন। যোগ দেওয়ার পর তিনি জানান, “আমি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গাজায় যাচ্ছি, তবে দেশের সকল মানুষের ভালোবাসা আমার সঙ্গে আছে।”

আয়োজকরা জানিয়েছেন, নৌবহর ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের ঘোষিত বিপৎসীমায় প্রবেশ করেছে, যা গাজার উপকূল থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার দূরে। আগেরবারের মতো এবারও ইসরায়েল তাদের আটকাতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী ফ্লোটিলা আটকের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শত শত মানবাধিকারকর্মীকে আটক করে নির্বাসিত করা কিংবা কিছু জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার মতো আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।

এই অভিযানের সময়কাল ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রতম দিন ‘ইয়ম কিপ্পুর’-এর সঙ্গে মিলে যাওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মীরা এই অভিযানের সফলতা কামনা করছেন। অনেকের মতে, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর এই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে কেবল ফিলিস্তিন নয়, মানবতার সংগ্রামও বড় ধাক্কা খাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: তারেক রহমান

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বুধবার (১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় উৎসবগুলো যুগ যুগ ধরে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশে উদযাপিত হয়ে আসছে। এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে সবার সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এটাই আমাদের বিশ্বাস। নাগরিক নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে নিরাপদে উৎসব পালন করতে পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, পবিত্র হাদিসেও অমুসলিমসহ নিরাপত্তাপ্রাপ্ত নাগরিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই সমাজে উৎপীড়ন, প্রতিহিংসা ও কুশাসন রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি নেতা আশা প্রকাশ করেন, শারদীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে এবং এটি দেশে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ইট-বালু দিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংস্কার, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হওয়া খানাখন্দ ও অসংখ্য গর্ত ইটের সুরকি আর বালু দিয়ে ভরাট করে সংস্কার করা হচ্ছে। এতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ধুলাবালিতে পরিণত হয়ে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর থেকে টরকী বন্দর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, পিচ-পাথরের পরিবর্তে ইট ও বালু দিয়ে গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। যানবাহনের চাপে এসব ইট-বালু ধুলায় রূপান্তরিত হয়ে আশপাশের দোকানপাট, বাসস্ট্যান্ড ও পথচারীদের জন্য দুর্ভোগ তৈরি করছে।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে ভারি বর্ষণে বাটাজোর, বাইচখোলা, মাহিলাড়া, বেজহার, কাসেমাবাদ, আশোকাঠী, গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড, মদিনাস্ট্যান্ড ও টরকী বন্দর এলাকার রাস্তায় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়। কিন্তু মৌসুম শেষে পিচ-পাথর ব্যবহার না করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ইটের সুরকি আর বালু দিয়ে কাজ চালাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ধুলার কারণে দোকানে গ্রাহক টিকে না। এমনকি ছোট যানবাহনের চালক ও পথচারীরা নাক-মুখ রুমাল বা মাস্ক দিয়ে ঢেকে চলাচল করছেন। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে জনগুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কে টেকসই সংস্কার করে পিচ-পাথর ব্যবহার করতে হবে।

এ বিষয়ে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন খান জানান, সরবরাহকারীরা বর্তমানে প্রয়োজনীয় মালামাল দিতে পারছেন না। পাশাপাশি পূজার ছুটিতে সড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই তাৎক্ষণিকভাবে ইট-বালু দিয়ে গর্ত ভরাট করে চলাচল স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অদূর ভবিষ্যতেও আ.লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো সম্ভাবনা নেই: আইন উপদেষ্টা

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আগামী নির্বাচন বা অদূর ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগ–এর রাজনৈতিক কার্যক্রমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো সম্ভাবনা নেই। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বরিশালের শংকর মঠ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ইহার পূর্বে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন।

ড. আসিফ বলেন, “যখন কোনো দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়, তখন তা স্থায়ী নাকি অস্থায়ী—সেই প্রশ্ন থাকে। তবে বর্তমানে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়া হবে—এমন কোনো সম্ভাবনা আমি দেখছি না।” তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার পাওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকার ও উপদেষ্টারা ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন চায়। প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলছেন,আগামী ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। নির্বাচন ছাড়া আমাদেরও দায়িত্বে থাকার ইচ্ছা নেই।”

ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর নানা সংস্কার করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সহমত দাবি করছেন,কারণ সংবিধান পরিবর্তনে অংশগ্রহণ নীতিগতভাবে প্রয়োজন। সাধারণ সংস্কারগুলো ইতোমধ্যেই করা হয়েছে এবং করা হচ্ছে, যোগ করেন তিনি।

পাহাড় অঞ্চলের সহিংসতা প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, তিনি বিষয়টিতে ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ এখতিয়ার দাবি করতে চান না; তবুও সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চান “মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ সব ধর্মের মানুষের সমন্বয়ে বাংলাদেশ। যারা শান্তি ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, দেশের সনাতন ধর্মাবলംബীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করছেন। “অপশক্তি ষড়যন্ত্র করলেও সরকার সতর্ক ছিল এবং পাহাড়কে অশান্ত করতে যারা তৎপর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” তিনি বলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫