বরিশালে রেস্তোরাঁ বাড়ছে, নিরাপত্তায় বড় ঘাটতি

বরিশাল নগরীতে দ্রুত বাড়ছে রেস্তোরাঁর সংখ্যা, তবে নিরাপদ খাদ্য ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় রয়েছে উদ্বেগজনক ঘাটতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নগরীতে হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ চালু থাকলেও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তালিকায় স্থান পেয়েছে মাত্র ৩২টি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে উঠছে নতুন নতুন খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ। এর বেশিরভাগই প্রয়োজনীয় অনুমোদন, স্বাস্থ্যবিধি এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নগরীর সদর রোড এলাকার একটি বহুতল ভবনের ওপরের তলায় অবস্থিত দুটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখা যায়, বড় পরিসরে ব্যবসা পরিচালিত হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্র অত্যন্ত দুর্বল। প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় রয়েছে মাত্র কয়েকটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি। এমনকি একটি প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র অন্য নামে থাকলেও সাইনবোর্ড ভিন্ন নামে প্রদর্শন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এক রেস্তোরাঁ মালিক জানান, প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে এবং শিগগিরই সব কাগজপত্র সংগ্রহ করা হবে।

একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে নগরীর আরেকটি পরিচিত রেস্তোরাঁয়, যেখানে ছাদে ওঠার পথ অত্যন্ত সরু, যা জরুরি পরিস্থিতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, নিবন্ধিত রেস্তোরাঁর সংখ্যা ৫৫৫টি হলেও বাস্তবে এই সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অথচ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মান যাচাই বা গ্রেডিংয়ের আওতায় এসেছে মাত্র ৩২টি প্রতিষ্ঠান, যা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অসঙ্গতির ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির স্থানীয় এক নেতা জানান, আগে রেস্তোরাঁ চালুর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মানা হতো। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই সেসব নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা গোলাম রাব্বি বলেন, ধাপে ধাপে সব প্রতিষ্ঠানকে গ্রেডিংয়ের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে এবং নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জানিয়েছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম ভঙ্গ করলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোও জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিবন্ধিত রেস্তোরাঁগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বরিশালে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

বরিশালে হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এতে করে চলতি সময়ে বিভাগজুড়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে, যা জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) পরিচালকের কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

মৃত দুই শিশুর মধ্যে রয়েছে বরগুনার তালতলী উপজেলার নাইমের ছেলে আবদুল্লাহ (১৩ মাস) এবং বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সালাউদ্দিনের মেয়ে হুজাইফা (৪ মাস)। তারা উভয়েই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মৃত্যুবরণ করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় একই হাসপাতালে নতুন করে আরও ৫৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩১ জন। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৩ জনে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২২ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে এখন পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ২ হাজার ৪১৬ জন রোগী। এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে এই রোগের বিস্তার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, মার্চ মাসে হাম উপসর্গে রোগীর সংখ্যা যে হারে বেড়েছিল, বর্তমানে তা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি সংক্রামক রোগ হওয়ায় দ্রুত টিকাদান এবং সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




 কুড়িয়ে পাওয়া আম খাওয়ায় শিশুকে মারধরের অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় কুড়িয়ে পাওয়া আম খাওয়াকে কেন্দ্র করে এক স্কুলছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাউরগাতী গ্রামের পূর্ব বাউরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র বায়েজিদ খান (১০) সোমবার দুপুরে স্কুল মাঠে একটি কুড়িয়ে পাওয়া আম খাচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় ব্যক্তি আসাদুজ্জামান আবুল মীরা তার গাছের আম পেড়ে খাওয়ার অভিযোগ তুলে শিশুটিকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির পরিবার।

আহত বায়েজিদের বাবা জাকির খান জানান, তার ছেলে কোনো গাছ থেকে আম পাড়েনি; বরং মাঠে পড়ে থাকা একটি আম কুড়িয়ে খাচ্ছিল। এ সময় তাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়, ফলে সে আহত হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সোমবার দিবাগত রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান আবুল মীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, স্কুলের কয়েকজন ছাত্র আম খাওয়ার বিষয়টি তাকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বায়েজিদকে ধরে শিক্ষকদের কাছে নিয়ে যান। এ সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে শিশুটির গায়ে সামান্য আঁচড় লাগে, তবে কোনো মারধর করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশুর প্রতি এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




কানে লুকানো ইয়াবা, ৯ দিন পর অস্ত্রোপচার

পুলিশের তল্লাশি এড়াতে কানের ভেতরে ইয়াবা ট্যাবলেট লুকিয়ে এক তরুণকে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। টানা ৯ দিন কানের ভেতরে মাদকদ্রব্য রেখে তীব্র যন্ত্রণায় ভোগার পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার কান থেকে দুটি ইয়াবা ট্যাবলেট বের করা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীতে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক জানান, রোগীর কানের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশি বস্তু থাকার কারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল, যা দ্রুত অপসারণ না করলে স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি ছিল।

জানা গেছে, ওই তরুণ নিরব ইসলাম (১৯) কয়েকদিন আগে মাদকসহ চলাচলের সময় হঠাৎ পুলিশ তল্লাশির খবর পান। তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়ার ভয়ে তিনি সঙ্গে থাকা ইয়াবা ট্যাবলেট দুটি কানের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলেন। পরে বাড়িতে গিয়ে বারবার চেষ্টা করেও সেগুলো বের করতে ব্যর্থ হন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমদিকে বিষয়টি গোপন রাখা হলেও ধীরে ধীরে কানে তীব্র ব্যথা, পানি পড়া এবং অস্বস্তি বাড়তে থাকে। পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক কানের ভেতরে দুটি ট্যাবলেট আটকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো অপসারণ করা হয়। বর্তমানে তরুণটি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

চিকিৎসকদের মতে, কানের মতো সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের বস্তু প্রবেশ করানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে, এমনকি গুরুতর সংক্রমণও হতে পারে।

এ ঘটনায় চিকিৎসকরা মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বাড়ির আঙিনায় গোপন গাঁজা বাগান, আটক যুবক

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় একটি বসতবাড়ির আঙিনায় গোপনে গাঁজা চাষের ঘটনা উদঘাটন করেছে পুলিশ। সাজানো টবের মধ্যে বিভিন্ন গাছের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ১৩টি গাঁজা গাছ, যা দেখতে সাধারণ উদ্ভিদের মতো হলেও ভেতরে চলছিল মাদক উৎপাদনের কার্যক্রম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের চরখাগকাটা গ্রামের একটি বাড়িতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে পরিচালিত ওই অভিযানে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শামীম রাঢ়ীর বাড়ি থেকে টবে লাগানো ১৩টি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়।

এসময় ঘরের ভেতর থেকে প্রায় ৫০০ গ্রাম গাঁজা এবং বিক্রির নগদ ১৩০০ টাকাও জব্দ করা হয়। অভিযানকালে শামীম রাঢ়ী (৩০) নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তিনি স্থানীয় সফিজুল রাঢ়ীর ছেলে বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নিজ বাড়ির আঙিনায় টবের মধ্যে গাঁজা চাষ করে তা বিক্রির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করতেন।

মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




২ কিমি সড়ক ভেঙে বিপর্যস্ত জনজীবন

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রাংতা থেকে চেংগুটিয়া পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রামীণ সড়কটি এখন খানাখন্দ, কাদা ও জলাবদ্ধতায় ভরে গেছে, ফলে স্বাভাবিক যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বেশিরভাগ অংশের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও পানি জমে আছে, আবার কোথাও কাদার স্তূপে ঢেকে গেছে পুরো রাস্তা। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠে, তখন এই সড়ক দিয়ে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের এমন অবস্থার কারণে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান প্রায়ই গর্তে পড়ে উল্টে যাচ্ছে, এতে যাত্রীরা আহত হচ্ছেন এবং চালকরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

চেংগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন তালুকদার জানান, এই সড়কটি দিয়ে অন্তত পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। বর্ষা এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তখন অনেকেই কাদা মাড়িয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে বাজারে গিয়ে তবেই যানবাহনে উঠতে পারেন।

ইজিবাইক চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, সড়কের খানাখন্দ ও কাদার কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ বারবার নষ্ট হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। পাশাপাশি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির অবৈধভাবে পুকুর খননের কারণে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এলাকার আরেক বাসিন্দা রুহুল আমিন আকন্দ দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়ে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়কটির অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী সময়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় এটি অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত সংস্কার না হলে এই সড়কটি স্থায়ীভাবে জনদুর্ভোগের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




দুই মাসের ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ শুরু বরিশালে

বরিশাল নগরীকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে দুই মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। মে ও জুন মাসকে ‘পরিচ্ছন্নতার মাস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যার আওতায় নগরজুড়ে খাল পরিষ্কার, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর নথুল্লাবাদ সংলগ্ন জিয়া সড়ক এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খাল পরিষ্কার কার্যক্রমের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও শুরু করা হয়, যা নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন জানান, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নদী, খাল ও জলাধার সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল নগরীর অভ্যন্তরে থাকা সব খাল পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুই মাসব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে খালগুলোর ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে খনন, পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং নগরবাসী একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাবে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নিয়মিতভাবে পরিচালিত হলে বরিশালকে একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




 জাটকা অভিযানে যাওয়ার পথে হামলা, ৩ মৎস্যকর্মী আহত

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় জাটকা সংরক্ষণ অভিযানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মৎস্য অধিদপ্তরের তিন কর্মচারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তারা আহত হন এবং তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে উপজেলার পুরাতন স্টিমার ঘাট সংলগ্ন বালুমহাল স্টেডিয়াম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

আহতরা হলেন—মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট নাজিম উদ্দিন, মো. শামীম ও সিয়াম হোসেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত নাজিম উদ্দিন জানান, রাতে নদীতে জাটকা বিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য একটি দল স্টিমারঘাট এলাকায় অবস্থান করছিল। তারা তিনজন মোটরসাইকেলে করে ওই দলে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পথে বালুমহাল স্টেডিয়াম এলাকায় পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, “পরে মোটরসাইকেল থামালে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়।”

নাজিম উদ্দিন দাবি করেন, স্থানীয় কয়েকজনের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়েছে এবং তিনি কয়েকজন হামলাকারীকে শনাক্ত করতে পেরেছেন।

তবে অভিযুক্ত স্থানীয়রা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাদের ওপর হামলা হয়েছে এবং মৎস্য বিভাগের কর্মীরাই আগে জেলেদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন।

এ বিষয়ে মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমিন উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, তবে হামলাকারীরা আগেই পালিয়ে যায়। ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে একই পক্ষের বিরুদ্ধে। তখন তিনটি স্পিডবোটের পাওয়ার ক্যাবল কেটে দেওয়ায় প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছিল।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়িয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বাবুগঞ্জে আগুনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০ ঘর ভস্মীভূত

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০টি সেমিপাকা ঘর পুড়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের মুশুরিয়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, সারিবদ্ধভাবে নির্মিত ঘরগুলোর একটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

বরিশাল দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার চন্দ্র শেখর গাইন জানান, রামমোহনের ঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় একাধিক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আশপাশের আরও ঘর বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।

অগ্নিকাণ্ডে রামমোহন, সুধীর দাস, অশোক দাস, সাধন, গোলাপি, কালাম মোল্লা, মনির হোসেনসহ মোট ১০টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে আগুনের মধ্য থেকে আনুমানিক ৩০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে মোট ৭০টি ঘর রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি ঘর ছাড়া অন্য সব ঘর নিরাপদ রয়েছে।

ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে পরবর্তী সহায়তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




 বরিশালে ঝটিকা মিছিল, শনাক্তে তৎপর পুলিশ

বরিশাল নগরীতে হঠাৎ করে একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় এ মিছিল দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে বরিশাল জেলা জজ আদালত চত্বরের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে কাকুলীর মোড় হয়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্স অতিক্রম করে বিদুর পুকুর পাড় ফোয়ারা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলটি স্বল্প সময় স্থায়ী হলেও এতে অংশগ্রহণকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

জানা গেছে, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন এই মিছিলে অংশ নেন। তারা বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন এবং কিছু সময় অবস্থান করার পর দ্রুত আশপাশের গলিতে ছড়িয়ে পড়েন।

এদিকে, মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, “মিছিলের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

ঘটনার পর নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”