বরিশালে এনআইডি কার্ডে অসংগতি, নারীসহ চারজন থানায়

বরিশাল নগরীতে এক নারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)–এ অসংগতি ও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় পুলিশ নারীসহ চারজনকে হেফাজতে নিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর ফরেস্টার বাড়ির পুল মানু মিয়ার লেন এলাকায়।
পুলিশ জানায়, বারেক মজুমদারের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ওই নারী ও আরও তিনজনকে হেফাজতে নেয়া হয়।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মিরাজুর ইসলাম জানান, এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি বলেন, “লোকমুখে শোনা যাচ্ছে নারীটি ভারতীয় নাগরিক বা রোহিঙ্গা হতে পারেন। তবে তার এনআইডিতে তথ্য ঠিক থাকলেও ছবিটি সন্দেহজনক। এছাড়া তার কথাবার্তায়ও অসংগতি রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে নারীসহ চারজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।”

হেফাজতে নেওয়া নারী রিতা বালা দাবি করেন, তিনি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বাসিন্দা।
তার ভাষায়, “আমি চিকিৎসার জন্য বরিশালে এসেছি। আমার ভাই আমাকে মকবুলের মেয়ের বাসায় রেখে গেছে। আমি বাংলাদেশি নাগরিক।”

অন্যদিকে আশ্রয়দাতা মকবুল হোসেন জানান, “আমার হোটেলে এক ব্যক্তি রিতাকে নিয়ে আসত। থাকার জায়গা না থাকায় মানবিক কারণে মেয়ের বাসায় থাকতে দিয়েছি। তার আসল পরিচয় আমি জানি না।”

এ ঘটনায় এনআইডির তথ্য যাচাই ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে পুলিশ আরও তদন্ত চালাচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পবিপ্রবিতে পর্দানশীল নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘পর্দা কর্নার’ উদ্বোধন

ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক শালীনতা ও নারীর মর্যাদা রক্ষার এক অনন্য উদ্যোগ হিসেবে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় উদ্বোধন করা হয়েছে ‘পর্দা কর্নার’। পর্দানশীল নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ এই অংশটি তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পর্দা কর্নার’-এর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন, লাইব্রেরিয়ান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুজাহাঙ্গীর কবির সরকার, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. জামাল হোসেন, পরিচালক (শরীরচর্চা) ড. মো. আমিনুল ইসলাম টিটো, ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবুবকর সিদ্দিক, সহকারী প্রক্টর ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেনসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাতুল ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি জানান, নারী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থী আফিয়া আক্তার বলেন,

“আগে ছেলেদের ভিড়ে ক্যাফেটেরিয়ায় ঢোকা বা খাওয়া অস্বস্তিকর ছিল। এখন আমরা নির্বিঘ্নে, আরামদায়কভাবে বসে খাবার গ্রহণ করতে পারব, একই সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধও রক্ষা হবে।”

রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন বলেন,

“শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এই উদ্যোগ সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেবে।”

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন,

“আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় তখনই উন্নত হয়, যখন সেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান থাকে। এই ‘পর্দা কর্নার’ তারই প্রতীক।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন,

“পবিপ্রবি কেবল জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, এটি নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের এক আলোকিত অঙ্গন। ইসলামে নারীর মর্যাদা সর্বোচ্চ। আজকের এই ‘পর্দা কর্নার’ সেই মর্যাদার প্রতিফলন। পর্দানশীল নারী শিক্ষার্থীরা এখন নিশ্চিন্তে, আরামদায়কভাবে খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। আমি এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর এমন মানবিক উদ্যোগে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশংসার জোয়ার বইছে।
অনেকের মতে—এটি শুধু একটি ‘কর্নার’ নয়, বরং নৈতিকতা, শালীনতা ও বিশ্বাসের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক নতুন সামাজিক সংস্কৃতির সূচনা।
সবাই আশা করছেন, ইসলামী শালীনতা, নারীর মর্যাদা ও আধুনিক শিক্ষার সেতুবন্ধন তৈরি করা এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে উঠবে।


আল-আমিন

 




সকালে খালি পেটে অ্যাপল সিডার ভিনেগার পান করার উপকারিতা ও সতর্কতা

বর্তমান সময়ের স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে অ্যাপল সিডার ভিনেগার (Apple Cider Vinegar) অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উপাদান। শুধু রান্নার স্বাদ বৃদ্ধি করে না, বরং শরীরের বিপাক, হজম এবং পুষ্টি শোষণেও সাহায্য করে। বিশেষ করে খালি পেটে নিয়মিত এটি পান করলে স্বাস্থ্য উপকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়।

খালি পেটে অ্যাপল সিডার ভিনেগার পান করার উপকারিতা

১. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
অ্যাপল সিডার ভিনেগারে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড শরীরে কার্বোহাইড্রেট ভাঙার গতি কমিয়ে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে।

২. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
এটি ক্ষুধা কমায়, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। নিয়মিত পান করলে ওজন কমানো এবং বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে সহায়তা করে।

৩. হজমশক্তি বাড়ায়
অ্যাপল সিডার ভিনেগার পেটের অ্যাসিড নিঃসরণে সহায়তা করে, যা খাবার ভালোভাবে ভাঙতে সাহায্য করে। এতে খাবারের পর পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি কমে। পাশাপাশি অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রেখে সামগ্রিক হজম স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৪. কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
নিয়মিত পান করলে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমে। এটি হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখে এবং রক্তনালির সুরক্ষা বাড়ায়।

৫. ত্বকের জন্য উপকারী
এর প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। খালি পেটে এটি পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়, ফলে ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ থাকে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

  • দাঁতের এনামেল ক্ষয়
  • বুক জ্বালা বা পেটের অস্বস্তি
  • গলায় জ্বালা

কিছু ওষুধের (যেমন ইনসুলিন, মূত্রবর্ধক বা হার্টের ওষুধ) সঙ্গে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পরামর্শ: খালি পেটে ১–২ চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার পানি বা লবণমুক্ত জুসের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াই নিরাপদ। অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করবেন না।

 

আল-আমিন

 




দুই যুগ ধরে স্থবির বরিশালের কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন

প্রায় দুই যুগ ধরে বরিশালের সরকারি কলেজগুলোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না ছাত্র সংসদ (ছাত্র প্রতিনিধি পরিষদ) নির্বাচন। ফলে ছাত্রদের নেতৃত্ব বিকাশ, অধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাজারো শিক্ষার্থী।

কলেজ প্রশাসন ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ২০০০ সালের পর থেকে বরিশালের কোনো সরকারি কলেজেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্র রাজনীতির ইতিবাচক কার্যক্রমও হারিয়ে গেছে। এতে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সুযোগ পাচ্ছে না।

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ অন্যান্য কলেজেও একই চিত্র। শিক্ষার্থীরা জানান, নিয়মিত শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ পাওয়ার অন্যতম ক্ষেত্র ছিল এই ছাত্র সংসদ। কিন্তু বছরের পর বছর নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের সংস্কৃতি বিলুপ্তির পথে।

একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “কলেজ প্রশাসন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতার কারণেই আমরা দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক চর্চা থেকে বঞ্চিত। অথচ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিতভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়।”

বিএম কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, “ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। আমরা বারবার আবেদন করেছি, কিন্তু সিদ্ধান্ত আসে না।”

শিক্ষাবিদদের মতে, ছাত্রদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ও দায়িত্ববোধ তৈরির জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নেই। তাই দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বরিশাল নগরীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই গরু জবাই, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

বরিশাল নগরীতে গরু জবাইয়ের আগে কোনো ধরনের ভেটেরিনারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই মাংস বিক্রি হচ্ছে— এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। ফলে নগরবাসী পড়েছেন সরাসরি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

জানা গেছে, নগরীতে নির্দিষ্ট কোনো কসাইখানা নেই। ফলে বাজারের রাস্তায়, খোলা জায়গায় কিংবা সড়কের ধারে গরু জবাই দিয়ে মাংস বিক্রি হচ্ছে। কসাইরা নিজেরাই ইচ্ছেমতো পশু জবাই করছেন, কোনো সরকারি অনুমোদন বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই।

সম্প্রতি রংপুরে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী ও অসুস্থ গরুর মাংসে অ্যানথ্রাক্স শনাক্তের পর বরিশালের মানুষদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। স্থানীয়দের প্রশ্ন— “গরু জবাইয়ের আগে পশুচিকিৎসক কেন পরীক্ষা করেন না? কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই তখন কেন সচেতনতার কথা বলা হয়?”

কসাইদের বক্তব্য:
পোর্ট রোড বাজারের প্রবীণ কসাই মো. জালাল বলেন, “৫০ বছর ধরে কসাইয়ের কাজ করছি। আগে গরু জবাইয়ের আগে ভেটেরিনারি সার্জনরা শরীরে সিল দিতেন। এখন অনেক বছর হলো কেউ আসে না।”
তিনি আরও জানান, “আগে নগরীতে একটি কসাইখানা ছিল, এখন সেটিও বন্ধ। প্রতিদিন ২০-২২টি গরু জবাই দেওয়া হয়, কিন্তু কোনো পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই।”

স্বাস্থ্য বিভাগের অবহেলা:
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক এক স্বাস্থ্য পরিদর্শক জানান, “নতুন বাজার এলাকায় একটি স্লটার হাউস আছে, তবে সেটি ব্যবহার অনুপযোগী। ভেটেরিনারি সার্জন আছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি কখনো জবাইয়ের আগে বা পরে বাজার পরিদর্শনে যান কিনা সন্দেহ রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নথুল্লাবাদ, নতুন বাজার, পোর্ট রোড, বটতলা, সাগরদীসহ বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিন গরু জবাই হয়। অধিকাংশ স্থানে পরিবেশ একেবারেই অস্বাস্থ্যকর।”

স্থানীয়দের অভিযোগ:
নগরবাসী জাকির হোসেন ও গোলাম রাব্বানী বলেন, “আমরা জানিই না গরু রোগাক্রান্ত কিনা, না মহিষ জবাই দেওয়া হয়েছে কিনা। কসাইয়ের কথায় ভরসা করে মাংস কিনতে হয়।”

সিটি করপোরেশনের স্বীকারোক্তি:
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, “নগরীতে কোনো কসাইখানা নেই, তাই জবাইয়ের আগে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি আগের মেয়র ও বর্তমান প্রশাসককেও জানিয়েছি। কসাইখানা নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু বাজেট না থাকায় পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যানথ্রাক্স, ব্রুসেলোসিস, স্যালমোনেলাসহ প্রাণীজ রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে গরু জবাইয়ের আগে বাধ্যতামূলকভাবে পশু পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ফুসফুস সুস্থ রাখার ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ফুসফুস আমাদের দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রতিদিন আমরা হাজার হাজার বার শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে অক্সিজেন গ্রহণ করি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত করি। ফুসফুস সুস্থ না থাকলে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা, দুর্বল শরীর এবং বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস, পরিবেশ ও কিছু রোগ ফুসফুসকে অজান্তেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

১. ধূমপান:
ধূমপান ফুসফুসের সবচেয়ে বড় শত্রু। সিগারেট বা হুক্কার ধোঁয়ায় থাকা টার, রাসায়নিক ও বিষাক্ত পদার্থ ফুসফুসের টিস্যুতে জমে প্রদাহ সৃষ্টি করে। দীর্ঘমেয়াদি ধূমপান শ্বাসকষ্ট, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস এবং ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। পরোক্ষ ধূমপানও সমানভাবে ক্ষতিকর।

২. দূষিত বাতাস:
শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণ দিনে দিনে ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ধুলা, ধোঁয়া, কার্বন মনোক্সাইড ও সূক্ষ্ম কণার কারণে ফুসফুসের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে থাকা হাঁপানি, সিওপিডি (COPD) ও অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত রোগ ডেকে আনতে পারে।

৩. সংক্রমণ:
নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ব্রঙ্কাইটিস এবং ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের রোগ সরাসরি ফুসফুসকে প্রভাবিত করে। চিকিৎসা না করলে এগুলো স্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। শিশু, বয়স্ক ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।

৪. অ্যালার্জি ও অ্যাজমা:
ধুলা, পোলেন, পশুর লোম বা নির্দিষ্ট খাবারের কারণে অ্যালার্জি হলে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের প্রদাহ দেখা দেয়। অ্যাজমা রোগীদের ফুসফুসের নালীগুলো অতিসংবেদনশীল হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস দুর্বল করে।

৫. পেশাগত ঝুঁকি:
কারখানা, নির্মাণস্থল বা খনিতে কাজ করা শ্রমিকরা নিয়মিত ধুলা, রাসায়নিক ধোঁয়া বা অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শে থাকেন। এতে ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

৬. শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা:
শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মতো ফুসফুসও ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ থাকে। অলস জীবনযাপন বা শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে ফুসফুস দুর্বল হয়ে যায়। নিয়মিত ব্যায়াম ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৭. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:
ভাজা খাবার, জাঙ্ক ফুড বা প্রিজারভেটিভসমৃদ্ধ খাবার শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি করে, যা শ্বাসনালীতেও প্রভাব ফেলে। ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসকে সংক্রমণ ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

ফুসফুস সুস্থ রাখার পরামর্শ:

  • ধূমপান থেকে বিরত থাকুন
  • বাইরে থাকলে মাস্ক ব্যবহার করুন
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

ফুসফুসের ক্ষতি ধীরে ধীরে হয় এবং প্রথম দিকে টের পাওয়া যায় না। সচেতনতা, সঠিক অভ্যাস এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ফুসফুসকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানালেন ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে জয়

দেশের এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে তার একমাত্র ছেলে মিরাজুল মইন জয় দেশবাসীকে এসব ভুয়া তথ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদের মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জয় বলেন, “আমার বাবা বর্তমানে অসুস্থ এবং নিয়মিত চিকিৎসাধীন আছেন। তার চিকিৎসা চলছে ঠিকভাবে। কেউ দয়া করে কোনো গুজবে কান দেবেন না। আমি দেশবাসীর কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা আমার বাবার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।”

তিনি আরও জানান, বাবার অসুস্থতার খবর প্রকাশের পর থেকে দেশ-বিদেশে নিসচার সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষ যে আন্তরিকভাবে দোয়া করছেন, বিশেষ করে আজ শুক্রবার বিভিন্ন স্থানে জুমার নামাজের পর দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন, তাতে পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।

এ সময় জয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুঃখজনকভাবে কিছু ইউটিউবার ও ফেসবুক ব্যবহারকারী সামান্য ভিউয়ের আশায় মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রকাশ করছেন। এতে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে এবং আমার বাবার ভক্তরা মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছেন। আমরা এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।”

শেষে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যদি কারও কোনো তথ্য জানার প্রয়োজন হয়, তাহলে তারা নিসচার কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। অনুগ্রহ করে গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না।”

 

আল-আমিন

 




কোরিয়ার জালে ব্রাজিলের গোল বন্যা

দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে যেন ব্রাজিল ফুটবলের এক উৎসবই হয়ে গেল। বহুদিন পর সেই পুরনো নান্দনিক ফুটবলে ফিরেছে সেলেসাওরা। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সিউলের ওয়ার্ল্ড কাপ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিল ৫-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।

কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে খেলতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ব্রাজিল। ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় দল। ব্রুনো গুইমারেসের নিখুঁত পাস থেকে গোল করেন তরুণ প্রতিভা এস্তেভাও উইলিয়ান। ৪০ মিনিটে রদ্রিগোর অসাধারণ দূরপাল্লার শটে ব্যবধান বাড়ায় ব্রাজিল। ক্যাসেমিরো ও ভিনিসিউসের সঙ্গে চমৎকার সমন্বয়ে তৈরি হয় গোলটি।

বিরতির পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল পায় সেলেসাওরা। ৪৭ মিনিটে এস্তেভাও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কোরিয়ান ডিফেন্ডারের ভুলে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে। আর ৪৯ মিনিটে ভিনিসিউসের দারুণ পাস থেকে রদ্রিগো পান তার দ্বিতীয় গোলের দেখা।

শেষ দিকে ৭৭ মিনিটে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ব্রাজিলের হয়ে পঞ্চম গোলটি করেন ভিনিসিউস জুনিয়র। ম্যাথুস কুনহার লম্বা পাসে ছুটে গিয়ে কোরিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করে তিনি এই গোলটি করেন।

এই ৫-০ ব্যবধানের জয় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল ২০২২ সালে ৫-১ ব্যবধানে।

বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে এই জয় নিঃসন্দেহে ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে। এশিয়া সফরে ব্রাজিলের এটি ছিল প্রথম ম্যাচ। সামনে ১৪ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের বিপক্ষে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগ নেতা ছোবাহান আকন গ্রেপ্তার

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান-ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ছোবাহান আকন (৫২) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) গভীর রাতে বেরপাশা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম জানান, ছোবাহান আকনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনের একাধিক মামলা রয়েছে। ওই মামলাগুলোর একটি মামলার বাদী মহিলা দলের নেত্রী শারমীন লেলিন মুক্তা। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি তিনি এলাকায় ফিরে আসেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন ছোবাহান আকন। এর পর থেকে তিনি এলাকায় বিভিন্ন সময় গোপনে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ছোবাহান আকনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, অস্ত্রের মহড়া এবং হয়রানির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরাও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে জানা গেছে।

তার দুই ছেলে নুহু আকন ও শাহিন আকনের বিরুদ্ধে ঢাকার বাড্ডা থানায় জাল টাকা মামলায় অভিযোগ রয়েছে। আরেক ছেলে সিফাত আকনের নাম রয়েছে মাদক মামলায়।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত ছোবাহান আকনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। শনিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা: ভোলায় ছয় দিনে ২২ জেলের কারাদণ্ড

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে ২২ দিনের বিশেষ অভিযান। মা ইলিশ রক্ষায় পরিচালিত এই অভিযানে গত ছয় দিনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ২২ জেলেকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভোলা জেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত ছয় দিনে জেলায় ১২২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরার অপরাধে ২৪ জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ৪৪ মেট্রিক টন ইলিশ ও এক লাখ চার হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।

প্রতিদিন জেলার সাতটি উপজেলায় মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে আটটি বিশেষ টিম সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নদীতে অভিযান পরিচালনা করছে।

সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ভূঁইয়া জানান, মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার রাতে দুইটি পৃথক অভিযানে পাঁচ হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে।

গত ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে মা ইলিশ ধরা, বিক্রি, মজুদ ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫