পটুয়াখালী জুড়ে অনুমোদনহীন ক্লিনিকের রাজত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে লাখো মানুষ

পটুয়াখালী জেলায় স্বাস্থ্যসেবার নামে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব। জেলায় দিন দিন গজিয়ে উঠছে অসংখ্য বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কিন্তু এর বড় একটি অংশই পরিচালিত হচ্ছে সরকারি অনুমোদন বা নবায়ন ছাড়াই। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ পড়ছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পটুয়াখালীতে বর্তমানে ২৪০টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৮১টির লাইসেন্স বৈধ। বাকি ১৫৯টি প্রতিষ্ঠান কোনো অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের অধিকাংশই সরকারি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রভাবশালী কর্মকর্তারা। সরকারি দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত ক্লিনিক চালিয়ে তারা গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ, বিলাসবহুল বাড়ি এবং অ্যাপার্টমেন্ট।

সরকারি হাসপাতালে রোগীরা গেলে, অনেক চিকিৎসক নানা অজুহাতে তাদের নিজেদের ক্লিনিকে পাঠান। সেখানে চিকিৎসা বা সিজার অপারেশনের নামে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

পটুয়াখালী পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় “পটুয়াখালী ইসলামী চক্ষু হাসপাতাল” নামের একটি প্রতিষ্ঠান কোনো অনুমোদন ছাড়াই তিন বছর ধরে চোখের অপারেশন করছে। মাসে ৩০ থেকে ৫০ জন রোগীর চোখের সার্জারি করা হয় বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া শহরের বাধঘাট এলাকায় অবস্থিত “পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এ এমবিবিএস চিকিৎসক না থাকলেও একজন ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী নারী রোগী দেখছেন, প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন এমনকি অ্যান্টিবায়োটিকও লিখছেন। ল্যাব টেকনিশিয়ান বা টেকনোলজিস্টও সেখানে স্থায়ীভাবে পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. সুমন বলেন, “আমরা ছোট পরিসরে ব্যবসা করছি। আত্মীয় এমবিবিএস পাশ করেছে, তাকে বসাবো শিগগিরই।”

গলাচিপা উপজেলা হাসপাতাল রোডে “নিউ লাইফ ক্লিনিক” নামের প্রতিষ্ঠানের ভবনের সামনে দুর্গন্ধযুক্ত নর্দমা সংলগ্ন পুকুর রয়েছে। পাশাপাশি এটির অনুমোদনের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে গত অর্থবছরে।

রোগী হামিদা বেগম বলেন, “বাধঘাটের পপুলার ডায়াগনস্টিকে রক্ত পরীক্ষা করাই, রিপোর্ট ভুল আসায় ঢাকায় গিয়ে দেখি সেটি ভুয়া। এতে আমি বিপাকে পড়েছি।”

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অনিয়ম পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুমোদনহীনভাবে রোগী ভর্তি বা চিকিৎসা আইন লঙ্ঘন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. খালিদুর রহমান মিয়া জানান, “আমরা ইতোমধ্যে চারটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ করেছি। বাকিগুলোর কাজ শেষ করেই অভিযানে নামবো। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

পটুয়াখালী জুড়ে এভাবে অনুমোদনবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বেপরোয়া কার্যক্রমের কারণে সাধারণ মানুষ আজ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে অভিযানের মাধ্যমে এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে স্বাস্থ্যসেবা খাত পুরোপুরি অরাজকতায় নেমে যেতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আপনার হোয়াটসঅ্যাপ সুরক্ষিত কি না যাচাই করার ৫টি সহজ উপায়

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ আদান প্রদান করছেন। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার না করা মানুষ কমই আছেন। তবে কি আপনি জানেন আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট কতটা নিরাপদ? কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কেউ আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে কি না, বা অন্য কোনো ডিভাইসের সঙ্গে এটি লিঙ্ক করা আছে কি না?

আপনার অ্যাকাউন্ট অন্য কারো হাতে গেলে ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি, ভিডিও বা কলের তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি। নিচে সহজ কিছু ধাপ দেওয়া হলো যেগুলো অনুসরণ করে আপনি নিজের হোয়াটসঅ্যাপ নিরাপদ কিনা তা যাচাই করতে পারেন—

১. লিঙ্কড ডিভাইস চেক করুন:
অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপে গিয়ে সেটিংসে যান। এরপর “লিঙ্কড ডিভাইস” অপশনে ক্লিক করুন। এখানে আপনি দেখতে পারবেন কোন ডিভাইস বা ব্রাউজার (যেমন: ক্রোম, এডজ, উইন্ডোজ) লগ ইন আছে কি না। কোনো অজানা ডিভাইস থাকলে তা সিলেক্ট করে লগ আউট করুন অথবা সব ডিভাইস থেকে একসাথে লগ আউট করতে পারেন।

২. হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব/ডেস্কটপ লগইন নোটিফিকেশন:
যদি কেউ হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েবের মাধ্যমে আপনার অ্যাকাউন্টে লগ ইন করে, তাহলে আপনার ফোনে একটি নোটিফিকেশন চলে আসবে। নিয়মিত ফোন চেক করে এই নোটিফিকেশন খেয়াল রাখুন।

৩. চ্যাট হিস্টোরিতে অজানা বার্তা:
আপনার চ্যাটে যদি এমন বার্তা আসে যা আপনি পাঠাননি, অথবা নতুন কোনো অজানা গ্রুপ তৈরি হয়েছে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে অন্য কেউ আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে।

৪. লাস্ট সিন মনিটর করুন:
আপনার পরিচিত বন্ধু বা আপনি নিজে অনলাইনে না থাকা সত্বেও যদি অ্যাকাউন্টে কার্যক্রম দেখা যায়, তাহলে এটি অন্য কারো ব্যবহার নির্দেশ করতে পারে।

৫. সিকিউরিটি কোড/এনক্রিপশন নোটিফিকেশন:
কেউ যদি আপনার এনক্রিপশন কোড পরিবর্তন করে, আপনি একটি নোটিফিকেশন পাবেন। এটি সক্রিয় করতে গেলে সেটিংস > অ্যাকাউন্ট > সিকিউরিটি > “শো সিকিউরিটি নোটিফিকেশনস” এনেবল করুন।

এই ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি সহজেই জানতে পারবেন, আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিরাপদ কিনা। সচেতন থাকা এবং নিয়মিত চেক করা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশে আইফোন ১৭ কেনার আগে সতর্কতা

অ্যাপলের সর্বশেষ আইফোন ১৭ সিরিজ আন্তর্জাতিক বাজারে অভাবনীয় সাড়া ফেলেছে। তবে বাংলাদেশে এখনো অফিসিয়ালি লঞ্চ হয়নি এই সিরিজ। অফিসিয়াল উদ্বোধন না হলেও রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, টোকিও স্কয়ার এবং শাহ আলী প্লাজার মতো শীর্ষ স্মার্টফোন মার্কেটে গ্রে ইমপোর্টের মাধ্যমে নতুন আইফোন ১৭ পাওয়া যাচ্ছে।

দাম স্বাভাবিকভাবেই তুলনামূলক বেশি। আইফোন ১৭ (২৫৬ জিবি) বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। আইফোন ১৭ প্রো কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর সর্বাধিক চাহিদার আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের দাম ২ লাখ টাকারও বেশি। রিসেলারদের মতে, সরবরাহ বাড়লে আগামী কয়েক সপ্তাহে দাম কমে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেমে আসতে পারে।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৩ লাখ আইফোন ব্যবহারকারী রয়েছেন, যা দেশের মোট স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর একটি বড় অংশ। বসুন্ধরা সিটিতে আইফোন ১৭ কিনতে আসা অঙ্কন আহমেদ বলেন, “আমি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় আইফোন ১৭ প্রো কিনেছি। দাম অনেক বেশি হলেও আর দেরি করতে চাইনি।” প্রযুক্তি কর্মী তাহমিদ মাহমুদ মনে করেন, “বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা অ্যাপলের প্রতি এতটাই অনুগত যে অফিসিয়াল সাপোর্ট না থাকলেও প্রিমিয়াম দামে কিনতে রাজি। তবে ভোক্তারা আসল অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”

গ্রে মার্কেট থেকে কেনা আইফোনে বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে। প্রথমত, কোনো অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি না থাকায় যেকোনো সমস্যায় অ্যাপলের সার্ভিস সেন্টারে যাওয়ার সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, রিফার্বিশড বা নকল সেট আসল মডেলের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। তৃতীয়ত, কিছু ডিভাইসে ভবিষ্যতে সফটওয়্যার আপডেট বা নেটওয়ার্ক–সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে। চতুর্থত, অফিসিয়াল সাপোর্ট না থাকায় রিপেয়ার বা পার্টস বদলাতে অতিরিক্ত খরচের সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া বিক্রয়োত্তর সেবা সীমিত হওয়ায় ভোক্তাদের পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় রিসেলারদের ওপর।

এমন ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বাজারে ক্রেতাদের উচ্ছ্বাস প্রমাণ করছে, অ্যাপল বাংলাদেশের ভোক্তাদের কাছে কতটা প্রভাব বিস্তার করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে চীন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ভারতে আইফোন ১৭ সিরিজ তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বিশেষ করে প্রো ম্যাক্স মডেল। বাংলাদেশেও গ্রে মার্কেটের উচ্চ বিক্রিই প্রমাণ করছে, দেশটি অ্যাপলের জন্য একটি বিশাল সম্ভাবনাময় বাজার।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফেসবুকে যুক্ত হচ্ছে ইনস্টাগ্রাম ধাঁচের নতুন ফিচার

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে বড় আপডেট আনছে মেটা। নতুন এই সংস্করণে ফেসবুক রিলস ফিডে আসছে ইনস্টাগ্রামের মতো “ফ্রেন্ড বাবলস”, উন্নত এআই-নির্ভর সাজেশন সিস্টেম, এবং আরও স্মার্ট কনটেন্ট সাজানোর সুবিধা।

মঙ্গলবার এক ঘোষণায় মেটা জানায়, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য ফেসবুককে আরও ব্যক্তিগত, প্রাণবন্ত ও ব্যবহারকারীবান্ধব করে তোলা। নতুন রিলস অ্যালগরিদমে এখন সাম্প্রতিক ও নতুন ভিডিওগুলোকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ফলে ব্যবহারকারীরা স্ক্রল করার সময় ৫০ শতাংশ বেশি নতুন রিলস দেখতে পাবেন।

মেটার ভাইস প্রেসিডেন্ট অব প্রোডাক্ট জগজিৎ চাওলা বলেন, “যদি কোনো ব্যবহারকারী এআই-তৈরি ভিডিও পছন্দ করেন, অ্যালগরিদম তা শিখে একই ধরনের কনটেন্ট বেশি দেখাবে। আবার কেউ যদি এসব কনটেন্ট পছন্দ না করেন, সিস্টেম তা শনাক্ত করে সেগুলো কম দেখাবে।”

এই আপডেটে যোগ হচ্ছে নতুন ‘Not Interested’ বোতাম, ভিডিও সেভ অপশন, এবং পার্সোনাল কালেকশন সাজানোর সুবিধা। ব্যবহারকারীরা এখন নিজের পছন্দমতো কনটেন্ট ফিল্টার ও সাজাতে পারবেন, শুধু অ্যালগরিদমের উপর নির্ভর করতে হবে না।

এছাড়া রিলস ফিড এখন “এই মুহূর্তে কী ঘটছে”—এই ধারণায় জোর দেবে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক ও সময়োপযোগী কনটেন্টই বেশি দেখা যাবে। টিকটকের মতো এখন ভিডিওর নিচে এআই-চালিত সার্চ সাজেশন দেখা যাবে, যেখানে ব্যবহারকারীর দেখা ভিডিওর ভিত্তিতে কীওয়ার্ড প্রস্তাব করা হবে, যা কনটেন্ট অনুসন্ধানকে আরও সহজ করে তুলবে।

চাওলা আরও বলেন, “আমরা চাই ফেসবুক আবার মানুষের সামাজিক নেটওয়ার্ক হয়ে উঠুক, যেখানে বন্ধুদের কার্যক্রম চোখে পড়বে।”

মেটার দাবি, এই নতুন প্রযুক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনারেটিভ এআইকে আরও গভীরভাবে যুক্ত করবে। এমনকি ওপেনএআইয়ের Sora বা Midjourney-এর মতো টুলে তৈরি ভিডিওগুলোও ফেসবুকের অ্যালগরিদমে মানুষের তৈরি ভিডিওর মতোই বিবেচিত হবে।

এছাড়া ফেসবুক জানিয়েছে, এখন তাদের এআই সিস্টেম নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াকেও (Negative Feedback) গুরুত্ব দেবে, যাতে ব্যবহারকারীরা দ্রুত অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট বাদ দিতে পারেন।

সব মিলিয়ে এই আপডেটের মাধ্যমে মেটা শুধু ভিডিও ওয়াচ টাইম বাড়াতেই নয়, বরং মানুষের মধ্যে সামাজিক সংযোগ পুনরুদ্ধারব্যবহারকারীকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা তৈরি করতেই মনোযোগ দিয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল চেয়ারম্যান ও পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বরিশালের সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল প্রাইভেট লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান এ কে এম আজিজুর রহমান ও পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন-এর বিরুদ্ধে সরকারি বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করার কারণে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস সূত্রে জানা যায়, সার্টিফিকেট দেনাদার হিসেবে তাদের নিকট ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ১০,৭৬,২৫০ টাকা এবং সুদ বাবদ ২,০১,০২৩ টাকা সহ মোট ১২,৭৮,০৭৩ টাকা বকেয়া রয়েছে। ২০২৪ সালের ২১ মার্চ বকেয়া আদায়ের জন্য সার্টিফিকেট মামলা করা হয়েছিল।

পরোয়ানায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, উল্লেখিত টাকা পরিশোধ না করলে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে, এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চলতি বছরের ১৬ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম জানান, পূর্বে দুই লাখ টাকার পে-অর্ডার দিয়ে এবং বাকিটা কিস্তিতে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন, কিন্তু ধার্য সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ হয়নি। এরপর কোম্পানির চেয়ারম্যান ও পরিচালকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

প্রয়োজন হলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলে দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী সিভিল কোর্টে হস্তান্তর করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনা পায়রা নদীতে ৩৫ ট্রলার আটক, জেলেদের দাবি অহেতুক জরিমানা

বরগুনার পায়রা নদী থেকে মহিপুর অভিমুখে যাওয়ার পথে ৩৫টি মাছ ধরার ট্রলার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক ও অর্থদণ্ডের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। জেলেদের দাবি, তারা ইলিশ শিকারে না গিয়ে খালি ট্রলার নিয়ে যাচ্ছিলেন, অথচ প্রশাসন অহেতুকভাবে ট্রলারগুলো আটক করে জরিমানা করেছে।

তালতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেবক মণ্ডল আটক ও জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে বরগুনার পায়রা নদীতে যৌথ অভিযান চালানো হয় উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের মাধ্যমে। মা ইলিশ সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার জেলেরা থেকে আসা ৩৫টি ট্রলার ও প্রায় ১৫০ জেলেকে আটক করা হয়।

পরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিটি ট্রলারকে ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড দেয় এবং নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থান ত্যাগ না করার নির্দেশ দেয়। আটক ট্রলারগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

আটক জেলেরা অভিযোগ করেছেন,“আমরা কেউই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করিনি। মাছ ধরার জাল বা সরঞ্জাম আমাদের সঙ্গে ছিল না। শুধু খালি ট্রলার নিয়ে মহিপুর যাচ্ছিলাম খাবার, বরফ ও জাল মেরামতের জন্য। অনেক ট্রলারে চুলা বা গ্যাস ছিল না, রাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে হয়েছে।”

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেবক মণ্ডল বলেন, “নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক প্রতিটি ট্রলারে ১,০০০ টাকা করে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রলারগুলো স্থান ত্যাগে নিষিদ্ধ।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশাল মহানগর বিএনপির বিভেদ মেটাতে গুলশানে সমঝোতা বৈঠক

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বরিশাল মহানগর বিএনপি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত ও চার ভাগে বিভক্ত। দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্যোগে ঢাকার গুলশানে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. জে এম জাহিদ হোসেন, বরিশাল সদর-৫ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, মাহাবুবুল হক নান্নু, মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্যসচিব জিয়া উদ্দীন সিকদার এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন

বৈঠকে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক, তার পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। আফরোজা খানম নাছরিন বলেন,“আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে কথা দিয়েছি, দলের যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক না কেন, তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো। তবে সবাই একই ব্লকে যুক্ত নয়।”

বৈঠকে বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান উল্লেখ করেন, জেলা সদর আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশি নেতারা জনসংযোগ ও সভা-সমাবেশে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যভাবে সমালোচনা করছেন। এতে ব্যক্তির নয়, বরং দলের ক্ষতি হচ্ছে। বৈঠকে এই পরিস্থিতি বন্ধ করার এবং মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল মহানগর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। প্রধান বিরোধী বলয়গুলো ছিলেন:

  • আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,
  • সদস্য সচিব জিয়া উদ্দীন সিকদার জিয়া,
  • সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,
  • যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন সরোয়ার

এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন সরোয়ার নিজস্ব বলয় গড়ে তোলেন। বর্তমানে বরিশাল মহানগর বিএনপিতে চারটি সক্রিয় গ্রুপ ও একাধিক উপগ্রুপ রয়েছে, যা দলকে অনেকটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় রাখছে।

রাজধানীতে এই সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় আশা করা হচ্ছে, আগামী নির্বাচনে বরিশাল বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দলীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিলুপ্তির পথে দেড়শ বছরের বাজপাই জমিদারবাড়ি, রক্ষণাবেক্ষণের দাবি স্থানীয়দের

পিরোজপুর শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে ইন্দুরকানীর পাড়েরহাট বন্দরে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দেড়শ বছর পুরোনো বাজপাই জমিদারবাড়ি, যা স্থানীয়ভাবে ‘লালা বাবুর বাড়ি’ নামে পরিচিত। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই বাড়ি একসময় এলাকায় বিচার-সালিশ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং খাজনা আদায়ের কেন্দ্র ছিল। কিন্তু বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে এটি বিলুপ্তির পথে।

স্থাপনার ইতিহাস অনুযায়ী, জমিদার ছিলেন সূর্য প্রসন্ন বাজপাই, যাকে স্থানীয়রা ‘লালা বাবু’ নামে চেনে। তিনি ছিলেন কালীপ্রসন্ন পারের ছেলে এবং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপাইয়ের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। দেশ বিভাজনের পর ১৯৪৭ সালে বাজপাই পরিবার ভারত চলে যায় এবং আর কখনো ফিরে আসেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৩ একর জমির ওপর নির্মিত এই বাড়ি বহু অংশে ভেঙে পড়া, ছাদ ধসে যাওয়া ও লতাপাতায় আচ্ছাদিত। বাড়ির ভেতরের নাগ মন্দির, শয়নকক্ষ, সভাকক্ষ প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত। ব্রিটিশ আমলের কাচারি ঘর, পুকুর এবং অন্যান্য স্থাপনা ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয়রা মনে করেন, যদি সরকার সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়, তাহলে এই জমিদারবাড়ি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে এবং পাড়েরহাট নতুন পরিচিতি পাবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও ঐতিহ্য দুইই লাভবান হবে।

পাড়েরহাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল কালাম ফরাজী বলেন, “লালা বাবু এখানে বিচার সালিশি করতেন, খাজনা আদায় হতো। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত। সরকার রক্ষণাবেক্ষণ করলে এটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পাবে।”

স্থানীয় শিক্ষক রঞ্জিত কুমার সাহা জানান,“এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হতো, যাত্রাপালা হতো। তবে এখন সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার সংস্কার করলে বাড়ির ঐতিহ্য বৃদ্ধি পাবে, এবং এলাকার উন্নয়নও সম্ভব।”

ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান-বিন-মোহাম্মদ আলী বলেন, “বাড়িতে কাচারি ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা আছে। ব্রিটিশ আমলে খাজনা আদায় ও বিচার-সালিশ হতো। অযত্ন-অবহেলায় এটি ভঙ্গুর হয়ে গেছে। আমরা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবর চিঠি দিয়েছি। আশা করি শিগগিরই সমাধান হবে।”

স্থানীয়রা দাবি করছেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের মাধ্যমে বাজপাই জমিদারবাড়িকে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ হয়ে থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলার নদীতে ফের জেলেদের সরব উপস্থিতি, প্রস্তুত তিন লাখ মৎস্যজীবী

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও জীবন ফিরে পাচ্ছে ভোলার নদ-নদীগুলো। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকেই মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে নামবেন জেলার প্রায় তিন লাখ জেলে। এরইমধ্যে জেলেপল্লিগুলোতে চলছে নৌকা, ট্রলার ও জাল মেরামতের ব্যস্ততা। বহু কষ্টের পর ইলিশ শিকারে নামতে পেরে আনন্দে মুখর তারা।

শুক্রবার দুপুরে ভোলার সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জেলেরা নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুরোদমে। কেউ নতুন জাল কিনছেন, কেউ ট্রলার মেরামত করছেন, আবার কেউ পুরোনো নৌকায় নতুন করে রঙ করছেন। দীর্ঘ ২২ দিন আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেকেই ধারদেনা করে প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করেছেন।

স্থানীয় জেলে সুমন মাঝিসোহেল মাঝি বলেন, “নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আমরা আবার নদীতে নামব। ধারদেনা করে নতুন জাল কিনেছি। আশা করছি, এবার পর্যাপ্ত ইলিশ পাব এবং ঋণ শোধ করতে পারব।”

অন্যদিকে খলিল মাঝিজাকির মাঝি জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারিভাবে ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা পেয়েছেন, তবে বাকিটা নিজেরাই সামলাতে হয়েছে। তারা বলেন, “এই সময়টা খুব কষ্টে কেটেছে। এখন নদীতে ভালো মাছ পেলে সব দুঃখ কেটে যাবে।”

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, “নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা যেন নির্বিঘ্নে ইলিশ শিকার করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত আছে। আশা করি, এবার নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ মিলবে, আর জেলেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।”

তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ভোলার সাত উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে দুই শতাধিক জেলেকে আটক এবং বিপুল পরিমাণ জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক জেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা দেওয়া হয়।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোলার নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ ছিল। জেলার সাত উপজেলায় প্রায় তিন লাখ জেলে জীবিকা নির্বাহ করেন, যার মধ্যে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার সরকারিভাবে নিবন্ধিত।

জেলেরা এখন আশা করছেন—এই মৌসুমে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লে সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে জীবনযুদ্ধে নামতে পারবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নতুন কমিটি গঠন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি প্রতিরোধে নতুন অভিযোগ কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এই কমিটি গঠিত হয়েছে।

বুধবার (২০ অক্টোবর ২০২৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীনের স্বাক্ষরে এক অফিস আদেশে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাণরসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেহানা পারভীন। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—

  • আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সরদার কায়সার আহমেদ,
  • বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও বরিশাল জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাফরুন নেছা রোজী,
  • মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, বরিশালের প্রোগ্রাম অফিসার জাহানারা পারভীন,
  • ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খাদিজা আক্তার (সদস্য-সচিব)।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট কর্তৃক যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংক্রান্ত নির্দেশনার আলোকে এই কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকি ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও সহনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই কমিটি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫