১৩৩ বছরের পুরোনো পটুয়াখালী পৌরসভায় আবর্জনার ডাম্পিং স্টেশন নেই

১৩৩ বছরের পুরোনো পটুয়াখালী পৌরসভা আজও আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান পায়নি। শহরের কোথাও নেই নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন। ফলে প্রতিদিনের বাসা-বাড়ি, দোকানপাট এমনকি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মেডিকেল বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে উন্মুক্ত স্থানে, নদীর তীরে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন পৌর নাগরিকরা।
পৌর শহরের লোহালিয়া নদীর পাড়েই এখন আবর্জনার পাহাড়। সেখানে গৃহস্থালির ময়লার সঙ্গে ফেলা হচ্ছে ইনজেকশন, সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন দূষিত বর্জ্য। বাতাসে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি জানলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
বাসিন্দারা জানান, “ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় সবাই নদীর ধারে ফেলে দেয়। এতে পানি দূষিত হচ্ছে, দুর্গন্ধে থাকা দায়।” কেউ কেউ বলেন, “ছোট বাচ্চারা এই জায়গায় খেলে, তাতে সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।”
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জিয়াউল করিম বলেন,
“মেডিকেল বর্জ্য অত্যন্ত সংক্রামক। এটি সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মেশানো বা উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হলে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।”
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা বলেন,
“আমরা সমস্যাটি জানি। মেডিকেল বর্জ্যের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জায়গা নির্ধারণ ও প্রাথমিক কাজ চলছে।”
এদিকে স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদী ও পরিবেশের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। তারা বলেন, “যেভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, তাতে লোহালিয়া নদী একদিন সম্পূর্ণ মৃতপ্রায় হয়ে যাবে।”
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








