১৩৩ বছরের পুরোনো পটুয়াখালী পৌরসভায় আবর্জনার ডাম্পিং স্টেশন নেই

১৩৩ বছরের পুরোনো পটুয়াখালী পৌরসভা আজও আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান পায়নি। শহরের কোথাও নেই নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন। ফলে প্রতিদিনের বাসা-বাড়ি, দোকানপাট এমনকি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মেডিকেল বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে উন্মুক্ত স্থানে, নদীর তীরে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন পৌর নাগরিকরা।

পৌর শহরের লোহালিয়া নদীর পাড়েই এখন আবর্জনার পাহাড়। সেখানে গৃহস্থালির ময়লার সঙ্গে ফেলা হচ্ছে ইনজেকশন, সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন দূষিত বর্জ্য। বাতাসে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি জানলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি

বাসিন্দারা জানান, “ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় সবাই নদীর ধারে ফেলে দেয়। এতে পানি দূষিত হচ্ছে, দুর্গন্ধে থাকা দায়।” কেউ কেউ বলেন, “ছোট বাচ্চারা এই জায়গায় খেলে, তাতে সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।”

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জিয়াউল করিম বলেন,
“মেডিকেল বর্জ্য অত্যন্ত সংক্রামক। এটি সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মেশানো বা উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হলে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।”

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা বলেন,
“আমরা সমস্যাটি জানি। মেডিকেল বর্জ্যের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জায়গা নির্ধারণ ও প্রাথমিক কাজ চলছে।”

এদিকে স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদী ও পরিবেশের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। তারা বলেন, “যেভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, তাতে লোহালিয়া নদী একদিন সম্পূর্ণ মৃতপ্রায় হয়ে যাবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মাইক্রোসফটের শিশুদের জন্য নিরাপদ এআই উদ্যোগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি এখন কেবল তথ্যপ্রযুক্তির সীমায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। চ্যাটজিপিটি, মেটা এআই এবং অন্যান্য জনপ্রিয় চ্যাটবটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অনেক সময় রোমান্টিক বা ব্যক্তিগত কথোপকথনে যুক্ত হচ্ছেন, যা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে মাইক্রোসফট ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এআই বিভাগের প্রধান নির্বাহী মুস্তাফা সুলেইমান জানিয়েছেন, তারা এমন একটি এআই তৈরি করতে চায়, যা হবে বিশ্বাসযোগ্য, সীমাবদ্ধ ও নিরাপদ। এ ধরনের এআই শিশুরাও নির্ভয়ে ব্যবহার করতে পারবে, ফলে কিশোর-কিশোরীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মাইক্রোসফট বর্তমানে তাদের কোপাইলট এআই টুলকে জনপ্রিয় করার জন্য ওপেনএআই, মেটা এবং গুগলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আছে। কোপাইলটের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি। যদিও চ্যাটজিপিটি–এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮০০ মিলিয়নের বেশি, মাইক্রোসফট আশা করছে নিরাপত্তা ও আস্থার দিক থেকে তারা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবে।

সুলেইমান বলেন, “আমরা ‘ডিজিটাল মানুষ’ বা কল্পিত চরিত্রের মতো এআই তৈরি করতে চাই না। বরং এমন প্রযুক্তি বানাতে চাই যা মানুষের সহায়ক হবে, মানুষের বিকল্প নয়। এটি শিশু এবং কিশোরদের জন্যও নিরাপদ।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের আপডেটগুলোর লক্ষ্য হলো মানুষকে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করা। কোপাইলট ব্যবহারকারীকে মানুষের সঙ্গে সংযোগ ঘটাবে, কল্পনার জগতে আটকে রাখবে না।”

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু এআই প্ল্যাটফর্ম কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ওপেনএআই ও ক্যারেক্টার এআই-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তাদের চ্যাটবট কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মাইক্রোসফটের এই উদ্যোগ শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা, আস্থা এবং সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খাদ্য নিরাপত্তা: বর্তমান সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ

খাদ্য নিরাপত্তা আজকের বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য বিষয়। এর মূল লক্ষ্য হলো খাদ্যকে জীববৈজ্ঞানিক, রাসায়নিক বা ভৌত ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা এবং অনিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি প্রতিরোধ করা। আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার, বিশ্বায়নের দ্রুততা এবং জনসংখ্যার চাপের কারণে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখা এখন এক জটিল চ্যালেঞ্জ।

বিশ্বায়নের ফলে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলা অনেক জটিল ও আন্তঃনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য, দ্রুত নগরায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাদ্য উৎপাদন খাদ্য নিরাপত্তার উপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া, খাদ্যবাহিত রোগ, দূষণ এবং মানহীন খাদ্যের কারণে প্রতি বছর লাখো মানুষ অসুস্থ হয় এবং অনেকে মারা যায়। তাই খাদ্য নিরাপত্তা শুধু স্বাস্থ্য বা বিজ্ঞান বিষয় নয়—এটি একটি বহুমাত্রিক জননীতি ও প্রশাসনিক বিষয়, যেখানে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মানুষ দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে অসুস্থ হন এবং প্রায় ৪২০,০০০ মানুষ প্রাণ হারান। খাদ্য নিরাপত্তার অভাবে বিশ্বব্যাপী ৩৩ মিলিয়ন ডিসঅ্যাবিলিটি অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ার (DALYs) হারানো হয়, যা মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির ইঙ্গিত বহন করে।

একবিংশ শতাব্দীতে খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ নতুন রূপে এসেছে। উদীয়মান ঝুঁকি যেমন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR), জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করছে। এই পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যিক ও আধুনিক খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি।

ঐতিহ্যিক খাদ্য নিরাপত্তা ছিল প্রতিক্রিয়াশীল—কোনো দূষণ বা রোগ প্রাদুর্ভাব ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। আধুনিক যুগে খাদ্য নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিরোধমূলক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আচরণনির্ভর। প্রযুক্তিগত, নিয়ন্ত্রক এবং শিক্ষামূলক কৌশল একত্রিত করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সামাজিক আচরণ, সাংস্কৃতিক অভ্যাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক নীতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানও যুক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তার মান নির্ধারণে কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস (Codex Alimentarius) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে Food Safety Management System (FSMS) প্রণয়ন করতে হয়, যা ঝুঁকি শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ধারণ করে। HACCP এবং GMP পদ্ধতি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে ঝুঁকি প্রতিরোধে সহায়তা করে।

সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আইন, মানদণ্ড ও নির্দেশিকা প্রণয়নের মাধ্যমে উৎপাদক, প্রক্রিয়াজাতকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেয়। খাদ্য প্রস্তুতকারক, পরিবেশক ও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাও তাদের দায়িত্ব। WHO-র Global Strategy for Food Safety 2022–2030 দলিলে বলা হয়েছে: “দক্ষ কর্তৃপক্ষকে খাদ্য নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং অংশীদারদের মধ্যে সচেতনতা ও যৌথ দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে।”

আদর্শ খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় Behaviour-Based Safety Management গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এটি মানবকেন্দ্রিক সাংগঠনিক সংস্কৃতির ওপর জোর দেয়, যেখানে কর্মীদের সচেতনতা, প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ নিশ্চিত করা হয়। Risk-Based Food Safety Strategy বৈজ্ঞানিক ঝুঁকি মূল্যায়নের মাধ্যমে সম্পদ ও হস্তক্ষেপের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে।

Farm-to-Fork বা “ক্ষেত থেকে টেবিল” ধারণার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা প্রতিটি ধাপে—উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও ভোগ—নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার, মান নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা এবং বাজার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সরকার ইতিমধ্যে Bangladesh Food Safety Authority (BFSA) গঠন করেছে। তবে কার্যকর প্রয়োগ, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও ভোক্তা সচেতনতার ঘাটতি এখনও বড় প্রতিবন্ধকতা।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র এক দেশের দায়িত্ব নয়। এটি একটি বৈশ্বিক নৈতিক ও নীতিগত দায়বদ্ধতা। বিজ্ঞাননির্ভর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মানবকেন্দ্রিক সংগঠন সংস্কৃতি, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। খাদ্য নিরাপত্তা এখন শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, বরং মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাকির নায়েককে ভারতের কাছে তুলে দেবে বাংলাদেশ: আশা মোদী সরকারের

বিশ্বখ্যাত ইসলামিক বক্তা ও পিস টিভির প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাকির নায়েককে ভারতের হাতে হস্তান্তর করার বিষয়ে আশাবাদী নরেন্দ্র মোদী সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ২৮ নভেম্বর সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরের আগে ভারতের পক্ষ থেকে এ ধরণের অবস্থান জানানো হলো। জাকির নায়েক দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসে একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, জাকির নায়েক ভারতে ওয়ান্টেড পলাতক আসামি। “নয়াদিল্লি আশা করে যে, যে কোনো দেশেই তিনি থাকুন না কেন, সেখানকার সরকার তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেবে।”

বাংলাদেশ সফরের আয়োজন করছে স্পার্ক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটার আলী রাজ জানান, ২৮ বা ২৯ নভেম্বর ঢাকায় ডা. জাকির নায়েকের প্রথম প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হবে। শুধুমাত্র ঢাকায় নয়, রাজধানীর বাইরে অন্যান্য শহরেও অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডা. জাকির নায়েক ২০১৬ সালে ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের রোষানলে পড়ে দেশ ত্যাগ করেন। সেই বছর তার ‘পিস টিভি’ চ্যানেল বন্ধ করা হয়। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। মোদী সরকার তার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনে এবং তার সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করে।

২০১৬ সালের গুলশানের হোলি আর্টিজান হামলার পর শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশে জাকির নায়েকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তখন ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, হামলায় জড়িত কিছু তরুণ নায়েকের বক্তব্যে প্রভাবিত ছিল। তবে গত বছর সরকারি নীতি পরিবর্তনের পর এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আপনার ফোনের ছবিতেও নজর রাখছে ফেসবুকের নতুন এআই!

আপনার মোবাইল ফোনে থাকা এমন সব ছবিও এখন ফেসবুকের নজরে, যেগুলো আপনি এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারই করেননি! ফেসবুকের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, নতুন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের গ্যালারির ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে পোস্ট বা কনটেন্ট তৈরির পরামর্শ দেবে প্ল্যাটফর্মটি।

প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ব্যবহারকারীদের জন্য এই ফিচার চালু করা হয়েছে। তবে এটি ধীরে ধীরে অন্যান্য দেশেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে মেটা।


কীভাবে কাজ করে এই ফিচার

ফেসবুক অ্যাপে ব্যবহারকারীর সামনে একটি বার্তা প্রদর্শিত হবে—

“আপনার গ্যালারির ছবি থেকে সৃজনশীল ধারণা দিতে ফেসবুককে ক্লাউড প্রক্রিয়ায় সম্মতি দিন।”

যদি ব্যবহারকারী সম্মতি দেন, তাহলে তার ফোন থেকে ছবিগুলো মেটার ক্লাউড সার্ভারে প্রেরণ করা হবে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে কোলাজ, জন্মদিনের পোস্ট, রিভিউ থিম বা ডিজাইন সাজেশন তৈরি করে দেবে।

মেটা আশ্বস্ত করেছে, এই ছবিগুলো বিজ্ঞাপন বা লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারণায় ব্যবহার করা হবে না। তবে কেউ যদি সেই ছবি সম্পাদনা করে ফেসবুকে পোস্ট করেন, তাহলে সেই ডেটা ভবিষ্যতে এআই সিস্টেম উন্নয়নের কাজে লাগানো হতে পারে।


তবে ঝুঁকিও আছে!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহে নতুন মাত্রা যোগ করবে। কারণ, আপনি ছবি শেয়ার না করলেও ফেসবুক সেই ছবির সময়, অবস্থান, মুখের উপস্থিতি ও পটভূমি বিশ্লেষণ করতে পারে। এর মাধ্যমে মেটা আপনার জীবনধারা, পছন্দ বা সম্পর্ক সম্পর্কিত তথ্যও অনুমান করতে সক্ষম হবে।

ফলে ফেসবুকের হাতে তৈরি হবে মানুষের আচরণ ও আগ্রহের বিশাল ডেটা ব্যাংক, যা ভবিষ্যতে তাদের এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দেবে।

এর আগে মেটা জানিয়েছিল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে থাকা পাবলিক পোস্ট, মন্তব্য এবং ছবি তাদের ছবি শনাক্তকরণ প্রযুক্তি প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবহারকারীরা ২০২৫ সালের ২৭ মে পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করার সুযোগ পেয়েছিলেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রেমে পড়ার পেছনের লুকানো কারণ! জানলে অবাক হবেন আপনি

প্রেমে পড়া যেন মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। বিশেষ করে বর্তমান যুগে ডেটিং একটি সাধারণ সামাজিক বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। মস্তিষ্কের জৈব-রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলেই একজন মানুষ অন্যজনের প্রতি গভীর আকর্ষণ ও আসক্তি অনুভব করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো — কেবল “ভালো লাগা” কি সম্পর্কের একমাত্র কারণ? নাকি এর পেছনে আরও লুকানো কারণ রয়েছে?

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন মানুষ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে —

ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, এটি এক ধরনের মানসিক আশ্রয়। অনেকেই সম্পর্কে জড়ান কারণ এটি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, মনে প্রশান্তি দেয়। যখন কেউ আপনাকে ভালোবাসে, আপনার খোঁজ নেয়, তখন নিজের প্রতিও একধরনের ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি হয়। এই ভালো লাগাই মানুষকে আরও আত্মপ্রত্যয়ী করে তোলে।

অন্যদিকে, কেউ কেউ সম্পর্কে জড়ান আনন্দ ও ভালোবাসা খোঁজার জন্য। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে কারো সঙ্গে হাসি, কথা, সময় ভাগ করে নেওয়াই হয়ে ওঠে মানসিক প্রশান্তির মাধ্যম। এমন সম্পর্ক মানুষকে জীবনের ছোট ছোট সুখগুলো উপভোগ করতে শেখায়।

অনেক সময় মানুষ ডেট করে নিজেকে নতুনভাবে চিনতে বা খুঁজে পেতে। সবার মতো সম্পর্কের পথে হাঁটতে গিয়েই তারা আবিষ্কার করে নিজেদের পছন্দ, সীমাবদ্ধতা ও অনুভূতির গভীরতা। যখন দুজনের বোঝাপড়া স্বাভাবিক হয়, তখন সম্পর্কটি হয়ে ওঠে সহজ ও প্রাণবন্ত।

তবে অনেকেই মনে করেন, প্রেম মানুষকে সম্পূর্ণ করে তোলে। একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতার মাঝে কারো সঙ্গ মানুষকে মানসিকভাবে শান্তি দেয়। অন্যের ভালোবাসা যেন নিজের অস্তিত্বকে আরও পূর্ণ করে তোলে।

আবার কেউ কেউ সম্পর্কে জড়ান ভবিষ্যতের স্থায়ী সম্পর্ক বা বিয়ের উদ্দেশ্যে। ডেটিংয়ের মাধ্যমে তারা বুঝে নেন, কে হতে পারে জীবনের উপযুক্ত সঙ্গী। কারো মূল্যবোধ, স্বভাব ও মানসিকতার সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পাওয়া সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

সবশেষে, অনেক সময় পারিবারিক বা সামাজিক চাপও মানুষকে সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করে। নির্দিষ্ট বয়সে ডেট করা বা সম্পর্কে থাকা সমাজে একধরনের মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। তাই অনেকে শুধুমাত্র মানিয়ে নিতে বা সামাজিক প্রশ্ন এড়াতে সম্পর্ক গড়ে তোলে।

সব মিলিয়ে, ভালোবাসা শুধু অনুভূতির নয়, এটি এক ধরনের মানবিক প্রয়োজনও বটে। তবে সম্পর্ক যেন হয় পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া ও আন্তরিকতার ভিত্তিতে — তবেই তা দীর্ঘস্থায়ী সুখ এনে দিতে পারে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আবারও ফিরে এলো বাউফলের সেই সাদা বক, প্রিয় সঙ্গী হেমায়েতের পাশে এখনো অটুট বন্ধন!

পটুয়াখালীর বাউফলে আলোচিত সেই সাদা বকটি অবমুক্তির কয়েকদিন পর আবারও ফিরে এসেছে তার প্রিয় মানুষ হেমায়েত উদ্দিনের কাছে। এ ঘটনা এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বকটি বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর বাজারে অবস্থিত হেমায়েত উদ্দিনের স্টেশনারির দোকানের সামনে এসে আগের মতোই তার পাশে বসে পড়ে। মুহূর্তেই বাজারজুড়ে জড়ো হয় কৌতূহলী মানুষজন।

স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ অক্টোবর বন বিভাগ বকটিকে ‘বকের বাড়ি’ নামে পরিচিত একটি গাছের নিচে অবমুক্ত করে। কিন্তু অবমুক্তির পর থেকেই বকটি কিছু না খেয়ে নীরব হয়ে পড়ে। চোখেমুখে ছিল বিষণ্ণতা, আর গত দুই দিন ছিল একেবারে নিশ্চল। অবশেষে বুধবার সন্ধ্যায় হেমায়েতের দোকানে ফিরে এসে বকটি আগের মতো শান্তভাবে পাশে দাঁড়িয়ে থাকে।

চার মাস আগে ঝড়ের সময় নুরাইনপুর বাজারের কাছে গাছ থেকে একটি বকের ছানা পড়ে গেলে সেটিকে একটি গুইসাপ আক্রমণ করেছিল। তখন স্থানীয় ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন ছানাটিকে উদ্ধার করে নিজের সন্তানসুলভ যত্নে লালন-পালন করেন। ধীরে ধীরে সেই বকটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে এবং দোকানে হেমায়েতের সঙ্গে বসবাস শুরু করে।

এরপর বকের সঙ্গে হেমায়েতের এমন বন্ধুত্বের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সারাদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে। স্থানীয়রা এখন একে মানুষ ও প্রাণীর এক অনন্য বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “মানুষ যেখানে মানুষকে ভুলে যায়, সেখানে একটা পাখি তার প্রিয় মানুষকে চিনে ফিরে এসেছে—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।”

এ ঘটনায় আবেগাপ্লুত হেমায়েত উদ্দিন বলেন,

“আমি ভেবেছিলাম ও আর ফিরবে না। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমার সাথীটা আবার ফিরে এসেছে। গত কয়েকদিন খুব চিন্তায় ছিলাম, ভাবতাম হয়তো না খেতে পেরে মারা গেছে।”

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা বন কর্মকর্তা বদিউজ্জামান খান বলেন,

“ওর মতো করে ওকে থাকতে দিন। আমরা এখন আর ওদিকে হস্তক্ষেপ করব না। যেহেতু বকটি কোথাও যাচ্ছে না এবং বাইরে থেকে খাবারও নিচ্ছে না, তাই আপাতত হেমায়েতের কাছেই থাকুক। সময় হলে স্বাভাবিকভাবেই উড়ে যাবে।”

মানুষ ও পাখির এই ব্যতিক্রমী বন্ধুত্বের গল্প এখন শুধু বাউফল নয়, পুরো পটুয়াখালী জুড়েই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।


লেখক: মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলের বকটি অবমুক্ত, কিন্তু খাবারে অনীহা

পটুয়াখালীর বাউফলে চার মাস আগে ঝড়ের সময় আহত হওয়া বকের ছানাটি অবশেষে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে। তবে অবমুক্তির পর থেকে বকটি কিছু খাচ্ছে না এবং স্থিরভাবে গাছের উপর দাঁড়িয়ে আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর বাজার সংলগ্ন ‘বকের বাড়ি’ নামক স্থানে বকটিকে অবমুক্ত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার মাস আগে ঝড়ের সময় বকের ছানাটি পড়ে যায়। তখন একটি গুইসাপ সেটিকে আক্রমণ করলে স্থানীয় ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন এগিয়ে এসে বকটিকে উদ্ধার করেন। নিজের সন্তানের মতো পরিচর্যা করে সুস্থ করে তোলার পর বকটি হেমায়েত উদ্দিনের দোকানে বসবাস করছিল।

বকটির সঙ্গে দোকানদারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। বিষয়টি নজরে আসার পর বন বিভাগ ও প্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তারা হেমায়েত উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনের আওতায় কোনো বন্য পাখিকে দীর্ঘদিন গৃহপালিত অবস্থায় রাখা যায় না, তাই বকটিকে অবমুক্ত করা হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অবমুক্তির পর থেকে বকটি খাবারে অনীহা প্রকাশ করছে। তারা বলেন, “বকটি যেন নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না। দোকানদারের সঙ্গে তার যে সম্পর্ক ছিল, সেটির অভাব বোধ করছে।”

দোকানদার মো. হেমায়েত উদ্দিন বলেন, “আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি। বন বিভাগের কর্মকর্তারা মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমার কাছে আসেন। বকটিকে অবমুক্ত করার চেষ্টা করলেও সেটি উড়তে চায়নি। পরে যেখান থেকে উদ্ধার করেছি সেই গাছেই সেটিকে অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত বকটি কিছু খায়নি। আমার কাছে থাকলে নিয়মিত খাওয়াতে পারতাম। আরেকটু বড় হলে তখন অবমুক্ত করলে ভালো হতো।”

বন বিভাগের কর্মকর্তা বদিউজ্জামান খান জানান, “বকটি নির্দিষ্ট স্থানে লালন-পালন করা হয়েছে। তাই অন্য কোথাও অবমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে ‘বকের বাড়ি’ গাছটিতে অবমুক্ত করা হয়েছে। আমরা খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি, কিন্তু আইনগতভাবে লালন-পালনের সুযোগ নেই।”

এ ঘটনায় স্থানীয়রা আশা করছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বকটি নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেবে এবং খাবারে আগ্রহ ফিরে আসবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে অভিনেতা হাসান মাসুদ

জনপ্রিয় অভিনেতা হাসান মাসুদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ইস্কেমিক স্ট্রোকমৃদু হার্ট অ্যাটাক করেছেন। বর্তমানে নিউরোলজি, কার্ডিওলজি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে বলেন,

“হাসান মাসুদ এখন পর্যবেক্ষণে আছেন। সাধারণত এমন রোগীদের ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এরপর পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।”

একসময় নিয়মিত নাটক ও চলচ্চিত্রে দর্শকপ্রিয় ছিলেন হাসান মাসুদ। তবে গত কয়েক বছর ধরে অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি এখন চাকরি করতে চান এবং অভিনয়ে ফেরার কোনো ইচ্ছা নেই।

তার ভাষায়—

“আমি এখন একটা জব খুঁজছি। সাংবাদিকতা, প্রশাসন বা অন্য যে কোনো পেশায় সুযোগ পেলে ঢুকে যাব। অভিনয় থেকে একেবারে দূরে যেতে চাই।”

সাংবাদিকতা থেকেই অভিনয়জগতে প্রবেশ করেছিলেন এই অভিনেতা। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ক্যাপ্টেন পদে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি সাংবাদিকতায় আসেন। এরপর বিবিসি বাংলায় (২০০৪-২০০৮) কাজ করেছেন। পরবর্তীতে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে তার।

হাউজ ফুল’, ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘আমাদের সংসার’, ‘রঙের দুনিয়া’, ‘গণি সাহেবের শেষ কিছুদিন’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মন জয় করেছেন তিনি।

দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন,

“সবসময় সৎ থাকবেন, সত্য কথা বলবেন। এখন সমাজে পরকীয়ার প্রবণতা বেড়েছে— এটা থেকে সবাই দূরে থাকুন। তাহলেই জীবন অনেক ভালো যাবে।”

বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন অভিনেতা হাসান মাসুদ। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন সহকর্মী ও ভক্তরা।


আল-আমিন


 




১৩% পোশাক শ্রমিক এখনো পাচ্ছেন না বর্ধিত মজুরি!

দেশের তৈরি পোশাক খাতে সরকারের ঘোষিত সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নে এখনও পূর্ণ সফলতা আসেনি। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শ্রমিকদের প্রায় ১৩ শতাংশ এখনো পুরোপুরি বর্ধিত মজুরি পাচ্ছেন না। কেউ আংশিকভাবে পাচ্ছেন, আবার কেউ সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত রয়েছেন।

২০২৫ সালের মে থেকে জুন মাসের মধ্যে ঢাকাসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলার ৬০টি পোশাক কারখানায় ২৪০ জন শ্রমিকের উপর জরিপ চালিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন: অবস্থা ও প্রভাব’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে আওয়াজ ফাউন্ডেশন, মন্ডিয়াল এফএনভির সহায়তায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার

২০২৩ সালে সরকার পোশাক খাতের প্রবেশ পর্যায়ের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ১২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করে, যা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।

গবেষণায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাকির হোসেন জানান, ৮৭ শতাংশ শ্রমিক নতুন কাঠামো অনুযায়ী মজুরি পাচ্ছেন, তবে বাকি ১৩ শতাংশের মধ্যে ৮ শতাংশ আংশিক এবং ৫ শতাংশ এখনো পুরনো কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক ইউনিয়ন থাকা কারখানাগুলিতে মজুরি বাস্তবায়নের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু অনেক শ্রমিকই অভিযোগ করেছেন যে, বেতন সময়মতো মিলছে না, অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) টাকা ১-১০ মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হয়।

গবেষণায় উঠে এসেছে—
৫২ শতাংশ শ্রমিক কাজের চাপ ও উৎপাদন টার্গেট বৃদ্ধিতে সমস্যায় পড়ছেন,
২২ শতাংশ চাকরির অনিশ্চয়তায় ভুগছেন,
১৪ শতাংশ অনিয়মিত বেতন পান,
এবং ১১ শতাংশ গ্রেড ও পদোন্নতি নিয়ে বিভ্রান্ত।

এছাড়া, ১৪ শতাংশ শ্রমিক জানিয়েছেন তারা বার্ষিক ৯% ইনক্রিমেন্ট সম্পর্কে জানেন না। অন্যদিকে, দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিক জানিয়েছেন তারা ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন, তবে ১৩ শতাংশ এখনো পাননি।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা এখন মাসে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন।”
তবে তিনি গবেষণায় উল্লেখিত ১৩ শতাংশ কারখানার বিষয়ে মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন।

অন্যদিকে, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তাদের কোনো সদস্য কারখানা বর্ধিত মজুরি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়নি। তবে কিছু কারখানায় আংশিক বিলম্ব হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধি নীরান রামজুথন বলেন, “সময়ে ও পূর্ণ বেতন প্রদান শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার। বেতন না দেওয়া শুধু শ্রমিকদের নয়, শিল্প খাতের ভাবমূর্তির জন্যও বড় ঝুঁকি।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিদর্শন ও তদারকি জোরদার করা, ফলাফল প্রকাশ এবং ক্রেতাদের দায়িত্বশীল ক্রয়নীতি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, “মজুরি গেজেটে স্পষ্ট নির্দেশনার অভাবেই অনেক মালিক ইচ্ছামতো গ্রেড নির্ধারণ করছেন, ফলে শ্রমিকরা বৈধ বেতন বৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”

তিনি আরও জানান, ছোট কারখানাগুলো ধীরে ধীরে ব্যবসা থেকে সরে যাচ্ছে, তবে বড় কারখানাগুলো আরও বিস্তৃত হচ্ছে, ফলে রপ্তানি আয়ও ক্রমশ বাড়ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম