ছাত্র আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের পরামর্শ নেইনি: নুর

জাতীয় সংসদে শ্রম প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় জামায়াতে ইসলামী বা ছাত্রশিবিরের কোনো নেতার সঙ্গে তার আলোচনা হয়নি এবং তাদের কাছ থেকে কোনো পরামর্শও নেননি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নুরুল হক নুর বলেন, “আমি জামায়াতে ইসলামীর অতীত রাজনৈতিক অবদানকে স্বীকার করি। তবে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় জামায়াত বা শিবিরের কারও সঙ্গে আমার কোনো আলোচনা হয়নি এবং তাদের পরামর্শ নেওয়ারও সুযোগ হয়নি।”

তিনি বলেন, “আজ অনেকে জুলাই আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে। কিন্তু এই আন্দোলন ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের সংগ্রামের ধারাবাহিক ফল। কেউ শেষ মুহূর্তে এসে ভূমিকা রাখলেই পুরো আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না।”

আন্দোলনের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৬ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত সময় ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জপূর্ণ। আন্দোলনের আট দফা কর্মসূচি তিনি নিজেই প্রস্তুত করেছিলেন। সে সময় বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও জানান তিনি।

নুর বলেন, “গ্রেফতারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বিএনপির নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছি।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তারেক রহমান দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেও দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রেখেছেন। ২০২২ সালে ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনার অনেক বিষয় বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে।”

নুরুল হক নুর বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অযথা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক পরামর্শের মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “সত্যকে গোপন বা বিকৃত না করে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।”

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বজ্রপাতের বিকট শব্দে বরিশালে ১৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ক্লাস চলাকালে আকস্মিক বজ্রপাতের বিকট শব্দে ১৫ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে ৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ২ জন বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে ৫ জন শিক্ষার্থী মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পৃথকভাবে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা।

দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, ক্লাস চলাকালে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয় ভবনের ওপর বজ্রপাত হলে বিকট শব্দে শ্রেণিকক্ষে থাকা কয়েকজন ছাত্রী আতঙ্কিত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে অষ্টম শ্রেণির ফাতেমা বেগম দোলা, আমেনা আক্তার, সুমাইয়া ও মীম আক্তার, সপ্তম শ্রেণির জান্নাত এবং নবম শ্রেণির আফরোজা আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার।

পরে শিক্ষকদের সহায়তায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে দুইজন শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে গেলেও বাকি পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

অন্যদিকে একই সময়ে পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বজ্রপাত হলে আরও ৮ জন শিক্ষার্থী আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজামুল হক জানান, তাদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সুস্থ হলে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরানুর রহমান বলেন, বজ্রপাতের বিকট শব্দে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




 শেবাচিম হাসপাতালে দুই তরুণীকে আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগে দুই তরুণীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে তাদের আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানায় নেওয়া হয়।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৭ বছর বয়সী এক তরুণী হাসপাতালে রোগী হিসেবে ভর্তি ছিলেন। তার সঙ্গে ২০ বছর বয়সী অপর এক তরুণী সেবিকা হিসেবে অবস্থান করছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের আচরণ সন্দেহজনক ও অশোভন মনে হলে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানান।

পরে চিকিৎসাধীন তরুণীর মায়ের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে থানায় নিয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে। চিকিৎসাধীন তরুণী বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। প্রাথমিকভাবে তারা নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত ফৌজদারি অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবে।

ঘটনাটি হাসপাতাল এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




রুপাতলী পানি শোধনাগার চালু, বাড়ছে বরিশালের পানি সরবরাহ

বরিশাল নগরীর দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে পুনরায় চালু করা হয়েছে রুপাতলী ১৬ এমএলডি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। আধুনিকায়ন ও মেরামত কাজ শেষে বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রুপাতলী সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি বরিশাল নগরীর অন্যতম প্রধান পানি সরবরাহ অবকাঠামো। প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে প্ল্যান্টটির। নদী ও খাল থেকে সংগৃহীত কাঁচা পানি আধুনিক প্রক্রিয়ায় পরিশোধনের মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ সুপেয় পানিতে রূপান্তর করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্ল্যান্টে কয়েকটি ধাপে পানি শোধনের কাজ সম্পন্ন হয়। প্রথমে কাঁচা পানি সংগ্রহ করা হয়। এরপর কোয়াগুলেশন ও ফ্লকুলেশন প্রক্রিয়ায় ময়লা পৃথক করা হয়। পরে স্থিতিকরণ, ফিল্টারিং ও জীবাণুনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে পানি সরবরাহের উপযোগী করা হয়। সাম্প্রতিক আধুনিকায়নের ফলে পুরো প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও উন্নত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে যান্ত্রিক ত্রুটি, পুরনো অবকাঠামো এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্ল্যান্টটির কার্যক্রম আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এতে নগরবাসীকে বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগতে হয় এবং অনেক এলাকায় বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যায়।

সম্প্রতি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্ল্যান্টটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, পাইপলাইন সংস্কার, ফিল্টার ইউনিট উন্নয়ন এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। রুপাতলী ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পুনরায় চালুর মাধ্যমে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বড় অগ্রগতি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্ল্যান্টটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল হবে। পাশাপাশি নতুন পানি শোধনাগার স্থাপন, পাইপলাইন সম্প্রসারণ এবং স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

নগরবাসী মনে করছেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সময় রুপাতলী পানি শোধনাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকলে এটি বরিশালের পানি সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর অবকাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির, পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুকসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অসহযোগ আন্দোলন শুরু

শিক্ষক পদোন্নতি জটিলতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সংহতি প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় শিক্ষকসমাজের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. ধিমান কুমার রায়। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে অনেক শিক্ষক পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও ইউজিসির নির্দেশনার অজুহাতে পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছে।

শিক্ষকদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আপগ্রেডেশন নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪ সালের মধ্যেই বহু শিক্ষক প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপগ্রেডেশন বোর্ড ও সিন্ডিকেট সভা আয়োজন না করে বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় ফেলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, একই দাবিতে এর আগে ‘কমপ্লিট একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে কেবল পরীক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হলেও পাঠদানসহ অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম এখনো স্থবির রয়েছে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ইউজিসির মতামতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২৫টি বিভাগের অধিকাংশেই একাধিক ব্যাচ চালু থাকলেও অনেক বিভাগে শিক্ষক সংখ্যা মাত্র তিন থেকে চারজন। অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ৪০১টি শিক্ষকের পদ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অনুমোদিত রয়েছে মাত্র ২৬৬টি। এছাড়া প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে অন্তত ৫১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোহসীন উদ্দীন, সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান, আইন বিভাগের ডিন সরদার কায়সার আহমেদ, মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, পদোন্নতির বিষয়টি ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তারা সাড়া দেননি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ইঙ্গিত দেন তিনি।

এদিকে আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত সংকট সমাধানের মাধ্যমে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




 টেলিগ্রামে পর্ন ও ব্ল্যাকমেইল চক্র ভেঙে দিল র‍্যাব, গ্রেপ্তার ৫

টেলিগ্রাম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি ছড়িয়ে দেওয়া ও সাইবার ব্ল্যাকমেইল কার্যক্রম পরিচালনাকারী একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৮। ভোলা ও বরিশাল জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) র‍্যাব-৮ এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মেরাজুর রহমান আরমান (২১), বিল্লাল হোসেন ওরফে অন্তর (২১), রবি আলম মমিন (২১), আল আমিন ইসলাম ওরফে মাহি (১৯) এবং মো. হাসিব (২৩)। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ১২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে টেলিগ্রাম অ্যাপের অপব্যবহার ও সাইবার অপরাধ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। অনুসন্ধানে একটি সুসংগঠিত চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়, যারা দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

চক্রটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত ডিভাইস থেকে কৌশলে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করত। পরে সেগুলো টেলিগ্রামের বিভিন্ন গোপন গ্রুপ ও চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে ব্রেকআপের পর প্রাক্তন সম্পর্কের ব্যক্তিদের কাছ থেকেও এসব ছবি-ভিডিও সংগ্রহ করা হতো বলে জানায় র‍্যাব।

র‍্যাবের অভিযানে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলোতে প্রায় দেড় লাখ নগ্ন ও স্পর্শকাতর ছবি-ভিডিও পাওয়া গেছে। এছাড়াও প্রায় ৩৫০টি গ্রুপ ও চ্যানেলের সন্ধান মিলেছে, যেগুলোর মাধ্যমে এসব কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হতো।

র‍্যাব-৮ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে চক্রটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ এপ্রিল রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সাইবার অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




 বরিশালে আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযান, নারীসহ আটক ৫

বরিশাল নগরীতে একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লঞ্চঘাট এলাকার ‘হোটেল রয়েল প্লাস’-এ অভিযান চালায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) স্টিমারঘাট ফাঁড়ির সদস্যরা। অভিযানের সময় হোটেল থেকে দুই নারী এবং ম্যানেজারসহ আরও তিনজনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে হোটেলের একজন পুরুষ ও একজন নারী কর্মীও রয়েছেন।

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমিনুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ ছিল। এরই প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের হাতেনাতে আটক করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, আটককৃতদের তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালের ছাদে বিদেশি আঙুরের বাগান, মিলছে সাফল্যের নতুন স্বপ্ন

বরিশালের একটি বাড়ির ছাদে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমধর্মী এক আঙুর বাগান, যেখানে চাষ হচ্ছে ২১ জাতের বিদেশি আঙুর। নানা রঙ ও আকৃতির এই আঙুরগুলো এখন স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। শখের উদ্যোগ থেকে শুরু হলেও এটি এখন সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ হিসেবে নজর কাড়ছে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের এক গ্রামে কাপড় ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন নিজের বাড়ির ছাদে এই বাগান গড়ে তুলেছেন। ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে জিও ব্যাগে আঙুরের চারা রোপণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন তিনি। নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় মাত্র এক বছরের মধ্যেই গাছে ফল ধরেছে।

আরিফের বাগানে একেলো, বাইকুনুর, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক জাম্বোসহ মোট ২১টি উন্নত জাতের আঙুর রয়েছে। এসব আঙুরের বেশিরভাগই রাশিয়া, ইউক্রেন ও তুরস্ক থেকে সংগৃহীত জাত বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে গাছে থোকায় থোকায় লাল, সবুজ ও কালো রঙের আঙুর ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। কিছু আঙুর লম্বাটে, আবার কিছু গোলাকার আকৃতির।

তিনি জানান, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আঙুর পুরোপুরি পরিপক্ক হবে এবং বাজারজাত করা সম্ভব হবে। চলতি মৌসুমে প্রায় ২০০ কেজি আঙুর বিক্রির আশা করছেন তিনি।

আরিফ হোসেন বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি শখের বসেই এই উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। অনলাইনের মাধ্যমে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে নিয়ম মেনে চাষাবাদ করেছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভুল ওষুধ প্রয়োগের কারণে ক্ষতিও হয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ বলেন, দেশে এখন ছাদভিত্তিক ও পরীক্ষামূলক আঙুর চাষে আগ্রহ বাড়ছে। সঠিক পরিচর্যা ও মান বজায় রাখতে পারলে এ খাতে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে আগ্রহীদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিমুর রহমান জানান, দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য পুরোপুরি উপযোগী না হলেও নতুন নতুন জাত নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে ফলের মিষ্টতা ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরিফের ছাদ বাগান দেখতে প্রতিদিন অনেকেই আসছেন। অনেকে তার কাছ থেকে আঙুর চাষের পদ্ধতিও শিখছেন। তরুণদের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে ছাদভিত্তিক আঙুর চাষ ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে রেস্তোরাঁ বাড়ছে, নিরাপত্তায় বড় ঘাটতি

বরিশাল নগরীতে দ্রুত বাড়ছে রেস্তোরাঁর সংখ্যা, তবে নিরাপদ খাদ্য ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় রয়েছে উদ্বেগজনক ঘাটতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নগরীতে হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ চালু থাকলেও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তালিকায় স্থান পেয়েছে মাত্র ৩২টি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে উঠছে নতুন নতুন খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ। এর বেশিরভাগই প্রয়োজনীয় অনুমোদন, স্বাস্থ্যবিধি এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নগরীর সদর রোড এলাকার একটি বহুতল ভবনের ওপরের তলায় অবস্থিত দুটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখা যায়, বড় পরিসরে ব্যবসা পরিচালিত হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্র অত্যন্ত দুর্বল। প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় রয়েছে মাত্র কয়েকটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি। এমনকি একটি প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র অন্য নামে থাকলেও সাইনবোর্ড ভিন্ন নামে প্রদর্শন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এক রেস্তোরাঁ মালিক জানান, প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে এবং শিগগিরই সব কাগজপত্র সংগ্রহ করা হবে।

একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে নগরীর আরেকটি পরিচিত রেস্তোরাঁয়, যেখানে ছাদে ওঠার পথ অত্যন্ত সরু, যা জরুরি পরিস্থিতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, নিবন্ধিত রেস্তোরাঁর সংখ্যা ৫৫৫টি হলেও বাস্তবে এই সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অথচ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মান যাচাই বা গ্রেডিংয়ের আওতায় এসেছে মাত্র ৩২টি প্রতিষ্ঠান, যা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অসঙ্গতির ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির স্থানীয় এক নেতা জানান, আগে রেস্তোরাঁ চালুর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মানা হতো। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই সেসব নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা গোলাম রাব্বি বলেন, ধাপে ধাপে সব প্রতিষ্ঠানকে গ্রেডিংয়ের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে এবং নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জানিয়েছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম ভঙ্গ করলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোও জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিবন্ধিত রেস্তোরাঁগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বরিশালে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

বরিশালে হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এতে করে চলতি সময়ে বিভাগজুড়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে, যা জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) পরিচালকের কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

মৃত দুই শিশুর মধ্যে রয়েছে বরগুনার তালতলী উপজেলার নাইমের ছেলে আবদুল্লাহ (১৩ মাস) এবং বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সালাউদ্দিনের মেয়ে হুজাইফা (৪ মাস)। তারা উভয়েই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মৃত্যুবরণ করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় একই হাসপাতালে নতুন করে আরও ৫৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩১ জন। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৩ জনে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২২ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে এখন পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ২ হাজার ৪১৬ জন রোগী। এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে এই রোগের বিস্তার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, মার্চ মাসে হাম উপসর্গে রোগীর সংখ্যা যে হারে বেড়েছিল, বর্তমানে তা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি সংক্রামক রোগ হওয়ায় দ্রুত টিকাদান এবং সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”