বস তিতা হলে কী করবেন?

কর্মজীবনে আতংক কিংবা ভরসার নাম ‘বস’। তাঁর একটু আনুকূল্য পেতে কতোই না প্রাণান্তকর চেষ্টা,  আবার বাগে আনতে না পারলে উল্টো শায়েস্তার নানা ফন্দি। কি করলে  ‘বস’এর মন পাওয়া সম্ভব সে বিষয়ে লিখেছেন মো: লতিফুর রহমান।

‘বস তিতা হলে কী করবেন?’ – এই শিরোনামে একটা লেখা পেলাম হাভার্ড বিজনেস রিভিউ ওয়েবসাইটে। তারা বিভিন্ন গবেষণাপত্র থেকে তথ্য নিয়ে লিখেছে।

খুব আগ্রহ সহকারে পড়া শুরু করলাম। ভাবলাম ‘যতসব বন্দিশালায়, আগুন জ্বালা, ফেল উপড়ি’ ধরণের কিছু পাবো। কিন্তু হতাশ হতে হলো।

তারা লিখেছে- বস যতই তিতা হোক মূলত তোমাকে ঠিক হতে হবে!

খুবই ইন্টারেস্টিং! কী কী ঠিক করতে হবে তার মধ্যে লিখেছে- ভালো ঘুম, ব্যয়াম, পুষ্টিকর খাওয়া এবং মানসিক প্রশান্তিতে থাকা। কারণ এগুলো ব্যক্তির দক্ষতা বাড়িয়ে দেয়।

এটা কোনো কথা হলো! আশায় গুড়ে বালি। ভাবলাম একটু তলিয়ে দেখি এমন পরামর্শ দেয়ার কারণ কী।

হাভার্ড বিজনেস রিভিউ লিখেছে- বসকে মোকাবেলা করতে হলে নিজের দুর্বল জায়গা চিহ্নিত করতে হবে। অতপর সেখানে উন্নতির জন্য লেগে থাকতে হবে।

তারা নাকি গবেষণা করে পেয়েছে, বেতন-বোনাস বৃদ্ধির চাইতে ব্যক্তিগত উন্নতি ওই ব্যক্তির বেশি উপকার করে। ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি সে খুশি থাকে।

ওই আর্টিকেলে বসকে ঠিক করা নিয়ে কিছুই লেখেনি। আরও যা লিখেছে সবই ভুক্তিভোগীর উন্নতি সম্পর্কে।

লিখেছে- কোম্পানিতে আপনার কাজের প্রয়োজন জানতে হবে। এজন্য পুরো কোম্পানি কীভাবে চলে বুঝতে হবে। এসব বুঝতে পারলে বসের কথায় মন খারাপ না করে নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ দিতে পারবেন। কারণ আপনার ভূমিকা মন্থর হলে কোম্পানির কী ক্ষতি হচ্ছে সেটা তখন আপনাকে পেরেশান করবে।

অতপর তারা বলছে- আপনার একজন গুরু থাকতে হবে। যার কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ নিবেন। আপনার ভুলগুলো তিনি ধরিয়ে দিবেন। সমাধানের উপায় বাতলে দিবেন। সেটা অফিসের ভেতর বা বাইরেও হতে পারে।

যাদের সাথে আপনার ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে তাদের সাথে নিয়মিত সময় কাটাতে হবে। এতে মন উৎফুল্ল থাকবে। তারা আপনাকে সাহস দিবে।

অফিস যখন আপনার কাছে তিতা তখন অফিসের বাইরের জীবন আপনাকে উপভোগ করতে হবে। পরিবারের সাথে ঘুরতে যাওয়া, সামাজিক বিভিন্ন উপলক্ষ্যে প্রাণবন্ত অংশ নিতে হবে।

যাইহোক, লেখাটি পড়ে বুঝলাম আমরা যা ভাবি তা আসলে সত্য নয়। আমাদের ভাবনা জুড়ে থাকে বসকে কীভাবে শায়েস্তা করতে হবে। অথচ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে নিজের উন্নতির প্রতি মনোযোগ দিলে তাতে ফায়দা বেশি। বসের সাথে সম্পর্কটাও তিতা থেকে মিঠা হয়।




বিড়ালের মালিকানা নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড, বিচার গেল আইজিপির কাছে

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক : ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একই ফ্লাটে থাকেন গৃহিণী রিজিয়া স্বামী পোশাক শ্রমিক তাদের প্রতিবেশী পুলিশ কনস্টেবল অনিক। একটা বিড়ালের মালিকানা নিয়ে দ্বন্ধ দুই পরিবারের।

একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগের কপি সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী (রিজিয়া বেগম)’র বসবাস করা একই ভবনের একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. অনিক।

গত ৫ মাস আগে অনিকের শাশুড়ি তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের টেকেরহাট থেকে ২০/২১ দিন বয়স্ক একটি বিড়াল ছানা ফ্ল্যাটে নিয়ে আসেন। ৪/৫ দিন বিড়াল ছানাটি রাখার পর অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বমি ও পায়খানা করায় বিড়ালটিকে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার জন্য কনস্টেবল অনিকের শাশুড়ি নিজে ভবনের নিচে যেতে চাইলে রিজিয়া বেগম চেয়ে নেন। ওই নারীও দাবি ছাড়াই বিড়াল ছানাটি হস্তান্তর করেন রিজিয়ার কাছে।

রিজিয়া অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার বাসায় অন্য আরেকটি বিড়াল পোষা ছিল, যেটি কয়েকদিন আগে রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তাই আরেকটি বিড়াল ছানা দেখে সেটি নিতে আগ্রহী হন তিনি।

বিড়াল ছানাটিকে রাস্তায় না ফেলে দাবিহীনভাবে পালক হিসেবে বাসায় আনেন। বিড়াল ছানাটি লালনপালন করতে থাকেন এবং নাম রাখেন লিওন। লিওনকে নিয়ে তিনি মাঝে-মধ্যে ধোলাইপাড় পশু হাসপাতাল নিয়ে চিকিৎসা করান। বিড়ালের বাচ্চাটিকে নিজের সন্তানের মতো আদর-যত্নে ধীরে ধীরে সুস্থ করে তোলেন।

রিজিয়া উল্লেখ করেন, চার পাঁচ মাস অতিবাহিত হলে হঠাৎ আমার বিড়াল লিওনকে পুলিশ কনস্টেবল মো. অনিকের স্ত্রী তাদের দিয়ে দিতে বলেন। আমি বিড়ালটি দিতে না চাইলে পুলিশ কনস্টেবল অনিক গ্রাম থেকে তার শাশুড়ি ও তিন শালিকাকে নিয়ে আসেন বিড়াল নিয়ে আমার সঙ্গে ঝগড়া করার জন্য। এরই মধ্যে তার শাশুড়ি ও শালিকারা গ্রাম থেকে এসেই আমার কাছে বিড়াল চাযন এবং নানাভাবে বিভিন্ন সময় ঝগড়া-বিবাদ করেন। পুলিশ কনস্টেবল অনিক আমাকে নানা ধরনের ভয়-ভীতি দেখান। আমি বিড়ালটি তাদের না দিলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে হুমকি দেন। আমাকে কয়েকদিন সময় দিয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগকারী নারী রিজিয়া বেগম জানান, কনস্টেবল অনিককে আমি বিড়ালটি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকাও দিতে চেয়েছি। কিন্তু তারপরও হুমকি দিচ্ছেন তিনি। বলছেন, ‘আপনার কত বড় সাহস পুলিশের সঙ্গে গ্যাঞ্জাম করেন, বিড়াল না দিলে আপনার বড় ধরনের বিপদ ঘটাইয়া দিমু।’

রিজিয়া বেগম বলেন, আমার লিওন (বিড়ালের নাম) কে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। সারাদিন ব্যবসার কাজে স্বামী বাসায় থাকেন না। দুই মেয়ে আমার। ওদের নিয়ে আমি বাসায় থাকি। লিওন আমার তৃতীয় মেয়ের মতো। তাকে অনেক যত্নে ও ভালোবাসায় আমি বড় করছি। একদিন রাস্তায় বিড়াল ছানা হিসেবে ফেলতে যাওয়া মানুষগুলোই লিওনকে দাবি করছে। কনস্টেবল অনিক পুলিশি ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। আমি কোনোভাবেই লিওনকে ওদের হাতে তুলে দেবো না। সেজন্য প্রাথমিকভাবে পুলিশের তিন দপ্তরে অভিযোগ করছি। এতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ সুরক্ষা না মিললে আদালতে মামলা করব।

দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ্জামান জানান, এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ কেউ করেননি।

তবে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল অনিক বলেন, বিড়াল ছানাটি আমাদেরই। এমন না আমি বিড়াল খুব পছন্দ করি। উনি পালার কথা বলে বিড়ালটি মাঝে গ্রামে পাঠিয়েছিলেন। সেটি জেনেই আমার স্ত্রী কথা বলতে গেলে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। আমিই পরে বলেছি বিড়াল ফেরত দিতে হবে না। কিন্তু বিষয়টি অনেক বড় করা হয়েছে। হুমকির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা




সমালোচনার মুখে পিসিবির নতুন ভিডিওতে জায়গা পেল ইমরান খান

চন্দ্রদীপ স্পোর্টস ডেস্ক: অবশেষে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এলো পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দেশের সাবেক এবং বর্তমান ক্রিকেটারদের প্রতিবাদের মুখে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ প্যাকেজ ভিডিওতে পরিবর্তন এনেছে তারা। আগেরবার ইমরান খানকে বাদ দিয়েই ভিডিও তৈরি করা হলেও এবারের ভিডিওতে ঠাঁই পেয়েছেন এই তারকা ক্রিকেটার।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় ইমরান খানের ফুটেজ। দেশটির ক্রিকেটের বিভিন্ন অর্জন নিয়ে তৈরি করা এই ভিডিওতে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জেতা অধিনায়ককে সংযুক্ত করা হয়েছে।




বরগুনায় পুকুরে পাওয়া গেল ৯৫টি ইলিশ

অর্ণব শরীফ (বরগুনা): জেলার পাথরঘাটায় পুকুরে জাল টেনে পাওয়া গেল ইলিশ মাছ। একটি দুটি নয় মোট ৯৫টি ইলিশ মাছ পাওয়া গেল পুকুরটিতে।

গতকাল বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ১ নম্বর রায়হানপুর ইউনিয়নের রায়হানপুর গ্রামের আলমের বাড়ির পুকুরে পাওয়া যায়। ইলিশ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

আলম মিয়া বলেন, “প্রায় ৮০ শতাংশ জুড়ে আমাদের পুকুরে প্রতি বছরই মাছ ধরা হয়, পুকুরে বড় বড় বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। গতকাল জাল টেনে পুকুরে মাছ ধরা শুরু করি। এ সময় বিভিন্ন মাছের সঙ্গে জালে উঠতে থাকে একের পর এক ছোট সাইজের ইলিশ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পুকুরের পাশেই হলতা নদী। আর এই নদী মিশেছে বিষখালী নদীর সঙ্গে। পুকুরের সঙ্গে হলতা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। তাই জোয়ারের সঙ্গে জাটকা ঢুকতে পারে বলে ধারণা করছি।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, যেহেতু নদীর সঙ্গে পুকুরের একটা সংযোগ আছে, সে কারণে জোয়ার-ভাটায় মাছের ডিম বা পোনা ঢুকতে পারে। এটা নতুন কিছু নয়।।




হাজার হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য ছেড়ে ভিক্ষা করে বেড়ান যিনি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স: বিচিত্র এই পৃথিবীতে কতো আজব ঘটনাই না ঘটে। মাঝে মাঝে যা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। মানুষ একটু ভালো থাকার জন্য কতোই না পরিশ্রম করে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বিলাসিতা করার বৃথা চেষ্টাও যেনো করে বেড়ায় সারাজীবন। তবু একটু ভালো থাকতে চায়, পরিবার পরিজনকে ভালো রাখতে চায়। অথচ এমনও ধনীর দুলাল আছেন যারা বিত্ত-বৈভব আর বিলাসিতার মাঝে বড় হয়েও সব ছেড়ে একদিন ভিক্ষা করে বেড়ান। অবাক হচ্ছেন? যদিও আর্শ্চয হওয়ার কিছু নেই। আসলে ‘জীবন’টা একটা দর্শন। এটাকে যে যে ভাবে দেখে। তার কাছে জীবন তেমন-ই ধরা দেয়।

তেমনই একজন ‘আজহান’ যিনি মালয়েশিয়ার ধনকুবের আনন্দ কৃষ্ণের একমাত্রপুত্র। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বাসিন্দা হলেও আনন্দের জন্ম তামিলনাড়ুতে।

মালয়েশিয়ার একটি টেলিকম সংস্থার মালিক আনন্দ।টেলিকম সংস্থা ছাড়াও সংবাদমাধ্যম, প্রাকৃতিক তেল এবং গ্যাস, নির্মাণব্যবসা, উপগ্রহের যন্ত্রাংশ তৈরির সংস্থাতেও বিনিয়োগ রয়েছে এই ধনকুবেরের।

অথচ পিতার এই বিপুল অর্থের প্রতি কোনো মোহ নেই একমাত্র ছেলে আজহানের। তিনি বিরাজ করতে চান আধ্যাত্মিকতার সূক্ষ্মস্তরে। তাই বাবার অঢেল সম্পদ উপেক্ষা করে আজহান পা বাড়িয়েছেন সন্ন্যাসী হওয়ার পথে। বেছে নিয়েছেন বৌদ্ধভিক্ষুর জীবন। আজহানের বৌদ্ধ ভিক্ষু হওয়ার সিদ্ধান্তে বাধা হয়ে দাঁড়াননি বাবা আনন্দ। বরং তিনিই সব থেকে বেশি উৎসাহ জুগিয়েছেন পুত্রকে। আজহানের বৌদ্ধধর্মের প্রতি বিশ্বাসের অন্যতম কারণ তাঁর বাবা। আনন্দ একজন নিবেদিত প্রাণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থায় দান ধ্যান করার জন্যও তাঁর সুনাম রয়েছে।

তাই ছেলে পার্থিব সম্পদের মায়া ত্যাগ করে কঠিন জীবন যাপন বেছে নিয়েছেন শুনে বাধা দেননি তিনি। কিন্তু কেন বিলাস বহুল জীবন ছেড়ে আজহান বৌদ্ধ ভিক্ষু হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, সে বিষয়ে তিনি কখনও কিছু জানাননি।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে, আজহান বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসাবে জীবন যাপন করছেন। বর্তমানে তিনি মঠে থাকেন। ভিক্ষা করে তাঁর যে সামান্য আয় হয়, তাতেই তিনি অনাড়ম্বর জীবন কাটান।

আনন্দের প্রথম পক্ষের সন্তান আজহান। কথিত আছে, আজহানের জন্মদাত্রী তাইল্যান্ডের রাজ পরিবারের সদস্য। আজহানের শরীরেও নাকি তাই রাজবংশের রক্ত বইছে। বর্তমানে তাইল্যান্ডের একটি মঠে বৌদ্ধভিক্ষু হিসাবে জীবন কাটালেও আজহানের বেড়ে ওঠা ব্রিটেনে। দুই বোনের সঙ্গে সেখানেই তিনি মানুষ হয়েছেন। বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা রয়েছে আজহানের। মোট আটটি ভাষা রপ্ত করেছেন তিনি।




বঙ্গোপসাগরে এক জেলে পেলেন ৪০ লাখ টাকার ইলিশ

চন্দ্রদীপ প্রতিনিধি (পটুয়াখালী): কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে ৯৬ মণ ইলিশ। পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়ার সীমানায় জাল ফেলে রোববার বিকেলে তিনি এই মাছ পান।

ওই জেলের নাম মো. মিজান। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। তিনি নোয়াখালী এলাকার এফবি ভাই ভাই ট্রলারের মালিক।

সোমবার দুপুরে মাছ নিয়ে তিনি পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে আসেন। বিকেলে ওই মৎস্য বন্দরের ফয়সাল ফিস নামের একটি আড়তে ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টাকায় এই ইলিশ বিক্রি করেন।

মিজান বলেন, ‘মাছ পাইমু আই চিন্তাও হরি নাই। ধার-দেনায় আই জর্জরিত হইয়া গেছি। মাছ বিক্রি করি যে-ই টেহা হাইছি, হেগুন দি আই দেনা শোধ করি দিমু।’

সাগর থেকে ফিরে আসা এক জেলে জানান, আবহাওয়া ভালো হওয়ায় জাইল্যারা সাগরে যাওয়া শুরু করেন এবং ধরা পড়ছে। কেউ ১০ মণ, কেউ ১২ মণ কইর‍্যা ইলিশ পাইছে। এই তো মিজানের জালে ৯৬ মণ ইলিশ ধরা পড়লো।

মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফয়সাল ফিসের মালিক মো. ফজলুর রহমান গাজী জানান, গত পাঁচ দিন আগে নিজের ট্রলার নিয়ে নোয়াখালীর সামরাজ থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান জেলে মিজান। পায়রা বন্দরের শেষ বয়ার সীমানায় জাল ফেলেন তিনি। রোববার জাল তোলার পর ৯৬ মণ ইলিশ পান। চলতি মৌসুমে এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। এ পর্যন্ত যারা সাগরে মাছ ধরতে গেছেন তাঁদের মধ্যে মিজানই সবচেয়ে বেশি মাছ পেয়েছেন।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, জেলেদের জালে এখন প্রতিদিনই প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। রোববার ও সোমবার যেসব জেলেরা সাগর থেকে মৎস্য বন্দরে এসেছে তারা সবাই প্রচুর ইলিশ নিয়ে ফিরেছেন। সামনের দিনগুলোতে আরও ইলিশ ধরা পরবে বলে আশা রাখি। এটা ৬৫ দিনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার সুফল।’




এই বিয়ে তো বিকৃত রুচির লক্ষণ : হাইকোর্ট

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির দাতা সদস্য একজন ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন। এটা তো বিকৃত রুচির লক্ষণ। সোমবার আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের আগাম জামিনের আবেদনের শুনানিকালে বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগের মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।

গত ১ আগস্ট ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক বেগম মাফরোজা পারভীনের আদালতে কলেজছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলায় মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়। যিনি ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন। এই মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদী। শুনানির শুরুতে একটি হুইল চেয়ারে করে আদালতে হাজির হন অধ্যক্ষ।

এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, উনি কে? হুইল চেয়ারে কেন? জবাবে অধ্যক্ষের আইনজীবী রেদোয়ানুল করিম বলেন, উনি আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ। পা ভেঙ্গে যাওয়ায় তিনি হুইল চেয়ারে এসেছেন। আদালত বলেন, আমরা তো গণমাধ্যমে দেখেছি উনি ছাত্রীকে নিয়ে আসামির বাগান বাড়িতে প্লেজার ট্রিপে গিয়েছেন? এটা কিভাবে সম্ভব? রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজুর রহমান লিখন বলেন, পিকনিকে গিয়েছেন।

এ পর্যায়ে আইনজীবী রেদোয়ানুল করিম বলেন, আসামির সঙ্গে ওই ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। আদালত বলেন, এ তো বিকৃত রুচির লক্ষণ। আদালত বলেন, ওই ছাত্রী কোন ক্লাসে পড়ে? আইনজীবী বলেন, ইন্টারমিডিয়েটে। বয়স কত হয়েছে। আইনজীবী বলেন, ১৮ বছর ৬ মাস পূর্ণ হয়েছে। আদালত বলেন, ভিকটিম কোথায়? আইনজীবী বলেন, স্বামীর (খন্দকার মুশতাক) সঙ্গে আছে। তবে তাকে সাসপেন্ড করেছে।

এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি মামলার অভিযোগের অংশ বিশেষ পড়ে শোনান। তিনি বলেন, আসামি মুশতাক বিভিন্ন অজুহাতে কলেজে আসতেন এবং ভিকটিমকে ক্লাস থেকে প্রিন্সিপালের কক্ষে ডেকে আনতেন। খোঁজ-খবর নেয়ার নামে আসামি ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রলুব্ধ করতেন। অর্থাৎ আসামি ওই ছাত্রীকে ব্লাকমেইল করেছেন। আর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, মেয়ের বয়স ১৮ বছরের উপরে। ব্লাকমেইলের প্রশ্ন আসছে কেন? যখন ভিকটিম সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে বলে আমি স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছি তখন কি মামলা থাকে? আমরা যদি ওই লাইভ না দেখতাম তাহলে বিষয়টি অন্যভাবে বিবেচনার সুযোগ ছিলো। এ যেন ‘প্রেমের মরা জলে ডোবে না’ এর মত অবস্থা।

হাইকোর্ট বলেন, এই স্কুলে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারি খাতে নেওয়া উচিত। শুনানি শেষে হাইকোর্ট অধ্যক্ষকে আগাম জামিন দেন। এ সময় অধ্যক্ষের পক্ষে আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান ও মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।




সংগীতশিল্পী মমতাজের বিরুদ্ধে ভারতের আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী ও সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ভারতের আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। চুক্তিভঙ্গ এবং প্রতারণার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট অলক দাস ৯ আগস্ট এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এই মামলায় মমতাজের বিরুদ্ধে এর আগে আরও তিনবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। এরপর মমতাজ উচ্চ আদালতের শরণাপন্নও হয়েছিলেন।
জানা গেছে, ৯ আগস্ট মুর্শিদাবাদের মুখ্য বিচার বিভাগীয় আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল মমতাজের। এর আগে এক নোটিশে জানানো হয়, সেদিন মুর্শিদাবাদের বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মমতাজ বেগমের মামলার চার্জ গঠন করা হবে। কিন্তু মমতাজ সেদিন বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে একটি আবেদনপত্র আদালতে দাখিল করে জানান, ওই সময়ে তিনি কানাডায় একটি সংগীতানুষ্ঠানে থাকবেন। ফলে আদালতে তাঁর উপস্থিত থাকা সম্ভব হবে না। মুর্শিদাবাদের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট ওই আবেদন খারিজ করে দিয়ে মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ নিয়ে মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে কলকাতায় চারবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনের জন্য মুর্শিদাবাদের অনুষ্ঠান আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শক্তি শঙ্কর বাগচীর সঙ্গে মমতাজ বেগম লিখিতভাবে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তি মোতাবেক শক্তি শঙ্করের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মমতাজ বেগম নিয়মিত অংশ নিতেন। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ১৪ লাখ রুপিতে মুর্শিদাবাদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য চুক্তিতে আবদ্ধ হন। মমতাজ অর্থও গ্রহণ করেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত চুক্তি অমান্য করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। এরপর শক্তি শঙ্কর চুক্তিভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগ এনে মুর্শিদাবাদের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করলে আদালত পরবর্তী সময়ে সমন জারি করেন। মমতাজ আদালতের নির্দেশ এড়িয়ে যান। এই মামলা শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। হাইকোর্ট থেকে মমতাজ জামিন পাননি। আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে অনুপস্থিত থাকেন।
আজ রোববার দুপুরে শক্তি শঙ্কর বাগচীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘২০০৮ সাল থেকে এই মামলা চলছে। আমিও এই মামলার শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। এই মামলায় আজ আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার সেদিনের ১৪ লাখ রুপি অগ্রিম নিয়ে অনুষ্ঠান না করায় বহু আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। আমি ন্যায়বিচার চাই। আমার অগ্রিম অর্থ সুদসহ এবং মামলার সব খরচসহ আমার ১৫ বছরের হয়রানির ক্ষতিপূরণের টাকা চাই।’
শক্তি শঙ্কর বাগচী আরও বলেন, ‘এই মামলায় লড়তে আমি ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েছি। আবেদন করেছি। আমি চাই, আমার এই দীর্ঘ ১৫ বছরের মামলা চালানোর খরচ এবং অগ্রিম প্রদত্ত অর্থসহ যাবতীয় ক্ষতিপূরণের টাকা। সেই সঙ্গে মমতাজ বেগমের এই প্রতারণা এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য যথাযথ শাস্তি।’