ভান্ডারিয়ায় সড়কের পাশে সন্তান জন্ম দিলেন ‘পাগলী”

বরিশাল অফিস: পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় রাস্তার পাশে সন্তান জন্ম দিয়েছেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পৌরশহরের ভুবনেশ্বর ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তার পাশে অজ্ঞাত পরিচয় এ মহিলা ফুটফুটে পুত্র সন্তান প্রসব করেন। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত ওই মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা ভান্ডারিয়ার বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেন। আশেপাশের দোকান থেকে খাবার খেয়ে জীবনযাপন করতেন তিনি। প্রসব ব্যথা ওঠার পর ওই নারী কারো সহায়তা ছাড়াই সন্তান প্রসব করেন।

প্রসূতি ও নবজাতক সুস্থ আছে। ভান্ডারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক মেডিকেল আফিসার কামাল হোসেনের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি অফিসে আসতে বলেন। তবে প্রসূতি ও নবজাতকের যথাযথ চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে বলে জানান।

ভান্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিকুজ্জামান বলেন, ভোর সাড়ে ৫টায় মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান জন্ম দিয়েছে এই সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।




ভিডিও ভাইরাল: সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি নামানোয় আ.লীগ নেতার গলায় জুতার মালা

বরিশাল অফিস : বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিদায়ী সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নামিয়ে ফেলার অভিযোগে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে আটকে মারধর ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। রোববার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরাফাত হাসান। তিনি বলেন, মামলা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দারের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। হেনস্তার শিকার মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু চরামদ্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বরিশালের বান্দ রোডে তার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। ব্যবসায়ীর গলায় জুতার মালা পরানোর দুটি ভিডিও (একটি এক মিনিট দুই সেকেন্ড ও অপরটি ১৭ সেকেন্ড) এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।ভা

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে বলতে শোনা গেছে, দোকান থেকে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি নামিয়ে রাখায় শাস্তিস্বরূপ ওই ব্যবসায়ীর গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে।

হেনস্তার শিকার আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু বলেন, বরিশালের ১১ নম্বর ওয়ার্ড বান্দ রোডে সোনার বাংলা মোটরস নামে আমার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। আমার কক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ছবি আছে। যেহেতু আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি এবং আমার অফিসে বিভিন্ন নেতারা আসেন। এই ইস্যু কাজে লাগিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে যে সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি আমার অফিস থেকে নামিয়ে রেখেছি। এই অভিযোগ তুলে আমাকে মারধর ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, মূলত নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দারের নেতৃত্বে আমাকে নির্যাতন করা হয়। গত ২২ আগস্ট মোবাইল ফোনে আমাকে শহীদ রহিম স্মৃতি পাঠাগার ক্লাবের পশ্চিম পাশের কক্ষে ডেকে নেয় মঈন। বিকেল ৩টার দিকে সেখানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রুম আটকে সেখানে থাকা সাব্বির, আব্দুল, কাওছার, সোহাগ মারধর শুরু করে। এরমধ্যে একজন বিএনপির সমর্থক ও বাকিরা সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী। আমাকে রুমের মধ্যে আটকে দফায় দফায় মারধর করে। মারধর করে তারা আমাকে বলতে বলে যে আমার ব্যক্তিগত অফিস থেকে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি নামিয়েছি। ওরা যতবার এই কথা বলতে বলেছে, ততবার আমি বলেছি যে সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি আমার অফিস থেকে নামাইনি। শেষে আরও মারধরের মাত্রা বাড়িয়ে দিলে বাধ্য হয়ে ওদের শেখানো কথা বলি যে সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি নামিয়েছি এবং তা অন্যায় হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী। আমাকে হেনস্তা করার জন্য কাওছার জুতার মালা বানিয়ে দেয় আর সোহাগ আমার গলায় পরিয়ে দেয়। আমি দুই-তিনবার ফেলে দিই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে আরও মারধর করে। শেষে আমি জ্ঞান হারালে গলায় জুতার মালা পরিয়ে চেয়ারে বসিয়ে ভিডিও করে। তার আগে মঈন জমাদ্দার কয়েক দফায় হুমকি দিয়েছে, আমি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহর পক্ষে কাজ করলে বরিশালে থাকতে দেবে না। সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশালে ফিরলে আমাকে মারধর করবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার প্রধান আসামি নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দার বলেন, মনিরুজ্জামান খান বাচ্চুর যে ভিডিও ছড়িয়েছে তা আমি ছড়িয়েছি এটা সত্য। কিন্তু জুতার মালা পরানোর যে ভিডিও তার আগের ভিডিওর সঙ্গে সম্পৃক্ত না। তাছাড়া ওখানে সাদিক আব্দুল্লাহর নাম বলাটাও আমার উচিত হয়নি। এটা আমি ভুল করেছি। এজন্য সাদিক ভাইও আমার ওপর খুব ক্ষিপ্ত হয়েছেন।




ভোলায় ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মী বহিষ্কার

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ ডেক্স: ভোলা সদরের তিন ইউনিয়নের পাঁচ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (২৭ আগস্ট) রাতে ভোলা জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাইহান আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসিব মাহমুদের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বহিষ্কৃতরা হলেন- ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ছাত্রলীগকর্মী মো. মাঈন উদ্দিন মাহিন, দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিরাজ আহম্মেদ, কর্মী অর্ণব রাজ, বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম হাওলাদার একই উপজেলার টবগী ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক সেজান মাহমুদ পলাশ।




নিজ ছেলেদের হাতে মারধরের শিকার ‘জন্মদাতা পিতা’

বরিশাল অফিস : বরিশাল জেলার গৌরনদী থানাধীন খানজাপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ দুলাল ফকির। তার উপরে অমানবিক হামলা চালিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন তার নিজ দুই ছেলে মোহাম্মদ রনি ফকির ও মোহাম্মদ রানা ফকির সহ তার প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ জামিলা বেগম। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই পিতা গৌরনদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ২৫ শে আগষ্ট রোজ শুক্রবার বেলা আনুমানিক ১২ ঘটিকার সময় ভুক্তভোগী দুলাল ফকিরের বর্তমান স্ত্রী মোসাম্মৎ কল্পনা বেগম তার দেবর মোহাম্মদ ফিরোজ ফকিরের জমিতে লাগানো পুইশাক তুলতে গেলে মোসাম্মৎ জামিলা বেগম তাকে অহেতুক গালিগালাজ করেন।

এ বিষয়টি কল্পনা বেগম তার আরেক দেবর মোহাম্মদ নিজাম ফকিরকে বলেন, নিজাম ফকির বিষয়টি জানার জন্য অভিযুক্তদের বাসায় গেলে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয় তার এক পর্যায়ে অভিযুক্ত মোঃ রনি ফকির ও মোহাম্মদ রানা ফকির, নিজাম ফকিরের গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে ঘরের মধ্যে নিয়ে মারধর করেন। সেখান থেকে কোনমতে তিনি বেরিয়ে আসেন পরবর্তীতে বেলা আনুমানিক ১:১০ মিনিটের সময় ভুক্তভোগী মোঃ নিজাম ফকির পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে যান।

সেখানে বসে পুনরায় মোঃ রনি ফকির ও রানা ফকিরের সাথে কথা কাটাকাটি হয় এক পর্যায়ে মসজিদের ভিতরে বসেই পুনরায় থেকে মারতে শুরু করেন অভিযুক্ত রনি ফকির ও রানা ফকির। তখন নিজাম ফকিরকে মারতে দেখে রানা ফকির ও রনি ফকিরের পিতা দুলাল ফকির এগিয়ে এসে নিজাম ফকিরকে উদ্ধার করার চেষ্টা করতে গেলে দুলাল ফকিরকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফুলা জখম করেন অভিযুক্ত রনি ফকির ও রানা ফকির, তার এক পর্যায়ে প্রথম স্ত্রী মোহাম্মদ জামিলা বেগম ও এসে হামলা চালায় দুলাল ফকিরের উপর। তখন তাকে বাঁচাতে তার ভাই ভাতিজা সহ অন্যরা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা তাদের উপরও হামলা চালিয়ে আহত করেন।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী ও পরিবারের লোকজন আরও বলেন অভিযুক্তরা তাদেরকে ফাঁসাতে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে গৌরনদী মডেল থানায় একটি মিথ্যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন বলেন উভয়পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ছেলেদের হাতে জন্মদাতা পিতা কে মেরে আহত করার এই বিষয়টি কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না সাধারন জনগণ, তাই সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে প্রচলিত আইনে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ।




গরু চুরির অভিযোগে তালতলী ছাত্রদলের তিন নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

বরিশাল অফিস: বরগুনার তালতলী উপজেলার লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রদলের তিন নেতাকে গরু চুরির অভিযোগে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ঐ তিন নেতাকে অব্যাহতি দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা ছাত্রদল। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন- প্রিন্স হৃদয় (সভাপতি), রুমন (সাধারণ সম্পাদক) ও আসাদ (সাংগঠনিক সম্পাদক)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে স্থায়ী পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।

উপজেলা ছাত্রদলের একাধিক নেতা জানান, সোমবার (২২ আগস্ট) রাতে তালতলী উপজেলার লাউপাড়া এলাকা থেকে একটি গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন ছাত্রদলের ঐ তিন নেতা। এজন্য তাদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তাঁতীপাড়া এলাকার গরুর মালিক খোকন বলেন, আমার গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া খেয়ে ঐ তিনজনসহ চোর চক্র পালিয়ে যায়। এ সময় একটি গাড়ি ফেলে রেখে যায়। গাড়িটি পুলিশ এসে নিয়ে যায়। আমি আমার গরু ফিরে পেয়েছি ও তাদের বয়স কম হওয়ায় মামলা করিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন বলেন, শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গরু চুরির বিষয়টি শুনেছি।




প্রতিবন্ধী ভাতায় অনিয়ম: থানায় মামলা না নেওয়ায় সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল অফিস: প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার কথা বলে অর্থের বিনিময়ে ভূয়া কার্ড প্রদান ও ভিজিডি কার্ডের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগের চারদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেন ভূক্তভোগীরা। এ ঘটনায় আজ রোববার দুপুরে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের পূর্ব মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা ভূক্তভোগী বেবী বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে ওই গ্রামের আবদুস ছালাম মোল্লার স্ত্রী বেবী বেগম থানায় তার দায়ের করা লিখিত অভিযোগটি এজাহারভুক্ত করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বেবী বেগম বলেন, পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম সেন্টু, তার ছোট ভাই সুমন হাওলাদার ও কিরন মালা দীর্ঘদিন থেকে ইউনিয়নের অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের ভাতার কার্ড করে দেওয়া এবং ভিজিডির কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। উল্লিখিত ব্যক্তিরা প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আমার কাছ থেকে ১৫শ’ টাকা, প্রতিবেশী মৃত রুস্তুম মোল্লার স্ত্রী হাসিনা বেগমের কাছ থেকে ভিজিডি কার্ডের জন্য ৩১শ’ টাকা, রুহুল আমিন সিকদারের স্ত্রী শাহিনুর বেগমের কাছ থেকে ভিজিডি কার্ডের জন্য ৩১শ’ ৫০ টাকা, মশিউর হাওলাদারের স্ত্রী জাকিয়া বেগমের কাছ থেকে ভিজিডি কার্ডের জন্য তিন হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

বেবী বেগম আরও বলেন, কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থের কারণে সরকারের মহতি উদ্যোগগুলো ম্লান হচ্ছে। তাই গত ২৪ আগস্ট থানায় উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ওইসব ভূক্তভোগীরা স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছেন। অথচ থানা পুলিশ রহস্যজনক কারণে লিখিত অভিযোগটি এজাহারভুক্ত করছেন না।

উল্টো বাকেরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা আমাকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে বিষয়টি সমাধান করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। অপরদিকে অভিযুক্তনা লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য আমাকে বিভিন্নধরনের ভয়ভীতিসহ হুমকি প্রদর্শন করছেন। সংবাদ সম্মেলনে ওই ইউনিয়নের অন্যান্য ভূক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।




মুলাদিতে ডাকাতির সময়ে আত্মঘাতী হামলায় ডাকাত নিহত

বরিশাল অফিস : বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলায় ডাকাতিতে ধরা পড়ার পর ছিনিয়ে নিতে দলের অন্যদের হামলায় ১ ডাকাত নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে ।

আজ (২৭ আগষ্ট) রোববার ভোরে উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের চর সাহেব রামপুর গ্রামের লক্ষ্মীরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বাটামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সালাহউদ্দিন এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, গ্রামের এছাহাক বেপারীর ছেলে বিদেশে যাবেন। এ জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ নেন। কোনোভাবে ডাকাতরা টাকা কথা জেনে ওই বাড়িতে হানা দেয়।

তিনি বলেন, হামলার সময় পরিবারের সদস্যরা ১ ডাকাতকে জাপটে ধরেন। তাকে ছাড়াতে গিয়ে অন্য ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাবু গুরুতর জখম হয়ে মারা যায় ।

নিহত বাবু (২৭) বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মুলাদীর বাটামারা ইউনিয়নে নানাবাড়ি থাকতেন। একই পরিবারের আহতরা হলেন, রামপুর গ্রামের এছাহাক বেপারী, তার স্ত্রী মাহফুজা বেগম, ছেলে ইব্রাহিম, সুজন ও সুমন।

বরিশালের মুলাদী থানার এসআই মো. আল আমিন বলেন, খবর পয়ে পুলিশ বাবুকে উদ্ধার করে মাদারীপুরের কালকিনী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




পটুয়াখালীর ‘কুমিরমারা’য় করলায় শত কোটি টাকার ‘বাণিজ্য সম্ভাবনা’

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): একটা সময় ছিলো উত্তরাঞ্চলের সবজির উপর নির্ভর ছিলো পটুয়াখালীর মানুষ। সে দিন পরিবর্তিত হয়েছে। এখন বর্ষা মৌসুমে বানিজ্যিক ভাবে বুলবুলি ও টিয়া উচ্চ ফলনশীল জাতের করলা উৎপাদন করছে পটুয়াখালীর সবজি গ্রাম খ্যাত কুমিরমারা গ্রামের কৃষকরা।

সারা বছর এই গ্রামে বিষমুক্ত নানা জাতের সবজি উৎপাদন হয়। এবারও সবজি গ্রাম খ্যাত কুমিরমারা গ্রামে এবার করলার বাম্পার ফলন হয়েছে। যার ফলে উত্তরাঞ্চলের সবজির উপর নির্ভরতা দিন দিন কমতে শুরু করেছে।

লবনাক্ত জমিতে কান্দি পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের করলা বীজ বপন করে ৪৫ দিনের মধ্যে ফলন ঘরে তোলে কৃষকরা। এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করতে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। একবার মাচা করলে তিন বছর পর্যন্ত যায়। আর এক বিঘা জমিতে ১২ মন করলা উৎপাদন হয়। যা আড়াই লাখ টাকা বিক্রি করা হয় বলে জানান কৃষকরা। এবার করলার ভালো ফলন ও প্রতি কেজি করলা একশত টাকার উপরে বিক্রি করতে পেরে খুসি কৃষকরা।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে শত শত কোটি টাকার সবজি বিক্রি করে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সবজি গ্রাম খ্যাত কুমিরমারা গ্রামের কৃষকরা। এরমধ্যে চাহিদার শীর্ষে করলা বিক্রি করেছে কৃষকরা। আর এবছর ভালো ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় খুসি চষিরা। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৬০ টন করলা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নীলগঞ্জের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত সবজিচাষী কেউ মাথায় আবার কেউ ভ্যান ও রিকশায় করে করলা নিয়ে বাজারে আসেছে কৃষকরা। করলা চলে যাচ্ছে স্থানীয় আড়তে। এরপর ট্রাক যোগে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চরে।

সবজিচাষী জাকির গাজি বলেন, ‘আমি এবার আগাম জাতের করলা আবাদ করেছি। এগুলো প্রতিদিন বাজারে নিয়ে আসতে হয়। দাম ভালো পাচ্ছি। এবার শাকসবজিতে পোকার আক্রমণ কম। ফসল ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে খরচ তুলে লাভ হচ্ছে।’

পাইকারী বিক্রেতা আব্দুল গনি বলেন, একটা সময় ছিলো উরাঞ্চলের সবজির উপর নির্ভর করে চলতে হতো পটুয়াখালীর মানুষের। তবে এখন আমাদের এলাকার সবজি জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। করলা এবার বাজার দরও ভালো। সবজির দাম প্রতি নীয়ত পরিবতর্ন শীল তাই এক এক দিন এক এক রকম দাম থাকে।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারন বিভাগেরব উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, পটুয়াখালীর কৃষকরা বানিজ্যিক ভাবে করলা চাষ করে সফলতা অর্জন করেছে বহু বছর আগে। এখানের উৎপাদিত করলা জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হচ্ছে। প্রতি কেজি করলা একশত টাকার উপরে বিক্রি করে কৃষকরা অধিক মুনাফা অর্জন করছে। আর কৃষকরা নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

এবছর জেলায় ১০৫০ হেক্টর জমিতে করলা আবাদ হয়েছে। শত কোটি টাকার করলা বিক্রি হওয়ায় অনেক কৃষক পরিবার আর্থিক ভাবে সচ্ছল হয়েছে। সাথে দিন দিন করলা চাষ বারছে এ জেলায়।




সৌদি আরবে বয়স্কদের ৬০ শতাংশই স্থূলতায় ভুগছে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স:  সৌদি আরবে বয়স্কদের মধ্যে ৬০ শতাংশই অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা সমস্যায় ভুগছে। দেশটির এক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর গাল্ফ নিউজের।

ডক্টর আবদুল রহমান আল কাহতানি বলেন, দেশটির প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে তিনজনেরই অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলকায়। ১০ বছরের গবেষণার পর সৌদি স্বাস্থ্য কাউন্সিলের সঙ্গে সমন্বয় করে এই তথ্য প্রকাশ করে।

সৌদি টেলিভিশন আল আখবারিয়াকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, এই পরিসংখ্যান খুবই উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার কারণে অন্যান্য রোগের প্রকোপ বাড়ছে, যা স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থূলতার অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরে ড. আল কাহতানি বলেছেন, এ বিষয়ে ২০১৯ সালে খরচ হয়েছে ৭২ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল। ২০২৩ সারে স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে পাবলিক বাজেটের ৩৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য সচেতনতা বিশেষজ্ঞ উচ্চ-ক্যালোরি ও চর্বিযুক্ত খাবার সহ অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার জন্য স্থূলতাকে দায়ী করেছেন।




মির্জাগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে এক পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত ব্যক্তিরা হলেন, কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গাবুয়া গ্রামের মো: শাহ আলম (৬০) মো: শামীম (২৬), শারমিন আক্তার (২৩)। আহতরা মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (২৬) আগস্ট সকালে উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গাবুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

হামলায় নেতৃত্বকারী ব্যাক্তিরা হলেন- একই এলাকার মৃত খলিফ হাওলাদারের ছেলে সেলিম হাওলাদার, তপেজ হাওলাদারের দুই ছেলে সেন্টু হাওলাদার ও মন্টু হাওলাদার।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধ শাহ আলম জানান, বাড়ি এবং বাড়ি সংলগ্ন ভিটায় পৈত্রিক সূত্রে তিনি পাওয়া ২৪০ শতক জমি নিয়ে সেলিম ও তপেজ হাওলাদারের সাথে তিন বছর ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। জমি দখল নিয়ে কয়েকবার সালিস হয়েছে। সালিস মীমাংসার মাধ্যমে আমরা জমির দখলে যাওয়ার অনুমতি পাই। গতকাল (শুক্রবার) তারা জোরপূর্বক আবার ওই জমি চাষ করতে গেলে আমরা বাধা দেই পরে তারা সেখান থেকে চলে যায়। সন্ধ্যার পরে পার্শ্ববর্তী কুমরাখালী বাজারের থেকে ফেরার পথে তারা আমার ছেলে শামীমকে মারধর করে। পরে আমরা রাত বারোটায় অভিযোগ দিতে থানায় গেলে কর্তব্যরত পুলিশ আজ সকালে পুলিশ আসবে বলে আমাদেরকে পাঠিয়ে দেয়। সকালে শারমিন মুখ ধোয়ার জন্য বাড়ির টিউবওয়েলে যায়। এ সময় সেলিম হাওলাদার এসে গতকাল (শুক্রবার) রাতে কেন থানায় গেছ বলে রড দিয়ে অতর্কিত পিটিয়ে আহত করে। এ সময় চিৎকার শুনে আমি ও আমার ছেলে ঘটনাস্থলে গেলে সেলিম সেন্টু ও মন্টু হাতে থাকা রড দিয়ে আমাদের এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সেলিম হাওলাদার সেন্টু ও মন্টু হাওলাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে থানার একজন উপপরিদর্শক পাঠানো হয়েছিল। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।