বিটল পোকা চাষে সফল বরিশালের অপু

বরিশাল অফিস : প্রথমবারের মতো এবার বরিশালেও বিটল পোকার চাষ শুরু হয়েছে। এর আগে কেউ আর বিটল পোকার চাষ করেনি। এজন্য তার এই খামার দেখতে আসছেন অনেকেই। এই পোকা চাষে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন । এতে করে মাছ, মুরগী, গরু ছাগলের খাবারের খরচ অনেকটা কমে যাবে বলে দাবী বিটল পোকা চাষীরা । যে কারণে ইতিমধ্যেই বিটল পোকা চাষে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ।

বিটল পোকা প্রথম আবিষ্কার করে ইসরায়েল। তারপর চীনসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে এটির চাষাবাদ শুরু হয়। এটি দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের কাঠপোকার মতো। তবে পার্থক্য এটাই যে এ পোকা উড়তে পারে না। তাই এই পোকা বাড়ির যেকোন জায়গায় সহজে লালন পালন করা যায়। এই পোকা হাঁস, মুরগি ও কবুতরকে সরাসরি খাওয়ানোর পাশাপাশি সহজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটিকে পাউডার তৈরী করেও হাঁস-মুরগিকে খাওয়ানো যায়।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন খামার থেকে প্রতি কেজি বিটল পোকার পাউডার ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এটি সারাদেশে ব্যাপক পরিমাণে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ এখনো শুরু হয়নি।

জানা যায়, দুবছর আগে বরিশালের দুই উদ্যোক্তা পিটার গোমেজ ও অপু গোমেজ বরিশাল শহরে বিটল পোকার চাষ শুরু করেন। তাদের খামার দেখে বরগুনার একজন মাহবুবুল আলম মান্নুও তিনমাস আগে ১ হাজার পোকা নিয়ে বরগুনাতে পরীক্ষামূলক খামার শুরু করেছেন। এই পোকা আট মাস পর্যন্ত ডিম পাড়বে। এই ডিমই লার্ভা। একটি লার্ভায় প্রায় ৮০টি ডিম থাকে।

সরেজমিনে, বরিশালের পুলিশ লাইন আমবাগান এলাকায় অপু গোমেজের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তিনি তার নিজস্ব বেডরুমেই এই পোকার চাষ করছেন। এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রশিক্ষণ নিয়ে তবেই তিনি ও তার ভাই পিটার এই বিটোল পোকার চাষে মনযোগী হয়েছেন। তার ঘরে থরে থরে সাজানো বাক্সে কোনোটিতে লার্ভা, কোনটিতে শুটকিট। এই পোকা আটমাস পর মারা যায়। এই আটমাসে লক্ষাধিক ডিম দিয়ে যায়।

খুব কম খরচে এবং খুব সহজেই অভিনব পদ্ধতিতে বিটল পোকার চাষ করা যায় এবং বিটল পোকায় আছে ৪০-৭০% প্রোটিন। এই পোকা চাষে কোনো ময়লা ও দুর্গন্ধ হয় না বলে জানান বরিশালের উদ্যোক্তা চাষী অপু গোমেজ।

তিনি বলেন, এই পোকা আপনার হাঁস, মুরগী, কোয়েল পাখি, লাভ বার্ড ও মাছের খাদ্যে প্রোটিন এর চাহিদা পূরণ করবে। বর্তমানে মৎস্য, পোল্ট্রি ও হাঁস-মুরগি পালনের খাদ্য ব্যয় ও রোগবালাই অনেক বেড়েছে। প্রায় প্রতিটি খামারের ৮০ ভাগ ব্যয় হচ্ছে খাদ্যের পেছনে।

অপু গোমেজ বলেন, গুণগতমান সম্পন্ন খাদ্যের ব্যাপক সংকট রয়েছে। উচ্চমূল্যে পোল্ট্রি খাদ্য কিনতে হচ্ছে। মূলত এজন্যই অধিকাংশ খামারিদের প্রায়ই লোকসান গুণতে হয়। তবে এখন আর হাঁস, মুরগি, কবুতর, পাখি ও মাছের প্রোটিনের অভাব নিয়ে কারো চিন্তা নেই। খুব কম খরচে সহজেই এখন বিটল পোকার চাষ করা যাচ্ছে। আমি আমার খামারে এখন এই বিটল পোকাই বেশি ব্যবহার করছি।

তিনি আরও বলেন, বরগুনার মান্নুও আমার থেকে কিছু বিটোল পোকা কিনে নিয়ে সে এখন সফলতার পথ খুঁজে পেয়েছেন। আমি ঢাকার এক ব্যবসায়ীর থেকে ৩০ টাকা দরে প্রথম লার্ভা কিনে এনেছিলাম। আজ আমার কাছে নিজের খামারে ব্যবহারের পরও ২৫ হাজারের বেশি বিটোল পোকা রয়েছে।

অপু গোমেজের এই চাষাবাদ সম্পর্কে বরিশালের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ শওকত ওসমান বলেন, বরিশালে বিটল পোকার চাষ একটি আনকোরা উদ্যোগ। দেশীয় খামারিদের জন্য এ পোকার সরাসরি চাহিদা এখনও তৈরী হয়নি। ভালো বাজার তৈরী হলে বিভিন্ন খামারের খাদ্য-পুষ্টি চাহিদায় বিটল পোকা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিকট পোকা চাষীদের সাথেও অন্য উদ্যোক্তাদের পাশে সব সময় কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যহত রয়েছে ।




ক্রিকেট ব্যাট তৈরীর গ্রাম পিরোজপুরের ‘বিন্না’: হাজারো নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর) :  গ্রামের নাম বিন্না।এটিকে সবাই চেনে ‘ক্রিকেট ব্যাটের গ্রাম’ হিসেবে। পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের অবহেলিত এ জনপদ আধুনিকতার কোন ছাঁপ পড়েনি এখনও । তবে বসে নেই এ গ্রামের সংগ্রামী নারী-পুরুষ। ক্রিকেট ব্যাট তৈরী করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে এখানের হাজারও মানুষের।

দীর্ঘ এক যুগ ধরেই কাঠ ব্যবসার সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে ব্যাপক পরিচিত নেছারাবাদের ইন্দেরহাট, বিন্না, জিলবাড়ি, চামি, ডুবি, উড়িবুনিয়া, পঞ্চবটি ও বলদিয়াসহ আরও পনেরটি গ্রাম। নিভৃত এসব গ্রামেই গড়ে ওঠেছে অসংখ্য ক্রিকেট ব্যাট তৈরির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কারখানা। বর্তমানে কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছে অন্তত আড়াই তে থেকে  তিন হাজার মানুষ। প্রতিদিন এসব গ্রাম থেকে শত শত ব্যাট তৈরী করে পাঠানো হচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সরঞ্জামাদির দোকানে। এখান থেকে দেশের শতকরা ৭০ ভাগ তৈরী ব্যাটের চাহিদা পূরণ  হয়।

নেছারাবাদের বেলুয়া নদের তীরে অবস্থিত উড়িবুনিয়ার  ছুঁতোর পরিবারে জন্ম নেয়া অতি দরিদ্র আব্দুল লতিফ মিয়া। তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে কাজের সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে কাঠ মিস্ত্রী হিসেবে জুরাইনের ‘খেলার সাথী’ নামে একটি কাঠের কারখানায় কাজ পান। আর সেখান থেকেই বিভিন্ন খেলার সামগ্রী যেমন -প্রাইজ শিল্ড, ক্রিকেট ব্যাট, ক্যারমবোর্ড ও হকি ষ্টীক মেরামতের কাজ রপ্ত করেন তিনি। এরপর থেকেই লতিফের মাথায় চেপে বসে ক্রিকেট ব্যাট তৈরির নেশা। বিদেশী ব্যাট তৈরীর সমমানের স্থানীয় গাছের সন্ধান করতে থাকেন তিনি। খুঁজে বের করেন দেবদারু, কদম ও বাইনসহ নানা প্রজাতি গাছের কাঠ দিয়ে শুরু করেন ক্রিকেট ব্যাট তৈরীর কাজ। সস্তায় ব্যাট তৈরীর লক্ষ নিয়ে ঢাকা ছেড়ে চলে আসেন নিজ গ্রাম বিন্নায়। নিজ বাড়ীতে গড়ে তোলেন ব্যাট তৈরীর ক্ষুদ্র কারখানা। ঢাকার বাইরে নেছারাবাদে এটাই ব্যাট তৈরীর আদি কারখানা। আব্দুল লতিফ মিয়া মারা গেলেও তার শুরু করা ব্যবসা এখন গ্রামবাসীর জীবীকার অবলম্বন।

ব্যাট তৈরীর কারিগর আরেক কারগির আবুল কালামের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র ঋণ সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়ে অংশ নিয়েছিলেন স্বামীর ক্রিকেট কারখানার অন্যতম মালিক হিসেবে। কানাডার হ্যালিফ্যাক্সে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে নিলুফা যোগদেন নোবেল বিজয়ী ড. মোঃ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে।

‘পদক্ষেপ’ নামের একটি এনজিওর ক্ষুদ্র ঋণ গ্রুপের সফল শিল্প উদ্যোক্তা নিলুফ ইয়াসমিন। ওই বছরই নিলুফা ঢাকায় সিটি গ্রুপ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পুরস্কার পান। কানাডার সম্মেলন থেকে অন্যান্য পুরস্কার ছাড়াও নিলুফাকে ৪ হাজার মার্কিন ডলার নগদ অর্থ উপহার হিসেবে দেয়া হয়। বাংলাদেশী ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা সমমানের এ উপহারের অর্থ দিয়ে কালাম-নিলুফা দম্পত্তি জমি কিনে বাড়ী ও ব্যাট কারখানা গড়ে তুলেন।

ব্যাটের কারিগররা জানান, প্রাথমিকভাবে গাছ চেরাই করে ব্যাট উৎপাদন করলেও সেগুলোকে পরবর্তীতে ঢাকায় প্রেরন করা হত এবং সেখানেই ঘসামাজা, বার্নিস এবং লেবেল লাগিয়ে বিক্রয় করা হত। কিন্তু বর্তমানে সেই কাজ গ্রামে বসেই করছে আর এক পর্যায়ের ব্যাট ব্যাবসায়ীরা। পরে সেই ব্যাটগুলোকেই ঢাকাসহ পিরোজপুর, বরিশাল ও খুলনায় বিক্রয়ের জন্য পাঠানো হচ্ছে।

উৎপাদনকারী স্থানীয় ব্যাট কারিগররা ‘চন্দ্রদীপ নিউজ ২৪’-কে জানান, প্রকারভেদে বিভিন্ন গাছের ব্যাট বার্নিস, রং, লেবেল ও হাতলে প্লাস্টিকজাতীয় এক ধরনের টেপ লাগিয়ে বিক্রয় করা হয় ১৫০ টাকা থেকে ৩00 টাকায় ।

নেছারাবাদের ব্যাট শিল্প এবং অত্র শিল্পের কারিগরদেরকে নিজ পেশায় টিকিয়ে রাখতে হলে পর্যাপ্ত ঋন সুবিধাসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, কাচাঁ মালের মূল্য কমানো ও যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজন বলে মনে করছেন ব্যবসায়িরা ।




শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও অদম্য সিয়াম

বরিশাল অফিস: জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. সিয়াম। ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। তাই চলাফেরায় ভরসা ক্রাচ আর মায়ের হাত। শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও যেন অদম্য সিয়াম।

প্রতিদিন ক্রাচ আর মায়ের হাতে ভর করে এইচএসসি সমমানের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ও টেকনোলজি (বিএমটি) কোর্সের প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন তিনি। ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০২২ সালে এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়ে এখন ধলীগৌরনগর ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএমটি কোর্সের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দিচ্ছেন সিয়াম।

প্রতিদিন প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে তিনি ক্রাচ আর মায়ের হাতে ভর করে পরীক্ষা দিতে আসছেন উপজেলা সদরের লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সিয়াম পার্শ্ববর্তী তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝির পুকুর পাড় এলাকার মোতুরুন বেপারী বাড়ির গার্মেন্টসকর্মী শাহজাহানের ছেলে। পরিবারের তিন ভাই-বোনের মধ্যে সিয়াম সবার বড়। পরিবারের দরিদ্রতা আর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হার মেনেছে সিয়ামের অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে।

সিয়াম বলেন, আমি ঠিকমতো চলতে পারি না। তবুও প্রাথমিক থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত পড়ালেখা করছি। এর জন্য সব সময় আমার পরিবার আমাকে সহযোগিতা করছে। মা সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেন। কোথায়ও যেতে হলে মা-ই আমার সঙ্গে যায়। আমার স্বপ্ন গ্রাজুয়েশন শেষ করে একটি সরকারি চাকরি করার। চাকরি করে পরিবারের অস্বচ্ছলতা দূর করবো ইনশাআল্লাহ।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সিয়ামের মা মোসা. নাছিমা বেগম বলেন, সিয়ামসহ আমার মোট তিন সন্তান। এর মধ্যে ছেলে একজন, মেয়ে দুইজন। ছেলে সিয়াম জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। দুই মেয়ের মধ্যে এক মেয়েও প্রতিবন্ধী। ঐ মেয়ে একটুও চলাফেরা করতে পারে না। তবে ছেলে সিয়ামকে হাত ধরে সহযোগিতা করলে কিছুটা চলতে পারে। তবে বেশি হাঁটতে পারে না। তাই মাঝে মধ্যে কোলেও নিতে হয়। সিয়ামের পড়ালেখা এই পর্যন্ত চলাতে আমার অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আমার কষ্ট হলেও ছেলেটার স্বপ্ন পূরণের জন্য সব সময় তাকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছি। আমি চাই, প্রতিবন্ধী হলেও আমার ছেলে মানুষের মতো মানুষ হোক।

সিয়ামের বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধলীগৌরনগর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আকবর হোসেন বলেন, সিয়াম একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারিভাবেও যদি সিয়ামের পরিবারকে সহযোগিতা করা হয় তাহলে সে সহজে স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা দেখি অনেক সুস্থ-সবল ছেলে মেয়েরাও খুব বেশি পড়ালেখা করছে না। তবে শিক্ষার্থী সিয়াম প্রতিবন্ধী হয়েও পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি তার উচ্চশিক্ষার জন্য সফলতা কামনা করছি। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সরকারি যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সিয়ামকে তার সবকিছুই দেওয়া হচ্ছে। সিয়ামের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে যত ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হবে তা প্রদানের চেষ্টা করবো।




ফুটপাতে জন্ম নেয়া সেই সন্তান ঠাঁই পেল ছোটমনি নিবাসে

বরিশাল অফিস: ফুটপাতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর প্রসব করা নবজাতককে ছোটমনি নিবাসে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা ভবানী সংকর বল।

সোমবার স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে মাকেসহ নবজাতককে সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত বরিশালের গৈলা আগৈলঝাড়া উপজেলায় ছোটমনি নিবাসে পাঠানো হয়।

এর আগে, রোববার (২৭ আগস্ট) ভান্ডারিয়া পৌরশহরের ওভারবিজ্র লাগোয়া ফুটপাতে ওই নারী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন।

স্থানীয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন যাবত মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী ভান্ডারিয়া পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করতেন এবং আশপাশের দোকান ও পথচারীদের কাছ থেকে চেয়ে খাবার খেতেন। রোববার প্রসববেদনা ওঠার পরপরই ওভারবিজের ফুটপাতে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। এ সময় কয়েকজন নারী এ অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিক নবজাতক ও মাকে ভান্ডারিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে সমাজসেবা অধিদফতরের ব্যবস্থাপনায় ছোটমনি নিবাস পাঠানো হয় তাদের।

বরিশাল ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়াছিন আরাফাত রানা জানান, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ওই নবজাতককে ছোটমনি নিবাসে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার খোঁজ-খবর রাখা হবে।




চীনে ২৫ বছর বয়সে বিয়ে করলে নগদ অর্থ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ চীনের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিয়ের প্রতি অনাগ্রহ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আর তাদের এমন অনাগ্রহের কারণে দেশটির জনসংখ্যাও কমছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে তরুণ বয়সেই বিয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে দেশটির সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খবর রয়টার্সের।

এবার চীনের পূর্বাঞ্চলের চ্যাংসান কাউন্টি ঘোষণা দিয়েছে, যদি কোনো তরুণ-তরুণী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ওই নববধূর বয়স ২৫ বছর বা তার কম হয়, তাহলে নতুন দম্পতিকে নগদ ১ হাজার ইউয়ান পুরস্কার দেওয়া হবে।

চ্যাংসান কাউন্টির অফিসিয়াল উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে এ-সংক্রান্ত একটি নোটিশ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘উপযুক্ত বয়সে বিয়ে’ এবং ‘গর্ভধারণের’ জন্য এই পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব দম্পতির সন্তান রয়েছে, তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিশেষ সুযোগ-সুবিধাও রেখেছে তারা।

২০২২ সালে গত ৬০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের জনসংখ্যা কমে যেতে দেখা যায়। জন্মহার খুবই কম হওয়ায় দেশটিতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে গেছে। অপরদিকে বেড়ে গেছে বয়স্কদের সংখ্যা। এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে চীন। এর পর জন্মহার বাড়াতে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেয়।




বিএসএমএমইউতে শিশু কিডনি রোগীদের জন্য নতুন আইসিইউ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) শিশু নেফ্রোলোজি বিভাগে দুই শয্যাবিশিষ্ট ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন এই আইসিইউ দুটি চালুর ফলে শিশু কিডনি জটিল রোগীদের অন্য কোনো হাসপাতাল বা বিভাগে নেওয়ার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ব্লকের তৃতীয় তলায় শিশু নেফ্রোলজি বিভাগের ওয়ার্ডে এই নতুন আইসিইউর উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনের সময় নেফ্রোলজি বিভাগের এ আইসিইউর সফলতা কামনা করে দোয়া করা হয়। এসময় বক্তারা জানান, এ আইসিইউ দুটি চালুর ফলে শিশু কিডনি জটিল রোগীদের অন্য কোথাও নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ওয়ার্ডে ভর্তি করা কিডনি রোগে আক্রান্ত শিশুদের এখানেই সেবা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। এসময় তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন স্বাস্থ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণায় নতুনত্ব আনার জন্য কাজ করছে। এসব কাজে নিত্যনতুন প্রযুক্তি ও সুবিধা সংযোগ করাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা বর্তমানে এ হাসপাতালের সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা এ হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধির জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্টদের।

এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. রনজিত রঞ্জন রায়, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, হল প্রোভোস্ট অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তাফা জামান, শিশু নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফরোজা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিটোম্যার্টানাল বিভাগে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক ডা. তাবাসুম পারভীনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।




এশিয়া কাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কী কী থাকছে?

চন্দ্রদ্বীপ স্পোর্ট নিউজ: ব্যাপক জলঘোলা করার পর অবশেষে মাঠে গড়াচ্ছে এশিয়া কাপের এবারের আসর। শুরুতে পাকিস্তানে টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা থাকলেও ভারতের আপত্তিতে সেখানে আয়োজন নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। পরবর্তীতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠীর প্রস্তাবে হাইব্রিড মডেলে এশিয়া কাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আগামীকাল বুধবার (৩০ আগস্ট) পর্দা উঠবে এশিয়া কাপ-২০২৩ এর। হাইব্রিড মডেলে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় হবে এবারের এশিয়া কাপ। মূল আয়োজক পাকিস্তান হওয়ায় এশিয়া কাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে সেখানেই।

৩০ আগস্ট বুধবার পাকিস্তান ও নেপালের ম্যাচের আগে হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে এই অনুষ্ঠান। পাকিস্তানের মুলতান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন উপ-মহাদেশের বিখ্যাত সংগীত শিল্পী ও সুরকার এআর রহমান। পাকিস্তানের খ্যাতিমান শিল্পী আতিফ আসলামও গান পরিবেশন করবেন। এছাড়াও ট্রেডিশনাল এশিয়ান মিউজিক ও নৃত্য পরিবেশনা থাকবে। সবশেষে থাকবে আতশবাজির প্রদর্শনী।

ভারতের স্টার স্পোর্টস চ্যানেলে সরাসরি দেখা যাবে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এছাড়া বাংলাদেশের টি-স্পোর্টসেও দেখা যাবে বিশেষ এই আয়োজন।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক পাকিস্তান এবং নেপাল। পরদিন ৩১ আগস্ট পাল্লেকেলেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামবে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা।

 




ঝালকাঠির নলছিটিতে বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশন

বরিশাল অফিস: হাসান হাওলাদারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেম তরুণীর। এরই মধ্যে ২০১৮ সালে সৌদিতে পাড়ি জমান প্রেমিক হাসান। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ হয় দু’জনের। ওই তরুণীকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাসও দেন। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে আসেন হাসান। এরপর মার্চে ঢাকা থেকে লঞ্চের এক কেবিনে বরিশালে আসেন তারা। ওই সময় তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এছাড়াও এক আত্মীয়র বাড়িতেও তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। একপর্যায়ে হঠাৎ অন্য মেয়েকে বিয়ের প্রস্তুতি নেন প্রেমিক। এমন খবরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এসে অনশনে বসেন ওই প্রেমিকা।

ঘটনাটি ঘটেছে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের উত্তমাবাদ গ্রামে। শনিবার (২৬ আগস্ট) রাত থেকে প্রেমিক হাসানের বাড়িতে অনশন শুরু করেন ওই তরুণী।

অনশনকারী ওই তরুণী জানান, ২০১৬ সালে হাসান হাওলাদারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপরে ২০১৮ সালে কাজের জন্য হাসান হাওলাদার সৌদি আরব যান। এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ হয় দু’জনের। হাসান হাওলাদার ওই তরুণীকে বিয়ের আশ্বাস দেন। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে আসেন হাসান হাওলাদার। এরপর তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন ওই তরুণী। তখন হাসান জানান- তার বড় ভাই ও বোনের কাছে তিনি টাকা পান। এই টাকা পেলেই তিনি বিয়ে করবেন।

চলতি বছরের মার্চে ঢাকা থেকে লঞ্চের এক কেবিনে একত্রে হাসান হাওলাদার ও ওই নারী বরিশালে আসেন। এ সময় তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানান ওই নারী। এছাড়াও রমজানের ঈদের সময় ওই তরুণীর খালার বাড়িতে বেড়াতে যান হাসান হাওলাদার। তখনও তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপরে হঠাৎ বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করেন হাসান হাওলাদার। ফলে ওই তরুণী বাদী হয়ে হাসানের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

সম্প্রতি হাসান অন্য এক মেয়েকে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন খবরে প্রেমিকের বাড়িতে এসে অনশনে বসেন ওই প্রেমিকা।

উত্তমাবাদ গ্রামের ইউপি সদস্য মো. মানিক জানান, ‘আদালতে যেহেতু একটা মামলা চলামান রয়েছে তাই আমি ওই নারীকে আপাতত হাসানের বাড়ির পাশে ওই তরুণীর এক আত্মীয়র কাছে রেখে এসেছি। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারকে নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসা হবে।




মির্জাগঞ্জে হনুমানের আক্রমণে স্কুলছাত্র গুরুতর আহত

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী শহর এলাকায় একটি বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান দেখা গেছে।

সোমবার (২৮ আগস্ট) বিকাল পৌনে চারটার দিকে সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হনুমানটি দেখতে পায় স্থানীয়রা। এসময় উৎসুক জনতা উত্ত্যক্ত করলে হনুমানটি আক্রমণ করে বসে। এতে আরিফ হোসেন (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র গুরুতর আহত হয়। সে অত্র স্কুলের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার বিকাল পৌনে চারটার দিকে সুবিদখালী হাই স্কুলের প্রধান ফটকের পাশে বাউন্ডারীর উপর হনুমানটি দেখতে পায় ছাত্রছাত্রীরা। একই সময় বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা চলছিল। হনুমানটি দেখতে ধীরে ধীরে স্থানীয় লোকজন ভিড় করলে সে মাঠের মধ্যে প্রবেশ করে। এসময় উৎসুক ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয়রা হনুমানের চারপাশে ঘিরে ধরে তাকে উত্যক্ত করতে থাকে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে সে এক ছাত্রীকে আক্রমণ করে বসলে ওই ছাত্রী দৌড়ে চলে যায়। পরে মাঠের মধ্যে প্রবেশ করে খাইরুল নামে এক ফুটবল খেলোয়ারকে আক্রমণ করলে সেও দৌড় দেয়। এরপর আরিফ হনুমানটিকে ঢিল ছুড়লে তাকে আক্রমণ করে বাম হাতের মাংস তুলে নিয়ে যায়। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। তবে এ ঘটনার পর হনুমানটিকে আর দেখা যায়নি।




স্বামী চিনতে ভুল করে আলবাকে জড়িয়ে ধরলেন মেসির স্ত্রী

চন্দ্রদীপ স্পোর্টস ডেস্ক : আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি বর্তমানে মায়ামিতে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। একের পর এক এনে দিচ্ছেন সাফল্য। কদিন আগেই দলকে জিতিয়েছেন লিগস কাপের শিরোপা। মেসির এমন সুসময়ে হুট করেই আলোচনায় স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সতীর্থ জর্দি আলবার একটি ভিডিও।

খেলায় জয়ের পর মাঠের মধ্যে ফুটবলাররা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা সেলিব্রেট করছেন। সেখানে দেখা যায়, মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন মেসির খোঁজে।

এর পর আন্তোনেলা তার দিকে এগিয়ে আসা মেসির সতীর্থ জর্দি আলবাকে জড়িয়ে ধরেন। এর পর আলবাকে মেসি ভেবে চুমু খেতে যাচ্ছিলেন আন্তোনেলা। তবে ততক্ষণাৎ আন্তোনেলা বুঝতে পারেন তিনি মেসি নন।

কাছাকাছি আসতেই দুজনই চমকে যান। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানান জর্দি ও আন্তোনেলা। তার পর জর্দি মেসির সন্তানদের দিকে এগিয়ে যান। আর মেসির স্ত্রী সামনের দিকে এগিয়ে যান।

এদিকে কদিন আগেই বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের ফুটবলার হেনিফার হারমোসোকে পুরস্কারের মঞ্চে ঠোঁটে চুমু দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস। যে ঘটনায় ফুটবলার থেকে সংগঠন, সবাই আওয়াজ তুলেছিল।