পিরোজপুর পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরে নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক অকেজো হয়ে পড়েছে : ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে

এস এম পারভেজ, পিরোজপুর :   সাম্প্রতিক অতিবর্ষনের প্রায় এক মাস হতে চললেও পিরোজপুরের পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের নবনির্মিত সেতুটির সংযোগ সড়কের দুই পাশ ধ্বংসে পড়লেও দীর্ঘদিনে সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। ফলে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে দুই পাড়ের স্কুল কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থী ও মানুষজনকে যাতায়াত করছে ।

এলাকাবাসির অভিযোগ, প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সেতুটি নির্মাণ করে।এসময় সংযোগ সড়কে শক্ত মাটির বদলে দেওয়া হয়েছে বালি, ফলে অতিবর্ষনে সংযোগ সড়কের বালি সড়ে পড়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নথিপত্র থেকে জানাযায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পিরোজপুর জেলার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর এলাকায় ৮ কোটি ৪৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে সেতুটি নির্মানের কাজে হাত দেয় ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের জুন মাসে সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ না করেই অজ্ঞাত কারনে বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। ফলে বাকি থাকে সেতুর দু’পাশের সংযোগ সড়কের কাজ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের শুরুতে সংযোগ সড়কের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করলে কোনো উদ্বোধন ছাড়াই যানবাহন চলাচল শুরু করে । ৩ মাস যেতে না যেতেই দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়কে শক্ত মাটির বদলে বালি দেওয়ায় বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ছে রাস্তা। সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারপার করতে হচ্ছে ছোটবড় অসংখ্য যানবাহন। এদিকে, সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় জনদুর্ভোগের কথা বলছেন জনপ্রতিনিধিরাও।

এদিকে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কবে নাগাদ ভাঙ্গা সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করবে এবং সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরু হবে তা সঠিক করে কিছুই বলতে পারছে না এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সত্তার। তবে তিনি জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে ভাঙা সড়কটি সংস্কার করে দেওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে শুরু হওয়া সেতুটি কার্যাদেশের দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও ওই কাজ শেষ হতে সময় লেগেছে প্রায় ছয় বছর। স্থানীয় সূত্র বলছে, এলজিইডির কর্মকর্তাদের উদাসীনতাই জনগনের এখন চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

 




পিরোজপুরে এই প্রথম বানিজ্যিকভাবে চুইঝাল এর আবাদ শুরু

এস এম পারভেজ, পিরোজপুর: উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরের কৃষকদের মাঝে নতুন রূপে এক নতুন মসলাজাতীয় ফসল এবং দেশ-বিদেশ জুড়ে রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি, তার নাম হচ্ছে চুইঝাল। প্রতিবেশী খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে এর ব্যাপক আবাদ ও স্বাদে-গুনে অনন্য এই চুইঝালের ব্যাপক ব্যাপকহার থাকায় বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলায় বানিজ্যিকভাবে চুইঝালের চাষাবাদ শুরু হয়েছে । চুইঝালের বৈজ্ঞানিক নাম -পেপার চাবা।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার আবহাওয়া ও মৃত্তিকাতে প্রায় সকল ধরনের ফসল চাষাবাদ করা  যায়, উৎপাদনও ভালো হয়। জিভে জল আনা চুইঝালের মাংস খেয়েছেন অনেকেই। তবে আমরা অনেকেই এই মজাদার মসলাটি সম্পর্কে তেমন জানিনা। বাহারি স্বাদের মসলাটি এখন উপকূলীয় অঞ্চল পিরোজপুরের মানুষের কাছেও বেশ পরিচিত হয়ে উঠতেছে । দেখতে অনেকটা পান পাতার মত। চুইঝাল সাধারনত দুই প্রকারের হয়ে থাকে। এর একটি গেছো চুইঝাল (গাছে বেয়ে ওঠে) ও অপরটি ঝাড় চুইঝাল (উঁচু মাটিতে বা মাচায় চাষ করা যায়)।

চুইঝালের বিশেষত্ব: এটি স্বাদে ঝাল, তবে ঝালটার আলাদা মাদকতা আছে। খুব তীব্র নয়, ঝাল ঝাল ভাব। এই ভাবটাই চুই খাওয়ার পর স্বাদটাকে আরও বেশী রসময় করে তোলে।

চুইঝালের উপকারিতা সম্পর্কে কৃষিবিদগন জানান, ক্যান্সার, হৃদরোগ, গায়ে ব্যাথা, ক্ষুধামন্দা, গ্যাস্ট্রিক, এ্যাজমা, অনিদ্রাসহ অসংখ্য রোগের প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে।

নাজিরপুর উপজেলার গাওখালী ইউনিয়নের মধুভাংগা গ্রামের তরুন কৃষি উদ্যোক্তা প্রনব হালদার কৃষির উপর পড়াশুনা ও বিভিন্ন প্রশিক্ষন শেষে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় বিভিন্ন দেশী-বিদেশী ফলের চাষাবাদের পাশাপাশি পরিক্ষামূলকভাবে পতিত জমিতে চুইঝালের আবাদ শুরু করেন গত বছরের মাঝামঝি সময়। তার কৃষি বাগান থেকে তিনি ফলের পাশাপাশি বিভিন্ন ফলের চারাও বিক্রয় করেন। এবছর তিনি অন্য এক উদ্যোক্তাকে সঙ্গে নিয়ে ১৫ শতাংশ জমিতে বানিজ্যিকভাবে এই চুইঝালের আবাদ করেছেন।

উল্লেখ্য, বানিজ্যিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় চুই প্রকারভেদে বাজারে বিক্রয় হয়ে থাকে। নীচে প্রতি কেজি চুই ৪শত টাকা থেকে উপরে ১৬শত টাকা দরে বিক্রয় হয়। তবে, মাঝে মধ্যে ২ হাজার টাকায়ও বিক্রয় হয়ে থাকে।

পিরোজপুর অঞ্চলের কৃষকরা আশা করছেন, তেমন কোন খরচ নাই বিধায় আগামী দিনে চুইঝালের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শ এবং সরকারি প্রনোদনা ও স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋনের ব্যবস্থা হলে উপকূলে আগামী কয়েক বছরে চুইঝাল এর ব্যাপক বিপ্লব ঘটবে- আশা সংশ্লিষ্টদের।




পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল খাবার জোটে না অর্ধেক রোগীর ভাগ্যে

মো. আল-আমিন (পটুয়াখালী): গত শনিবার ভর্তি হইছি। এখন পর্যন্ত সকালের নাস্তা অথবা ভাত কিছুই পাই নাই। একদিন ভাতের জন্য গেছিলাম কিন্তু ওই বুড়া ব্যাডায় যে খারাপ ব্যবহার করছে, সরমে আইয়া পড়ছি। পরে কয়ডা মুড়ি ভিজাইয়া খাইয়া ওষুধ খাইছি। হেইপর হইতে হোটেল দিয়া ভাত কিন্যা খাই।’

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৬৫ বছর বয়সী রেণু বেগম এভাবেই হাসপাতালের খাবার সরবরাহ নিয়ে তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে আংশিক রোগীরা খাবার পাচ্ছেন। আর বাকি রোগীদের বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। অনেক রোগী দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় বাইরে থেকে ওষুধ কেনার পাশাপাশি বাড়তি টাকা খরচ করে খাবার কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আশা আশরাফ গাজী নামে এক রোগী জানান, হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও অনেক ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হয়। ওষুধ কেনার পাশাপাশি তিনবেলা বাইরে থেকে খাবার কিনে খাওয়াটা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই দুপুরে বনরুটি আর সকালে মুড়ি খেয়ে ওষুধ খাচ্ছেন। গত চারদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তারা খাবার পাননি।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মূলত ২৫০ শয্যা পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের অবকাঠামো এবং বরাদ্দ দিয়েই চলছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম। প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী ভর্তি থাকছেন। এসব ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে ২৫০ জন রোগী খাবার পাচ্ছেন আর বাকি রোগীরা খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা খাবারের মানও ভালো না। খাবার সরবরাহের দায়িত্বে খাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় রোগীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করেন।

এসব বিষয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমীন লিজা বলেন, আমরা মূলত ২৫০ জন রোগীর বিপরীতে যে বরাদ্দ থাকছে তা দিয়েই হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এর ফলে অনেক রোগীকে খাবার দেওয়া সম্ভব হয় না। বিষয়টি আমাদের জন্যও বিব্রতকর। তবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন এবং বরাদ্দ পেলে সকল রোগীকেই খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হবে।




২১ বছরেই থেমে গেল ব্রিটিশ গায়িকার কণ্ঠ

চন্দ্রদ্বীপ বিনোদন ডেক্স:  (২ সেপ্টেম্বর) নিজের বাড়িতেই শেষ নিশ্বাঃস ত্যাগ করেন তিনি। দুঃসংবাদ দিলেন গায়িকার মা প্যাম ফ্যান্টারো। ২০২২ সালে বিরল রোগ গ্লিওমা ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়েছিলেন ফায়ে। তবে সেই রোগের সঙ্গে লড়াই করে জয়ী হয়েছিলেন গায়িকা।

তবে তার লড়াইয়ের গল্প এখানেই শেষ নয়। এর আগে মাত্র ৮ বছর বয়সে একবার, পরে ১৩ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন ফায়ে। সেই দুবারই লিউকিমিয়া থেকে সেরে উঠেছিলেন। কিন্তু তাও শেষ রক্ষা হলো না। মাত্র ২১ বছর বয়সেই তার এ পথচলা শেষ।

এ গায়িকার ডেভ স্টুয়ার্টের প্রযোজনায় প্রথম গান মুক্তি পায় । সেই স্টুয়ার্টের কথায় জানা যায়, গত গ্রীষ্মে গান রিলিজের পর ফায়ে জানতে পারেন, ব্রেন টিউমার ধরা পড়েছে তার।

ডেভের ভাষ্য, ‘ফায়ের তার চারপাশের মানুষদের আনন্দ, মজা, হাসিতে ভরিয়ে রাখতে পারত। একই সঙ্গে তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন একটি মেয়ে। প্রকৃত অর্থেই সে একজন শিল্পী। তার সঙ্গে কাজ করার মুহূর্তগুলো আমি কখনোই ভুলব না। আমি ভাগ্যবান যে ফায়ে এবং তার মা প্যামের সঙ্গে আলাপ হয়েছে আমার।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ দুই মানুষ একসঙ্গে ফায়েকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। সেটিকে প্রত্যক্ষ করা একই সঙ্গে বড় বেদনাদায়ক এবং সুন্দর। আমার খারাপ লাগছে এটা ভেবে যে এত কম সময়ের জন্য ফায়ের প্রতিভার আঁচ পেল দুনিয়া। ফায়েকে আমি খুবই ভালোবাসতাম।’




পিরোজপুরে বিদেশী ফল ‘অ্যাভোকেডো’ চাষে ব্যাপক সফলতা

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): সম্ভাবনাময়  বিদেশী ফল ‘অ্যাভোকেডো’ এখন পিরোজপুরের মাটিতে চাষ করে ব্যাপক সফলতা ও সাড়া ফেলেছেন একজন সৌখিন কৃষি উদ্যোক্তা। এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের ফল বাগানে এখন শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় সবুজ রংয়ের পুষ্টি সমৃদ্ধ ‘অ্যাভোকেডো’।

পিরোজপুর জেলার উত্তরের ছোট্ট জনপদের নাম নাজিরপুর উপজেলা। এখানের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু দেশী-বিদেশী বিভিন্ন জাতের ফলজ বৃক্ষ উৎপাদনে উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা প্রতিবছর ঝুঁকছেন নতুন নতুন ফলজ চাষাবাদের দিকে। এখানের মাটিতে মাল্টা, আনার, চুঁইঝাল, আপেল, বিদেশী আম, ড়্রাগন এবং সর্বশেষ ‘অ্যাভোকেডো’ ফল উৎপাদন করে এলাকায় ব্যাপক হৈচৈ পড়ে যায়। তাই ওই গ্রামে যার পতিত জমি রয়েছে তারাও এখন এগিয়ে আসছেন বিদেশী এই ফল চাষে আগ্রহী হয়ে।
এ গ্রামেরই শিক্ষিত যুবক যিনি চাকরী ছেড়ে দিয়ে নিজের বাড়ি এসে নিজের জমিতে ঘের করে সাদা মাছ চাষ করছেন। রয়েছে তার গাভী গরু ও হাাস-মুরগীর ফার্ম। এখন লাখ টাকার পুঁজির মালিক তিনি। সরেজমিনে. কথা বলতে গিয়ে এই তরুন যুবক মোঃ শরীফ হোসেন “চন্দ্র দীপনিউজ ২৪কে” জানান, তাদের বাড়িতে এখনও অনেক পতিত জমি পরে আছে। তিনিও হিরু কাকার মত ‘অ্যাভোকেডো’ ফলের বাগান গড়ে তুলবেন।

বাংলাদেশে যেসব বিদেশী ফল অধুনা চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে তার মধ্যে ‘অ্যাভোকেডো’ অন্যতম। মেক্সিকো ও গুয়াতামালা এ ফলটির আদি উৎপাদনের স্থান। ফলটিতে প্রচুর পরিমান প্রোটিন, খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন এ,সি,ই ও কে, সমৃদ্ধ। এ বছর এই ফল প্রচুর উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা সদস্য মোঃ লোকমান হাকিম হিরু।’

অ্যাভোকেডো’ ফলের আকার অনেকটা পেয়ারা বা নাশপতির মতো দেখতে। এক একেকটা ফলের ওজন হয় প্রায় ৩শ’ থেকে ৭শ’ গ্রাম পর্যন্ত। অ্যাভোকেডো ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরের ফলের দোকানে বিক্রয় হয়। তবে, এর পুষ্টিগুন অত্যাধিক পরিমানে থাকায় মূল্য অনেক বেশী। বাজারে প্রকারভেদে প্রতি কেজি বিক্রয় হয় ১ হাজার থেকে ১২ শ’ এবং ১৮ শ’ টাকা পর্যন্ত।

সাবেক ওই সেনা সদস্য লোকমান হাকিম হিরু জানান, তার ছোট ভাই সেনা সদস্য কঙ্গোতে চাকরির সুবাদে সেখানে ছিলেন। পরে দেশে ফেরার সময় তিনি সেখান থেকে ‘অ্যাভোকেডো’র ১২টি বীজ সংগ্রহ করেন। পরে নিজের গ্রামে এনে রোপন করেন। তন্মধ্যে ৮টি বীজের চারা ঝড়ে নষ্ট হয়ে যায়। বাকী চারটি গাছে এবছর সহস্রাদিক ফল ধরেছে।

নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বানিয়ারি ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি অফিসার বিজন কৃষ্ণ হাওলাদার “চন্দ্র দীপনিউজ ২৪কে” জানান, ‘অ্যাভোকেডো’ ফলটি আফ্রিকা অঞ্চলের একটি ফল। এই ফলের চাষ এখনো বাংলাদেশে শুরু হয়নি। তবে, ‘অ্যাভোকেডো’ সম্পর্কে যাদের পূর্ব থেকে ধারনা আছে তারা কেউ কেউ বাড়ির আঙ্গিনায় রোপন করেছেন। পুষ্টি চাহিদা অন্যন্য ফলের চেয়ে অনেক বেশী এবং অনেক ঐষধি গুন রয়েছে। বিশেষ করে হার্ট যাদের দুর্বল তাদের জন্য এ ফলটি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। এছাড়া, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে।




১৫ বছর পর মুক্তি পাচ্ছে মান্না অভিনীত শেষ সিনেমা

বিনোদন ডেস্ক : একসময়ের ব্যাপক জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আসলাম তালুকদার মান্না প্রয়াত হয়েছেন দেড় দশক আগে। মৃত্যুর আগে ‘জীবন যন্ত্রণা’ নামের একটি সিনেমার কাজ শেষ করেছিলেন তিনি। যদিও সিনেমার কাজ শুরু হয়েছিল ‘লীলামন্থন’ নামে। পরে সেন্সর বোর্ডের আপত্তির কারণে নাম পাল্টে ফেলা হয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই সিনেমার।

মান্নার মৃত্যুর পর বেশ কয়েকবার মুক্তি দিতে চাইলেও নানা জটিলতায় আলোর মুখ দেখেনি সিনেমাটি। তবে মান্না ভক্তদের জন্য সুখবর হচ্ছে, চলতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তি পাবে ‘জীবন যন্ত্রণা’। সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই নিশ্চিত করেন সিনেমাটির প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু।

প্রযোজক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গল্পের সিনেমা ‘জীবন যন্ত্রণা’। সঙ্গত কারণে মুক্তিযুদ্ধের বিশেষ দিনকে সামনে রেখেই মুক্তি দিতে চাই। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে সিনেমাটি।’

২০১১ সালে সেন্সরে জমা পড়লেও সিনেমাটি ছাড়পত্র পায় এক দশক পর ২০২১ সালে। ওই বছরেরই ২৬ মার্চ সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। গণমাধ্যমকে তা জানিয়েও দিয়েছিলেন প্রযোজক খসরু। কিন্তু করোনার দাপটের কারণে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে ওঠেনি সে সময়।

‘জীবন যন্ত্রণা’র পরিচালক জাহিদ হোসেন জানান, ‘সিনেমাটির শেষ দৃশ্য ও ডাবিংয়ের কাজ শেষ করে যেতে পারেননি মান্না। এর আগেই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন তিনি। পরে ডামি ব্যবহার করে গ্রেনেড হামলায় তার শহিদ হওয়ার দৃশ্যধারণ করা হয়। মান্নার অংশের আংশিক ডাবিং করেন অভিনেতা রাতিন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের একদল যৌনকর্মীর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়ার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘জীবন যন্ত্রণা’। এ সিনেমায় মান্নার বিপরীতে আছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। আরও আছেন বাপ্পারাজ, পপি, শাহনূর, মুক্তি, দীঘি, আলীরাজ, আনোয়ারা, শহিদুল আলম সাচ্চু ও মিশা সওদাগরসহ অনেকে।




বিশ্ব চিঠি দিবস: প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আবেদন হারিয়েছে ডাকের চিঠি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ‘রানার ছুটেছে তাই ঝুম ঝুম ঘণ্টা বাজছে রাতে। রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে, রানার রানার চলেছে, রানার’- হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গানের সেই রানার আজ নেই। ডাক বিভাগে লেগেছে অধুনিকতার ছোঁয়া। তবে এত কিছুর পরও দিন দিন কমেছে চিঠি।

গত ৫ বছরে ডাক বিভাগের চিঠি কমেছে অর্ধেক। শুধুমাত্র সরকারি কাজে ও অফিসিয়িাল ছাড়া ডাক বিভাগে আর ব্যক্তিগত চিঠি আসে না। যদিও বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি আধুনিকায়নের ফলে এখন কমেছে চিঠি।

এদিকে দিন দিন বাড়ছে বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের চাহিদা।

সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস লি. রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আলতাফ হোসেন বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে প্রতি মাসে গড়ে ৪০ হাজারেরও বেশি চিঠি আদান প্রদান হয়। মানুষকে সুন্দরভাবে চিঠি পৌঁছে দেওয়ার কারণেই মানুষ আমাদের বেছে নেয়।

রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেল শেখ সাইফুল আলম বলেন, চিঠির সংখ্যা শুধু রাজশাহীতে বা বাংলাদেশে কমেনি, এটা সারাবিশ্বেই কমেছে। মূলত ডিজিটাল সুবিধার কারণেই চিঠি কমেছে। মানুষ এখন ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ইমেইলে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করছে। ফলে ব্যক্তিগত চিঠি নেই বললেই চলে। অফিসিয়িাল চিঠি এখন আসছে। ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর চিঠি অনেক বাড়ছে।

তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে ১০১২-১৩ সালে ডাক বিভাগের অ্যাক্ট হয়। এর ফলে ডাক বিভাগের সঙ্গে কুরিয়ারের কম্পিটিশন বাড়ছে। আমাদের আনেক সেবা সম্পর্কে মানুষ জানেও না। ডোমেস্টিক মেইলে আমাদের একটি যুগান্তকারী কাজ হয়েছে। এখন চিঠি কতদূর গেলো সেটি গ্রাহক নিজে ট্র্যাকিং করে দেখতে পারবে। আশা করছি ভালো একটি সময় আসছে।




ভোলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন বেজার চেয়ারম্যান

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলায় সরকারি ও বেসরকারি অর্থনৈতিক গড়ে তুলতে আজ পৃথক দুটি স্থান পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের ( বেজা)  নির্বাহি চেয়ারম্যান শেখ ইউছুফ হারুন। জেলা সদরের বাগমারা এলাকায় সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিবপুর মেঘনা নদীর পাড়ে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শুরু হয়েছে।  বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান, ভোলায় গ্যাসের মজুদ রয়েছে। ফলে এখানে শিল্পায়ন করতে অর্থনৈতিক অঞ্চল বিশেষ ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ভোলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে বেজা কাজ করছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের মহাব্যবস্থাপক মো: মনিরুজ্জামান,  সিনিয়র সহকারি সচিব মোঃ নিকারুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তামিম আল ইয়ামিন,  উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুছ ও ভোলা বেসরকারি উন্নয়ন কোম্পানি ম্যানেজারসহ প্রতিনিধিরা।




অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারাতে পারেন জেলেনস্কি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের কোনো ইঙ্গিতই যেন মিলছে না। টানা যুদ্ধে বেঁকে বসেছে ইউক্রেনের সেনারাও। পশ্চিমা ও ইউরোপীয় আমলারাও ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও দেশটিকে নিয়ে নানান জল্পনা শুরু করেছেন।

এর মধ্যে অনেকেই প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউক্রেনের পরবর্তী ভবিষ্যৎ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের সাবেক অ্যানালিস্ট ল্যারি জনসন।

বলেছেন, ‘তিলে তিলে ক্ষোভ জমতে থাকা অসন্তুষ্ট সেনাবাহিনীই রুখে দাঁড়াবে তাদের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে। রক্তক্ষয়ী ভয়ংকর সেনাঅভ্যুত্থানও হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন তিনি। কেননা সময় যত পার হচ্ছে, কিয়েভের টিকে থাকার সক্ষমতা কমছে। অন্যদিকে ক্রমেই বেড়ে চলেছে পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরশীলতা।

২৫ আগস্ট (শুক্রবার) টিভি উপস্থাপক ক্লেটন মরিসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন। একই দিনে মার্কিন দৈনিক ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগেই ইউক্রেনকে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার পথে ঠেলবেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ক্লেটন মরিসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা ভিডিওটিতে ল্যারি জনসন স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘আগামী ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হতে পারে জেলেনস্কিকে। কারণ, পূর্ব রণাঙ্গনে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।’

এসময় তিনি জাপোরিঝিয়াসহ ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে পালটা আক্রমণে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করেন।

আরও বলেন, পশ্চিমা প্রশিক্ষণ, ন্যাটোর ট্যাঙ্ক-সাঁজোয়া যান এবং অন্যান্য অস্ত্র সহযোগিতার পরও ইউক্রেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। জনসনের মতে, যেভাবে সংঘাত এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে দেশ হিসাবে ইউক্রেনের টিকে থাকাটাই ‘গভীর সন্দেহ’।

তবে জনসনই প্রথমবার সামরিক অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করেননি। চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কর্পসের কর্মকর্তা স্কট রিটারও এমন আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছিলেন।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ‘সম্ভবত ইউক্রেনের প্রতিটি বিধ্বস্ত ব্রিগেডেই জেলেনস্কির বিরুদ্ধে বিরক্তি জমা হচ্ছে। সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্সস্থানীয় আরেকটি সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনেও জেলেনস্কির মৃত্যু-পরবর্তী সরকারও ঠিক করে রাখার খবর চাউর হয়।

বলা হয়, ‘অভ্যন্তরীণ কোনো জান্তা শাসনের অধীনেই পরিচালিত হবে সে সরকারব্যবস্থা। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্রোতের প্রতিক‚লেই চলছে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির।

এদিকে বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানায়, নিজের এবং ইউক্রেনের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নিয়ে মস্কোর সঙ্গে সমঝোতায় কিয়েভকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

রয়্যাল ইনস্টিটিউটের সহযোগী ফেলো সামান্থা ডি বেন্ডারন বলেন, ‘ইউক্রেনে যা ঘটছে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ধীরে ধীরে কমবে এবং ইউরোপীয়দের পক্ষে আমেরিকানদের বোঝানো কঠিন হবে যে ইউক্রেন আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা।’

চলমান এ দীর্ঘ যুদ্ধে ন্যাটোও আশাহীন হয়ে পড়েছে। জোটের অনেক সদস্য কিয়েভে অস্ত্র পাঠানোর বিষয়ে বর্তমানে খুব সন্দিহান। কেননা, প্রতিটি রণক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক শক্তি প্রমাণিত হচ্ছে। পক্ষান্তরে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর পালটা আক্রমণে সাফল্যের আশা ক্রমেই ব্যর্থ হচ্ছে। ইউক্রেনের অন্য মিত্ররা ও কিয়েভ বাহিনী এই বছর যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।

অনেকের ধারণা, দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা এ যুদ্ধ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের হতে পর্যাপ্ত সামরিক সহায়তা সত্ত্বে ইউক্রেন রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে শুধু কৌশলগত অগ্রগতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। শরৎকালে আর্দ্র এবং ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

ইউক্রেন এবং তার মিত্ররা যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও গোলাবারুদের মজুদ প্রায় ফুরিয়ে আসছে এবং ২০২৪ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে অস্ত্রের উৎপাদনও বাড়ানো হবে না। যুদ্ধের আক্রমণ প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহায়তাও টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।




বেলা’র আয়োজনে বরিশালে সচেতনতামূলক পরিচ্ছন্নতা অভিযান

পরিচ্ছন্নতা অভিযান : একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জন করি, পরিবেশ বান্ধব বিকল্প ব্যবহার করি ব্যবহার্য প্লাস্টিক-পলিথিন যত্রতত্র নিক্ষেপ থেকে বিরত থাকি, নির্দিষ্ট পাত্রে সংগ্রহ করি’ শীর্ষক সচেতনতামূলক পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি ‘বেলা’ বরিশালের আয়োজনে কীর্তনখোলা নদীর তীরভূমিতে (ডিসি ঘাটে) এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগ বরিশালের উপ-পরিচালক গৌতম বাড়ৈ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেলার বরিশাল বিভাগের সমন্বয়ক লিঙ্কন বায়েন। আয়োজনের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল নদী বন্দরের উপ-পরিচালক আবদুর রাজ্জাক ও পরিবেশবিদ রফিকুল আলম।

লিঙ্কন বায়েন বলেন, ব্যবহারের পর আমরা যে প্লাস্টিক-পলিথিন যত্রতত্র ফেলে দেই তা মাটি ও পানিতে মিশে থাকে। দীর্ঘসময় পরিবেশে অবস্থানের ফলে প্লাস্টিক দ্রব্যাদি মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয় এবং সরাসরি প্রাণীর খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে। ফলে মানবজাতি ও প্রাণিকুল নানাধরনের প্রাণঘাতিরোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গবেষণায় বলা হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালে সাগরে জীববৈচিত্রের দ্বিগুণ প্লাস্টিক-পলিথিনে সয়লাব হয়ে যাবে। তাই স্বচ্ছ ও সুন্দর দেশ গড়তে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে বছরের ৩৬৫ দিনই সবার অংশগ্রহণ থাকা উচিত। সবশেষে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় নগরীর ভাটার খাল, সিটি মার্কেট ও লঞ্চঘাট এলাকায় পরে থাকা পলিথিন-প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়।