বাবুগঞ্জে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে বিচ্ছিন্ন ছোট মীরগঞ্জ, হুমকিতে গ্রামের পর গ্রাম

মোঃ আল-আমিন,বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে বড় মীরগঞ্জের সাথে ছোট মীরগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শুক্রবার সকালে বড় মীরগঞ্জ ও ছোট মীরগঞ্জ বাজারের মধ্যবর্তি স্থান খানকায়ে সুলতানিয়া নামক মসজিদ সংলগ্ন সড়কসহ অন্তত ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে ভেঙে গেছে। এতে রহমতপুর তথা বড় মীরগঞ্জের সাথে ওই সড়ক পথে চাঁদপাশা ইউনিয়নের রফিয়াদি, আরজিকালিকাপুরের একাংশ ও সিংহেরকাঠী গ্রামের পূর্বাংশের কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ এবং ছোট মীরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা বিপাকে পরেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে সড়কটি ভেঙে গিয়ে বিভক্ত হওয়াতে সাধারণ মানুষ ইঞ্জিন চালিত নৌকায় পারাপার হচ্ছেন। বেশ কিছু দিন যাবৎ আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে চাঁদপাশা ইউনিয়নের ভাবানিপুর, আরজিকালিকাপুর, রফিয়াদী এবং রহমতপুর ইউনিয়নের সিংহেরকাঠী, ছোট মীরগঞ্জ ও লোহালিয়া গ্রামের নদীর তীরবর্তি এলাকায় প্রবল আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে ওই সকল এলাকাতে গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে স্থান অনুযায়ী জিও ব্যাগ এবং টিউব ফেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এক বছর পার হতে না হতে অকার্যকর ওই ব্যবস্থা নদের  গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

অপরদিকে ভাঙন শেষে সড়কটির লোহালিয়া অংশের শেষ প্রান্তের ইট হয়েছে হরিলুট। স্থানীয়রা বেশ কিছু ভ্যান যোগে সড়কের ইট উঠিয়ে যে যার মত করে নিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও চাঁদপাশা ইউনিয়নের আরজি কালিকাপুর ও ভবানিপুর গ্রামসহ ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। জোয়ারের পানি কমার সাথে সাথে এসব এলাকায় নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার লোকজন এখন আর ত্রান চায় না। ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চান।
গত ১ সপ্তাহের ভাঙনে কয়েকটি দোকান, ৭/৮ ঘরবাড়ি ও কয়েক একর ফসলসহ জমি বিলীন হয়েছে। ঝুকিতে রয়েছে ২৫ টি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। পানের বরজ, ফসলি জমি ও বসত ভিটা হারা মানুষেরা দুশ্চিন্তায় প্রহর গুনছে।

সিংহেরকাঠী গ্রামের বাসিন্দা (একটি সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক) শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার ঘর নদী ভাঙনের কবলে পরায় অর্ধেক ভেঙে অনত্র সরিয়ে নিয়েছি। বাকি অর্ধেক ভেঙে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছ। আমরা অনত্র জমি কিনে বাড়ি করছি। আমাদের যাতায়াতের রাস্তাটি নদীতে ভিলীন হয়ে গছে।

নদী ভাঙনে ৭ বার ক্ষতিগ্রস্ত শিপন ঘরামী বলেন, বিগত দিনে ৭ বার নদীগর্ভে ঘর-বাড়ি হারিয়েছি। এবার আাবার নদী ভাঙনে কবলে পরেছি। এছাড়া এক সপ্তাহের ভাঙনে এই এলাকার কয়েকটি পরিবার ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেউ ২কেজি চাল দিয়ে সাহায্য করেনি। আমাদের খোঁজ নেয়নি কেউ। আমরা সরকারি সাহাজ্য চাই না, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাই।

স্থানীয়রা বলেন, সামসু ফকির, শহিদ মাষ্টার, আবুল হোসেন, হাচেন মাওলানাসহ কয়েকটি পরিবার ভাঙন ঝুঁকিতে রাত কাটাচ্ছে।
রহমতপুর ইউনিয়নের সিংহেরকাঠী এলাকার ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, প্রতিবছরই নদী ভাঙনে এলাকা ব্যাপক ক্ষতির সস্মুখীন হয়ে থাকে। ২০২০ সাল থেকে ছোট মীরগঞ্জ বাজারটি কয়েকবার সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এ বছর আবার ভাঙনের কবলে পরেছে।
এই এলাকার ভেরিবাদ টি ভেঙ্গে যাওয়ায় জোয়ারের পানিতে প্রায় ৩ শত একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এ ব্যাপরে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালে তারা কোন খোঁজ নেয়নি।

চাঁদপাশা ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়নের রফিয়াদি গ্রামসহ ৩টি গ্রামের শতাধিক পরিবার ইতিমধ্যে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চাঁদপাশা ও রহমতপুর ইউনিয়নের মানচিত্র হুমকির মুখে পরবে।

স্থানীয়রা বলেন, সড়ক যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সিমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হবে এবং কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে উপজেলা সদর কিংবা বাবুগঞ্জ বাজার এবং থানা সদর এলাকায় আসতে হবে।

ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা রহমানকে জানালে তিনি দ্রুত বরিশাল পানিউন্নয়ন বোর্ড এর কর্মকর্তাদের অবহিত করেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান শুভ, এসও মোঃ রাশেদুল ইসলামকে নিয়ে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিংহেরকাঠী এলাকার ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল, লোহালিয়া এলাকার ইউপি সদস্য মোঃ শাহিন হোসেন হাওলাদার এবং ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রহিমা বেগমসহ স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান শুভ বলেন, আমি জনর্দূভোগ নিজের চোখে দেখেছি। ভাঙন কবলিত এলাকায় সরকারি খাস জমি না থাকাতে স্থানীয়রা যদি জমি দিয়ে সহযোগীতা করেন তা হলে অতি দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।




মৃত্যুর ৭ দিন আগে সালমান শাহ মা আমাকে তারা তোমার কাছে ফিরতে দেবে না

চন্দ্রদ্বীপ বিনোদন ডেক্স:  সালমান শাহ নেই- এ সত্য এখনো বিশ্বাস করতে পারেন না তার অনেক ভক্ত-অনুরাগী। আবেগের বাঁধ ভাঙলেও প্রিয় অভিনেতার স্মৃতিকাতরতা এখনো বিহ্বল করে তোলে ঢালিউডের সিনেমাপ্রেমীদের। কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় এখনো যেন জীবন্ত হয়ে ফিরে আসে এই অমর নায়ক। তার না থাকার ২৭ বছর পূর্ণ হলো আজ। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। পারিবারিক নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) হলেও ঢাকাই চলচ্চিত্রে সালমান শাহ নামেই তিনি অমরত্ব পান।

চলচ্চিত্র অঙ্গনে তখন জনপ্রিয়তার মধ্যগগনে বিচরণ করছিলেন সালমান শাহ। ছিলেন সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে। রুপালি পর্দায় তখন বলা চলে একচ্ছত্র আধিপত্য তার। মৃত্যুর দুই যুগেরও বেশি সময় পার হলেও তার অভিনীত সিনেমা এখনো তুমুল জনপ্রিয় দর্শক-ভক্তদের কাছে। কিন্তু সেই দর্শক-ভক্তদেরই চোখের জলে ভাসিয়ে অকালে অনন্তযাত্রা করেন বাংলা সিনেমার নন্দিত এ রোমান্টিক হিরো। তবে তার এই চলে যাওয়ার নেপথ্যে কি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, ২৭ বছর পরও তা ‘রহস্য’ হয়েই রয়ে গেছে।

তবে সালমান শাহর পরিবার মনে করে, এটি স্বাভাবিক কোনো মৃত্যু ছিল না। তাকে ‘হত্যা করা হয়েছে’ বলে অভিযোগ করেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করেও রহস্যের জাল ভেদ করতে পারেনি। মেলেনি অভিযোগের সত্যতাও। প্রতিটি তদন্তেই সালমান শাহর আত্মহত্যার তথ্য উঠে আসে। যদিও আজও সালমান শাহকে ‘হত্যা করা হয়েছে’ দাবি করে বিচার চেয়ে যাচ্ছে তার পরিবার।

নীলা চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, সালমান শাহ মৃত্যুর মাত্র সাতদিন আগে কোনো এক রাতে আমাকে বলছিল- মা, আমাকে তারা তোমার কাছে ফিরতে দেবে না। আমি তখন প্রশ্ন করেছিলাম- তারা কারা। তখন সে কিছুই বলেনি। এত কোনো সন্দেহ নেই যে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরাসহ চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই।

সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম ছয়শ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।’ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে সালমান শাহর মায়ের আইনজীবী ফারুক আহমেদ রিভিশন মামলা করেন। ২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত রিভিশনটি গ্রহণ করেন। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর রিভিশনটি শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

এ বিষয়ে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, আমার ছেলে আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে তার স্ত্রী সামিরা, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও অনেকে। একটা মানুষ খারাপ হলে তাকে মানুষ এতদিন মনে রাখতো না। সালমান শাহকে খুন করে সামিরা ঘর করে বেড়াচ্ছে। তার ঘরও টিকছে না। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমি ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে যাবো।

এ বিষয়ে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, রিভিশন মামলাটি শুনানির জন্য আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। রিভিশন গ্রহণ হলে আমরা নিম্ন আদালতে তদন্ত চেয়ে আবার শুনানি করবো। আশা করছি রিভিশন গ্রহণ হবে। আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু জাগো নিউজকে বলেন, ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম ছয়শ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর আগের দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার। পিবিআইপ্রধান বলেন, তদন্তকালে ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনা সংশ্লিষ্ট ৪৪ সাক্ষীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। ১০ সাক্ষীর সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ঘটনার সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করা হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনায় দেখা যায়, চিত্রনায়ক সালমান শাহ পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন। হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

এরপর ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ওই ঘটনায় তখন ‘অপমৃত্যু মামলা’ করেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

‘ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে’ অভিযোগ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান বাদী কমরউদ্দিন। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ওই বছরের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়। পরে ঢাকার সিএমএম আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে।

তখন সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান এবং ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন মর্মে আবেদন করেন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজির আবেদন করেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করে পুলিশের এলিট ফোর্স র্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র্যাবকে তদন্ত বন্ধ করার আদেশ দেন। এরপর এ মামলার তদন্তের দায়িত্বে আসে পিবিআই। পরে পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলা খারিজ করে দেন আদালত।

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর আত্মহত্যার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়। সেগুলো হলো- চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, মাত্রাতিরিক্ত আবেগপ্রবণতার কারণে একাধিকবার আত্মঘাতী হওয়া বা আত্মহত্যার চেষ্টা, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে পুঞ্জীভূত অভিমানে রূপ নেওয়া এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা।




বরিশাল নগরীর খালগুলো যেন ভাগাড় খানা, পরিকল্পিতভাবে প্রভাবশালীদের দখলে

বরিশাল অফিস: কীর্তনখোলা নদীর মোহনা ছুঁয়ে বরিশাল নগরীর মধ্যে প্রবেশ করা খালগুলোর বেশিরভাগই হয় দখল নয় ভরাট হয়েছে প্রভাবশালীদের মদদে। হাতেগোনা যে কয়টি এখনো টিকে আছে তারমধ্যে পোর্ট রোড ফলপট্টি হয়ে জেলখালটি কোনভাবে বেঁচে আছে। যদিও একটু এগিয়ে চকবাজার ব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে দুপাশে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় খাল নয়, এটি যেন ভাগাড় খানা। খালের দুপাশেই ময়লা আবর্জনা ও হাঁস মুরগীর নাড়িভূড়ি ফেলে রীতিমতো চর বানিয়ে দেয়া হয়েছে খালের মধ্যে। এই অংশের জেলখাল পুনরুদ্ধারে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ কখনো চোখে পড়েনি বরং স্থানীয় সংসদ সদস্যের চেষ্টায় বাধা দিয়েছে বলে জানালেন এলাকাবাসী।

তাদের দাবী, নতুন মেয়রকে এই অংশের খাল পুনরুদ্ধারে ভোগান্তি পোহাতে হবে তা নিশ্চিত । কেননা অনেকাংশে বেদখল ও ময়লা আবর্জনায় পায়ে চলা পথ তৈরি হয়েছে খালের দুপাশে। এখানে বড় বাজারের বাসিন্দা ও বরিশাল সাহিত্য সংসদ (বসাস) এর কোষাধ্যক্ষ সংগীত শিল্পী রোমানা জিহাদ বলেন, এই খাল দিয়ে নৌকায় করে কত ঘোরাঘুরি করেছি। এখন তা কল্পনা মনে করে আমাদের ছেলে মেয়েরা। আমরা সচেতন নই বলেই খালগুলোর আজ এই অবস্থা।

বড়ো বাজারের ভিতর দিয়ে ওপাশে জেলখানার গা ছুঁয়ে বের হওয়া এই খালটি নাজিরের পুল হয়ে একাংশ চলে গেছে মড়কখোলার দিকে, অন্য অংশ চৌমাথা হয়ে সাগরদি খালে মিশেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নিত হবার পর থেকে নগরীর সীমা বেড়েছে এবং বেড়েছে বাড়িঘর। কিন্তু একটি বাড়িঘর বা সড়কও পরিকল্পিত নয় বলে দাবী নগর চিন্তাবিদদের। তাদের মতে সিটি করপোরেশনের প্রতিটি পরিষদই খাল ভরাটের জন্য দায়ী। খালের উপর সড়ক বানানো, খাল বন্ধ করে ড্রেন বানানো এগুলো করেছিলেন সাবেক মেয়ররা। অন্যদিকে বরিশাল নগরীর বেশিরভাগ ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এর ব্যবহার উপযোগিতা নেই বললেই চলে। অনেকটা অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এবং অপরিকল্পিতভাবে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য তৈরী করা হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। কোন কোন ক্ষেত্রে মাস্টার ড্রেনের সাথে প্রাইমারী ড্রেনের সংযোগ নেই, থাকলেও তলদেশের উচ্চতার পার্থক্য থাকায় পানি নিষ্কাশন হয় না। নবগ্রাম রোডের খাল ভরাট করে বটতলায় তিন তলা মার্কেট নির্মাণ নগরীর জন্য আত্মঘাতী হয়েছে বলে মনে করেন তারা। জোয়ারের পানি এবং বৃষ্টিতে এখানে সবার আগে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। খালের উপরের ব্রীজ ভেঙ্গে কালভার্ট নির্মাণ করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া ড্রেন এবং খাল নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্ন না করারও একাধিক অভিযোগ সিটি করপোরেশন কর্মীদের বিরুদ্ধে।
নগরীর মধ্যে এক সময় ২৩টি খাল এবং ২৪টি সংযোগ খাল প্রবাহিত হতো বলে জানা যায়। যার বেশিরভাগ খালের অস্তিত্ব নেই। কোন কোন ক্ষেত্রে ছোট ছোট ড্রেন বানানো হয়েছে। যে ২২/২৩ টি খালের কথা বলা হয় সেগুলো দখল, দূষণ এবং নাগরিকদের অপরিণামদর্শী আচরনের কারনে অস্তিত্বহীন। মাত্র ৩/৪ টি খালে কোনরকম জোয়ার ভাটা হয়। খালের উপরে-নীচে অপচনশীল বর্জ্য বিশেষত প্লাস্টিক এবং পলিথিনের পুরু স্তর জমা এবং দুই পাড়ের বাসিন্দাদের অপদখলের কারনে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং সুয়ারেজ সংযোগের কারনে এইসব খালের ব্যবহার উপযোগীতা নেই বলে জানান নগর চিন্তাবিদ কাজী মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে খালগুলো কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। অথচ এক সময় জেলখাল, নবগ্রাম খাল, সাগরদী খালে স্রোত ছিল। নালাগুলো বেয়ে পানি খালে পড়তো। বড় বড় নৌকা মালামাল পরিবহন, গয়না যাত্রী নিয়ে আসা যাওয়া করতো। খালে মাছ ধরে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করতো যা সবই এখন ইতিহাস। নবগ্রাম খালটি এখন বটতলা এলাকার পাকা ড্রেন। নবীন প্রজন্মের কাছে মনে হবে এগুলো শুধুই গল্প। বছর ২/৩ আগে একবার বরিশাল সিটি করপোরেশন নিজস্ব কর্মী এবং অর্থায়নে জেলখাল, সাগরদী খাল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছিল। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, জেল খাল থেকে উঠে এসেছে শতমণ পলিথিন আর প্লাস্টিক বর্জ্য।

যা এখন জেলখাল ও সাগরদি খালে স্পষ্ট দৃশ্যমান। এই ময়লা আবর্জনার কারণেই আজ বরিশালে কোনো খাল আর অবশিষ্ট নেই বলে জানালেন পরিবেশ আন্দোলনের নেতা এনায়েত হোসেন শিবলু। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক কথা দিয়েছিলেন, নির্বাচন শেষ হলে অল্প সময়ের মধ্যে খালগুলো পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি কোনো পদক্ষেপই নিতে পারেননি অন্য পক্ষের বাধার কারণে। শিবলু আরো বলেন, আসলে ক্ষমতাসীনদের দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে খালগুলো নষ্ট হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

অর্থনীতি সমিতির সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান বলেন, প্রশাসনের গাফিলতি আছে তা অস্বীকার করবো না, তবে সবচেয়ে বেশি দায়ী আমরাই। আমাদের বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোটেল রেষ্টুরেন্ট, বাজার সবকিছুর বর্জ্য আমরা খালে কিম্বা নদীতে ফেলছি। প্রতিটি ড্রেন আটকে আছে প্লাস্টিক বর্জ্যে। নদীতে দেখুন, ভাসছে প্লাস্টিকের বোতল।

কাজী মিজানুর রহমান আরো বলেন, নগরবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থা থাকতে হবে, যেখানে সবাই সারাদিনের ময়লা আবর্জনা এনে ফেলবে এবং রাতে তা পরিষ্কার করে নেবে সিটি করপোরেশন। একই সাথে খালে বা নদীতে ময়লা আবর্জনা ফেলা হলে কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে বলে জানান তিনি।
নগরীর ময়লা আবর্জনা সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিষ্কার করছে বলে জানান বরিশাল সিটি করপোরেশনের সিইও ফারুক আহম্মেদ। তিনি বলেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থায় কোথাও কোনো অনিয়ম নেই। খালগুলো পুনরুদ্ধারের বরাদ্দ না থাকায় কিছু করা যাচ্ছে না।




পিরোজপুরের কাউখালী হাসপাতালে এক বেডে একাধিক রোগী

বরিশাল অফিস:  পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের চাপ খুব বেশি। ফলে এক বেডে দুইজন করে রোগী থাকছে। বর্তমানে অস্থায়ী ভবনে স্বাস্থ্য সেবার কাজ চলছে। পুরাতন ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবনের কাজ চলছে। মঙ্গলবার সকালে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালে রোগীদের চাপ খুব বেশি। বর্তমানে জ্বর ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি।

অস্থায়ী ভবনে মাত্র ভর্তিকৃত ২০ জন রোগী থাকার ব্যবস্থা আছে। এর বিপরীতে ৪৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। ফলে এক একটি বেডে দুই থেকে তিনজন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে রোগীদের চিকিৎসা নিতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। হাসপাতালের বেডে কোনমতে একজন রোগী থাকা যায়। চিকিৎসা নিতে আশা রোগী রানু বেগম (৩৫) ও ইয়াসিন হোসেন (৫০) বলেন, আমরা এক বেডে দুইজন করে রোগী থাকি। ফলে আমাদের সেবা নিতে খুবই সমস্যা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার দীপ্ত কু- জানান, আমরা সাধ্যমত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। অস্থায়ী ভবনে রোগীদের বেডের সমস্যার কারণে মাঝে মাঝে একটি বেডে দুইজন রোগী থাকার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। আশা করি নতুন ভবন হলে আমাদের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।




উজিরপুর উপজেলা প্রশাসনের সাথে সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

বরিশাল অফিস:  ৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার এর নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা হয। প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিহা তাজরিন,উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসান, উজিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার কে.এম, ইশমাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শওকত আলী এর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাত ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি রহিম সরদার , সাধারণ সম্পাদক শাকিল মাহমুদ বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মাসুম ,নির্বাহী সদস্য কল্যাণ কুমার চন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি বাসুদেব পাড়ুয়া, চঞ্চল সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক মুন্না, কোষাধ্যক্ষ মোঃ জাহিদ হাসান,

,প্রচার সম্পাদক বিপ্লব হাজারী, ক্রীড়া সম্পাদক সুদেব মন্ডল, সাহিত্যও প্রকাশনা সম্পাদক কমল বাড়ৈ পুলক, দপ্তর সম্পাদক মোঃ জুনায়েদ খান সিয়াম,নির্বাহী সদস্য মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, সদস্য জাহিদুল ইসলাম মিঠু মোল্লা, আলমগীর লস্কর, মোঃ রাকিব হাসান শান্ত।




এশিয়া কাপের সুপার ফোর, কার খেলা কবে

চন্দ্রদ্বীপ স্পোর্টস ডেস্ক : ব্যাপক নাটকীয়তার পর নিশ্চিত হল এশিয়া কাপের সুপার ফোরের চূড়ান্ত তালিকা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লঙ্কানদের বিপক্ষে আফগানিস্তানের টার্গেট ছিল ২৯২ রান। ৩৭.১ ওভার পর্যন্ত সুযোগ ছিল তাদের। শেষ বল পর্যন্ত কক্ষপথেই ছিল আফগানরা। তবে, এক বলে তিন রান নিতে ব্যর্থ হওয়া আর হিসেবের গড়মিলে আফগানিস্তানকে দেখা যাবে না শেষ চারের লড়াইতে

সুপার ফোরে খেলা হবে রবিন রাউন্ড পদ্ধতিতে। প্রথাগত সেমিফাইনালের বদলে এখানে ফাইনালের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে পয়েন্ট টেবিল পদ্ধতি। প্রতিটি দল এই পর্বে তিনটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। সুপার ফোরের দুই ম্যাচেই থাকছে বাংলাদেশ। ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার লাহোরে টাইগারদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। আর ৯ তারিখ কলম্বোতে খেলা স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আর সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে ১৫ তারিখ খেলা হবে ভারতের বিপক্ষে। 

এক নজরে সুপার ফোরের সময়সূচি 

তারিখ  ম্যাচ   ভেন্যু 
০৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান  লাহোর
 ০৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা কলম্বো
       ১০ সেপ্টেম্বর    ভারত বনাম পাকিস্তান কলম্বো
          ১২ সেপ্টেম্বর    ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা কলম্বো
        ১৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা কলম্বো
          ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বনাম ভারত কলম্বো

সুপার ফোরের লড়াই শেষে শীর্ষে থাকা দুই দল মুখোমুখি হবে ফাইনালে। ১৭ সেপ্টেম্বরের সেই ফাইনালও হবে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে।




যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন বরিশালের দুই অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার

 

যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বরিশালের দুই অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার পারভেজ হাসান ও আহসান হাবীব। ৪ সেপ্টেম্বর তাদের পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাদেরকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যাস্ত করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন অধিশাখা-১ এর সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ আরেফীন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে ২১৫ জন উপ সচিব কে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। আদেশে বলা হয় জন স্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো। অপর একটি প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতি প্রাপ্ত সকলকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যাস্ত করা হয়।




রাজাপুরে ৫ শিশু শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক

ঝালকাঠি অফিস: ঝালকাঠির রাজাপুরের লেবুবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন সোহাগ কর্তৃক ৫ শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার সকালে নৈকাঠি-ভান্ডারিয়া সড়কের লেবুবুনিয়া বাজার এলাকায় স্কুলের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

এদিকে সকালে উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ একটি দল স্কুলে গিয়ে তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে জানান, পঞ্চম শ্রেণির ৫ শিশু শিক্ষার্থীকে মাঠে ফেলে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে যা চরম মানবাধিকার ও আইন বিরোধী। দোষী ওই শিক্ষক স্কুলে থাকলে স্কুলে শিক্ষার্থীরা আর যাবে না। শিক্ষার্থীরা চরম আতঙ্ক ও ভয়ে রয়েছে। জড়িত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ও অপসারণ দাবি করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ৫ম শ্রেণির আহত শিক্ষার্থী মুরসালিনের মা লায়লা বেগম, আবু সালেহের মা মাকসুদা বেগম ও সাইফ মাহমুদের মা খাদিজা বেগম প্রমুখ।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ.কে.এম নুরুল আলম মৃধা জানান, ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতপূবর্ক অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর-চাঁদপাশা ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক আড়িয়াল খাঁ নদীর গর্ভে বিলীন

বরিশাল অফিস: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর-চাঁদপাশা ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক আড়িয়াল খাঁ নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। হঠাৎ করে ইটের সলিংসড়ক বিলীন হয়ে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের এলাকাবাসী। শুক্রবার বিকালে ৫০০গজ এলাকা জুড়ে সড়কে ফাটল দেখা যায়। শনিবার সকালের দিকে মীরগঞ্জ বাজার সংলগ্ন খানকায়ে সুলতানিয়া নামক মসজিদ সংলগ্ন ৫০০ গজ এলাকাজুড়ে ইটের সলিং সড়ক নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে রহমতপুর ইউনিয়নের সাথে চাঁদপাশা ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়কটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ইঞ্জিন চালিত নৌকায় পারাপার হচ্ছেন। অপরদিকে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে রহমতপুর ইউনিয়নের সিংহেরকাঠী, ছোট মীরগঞ্জ ও লোহালিয়া গ্রামের নদীর তীরবর্তি এলাকায় প্রবল আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং ক্ষুদ্রকাঠী এলাকার বটতলা বরিশাল-মীরগঞ্জ পাকা সড়ক ভাঙনে হুমকির মূখে রয়েছে। এছাড়াও চাঁদপাশা ইউনিয়নেকালিকাপুর ও ভবানিপুর গ্রামসহ ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। সোমবার বিকালে বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম মীরগঞ্জ,রফিয়াদী,ক্ষুদ্রকাঠী এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন বাবুগঞ্জ উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীতে ভেঙে যাওয়া দুই ইউনিয়নের সাথে সংযোগ সড়ক মেরামতের আশ্বাস দেন। তিনি আরো বলেন বাবুগঞ্জ উপজেলায় ভাঙন প্রবল আকার প্রতিরোধে পানি প্রতিমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করবেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের সাথে উপস্থিত ছিলেন এডিসি রেভিনিউ মোঃ রফিকুল ইসলাম,নির্বাহী অফিসার শাকিলা রহমান,রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মৃধা মু. আক্তার-উজ-জামান মিলন,ইউপি সদস্য জামাল হোসেন,মোঃ ওবায়দুলসহ এলাকাবাসী। শনিবার ( সেপ্টেন্বর) দুই ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক নদীর গর্ভে বিলীন এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা রহমান বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান শুভ, এসও মোঃ রাশেদুল ইসলামকে নিয়ে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান শুভ বলেন, আমি জনর্দূভোগ নিজের চোখে দেখেছি। ভাঙন কবলিত এলাকায় সরকারি খাস জমি না থাকাতে স্থানীয়রা যদি জমি দিয়ে সহযোগীতা করেন তা হলে অতি দ্রুত বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।




পিস্তল কান্ডে বরিশালের রাজনীতি উত্যপ্ত 

বরিশাল অফিস: নগরীর ব্যস্ততম সড়কে প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে বসে জাতীয় পার্টি (জাপা) নেতা ও শ্রমিক লীগ নেতার পিস্তল নিয়ে ধস্তাধস্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। ইতোমধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর এবার সংবাদ সম্মেলন করছে উভয়পক্ষ।

পাশাপাশি জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের একাধিকবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর মুরতজা আবেদীনের ওপর হামলা চালিয়ে তার লাইসেন্স করা পিস্তল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি। তিনি এ ঘটনার জন্য বিলুপ্ত মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও সদ্য গঠিত মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহমেদ মান্নার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আইনের মুখোমুখি করার দাবি করেছেন।

অপরদিকে শ্রমিক লীগের সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দরা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই তড়িঘড়ি করে সম্মেলন স্থান ত্যাগ করায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রমতে, ৪ সেপ্টেম্বর সকালে প্রথমে বরিশাল প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় পার্টি। একইদিকে বিকেলে একই হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয় শ্রমিক লীগের মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শ্রমিক লীগ বরিশাল মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক বেল্লাল হোসেন শিশির বলেন, নগরীর পোর্টরোডস্থ ভূমি অফিসের সামনে বসে ৮০ থেকে ৯০ দশকের দুর্র্ধর্ষ সন্ত্রাসী, এক সময়ের ক্রসফায়ারের তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী, অসংখ্য মামলার আসামি মুরতজা আবেদীন পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক লীগ মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রইজ আহম্মেদ মান্নাকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতা প্রতিহত করে। এ সময় মুরতজা আবেদীনকে পিস্তলসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য মুরতজা আবেদীন প্রশাসন ও সংবাদ মাধ্যমসহ অন্যান্য মহলে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ ছড়ানোর অপচেষ্টা করছেন।

বেল্লাল হোসেন শিশির আরও বলেন, মুরতজা আবেদীন গত ১২ জুন অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন চলাকালীন রইজ আহম্মেদ মান্নাসহ তার মা-বোন এবং তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করিয়েছেন। এরপর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি মিথ্যা তথ্য সম্বলিত অডিও রেকর্ড প্রচার করেন। মূলত ধারাবাহিকভাবে বরিশাল পৌরসভা থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশনের বর্তমান পরিষদসহ সর্বমোট পাঁচবারের কাউন্সিলর থাকার পরে গত ১২ জুনের নির্বাচনে রইজ আহম্মেদ মান্নার বড় ভাই মুন্নার কাছে পরাজয়ের বেদনা তাকে (মুরতজা) বিকৃত মস্তিস্কের মানুষে পরিণত করেছে।

রইজ আহম্মেদ মান্নাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, সদস্য অ্যাডভোটেক রফিকুল ইসলাম খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু, অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার রাজিব প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা জাতীয় পার্টির নেতা ও শ্রমিক লীগ নেতার পিস্তল নিয়ে ধস্তাধস্তির বিষয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন করলে গুটি কয়েক প্রশ্নের উত্তর দিলেও বাকি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন স্থান ত্যাগ করেন শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দরা। এতে করে সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

শ্রমিক লীগের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সকল অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে জাপার প্রভাবশালী নেতা অ্যাডভোকেট মুরতজা আবেদীন বলেন, আমার লাইসেন্স করা পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মান্না ও তার সহযোগিরা। তিনি আরও বলেন, মান্না নিজেকে আওয়ামী লীগের লোক দাবি করলেও এই মান্না ও তার সহযোগিরা সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধীতা করে গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছে। আর মান্নার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণেই নির্বাচন চলাকালীন মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডে টানা ২৫ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি অ্যাডভোকেট মুরতজা আবেদীন। গত ১২ জুনের সিটি নির্বাচনে তার এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রইজ আহমেদ মান্না। তবে দলীয় নৌকা মার্কার প্রার্থীর সমর্থকদের পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি ও মারধরের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয় মান্নাকে। আর এ সময়েই মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীতা বাতিল করলে মান্নার ভাই মুন্না হাওলাদার সেই নির্বাচনে মুরতজা আবেদীনকে হারিয়ে বিজয়ী হন। আর ওই নির্বাচন থেকেই উভয়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

মান্নাকে গ্রেপ্তারের দাবি জাপা মহাসচিবের ॥ বরিশাল জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের একাধিকবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর মুরতজা আবেদীনের ওপর হামলা ও তার লাইসেন্স করা পিস্তল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি। মঙ্গলবার সকালে এক প্রতিবাদ লিপিতে মুজিবুল হক চুন্নু এই ঘটনার জন্য বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহমেদ মান্নাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।