বরিশালে ৩ বছর ধরে মেলে না যমুনার এলপি গ্যাস

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে প্রতি মাসে দুই চালানে ৯৫০টি সিলিন্ডার যমুনার বরিশাল ডিপোতে আসত। ৮০ জন পরিবেশকের মাধ্যমে ওই সিলিন্ডার ভোক্তাদের কাছে নির্ধারিত দরে বিক্রি হতো। এখন প্রায় তিন বছর ধরে সিলিন্ডার সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বরিশাল ডিপোতে এলপি গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে না। ফলে ডিলাররাও এ গ্যাস পাচ্ছেন না।

জানা যায়, সরকারি কোম্পানির সিলিন্ডারগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। ওই সিলিন্ডার বদল করে গ্রাহকদের অন্য কোম্পানির গ্যাস দেওয়া হয় না। ফলে যাদের কাছে সরকারি সিলিন্ডার ছিল, তারা কেজি দরে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

বরিশাল নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক সময়ের যমুনা এলপি গ্যাসের গ্রাহক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ছিল মাত্র ৬০০ টাকা। কিন্তু তিন বছর ধরে বরিশালে যমুনা কোম্পানির এলপিজি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে এখন অতিরিক্ত দামে বেসরকারি কোম্পানির এলপিজি কিনতে হচ্ছে। আর যমুনার গ্যাস না পেয়ে সিলিন্ডারটি ৫০০ টাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছি।

যমুনার এলপিজির ডিলার নগরীর পোর্ট রোড এলাকার সিকদার অ্যান্ড কোংয়ের স্বত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমার ৪০ জন গ্রাহক ছিল, ৪০টি সিলিন্ডার পেতাম। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ থাকায় তাদের গ্যাস দিতে পারছি না।

গ্যাস না আসার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সিলিন্ডারগুলো পুরোনো ও মেয়াদ না থাকায় বিপিসি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। পুরোনো ওই সিলিন্ডারে তারা গ্যাস দিলে তা গ্রাহক পর্যন্ত নেওয়ার আগেই বেরিয়ে যাচ্ছে। এমনকি দুর্ঘটনাও ঘটছে।

যমুনা ডিপো বরিশালের বিপণন কর্মকর্তা আল আমিন জানান, তাদের মজুত করা সিলিন্ডার নেই। যেগুলো আছে সেগুলো অনেক পুরোনো। এখন পর্যন্ত আড়াইশ সিলিন্ডার তাদের হাতে আছে। আরও ২০০ সিলিন্ডার দরকার। এখন গ্যাস আছে, কিন্তু সিলিন্ডার নেই। তাই সরবরা করা যাচ্ছে না।

যমুনা ডিপো সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ডিপো কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই সিলিন্ডার সংকটের অজুহাত দেখাচ্ছিল। এভাবে ধীরে ধীরে বরিশালে যমুনার এলপি গ্যাস আসা বন্ধ হয়ে যায়।

যমুনার বরিশাল ডিপো ম্যানেজার প্রিয়তোষ নন্দী জানান, তাদের সিলিন্ডার সংকট রয়েছে। এ কারণে সরবরাহ কমে গেছে। তিনি বলেন, মূল্য কম হওয়ায় যমুনার এলপি গ্যাসের চাহিদা ছিল অনেক বেশি। আবার সরবরাহ চালুর জন্য বিপিসিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) আবুল কালাম আজাদ বলেন, বরিশালে বিপিসির এলপি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ নেই, তা আমার জানা নেই। কেন যাচ্ছে না, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।




বরিশালে খাস জমি দখলের অভিযোগ

বরিশাল অফিস : বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই কীর্তনখোলা নদীর তীর থেকে শুরু করে ও চরবাড়িয়া ইউনিয়ানে লামচড়ি গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্প পাশ ঘিরে প্রায় ১০ একর সরকারী  খাস জমি দখলের  অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন আকন ও করির মৃধার বিরুদ্ধে  ।

লামচড়ি গ্রামের শরুব আলী হাওলাদার অভিয়োগ করে বলেন, এই গ্রামের ইউপি সদস্য মামুন আকন ও করির মৃধার বেশ কিছু দিন ধরে আশ্রয়ণ প্রকল্প পাশ ঘিরে সরকারী খাস জমি দখল করে, গাছ লাগিয়ে সেই গাছের ফল ও ফসল বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে । সরকারী খাস জমি হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা এই সব জমিতে ধান চাষ করে থাকলেও জমি দখলের পর থেকে তারা সেখানে চাষ করছেন না ।এই সব  কৃষক  চাষাবাদের জমি হারিয়ে পরিবার নিয়ে দূর্দিন কাটাচ্ছেন ।
দখলবাজদের হাত থেকে সরকারী খাস ফসলি জমি ফিরে পেতে এলাকাবাসি বরিশাল সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও দখল ভুমিদস্যু  মামুন আকন ও করির মৃধা প্রভাবশালী হওয়ায় তাতে কোন কাজ  হচ্ছেনা।

জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন আকন ও কবির মৃধা মোবাইল ফোনে জানান,  আমাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কিছু লোক ষড়যন্ত্র করে বিভিন্ন ভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে । আমারা কয়েক জন মিলে অনাবাদি ফেলে রাখা জমিতে পেপে গাছসহ সকল প্রকার সবজি-ফসল আবাদ করি যা  স্থানীয় মানুষদের মধো বিলিয়ে দেয়া হয় । এ জায়গায় ফসল চাষ করার প্রধান উদ্দেশ্য  মানব সেবায় হতদরিদ্রদের সাহায্ময করা ।

বরিশাল সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, চরবাড়িয়া ইউনিয়ানে লামচড়ি গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্প পাশ ঘিরে জমি দখলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ না পেলেও কয়েকজন আমাকে মৌখিক ভাবে বলেছেন, যেহেতু আমাদের আশ্রয়ণ প্রকল্প পাশেই সরকারী খাস জমি দখলের অভিযোগ,  আমি ইতোমধ্যে ঘটনা স্থল  পরিদর্শন করেছি এবং দখল করা জমি থেকে গাছপালা সহ সকল কিছু সরিয়ে নিতে সময়  বেধে দিয়েছি । সেই সময়ের মধো যদি তারা দখল না ছাড়ে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।




পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গার রেলপথে ট্রেনের প্রথম হুইসেল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশে ট্রেনের প্রথম হুইসেল বেজেছে। এর মাধ্যমে পদ্মাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হয়েছে।

আজ সকাল ১০টা ৭ মিনিটে লোকমোটিভসহ ৬টি কোচের পরীক্ষামূলক ট্রেন একটি লম্বা হুইসেল দিয়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ছাড়ে। আর এর মধ্যে দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা যুক্ত হলো রেলপথে। এতে উচ্ছ্বসিত ওই অঞ্চলের জনসাধারণ।

পরীক্ষামূলক যাত্রার প্রথম এই ট্রেনটি লোকোমাস্টার হিসেবে এনামুল হক এবং সহকারী লোকোমাস্টার হিসেবে এম এ হোসেন ট্রেন চালাচ্ছেন। আর গার্ড হিসেবে ট্রেন পরিচালনা করছেন আনোয়ার হোসেন। পরীক্ষামূলক ট্রেনের যাত্রী হিসেবে পর্যবেক্ষণ করছেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। আরও উপস্থিত আছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, রেলপথ সচিব ড. হুমায়ুন কবীর, বাংলাদেশ রেলওয়েল মহাপরিচালক মো. কামরুল আহসান, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক আফজাল হোসেন, রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং রেলওয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প আগামী ১০ অক্টোবর উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারিখ দিয়েছেন। এই রেললাইন উদ্বোধনের ফলে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ জীবনযাত্রা সহজ হবে।

ঢাকা থেকে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যশোর পর্যন্ত নতুন ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায়। কিন্তু পুরো এই পথটি এখনও নির্মাণ না হওয়াতে আপাতত ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথ উদ্বোধন করতে চায় সরকার। আজকের এই পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল সফল হওয়ার পর চলতি মাসে আরও কয়েকটি পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানো হবে নতুন এ রেলপথে। এরপর আগামী ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই রেলপথের আংশিক উদ্বোধন করবেন। তারপরের সপ্তাহ থেকে এই পথে চালানো হবে যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক ট্রেন।

এই পথে ট্রেন চলাচলের খবরে মাওয়া-ভাঙ্গা এলাকাবাসীদের মনে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বইছে। তাদের অনেকে বলছেন, এবার বুঝি ট্রেনে চড়ার সাধ মিটবে।

কখনও ট্রেনে চড়েননি শিবচরের বাসিন্দা মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের এলাকার ওপর দিয়ে কখনও ট্রেন চলবে সেটা ভাবিনি। ট্রেন চলাচলের খবর শুনে আমি অনেক খুশি। কখনও ট্রেনে চড়িনি, এবার বুঝি সাধ পূরণ হবে। আগে শিবচর থেকে ঢাকা যেতে সময় মানতে হতো ফেরি ঘাটের। এরপর গত বছর চালু হলো পদ্মা সেতু। চালু হওয়ার পর এখন রাত-দিন যেকোন সময় ঢাকায় যাওয়া-আসা করা যায়। তবুও ঢাকায় ঢুকতে জ্যামে পরতে হয়। এখন যদি ট্রেন চালু হয় তাহলে ঢাকায় যেতে আর জ্যামের চিন্তা করতে হবে না। এই ট্রেন যোগাযোগ আমাদের স্বপ্ন পূরণ করেছে।

ফরিদপুরের নগরকান্দার বাসিন্দা আল-আমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ট্রেন চলাচলের খবরে আমাদের ভালো লাগছে। এখন আমাদের এখানে নতুন রেলপথ হয়েছে, নতুন ট্রেন দিচ্ছে, পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলবে এটা ভাবতেই আমাদের ভালো লাগছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বাসে এখন আমাদের ঢাকায় যেতে সর্বোচ্চ দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। আগে দুই ঘণ্টা সময় লাগতো শুধু ফেরি পার হতে এবং ঢাকায় যেতে লাগতো প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা।

তিনি বলেন, ভাঙ্গা থেকে ঢাকায় যেতে লোকাল বাসগুলো প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া নেয়। ক্ষেত্র বিশেষে সাড়ে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেয়। ঈদের সময় প্রায় ৪০০-৫০০ টাকা ভাড়া নেয়। এখন ট্রেন চলাচল শুরু হলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া থাকবে। অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ার কোনো জটিলতা থাকবে না। আমি মনে করব বাস থেকে ট্রেনের জার্নি সবচেয়ে আরামদায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, ট্রেন চলাচল চালু হওয়াতে আরও সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে শিশু ও মহিলাদের জন্য। অনেক সময় ওয়াশরুমে যাওয়ার একটা প্রেসার থাকে সেটা পুরুষ মানুষ কোনভাবে সামলে নিতে পারে। কিন্তু নারীদের জন্য আরও বেগতিক হয়। এই সমস্যাটা এখন সমাধান হবে। সর্বোপরি আমাদের এলাকার মানুষদের জন্য এটা একটা আশীর্বাদ। কারণ আমাদের এলাকার মানুষজন আগে কখনো ট্রেনে ওঠেনি।

গত বছর পদ্মা সেতু যখন সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়, তখন থেকে রেলওয়ে বাড়তি গুরুত্ব দেয় মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের কাজে। এরপরও পুরো ঢাকা-যশোর অংশের কাজ শেষ করতে না পারায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে কর্তৃপক্ষ। পরে ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, শুরুতে ৩টি স্টেশনের (মাওয়া, পদ্মা (জাজিরা) ও শিবচর) সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করে ঢাকা-ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করা হবে। এর বাইরে নিমতলা স্টেশনটিও চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে উদ্বোধনের এক সপ্তাহ পরে। শুরুতে একটি ট্রেন নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। প্রকল্প কার্যালয় থেকে ঢাকা-পদ্মা সেতু-রাজবাড়ী রুটে ট্রেন চালানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত একটি ট্রেন চালানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভাঙ্গা পর্যন্ত আসে। এ ট্রেনটি ঢাকা পর্যন্ত আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, উদ্বোধনের তিন মাসের মধ্যে প্রধান প্রধান স্টেশনগুলো চালু হয়ে যাবে। ট্রেনের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ডসহ প্রকল্পের মেয়াদ আরও দেড় বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রকল্প কার্যালয় থেকে এ সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব এরই মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়েতে পাঠানো হয়েছে। তবে মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।

স্বল্পমেয়াদি ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ রেলপথটির ঢাকা-ভাঙ্গা অংশে প্রতিদিন ১৩ জোড়া ট্রেন চলবে। একইভাবে ভাঙ্গা-কাশিয়ানী অংশে প্রতিদিন ৭ জোড়া ও কাশিয়ানী-যশোর অংশে প্রতিদিন চলবে ৫ জোড়া ট্রেন। এ সময়ের মধ্যে ঢাকা-ভাঙ্গা অংশে বছরে ৪০ লাখ, ভাঙ্গা-কাশিয়ানী অংশে বছরে ১৭ লাখ ও কাশিয়ানী-যশোর অংশে বছরে সাড়ে ১৩ লাখ যাত্রী পরিবহন করা হবে। ‘ওয়ান ডিরেকশন’ বা একমুখী চলাচলের ওপর ভিত্তি করে এ প্রাক্কলনটি তৈরি করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ (সিআরইসি)।

একইসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত পুরো রেলপথটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণের জন্য পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প ২০১৬ সালে অনুমোদন করে সরকার। প্রকল্পের আওতায় ১৭২ কিলোমিটার মূল রেলপথের বাইরে ৪৩ কিলোমিটার লুপ লাইন (স্টেশনের আগে-পরে বাড়তি লাইন) নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ১০০ আধুনিক যাত্রীবাহী বগিও কেনা হয়েছে। এগুলো দিয়ে রেক সাজিয়ে নতুন ট্রেন চালু করা হবে। বর্তমানে পুরো প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ৮২ শতাংশ। ২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে ঢাকা-যশোর রুটে ট্রেন চালানোর টার্গেট রয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের।

পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে তৈরি নতুন ব্রডগেজ রেলপথে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলতে পারবে। এ পথে থাকবে না কোনো রেলক্রসিং। কারণ, যেখানেই রেললাইন ও সড়ক মিলেছে, সেখানেই পাতালপথ তৈরি করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত মোট ২০টি স্টেশন থাকবে, যার মধ্যে ১৪টি নতুন এবং ৬টি আগে থেকেই রয়েছে। আগের স্টেশনগুলোরও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি যখন ২০১৬ সালে অনুমোদন করা হয়, তখন এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ২২ মে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। এই রেলপথ জিটুজির (সরকারের সঙ্গে সরকারের) ভিত্তিতে চীনের অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজ করছে সিআরইসি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনের এক্সিম ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে ২৬৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। বাকি অর্থ ব্যয় করছে বাংলাদেশ সরকার।




সরকারি কর্মকর্তাদের আইফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করল চীন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স: সরকারি কর্মকর্তাদের অ্যাপল আইফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে চীন। এমনকি আইফোনের পাশাপাশি বিদেশি ব্র্যান্ডের অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার না করতে এবং সেগুলো অফিসে না আনতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দেশটিতে।

বাণিজ্য, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরোধ চলছে এবং এর মধ্যেই আইফোন ব্যবহারের বিষয়ে এই নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি সামনে এলো। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থাগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তাদের অ্যাপলের আইফোন এবং অন্যান্য বিদেশি ব্র্যান্ডের ডিভাইস কাজের জন্য ব্যবহার না করার বা অফিসে না আনার নির্দেশ দিয়েছে চীন। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন বেশ কয়েকজনকে উদ্ধৃত করে বুধবার এই তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রভাবশালী এই মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি বলছে, কাজের জন্য আইফোন ব্যবহার না করা বা সেগুলো অফিসে না আনার বিষয়ে গত কয়েক সপ্তাহে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের অধস্তনদের এসব আদেশ দিয়েছেন। তবে এই নিষেধাজ্ঞার পরিসর ঠিক কতটা ব্যাপক তা এখনও স্পষ্ট নয়।

রয়টার্স বলছে, আইফোন ব্যবহারের বিষয়ে চীন সরকারের এই নিষেধাজ্ঞাটি এমন এক সময়ে দেওয়া হলো যখন পরের সপ্তাহে আইফোনের একটি মডেল বাজারে আসার কথা রয়েছে এবং পর্যবেক্ষকরা বিশ্বাস করেন- চীন-মার্কিন উত্তেজনা বাড়ার সাথে সাথে চীনে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে এমন বিদেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে এটি উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।

অবশ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্টে অ্যাপল আইফোন ছাড়া অন্য কোনও ফোন নির্মাতার নাম উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া অ্যাপল এবং চীনের স্টেট কাউন্সিল ইনফরমেশন অফিসের সঙ্গে এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

চীনের স্টেট কাউন্সিল ইনফরমেশন অফিস মূলত চীনা সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকে।

রয়টার্স বলছে, চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেটা সুরক্ষার বিষয়ে আরও মনোযোগী হয়েছে এবং চীনের বাজারে থাকা কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন আইন তৈরি করেছে।

চিপ শিল্পসহ প্রযুক্তিখাত নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে চীন-মার্কিন উত্তেজনা বেশ বেড়েছে। গত আগস্ট মাসের শুরুতে মাইক্রোচিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই বেইজিং সেমিকন্ডাক্টর তৈরির প্রধান দুটি উপাদান রপ্তানির ওপর তাদের আরোপ করা বিধি-নিষেধ কার্যকরের উদ্যোগ নেয়।

এর আগে মাইক্রোপ্রসেসর প্রযুক্তি শিল্পে চীন যাতে খুব বেশি দূর অগ্রসর হতে না পারে সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। তারই অংশ হিসেবে চীনের কাছে সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানির ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। আর এরপরই চীন গ্যালিয়াম ও জার্মেনিয়াম রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।

মূলত ইলেকট্রনিক্স ও কম্পিউটার চিপসহ সামরিক সরঞ্জামাদি উৎপাদনে এই দুটি উপাদান ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর বিশ্বব্যাপী যত গ্যালিয়াম ও জার্মেনিয়াম ব্যবহার করা হয় তার সবচেয়ে বড় উৎপাদনকারী দেশ চীন।

এদিকে গত সপ্তাহে চীন সফরের সময় মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী জিনা রাইমন্ডো বলেছিলেন, চীন ‘অবিনিয়োগযোগ্য’ হয়ে উঠেছে বলে মার্কিন কোম্পানিগুলো তার কাছে অভিযোগ করেছে। এসব কোম্পানি জরিমানা, অভিযান এবং অন্যান্য পদক্ষেপের দিকেও ইঙ্গিত করেছে যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে ব্যবসা করাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

অবশ্য এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা হুয়াওয়ে এবং চীনের বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। আর আইফোন নিয়ে চীনের সর্বশেষ বিধিনিষেধটি আগের সেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞারই প্রতিফলন।

উল্লেখ্য, সারা বিশ্বের মধ্যে চীন অ্যাপলের অন্যতম বড় বাজার এবং মার্কিন এই সংস্থাটির আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসে এশীয় এই পরাশক্তি দেশটি থেকে।

টিএম




বাইকের মামলা দেওয়ায় পুলিশের ওপর হামলা

এস এল টি তুহিন, বরিশাল: আমরা ছাত্রলীগ, তোরা পুলিশ লীগ। আজকে পুলিশ পেটাবো” বলেই ট্রাফিক সার্জেন্ট মনিরুল ইসলামের ওপর অর্তকিতভাবে হামলা চালায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০/২৫ জন শিক্ষার্থীরা। মোবাইল ফোনে হামলার ভিডিও ধারণ করায় ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল মোস্তফা জামালকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সার্জেন্ট মনিরুল ইসলামের ওয়ারলেস ও বডি অন ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। যদিও পরবর্তীতে তা উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীতে কাগজপত্র বিহীন মোটরসাইকেল আটক করার অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রকে আটক করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

নগরীর বান্দ রোডের পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সামনের সড়কে সাজেন্ট ও কনস্টবলের ওপর হামলার পর উল্টো পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কে শিক্ষার্থীরা ঘন্টাব্যাপী অবরোধ করে অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় তারা আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি করেন।

সড়ক অবরোধের ফলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দুরপাল্লার যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পরতে হয়েছে। পরবর্তীতে বন্দর থানার ওসি আবদুর রহমান মুকুল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হামলায় আহত সার্জেন্ট মনিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল মোস্তফা জামালকে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর খোরশেদ আলম বলেন, দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করার কোনো মানে হয় না। শিক্ষার্থীরা অঙ্গীকার করেছে তারা আর সড়ক অবরোধ করবে না।

আহত সার্জেন্ট মনিরুল ইসলাম বলেন, রাত সোয়া সাতটার দিকে নগরীর শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেটের সামনে তিনজনকে বহনকারী একটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়। গাড়ির কোন কাগজপত্র না থাকায় মামলা দিয়ে মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। তখন একজন পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলে, আজকে পুলিশ পিটাবো। এ কথা বলেই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, রাত সোয়া আটটার দিকে ২০/২৫ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে কেন মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়েছে তা জানতে চায়। এ সময় তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগেই তারা বলে, আমরা ছাত্রলীগ-তোরা পুলিশ লীগ। বলেই অর্তকিতভাবে হামলা চালায়।

বুধবার সকালে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আনভির ইসলাম ও রমজান হোসেন সোহাগ নামের তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ওসি আরও জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




গৌরনদী পৌরসভায় টিটিসি উদ্বোধন প্রশিক্ষণ পাবে বেকার যুবক-যুবতী

এস এল টি তুহিন,বরিশাল : দেশের বেকার যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ, উদ্যোক্তা তৈরি ও দক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মান করছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কোল ঘেঁষে গৌরনদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড় কসবা গ্রামের দেড় একর জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি।

বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ শহিদুল আলমের সভাপতিত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমেদ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধণ করবেন। সেলক্ষে ইতোমধ্যে কেন্দ্রের সামনে প্যান্ডেল নির্মান ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বিভাগের অধীনে দেশের ৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে গৌরনদীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছে। এখানে ছয়টি ট্রেডে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ফলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে অ্যাকাডেমিক ভবন, অধ্যক্ষের বাসভবন ও ডরমেটরি ভবন নির্মান করা হয়েছে। প্রত্যন্ত এ গ্রামে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করায় এলাকার বেকার যুবক ও যুবতীরা আশায় বুক বেঁধেছেন।

বরিশাল গৌরনদী পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর মোঃ আল-আমিন হাওলাদার বলেন, আমাদের উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ অনেক সুখের বিষয়। এখানে আমাদের বেকার ছেলে-মেয়েরা প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যেমন চাকরির বাজারে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারবে। তেমনি নিজেরা নিজেদের কর্মসংস্থানও তৈরি করতে পারবে। এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সার্বিকভাবে গৌরনদী উপজেলাসহ এ অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টায় গৌরনদীর কসবা এলাকায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। গণপূর্ত বিভাগের আওতায় ২০২০ সালের মার্চ মাসে ২০ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে গৌরনদীতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

বরিশাল গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু বলেন, জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় মন্ত্রী আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি’র প্রচেষ্টায় গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ জনবল তৈরি হবে। ফলে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এতে গৌরনদী উপজেলাবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।

বরিশাল গৌরনদী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ কাইউম বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধাসহ সুধীজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৭৫ জন জনবল নিয়ে ছয়টি ট্রেডে ১৫ টি কোর্স নিয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু হবে। এতে প্রায় ৪২ জন প্রশিক্ষক থাকবে। কেন্দ্রটি থেকে বেকার যুবক-যুবতীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।

বরিশাল গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু আব্দুল্লাহ খান বলেন, বৃহস্পতিবার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধনের পর পরই অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। এখান থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে এলাকার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা দেশ ও বিদেশে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে নিতে পারবে। ফলে গৌরনদী উপজেলাবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। বিশ্ববাজারে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের চাহিদা রয়েছে। সে লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মানের মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় গৌরনদীতে নির্মিত হয়েছে এ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি।

বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক ও জনশক্ষি কর্মসংস্থান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ শহিদুল আলম বলেন,দক্ষ হয়ে বিদেশ গেলে, অর্থ, সম্মান দুই মেলে”। বিদেশে যেতে গেলে দক্ষ হয়ে যেতে হবে, আর দক্ষ হতে হলে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। দক্ষ মানুষ সারাবিশ্বের মানুষের উপকারে লাগে। কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরো দেশের ৪০টি উপজেলায় একটি করে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চট্টগ্রামে একটি ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প গ্রহন করেছে। এসব প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বহির্বিশ্বের শ্রমবাজারে দক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানির করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশের জনগন নিজ নিজ এলাকায় থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহন করে নিজেদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন।




পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকা গেল ট্রায়াল ট্রেন


বরিশাল অফিস:  ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৮২ কিলোমিটার রেলপথ এখন ট্রেন চালানোর জন্য প্রস্তুত। তাই পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে এই পথে পরীক্ষামূলক ট্রেন চালাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। পদ্মা সেতু অফিশিয়াল ট্রায়াল রানের ট্রেনটি বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।

জানা গেছে, আগামীকাল ৭ সেপ্টেম্বর নতুন এ রেলপথ দিয়ে প্রথম ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাওয়া হয়ে ভাঙ্গা স্টেশনে যাবে প্যাসেঞ্জার ট্রায়াল ট্রেন। এরপরই আগামী ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই রেলপথের উদ্বোধন করবেন। যদিও পুরো প্রকল্পে নির্মাণ হতে যাওয়া ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেলপথের দৈর্ঘ্য ১৭২ কিলোমিটার।

রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার তন্ময় কুমার দত্ত বলেন, ঈশ্বরদী থেকে গতকাল রাত ৯টা ৪০ মিনিটে পদ্মা সেতুর ট্রায়াল রান ট্রেনটি রাজবাড়ী স্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেনটি ৮টি কোচ ও একটি ইঞ্জিন নিয়ে আজ সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। আগামীকাল রেলমন্ত্রীসহ বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই ট্রেনে চড়ে ঢাকার কমলাপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা আসবে।

পদ্মা সেতুর প্যাসেঞ্জার ট্রায়াল ট্রেনের লোকোমাস্টার এনামুল হক বলেন, খুবই ভালো লাগছে যে আমি প্রথম লোকোমাস্টার হিসেবে স্পেশাল কোচ নিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে যাব। গতকাল কোচটি নিয়ে আমরা ঈশ্বরদী থেকে রাজবাড়ী আসি।




ব্যবসায়ীদের টাকা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পালাতে চেয়েছিলেন মহিপুরে বাবলু

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর মহিপুরে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া পাইকার নিলয় পারভেজ বাবলুকে মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি ব্যবসায়ীদের টাকা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় ১০ লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকাসহ ঢাকার ফার্মগেটের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মহিপুর থানার এসআই রাসেল সরদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার মাছ ব্যবসায়ী বাবলু সাতক্ষীরার কলরোয়ার আবজাল হোসেনের ছেলে। মহিপুর মৎস্য বন্দর থেকে ১৬ জন আড়ৎ মালিকদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার মাছ নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে স্থানীয় আড়ৎ মালিক মিজান প্যাদা বাদী হয়ে সোমবার সন্ধ্যায় মহিপুর থানায় মামলা করেন।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম খাঁন বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার এবং চৌকস অফিসারের সমন্বয়ে গতিবিধি ও অবস্থা শনাক্ত করে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাবলু ব্যবসায়ীদের টাকা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।




দালালের মাধ্যমে সৌদি গিয়ে নিখোঁজ বরিশালের ছালাম

মো: আল আমিন, বাবুগঞ্জ :বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব কেদারপুর গ্রামের মৃতঃ মোসলেম হাওলাদারের ছেলে মোঃ ছালাম হাওলাদার(৩৫)। পাঁচ লক্ষ টাকা চুক্তিতে পূন্যভূমি সৌদি আরব গিয়ে গত ৪ মাস যাবৎ নিখোঁজ রয়েছেন তিনি জীবিত আছেন না মারা গেছেন তার কোন সন্ধান পাচ্ছেন না ছালামের পরিবার।

তাকে সৌদি পাঠাতে তার পরিবারের প্রায় ৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। আর তার পরিবারকে পুরো টাকটাই দিতে হয়েছে ঋন এবং ধার করে।

পুরো ঘটনাটা জানতে চাইলে নিখোঁজ ছালামের স্ত্রী বৃষ্টি আক্তার বলেন, ছালাম ঢাকাতে সেনেটারীর কাজ করতেন। এতে তাদের সংসার মোটামুটি ভালোই চলছিলো। হঠাৎ সবুজ নামে তার এক বন্ধুর কাছে জানতে পারেন জুয়েল নামে এক লোক সৌদি আরব লোক পাঠাচ্ছেন। সে মোতাবেক জুয়েলের সাথে ছালামের যোগাযোগ শেষে কথা হয়। ৫ লক্ষ টাকায় সৌদি আরব নিয়ে বাংলাদেশী টাকার ৪৫ হাজর টাকা বেতনে কোম্পানির কাজ দিবেন বলে মৌখিক চুক্তি হয় ২০২২সালে।

চুক্তি অনুযায়ী ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে ভিসা, আকামা এবং থাকা কোম্পানি বহন করবে। জুয়েল কালকিনি থানার রমজানপুর ইউনিয়নের চর পালোরদী গ্রামের আঃ হাকিম পেয়াদার ছেলে। পেশায় জুয়েল আদম ব্যবসায়ী এবং দালাল। কথা শেষে তিন মাসের মধ্যে জুয়েল ছালামকে সৌদি আরব পাঠায়। সেখানে পৌঁছার কিছু দিন পরে জুয়েল আকামা তৈরীর জন্য ছালামকে চাপে রেখে আরো ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা আদায় করেন আর ওই টাকার পুরোটাই বাড়ি থেকে দেয়া হয়েছে। ছালামের সাথে কোম্পানির কাজের কথা উল্লেখ থাকলেও তাকে ভবন নির্মাণ(কনস্ট্রাকশন) কাজের শ্রমিক হিসেবে কাজ দেয়া হয়, তাও নিয়মিত নয়। কোন মাসে ১৫ দিন কোন মাসে ১০ দিন কিংবা ১ সপ্তাহ এমনি করে ৩/৪ মাস কাজ করে ছালাম। বাড়িতে নিয়মিত যোগাযোগ হত এবং উপার্জনের উপর ভিত্তি করে মাঝে মাঝে কিছু টাকাও পাঠাতো। ছালাম জুয়েলকে কোম্পানির কাজের কথা বললে আশা দিয়ে শুধু টালবাহানা করতো। এমনি করে চলতে থাকে সৌদি প্রবাসী ছালামের প্রবাস জীবন।

ছালামের স্ত্রী আরো জানান, চলতি বছরের মে মাসের ২৬ তারিখ তার সাথে শেষ কথা হয়েছিলো। তার পর থেকে ছালামের সাথে তার পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ একদিন জুয়েল ছালামের স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারকে ফোন করে বলেন, ছালাম গুরুতর অসুস্থ এবং তিনি হাসপাতালে আই সি ইউতে ভর্তি আছেন। সে মর্মে জুন মাসের ১২ তারিখ এবং আগস্ট মাসের ৮ তারিখ দুটি ভিডিও চিত্র পাঠান ছালামের চাচাতো ভাই রিয়াজের ইমু নাম্বারে। তার পর থেকে জুয়েলকেও আর মোবাইলে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তিনি কোন তথ্যও জানাচ্ছেন না। আসলে ছালামের জীবনে কি ঘটেছে তিনি বেঁচে আছেন না কি তাও বলতে পারছেন না তার পরিবারের কেউ। অনুপায় হয়ে অনেক কষ্টে ছালামের পরিবার জুয়েল এর গ্রামের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে তার বাড়িতে যান। সেখানে গেলে জুয়েলের পরিবারের কেউ কিছু জানেন না মর্মে জুয়েলের অবস্থানের ঠিকানা দিতেও অপারগতা স্বীকার করেন।

এদিকে ছালাম ৪ সন্তানের জনক ছালামের কোন সংবাদ কিংবা সন্ধান না পেয়ে অর্ধাহারে, অনাহারে, চিন্তায় এবং আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবার। তারা ছালামের সন্ধান চান অথবা দেশে ফেরত পেতে চান। এব্যপারে দালাল জুয়েলের সাথে তার মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।




বরিশালে নির্মিত হচ্ছে রাইস সাইলো, দক্ষিণাঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তায় অমিত সম্ভাবনা 

বরিশাল অফিস : আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকায় নির্মানাধীণ অত্যাধুনিক শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৪৮ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতার স্টিল রাইস সাইলো প্রকল্পের কাজ  প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও কীর্তনখোলা নদীতে নির্মাণাধীন পল্টুন (যেটি) এর নির্মাণ কাজও  দ্রুত গতিতে শেষ করা হবে বলে জানা গেছে।

বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন কীর্তনখোলা নদী সংলগ্ন এলাকায় এই স্টিল সাইলোটি কাজ শেষে চালু হলে খাদ্যপণ্যের গুণগতমান ও পুষ্টিমান দীর্ঘ তিন বছর সময় বজায় রাখা সম্ভব হবে। প্রায় ৩৬২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৪৮ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই আধুনিক স্টিল সাইলো।

৫২০ শতক জমির উপর নির্মিত এই সাইলোতে একসঙ্গে তিন বছরের জন্য সংরক্ষণ করা যাবে ৪৮ হাজার টন চাল। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, যে কোন দুর্যোগকালীন সময় খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলায় স্টিল সাইলোতে সংরক্ষণ করা চাল হবে দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য হবে বড় সহায়ক ।

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় সরকারিভাবে দীর্ঘদিন মজুদ রাখার উপযোগী আধুনিক ও উন্নতমানের খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পৃথক-পৃথক ১৬টি বিনের মাধ্যমে প্রতিটি বিনে ৩ হাজার মেটিকটন চাল ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন হবে এ সাইলো। সর্বাধুনিক সাইলো পাইল, ফাউন্ডেশন স্টিল স্ট্রাকচারের মাধ্যম সহ নদী ও সড়ক পথে চাল আমদানী করা হলে তা জেটি থেকে কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে অটোমোশন লোডিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণাগারে এসে প্রতিটি বিনে মজুদ হবে।

এতে কীটনাশক ছাড়া আধুনিক চিলার (স্বয়ংক্রিয় তাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) যন্ত্রের মাধ্যমে আদ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রেখে প্রায় তিন বছর চাল সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় চাল সংরক্ষণ, ব্যাগিং ও লেডিং-আনলোডিং প্রক্রিয়া করবে।

একাজে নিয়োজিত অপারেটর নিজ কক্ষে বসে প্রতিটি সাইলো বিনের তাপমাত্রা স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে বুঝতে পারবেন। ফলে সঠিক তাপমাত্রা ও আদ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

ইতিমধ্যে ১৬টি স্টিল সাইলো বিন ১৬টির কাজ সম্পূর্ন হয়েছে এখন শুধু বাকি কনভেয়ারে কাজ তাও দ্রæতগতিতে চলছে বলে জানান প্রকল্প কাজে সংশ্লষ্ট সদস্যরা। অন্যদিকে বাংলো, সাইলো অফিস, পাম্প হাউজ সহ গোডাউনের কাজ সম্পূর্ন করার পাশাপাশি আমাদের এখানের কাজ দ্রুতগতিতে গিয়ে চলছে ও আগামী বছরের জানুয়ারী মাসে এ প্রকল্পের কাজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর এবং ফেব্রয়ারী মাসে সাইলোর উদ্ধোধন করা হতে পারে হবে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাইলো প্রকল্প প্রকৌশলী বরিশাল সাইলো আ.জ.ম ইফতেখার।

এ বিষয়ে বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় স্থানীয় পদ্ধতিতে প্রায় ৯০ হাজার টন খাদ্য মজুদের ব্যবস্থা রয়েছে। অত্যাধুনিক খাদ্য মজুদের ক্ষেত্রে স্টিল সাইলো হবে বাড়তি শক্তি। খরা, ঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছাসের পর খেতে ফসল ওঠা পর্যন্ত এই সাইলোর মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে আলাপকালে স্টিল সাইলো প্রকল্প প্রকৌশলী আ.জ.ম. ইফতেখার বলেন, স্টিল সাইলো নির্মাণ প্রকল্পটির চুক্তি সম্পাদিত হয় ২০২১ সালের জুন মাসে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৩ সালের আগস্ট মাস নাগাদ শেষ হবার কথা ছিল মাঝে জমি সংক্রান্ত একটু জটিলতার কারনে কিছুটা সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাইলো নির্মাণ কাজের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি আমরা ২০২৪ সালের জানুয়ারী মাসে কাজ সম্পূর্ন করে হস্তান্তর করব। যা পরবর্তী সময় ফেব্রুয়ারীতে চালু করা হবে। সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। এটি সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব ও কীটনাশকমুক্ত।