শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে : মোদি

শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে পৌঁছান শেখ হাসিনা। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে তাকে স্বাগত জানান। তারপর প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন দুই দেশের শীর্ষ নেতা।

বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। গত ৯ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অগ্রগতি খুবই সন্তোষজনক।’

কোন কোন ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে— সে সম্পর্কে এক্সে বিস্তারিত কিছু বলেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তবে তার বার্তায় বোঝা গেছে, আলোচনায় দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সংযোগ, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বসগ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

‘আমাদের আলোচনায় কানেক্টিভিটি, বাণিজ্যিক সংযুক্তি এবং আরও অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।’ টুইটবার্তায় বলেছেন নরেন্দ্র মোদি।

প্রসঙ্গত, দুই দেশের পরবর্তী পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে এটিই নরেন্দ্র মোদি এবং শেখ হাসিনার সম্ভাব্য শেষ বৈঠক।

শেখ হাসিনার এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানা গেছে। একটি বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলের গবেষণা ও শিক্ষায়  ভারতের সহায়তা সম্পর্কিত।দ্বিতীয়টি হলো চলতি ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার করা এবং তৃতীয়টি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ভারতের ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার চুক্তি। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে টাকা ও রুপির বিনিময় সহজ হবে।

বাংলাদেশ জি-২০ জোটের সদস্য নয়। এবারের নয়াদিল্লি সম্মেলনে বাংলাদেশ গিয়েছে অতিথি হিসেবে। আগামী শনি ও রোববার সম্মেলনের দু’টি পৃথক সেশনে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে।




মার্কিন দূতাবাসে আশ্রয় চেয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান


 চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ ডেক্স:  নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কারণে মার্কিন দূতাবাসে পরিবারসহ আশ্রয় চেয়েছেন বরখাস্ত হওয়া ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া। বন্ধের দিন হওয়ায় দূতাবাসের মূল ফটকের পাশে একটি কক্ষে তাদের বসিয়ে রেখেছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মার্কিন দূতাবাসে আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের এমরান আহম্মদ বলেন, ‘আমি মার্কিন দূতাবাসে আজকে পুরো পরিবারসহ আশ্রয়ের জন্য বসে আছি। আজকে আমাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। আমার ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে গত ৪-৫ দিন যাবৎ অনবরত হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এই সরকার ভালোবাসার প্রতিদান দেয় জেল দিয়ে। আমার আমেরিকার কোনো ভিসা নেই। স্রেফ তিনটি ব্যাগে এক কাপড়ে আমার তিন মেয়েসহ কোনোক্রমে বাসা থেকে বের হয়ে এখানে বসে আছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

এর আগে ড. ইউনূসের বিপক্ষে বিবৃতি দিতে অস্বীকৃতির কথা গণমাধ্যমে জানানো ও তিনি বিচারিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করার জেরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার নিয়োগ বাতিল করে দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আজ (শুক্রবার) তার নিয়োগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইং। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন সলিসিটর রুনা নাহিদ আক্তার।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দ্য বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, ১৭৭২ (পিও নম্বর ৬) এর ৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার নিয়োগাদেশ জনস্বার্থে বাতিল করা হলো। পাশাপাশি তাকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। অবিলম্বে তা কার্যকর হবে।

কী করেছেন এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া

শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করা এবং বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত মাসে খোলা চিঠি দিয়েছেন ১৭৫ জন বিশ্বনেতা।

এরপর এ চিঠির বিপক্ষে বেশ কিছু বিবৃতি দেওয়া হয়েছে দেশের ভেতর থেকে। এরকমই একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করবেন না বলে সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে জানান সরকারের আইন কর্মকর্তা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া। একইসঙ্গে তিনি বলেন যে, ড. ইউনূস বিচারিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া বলেন, ড. ইউনূসের পক্ষে ১৭৫ জন বিদেশি ব্যক্তি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটনও রয়েছেন। ওই বিবৃতির বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাকে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে। কিন্তু আমি ইউনূসের বিপক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করব না।

কে এই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমরানের পৈত্রিক বাড়ি কুমিল্লায়। বাবা সুলতান আহম্মদ ভূঁইয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তখন তিনি ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর অধীনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে গবেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার মায়ের নাম সুরাইয়া সুলতানা। তিনি মহিলা পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পর পর দুবারের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সুলতান আহম্মদ ভূঁইয়ার চাকরির সুবাদে তার পরিবার পরবর্তীতে চট্টগ্রামে স্থায়ী হন।

সুলতান আহম্মদ ভূঁইয়া ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি যখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন ড. ইউনূসও ওই সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। আর এমরান ১৯৯২-৯৩ সেশনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। তিনি আইন বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক দুই শিক্ষার্থী (বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী) ঢাকা পোস্টকে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এমরান ছাত্রলীগ করতেন। আইন পড়া শেষ করে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল হাইকোর্টে প্র্যাকটিসের অনুমতি পান এবং ২০০৫ সালের ২১ জুলাই সদস্য পদ লাভ করেন। এরপর ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি তিনি একজন মন্ত্রীর সুপারিশে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

হঠাৎ কেন ইউনূসের পক্ষে অবস্থান?

অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার ফেসবুক প্রোফাইল ঘুরে দেখা যায়, তার ফেসবুকের কভারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি রয়েছে। ফেসবুক ব্যবহার শুরুর পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শ-সরকারের উন্নয়নের কথাই তুলে ধরেছেন। কিন্তু হঠাৎ নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। তার অবস্থান পরিবর্তনে হতবাক অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সহকর্মীরা।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের তার তিন জন সহকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, এমরান বিচারপতি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তদবির করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হয়েছিলেন। কিন্তু পরপর দুই নিয়োগে তিনি বিচারপতি হতে পারেননি। এতে তার মনে ক্ষোভ জন্মেছে। আবার কেউ বলছেন, এমরানের আত্মীয়-স্বজনদের অনেকে আমেরিকায় থাকেন। আমেরিকান ভিসা নিশ্চিত করতেই তিনি ড. ইউনূসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এমরান কোনো লোভের বশবর্তী হয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করেন আরেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান মনির। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, তিনি কিছু লোভের বশবর্তী হয়ে কাজটা করেছেন। ড. ইউনূস ও তার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস অর্থাৎ দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার অফিস থেকে ইউনূসের পক্ষে বিবৃতি নেওয়ার ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। এ ষড়যন্ত্রের ফাঁদে ও লোভে পা দিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তার এসব কর্মকাণ্ড।

আসাদুজ্জামান মনির বলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান উচ্চভিলাষী। তিনি বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়াতেন বিচারপতি নিয়োগের তালিকায় তার নাম প্রথমদিকে রয়েছে। কিন্তু গত নিয়োগেও যখন তিনি বিচারপতি হতে পারলেন না, তখন তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কারো সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল না।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরানের অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে ফেসবুক পোস্ট করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কুমার দেবুল দে। ফেসবুক পোস্টের একাংশে তিনি লিখেছেন, ‘একজন ব্যক্তি যদি মনে করে শেখ হাসিনার পক্ষে থেকে বা বাংলাদেশের সঙ্গে থেকে কি সুবিধা বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে বা পাওয়া যাবে তার চেয়ে অধিক সুবিধা যদি ড. ইউনূসের পক্ষে বা আমেরিকার সঙ্গে থেকে পাওয়া যায় তাহলে একজন ব্যক্তি কেন শেখ হাসিনার পক্ষে থাকবেন? কোনো ব্যক্তি যদি দেখেন শেখ হাসিনার পক্ষে থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়া গেছে। এরপর বিচারপতি হওয়ার রিপিটেড চেষ্টা করেও আর এগোতে পারেননি। তারপরে হতাশ হয়ে দেশের ওপর ভীতশ্রদ্ধ হয়ে সপরিবারে আমেরিকা চলে যাওয়ার চেষ্টা করে দুইবার ভিসা রিফিউজ হলে সেই ব্যক্তির আর কীইবা করার থাকে! শতভাগ ভিসা কনফার্ম করার মিশন নিয়ে ড. ইউনূস বা আমেরিকার পক্ষ নেওয়া ছাড়া!’

‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের কাগজে সাইন না করা এটা ব্যক্তিগত পর্যায়ে হতে পারত, গোপন থাকতে পারত, যখন সাংবাদিক ডেকে সংবাদ সম্মেলন করে কোনো কাগজে সাইন না করার বিষয় প্রচার করা হয় তখন বুঝতে হবে এখানে অনেক বড় কোনো লাভের বিষয় আছে। এখানে শুধু ভিসা কেন? ড. ইউনূস তো আবার বড় লোক, টাকা গুনেন এক কোটি-দুই কোটিতে নয়, গুনেন হাজার কোটিতে। তাই *** (অশালীন শব্দ) বিষয় আছে, *** পেটে পড়লে আর যাই হোক মাথা ঠিক থাকে না। না হলে বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করে বিচার বিভাগ তথা বিচারিক প্রক্রিয়াকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে?’




ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান বরখাস্ত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ  ডেক্স:  শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়ে বিবৃতি-সংক্রান্ত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়াকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আজ শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতির মামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলাচিঠি (বিবৃতি) পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বস্থানীয় দেড় শতাধিক ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে শতাধিক নোবেলজয়ী রয়েছেন। এ বিষয়ে গত সোমবার হাইকোর্টের বর্ধিত ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ড. ইউনূস একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁর সম্মানহানি করা হচ্ছে এবং এটি বিচারিক হয়রানি।’ শতাধিক নোবেলজয়ীদের ওই খোলা চিঠির বিপরীতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে, এমন দাবি করে এমরান আহম্মদ বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে কর্মরত সবাইকে এতে স্বাক্ষর করার জন্য নোটিশ করা হয়েছে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করব না।’

এর পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া) অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ডিএজি (ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল)। তিনি যদি সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন, তাহলে তাঁকে হয় পদত্যাগ করে কথা বলা উচিত, অথবা অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমতি নিয়ে কথা বলা উচিত। তিনি সেটি করেননি। তিনি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।’




শিক্ষার্থীদের তাণ্ডব চবিতে অর্ধশত বাস-মিনিবাস ভাঙচুর, ক্ষতি আনুমানিক ৩০ কোটি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স:  শাটল ট্রেনে শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫০টি বাস ও মিনিবাস ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধরা। বাসগুলো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যাতায়াতে ব্যবহার করা হতো।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবহন দপ্তরের সামনে দাঁড়ানো সবগুলো বাসই ভাঙা। কোনো বাসের গ্লাস নেই। আবার কোনোটির সিট নেই। বাসের ভেতর সব ইটের টুকরা পড়ে আছে। ভাঙা হয়েছে মিনিবাসগুলোও।

পরিবহন দপ্তরের তথ্যমতে, অন্তত ৫০টি বাস ও মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিবহন দপ্তরের দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি দপ্তরের ভেতরে বসা ছিলাম। হঠাৎ করে এক থেকে দেড়শ স্টুডেন্ট স্লোগান দিতে দিতে এইদিকে আসতে থাকে। তাদের প্রত্যেকের হাতে লোহার রড, পাইপ ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম তারা হয়তো এক দুটি বাস ভাঙবে, তারপর চলে যাবে। কিন্তু এখানে এসেই তারা ইট মারতে শুরু করে। আমরা দপ্তরের ভেতরের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেই। কিন্তু তারা গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে ২০টির মতো মিনিবাস রাখা ছিল। সেগুলো ভেঙে ফেলে তারা।’

বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে শাটল ট্রেনের ছাদে চড়ে ক্যাম্পাসে ফেরার সময় গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ফুঁসে ওঠেন চবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের মূল ফটক আটকে বিক্ষোভ করেন তারা। একপর্যায়ে হঠাৎ করেই একজন শিক্ষার্থী মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা প্রথমে জিরো পয়েন্টে থাকা পুলিশ বক্সে হামলা চালান। এসময় পুলিশ বক্স পুরোটা ভেঙে ফেলা হয়। ভেতরে থাকা চেয়ার-টেবিল জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এরপর উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের প্রধান প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে বলা যাবে। তবে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি পরিবহন দপ্তরে হয়েছে।’

প্রক্টর ড. নূরুল আজিম সিকদার বলেন, ‘উপাচার্যের বাসভবন ভাঙা হয়েছে। পুলিশ বক্স মারাত্মকভাবে ভাঙচুর করা হয়েছে। রেলের বগিতে আগুন দেওয়া হয়েছে। অনেকগুলো বাস ভাঙা হয়েছে। এগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাজ হতে পারে না।’




ইউরোপে গৃহহীনের সংখ্যা বাড়ছে : এ সংখ্যা বেড়ে ১০ লাখে দাঁড়িয়েছে

 চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক : ইউরোপে গৃহহীনের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। নতুন এক রিপোর্টে দেখা গেছে, সেখানে গৃহহীনের সংখ্যা বেড়ে ১০ লাখে দাঁড়িয়েছে । খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

সেখানে গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করে ফেডারেশন অব ন্যাশনাল অরগানাইজেশনস জানিয়েছে, গৃহহীনদের এই সংখ্যা প্রমাণ করে আবাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে ইউরোপের দেশগুলো, যা মানুষের মৌলিক অধিকার।

সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রত্যেক রাতে অন্তত ৮ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ গৃহহীন অবস্থায় থাকে, যা মার্সেই বা তুরিনের মতো শহরের জনসংখ্যার সমান। ফেয়ান্টসার পরিচালক ফ্রিক স্পিনউইজন বলেছেন, ইউরোপের বেশির ভাগ সরকার সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে ও সাধারণ জনগণকে হতাশ করছে। পাশাপাশি অকার্যকরভাবে সমস্যা পরিচালনা করার জন্য সম্পদের অপচয় করছে। গত বছর সরকারগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ২০৩০ সালের মধ্যে সমস্যা সমাধান করার। কিন্তু প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। যদিও এক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি করেছে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক।

এদিকে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অভিবাসন-প্রত্যাশীদের আশ্রয় আবেদন বেড়েছে ২৮ শতাংশ। এক্ষেত্রে শীর্ষ আবেদনকারীদের মধ্যে ছয় নম্বরে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। মঙ্গলবার ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম (ইইউএএ) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের শেষ পর্যন্ত জোটের ২৭ সদস্য দেশ এবং সহযোগী সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েতে আশ্রয়ের জন্য আবেদন জমা পড়েছে মোট ৫ লাখ ১৯ হাজার

সেই হিসাবে, চলতি বছর শেষে ইউরোপে আশ্রয়ের আবেদনের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১০ লাখের বেশি। ২০১৫-১৬ সালের পর এত সংখ্যক আশ্রয় আবেদন আর কখনো দেখেনি ইইউ। সেই সময় যুদ্ধকবলিত সিরিয়ার বাসিন্দারা দেশ ছেড়ে পালাতে শুরু করায় অভিবাসন-প্রত্যাশীদের ঢল নেমেছিল ইউরোপে।




ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের নির্বাচন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স:  বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে ওয়াশিংটন। বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনের কো-অর্ডিনেটর জন কিরবি এসব কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তাকে সমর্থন করি। এই বিষয়ে আমাদের অবস্থানের কোনও কিছুই পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে জন কিরবি বলেছেন, আমরা বাংলাদেশি জনগণের ইচ্ছাকে সমর্থন করি।

আগামী বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতি-নির্ধারকদের তুমুল দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। প্রায়ই এসব দেশের কর্মকর্তাদের বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, বাংলাদেশ সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ওইদিন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান এবং সাবেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা, সরকার-সমর্থক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যরা, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, বিচারবিভাগ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সদস্যরাও এই ভিসা নীতির আওতায় পড়বেন।

যেসব কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বানচালের আওতায় পড়বে সেগুলোও মার্কিন বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে আছে, ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার অধিকার প্রয়োগ করা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করার জন্য সহিংসতাকে কাজে লাগানো এবং এমন কোনও পদক্ষেপ; যার উদ্দেশ্য রাজনৈতিক দল, ভোটার, সুশীল সমাজ বা সংবাদমাধ্যমকে তাদের মত প্রচার থেকে বিরত রাখা।




প্রেমিকের খোঁজে বিজ্ঞাপন, একদিনে ৩ হাজারেরও বেশি আবেদন!

চন্দ্রদ্বীপ বিনোদন ডেক্স:  প্রেম কিংবা বিয়ে করতে গেলে পরীক্ষা দিতে হবে। আর সেই পরীক্ষা নেবেন খোদ প্রেমিকাই। সিনেমার গল্পে এমনটা দেখা গেলেও, বাস্তবে কখনো এমনটা হতে দেখেছেন? আশ্চর্যজনক হলেও, সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটেছে।

হ্যাঁ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমিকের খোঁজে বিজ্ঞাপন দিয়ে নেট দুনিয়ায় হৈ-চৈ ফেলে দিয়েছেন ডাচ তরুণী ভেরা ডিজকম্যানস। তবে প্রেমিক হতে হলে নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করে তার ঠিকানায় পাঠাতে হবে। আবেদনকারীর সব তথ্য মনে ধরলে তবেই মিলবে ২৩ বছর বয়সী এ তরুণীর প্রেমিক হওয়ার সুযোগ।

গত ১ সেপ্টেম্বর মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করলেও, নেদারল্যান্ডসের স্যোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের মধ্যে পরিচিত মুখ ভেরা ডিজকম্যানস। সম্প্রতি টিকটকে নিজের প্রেমিক খোঁজার বিষয়টি ভক্ত ও অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করেন তিনি। বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার প্রেমিক হওয়ার জন্য ৩ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে।

জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ডলার আয় করেন ভেরা ডিজকম্যানস। তবে ভালোবাসা খুঁজে পেতে আবেদনের প্রয়োজন কেন হচ্ছে, তা নিয়ে কৌতুহলী অনেকে।

ভেরা বলেছেন, বিষয়টি একটু অদ্ভুত হলেও তরুণদের কাছ থেকে আমি বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ২০২৩ সালে এসে একজন ভালো প্রেমিক খুঁজে পাওয়া মোটেই সহজ কাজ না।

একেবারে সাধারণ প্রশ্ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রশ্ন রয়েছে সেখানে। প্রথমে অবশ্যই যিনি আবেদন করছেন তার নাম, ঠিকানা বয়স লিখতে হবে। এর আগে কতজন নারীর সঙ্গে তিনি প্রেম করেছেন, সেই সংখ্যাও উল্লেখ করতে হবে। এমনকি, আবেদনকারী যদি বিবাহিত হন, তাহলে কতদিন বিয়ে হয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে প্রথমেই। আর এইসব লিখতে হবে পূর্ণবাক্যে।

এরপরও একগুচ্ছ প্রশ্ন রয়েছে। সেসবের উত্তর অবশ্য দিতে হবে হ্যাঁ কিংবা না-তে। আর সেই তালিকায় প্রথম প্রশ্ন হলো, আবেদনকারী চাকরি করেন কি না, পরিবারের সঙ্গে থাকেন নাকি একা। একইসঙ্গে রয়েছে কিছু সাধারণ প্রশ্ন। যেমন আবেদনকারীর কোন কোন সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

সবচেয়ে অবাক করা প্রশ্ন হলো, ওই ব্যক্তি কার্টুন দেখেন কি না? ভাবছেন, এমন আজব সব প্রশ্ন ওই তরুণী কেন ফর্মে রেখেছেন? ভেরার দাবি, তিনি এবার স্থায়ী সম্পর্কে জড়াতে চান। তার আগে সঙ্গীকে পুরোপুরি জেনে নিতে চান।

প্রেম করতে করতে এইসব উত্তর খুঁজতে নারাজ তিনি। আগে থেকেই সব জেনে নিয়ে, যার সঙ্গে মিলবে তার সঙ্গেই প্রেম করবেন বলে ঠিক করেছেন ভেরা। তবে সমবয়সী কারও সঙ্গেই প্রেম করবেন বলে জানান তিনি।




দশমিনায় বাবার মৃতদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দশমিনায় মধ্যরাতে মারা যান মো. লিয়ার সরদার (৫০)। শোকে বিহ্বল স্বজনেরা নিচ্ছেন মরদেহ দাফনের প্রস্ততি। এমন অবস্থায় বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে শারীরিক প্রতিবন্ধী মোছা. রিপা বেগম নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিগন্ত সড়ক এলাকার লিয়ার সরদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

মোছা. রিপা বেগম ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজের বাণিজ্য বিভাগ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তার পরীক্ষার কেন্দ্র পড়েছে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

আজ সকাল ১০টার আগে চোখ মুছতে মুছতে পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে দেখা যায় রিপাকে। সহপাঠী ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়।

ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো.করিম হোসেন বলেন, রিপা এই কলেজের বাণিজ্য বিভাগের মেধাবী ছাত্রী। পড়াশোনায়ও ভীষণ মনযোগী।

পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মো. মাহমুদুল্লাহ বলেন, বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে কষ্ট চেপে রেখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে রিপা। আমি তার প্রতি সমবেদনা জানাই। আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দিক। রিপা অনেক বড় হোক এই কামনা করি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মো. লিয়ার সরদার দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছিলেন। বুধবার মধ্যরাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হয়ে ‍তিনি মারা যান। তার পর থেকে বাড়িজুড়ে শোকের আবহ, সকাল থেকে শুরু হয়েছে মরদেহ দাফনের প্রস্ততি। বাবার মৃত্যুতে শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে মোসা. রিপা বেগম ভেঙে পড়লেও স্বজনদের কথায় বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে যায়।




সৌরজগতে নতুন গ্রহ, আকার পৃথিবীর মতো

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ নেপচুনের ঠিক পিছনে কুইপার বেল্টে লুকিয়ে থাকতে পারে নতুন একটি গ্রহ। ধারণা করা হচ্ছে, এটির আকারে আমাদের পৃথিবীর মতো হলেও ভর ও আয়তনে কয়েকগুণ বড় হতে পারে। এটির ভর পৃথিবীর তুলনায় দেড় থেকে তিনগুণ বেশি হবে। গ্রহটির অবস্থান সূর্য থেকে ৫০০ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার বা ৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল) দূরে হতে পারে।

দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র থেকে জানা যায়, জাপানের কিন্দাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী প্যাট্রিক সোফিয়া লাইকাওকা ও দেশটির ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির বিজ্ঞানী তাকাশি ইটো কুইপার বেল্ট ও ট্রান্স-নেপচুনিয়ান অবজেক্ট নিয়ে গবেষণা করছিলেন। এ গবেষণা করতে গিয়েই নতুন ওই গ্রহের অস্তিত্ব টের পান তারা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোটি কোটি বছর আগে সূর্য থেকে যেসব গ্রহ তৈরি হয়েছিল, সেখানে একটি ডোনাট আকৃতির বলয় থেকেই কুইপার বেল্টের সৃষ্টি। পৃথিবী থেকে অনেক দূরে হওয়ায় বিজ্ঞানীরা সেখানে পৌঁছাতে পারেননি ও স্পষ্ট কোনো ধারণা পাননি।

জানা যায়, ১৯৫১ সালে ডাচ-আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেরার্ড কুইপার এ গ্রহের অস্তিত্ব রয়েছে বলে জানান। পরবর্তীতে তার নামেই এটির নামকরণ করা হয়।

দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধে বলা হয়, অন্য বস্তুর ওপর এর মহাকর্ষ প্রভাব থাকায় এটিকে গ্রহ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর আগেও বিজ্ঞানীরা এই গ্রহের অস্তিত্বের আভাস পেয়েছিলেন। তবে তখন এর আকার এত বড় বলে মনে হয়নি।

২০২০ সালের গবেষণায় বিজ্ঞানীরা একটি নবম গ্রহের প্রস্তাব করেছিলেন। বেশিরভাগ মানুষ প্লুটোকে নবম গ্রহ বলে মনে করেন, কিন্তু এটিকে ২০০৬ সালে একটি বামন গ্রহ (গ্রহও নয়, উপগ্রহও নয়) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। অন্যদিকে বলা হয়েছিল, আসলেই যদি নতুন গ্রহটির অস্তিত্ব থেকে থাকে, তাহলে পৃথিবীর চেয়ে দেড় থেকে তিনগুণ বড় হবে।

সৌরজগতে এমন কিছু মহাজাগতিক বস্তু আছে যেগুলোকে গ্রহও বলা যায় না, উপগ্রহও বলা যায় না। গ্রহ নয় কারণ এগুলো সাধারণ গ্রহ থেকে আকারে ছোট। আবার উপগ্রহও নয়, কারণ এগুলো কোনো গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘোরে না। এগুলোকেই বলা হয় বামন গ্রহ। এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা সৌরজগতে মোট পাঁচটি বামন গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। এর মধ্যে প্লুটোর সবচেয়ে পরিচিত। বাকি চারটি হলো: এরিস, সেরেস, মাকেমাকে ও হাউমেয়া।

এর আগে গত ১৭ মে পৃথিবীর আকৃতির সমান নতুন একটি এক্সোপ্লানেট বা গ্রহের সন্ধান দিয়েছিলেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নতুন এ গ্রহের নাম দেওয়া হয়েছিল এলপি ৭৯১-১৮ডি। এক্সোপ্ল্যানেটটির অবস্থান পৃথিবী থেকে ৯০ আলোকবর্ষ দূরে ক্রেটার নক্ষত্রমণ্ডলে। আমাদের সৌরজগতের বাইরে খুঁজে পাওয়া গ্রহগুলোকেই এক্সোপ্ল্যানেট বলা হয়।




পটুয়াখালীতে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিএনপির চার নেতাকর্মী আওয়ামীলীগে যোগদান

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: বুধবার (০৬সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা সহ ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট নিহত সকল শহীদদের স্মরনে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল চলাকালীন সময়ে লেবুখালী ইউনিয়ন যুবদল নেতা মোঃ সরোয়ার আকন, লেবুখালী ইউনিয়ন মহিলা দল নেত্রী ও লেবুখালী ১,২ ও ৩ নং ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য জেসমিন বেগম, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ইদ্রিস সরদার ও ৮নং ইউপি সদস্য শামীম সিকদার আনুষ্ঠানিক ভাবে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।

লেবুখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আবদুস ছালাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুমকী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ড. হারুন আর রশীদ, এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আলী আশরাফ, পটুয়াখালী সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হুমায়ুন চৌধুরী, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাসান সিকদার, দুমকী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আকন সেলিম, লেবুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম তুহিন, আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মতুর্জা, শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহার মৃধা সহ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের অসংখ্য নেতা-কর্মীরা।

লেবুখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, আওয়ামীলীগের উন্নয়ন দেখে বিএনপির এসকল নেতা কর্মীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তাই তারা সঠিক পথে ফিরে এসেছে।

অনুষ্ঠান শেষে নিহত সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।